Blog

  • বাল্য বিয়ে করতে গিয়ে বরের কারাদণ্ড

    বাল্য বিয়ে করতে গিয়ে বরের কারাদণ্ড

    মোহাম্মদ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় :
    পঞ্চগড়ে বাল্যবিয়ে করতে গিয়ে বরের কারাদণ্ড
    পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বাল্যবিয়ে করতে গিয়ে সাব্বির হোসেন (২৪) নামে এক বরের ৬ মাসের জেল জরিমানা হয়েছে। বুধবার রাতে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের দর্জীপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ফজলে রাব্বি’র সাথে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত যুবক সাব্বির হোসেন একই উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।

    ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে দর্জীপাড়া গ্রামের জামাল উদ্দীনের অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৭) মেয়ের সাথে পারিবারিক ভাবে জমকালো আয়োজনে বিয়ে হচ্ছিলো পাশ্ববর্তী শালবাহান ইউনিয়নের মজিবর রহমানের ছেলে সাব্বিরের সাথে। এর মাঝে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসন থানা পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। ভ্রাম্যমান আদালত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে কনের বাবা ও পরিবারের অভিভাবকেরা খবর পেয়ে পালিয়ে যায়। এসময় ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক কনের পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে কথা বলার সময় বরসহ পরিবারের সদস্যরা আদালতকে সহযোগীতা না করে তথ্য গোপন করে। পরে কনের জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাগজ যাচাই করলে বিবাহের জন্য কনের অপ্রাপ্ত বয়স পাওয়ায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ৭ (১) ধারায় বর সাব্বিরকে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে। পরে তেঁতুলিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনছারুজ্জামান রাতেই সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করে।

    আরো জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে রাব্বি’র নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হাসান।

    তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে রাব্বি জানান, সরকারি আইন অনুযায়ী মেয়েদের ১৮ বয়সের নিচে বিয়ে দেয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বর সাব্বিরকে ৬ মাসের কারাদণ্ডর নির্দেশ প্রদান করে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহ নিরোধ করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • রংপুর বিভাগে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হলেন পঞ্চগড়ের বুবলী

    রংপুর বিভাগে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হলেন পঞ্চগড়ের বুবলী

    মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড়
    প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় রংপুর বিভাগে শ্রেষ্ঠ সহকারি শিক্ষক (মহিলা) নির্বাচিত হয়েছেন নাজিরা নাসরিন বুবলী। তিনি বর্তমানে পঞ্চগড় -১ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। ২০০৫ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজে বাংলা বিষয়ে স্নাতক সম্মান বিষয়ে পড়াশোনা চলাকালীন তিনি সহকারী শিক্ষক পদে পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োগ পান। কর্মজীবনের শুরুতেই তার বাড়ি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার দরুয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বর্তমান কর্মস্থলে বদলী হয়ে আসেন।

    পঞ্চগড় পৌরসভার সাবেক কাউন্সির বেলাল হোসেনের কন্যা বুললির স্বামী হাসিনুর রহমান পঞ্চগড় বিএম কলেজে প্রভাষক পদে কর্মরত আছেন।

    দুই সন্তানের জননী বুবলী জানান, বিlদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তিনি তার সন্তান স্নেহে পাঠদান করেন। বাংলা বিষয়ে স্নাতক সম্মান ডিগ্রী নেয়া বুবলী বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংলিশ বিষয়েও সমান দক্ষ। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অঙ্গভঙ্গী ও হাসি গানের মাধ্যমে উভয় ভাষায় পাঠদান করায় শিক্ষার্থীরা যেমন দক্ষ হচ্ছে তেমনি গত কয়েক বছরে বিদ্যালয়টিতে বেড়েছে শিক্ষার্থী সংখ্যাও।

    বুবলী এটুআই এ আইসিটি ফোর ই এর পঞ্চগড়ের এম্বাসেডরের পাশাপাশি বাংলা বিষয়ে প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারি শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় তার পরিবারের সাথে উচ্ছসিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরাও।

    বুবলীর সহকর্মী শামীমা আকতার শাম্মী বলেন, বুবলীর এমন অর্জন সত্যিই গর্ব করার। তাকে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক ( মহিলা ) নির্বাচিত করায় তার সহকর্মী হিসেবে আমরা আনন্দিত।

    মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি যে কাউকেই যেমন আরও ভালো কাজে অনুপ্রাণিত করে তেমনি অন্যরাও অনুপ্রাণিত হয়। বুবলী আপা মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে নিবেদিত প্রাণ একজন শিক্ষক। তিনি তার যোগ্যতা, মেধা, দক্ষতা ও কাজের উত্তম স্বীকৃতি পেয়েছেন।

    এটা সত্যিই গর্বের। জালাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহানাজ পারভীন নয়ন বলেন, শিশুদের আনন্দদায়ক ও নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে শ্রেণিপাঠ বুবলি আপার অনন্য সৃষ্টি। তিনি বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হওয়ায় তিনিও উচ্ছসিত স্বপ্না একই কথা বলেন সরদারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা
    পঞ্চগড় -১ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা সতিকার অর্থে প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে একজন নিবেদিত প্রাণ শিক্ষককে বাছাই করে সম্মানিত করেছেন।

    ডোকরোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুমার সেন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে বুবলী অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। যা প্রশংসা করার মতো।

    বুবলীর এই অর্জনে আনন্দিত স্বামী হাসিনুর রহমান। তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে ও মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি তার স্ত্রীকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যহত রাখবেন।

