Blog

  • জাপার সম্ভাব্য প্রার্থী মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর এর হরিঢালী ইউনিয়নে গণসংযোগ

    জাপার সম্ভাব্য প্রার্থী মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর এর হরিঢালী ইউনিয়নে গণসংযোগ

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাপার সম্ভাব্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় জাপার সদস্য ও খুলনা জেলা জাতীয় পার্টীর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর হরিঢালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। শুক্রবার বিকালে হরিঢালী ইউনিয়নের উলুডাঙ্গা, রহিমপুর, দেওড়া, সনাতনকাটী, হরিদাস কাটী, মাহমুদ কাটী, সহ বিভিন্ন বাজারে গণসংযোগ কালে এসময় নেতা কর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জাপার সাবেক যুগ্ন-সম্পাদক ও নির্বাচনী সমন্নয়ক সামছুল হুদা খোকন, পৌর জাপার সভাপতি গাজী আব্দুস সামাদ, পৌর জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী মুজিবর রহমান, হরিঢালী ইউনিয়ন জাপার সভাপতি মুনছুর গাজী, কপিলমুনি ইউনিয়ন জাপার সভাপতি সরদার ফরিদ আহমেদ, লতা ইউনিয়ন জাপার সভাপতি কৃষ্ণ রায়, হরিঢালী ইউনিয়ন জাপার সহ-সভাপতি ইউলাদ গোলদার, আমীর আলী গাজী, ওয়াজেদ গোলদার, সাধারন সম্পাদক সাদেক শেখ, যুগ্ন- সম্পাদক মাফিকুল মোড়ল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল সরদার জমিদার, যুগ্ন সম্পাদক শুকুর আলী কাগজী, মীর ওসমান গনি, পৌর যুব সংহতির আহ্বায়ক আবু সাঈদ শেখ, উপজেলা যুব সংহতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রহিম, পৌরসভা যুগ্ন আহবায়ক খাইরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্র সমাজ সভাপতি তন্ময় রায়, মোঃ নাজিম আহমেদ, পলাশ হরি, মোঃ কামাল গাজী, মোঃ ফজর আলী সরদার, রেজাউল গাজী, শাহিদুল গাজী, ইমরান হোসেন, ও শাহরিয়ার রাসেল।

  • পাইকগাছায় বিদেশী মদ ও মোটরসাইকেলসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    পাইকগাছায় বিদেশী মদ ও মোটরসাইকেলসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    পাইকগাছা(খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় বিদেশী মদ ও মোটরসাইকেলসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। বৃহষ্পতিবার রাত দুইটার দিকে তাদেরকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের নামে থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
    মামলার বাদী উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এস আই) অমিত দেব নাথ জানান, গোপন সংবাদে বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে অভিযান চালিয়ে পৌর সদরের শিবসা ব্রিজের উপর থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। তারা সোলাদানা ইউনিয়নে মদ বিক্রয়ের জন্য মোটর সাইকেল যোগে যাচ্ছিল। এ সময় তাদেরকে গতি রোধ করলে দৌড়ে পালাতে যায়। এ সময় ব্রিজের শেষ প্রান্তে তাদেরকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের টেংরামারী গ্রামের বঙ্কিম ঢালীর ছেলে প্রনয় ঢালী(২৫), গড়ই খালী ইউনিয়নের হাতিয়া ডাঙ্গা গ্রামের শংকর সানার ছেলে অভিজিৎ সানা(২৪), ও ডুমুরিয়া উপজেলার চ্যাংমারী গ্রামের সুজিৎ মন্ডলের ছেলে রনি মন্ডল (২১)কে আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে মোটর সাইকেলে থাকা ব্যাগে রাখা তিন বোতল বিদেশি মদ এক টি লাল সাদা রংয়ের টিভিএস মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়।পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, আটক মাদক ব্যবসায়ীদের শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

