Blog

  • বিএসটিআই রংপুর এর ‘এপিএ’ তে প্রথম স্থানের গৌরব অর্জন

    বিএসটিআই রংপুর এর ‘এপিএ’ তে প্রথম স্থানের গৌরব অর্জন

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    সাফল্যের ধারাবাহিকতায় শিল্প মন্ত্রণালয়ে বিএসটিআই প্রথম এবং বিএসটিআই’র ১১টি অফিসের মধ্যে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর এর ‘এপিএ’ তে প্রথম স্থানের গৌরব অর্জন

    শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১২ টি সংস্থা/দপ্তরের মধ্যে ২০২২-২৩ এর মধ্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) তে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ৯৯.৭৮ পেয়ে গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও প্রথম স্থান লাভের গৌরব অর্জন করেছে। আবার ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিএসটিআই’র আওতাধীন ১১(এগারো) টি অফিসসমূহের মধ্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি মূল্যায়নে শতকরা ৯৮.৮০ পেয়ে এপিএ তে পূর্বের ধারাবাহিকতায় বিএসটিআই প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
    রংপুর বিএসটিআই অফিসের প্রথম স্থান অর্জন সম্পর্কে রংপুর বিএসটিআই’র বিভাগীয় উপপরিচালক (মেট্রোলজি) ও অফিস প্রধান মফিজ উদ্দিন আহমাদ জানান, বিএসটিআই রংপুর বিভাগীয় অফিস জনস্বার্থে এই শ্রেষ্ঠত্বের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে সচেষ্ট থাকবে। এজন্য তিনি সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দকে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে সুচারুভাবে সুসম্পন্ন করতে অনুরোধ করেন। সেই সাথে অত্র বিভাগের সকল সরকারী ও বেসরকারী অফিস এবং স্টেকহোল্ডারসহ সাধারণ জনগণের আন্তরিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগীতা একান্তভাবে কামনা করেন।

  • নড়াইলে বিকাশে টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণা গ্রেফতার ১

    নড়াইলে বিকাশে টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণা গ্রেফতার ১

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
    নড়াইলে প্রতারণা করে বিকাশে টাকা আত্মসাৎ মামলায় একজনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। (১০ অক্টোবর) নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোসা: সাদিরা খাতুন নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) তারেক আল মেহেদীর তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) মো: ফিরোজ আহম্মেদ সংগীয় ফোর্স ও মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের সহায়তায় পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার বন্দর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঠবাড়িয়া থানার দাউদখালি গ্রামের জনৈক হযরত আলী এর ছেলে আমির হোসেন (৫২)কে গ্রেফতার করে।
    প্রতারক আমির হোসেন (৫২) নড়াইল সদর থানার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামানের মোবাইলে ফোন করে বিকাশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলে, “গতকাল আপনার একাউন্টে অতিরিক্ত টাকা ঢুকে গেছে। আপনার বিকাশ একাউন্ট চেক করলে বুঝতে পারবেন। আপনার বিকাশ একাউন্টের বিরুদ্ধে কমপ্লেইন দেওয়ায় আপনার একাউন্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আপনার একাউন্টটি পুনরায় চালু করতে চাইলে আপনার বিকাশ নাম্বারে ১৮,৫০০ টাকা বিকাশ করতে হবে।” তিনি বিকাশ করতে রাজি হয় না। পরবর্তীতে একটি মেসেজ আসে যে, আপনার বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী তার বিকাশ একাউন্টে ১৮,৫০০ টাকা বিকাশ করে । প্রতারক তাকে বলে, “আপনার মোবাইলে বিকাশের ওটিপি যাবে, আমাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন।” প্রতারক কৌশলে তার কাছ থেকে বিকাশের পিন কোডটি নিয়ে নেয়। কিছুক্ষণ পর ভুক্তভোগী দেখেন, তার বিকাশ একাউন্ট থেকে সব টাকা চলে গেছে ।
    প্রতারক আমির হোসেন (৫২) একইভাবে নড়াইল সদর থানার মো: মাসুদুল হাসান ব্যক্তির নিকট হতে ২২,০৫০/-(বাইশ হাজার পঞ্চাশ) টাকা বিকাশের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে নেয়। এসব ঘটনায় নড়াইল সদর থানায় প্রতারণা মামলা দায়ের করলে, উক্ত মামলার সূত্র ধরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিবি পুলিশের দক্ষতায় আসামী আমির হোসেন (৫২) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ। আসামী আমির হোসেন (৫২) বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। আসামির সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