    বুবলী বলেন, দেশের নামকরা বিদ্যলয়ের কাতারে তার কর্মরত বিদ্যালয়ের নাম লেখাতে সহকর্মীদের সহযোগিতা নিয়ে পথ চলছেন। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে আগামী প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে তৈরি করতে তিনি সদা তৎপর।

  • জীবন ও জীবিকা  পাঠ  স্কুলেই রান্না শিখছে শিক্ষার্থীরা

    জীবন ও জীবিকা পাঠ স্কুলেই রান্না শিখছে শিক্ষার্থীরা

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট:বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে উপজেলার এসিলাহা পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিজের হাতে রান্না শিখছে। নিজেরা রান্না করে দুপুরের খাবারের আয়োজনও করেছে তারা।

    জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের কৃষিসহ নানা বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে নতুন শিক্ষা পদ্ধতিতে জীবন ও জীবিকা নামে পাঠ্য বই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই বইয়ের একটি অধ্যায়ে রান্নায় দক্ষতা অর্জনের বিষয়টি রয়েছে। যার অংশ হিসেবে রান্না শিখছে শিক্ষার্থীরা।

    বৃহস্পতিবার ( ১৯ অক্টোবর ২০২৩)দুপুরে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কেউ পেঁয়াজ কাটছে, কেউ কাটছে মরিচ, কেউ চাল ধুঁয়ে রান্না বসাচ্ছে, কেউ আবার আলু কাটছে। কাউকে দেখা গেল ডিম ভাজতে। কারো ব্যস্ততা চুলায় আগুন জ্বালানো নিয়ে। এভাবে নিজেরা সম্মিলিতভাবে রান্নায় ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা।

    এসব কাজে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রয়েছেন শিক্ষকেরাও। সবাই একেক কাজে ব্যস্ত। পরে রান্না শেষে ১০ শিক্ষক, কর্মচারী ও ৫০ শিক্ষার্থী মিলে একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়েছেন তারা।

    শ্রেণি শিক্ষক তানিয়া সুলতানা বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণির জীবন ও জীবিকা পাঠ্য বইয়ের স্কিল কুকিং অধ্যায়ের কাজের মধ্যে আনন্দ হাতেকলমে শিখতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা দুপুরে নিজেদের রান্না নিজেরাই করে খাবার খায়। এতে শিক্ষার্থীরা আনন্দ খুঁজে পায়।

    বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক হাওলাদার বলেন, শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি, জ্ঞান, যোগ্যতা, মূল্যবোধ ও সখ্য বাড়াতে জাতীয় শিক্ষাক্রমের মূল ভিত্তিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। এরই ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জীবন ও জীবিকা বিষয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার অর্জনের অংশ হিসেবে বুধবার শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বাজার করা থেকে শুরু করে রান্নার সবকিছুই করেছে। শিক্ষকরা তাদের সহায়তা করেছে ক্লাসের মত।

    বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী বিহনা আরফিন বিন্দু, চাঁদনী, তায়েবা, নুফিকাসহ অন্যরা জানায়, বাড়িতে মা প্রতিদিনই রান্না করেন। বাবা হাট থেকে চাল, ডাল, সবজি, তেল, লবণ থেকে শুরু করে যাবতীয় জিনিস কিনে নিয়ে আসেন। এই কাজ সম্পর্কেই আজ তারা অভিজ্ঞ হলো।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. বাকি বিল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার জন্য শিক্ষায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে হাতেকলমে বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যেমে কৃষি, রান্নাসহ নানা কাজ শিখছে শিক্ষার্থীরা। এতে তারা ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল হতে পারবে। #ছবি সংযুক্ত আছে।

    (এস এম সাইফুল ইসলাম কবির)
    বাগেরহাট সংবাদদাতা:

  • বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সবজির বাজারে আগুন, অসন্তোষ ক্রেতাদের

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সবজির বাজারে আগুন, অসন্তোষ ক্রেতাদের

    এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট:নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের পাশাপাশি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সবজির দাম বৃদ্ধি হওয়ায় হতাশ ভোক্তারা। গত এক সপ্তাহে সব ধরনের সবজির দামও কেজিতে বেড়েছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা। সাধ্যের মধ্যে সবজি কিনতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন।ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে শীতের সবজি না আসায় দাম তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। তবে শীতকালীন সবজি বাজারে উঠলে দামও কমে যাবে।অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দিনের পর দিন কাঁচামাল সিন্ডিকেটের অবৈধ কারবার চলছে। তাই এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকরী তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ক্ষোভ প্রকাশ করে বেশ
    কয়েকজন ভোক্তা বলেন, রাম রাজত্ব কায়েমের মাধ্যমে এরা অল্পতেই আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়ার মতো বিপুল অর্থ-বৃত্তের মালিক বনেছেন। আর চড়া দামে কাঁচা তরিতরকারি কিনতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশ্ব ঐতিহ্য পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ পূর্ব সুন্দরবনের উপকূলীয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ও আশপাশের এলাকায় মৌসুমী কাঁচামালের উৎপাদন তেমন নেই। আর চাহিদার তুলনায় উৎপাদন না থাকায় মোরেলগঞ্জ পৌর কেন্দ্রিক নিত্যপণ্যের কাঁচাবাজারকে ঘিরে বিগত কয়েক বছরে গড়ে উঠেছে ১৫ সদস্যের সিন্ডিকেট চক্র। এ চক্রের সদস্যরা হলেন-আব্দুর রশিদ ফকির. হারুনআর রশিদ. তুজাম্বর মেম্বার. আল আমিন নজরুল তালুকদার.রফিক, আলু আলম, ফিরোজ, সুমন, কবির, কামরুল, নজরুল, জাহিদ,নাসির ও কালু।

