Blog

  • গণভোট প্রচা/রণা কার্যক্রম ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা

    গণভোট প্রচা/রণা কার্যক্রম ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ও গণভোট প্রচারণা কার্যক্রম এবং সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (০৭ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিপিডি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু শাহীন মো: আসাদুজ্জামান।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: সাইফুর রহমান। এছাড়াও পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ এবং জেলার সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের দপ্তরপ্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি: তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে অন্যান্য সংসদ নির্বাচনের সংসদ সদস্য (এমপি) কে ভোট প্রদানের পাশাপাশি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গণভোটের হ্যাঁ অথবা না ভোটের বিধান রাখা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে গণভোটের প্রচারণা, সাধারণ জনগণকে অবহিতকরণ এবং ব্যাপক প্রচারের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর একযোগে কাজ করছে। সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জনসংযোগ, উঠান বৈঠক, মহিলা সমাবেশ, কমিউনিটি সভা, মতবিনিময় সভা ও সেমিনার এবং অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সভায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা, গণভোটের প্রচারণা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় আলোচকরা সকলের সার্বিক সহযোগিতায় একটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • মধ্যরাতে কম্বল নিয়ে মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের পাশে পুঠিয়ার ইউএনও

    মধ্যরাতে কম্বল নিয়ে মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের পাশে পুঠিয়ার ইউএনও

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    তীব্র শীতের রাতে উষ্ণতার কম্বল নিয়ে এতিম ও অসহায় শিশুদের দুয়ারে দুয়ারে ছুটছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মানবিক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান।
    সোমবার (৫ জানুয়ারি) মধ্য রাতে উপজেলার বালিয়াঘাটি মরহুম হাজী আমজাদ মাদ্রাসা ও বানেশ্বর খুঁটিপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসায় থাকা শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে নিজ হাতে কম্বল তুলে দেন এবং এতিম অসহায় শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তাদের পড়ালেখা ও স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নেন।
    শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এভাবে প্রতি রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে ছিন্নমূল, প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করছেন ইউএনও লিয়াকত সালমান। এর আগে গত কয়েক দিনে তিনি উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামে থাকা বাসিন্দাদের মাঝেও কম্বল বিতরণ করেন।
    সোমবার রাতে কম্বল বিতরণের সময় তার সঙ্গে ছিলেন- উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস সুমিত, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাহবুবা আক্তার ও বানেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক দুলাল প্রমুখ।
    এবিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, রাতের আঁধারে কম্বল নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যার প্রয়োজন তাকে দেয়া সম্ভব। এতিম ও অসহায় ছিন্নমূল মানুষজন অনেক সময় কম্বলের অভাবে শীতে কষ্ট করে। তাই তাদেরকে একটু উষ্ণতা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে বাড়িতে বা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শীতবস্ত্র দেয়া হচ্ছে। রাত বা দিন বলে নয়, মানুষের সেবা করাই আমাদের কাজ।#

  • সুজানগরে শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠিত

    সুজানগরে শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠিত

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগরঃ পাবনার সুজানগরে ৫৪ তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল,মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে । বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি সুজানগর উপজেলা শাখা দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিতএই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।বুধবার(০৭ জানুয়ারী) সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো.সোলায়মান হোসেন। মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আখতারুজ্জামান জর্জ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মনোয়ার হোসেন।অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, নাজিরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাদের হোসেন ও সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রাজ্জাক । অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভলিবল, ব্যাডমিন্টন,অ্যাথলেটিকসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেয়। শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর প্রতিনিধি।।

  • বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আলোকবর্তিকা

    বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আলোকবর্তিকা

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ মানব জাতি মানব সভ্যতার ধারাবাহিক ইতিহাসের ধারায় এমন কিছু দুঃখজনক, বেদনাদায়ক, হৃদয় গ্রাহী ঘটনা সংযোজিত হয়েছে যা অধ্যায়ন করলে মন শুধু ব্যথিত ও মর্মহত হয় । আর এ সব ঘটনা সংঘটনের নায়কদের উদ্দেশ্যে মন থেকে বেরিয়ে আসে নানা ধিক্কারজনক উক্তি। ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায় এমন কিছু মহাস্থানের জীবন এই পূথিবীতে অকালে ঝরে গেছে, যাদের এই অপমৃত্য বিবেকই কোন অবস্থাতেই মেনে নিতে পারে না । মানব জাতি ও মানব সভ্যতার চিরকল্যানকারী।
    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যাঁদের জীবন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের কাহিনি নয়, বরং তা একটি জাতির গণতান্ত্রিক আকাক্ষা, প্রতিরোধ ও সংগ্রামের দীর্ঘ পথচলার দলিল।

    খালেদা জিয়া ২০২৫ ইং সনের ৩০ শে ডিসেম্বর ভােরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। খালেদা জিয়া বিরল নেতৃত্বের প্রতীক, যাঁর বিদায় মানে একটি যুগের অবসান।

    মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া দেশে-বিদেশে আরো উজ্জল ও মহিমান্বিত হলেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জিয়াউর রহমান প্রথম জাতি-ধর্ম নির্বিশেষ বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানায় বসবাসরত সব মানুষকে এক অভিন্ন পরিচয়ে আবদ্ধ করেছিলেন। জাতীয় ঐক্য ও বাংলাদেশের জনগণের বৃহত্তর স্বার্থের প্রশ্নে বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। আধিপত্যবাদের বশংবদ ও প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন মহীরূহের মতো অবিচল। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপোসহীন সংগ্রাম যেমন তার নেতৃত্বের দৃঢ়তাকে প্রশ্নাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, একইভাবে আধিপত্যবাদী শক্তির ছত্রছায়ায় ফ্যাসিস্ট রিজিমের প্রোপাগান্ডা ন্যারেটিভের আওতায় জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার বিপরীতে খালেদা জিয়া অস্বাভাবিক ধৈর্য ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। বাস্তবিক অর্থেই তিনি জাতির অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট ও সরকার বিরোধী আন্দোলনরত সহযোগী দলগুলোর মধ্যে ভাঙ্গন, বিভক্তি ও অনাস্থা সৃষ্টির জন্য ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সম্ভাব্য সবকিছু করলেও খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে তা সফল হয়নি। মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদন্ড ও অসুস্থতার মধ্য দিয়েই কেবল জোটের ভাঙ্গন নিশ্চিত হয়। তবে সক্রিয় জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের রাজনৈতিক দর্শনকে তার বক্তব্য ও নির্দেশনার মাধ্যমে প্রতিফলিত করেছেন। তার সময়ে কোন আলেমকে জেলে যেতে হয় নি। হয়রানীর স্বীকার হতে হয় নি।

    জুলাই অভ্যুত্থানের সময় এবং পরবর্তী টালমাটাল রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেগম খালেদা জিয়া বরাবরই জাতীয় ঐক্যকে প্রাধান্য দিয়ে অসামান্য রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার দ্যুতি ছড়িয়েছেন। জীবনের শেষ দিনগুলোতে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দল-মত নির্বিশেষ পুরো জাতি দোয়া করেছেন। তিনি যে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক তার উজ্জ¦লতম দৃষ্টান্ত হলো তাঁর জানাজায় বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মতো লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ। যেখানে সব দল, সব শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের লোকের সমাবেশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জানাজায় পরিণত হয়েছিল। এ এক অভূতপূর্ব বাস্তবতা, অবিস্মরণীয় ইতিহাস। খালেদা জিয়ার জানাজায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটতে দেখা গেছে।