  • ওসি তদন্ত মোজহেদের ‘কর্ণফুলী টানেল’ লাখো বাঙালির মুখে মুখে

    ওসি তদন্ত মোজহেদের ‘কর্ণফুলী টানেল’ লাখো বাঙালির মুখে মুখে

    মাহমুদ চিশতী এলেক্স :
    সুরে সুরে বঙ্গবন্ধু টানেলকে তুলে ধরলেন বাংলাদেশ পুলিশের একজন কর্মকর্তা সিএমপি, হালিশহর থানার ওসি তদন্ত পুলিশ পরিদর্শক মোজাহেদ হাসান। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেলকে নিয়ে ‘কর্ণফুলী টানেল’ শিরোনামে mujahad hasan চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় একটা গান লিখে সেই গানে নিজেই সুর করে নিজের কন্ঠে অসাধারণভাবে Mojo Melody নামের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করেন। বঙ্গবন্ধু টানেল নিয়ে সর্বপ্রথম তিনিই গান করেন। মোজাহেদ হাসান এর আগে ‘এগিয়ে যাও বাংলাদেশ’ শিরোনামে পদ্মা সেতু নিয়েও নিজের লেখা ও সুরে মুশফিক লিটুর সংগীতে Mojo Melody ইউটিউব চ্যানেলে একটা গান পরিবেশন করেন। মোজাহেদ হাসান সমুদ্র শহরের কক্সবাজার জেলার বুকে জেগে উঠা দ্বীপের রাণী পর্যটন সম্ভাবনাময় অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ০৬নং ওয়ার্ডের মুরালিয়া এলাকার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে মোজাহেদ হাসান জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি সহজ-সরল, বন্ধুসুলভ, বিনয়ী ও সদা হাস্যোজ্জল একজন মানুষ। সহজেই একজন মানুষকে আপন করে নেয়ার মহৎ গুণ রয়েছে তাঁর। ছোটবেলা থেকে পড়ালেখার পাশাপাশি শিল্প, গানের প্রতি তার ব্যাপক মনোযোগ ছিলো। পিতা মৃত শফিউল আলম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কুতুবদিয়া উপজেলা শাখার আওতাধীন বড়ঘোপ ইউপি আওয়ামী লীগের সফল সভাপতি হিসেবে সৎ, ন্যায় ও নিষ্টার সাথে আমৃত্যু দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। কুতুবদিয়া উপজেলার সনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুতুবদিয়া আদর্শ (পাইলট) উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৯ সালে এসএসসি এবং ২০০১ সালে কুতুবদিয়া কলেজ থেকে এইচ.এস.সি শেষ করেন। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ২০০৬ সালে ২০০২-০৩ শিক্ষাবর্ষে সমাজবিজ্ঞান ডিপার্টমেন্ট থেকে অনার্স ও একই কলেজ থেকে ২০১০ সালে ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে সমাজবিজ্ঞান ডিপার্টমেন্ট থেকে মাষ্টার্স এবং চট্টগ্রাম আইন কলেজ, চট্টগ্রাম থেকে ২০১৬ সালে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে এল.এল.বি ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি তার পেশাদারিত্বের ব্যস্ততার পাশাপাশি সুরের সৃষ্টি, গান-কবিতা, গল্প লেখালেখি ও গাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি ওস্তাদ ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী’র তত্বাবধানে শুদ্ধ সঙ্গীত এর তালিম নেন। কুতুবদিয়া উপজেলার সনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্টান কুতুবদিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক জগতের গুরু যাকে অনুসরণ বা ছুয়ে দেখা না হলে মোজাহেদ হাসান সঙ্গীত জীবনের এতদূর আসতে পারতেন না। তিনি মাস্টার মরহুম সিরাজুল ইসলাম মধু’কে তার সঙ্গীত জীবনের শ্রেষ্ট শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মোজাহেদ হাসানকে তার চলার পথে দু:সময়ে যারা সাহস দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, শেখ মোহাম্মদ খালেদ চৌধুরী তাকে দুর্দিনে সাহস জুগিয়েছেন। সুরবন্ধু অশোক চৌধুরী, সোহরাব খান ও উপমহাদেশের শুদ্ধ সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তী ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর কাছ থেকে শুদ্ধ সঙ্গীতের ছোঁয়া পেয়েছেন। তিনি নিজে গান লেখেন, সুর করেন এবং নিজেই কন্ঠ দেন। একজন বহুমুখী সঙ্গীত-প্রতিভার মানুষ মোজাহেদ হাসানের Mojo Melody ইউটিউব চ্যানেলে তার বেশ কিছু গান জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী কণার সাথে দ্বৈতকণ্ঠে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় “ওরে ও সুন্দরী, হডে তোঁয়ার বাড়ি” গান করেন। চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় লেখা এই গানের সঙ্গীতটি পরিচালনা করেছেন মুশফিক লিটু। রোমান্টিক এই দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পী কণা ও মোজাহেদ। সম্প্রতি মোজাহেদ হাসান নিজের লেখা ও সুরে উত্তম আকাশ পরিচালিত প্রেমচোর চলচ্চিত্রে বোকামন শিরোনামে একটা গান করেন। শুধু আঞ্চলিক নয়, আধুনিক গানেও সমান জনপ্রিয় সুপ্রতিভাবান এই গুণী শিল্পী। বর্তমানে সঙ্গীতাঙ্গনে জনপ্রিয় এই শিল্পীর বেশকিছু গানের অডিও অ্যালবাম ও মিউজিক ভিডিও এবং একাধিক গান Mojo Melody ইউটিউব চ্যানেলে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। পরিশেষে মোজাহেদ হাসান বলেন, আমি বাংলাদেশ পুলিশের চাকরি করি, আমার পেশা আমার অহংকার আমার পবিত্র পোশাক আমার সবচেয়ে বড় অলংকার। কর্মজীবনের শত ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও ছোটবেলার প্রেম-ভালোবাসার গানকে ছাড়িনি। শ্রোতারা আমার গান পছন্দ করছেন, এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি করি। আমার ওপর অর্পিত সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি শুদ্ধ সঙ্গীতের চর্চাও চালিয়ে যাচ্ছি। গানের মাধ্যমের জীবনের সুখ, দুঃখ, আবেগ ও সমাজের কাছে ফুটিয়ে তোলার প্রচেষ্টা সবসময় থাকবে। শিল্পীর আরো বেশ কিছু গান Mojo Melody ইউটিউব চ্যানেলে রিলিজ হতে যাচ্ছে। “সুস্থ্য সঙ্গীতের সাথে থাকবো, সমাজ, পরিবেশ সুন্দর রাখবো।