    খুলনা, যশোরের সাতমাইল, আঠারোমাইল, কেশবপুর, সাতক্ষীরার তালা, শাহাদাতপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোরেলগঞ্জে আসে কাঁচামালের তরিতরকারি।

    বিগত কয়েক বছর আগে ওই সকল এলাকা থেকে পাইকাররা এখানে পাইকারি মূল্যে পণ্য সরবরাহ করতেন। কিন্ত নানা প্রভাব বিস্তার ও করসাজি করে কাঁচামাল ও তরিতরকারির বাজার নিয়ন্ত্রনে নেয় স্থানীয় সিন্ডিকেট চক্র।

    শুক্রবার (২০ অক্টোবর ) সকালে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ শহরের সবজির বাজারে ঘুরে দেখা যায়, বেগুন প্রতি কেজি ১০০, পেঁপে ৩০, শসা ৮০, আলু ৪৮, সিম ১৬০, পটল ৮০, করলা ৬০, কাকরোল ৮০, উস্তে ৮০, ঝিঙ্গা ৫০, বরবটি ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৪০, কাঁচ কলা প্রতি হালি ৩০ টাকা ও কাঁচা মরিচ মানভেদে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম বেশি হওয়ায় অস্বস্তি জানিয়েছেন ভোক্তারা।সবজি ক্রেতা রনি বলেন, সপ্তাহ ধরে একই রকমভাবে বাজারে বাড়তি দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। দাম কমার লক্ষণ দেখছি না। যেখানে এক কেজি সবজি কিনব, সেখানে প্রকারভেদে আধাকেজি ও ২৫০ গ্রাম কিনতে হচ্ছে। সাধ্যের মধ্যে না থাকায় অনেক ক্রেতা একইভাবে সবজি কিনে বাড়ি ফিরছেন।স্থানীয় আরও বেশ কয়েকজন ক্রেতা বলেন, সিন্ডিকেট আড়তদারদের কারণেই এ বাজারে দাম বেশি। তারা জানান, আশপাশের বাজারের চেয়ে শহরের প্রধান এ বাজারে সবসময় পণ্যের দাম অনেক বেশি নেয়া হয়। স্বল্প দূরত্বে অন্য কোনো বাজার না থাকায় একান্ত বাধ্য হয়ে এ বাজারে চড়া দামে তরকারি কিনতে এসে নাভিশ্বাস উঠে যায় তাদের।

    সিন্ডিকেট চক্রটির সদস্যরা সকলেই পৌর বাজারের আড়তদার। এ চক্রটিই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে পুরো বাজার। এদের অনেকেই কাঁচামালের ব্যবসার নামে সিন্ডিকেট করে অল্পদিনেই বিপুল অর্থ, গাড়ি ও বাড়ির মালিক হয়েছে। যখন যে রাজনৈতিক নেতা প্রভাবশালী থাকে তখন তাকে ম্যানেজ করে দিনের পর দিন সিন্ডিকেট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। তাই সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায় তারা।সবজি বিক্রেতা সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু , জাহাঙ্গীর ফরাজি সহ অনেকেই জানান, বেগুন প্রতি কেজি ১০০, পেঁপে ৩০, শসা ৮০, আলু ৪৮, সিম ১৬০, পটল ৮০, করলা ৬০, কাকরোল ৮০, উস্তে ৮০, ঝিঙ্গা ৫০, বরবটি ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৪০, কাঁচ কলা প্রতি হালি ৩০ টাকা ও কাঁচা মরিচ মানভেদে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

    মোরেলগঞ্জ কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা রেজাউল হাওলাদার, এইচ এম আসলাম হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও সাথী ইসলাম ক্রেতা বলেন,বাজার সহনীয় অবস্থায় নেই। এত দাম দিয়ে সবজি কিনতে হবে বুঝে উঠতে পারছি না। আগের তুলনায় প্রতিকেজি সবজি প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ টাকা বেশিতে কিনতে হয়েছে। সবমিলিয়ে বলতে গেলে বাজারে সবজির দাম বাড়তিই যাচ্ছে।সকাল বিকাল নিত্য পণ্যের দাম ওঠা-নামা করে এখানে। সিন্ডেকেটের বেঁধে দেয়া মূল্যে সকল দোকানেই কাঁচামাল বিক্রি হয়। আর বিক্রি না হলে ফেলে দেয়া হয় ড্রেনে । সরবরাহ থাকলেও দাম কমে না।সবজি বিক্রেতা ইলিয়াছ জানান, সপ্তাহ ধরে সবজির বাজার একই রকম যাচ্ছে। বাজার ভেদে কোনো কোনো সবজির দাম ১৫-২০ টাকা কম-বেশি হয়। পাইকারি বাজার থেকে মাল কেনার পর খাজনা ও পরিবহন খরচ হয়। সে কারণে লাভ রেখে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করি। তবে শীত মৌসুম না হওয়ায় কিছু কিছু সবজির বাড়তি দাম যাচ্ছে। এর কারণ হলো বাজারে সরবরাহ খুবই কম তাই দাম একটু বাড়তি।পাইকারী বিক্রেতা আব্দুর রশিদ ফকির বলেন, চাহিদার তুলনায় পণ্য সরবরাহ কম তাই গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে সবজির বাজারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।তবে আগামী মাস থেকে নতুন সবজি আসা শুরু হলে দাম অনেকটা কমে যাবে।

