Blog

  • প্রতিটি আসনে নৌকার বিজয় হলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর চিয়ারে আবারও বসতে পারবেন- ফারুক চৌধুরী এমপি।

    প্রতিটি আসনে নৌকার বিজয় হলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর চিয়ারে আবারও বসতে পারবেন- ফারুক চৌধুরী এমপি।

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী।। রাজশাহী-১ ( গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, হিন্দুদের পুজা এবার হামলা হতে পারে।
    এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন,
    হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিসাটান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ, আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা, জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে।
    বিএনপি জামায়াত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দেশে বিদেশে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, বিদেশে ধর্না দিচ্ছেন কিন্তু কোন লাভ হবে না। শেখ হসিনার অধীনে সংসদ নির্বাচন অনু্ষ্ঠিত হবে।

    সোমবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৩টায় সময় গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ অডিটারিমামে
    আমার মনে হয় পুজা মন্ডপে বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাসীর হামলা করতে পারে, এজন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধ, উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিসাটান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং পুজা মন্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণের সাথে মতবিনিময় সভায় ওমর ফারুক চৌধুরী এ সব কথা বলেন।

    সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ জাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী ১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র অয়েজ উদ্দীন বিশ্বাস, গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম, দেওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দীন সোহেল প্রমূখ।

    তিনি গোদাগাড়ী ৩৯ টি পুজা মন্ডের জন্য ৫০০ কেজি করে চাউল, নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতিটি পুজা মন্ডপে ১০ হাজার করে, ৭ টি করে শাড়ি বিতরন, বেসরকারী স্কুল, কলেজ মাদ্রাসার কর্মচারীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।

    তিনি আরও বলেন, এখন শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে বিএনপি জামায়াতের শাসন মূলে বিদ্যুৎ পেয়েছে ৩৬ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা আমেরিকায় বসে ভিসানীতির প্রতিবাদ করেছেন। আর ফকরুল সাহেব আমাদের ভিসানীতির ভয় দেখাচ্ছেন। তারা বিদেশীদের হাত ধরে ক্ষমতায় আসতে চাই। দেশকে তালেবান, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিনত করতে চাই। তাদের সে ইচ্ছা কোন দিনই পূরণ হবার নয়। খালেদা জিয়া মামলায় দন্ডিত, তারেক জিয়া পালাতক, ফেরারী আসামী তাদের দল ক্ষমতায় আসলে কে হবে প্রধানমন্ত্রী এনিয়ে তাদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়ে গেছে।

    আগামী দিনে আবারও তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে স্মার্ট বাংলাদেশ পরিণত হবে এবং সুখি রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তাই আগামী দিনে আপনাদের কাজ হবে সরকারকে সহযোগী করা। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরা ও নৌকায় ভোট দিয়ে প্রধান মন্ত্রীকে পুনরায় ক্ষমতায় নিয়ে আসতে হবে।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • ধোপাজান নদীতে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন  নিয়ে যাচ্ছে বালু ও পাথর…পর্ব —১

    ধোপাজান নদীতে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন নিয়ে যাচ্ছে বালু ও পাথর…পর্ব —১

    কে এম শহীদুল সুনামগঞ্জ :

    সুনামগঞ্জের ধোপাজান চলতি নদীতে প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়ে দিনে রাতে চলছে প্রভাবশালী চক্রের দ্বারা বালু ও পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। সীমান্তবর্তী ডলুরাসহ কাইয়েরগাও এলাকায় প্রভাবশালী একটি চক্র প্রতিদিন সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে (ধামাইল) চলতি নদীসহ কয়েকটি স্পট থেকে প্রকাশ্যে ও রাতের আধারে পাড়কেটে উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ ঘনফুট বালু ও পাথর। ফলে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে মসজিদ, কবরস্থান, রাস্তা ঘাট ও বসতবাড়ি। বালু ও পাথর উত্তোলণের ফলে ধোপাজান নদী এখন রহস্যময় সমুদ্র রুপে আকার ধারণ করছে।

    সরকার ও প্রশাসনের তরফ থেকে ধোপাজান(চলতি) নদীতে বালু ও পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও একটি প্রভাবশালী পাথর খেকো চক্র রয়েছে যারা প্রকাশ্যে দিবালোকে প্রতি নিয়ত অবৈধ ভাবে পাড়কেটে নিয়ে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ ঘনফুট বালু ও পাথর।

    সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ডলুরা শহীদের গণকবরের পাশে (ধোপাজান) চলতি নদীতে চলে দিনে রাতে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন। এই চলতি নদীকে ঘিরে ডলুরা ও নারায়নতলা দুটি বিজিবির ক্যাম্প ও রয়েছে। এই অবৈধ কর্মকান্ডগুলো চলে তাদের সামনে। যার ফলে নদীর পাড়ে থাকা মসজিদ, ফসলী জমি, অসহায় মানুষের চলাচলের রাস্তা ,বসতবাড়ি , কবরস্থানসহ নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। হুমকির মুখে পড়েছে কয়েকটি গ্রাম। একদিকে যেমন লাভবান হচ্ছে কিছু অসাধু কর্মকর্তা পাশাপাশি অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করে সরকারের রাজস্ব ফাকিঁ দিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। যার কারনে সুন্দর্য হারাচ্ছে ধোপাজান নদীর ভারসাম্য ও পরিবেশ। ধোপাজান চলতি নদী এখন হয়ে উঠেছে রহস্যময় সমুদ্রের নীল নকশা। এছাড়াও বিশ্বম্ভরপুর এবং সুনামগঞ্জ সদর দুটি থানার মধ্যে অবস্থিত এই ধোপাজান নদী।

    নদী তীরবর্তী প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট চক্র প্রতিদিন প্রকাশ্যে দিবালোকে চলতি নদী হতে সরকারের রাজস্ব ফাকিঁ দিয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী হতে রাতের আধারে স্টিলের নৌকা লোড করে বালু ও পাথর নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর দিনের বেলা শত শত কাঠের ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে লক্ষ লক্ষ বালি ও পাথর নিয়ে যাচ্ছে। ঐ সমস্ত অবৈধভাবে বালু পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে সঠিক কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বরং প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা এবং স্প্রিড বুটের ড্রাইভার ও একজন মোল্লা প্রত্যেক নৌকা থেকে ৫০০ টাকা করে নিয়ে থাকে বলে জানা যায় ।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সীমান্তবর্তী ডলুরা থেকে শুরু করে আদাং, কাইয়েরগাওঁ,রামপুর, সৈয়দপুর, বালাকান্দা বাজারসহ আরও একটি সিন্ডিকেট চক্র প্রতিদিন ধুপাজান চলতি নদীসহ কয়েকটি স্পট থেকে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলণ করে শত শত পঙ্গপাল নামে নৌকা যুগে বড় বড় বলগেট/কার্গো জাহাজ/সুরমা নদীতে রেখে বুজাই দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের রমরমা ব্যবসা এবং গভীর রাতে বড় বড় বালু ভর্তি বলগেট নৌকা চলে ধোপাজান নদীতে।সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বে কিভাবে দুটি বিজিবি ক্যাম্প, দুটি থানা , ১টি নৌ-পুলিশ ফাড়িসহ ডিবি পুলিশ, নৌপুলিশ,বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশ,সদর থানা পুলিশের নিয়মিত টহল থাকা অবস্থায় কিভাবে চলে বালুও পাথর উত্তোলন সেঠিই এখন রহস্যময় ভাবনার বিষয়? নদীর পাড়ে থাকা অসহায় মানুষের দাবী প্রশাসন লোকেরা সুযোগ না দিলে নদী ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। উর্ধ্বতন র্কতৃপক্ষ ঐ সমস্ত অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলণ কারীদের বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহন করে ধোপাজান নদী ও পরিবেশ রক্ষা করবেন এমটি দাবী নদীর পাড়ে থাকা অসহায় মানুষের।###

  • বাগেরহাটের মোংলায় নানা আয়োজনে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্মবার্ষিকী পালিত

    বাগেরহাটের মোংলায় নানা আয়োজনে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্মবার্ষিকী পালিত

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির: “ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো” জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা, তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৬৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিনটি। ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর এই দিনে বরিশালের রেডক্রস হাসপাতালে জন্মগ্রহন করেন তিনি। বাংলাদেশের কবিতায় অবিসস্মরণীয় এই কবির শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাকে দিয়েছে সত্তরের অন্যতম কবি-স্বীকৃতি। ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