  • নড়াইলে দুই দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    নড়াইলে দুই দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, বালক (অনুর্ধ্ব-১৭) এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, বালিকা (অনুর্ধ্ব -১৭) জেলা পর্যায়ের দুই দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    উদ্বোধনী খেলায় বালিকা (অনুর্ধ্ব -১৭) লোহাগড়া উপজেলা দল টাইবেকারে ৫-২ গোলে নড়াইল সদর উপজেলা দলকে পরাজিত করে। এ টুর্নামেন্টে বালক-বালিকা দুইটি গ্রুপে জেলার তিনটি উপজেলা ও নড়াইল পৌরসভা দল অংশগ্রহণ করছে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, বুধবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নড়াইল বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহম্মদ স্টেডিয়ামে জেলা প্রশসন ও জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্দ্যোগে বেলুন উড়িয়ে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আশফাকুল হক চৌধুরী।
    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাশ্বতী শীল।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন, নড়াইল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আঞ্জুমান আরা, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, নড়াইলের জেলা কমাড্যান্ট বিকাশ চন্দ্র দাস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাহাঙ্গির আলম, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের নড়াইলের সহকারি পরিচালক নজরুল ইসলাম, নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু, জেলা ক্রীড়া অফিসার কামরুজ্জামান, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাবেয়া ইউসুফ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি আইয়ুব খান বুলু, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ পদ দাস।