    তেল ও চালের দাম স্বাভাবিক থাকলেও মসলা বাজারে জিড়া কেজি প্রতি ১০২০ টাকা,সাদা এলাচ ও কালো এলাচের ও ডিমের দাম ও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু সবজি অতিরিক্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে- এর কারণ হলো উৎপাদন কমে গেছে। আগের তুলনায় সবজি সরবরাহ অনেক কম। আশা করি, এক মাসের মধ্যে শীতকালীন সবজি বাজারে আসা শুরু হলে দাম আগের মতো হয়ে যাবে। মাংসের বাজারে ও দাম বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি আকারভেদে কেজিপ্রতি ১৮৫ টাকা, কক মুরগি ৩২০ টাকা কেজি, রুই মাছ ৫০০ টাকা কেজি, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ মাছ ২২০০ টাকা কেজি আর ৭০০ গ্রাম ওজনের ১২০০ টাকা কেজি। এছাড়া, নদীর চিংড়ি আকারভেদে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি।
    মাছ কিনতে আসা এক কলেজ ছাত্র শেখ রাহাতুল ইসলাম জয় বলেন, মাছের বাজারে যেভাবে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এতে করে আমাদের বাসার জন্য মাছ কেনা খুবই কষ্টকর।

    আর খুচরা বিক্রেতারা বলেন, আড়ত থেকে যে দর দেওয়া হয়, তার চেয়ে সামান্য কিছু লাভে আমরা বিক্রি করে থাকেন। দাম বাড়ানো কিংবা কমানোর বিষয়টি আড়ৎদারদের হাতে । তবে মাঝে মধ্যে বাজার মনিটরিংয়ে স্থানীয় প্রশাসন অভিযানে নামে। তখন দু’একজনকে সামন্য জরিমানা ছাড়া তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এ বিষয়ে কথা হয় মোরেলগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাজারে কোন সিন্ডিকেট নেই, সবই উড়ো কথা। তারা পাইকারিতে যে দামে পণ্য কেনেন তার চেয়ে সামান্য বেশি দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন।

    জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের বাগেরহাটের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, ‘সবজির উৎপাদন কম হচ্ছে বলে দাবি করছেন আড়তদাররা। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মূল্যে তালিকা দেখে অসঙ্গতি থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। #ছবি সংযুক্ত আছে।

    (এস এম সাইফুল ইসলাম কবির)
    বাগেরহাট সংবাদদাতা:

  • তানোরে বিএনপি নেতার আওয়ামী লীগে যোগদান

    তানোরে বিএনপি নেতার আওয়ামী লীগে যোগদান

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ

    রাজশাহীর তানোরে এক মঞ্চে একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতার আওয়ামী লীগে যোগদানের গুঞ্জন উঠেছে। এতে বিএনপির রাজনীতিতে রীতিমতো টর্নেডোর সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সরনজাই ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক খাঁন এবং মুন্ডুমালা পৌর বিএনপির সহসভাপতি আফসারুজ্জামান প্রামানিক গভীর নলকুপের অপারেটরের পদ রক্ষায় আনুষ্ঠানিক ভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। তবে তারা উভয়ে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে এমপির রাজনৈতিক দুরদর্শিতার সকলে ভুয়সী প্রশংসা করেছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের শাসন আমলের তুলনা করতে গিয়ে এই দুই নেতা বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। এক পর্যায়ে অতিউৎসাহী হয়ে তারা আওয়ামী লীগে যোগদানের ইচ্ছে প্রকাশ করেন। এসময় নেতাকর্মীদের অনুরোধে সাংসদ তাদের গলায় মালা দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করান।

    এদিকে বিএনপির এই দুই নেতার আওয়ামী লীগে যোগদানের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। এবিষয়ে জানতে চাইলে সরনজাই ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক খাঁন বলেন, তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন নাই, বিএনপিতেই আছেন। তবে তার ইউপি এলাকার উন্নয়নে এমপির পাশে থেকে কাজ করার অঙ্গীকারে তিনি মালাবরণ করেছেন, দল বদলে নয়, বলে জানান তিনি। অপরদিকে, আফসারুজ্জামান প্রামানিক এমপি ফারুক চৌধুরীর সম্মানে মঞ্চে উঠে দলবদলে মালা গ্রহণ করেন। পরে এমপির আচার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সামনের চেয়ারে বসে এমপির বক্তব্যে সমানে করতালি দেন তিনি।

    স্থানীয়রা বলছে, অনুষ্ঠানে আরো অনেক নেতা ছিল তাদের তো মালা দেয়া হয়নি। তারা সামান্য স্বার্থের কারণে দলবদল করে এখন অস্বীকার করলে হবে। অথচ এরা দুজনেই ছিলেন সাবেক ডাকমন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিষ্টার আমিনুল হকের ঘনিষ্ঠ সহচর।

    জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসন ও তানোর বিএমডিএ’র যৌথ আয়োজনে পরিষদ চত্বরে কৃষি উৎপাদনের বিদ্যমান গতিশীলতা অক্ষুন্ন রাখা ও পানি সংকট উত্তোরনের লক্ষ্যে বিএমডিএর গভীর নলকূপ অপারেটদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দায়িত্বরত ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবিদা সিফাতের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না ও বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান।তানোর বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ কামরুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাইনুল ইসলাম স্বপন, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ প্রদীপ সরকার ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু বাক্কার সিদ্দিক ও সোনীয়া সরদার, তানোর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আসলাম উদ্দিন, সম্পাদক আবুল বাসার সুজন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সামশুল ইসলাম ও সম্পাদক রামিল হাসান সুইটপ্রমুখ। এদিকে অসমর্থিত সূত্র জানায়, এঘটনায় বিএনপির তৃণমুলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় এই নেতার কুশপুত্তলিকা দাহ করে প্রতিবাদ জানান। এবং তাদের দালাল ও বিএনপির দুশমন আঙ্খা দিয়ে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।#