  • পাইকগাছার হরিঢালীতে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ

    পাইকগাছার হরিঢালীতে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা, খুলনা।।
    পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নে সরকার প্রদত্ত ন্যাযমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্যে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এবারও প্রায় ৮শত ১০ টাকার নিত্যপণ্য মিলছে ৪৭০ টাকায়। রবিবার,(১৫ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকা থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের মানুষ ভর্তুকি দামে চাল, ডাল ও তেল কিনতে পারছে। জনপ্রতি ২ লিটার সয়াবিন তেল ২০০ টাকা, ২ কেজি মসুর ডাল ১২০ টাকা, ৫ কেজি চাল ১৫০ টাকা মোট ৪৭০ টাকার প্যাকেজে তিনটি পণ্য কেনার সুযোগ রয়েছে। বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল (বোতলজাত) ১৬৮-১৭০ টাকা, মোটা চাল ৪৮-৫০ টাকা, ডাল ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে বাজারে প্রতি প্যাকেজ পণ্য প্রায় ৮ শত ১০ টাকায় কিনতে হবে, টিসিবির ভর্তুকি দামে সেটি কেনা যাচ্ছে ৪৭০ টাকায়। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের পরই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে নিত্যপণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ডলারের দাম, দেশে চলছে ডলার তীব্র সংকট। ফলে পণ্য আমদানি কমছে। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়েছে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট বেড়েছে কয়েক গুণ। এ পরিস্থিতিতে স্বল্প দামে এক কোটি পরিবারের মধ্যে পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শুক্রবার বিকাল ৪ টায় হরিঢালী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পাইকগাছা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মুহম্মদ আল-আমীন, হরিঢালী ইউপির বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু জাফর সিদ্দিকী রাজু, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর খুলনা জেলা শাখার উপ-পরিচালক মোঃ সেলিম, ওয়ালিদ বীন হাবিব, ৭নং মামুদকাটী গ্রামের ওয়ার্ড সদস্য শংকর বিশ্বাস, ৫নং নোয়াকাটী গ্রামের ওয়ার্ড সদস্য আজিজুল ইসলাম, টিসিবির ডিলার ও সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম বজলু, শেখ সেলিম, ভূদেব মন্ডল ও শহীদ গাজী প্রমুখ।পরে সচিব
    মাহমুদকাটির শ্মশান কালী মন্দিরের শিলান্যাস করেন।মাহমুদকাটীস্থ সার্বজনীন মহা শ্মশান প্রঙ্গনে আনুষ্ঠানিক ভাবে তিনি শিলান্যাস করেন। রাজীব গাঙ্গুলীর সঞ্চালনায় শিলান্যাস অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অবঃ প্রধান শিক্ষক গনেশ ভট্টাচার্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন, সহকারী কমিশনার তৌহিদ রেজা,অবঃ শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্র,নিতাই পাল,গৌবিন্দ বসু ও সমীরন দে । ৮ গ্রামের এ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে আদশ্য মহা শ্মশানে পরিনত করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করে বক্তব্য রাখেন কালী মন্দিরের সম্পাদক ও প্যানেল চেয়ারম্যান শংকর বিশ্বাস,আয়োজক কমিটির সভাপতি প্রভাষক স্বপন কান্তি, প্রেমচাঁদ ভট্টাচার্য, সাবেক ইউপি পরমান্দ মন্ডল,রনজিৎ কুমার দে,বাসুদেব রায়,ইউপি সদস্য জযন্তী বিশ্বাস,স্মমিতা আঞ্জুযারা,আজিজুলসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেষার মানুষ।

  • বাগেরহাটের শরণখোলায় ইমাম পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা

    বাগেরহাটের শরণখোলায় ইমাম পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট: ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের বর্বর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পরে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শরণখোলা উপজেলা ইমাম পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজার প্রদক্ষিণ করে রায়েন্দা পাঁচ রাস্তা মোড়ে পথসভা করে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা মুফতি মোঃ মনিরুজ্জামান, রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার জালাল আহমেদ রুমি, মাওলানা ইসমাইল হোসেন ও তাতীলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম মিরাজ প্রমূখ।
    বক্তারা অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। #