  • সুন্দরবনের দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাঘের পেটে জেলেসহ দুই মহিষ

    সুন্দরবনের দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাঘের পেটে জেলেসহ দুই মহিষ

    এস. এম সাইফুল ইসলাম কবির , বাগেরহাট:পূর্ব সুন্দরবনের ধানসাগর ষ্টেশনের বনে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাঘে একজন জেলেসহ দুইটি মহিষ খেয়ে ফেলেছে। বনের মধ্যে অবাধে মানুষজনের অনুপ্রবেশ ও গবাদিপশু বিচরণ করায় বাঘের এই আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।
    গত মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে ধানসাগর স্টেশনের মুর্তির খাল এলাকায় বাঘের আক্রমণে একটি মহিষ মারা যায়। মহিষটির মালিক শরণখোলা উপজেলার বনসংলগ্ন পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের শামছু হাওলাদার বলে জানা গেছে। ঘাস খাওয়ার জন্য মহিষটি সুন্দরবনে গেলে বাঘে মহিষটিকে আক্রমণ করে অর্ধেক অংশ খেয়ে ফেলে। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে ধানসাগর স্টেশনের তুলাতলা খালে অবৈধভাবে মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মারা যান পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের জেলে শিপার হাওলাদার (২২)। বাঘ শিপারকে পুরোপুরি খেয়ে ফেলায় তার মাথাটি বন থেকে উদ্ধার করা হয়। এর ২০ দিন আগে একই গ্রামের সোবাহান পহলানের একটি মহিষ বনে ঘাস খাওয়ার সময় বাঘের আক্রমণে মারা যায় বলে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন।
    ১নং ধানসাগর ইউপি সদস্য ও পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন তালুকদার বলেন, বনসংলগ্ন গ্রামে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবার তাদের গরু মহিষগুলো সকালে বনে ছেড়ে দেয়। আবার বিকালে ফিরিয়ে আনেন। বনবিভাগের নজরদারি না থাকায় সুন্দরবনের মধ্যে অবাধে মহিষ-গরু বিচরণ ও মানুষ অনুপ্র্েবশ করে বলে ঐ ইউপি সদস্য জানিয়েছেন।
    পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বাঘের আক্রমণে নিহত জেলের মৃত্যুর ঘটনার পরে অবৈধভাবে বনে অনুপ্রবেশ এবং গবাধি পশু বনে না পাঠানোর জন্য বনসংলগ্ন বাড়ি সমূহে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • আজ থেকে ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