  • তানোরে অপ্রতিদ্বন্দী সুজনের প্রতিপক্ষ প্রোপাগান্ডা

    তানোরে অপ্রতিদ্বন্দী সুজনের প্রতিপক্ষ প্রোপাগান্ডা

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরের রাজনীতিতে তরুণ নেতৃত্বের আইডল বিশিষ্ট সমাজসেবক, ব্যবসায়ী ও তানোর পৌর আওয়ামী লীগের সম্পাদক আবুল বাসার সুজনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে একটি অশুভচক্র আবারো নানা অপতৎপরতা শুরু করেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে খুব অল্প সময়ে তরুণ সমাজের কাছে সুজন অপ্রতিদন্দী নেতৃত্ব হয়ে উঠেছে। যাদের নেপথ্যে মদদে সুজনের বিরুদ্ধে মানহানিকর ও মিথ্যা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তারা রাজনীতি করে যেখানে পৌঁছাতে চাই, সেখান থেকে সুজনের রাজনীতি শুরু। সুজনের আচারণ ও রাজনৈতিক দুরদর্শীতায় তৃণমুলে তরুণ সমাজের মধ্যে যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে সেটা অনেকে মেনে নিতে পারছে না। সুজন তরুণ সমাজের প্রাণশক্তি ও সাহসের অনুপ্রেরণা। অন্যরা যেখানে ব্যর্থ সুজন সেখানেই সফল, যার প্রমাণ তানোর পৌরসভা নির্বাচন। পৌরসভা সৃষ্টির পর প্রথম বারের মতো আওয়ামী লীগের মেয়র নির্বাচিত হয়েছে, যার সিংহভাগ কৃতিত্ব সুজনের।
    জানা গেছে, দেশের অধিকাংশ ভোটার তরুণ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী। এরা জামায়াত-বিএনপির দুঃশাসন দেখেনি, দেখেছে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন ও অর্জন। ফলে এসব তরুণ ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ করে নৌকার পক্ষে নিয়ে আশা সুজনের প্রধান টার্গেট। যেখানে তিনি শতভাগ সফল। তরুণ সমাজের এই জাগরণ ধরে রাখতে পারলে নৌকার বিজয় নিশ্চিত। এদিকে সুজনকে ঠেকাতে বিশেষ মহলের ইন্ধনে শুরু হয়েছে সুজন বিরোধী প্রচারণা। কখানো বলা হচ্ছে সুজন আওয়ামী লীগের কেউ না হয়েও আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে,অথচ সুজন তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক, কখানো বলা হচ্ছে স্কুল কলেজ ইজারা নিয়ে ৪০ কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যে করেছে, কিন্ত্ত স্কুল-কলেজ ইজারা নিয়ে কি নিয়োগ বাণিজ্যে করা যায়। যদি সেটা হয় তাহলে বিগত প্রায় ১৫ বছর কারা ইজারা নিয়েছিল। কখানো বলা হচ্ছে, হাট-ঘাট ব্যবসার পর আবুল বাশার সুজন গ্রান্ড ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক) হোটেল ব্যবসা শুরু করেছেন। যেখানে তানোরের অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। শান্ত, নিরিবিলি,পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ইসলামি ভাবধারায় পরিচালিত হবার জন্য রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের কাছে (হোটল গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক) এর একটা আলাদা সুখ্যাতি রয়েছে।
    অথচ সেখানেও না কি রাত দিন সমানে চালছে মাদক এবং দেহ ব্যবসার কারবার ও পেশাদার যৌনকর্মীদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন নেটওয়ার্ক। এমন মিথ্যা, কুরুচিপূর্ণ, মানহানিকর ও মানুষিক বিবেক বিবর্জিত প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। তাদের কাছে যদি এসবের সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্য থাকে। তাহলে হোটেলের পাশেই বোয়ালিয়া মডেল থানা। থানায় অভিযোগ করবেন। অথচ এসব অভিযোগের কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই কারো কাছেই। শুধুমাত্র সাংসদের নির্বাচনী প্রস্তুতি কাজ দুর্বল করতেই
    সুজনবিরোধী এসব প্রোপাগান্ডা। এখন প্রশ্ন হলো যাদের ইন্ধনে এরা এসব প্রোপাগান্ডা করছে, তাদের মুখোশ উম্মোচনের সময় এসেছে এটা সময়েরও দাবী। এমনকি সুজন তানোর পৌর আওয়ামী লীগের সম্পাদক। অথচ তাকে উপজেলা যুবলীগের সম্পাদক বলে প্রচার করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
    তৃণমুলের ভাষ্য, দল রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায়, এমপি, উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরাও সরকার দলীয় তার পরেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছিল অনেকটা অসহায়। আওয়ামী লীগবিরোধীরা তাদের সব সময় দমিয়ে রাখতেন। স্থানীয়ভাবে কর্মীদের সেল্টার দেবার মতো কেউ ছিলনা। এমনকি দল ক্ষমতায় থাকার পরেও উপজেলা চেয়ারম্যানের নিজ গ্রামে তার উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, হামলা হয়েছে তৃণমুলের নেতাকর্মীদের ওপর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নেতাদের চরিত্র হনন করা ছিল সাধারণ ঘটনা।
    এসব নিয়ে আওয়ামী লীগের আদর্শিক নেতা-কর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হলেও প্রতিবাদ করতে পারেনি।
    স্থানীয় সাংসদের আহবানে সাড়া দিয়ে আবুল বাসার সুজন রাজনীতিতে সক্রিয় হবার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সেই দুঃসহ যন্ত্রনার দিন শেষ হয়েছে। এখন তাদের আঘাত করলে তারা পাল্টা আঘাত করতে পারে, তাদের এই সাহস ও অনুপ্রেরণার নাম সুজন। তানোর পৌরসভা নির্ভর রাজনীতি করতে গিয়ে, নেতাকর্মীসহ আম-জনতার কাছে সুজন এতোটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, এখন তাকে উপজেলা জুড়ে রাজনীতি করার জন্য তৃণমুল একট্টা হয়ে প্রতিনিয়ত তার উপর চাপ দিচ্ছেন।
    স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর আহবান ও দিকনির্দেশনায় তিনি ইতমধ্যে আদর্শিক ও মানবিক নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন। রাজনীতিতে স্বদিচ্ছা থাকলে যে পদ পদবী না থাকলেও মানুষের সেবা করা যায়, মানুষের কাছে আপন হয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায় সুজন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইতমধ্যে তিনি দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের হৃদয়ে পৃথক স্থান অধিকার করে নিয়েছেন। এরই পুরুস্কার স্বরুপ তানোর পৌর আওয়ামী লীগের সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদের দায়িত্ব পেয়েছেন।
    এদিকেে রাজনীতিতে সুজনের এমন অপ্রত্যাশিত উঙ্খানে একটি বিশেষ মহলের রাতের ঘুম হারাম হয়েছে এবং রাজনীতিতে জনসমর্থন হারিয়ে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষ মহল রাজনীতিতে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য হারানোর জন্য সুজনকে দায়ি করে তার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা শুরু করেছে। তাদের ইন্ধনে একটি গোষ্ঠী সুজনের বিরুদ্ধে এসব প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। কিন্ত্ত কোনো কিছুতেই সুজনের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে পারছে না। সুজনকে ঠেকাতে যারা মরিয়া এবার তাদের বিরুদ্ধে আমজনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
    এবিষয়ে আবুল বাসার সুজন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর তিনি একজন কর্মী। তিনি বলেন, আমাদের সবার অভিভাবক সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীর সিদ্ধান্তের বাইরে তার কোনো কথা নাই, তবে তিনি চাইলে যেকোনো দায়িত্ব নিতে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ করে এমপি মহোদয়ের পক্ষে মাঠে নামানোয় একটি চক্র সহজভাব মেনে নিতে পারছেন না। তারা ইন্ধন দিয়ে এসব অপপ্রচার করাচ্ছে। তিনি বলেন, তাদের এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই, তাদের একটাই ভাবনা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী এবং এমপি ফারুক চৌধুরীকে আবারো এমপি নির্বাচিত করা।#