    (এস এম সাইফুল ইসলাম কবির)
    বাগেরহাট সংবাদদাতা:

  • বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সপ্তাহে মিলছে ১দিন সেবা

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সপ্তাহে মিলছে ১দিন সেবা

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট:বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধীন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জনবল সংকটসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত, খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে এর কার্যক্রম। ১৬টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে ৭টি কেন্দ্রই সপ্তাহের ১দিন ব্যাতিরেকে থাকছে নিয়মিত বন্ধ। গ্রামীণ জনপদের মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় সপ্তাহে মিলছে ১দিন সেবা। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যাহত। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নেই কোন নজরধারী। কোন মতে দিন পার করে মাস শেষ হচ্ছে এভাবেই বছরের পর বছর।

    সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানা গেছে, উপকূলীয় মোরেলগঞ্জ উপজেলার এ গ্রামীণ জনপদের প্রায় ৪ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ১৬টি ইউনিয়নে সরকারিভাবে স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধীন ১৬টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এ কেন্দ্র থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষকে দেয়াহয় স্বাস্থ্য সেবা। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার (এস এ সি এম ও), ১জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফ ডবিøউ ভি), ১জন আয়া ও নিরাপত্তা প্রহরী থাকার কথা থাকলেও কোন কোন কেন্দ্রে শুধুমাত্র ১জন নিরাপত্তা প্রহরী পাহারা দিচ্ছে কেন্দ্র গুলো। সপ্তাহে একদিন খোলা হচ্ছে মূল ফটক। এরকম সপ্তাহে ৫দিন বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলি হচ্ছে চিংড়াখালী, পঞ্চকরণ, নিশানবাড়িয়া, হোগলাপাশা, তেলিগাতী, ঢুলিগাতি ও জিউধরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। কোন কোন কেন্দ্রে সপ্তাহের বৃহস্পতি, বুধ ও কোথাও রবিবার ১দিন খুলছেন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা একাধিক কেন্দ্রের এসএ সিএমও বা ১জন এফডবিøউভি কর্মী ।
    এদিকে অফিসসূত্রে জানা গেছে ১৬টি কেন্দ্রে ১৬জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার থাকার স্থলে রয়েছে কর্মরত মাত্র ৫জন। পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা ২২জনের পরিবর্তে রয়েছে ১০জন। দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে এ পদ গুলো শূন্য থাকায় একাধিক কল্যাণ কেন্দ্রের অতিরিক্ত দায়িত্ব
    পালন করছে অনেকেই। যে কারনে মূলকেন্দ্রের কর্মরত এসএ সিএমও এর কার্যক্রমের উপর পড়ছে এর প্রভাব।

    এ রকম দেখা গেছে হোগলাপাশা ইউনিয়নের স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দটিতে মূল ফটকে ঝুলছে তালা চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ তালা বন্ধ দেখে অনেকে যাচ্ছে ফিরে। কোথাও সাটানো নেই নোটিশ। বন্ধ থাকবে কদিন, খোলা থাকবে কবে নাগাদ। নিরাপত্তা প্রহরী তিনিও রয়েছেন বাহিরে। স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে এ কেন্দ্রটি প্রায় সময় বন্ধ থাকে। পাশ্ববর্তী রামচন্দ্রপুর থেকে সপ্তাহে একদিন একজন এসে খুলেন কিছু সময় রোগী দেখে চলে যান।

    এ সর্ম্পকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান তারেক বলেন, দীর্ঘদিন জনবল সংকট থাকার কারনে মাঠ পর্যায়ে ৭টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রে উপ-সহকারি মেডিকেল অফিসার না থাকায় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এ সব পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সমস্যা থেকে যাচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়ে একাধিকবার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা তাদের জন্য কষ্ট সাদ্য হয়ে দাড়িয়েছে। #

    (এস এম সাইফুল ইসলাম কবির)
    বাগেরহাট সংবাদদাতা ।

  • দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ৬ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

    দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ৬ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

    মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় প্রতিনিধি

    শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে টানা ছয়দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে স্থলবন্দর কতৃপক্ষ।

    বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কুদরত ই খুদা মিলন বলেন, সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা বর্ণাঢ্য ভাবে উদযাপন করতে বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি উভয় বন্দরের সম্মতিতে ২১ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ছয়দিনের টানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    এসময় বন্দরে স্বাভাবিক লেনদেন বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টধারী লোকজন বন্দরের ইমিগ্রেশন ব্যাবহার করে যাতায়াত করতে পারবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

  • সুজানগরে রাষ্ট্রপতির সুস্থতা কামনায় দোয়া

    সুজানগরে রাষ্ট্রপতির সুস্থতা কামনায় দোয়া

    এম এ আলিম রিপন ঃ পাবনার সুজানগরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দ্রুত সুস্থতা ও সর্বাঙ্গীণ রোগমুক্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার আ.লীগ কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সাবেক নেতা আশিকুর রহমান খান সবুজের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে বাদ জুম্মা অনুষ্ঠিত এ দোয়া মাহফিলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন, পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজা, ইউএনও তরিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

    সুজানগর(পাবনা) প্রতিনিধি ।

  • নড়াইলে পানিতে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

    নড়াইলে পানিতে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে সামিউল (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১ টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের চর-শালিখা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.রফিকুল ইসলাম ফকির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    নিহত শিশু সামিউল ওই গ্রামের কামরুল এর ছেলে।

    নিহতের স্বজন সুত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে বাড়ির উঠানে খেলছিল সামিউল এসময় তার মা ঘরে কাজে ছিলেন। কিছু সময় পরে বাড়ির উঠানে তাকে দেখতে না পেয়ে এদিক–ওদিক খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। কিছু সময় পরে বাড়ির পাশে পুকুরে শিশু সামিউলের মরদেহ ভাঁসতে দেখে তার মা উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ বিষয়ে বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম ফকির বলেন, পানিতে পড়ে মৃত্যুর ঘটনাটি মর্মান্তিক। আমরা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। তার এই মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

  • মাদক সন্ত্রাসী কর্তৃক সম্মানিত ব্যক্তিদের ছবি দিয়ে অপপ্রচার-পুলিশ ও র‌্যাবের হস্তক্ষেপ কামনা

    মাদক সন্ত্রাসী কর্তৃক সম্মানিত ব্যক্তিদের ছবি দিয়ে অপপ্রচার-পুলিশ ও র‌্যাবের হস্তক্ষেপ কামনা