    আজ থেকে ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

    এস. এম সাইফুল ইসলাম কবির , বাগেরহাট:আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। মা ইলিশ রক্ষায় মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, বিক্রয় ও পরিবহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। অপরদিকে,সাগরে বার বার বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে এবার জেলেরা কাংখিত মাছ ধরতে পারেননি। নতুন করে মাছ ধরা বন্ধের ঘোষণায় উপকূলের জেলে মৎস্যজীবিদের মাঝে হতাশা ও উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।
    ভূক্তভোগী জেলেরা জানান, গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে তারা সাতবার বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন। উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে না পেরে খালি বোট নিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন ফলে তারা বিপুল আর্থিক লোকসানে পড়েছেন ।
    পিরোজপুরের পাড়েরহাটের মৎস্য আড়ৎদার মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, এবছর জেলে মৎস্যজীবিরা সাগরে তাদের কাংখিত মাছ ধরতে পারেননি। সাগরে গিয়েই জেলেরা ক্রমাগত দূর্যোগের কবলে পড়েছেন।
    বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, উপকূলের জেলে মৎস্যৗজীবিরা ভালো নেই। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবার জেলে মৎস্যজীবিরা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মূখীন হয়েছেন। মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করে তিনি ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় সীমা কমিয়ে এনে ভারতের সাথে মিল রেখে একই সময়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবী জানান।
    শরণখোলার “এফবি মা বুশরা” ফিশিংবোটের মালিক বেলায়েত হোসেন ও “এফবি তানজিরা”এর মালিক মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে তাদের ফিশিংবোট ৭ বার সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ায় মাছ ধরতে না পারায় ৭ বারই তাদের লোকসান হয়েছে। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় দেশীয় জেলেরা মাছ ধরতে না পারলেও পাশ্ববর্তী দেশের জেলেরা ঠিকই মাছ ধরে নিয়ে যায় বলে ঐ ফিশিংবোট মালিকরা জানান।
    শরণখোলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, সাগরে মাছ ধরতে ফিশিংবোট পাঠাতে একেকটি বোটের পিছনে কমপক্ষে তিন চার লাখ টাকা ব্যয় হয়। এবছর সাগরের আবহাওয়া সাত দফা খারাপ হওয়ায় জেলেরা মাছ ধরতে পারেনি ফলে বিপুল পরিমাণ লোকসানের মুখে জেলে মহাজনদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। প্রতি বছর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে গিয়েই জেলেরা বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার পরে বর্তমানে আবার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার খবরে বেকার হওয়া জেলেদের মাঝে হতাশা ও উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে বলে আবুল হোসেন জানিয়েছেন।
    শরণখোলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত নদী ও সাগরে ইলিশ ধরা, বিক্রয় ও পরিবহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে জেল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
    বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ডঃ মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, জেলেদের স্বার্থে তাদের দাবী বাস্তবায়নে বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় সীমা পুনঃনির্ধারণ করে ভারতের সাথে মিল রেখে একই সময়ে নিষেধাজ্ঞার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

  • বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জমি দখল করে রাস্তা নির্মানের অভিযোগ

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জমি দখল করে রাস্তা নির্মানের অভিযোগ

    এস. এম সাইফুল ইসলাম কবির , বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে রাজৈর গ্রামে বেদখল থাকা সরকারি জমি দখলমুক্ত না করে ব্যাক্তি মালিকানাধীন রেকর্ডীয় জমি জবর দখল করে রাস্তা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিআরএস ম্যাপ অনুযায়ী নিমাণার্ধীন কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রকৌশলী নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান শামীম।
    অভিযোগে বলা হয়েছে, বলইবুনিয়া ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি গ্রামের বাজার সংলগ্ন রাজৈর মাদরাসা অভিমুখে ৪৬০ মিটার ইটসোলিং সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। রাস্তাটির নির্মাণের পূর্বে এর জন্য থাকা সরকারি রেকর্ডীয় জমিতে না গিয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন ওই গ্রামের এম এ গফফার শেখের ছেলে মো. জাহিদ হাসান শামীমের জমির ওপর থেকে রাস্তা নির্মাণ করার জন্য সীমানা নির্ধারন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের লোকজন।
    ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান বলেন, দীর্ঘ ২০/২৫ বছর ধরে পৈত্রিক ৩০.৫ শতক জমিতে ভোগ দখল করে ১০টি পাকা ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করে আসছে। ইতোপূর্বে তাদের জমি থেকে চলাচলের জন্য .৭ শতক জমি রাস্তায় দিয়েছেন। এখন নতুন করে আবারও তাদের জমি জবর দখল করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
    এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর থেকে রাস্তা নেওয়া হবেনা। রাস্তার জন্য নির্ধারিত ও রেকর্ডীয় জমির ওপর থেকেই রাস্তা নেওয়া হবে।