    দিনটির স্মরণে সোমবার (১৬ অক্টোবর) কবির পৈতৃক বাড়ি মোংলার মিঠেখালীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ‘রুদ্র স্মৃতি সংসদ’। সকাল ৯টায় মিঠাখালী বাজার থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি মিঠাখালী বাজার প্রদক্ষিণ করে কবির মাজারে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় কবির কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। পরে সেখানে মিলাদ ও দোয়া এবং রুদ্র স্মরনানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    স্মরনানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ।

    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- রুদ্র স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও রুদ্রের অনুজ সাংবাদিক সুমেল সারাফাত, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সহপাঠি ও উন্নয়ন সংস্থা ‘আমাদের গ্রাম’ এর পরিচালক রেজা সেলিম, মিঠাখালী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মণ্ডল, সাবেক চেয়ারম্যান ও রুদ্র স্মৃতি সংসদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি মাহমুদ হাসান ছোট মনি, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুর আলম শেখ, স্থানীয় ইউপি সদস্য উকিল উদ্দীন ইজারদারসহ রুদ্র স্মৃতি সংসদ এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্যরা।

    এছাড়া দিনটি স্মরণে উন্নয়ন সংস্থা ‘আমাদের গ্রাম’ এর আয়োজনে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাপীঠে দিনব্যাপী বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার আয়োজন করেছে। স্মরণসভা শেষে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও রুদ্রের গান পরিবেশিত হবে।

    উল্লেখ্য, অকালপ্রয়াত এই কবি নিজেকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন আপামর নির্যাতিত মানুষের আত্মার সঙ্গে। সাম্যবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহ্যচেতনা ও অসাম্প্রদায়িকবোধে উজ্জ্বল তার কবিতা। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’ এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি উচ্চারণ করেছেন অবিনাশী স্বপ্ন ‘দিন আসবেই’ দিন সমতার’। যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান তাকে পরিণত করেছে ‘তারুণ্যের দীপ্র প্রতীক’-এ। একই সঙ্গে তাঁর কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা। মাত্র ৩৫ বছরের (১৯৫৬-১৯৯১) স্বল্পায়ু জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। ‘উপদ্রুত উপকূল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদ’ থেকে পরপর দু’বছর ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন।

    অনুষ্ঠানের শেষে রুদ্র স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও রুদ্রের অনুজ সাংবাদিক সুমেল সারাফাত এর হাতে উপহারের বই তুলে দেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ।

  • গোদাগাড়ীতে  ভোক্তা অধিকার আইনে অভিযান, জরিমানা, দোকানে তালা দিয়ে পালিয়ে গেলেন অনেকে

    গোদাগাড়ীতে ভোক্তা অধিকার আইনে অভিযান, জরিমানা, দোকানে তালা দিয়ে পালিয়ে গেলেন অনেকে

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিশালবাড়ী বাজরে বিভিন্ন ২ দফা অভিযান চালিয়ে ভেজাল, পঁচা মালামাল, পুন্যের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় কয়েকজন দোকান মালিককে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

    সোমবার দুপুরে মহিশালবাড়ী বাজারে মুদির দোকানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রাজশাহী জেলার সহকারী পরিচালক মাসুদ গ্রালীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মুদি দোকানদার কালুকে মেয়াদ উত্তীর্ণ মুড়ি রাখার জন্য ৬ হাজার টাকা, ভেজাল, একই অভিযোগে মুদি দোকানদার বাবুকে সাড়ে ৩ টাকা, পাঁচা পুন্য বিক্রির অভিযোগে আব্দুল্লাহকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা, তার ভাই মুদিখানার দোকানদার সোয়েবকে ২ হাজার টাকা জরিমান করেন।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিকুল ইসলাম তার ফেসবুক ভেরিভাই পেজে ৪ টি ছবি দিয়ে লিখেছেন, আজ ১৬/১০/২০২৩ ইং তারিখ সাড়ে বিকেল ৫ টার সময় রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলাধীন মহিশালবাড়ী এলাকায় জনাব মোঃ জাহিদ হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, গোদাগাড়ী, রাজশাহী মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন ।