    হেলাল শেখঃ বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়, তাহলে কেন অর্থ ও স্বার্থের জন্য মানুষের সমস্যা করে অশান্তি সৃষ্টি করে আর মাদক সন্ত্রাসী কর্তৃক সম্মানিত ব্যক্তিদের ছবি দিয়ে অপপ্রচার-পুলিশ ও র‌্যাবের হস্তক্ষেপ জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
    ঢাকা জেলার সাভার ও আশুলিয়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী একাধিক ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা কর্মী, বিশিষ্ট সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মানুষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে মাদক সন্ত্রাসী, চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজরা। এই অপপ্রচারকারীরা পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হলেও আদালত থেকে জামিনে এসে আবারও অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে। এদের মধ্যে অনেকেই সংবাদ লিখতে পারেনা কিন্তু নিজেরা সাংবাদিকের পরিচয়পত্র তৈরি করে সাংবাদিক পরিচয়ে ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
    বিশেষ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে কলম সৈনিক সাংবাদিকরা হামলা মামলা ও হত্যার শিকার হচ্ছেন কিন্তু সেই সাংবাদিকরাই আজ বেশি অবহেলিত আর ভুয়া সাংবাদিকরা সবখানে ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে, ধান্দাবাজি করছে। সাংবাদিক মানে কলম সৈনিক-দেশ ও জাতির বিবেক। জাতির কাছে প্রশ্ন কেন সাংবাদিকদের উপর হামলা মামলা করা হয়?। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ শান্তি প্রিয়। জনগণের তুলনায় সাংবাদিকের সংখ্যা অনেক কম। ৯০% মানুষ তাদের সেবা সঠিকভাবে পাচ্ছেন। তুলনামূলক বাংলাদেশে মাত্র ১০% জনগণ খারাপ, এর কারণে ভালো মানুষগুলোর বদনাম হয়, বাকিটা ইতিহাস।
    জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে ১৯৭৫ সালে নিষ্টুরের মতো হত্যা করেছে ঘাতকরা, বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই হত্যাকারীদেরকে পুরোপুরিভাবে বিচার করতে পারেননি, এখনো অনেকেই বিদেশে পালিয়ে আছে। বিশেষ করে ১। প্রজাতন্ত্র-বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যাহা “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” নামে পরিচিত। ২। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা-প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভুক্ত হইবে। ১২বছর আগের পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিক এবং চলমান পরিস্থিতি আর বর্তমান সময়ের হিসাব অনেকটা আলাদা। বর্তমানে যারা উক্ত দুইটি পেশায় আছেন, তারা বেশিরভাগ ব্যক্তিই সৎ ও সাহসীকতার সাথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন বলে অনেকেরই অভিমত। আপনারা জানেন যে, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ পুলিশ ও সাংবাদিকদের দায়িত্ব এবং ভুমিকা কি? এ আলোচনা নিয়ে পরে আসি।
    (বাংলাদেশের ইতিহাস)ঃ তথ্য সুত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রথমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় এক ছাত্র সভায়, ২ মার্চ ১৯৭১। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। তথ্য-কমপিউটার বিসিএস প্রিলিমিনারী গাইড এর ৮৭নং পাতা। যাঁর ডাকে বাংলার মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে গিয়েছিলেন, তিনিও আজ আমাদের মাঝে নেই, তাহার স্মৃতিটা সবার মাঝে বেঁচে আছে। এখন আমরা স্বাধীনভাবে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি, স্বাধীনভাবে পথ চলছি, একবারও কি তাদের আত্মার মাফেরাতের জন্য আমরা দোয়া করি? সবাই সবার জন্য দোয়া করা দরকার, এই দেশ আপনার আমার সবার, তাই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না কেউ।