  • গোদাগাড়ীতে দুগ্ধ ও গবাদি উন্নয়ন খামারে৪০ গরু নিলামে  দেওয়া হলো সিন্ডিকেটের হাতে

    গোদাগাড়ীতে দুগ্ধ ও গবাদি উন্নয়ন খামারে৪০ গরু নিলামে দেওয়া হলো সিন্ডিকেটের হাতে

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে রাজাবাড়ীহাট আঞ্চলিক দুগ্ধ ও গবাদি উন্নয়ন খামারে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় সাধারণ ক্রেতা। প্রকাশ্য নিলামে গরু বিক্রির আয়োজন হলেও সিন্ডিকেটের তিনজন ছাড়া ডাকে অংশ নিতে পারেননি কেউ। এমনকি অন্য কেউ নিলামে অংশ নেবেন কিনা সেজন্য অপেক্ষাও করেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সিন্ডিকেটের সদস্য হিসাবে খামার কর্মচারী বাদশা কিনেছেন বেশ কয়েকটি গরু। সরেজমিন এ চিত্র দেখা হয়েছে। মঙ্গলবার এভাবেই ৪০টি গরু নিলামের নামে ওই সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সালমান ফিরোজ ফয়সাল।

    সিন্ডিকেট সব গরু কিনে নেওয়ার পর বিকালে খামারের ভেতরেই আবার নিলাম করা হয়। তখন এ সিন্ডিকেটের কাছ থেকে গরুপ্রতি ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেশি দিয়ে কেনার সুযোগ পান সাধারণ ক্রেতা। অথচ সিন্ডিকেট না হলে বাড়তি এ টাকা পেত সরকার।

    স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝেই সরকারি এ খামার থেকে এভাবে নিলামের মাধ্যমে গরু বিক্রি করা হয়। প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা সিন্ডিকেট করে গরু কিনে নেন। সিন্ডিকেটের তদবিরে গরুগুলোর সর্বনিম্ন সরকারি মূল্যও বাজারদর অপেক্ষা কম ধরা হয়। এতে মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয় সরকার। আর পকেট ভরে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর। খামারের কর্মকর্তারাও অবৈধ সুবিধা পান বলে অভিযোগ রয়েছে।

    তবে খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গরুর যে মূল্য নির্ধারণ করে দেয় তার চেয়েও বেশি টাকায় বিক্রি করা হয়। তবে মঙ্গলবার নিলাম চলাকালে দেখা গেছে, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে মাত্র ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দরে গরু বিক্রি করা হয়েছে। আর এ সিন্ডিকেটটি এভাবেই গরু কিনেছে। সিন্ডিকেটের বাইরে কেউ গরু কিনতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে।

    দেখা গেছে, মঙ্গলবার নিলাম শুরুর আগেই শতাধিক ব্যক্তি গরুর খামারে আসেন। বেলা ১১টায় নিলাম কার্যক্রম শুরু করতে চান কর্মকর্তারা। তখন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ফয়সাল বলেন, নিলামের আগে তারা আরেকটু সময় চান। কর্মকর্তারা তাকে সময় দেন। এরপর নিলামে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে আলাদা করে কথা বলেন ফয়সাল। তিনি ‘অনুমতি’ দেওয়ার পর নিলাম কার্যক্রম শুরু করেন কর্মকর্তারা। প্রথমে খামারের কর্মচারী রইস উদ্দিন তিনটি বাছুরের সর্বনিম্ন সরকারি মূল্য ৭৬ হাজার টাকা ঘোষণা করেন। কালু নামের এক ব্যক্তি ওই সময় ডাকেন ৭৬ হাজার ২০০ টাকা। এরপর অমিত হাসান নামের এক ব্যক্তি ডাকেন ৭৬ হাজার ৪০০ টাকা। এ সময় খামারেরই চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বাদশা তাকে তেড়ে যান। নিলামে অংশ নিতে না দিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বাদশা এবার বাবু নামের আরেকজনের হয়ে দাম বলেন ৭৬ হাজার ৬০০। নিলাম শুরুর ২ মিনিটের মধ্যে এ গরুগুলো বিক্রি হয়ে যায়। এ গরু তিনটির দাম কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা হতো বলে জানিয়েছেন উপস্থিত অনেকেই।