    অভিযান পরিচালনা কালে একটি দোকানে ১২ (বার) প্যাকেট মেয়াদোত্তীর্ণ টেস্টি স্যালাইন এবং নষ্ট ও ময়লাযুক্ত গুড় জব্দ করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ টেস্টি স্যালাইন এবং নষ্ট ও ময়লাযুক্ত গুড় রাখার অপরাধে অভিযুক্ত জনাব মোঃ মফিজুল ইসলাম, পিতাঃ মৃত. ইয়াসিন, মহিশালবাড়ী, গোদাগাড়ী, রাজশাহীকে ভোক্তাধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫১ ধারায় ২০০০/- (দুই হাজার) টাকা অর্থ দন্ড করা হয়
    তিনি আরও লিখেছেন, জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
    ২ অভিযান পরিচালনার সময় ফার্মেসী, মুদিদোকানদার, কাপড়ের দোকানদার তেল মেল মালিকগণ দ্রুত দোকানে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান। অভিযানের সংবাদ পৌঁছা মাত্রই রেলওয়ে বাজার, হাটপাড়া, গোদাগাড়ী, সুলতানগঞ্জ, রেলগেট, বাইপাস, সিএন্ডবি এলাকার চিত্র একই। দোকান মালিকগণ জরিমানার ভয়ে ৩/৪ ঘন্টা দোকানে তালা লাগিয়ে পালিয়ে থাকেন।
    এতে করে আজকে তাদের আধাবেলা দোকান বন্ধ থাকার ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এক দোকানদারকে বলতে দেখা যায় আওয়ামীলীগ, পুলিশলীগের পর নতুন যুক্ত হয়েছে ভোক্তা অধিকার লীগ। এদের কারনে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। লাখ লাখ টাকা বাকী খেয়ে টাকা চাইতে গেলে হুমর্কীদেন কিভাবে ব্যবসা করবো।

    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • টেকনাফে র‌্যাবের অভিযানে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর একটি পুরাতাত্ত্বিকসহ আটক-১

    টেকনাফে র‌্যাবের অভিযানে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর একটি পুরাতাত্ত্বিকসহ আটক-১

    কে এম নুর মোহাম্মদ
    কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি

    কক্সবাজারের টেকনাফের কেকেপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৮১৮ সালের ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর একটি পুরাতাত্ত্বিকসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র‌্যাব-১৫।

    আটককৃত ব্যক্তি হলেন,টেকনাফ হ্নীলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড
    চৌধুরীপাড়ার মৃত অংয়ে এর ছেলে ক্য থেন ছা (৫৫)।

    কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়া) মোঃ আবু সালাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান,রবিবার (১৫ অক্টোবর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫ জানতে পারে যে,টেকনাফ থানাধীন টেকনাফ পৌরসভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ অফিসের পিছনে কতিপয় ব্যক্তি পুরাকীর্তি ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫, কক্সবাজার এর সিপিসি-২ হোয়াইক্যং ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল পুরাকীর্তি উদ্ধারের লক্ষ্যে বর্ণিত স্থানের কেকে পাড়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কতিপয় ব্যক্তি র‌্যাবের অভিযানিক দলের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দৌড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টাকালে একজনকে র‌্যাব আটক করতে সক্ষম হয় এবং অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন সু-কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত ব্যক্তির হেফাজত থেকে ১টি পুরাতন ম্যাগনেট এর পিলার (যা লম্বায় ৮ ইঞ্চি, পিলারটির গায়ে খোদাই করা ইংরেজিতে EAST INDIA COMPANY 1818, AACI**ARTICLE ANTIQUE BRITISH WATER, BRITISH POT POWER WATER [DANGER]***********99999***, যাহার উপরের অংশে EIC 1818, RED MARCURY 99.9999.6-27X27 1KG লেখা আছে) উদ্ধার করা হয়।
    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আসামীগণ পরস্পর যোগসাজসে জব্দকৃত পুরাকীর্তি ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে উক্ত স্থানে অবস্থান করছিল মর্মে জানা যায়।

    তিনি আরো জানান,উদ্ধারকৃত আলামতসহ আটককৃত ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • বাগেরহাটের শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে কক্ষে ঝুলছে তালা

    বাগেরহাটের শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে কক্ষে ঝুলছে তালা