  • চারঘাটে নবাগত ওসি’র সাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের মতবিনিময়

    চারঘাটে নবাগত ওসি’র সাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের মতবিনিময়

    চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

    রাজশাহীর চারঘাটে স্থানীয় সকল সাংবাদিকদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন চারঘাট মডেল থানার নবাগত ওসি।

    বহস্পতিবার সন্ধ্যায় (১৯ অক্টোবর) ওসি’র নিজ কার্যালয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    চারঘাট মডেল থানার ওসি এ এস এম সিদ্দিকুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চারঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার।

    মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, চারঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবর, চারঘাট রিপাটার্স ইউনিটি’র সভাপতি ওবায়দুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, চারঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক ময়েন উদ্দিন এবং চারঘাট রিপাটার্স ক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।

    আলাচনা সভায় ওসি বলন, সাংবাদিক ও পুলিশ যৌথভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাজ করলে অনেক অনিয়মের সমাধান করা সহজ হবে। ভুল ত্রুটির উদ্ধে কেউ নয়, তবে সেই মাত্রাটা যেন অতিরিক্ত না হয়, সে দিক লক্ষ্য রাখতে হবে। সমাজের ছোট ছোট অপরাধ গুলো পারিবারিক ভাবে প্রতিহত করা সহজ হবে।

    মতবিনিময় সভায় চারঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার বলেন, চারঘাট একটি মডেল থানা সেদিক থেকে তুলনামূলক ভাবে পুলিশ সদস্য সংখ্যা অনেক কম যার কারণে ছোট ছোট অনেক অপরাধ গুলো পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে নিরসন করতে হয়।

    তবে সব কিছুর মূল কারণ হিসেবে দেখা গেছে মাদক। এ মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিদের সামাজিক আন্দলোন গড়ে তুলতে হবে।

    মোঃ মোজাম্মেল হক
    চারঘাট, রাজশাহী।

  • যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি

    যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি

    পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি :
    পাথরঘাটার মাদারতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরীর যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে পঞ্চম শ্রেণি’র এক শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরীর নাম ইব্রাহীম।

    ঘটনার পর থেকে লাজ লজ্জায় স্কুলমুখি হতে পারছে না ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। এদিকে অভিযুক্ত দপ্তরির পক্ষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে । তবে ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা।

    তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,প্রতিদিনের ন্যয় গত ১৫ অক্টোবর মায়ের দেয়া খাবার নিয়ে স্কুলে যায় পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া ওই শিক্ষার্থী। টিফিন পিরিয়ডে অন্যান্য সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুল সংলগ্ন দপ্তরি ইব্রাহীমের দোকানে চিপস কিনতে গেলে সেখানেই ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দেয় ইব্রাহিম। দ্বিতীয় বার আবারও সিঁড়ির নিচে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীর স্পর্শ কাতর স্থানে হাতাহাতি করে শ্লীলতাহানি ঘটায় সে। এ সময় ওই ছাত্রীটির হাতে ৫০ টাকার একটি নোট ধরিয়ে দিয়ে ঘটনার কথা কারও কাছে বলতে নিষেধ করে অভিযুক্ত ওই দপ্তরি ইব্রাহিম ।