    গরু নিলামের শুরুতেই তুমুল হট্টগোল শুরু হওয়ায় এ সময় ফয়সাল অনেককেই নিলাম শেডের সামনে থেকে দূরে সরিয়ে দেন। এবার আরও তিনটি বাছুরের নিলামে সর্বনিম্ন সরকারি মূল্য ঘোষণা করা হয় ৯৩ হাজার টাকা। বাদশা একাই এগুলোর মূল্য ডাকেন ৯৩ হাজার ৭০০ টাকা। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে নিলাম শেষ করে গরুগুলো তার নামে বিক্রি লেখা হয়। এরপর তিনটি বাছুরের সর্বনিম্ন সরকারি মূল্য ডাকা হয় ৯৯ হাজার ২০০ টাকা। এ সময় বাদশা নিজেই মেহেরাব নামের একজনের নামে ডাকেন ৯৯ হাজার ৪০০ টাকা। পরে তিনি নিজের নামে ডাকেন ৯৯ হাজার ৬০০ টাকা। এরপর মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে এ গরুগুলোর নিলাম প্রক্রিয়া শেষ করে ক্রেতা হিসাবে লেখা হয় খামার কর্মচারী বাদশার নাম।

    এবার নিলাম কর্মকর্তারা বাদশাকে বলেন, অন্তত তিনজনের নামে যেন মূল্য বলা হয়। এ সময় বড় দুটি গাভীর সর্বনিম্ন মূল্য ১ লাখ ১৭ হাজার ২০০ টাকা ঘোষণা করা হয়। বাদশা নিজের নামে ডাকেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকা। এরপর তিনিই মেহেরাবের নামে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ এবং কালুর নামে ডাকেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৮০০ টাকায়। এভাবে গরুগুলো কালুর নামে কেনা হয়। উপস্থিত অনেকে জানান, গাভী দুটির দাম হতো অন্তত দুই লাখ টাকা।

    সূত্র জানায়, এসব গরুর মধ্যে কয়েকটা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছেও যাবে। তাদের হয়েও গরু কেনা হয়েছে কম মূল্যে। নিলামে যে তিনজন অংশ নিয়েছেন তারা আসলে একই সিন্ডিকেটের সদস্য। খামার কর্মচারী বাদশাও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে প্রকাশ্যেই সিন্ডিকেটের হয়ে নিলামে অংশ নিয়েছেন। নিলামের সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। তবে অমিত হাসানকে নিলামে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হলেও পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। সেখানে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, এসব দেখা আমাদের কাজ নয়। আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখতে এসেছি। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে করতে হবে।

    গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, সবাই যেন নিলামে অংশ নিতে পারেন সেজন্যই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিলামে অংশ নিতে বাধা দেওয়ার সময় পুলিশ চুপ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, আমি এখনই খোঁজ নিচ্ছি। এরকম তো হওয়ার কথা নয়।

    এভাবে সিন্ডিকেট করে সব গরু কেনা এবং একই স্থানে পরে বিক্রির বিষয়ে কথা বলতে বিকালে ফোন দেওয়া হলে ফয়সাল বলেন, সবার সম্মতিতেই নিলাম হয়েছে। এটি ১০ বছর থেকেই হয়ে আসছে। কেউ ভেটো (অসম্মতি) জানালে তাকে ম্যানেজ করা হয়। মূলত নেতাকর্মীদের জন্যই এভাবে নিলামের ব্যবস্থা করা হয়।