    সত্যিকার অর্থেই জিয়ার দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক আদর্শকে আজীবন লালন করে গেছেন। আধিপত্যবাদী শক্তির অব্যাহত ষড়যন্ত্র সত্যেও তিনি কখনো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী আদর্শের ঐক্যের ধারণা থেকে বিচ্যুত হননি। তাঁর মৃত্যুর পর কোটি কোটি মানুষের শোক ও জানাজায় সর্বদলীয় জনতার সমাবেশ তারই প্রতিফলন। যারা বাংলাদেশপন্থী, যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, তারা খালেদা জিয়াকেও ভালোবাসেন। রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের সামনে অসীম ত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি দেশ ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম মমত্ববোধের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। এভাবেই একজন অভিভাবকতুল্য জাতীয় নেতার গ্রহণযোগ্যতা ও শ্রদ্ধার আসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ৩১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার জানাজায় দেশের সব ইসলামি দলের নেতাকর্মী এবং দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামার অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। খালেদা জিয়া দেশের বহুধা বিভক্ত ইসলামি দলগুলোকেও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ করে গেছেন। এ জন্যই তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণ প্রজন্ম এবং ইসলামি দলগুলোর নেতাকর্মীদের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছিলেন। খালেদা জিয়াকে ঘিরে ঐক্য ও সৌহার্দ্যরে মেলবন্ধন শুধু দেশের গতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়েছেন, এমনকি ভারত-পাকিস্তানের মতো পরস্পর বৈরী দুই প্রতিবেশী দেশের প্রতিনিধিদেরও খালেদা জিয়ার জানাজা ও শেষ বিদায়ে শরিক হয়ে পরস্পরকে করমর্দন করতে দেখা গেছে। চীন, আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বনেতারা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

    বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশে বিকশিত হয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ‘আলোকবর্তিকা’ হিসেবে একজন আপসহীন নেত্রীর দেখা পেয়েছে এদেশের মানুষ। স্বৈরাচারের পতনের পর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রথম নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার উপর আস্থা রেখেছিলেন কোটি কোটি মানুষ।

    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম-এর উদ্যোগে বহুদলীয় গণতন্ত্রের শুরুটা হলেও বাধাগ্রস্ত হয় স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের অবৈধ ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে। স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে টানা নয় বছরের সংগ্রামের মাধ্যমে কয়েক দফা কারাবরণ করেন আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

    আশির দশকের শুরুতেই স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হারিয়ে অল্প বয়সে বিধবা হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে জীবন সংগ্রাম শুরু করতে না করতেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে যখন অন্ধকারের পথে দেশের রাজনীতি, তখন আলোকবর্তিকা হয়ে সামনে আসেন বেগম খালেদা জিয়া।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করতে ঘরকন্না থেকে রাজপথে নেমে আসেন দেশের রাজনীতির এই আপসহীন নেত্রী।
    নীতি ও আদর্শে অটুট থাকায় তিনি আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বেগম খালেদা জিয়া তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি তিন দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি খালেদা জিয়া বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগ দেন। বছরখানেক যেতে না যেতেই নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় প্রশংসা অর্জন করেন। পরের বছর মার্চে তিনি দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদোন্নতি পান। এক মাস পর ১ এপ্রিল তিনি দলের বর্ধিতসভায় প্রথম বক্তৃতা করেন।

    রাজনীতিতে বেশ সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন তিনি। চারবারের সংসদে পাঁচটি করে আসনে বিজয়ী হন তিনি। আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনবার দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন। আর সেই আপসহীন নেতৃত্বকেই এদেশের জনগণ রায় দিয়েছিলো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সরকার গঠনের জন্য।

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন একটা ভয়ংকর রকমের অরাজকতা ও দেউলিয়াত্ব চলছিল। গত বছর জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠোচ্চারিত ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’ বিখ্যাত স্লোগানের কথা সবার মনে আছে। একটি বছর পার হয়ে গেল শিক্ষার্থীরা কি সে অধিকার পেয়েছে।