    তাৎক্ষনিক ওই ছাত্রীর কান্নাকাটি ও চিৎকার শুনে কয়েকজন সহপাঠী এগিয়ে এসে ঘটনার বিষয় শুনে বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষককে জানায়। পরে ওই শিক্ষক ঘটনাটির কথা বাড়িতে জানাতে বারণ করে।

    ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর মা বলেন, আমার মেয়ে স্কুল থেকে এসেই ঘটনার কথা খুলে বললে আমি পরদিনই (সোমবার) স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানাই এবং আমার মেয়ের সহপাঠীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হই। স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী ঘটনার বিষয়ে ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে সঠিক বিচারের আশ্বাস দিয়ে দিন পার করতে থাকে এবং আমার মেয়েকে তারা দুদিন লুকিয়েও রাখতে বলেন। আমি ইব্রাহীমের সঠিক বিচার চাই।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের পাশের বাসিন্দা এক অভিভাবক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি শুনেছি। দপ্তরি ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে পরের দিন স্কুলে এসে ঘটনার বিষয় মৌখিক অভিযোগ করেছেন যৌন নিপীড়নের শিকার ওই শিক্ষার্থীর মা।

    এদিকে ঘটনাটি কোনো মিডিয়ায় না আসার জন্য কতিপয় সাংবাদিক নামধারী চাদাবাজ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দিতে দপ্তরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলেও ওই সূত্র দাবী করেছে।

    অভিযুক্ত ইব্রাহীমকে স্কুলে গিয়ে না পেয়ে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ইব্রাহীমের স্কুলে অনুপস্থিতির বিষয়ে কথা হলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গেছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী। সেখানে গিয়েও ইব্রাহীম কিংবা ইউপি চেয়ারম্যান কাউকে পাওয়া যায়নি।

    ঘটনার বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ও তার মধ্যস্থতায় সমাধান হয়েছে জানিয়ে ঘটনার বিষয় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এ ছাড়াও ঘটনার বিষয়ে লিখিতভাবে কোনো দাপ্তরিক চিঠিও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর দেননি বলে নিজের ভুল স্বীকার করেন তিনি। স্কুলের পাশাপাশি দোকান চালানোর বিষয়ে কথা বললে দোকানটি ইব্রাহীমের বাবার বলে জানান। তবে দোকানটির সাইনবোর্ডে ইব্রাহীমকেই স্বত্বাধিকারী হিসেবে দেখা গেছে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে যৌন নিপীড়নের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে দোকানে বাকি খাওয়া নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে গালাগাল করা হয়েছে বলে জানান। তবে যৌন নিপীড়নের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টি এম শাহ আলম মুঠোফোনে বলেন, ৩/ ৪ দিন পূর্বে টাকা লেনদেন নিয়ে ঝামেলা সম্পর্কিত একটি ঘটনার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ফোনে আমাকে অবহিত করেছিলেন। স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সালিশ ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি। আমি তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের উপসহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে ম্যানেজিং কমিটি ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। অভিযুক্ত ও ঘটনার আড়াল করতে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এই শিক্ষা কর্মকর্তা

    ২০/১০/২০২৩

  • পোরশায় আঞ্চলিক মহাসড়কে ডাকাতি, পাঁচ ডাকাত সদস্য আটক

    পোরশায় আঞ্চলিক মহাসড়কে ডাকাতি, পাঁচ ডাকাত সদস্য আটক

    স্টাফ রিপোর্টারঃ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন

    নওগাঁর পোরশায় রাতের বেলা আঞ্চলিক মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণ করে ডাকাতি করে আসছিল একদল ডাকাত ।
    প্রথমে স্থানীয়দের ধাওয়াই এক ডাকাত আটক হয় এবং পরে তার দেওয়া তথ্য মতে পুলিশ আরো ৪ ডাকাত সদস্যকে আটক করে।

    আটকৃতরা হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার রানিবাড়ি(পত্তনডাংগা) গ্রামের মৃত মাহাতাব আলীর ছেলে সায়েদ আলী(২৬), গোমস্তাপুর উপজেলার দুবইল(ঘোলাদিঘি) গ্রামের আজিবুর আলীর ছেলে তাজেল আলী (২১), শিবগঞ্জ উপজেলার বালিয়াদিঘি গ্রামের মৃত আস্তমিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম(২৬), গোমস্তাপুর উপজেলার সুখানদিঘি(কান্দুপাড়া) গ্রামের আফসার আলীর ছেলে জহুরুল ইসলাম(৪৮) ও শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের ইসরাইল আলীর ছেলে হাসান আলী(২০)।

    জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাতে পোরশা- রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের পোরশা উপজেলার মোশানতলা মোড় নামক স্থানে প্রায় ১৫জনের একদল ডাকাত সদস্য ডাকাতি করছিল।
    এসময় সাপাহার উপজেলা থেকে আসা একটি ট্রাক সেখানে আসলে ডাকাত দল ট্রাকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ করে ।
    এতে ট্রাকের ক্ষয়ক্ষতি হয়। ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন ট্রাকে থাকা দুইজন ব্যক্তি।
    আহত অবস্থায় রাতেই স্থানীয়রা তাদেরকে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
    ককটেল বিস্ফোরনে এবং ট্রাকের লোকজনের চিৎকারে তৎক্ষণাৎ এলাকার লোকজন ছুটে এসে ডাকাতদের ধাওয়া করে।
    ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যরা সকলে পালিয়ে গেলেও একজনকে আটক করে স্থানীয়রা। রাতেই ওই ডাকাত সদস্যকে স্থানীয়রা পোরশা থানা পুলিশের হাতে সপর্দ করায়। আটককৃত ওই ডাকাত দলের সদস্যের দেওয়া তথ্য মতে বৃহস্পতিবার অপর চার ডাকাত সদস্যকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর এলাকা থেকে আটক করে পোরশা থানা পুলিশ।