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির. বাগেরহাট: বাগেরহাটের শরণখোলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে কক্ষে প্রায় দুই মাস ধরে তালা ঝুলছ। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফার) দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে বদলি হওয়ায় এই অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
    দীর্ঘ দুই মাস ধরে রোগীরা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় এক্সরে করাতে না পেরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বলে জানালেন হাসপাতালে আসা রোগী খাদা গ্রামের মমতাজ বেগম ও খুঁড়িয়াখালী গ্রামের আঃ সোবহান হাওলাদারসহ অনেকে।
    শরণখালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গাোপাল বিশ্বাস জানান, হাসপাতালের রেডিওগ্রাফার আল্লামা ইকবাল মোর্শেদ গত ২০ আগস্ট বদলি হয়ে যশোর বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে যোগদান করেছেন। কিন্ত তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে চলে যাওয়ায় এক্স-রে রুম তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
    এ বিষয়ে কথা বলার জন্য রেডিওগ্রাফার আল্লামা ইকবাল মোর্শেদের মুুঠোফানে বার বার কল করা হলও তিনি ফেন রিসিভ করেননি।

  • বাগেরহাটের ফকিরহাটে লতিরাজ কচু চাষে কৃষকের সাফল্য

    বাগেরহাটের ফকিরহাটে লতিরাজ কচু চাষে কৃষকের সাফল্য

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির: বাগেরহাটের ফকিরহাটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ সবজি লতিরাজ কচু চাষ করে সাফল্য পেয়েছে উপজেলার পিলজংগ গ্রামের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম।
    কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ও পরামর্শে তিনি লতিরাজ কচু চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ হন। এরপর তিনি কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষন গ্রহন করার পর তাকে ২০ শতক জমি একটি প্রদর্শনী প্রদান করা হয়। তিনি সেই প্রদর্শনীর জমি সম্প্রসারণ করে ৩০ শতক জমিতে লতিরাজ কচু চাষ করেন। তার জমির লতিরাজ কচু বিক্রয়রে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি চাষাবাদের জমি বৃদ্ধি করেছেন। এছাড়া এর মাধ্যমে তিনি পুর্বের ঋণের টাকাও পরিশোধ করেন। বর্তমানে দরিদ্র এই কৃষক সচ্ছলভাবে সংসার পরিচালনা করছেন। তার এই সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষক লতিরাজ কচু চাষে আগ্রহ হয়েছেন।
    উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার মন্ডল ও তানিয়া রহমান জানান, বর্তমানের উপজেলার ফকিরহাট সদর, বেতাগা, পিলজংগ, বাহিরদিয়া-মানসা সহ বিভিন্ন এলাকায় এই কচু চাষ করছেন অনেক কৃষক। তারা আরো জানান, কৃষকরা কচু চারা রোপণের প্রায় এক মাস থেকে দেড়মাস পর ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে কচুর লতি বিক্রি শুরু করেন। কচুর লতি বিক্রি পাশাপাশি কচুর চারা বিক্রি করে অনেক লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। অন্যান্য ফসলের উৎপাদন খরচের চেয়ে লতিরাজ কচুতে অল্প পুঁজিতে ভালো লাভ পাওয়া যায় বলে জানান।
    উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ফকিরহাট উপজেলায় প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক-কৃষাণীরা উন্নত জাতের মুখী কচু, পানি কচু ও লতিরাজ কচু চাষের আওতায় এসেছেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে এসব কৃষকরা কচু চাষে সাফল্য পেয়েছেন। কম সময়ে ভালো ফলন, কম খরচ ও বেশি লাভ হওয়ার কারনে এ ফসলটি চাষে লাভবান হয়েছেন লতিরাজ কচু চাষীরা।
    ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদেরকে লতিরাজ কচু চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। লতিরাজ কচুর ভালো ফলন ও বাজারের চাহিদার কারণে অনেক কৃষক চাষ শুরু করেছেন। কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ জাতের কচু চাষ করছেন। আয়রণ সমৃদ্ধ এ সবজির লতি, পাতা এবং কচু কোনটাই অপচয় হয় না। লতিরাজ কচু অনেকের কাছে প্রিয় সবজি। কচুপাতা শাক হিসেবে বিক্রি ও জৈব সার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। অনেকে কম্পোস্ট সার তৈরিতে ব্যবহার করছেন কচুপাতা।

  • বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের বাঘে খেয়েছে স্বামীকে, মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা মোরশেদা

    বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের বাঘে খেয়েছে স্বামীকে, মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা মোরশেদা

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির: বিশ্ব ঐতিহ্য প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিশ্ব ঐতিহ্য পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ হিসেবে সুখ্যাত সুন্দরবনের নদী-খালে ধরা মাছ বিক্রি করে যা পেত তাতেই চলতো তিনজনের সংসার। অনেক টাকা পয়সা না থাকলেও, স্বামী কাছে ছিল এতেই আমার শান্তি ছিল। তিনি তো চলে গেল। এখন আমাদের কী হবে। এই মেয়েকে (সিনথিয়া) কীভাবে আমি মানুষ করবো। জীবনটা অন্ধকারে ঢেকে গেল। এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে নিহত শিপারের স্ত্রী মোরশেদা বেগম।

    ২৩ বছর বয়সী মোরশেদা আরও বলেন, মেয়েটির বয়স মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর। একটি ঘর ছাড়া আমাদেরতো আর কিছু নেই। শ্বশুরেরও এই বাড়ি ছাড়া কোনো জমি-জমা নেই। নিজের বাবাও বৃদ্ধ, তাকে চলতে হয় অন্যের ওপর ভরসা করে। কয়েক মাস পরে মেয়েকে স্কুলে দিতে হবে। কীভাবে কি করবো জানি না।

    শিপারের বাবা ফারুক হাওলাদার ও ১৭ বছর বয়সী ছোট ভাই ফোরকান হাওলাদারও জেলে। তারাও সুন্দরবন থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ছেলের এমন মৃত্যুতে ভেড়ে পড়েছেন তারাও।

    বাবা ফারুক হাওলাদার কান্না কণ্ঠে বলছিলেন, শিপার সুন্দরবনে যাওয়ার আগেই আমি সাগরে গেছিলাম মাছ ধরতে। ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর থেকে ফিরে শুনি চারদিন ধরে শিপার বাড়ি আসে না। ফোনও বাড়িতে রেখে গেছে। পরের দিন সুন্দরবনে অনেক খোঁজাখুঁজি করে আমার বাবার মাথার খুলি পেয়েছি। বাবা তো চলে গেছে, কিন্তু এখন আমার নাতির কী হবে! আপনারা যারা আছেন, তারা যদি একটু সহযোগিতা করেন তাহলেই হয়তো মেয়েটা বেঁচে থাকতে পারবে।

    সাউথখালী ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কামাল হোসেন তালুকদার বলেন, শিপার অনেক ভালো ছেলে। সে পাশ নিয়েই সুন্দরবনে যেত। বাড়ির পাশেই বন হওয়ায় হয়তো পাশ নেয়নি। এরপরেও মানবিক দৃষ্টিতে শিপারের পরিবারকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। কারণ শিপারের স্ত্রী ও সন্তানের বেঁচে থাকার মতো কোনো অবলম্বন নেই। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সুন্দরবন বন বিভাগ, উপজেলা পরিষদ, মৎস্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনসহ সকলের কাছে শিপারের পরিবারকে সহযোগিতার আবেদন করছি।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, শিপার বন বিভাগের পাশ না নিয়েই সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিল। যার কারণে আমাদের পক্ষ থেকে তাকে কোনো সহযোগিতা করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশ নিয়ে সুন্দরবনে গেলে আমরা তাকে আইন অনুযায়ী সহযোগিতা করতে পারতাম। এজন্য সকল জেলে ও স্থানীয়দের পাশ পার্মিট নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করার অনুরোধ করেন এই কর্মকর্তা।

    এর আগে, ২৭ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে ঝাঁকি জাল (খেওলা জাল) নিয়ে শিপারের বাবা সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের তুলাতলা এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের ফারুক হাওলাদারের ছেলে শিপার হাওলাদার। নিখোঁজের চার দিন পরে ১ অক্টোবর রোববার সকালে ওই এলাকা থেকে শিপারের দেহ বিচ্ছিন্ন মাথার খুলি, শরীরের দুটি হাড় ও তার পরনে থাকা প্যান্ট-গেঞ্জি উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরবর্তীতে ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী শিপারের দাফন সম্পন্ন হয়।