    জাতীয় নির্বাচনে দল পরাজিত হলে গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরে যান। অপর দিকে শেখ হাসিনা করেছেন উল্টোটা। তাঁর আমলের তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে ২০১৪ সালের নির্বাচন ছিল বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও জালভোটের, ২০১৮ সালের নির্বাচন ‘রাতের ভোটের’, ২০২৪ সালের নির্বাচন আমি, মামি, ‘ডামি ভোটের’। বিএনপিসহ বিরোধী বহু রাজনৈতিক দল সরকারকে ‘অবৈধ সরকার’ বলে আখ্যায়িত করে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানালেও শেখ হাসিনা কর্ণপাত না করে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করেন এবং গুম-খুন, হামলা-মামলা,জেল-জুলুম,দখলদারি-চাঁদাবাজি ইত্যাদি দমনপীড়ন-শোষণশাসন নীতি গ্রহণ করে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেন। শুধু তাই নয়, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলিকে দলীয়করণ করে ছদ্ম একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। বছরের পর বছর ধরে সর্বস্তরের মানুষের জমানো ক্ষোভ-বিদ্বেষ থেকে জুলাই ’২৪ এর ছাত্র-জনতার সম্মিলিত গণঅভ্যুত্থান হয়, জনরোষে পড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চরম অপদস্ত হয়ে গদি ছেড়ে স্বৈরাচার আখ্যা নিয়ে ভারতে পালাতে বাধ্য হন। তাঁর প্রতি জনগণের ন্যূনতম শ্রদ্ধা বা সহানুভূতি ছিল না। তাঁর রাষ্ট্রীয় আবাস গণভবন, নিজস্ব বাসভবন, পিতৃভবন পুড়িয়েছে, তাঁর প্রতিকৃতিতে জুতা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ক্ষান্ত হয়নি, জুতার মালা পরিয়েছে। এ সবকিছুই ছিল জনগণের প্রচন্ড ক্ষোভ ও ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ। পালাবার সময় তিনি নিজে কাঁদলেন, আর কারো চোখ থেকে এক ফোটাও অশ্রু ঝরেনি। আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা তখন বিজয়ানন্দে উল্লাসে-উচ্ছ্বাসে বিভোর। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস!

    দলগতভাবে বিএনপি এবং ব্যক্তিগতভাবে খালেদা জিয়া ছিলেন শেখ হাসিনার চক্ষুঃশূল। ক্ষমতায় থেকে তিনি খালেদা জিয়াকে অমার্জিত ভাষায় কেবল হেনস্থা করেননি, রাষ্ট্রের বরাদ্দকৃত বাসভবন থেকে উৎখাত করেছেন, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেলে পুরেছেন, নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছেন। জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে, তিনি এখনও বিদেশেই রয়েছেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করে ধ্বংস করা।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তিত হলে বেগম খালেদা জিয়া কারামুক্ত হন। তিনি বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেছেন। গুলশানের বাসা-এয়ারপোর্ট যাতায়াতের সময় রাজপথে জনতার ঢল নেমেছিল। এ ছিল তাঁর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা-ভালবাসার প্রতিফলন, যা তিনি ক্ষমতায় এবং ক্ষমতার বাইরে থেকে অর্জন করেছেন। কারামুক্তির পর তিনি প্রতিহিংসা থেকে বিরত থাকতে দলের নেতাকর্মীদের ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, যা ছিল তাঁর স্বভাবসুলভ বদান্যতা ও মহানুভবতা। তিনি ঐ সময় জনগণের মধ্যে ঐক্য ও দেশের প্রতি ভালবাসার কথা বলেন। আমরা তাঁকে কখনো কারো প্রতি কটাক্ষ বা মুখখিস্তি করে কথা বলতে শুনিনি। স্বৈরাচার নয়, শীলাচার ও সদাচার তাঁর ভূষণ, যা তিনি পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে পেয়েছেন।

    রাজনীতিতে নেমেই বেগম খালেদা জিয়া হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও অগণতান্ত্রিক রাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং তাঁর অধীনে সকল প্রকার নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। নানাবিধ অপশাসন ও অপকর্মের জন্য এরশাদ ‘স্বৈরাচার’ খেতাব পেয়ে যান; ‘বিশ্ববেহায়া’ তাঁর অপর তকমা। স্বৈরশাসকের সঙ্গে কোনো আপোস চলে না। ১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ
    নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করে। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তন করতে সক্ষম হন। তিনি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে জয়ী হন ও সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রীর পদ আলংকৃত করেন। বেগম খালেদা জিয়া তাঁর নীতিতে অটল থেকে যেরূপ অনমনীয় মনোবল ও সাহসিকতার পরিচয় দেন, তার ফলে দেশবাসী তাঁকে ‘আপোসহীন দেশনেত্রী’ আখ্যায় ভূষিত করে। বর্তমানে দেশে জাতীয় নির্বাচনের ঢেউ উঠতে শুরু করেছে তফসিল ঘোষনা হয়েছে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । এটা হবে জাতীয় সংসদের ১৩তম নির্বাচন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সরকারের এক বছর পূর্তিতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন। উপরন্তু তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্রুত একটি ‘ইলেকশন অ্যাপ’ চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। অপরদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে জাতীয় নির্বাচন হবে। সরকারের নির্বাচনের ঘোষণাকে দেশের সব রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন।

    ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কাজকর্ম ইসি কর্তৃক স্থগিত করা হয়েছে। তবুও দলটির কাজকর্ম বন্ধ হয়নি। গোপনে চলছে। কলকাতায় অফিস খুলে দলের নিয়মিত কার্যক্রর্ম পরিচালনা করছে। তাতে ভারতে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। দেশের অনেক মিডিয়াতেও বিষয়টি হাইলাইট হয়েছে। উপরন্তু দেশে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের সাথে হাসিনা ও কিছু নেতা টেলিফোনে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছে এবং নানা অপতৎপরতা তথা নাশকতা চালানোর উসকানি দিচ্ছে। তাই আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ দিয়ে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ইতিহাসের ঘৃণ্যতম অপশাসন চালানোর পরও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ফ্যাসিবাদী মনোভাব এতটুকু কমেনি। এত হত্যা-নির্যাতনেও মোটেই তাদের অনুশোচনা নেই। আওয়ামী লীগের সব ধরনের অপকর্মে ভারতের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের সাথে ভারতপন্থী খ্যাত বামপন্থীরা এবং জাতীয় পার্টির সখ্য অটুট আছে। দ্বিতীয়ত ব্যবসা, মিডিয়া ও সামাজিক সংগঠনগুলোতে আওয়ামী লীগ ও তার ঘরানার শক্তি বেশি। এই অবস্থায় গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ তাদের পতনের দিন ঢাকার শাহবাগে কয়েক লাখ লোকের সমাবেশ ঘটিয়ে ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু পরিকল্পনাটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে তা ভেস্তে গেছে। কিন্তু তাদের সে পরিকল্পনা পরিত্যক্ত হয়নি। বলবত রয়েছে। তাই যে কোনো সময় সুযোগ পেলেই বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে।

    বর্তমানে দেশে সর্বাধিক জনপ্রিয় দল বিএনপি। দলটির ব্যাপক জনসমর্থন থাকলেও সেভাবে সাংগঠনিক শক্তি গড়ে উঠেনি। মূল দলসহ সব অঙ্গ সংগঠন দুর্বল। তাই সমর্থকদের বেশিরভাগ ভাসমান, যাকে বলে আওয়ামী লীগ ঠেকাও সমর্থন। বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রধান কারণ হচ্ছে, দলটির বেশিরভাগ নেতাকর্মী ফুল টাইম রাজনীতিবিদ নন, পার্টটাইম রাজনীতিবিদ। অধিকাংশই ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত। সরকারের সাবেক আমলার সংখ্যাও অনেক। নেতাদের বেশিরভাগ থাকেন ঢাকায়। জীবনযাপন করেন আলীশানভাবে। নিজস্ব কাজ শেষে দলে একটু সময় ও অর্থ দেন। নির্বাচন এলে মনোনয়ন পান, গণপ্রতিনিধি হন, ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রী হন। কিন্তু তাদের সাধারণ মানুষের সাথে সম্পর্ক খুব কম। দলে তাদের প্রধান কাজ নেতাদের মোসাহেবি করা। দলটির প্রচার মাধ্যমও তেমন নেই। যেটুকু আছে তা শক্তিশালী নয়। দেশের বেশিরভাগ ইসলামপন্থী দলেরও একই অবস্থা। দু’চারটি রাজনৈতিক দল ছাড়া বেশিরভাগ দলের স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। অফিসও নেই। তাই স্থানীয় নির্বাচনে দু’চারটি আসনও পায় না। বিএনপি সর্বাধিক জনপ্রিয় দল হিসেবে নির্বাচনে এককভাবে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর রাজনৈতিক দৃশ্যগত পাল্টিয়ে গেছে, বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থকদের উৎসাহ উদ্দীপনা অনেক অংশে বেড়ে গেছে।

    পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে, বিএনপির প্রতি ভোটারদের সমর্থনের হারও ততই বাড়ছে। বিএনপিকে নিজের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। বিশেষ করে, প্রচারের দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, আধুনিক যুগে প্রচারণার গুরুত্ব অপরিসীম। মিথ্যা-প্রোপাগান্ডা তথা অপতথ্যকে প্রকৃত তথ্য দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে। চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, দুর্নীতি ট্যাগ লাগিয়ে ব্যাপক অপপ্রচার হচ্ছে সেটা প্রতিহত করতে হবে। ফ্যামেলি কার্ড একটি একটি দেশের মানুষের একটি সুন্দর উপহার এর সুফল তিলে ধরে ব্যাপক প্রচার করতে হবে।

    এতদিন ‘বিএনপির চেয়ারপারসন হিসাবে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতি দলের এবং দেশবাসীর জন্য এক পরম ভরসা। তিনি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, তাঁর জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত, ভাবমর্র্যাদা অবিতর্কিত। তিনি আছেন, যেন মাথার ওপর একজন অভিভাবক আছেন। আজ জনগণের কাছে একমাত্র তিনিই ‘আস্থার প্রতীক’। তিনি রাজনীতিবিদদের আলোকবর্তিকা এবং দেশের মানুষ সারাজীবন স্মারণ করবে।

  • নড়াইলে দেশীয় অ/স্ত্রের মুখে জি/ম্মি করে ডা/কাতি মোটর সাইকেল স্বর্ণ ও নগদ টাকা লু/ট

    নড়াইলে দেশীয় অ/স্ত্রের মুখে জি/ম্মি করে ডা/কাতি মোটর সাইকেল স্বর্ণ ও নগদ টাকা লু/ট

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইলের কালিয়া পৌরসভায় গভীর রাতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একদল ডাকাত মোটরসাইকেল, স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে পৌরসভার কার্তিকপুর গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিন খানের ছেলে ইদ্রিস আলী খানের বাড়িতে ডাকাতি সংঘটিত হয়।
    ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক ১০ জনের একটি ডাকাত দল মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে দেশীয় অস্ত্রসহ ইদ্রিস আলী খানের বাড়িতে হঠাৎ প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি চালায়। আতঙ্কিত পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে না পারায় ডাকাতরা নির্বিঘ্নে লুটপাট চালায়। ডাকাতরা একটি ইয়ামাহা এফজেডএস ভার্সন থ্রি মোটরসাইকেল (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: নড়াইল-ল-১১-৪৬৫১), চার আনা ওজনের একটি স্বর্ণের কানের দুল এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানান পরিবার সদস্যরা। পরে ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি ওই এলাকায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে গেছে, ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার বিষয়ে কালিয়া থানাকে অবহিত করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।
    কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী জানান, ডাকাতির ঘটনাটি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ডাকাতদের শনাক্ত ও আটকের জন্য পুলিশ কাজ শুরু করেছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

  • আরিচা-কাজিরহাট নৌ-রুটে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বড় দু/র্ঘটনার আ/শঙ্কা

    আরিচা-কাজিরহাট নৌ-রুটে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বড় দু/র্ঘটনার আ/শঙ্কা

    হেলাল শেখ: মানিকগঞ্জের আরিচা-পাবনার কাজিরহাট নৌ-রুটে দ্রুতগতির আধুনিক যানবাহন স্পিডবোটে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী যেখানে একটি স্পিডবোটে সর্বোচ্চ ১২ জন যাত্রী বহনের কথা, সেখানে ১৮ থেকে ১৯ জন যাত্রী নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রী সাধারণ ও সচেতন মহল।
    তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ৬–৭ জন যাত্রী বহনের ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের নৌ-দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যা যাত্রীদের জীবনঝুঁকির মুখে ফেলছে।

    বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে মানিকগঞ্জের আরিচা-কাজিরহাট নৌ-রুটে স্পিডবোট চালক আকাশ মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান,
    “সরকারি কাগজপত্র অনুযায়ী ১২ জন যাত্রী নিলে তেলের খরচ ওঠে না। তাই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ৬ জন যাত্রী নিচ্ছি। প্রতিজনের কাছ থেকে ২১০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।” ঝুঁকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঝুঁকি তো আছেই, তবে নৌ-পুলিশ বা থানা পুলিশ এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলে না।”

    এদিকে যাত্রী ও স্থানীয়রা দ্রুত নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, নিয়ম না মানলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

  • পাবনার বিভিন্ন এলাকায় বিশ্বখ্যাত দেশি জাতের পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা

    পাবনার বিভিন্ন এলাকায় বিশ্বখ্যাত দেশি জাতের পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা

    হেলাল শেখঃ দেশব্যাপী খ্যাত পাবনার দেশি জাতের পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। শৈত্যপ্রবাহ ও কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করেই থেমে নেই কৃষি উৎপাদনের চাকা।

    বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬ইং) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, পাবনার সুজানগর উপজেলার আমিনপুর বিলাঞ্চলসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা মাঠে নেমে পেঁয়াজ রোপণের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। হিমেল বাতাস ও শীতের প্রকোপ সত্ত্বেও জমিতে কাজ করছেন তারা। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশি জাতের বিশ্বখ্যাত এই পেঁয়াজ স্বাদে ও গুণগত মানে উন্নত হওয়ায় এর চাহিদা সারাদেশেই রয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, সার ও বীজের দাম এবং ন্যায্য বাজারমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় তাদের দুশ্চিন্তার কারণ।

    এ বিষয়ে কয়েকজন কৃষক বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে সার, বীজ, সেচ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতসহ সব ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
    কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো সহায়তা ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে পাবনার দেশি পেঁয়াজ চলতি মৌসুমে ভালো ফলন দিয়ে দেশের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

  • গোপালগঞ্জে মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির ম/তবিনিময়

    গোপালগঞ্জে মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির ম/তবিনিময়

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ঐতিহাসিক ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে মতুয়া সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস, এম জিলানী।

    বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে গোপালগঞ্জ- ৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস, এম জিলানী ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে মতুয়া নেতৃবৃন্দের সাথে কুশল বিনিময় ও মতবিনিময় করেন।
    দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কল্যাণের বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে আলোচনায় উঠে আসে। মুক্তচিন্তা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন তারা।

    এ সময় গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী ডা. কে এম বাবর, গোপালগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সভাপতি রওশন আরা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এম তৌফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপি নেতা মাহবুব আলী সোহেল, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা মোঃ ইমরান ইভান আলী, মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতা অমিতাভ ঠাকুর, সুব্রত ঠাকুর, পদ্মনাভ ঠাকুর, সম্পদ ঠাকুর, শিবু ঠাকুর, দীনেশ মণ্ডলসহ মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • গোপালগঞ্জে “ভোটের গাড়ি”

    গোপালগঞ্জে “ভোটের গাড়ি”

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সমগ্র দেশব্যাপী প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জের তিনটি নির্বাচনী আসনে প্রচার কার্যক্রম চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ “ভোটের গাড়ি”।

    এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে “ভোটের গাড়ি” কোটালীপাড়ায় পৌঁছায়। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ -এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন জনসমাগম পূর্ণ স্থানে “ভোটের গাড়ি” অবস্থান করে প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করে।

    পরে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জেলা নির্বাচন অফিসের আয়োজনে একই দিন স্থানীয় পৌর পার্কে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকাল ৪ টায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, জুলাই যোদ্ধাদের বিষয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের অংশ বিশেষ প্রদর্শন করা হয়। যা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

    গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় আয়োজিত এ প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার সময় গোপালগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (উপসচিব) মোঃ আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ, গোপালগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ আশ্রাফুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত কুমার দেবনাথ, জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ অলিউল ইসলাম সহ বিভিন্ন পর্যায়ের পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়াও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা- কর্মচারীবৃন্দ, সকল শ্রেণি-পেশার সাধারণ ভোটারগণ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এরপর বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে কাশিয়ানীতে “ভোটের গাড়ি” পৌঁছায়। পরে ভোটের গাড়িতে স্থাপিত ডিজিটাল ডিসপ্লে, সাউন্ড সিস্টেম ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্টের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব, ভোটাধিকার প্রয়োগের নিয়ম, ভোটকেন্দ্রে করণীয় ও বর্জনীয়সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপাত্ত ভোটারদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হয়।

    এ সময় কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহিন মিয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতাহার শাকিল, উপজেলা নির্বাচন অফিসার শেখ আব্দুর রশীদ সহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ ও সাধারণ ভোটারগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে “ভোটের গাড়ি” বোয়ালমারী উপজেলা দিয়ে ফরিদপুর জেলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে।

  • কাজ না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা, প্রকৌশলীকে হুম/কি,

    কাজ না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা, প্রকৌশলীকে হুম/কি,

    মোঃ তরিকুল ইসলাম তরুন | মুরাদনগর

    কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা এবং নিয়মবহির্ভূত বিলের সুপারিশ না করায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে মারধরের হুমকির অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার রজ্জব হোসেন রাজুর বিরুদ্ধে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরে মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল–গাজীরহাট সড়কসহ দুটি সড়ক প্রকল্পের কাজ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাহাত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রজ্জব হোসেন রাজু। এর মধ্যে একটি প্রকল্পের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ কিলোমিটার এবং অপরটি কুড়াখাল বি-চাপিতলা পর্যন্ত ৮২২ মিটার।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীকাইল কলেজ থেকে গাজীরহাট পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পায় সোয়াদ এন্টারপ্রাইজ। তবে বাস্তবে কাজটি বাস্তবায়ন করেন রজ্জব হোসেন রাজু। কাজ সম্পন্ন না করেই তিনি বিল উত্তোলনের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। বিলের সুপারিশে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অন্যদিকে, কুড়াখাল–বি-চাপিতলা সড়কের ৮২২ মিটার প্রকল্পে নির্ধারিত সময় ও ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করেই প্রায় ৫০০ মিটার কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের চেষ্টা চালানো হয়।

    প্রকল্প পরিদর্শনে দেখা গেছে, কাজের গুণগত মান ও পরিমাণ ওয়ার্ক অর্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী বিল অনুমোদনে অপারগতা প্রকাশ করেন।

    এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঠিকাদার রাজু ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্র প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    শ্রীকাইল গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ও সাজ্জাদ হোসেন বলেন,

    “সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ছিল। বরাদ্দ আসায় এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদারের অবহেলায় কাজ না হওয়ায় প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

    কুড়াখাল গ্রামের বাসিন্দা সুজন মুন্সি বলেন,

    “অসম্পূর্ণ ও নিম্নমানের কাজের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

    স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, রজ্জব হোসেন রাজু ঠিকাদারি কাজের লভ্যাংশের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং একাধিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

    তবে প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী কাজের গুণগত মান ও পরিমাপ সন্তোষজনক না হলে কোনো অবস্থাতেই বিল ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।

    অভিযোগের বিষয়ে রজ্জব হোসেন রাজু বলেন,

    “আমি বিলের জন্য কাজ শেষ করতে পারিনি। যতটুকু কাজ হয়েছে, তা নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। বিল পেলে বাকি কাজ শেষ করে দেব।”

    মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন,

    “ঠিকাদার ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করেননি এবং নির্ধারিত সময়ও অতিক্রম করেছেন। এ কারণে বিল দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বরং বিধি অনুযায়ী তার কাছে জরিমানার টাকা পাওনা রয়েছে। শ্রীকাইল–গাজীরহাট সড়কের ২ কিলোমিটার কাজ ঠিকাদারের অপারগতায় বাতিল করা হয়েছে। সেই কাজের বিল দাবি করাও সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।”