    সিন্ডিকেটের কাছে এভাবে গরু বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে খামারের উপপরিচালক ডা. আতিকুর রহমান বলেন, কেউ যদি না ডাকে তাহলে আমার কী করার আছে! খামারের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বাদশার নিলামে অংশগ্রহণ এবং অন্যদের অংশগ্রহণ করতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, গরু যে কেউ কিনতে পারে। কর্মচারী হলেও তার কেনার অধিকার আছে। তিনি হয়তো কয়েকজনের সঙ্গে গরু কিনেছেন। তিনি কাউকে বাধা দিয়েছেন এটা আমার চোখে পড়েনি। কাউকে বাধা দেওয়া হলে তিনি তো আমার কাছে অভিযোগ করতে পারতেন। সিন্ডিকেটের হাতে গরু তুলে দেওয়ায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হলো কিনা এমন প্রশ্নে উপপরিচালক বলেন, ৪০টা গরুর সরকার নির্ধারিত মূল্য ছিল ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৬০০ টাকা। আমরা বিক্রি করেছি, ১৭ লাখ ৬৩ হাজার ৮০০ টাকায়। সরকারের তো ক্ষতি হয়নি। তবে আরও অনেকে ডাকে অংশ নিলে হয়তো দাম আরেকটু বেশি হতো।
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • বাগেরহাটের ফকিরহাটে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে উদ্ধার

    বাগেরহাটের ফকিরহাটে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে উদ্ধার

    এস. এম সাইফুল ইসলাম কবির , বাগেরহাট: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়নের ভাংগনপাড় এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা ষাটোর্ধ্ব এক ব্যাক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
    বুধবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে ওই ব্যক্তিকে অসুস্থ অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম মফিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, অসুস্থ্য ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
    অজ্ঞাত অসুস্থ্য ওই ব্যক্তির পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে শরীরের চামড়া উঠে গেছে।
    এদিকে খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল আলম সহ পুলিশের একটি দল হাসপাতালে যান। সেখানে ওই ব্যক্তির খোজ-খবর নেন।
    ওই ব্যক্তির শারিরিক অবস্থা খারাপ থাকায় তার পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। তিনি খালি গা ও তার পরনে লুঙ্গি ছিল।
    এদিকে, অসুস্থ্য ওই ব্যক্তিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়ার সময় তিনি সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

  • পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান পরিদর্শন

    পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান পরিদর্শন

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের মনিকো গুচ্ছগ্রামের পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়েছে। বুধবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১টায় উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের মনিকো গুচ্ছগ্রামসহ মান্দুল পাড়া গ্রামের অনাবাদি পতিত জমি ও বসত বাড়ির আঙ্গিনায় গড়ে উঠা পারিবারিক পুষ্টি বাগান ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ পরিদর্শন করা হয়।

    পারিবারিক এই পুষ্টি বাগান পরিদর্শন করেন- পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার(ডিটিও) মো. নইমুল হুদা সরকার, অতিরিক্ত উপপরিচালক (সিপি) মো. শাহ আলম মিয়া, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) সুবোধ চন্দ্র রায়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমাউন কবির।

    পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত উপপরিচালক(সিপি) শাহ আলম মিয়া বলেন, বর্তমান সরকার সারা দেশে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনাসহ প্রতি ইঞ্চি জমিতে আবাদ করতে এবং খাদ্য নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রকল্পটির আওতায় গ্রামের মানুষ বসতবাড়ির আঙিনা, পুকুর ও খালের পাড়, বাড়ির আশপাশ, স্যাঁতসেঁতে ছায়াযুক্ত প্রতি ইঞ্চি অব্যবহৃত অনাবাদি জমিতে শাক-সবজি ও ফলমূল উৎপাদন করবেন। এতে মানুষের পুষ্টিহীনতা দূর হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।

    তিনি বলেন, একজন কৃষক সারা বছরই খামার থেকে কিছু না কিছু পাবেনই। কখনো সবজি থাকবে, আবার কখনো ফল থাকবে এবং কৃষকদের আরো উন্নয়নে করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আরো বলেন এই প্রকল্প হতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এতে করে বসত বাড়ির আঙ্গিনা বা নিকটস্থ পতিত জমির ব্যবহার করে শাক-সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে স্বল্প খরচ ও শ্রমে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত অংশ বিক্রি করে বাড়তি আয় সম্ভব হবে।

    উক্ত কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলার ওই ইউনিয়নে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।