    এদিকে সুন্দরবনে বাঘ এবং কুমিরের আক্রমণে কেউ মারা গেলে তার পরিবারকে ৩ লাখ টাকা এবং গুরুতর আহত হলে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, শিপার হাওলাদার সেই সুবিধা পাবেন না। কারণ শিপার বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন।

  • বিশ্ব দারিদ্র বিমোচন দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

    বিশ্ব দারিদ্র বিমোচন দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

    স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : বিশ্ব দারিদ্র বিমোচন দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জে দারিদ্র নিরসনে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রামের আওতায় বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাক এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে।

    আজ সোমবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের বসুমার্কেট এলাকায় অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পেইনে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসকের কায্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচাল মো: আজহারুল ইসলাম। এসময় ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মো: আব্দুল্লাহ আল ফারুক, আর.এম.ইউপিজি কর্মকর্তা তপন ভৌমিক উপস্থিত ছিলেন।

    পরে অতিথিবৃন্দ দ্ররিদ্র পরিবারকে দেয়া এড়ে গরুসহ বিভিন্ন অনুদানের খোঁজ খবর দেন এবং বাড়ি পরিদর্শন করেন।

    ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মো: আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, দারিদ্রের মধ্যে থাকা জনগোষ্ঠীর দারিদ্র ও অসমতা নিরসনের জন্য নানাবিধ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। নানামূখী উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে বর্তমানে অতিদরিদ্র কমে ৫.৬ শতাংশে পৌঁছেছে। দারিদ্রতা নিরসন করে উন্নয়নের মূল স্রোতধারার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    তিনি আরো বলেন, গোপালগঞ্জের আর্থসামাজিক ও ভৌগলিক অবস্থা বিবেচনা করে দেখা যায় যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকে। ফলে কৃষিকাজ করা সম্ভব হয় না। মানসম্মত শিক্ষার ক্ষেত্রে এখনও গ্রাম ও শহরের বৈষ্যম্য বিদ্যমান। বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাক তাদের আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন কর্মসূচি সরকারের সাথে লিয়াজো করে পারস্পারিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সামনের দিনগুলিতে বয়স, জাতি, জাতিসত্বা, অভিবাসন অবস্থা এবং প্রতিবন্ধীতাজনিত সামাজিক বৈষম্য নিরসন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

  • বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ে নিজেকে গড়বো” তারাকান্দার গোপালপুর  প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

    বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ে নিজেকে গড়বো” তারাকান্দার গোপালপুর প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

    ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
    ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ি, নিজেকে গড়ি’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে শৈশব থেকে ধারণা পাওয়া এবং সেই আলোকে নিজেকে দেশ প্রেমিক সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ময়মনসিংহ জেলার জেলা প্রশাসক মো: মোস্তাফিজার রহমান ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

    জেলা প্রশাসকের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গিয়ে কাজ করছেন তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি উপজেলার গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের ৪র্থ ও ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী সম্পর্কে ধারণা দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়তে উৎসাহিত করেন, ক্লাস শিক্ষককে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পাঠ করার অনুরোধ জানান এবং সেই থেকে বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ গ্রহণ করিয়ে শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধু আত্মজীবনী বিষয়ে একে অপরকে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করেন।

    অনুষ্ঠানে উপজেলা শিক্ষা অফিসার জীবন আরা বেগম এর সভাপতিত্ব্বে বঙ্গবন্ধুর জীবনী এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরনীয় অবদান সম্পর্কে আলোচনায় অংশ নেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মিজাবে রহমত বলেছেন, বই পড়ার অভ্যাস না থাকায় এ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে সীমিত জ্ঞান রাখে। বঙ্গবন্ধু এমন একজন মহান নেতা যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। ডিসি স্যারের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে কোমল মতি শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে ছোটকাল থেকেই জানতে পারবে, তাই উদ্যোগটি বাস্তবায়নে উপজেলার ১৪১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, সহকারী শিক্ষা অফিসার এবং শিক্ষা অফিসারের প্রতি আহবান জানান তিনি। পরিশেষে কুইজে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয়।