    এ ব্যাপারে পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম জানান ডাকাতির ঘটনায় পোরশা থানায় একটি মামলা হয়েছে।
    গতকাল শুক্রবার আটকৃত পাঁচ ডাকাত সদস্যকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

  • রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের তাল গাছে গাছে ঝুলছে বাবুই পাখির বাসা

    রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের তাল গাছে গাছে ঝুলছে বাবুই পাখির বাসা

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহীর প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকায়,, বিশেষ করে বরেন্দ্র জনপদ এলাকায় খাজুর, তাল ও নারিকেল গাছে গাছে ঝুলছে বাবুই পাখির বাসা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় আগের মতো পর্যাপ্ত তালগাছ না থাকায় নারিকেল গাছে বাবুই পাখি বাসা বাঁধতে শুরু করেছে। বিশেষ করে জেলার গোদাগাড়ী, তানোর, কাঁকনহাট, মোহনপুর এলাকায় তালগাছ ও নারিকেল গাছে বাবুই পাখির বাসা দেখা যায়।
    “বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই, আমি থাকি মহা সুখে অট্টলিকা পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি ঝড়ে। বাবুই হাসিয়া কহে, সন্দেহ কি তাই? কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়।” বাবুই পাখির সেই দৃষ্টিনন্দন বাসা গ্রামে-গঞ্জের উঁচু তালগাছে দেখা যেত। কিন্তু সময়ের বিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে সেই বাবুই পাখির বাসা।
    শুধু বাবুই পাখিই নয়, প্রায় সব ধরনের পাখিই আজ হারিয়ে যাচ্ছে। আর হারিয়ে যাওয়ার এই দুঃসময়েও বাবুই পাখির কলরবে মুখরিত হয়ে উঠছে জেলার বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রত্যন্ত মাঠে মাঠে। এই এলাকায় যেসব অতিথিরা আসেন, তারা বাবুই পাখি আর প্রকৃতির এই সৌন্দর্য় উপভোগ করেন।
    গোদাগাড়ীর বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজশাহীর সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ শাহাদু্ল হক জানান, আলমাস এক সময় এলাকায় গাছ-গাছালিতে পাখিদের কলরবে এই এলাকা মুখরিত থাকতো। আগের সেই কলরব এখন নেই বললেই চলে। তবে কিছু তাল গাছে বাবুই পাখির অসংখ্য বাসা রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে তারা বাসা তৈরি করে বসবাস কর আসছে। তালগাছে বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা ও বিচরণ খুবই আনন্দ দেয়।

    অবাধে বৃক্ষ নিধন, জলবায়ুর পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বাবুই পাখির বাসা এখন আর তেমন একটা চোখে পড়ে না। এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা মনে করছেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা আগের চেয়ে অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে ফলে পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম অনেকটাই কমে গেছে। এখন বড় বড় তালগাছের অভাবে এই পাখিগুলো খেজুর ও নারিকেল গাছে বাসা বাঁধছে।

    পাখিদের উপযুক্ত পরিবেশ ও বেশি বেশি তাল গাছ রোপণ করা হলে অনায়েসে দেখা মিলবে বিভিন্ন প্রজাতির বাবুই পাখি। গ্রামাঞ্চলে এই পাখি ‘বাবুই’পাখি নামে পরিচিত। বাবুই পাখি বেশ দৃষ্টি নন্দন পাখি। এদের বাসার গঠন বেশ জটিল।
    বাবুই পাখি খড়, কচিপাতা ও কাশবনের লতাপাতা দিয়ে বাসা তৈরি করে। তাই বাবুই পাখিকে অনেকেই শিল্পী বলে ডাকেন। এরা দলবদ্ধ আর কলোনি করে জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত। বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের বাবুই দেখা যায়। এদের মধ্যে দেশি বাবুই, দাগি বাবুই ও বাংলা বাবুই। বাসা দেখতে উল্টানো কলসির মতো। বাসা বানানোর জন্য এই পাখি খুবই পরিশ্রম করে। ঠোঁট দিয়ে ঘাসের আস্তরণ ছাড়ায়। পরে সেই আবরণ যত্ন করে পেট দিয়ে ঘষে গোলাকৃতিটি মসৃণ করে। বাসায় শুরুতে দুটি নিম্নমুখী গর্ত থাকে। ডিম পাড়ার সময় একদিক বন্ধ করে দিয়ে জায়গা তৈরি করে। অন্যদিকটি লম্বা করে প্রস্থান ও প্রবেশ পথ তৈরি করে। বাবুই পাখি সাধারণত উঁচু তালগাছের পাতা, নারিকেল গাছ, খেজুর গাছ ও কড়ই গাছে বাসা বাঁধে। তাদের শিল্প চিন্তা খুবই নিপুণ। প্রবল ঝড়-তুফানও বাসার কোনো ক্ষতিসাধন করতে পারে না।
    এরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের বীজ, ধান, পোকা, খেয়ে জীবনধারণ করে। মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এদের প্রজননকাল। স্ত্রী বাবুই দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে। সেই ডিম ফুঁটতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগে। বাবুই ছানা এক মাসেই উড়তে শিখে বলে জানা যায়।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।