    ১৯৭১ইং সালের পর বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো-বিভাগ সংখ্যা ছিলো ৬টি যা বর্তমানে ৮টি করা হয়েছে। ৬৪টি জেলা। প্রতিটি জেলায় পুলিশ প্রশাসন ও সংবাদ কর্মী আছেন, সেই সাথে প্রতিটি এলাকায় জনপ্রতিনিধি জনগণের স্বার্থে কাজ করছেন। যে পেশায়, যে দায়িত্বে রয়েছেন, সবাই যদি সঠিকভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেন তাহলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে, উন্নয়ন হবে, স্মার্ট হবে। উন্নয়নমূলক কাজ করার কথা সবাই বলা যায় কিন্তু উন্নয়ন করা সহজ নয়। আমাদের সবাইকে সরকারী সম্পদ রক্ষায় কাজ করতে হবে। যেমনঃ সরকারী খাল, বিল, নদী ও গ্যাস, বিদ্যুৎসহ যেসকল সেক্টর রয়েছে, সবগুলোর দিকে নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। প্রতিটি যানবাহনের প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র লাগবে। মাদক, জুয়া, দেহ ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। এই ৩টি অপরাধ বন্ধ হলে দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড কমে যাবে বলে অনেকেরই অভিমত।
    বিশেষ করে আপনার আমার পরিবার, সমাজ, দেশ ও দেশের সম্পদ রক্ষা করতে আমাদেরকেই সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। যে জাতি যতো সচেতন হবেন-সেই জাতি ততই উন্নতির দিকে যাবে। আমরা কেউ কারো হিংসা ও নিন্দা না করি, বিবাদ সৃষ্টি না করি, যার যে কাজ,সেই কাজ সঠিকভাবে গুরুত্বর সাথে করবো। আমরা দুইদিনের মেহমান, আজ আছি, আগামীকাল হয়ত আর থাকবো না। খারাপ কাজ করা সহজ কিন্তু ভালো কোনো কাজ করে দেখাই যে, এই কাজটি আমরা মানবতার কল্যাণে করেছি। ভালো কিছু করতে বেশি অর্থ লাগেনা, ভালো মনমানুষিকতা হলেই চলে। হে মানুষ তোমার সবকিছুতেই চাহিদা আছে সত্য কিন্তু যৌবনের চাহিদা আর পেটের খাবারের চাহিদা না থাকলে কোনো কাজ করার দরকার হইতো না। যৌবন মানব জীবনের এক শ্রেষ্ট সম্পদ তাকে অস্বীকার করা যায় না,দেহগত যৌবন আর মানুষিক যৌবন একরকম না। মানুষিক আত্মার অভাব হলে সেই মানুষটি ভালো হতে পারবেন না। আমরা যে মানুষ, যে ধর্ম পালন করি না কেন, একদিন বিচারকের সামনে হাজির হতেই হবে। আমরা অন্যের জন্য সবকিছু করছি, নিজের জন্য কি স য় করলাম? বুঝতে পারলে সেই বুদ্ধিমান। মানুষের চাওয়া পাওয়ার শেষ নাই। আমি অভিনয়ে বেশি চাই না,বাস্তবে আমাকে কম দাও। ধর্ম, কর্ম নিয়ে মানুষের জীবন আর কে কেমন ভালো কর্ম করেছেন? কারো মনে কষ্ট দিয়ে বা কারো ক্ষতি করে কেউ কি লাভবান হওয়া যায়? আসুন আমরা সত্যের সন্ধ্যানে মানবতার কল্যাণে কাজ করি। বাংলাদেশের মানুষ আমরা, আমাদের সঠিক ইতিহাস জানা দরকার। অবশ্যই আইন মেনে কাজ করতে হবে, সেজন্য সচেতন মহল ও সাংবাদিকদেরকে বেশি বেশি আইনের বই পড়তে হবে। বাংলাদেশের সংবিধান মানতে হবে। সংবাদকর্মী বা সাংবাদিক হলে তার আগে সাংবাদিকতার আদর্শলিপি বই পড়তে হবে। প্রতিদিন সংবাদ সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্ট মিডিয়াতে প্রকাশ করতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ম্যানুয়েল বই পড়তে হবে, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব প্রতিটি এলাকায় গিয়ে খোজখবর নিতে হবে যে, জনগণের নাগরিক সমস্যা কি? বাস্তবতা অনেক কঠিন। আশা করি সবাই বুঝতে পারছেন আমাদের সবার স য় দরকার, তবে সেই স য় অর্থ বা সম্পদ নয়। অর্থ সম্পদের জন্য মানুষ খারাপ কাজ ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ অপকর্ম করলে তার হিসাব দিতে হবে একদিন।
    উক্ত অপপ্রচার বন্ধ করতে এবং সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান রক্ষায় অপপ্রচারকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ও র‌্যাবের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহল জনগণ।

  • আশুলিয়ায় অভিযান চালালেও তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বাণিজ্য চলছে, বৈধ গ্রাহকরা বিপাকে

    আশুলিয়ায় অভিযান চালালেও তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বাণিজ্য চলছে, বৈধ গ্রাহকরা বিপাকে

    হেলাল শেখঃ ঢাকার সাভার আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাসের কর্তৃপক্ষ অভিযান চালালেও অবৈধ সংযোগ বাণিজ্য চলছে জমজমাট ভাবে। গ্যাসের পাইপলাইন থেকে অবৈধ সংযোগদাতা দালাল চক্র ও অবৈধ সংযোগ দেওয়ার কারণে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অভিযোগ রয়েছে লোক দেখানো প্রতিটি অভিযানে সরকারের লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। বৈধ গ্রাহকদের চুলায় গ্যাস থাকেনা, অবৈধ সংযোগের গ্যাসের চাপ বেশি হওয়ার কারণ কি জাতি জানতে চায়।
    জানা গেছে, প্রতি মাসে ৪-৫টি অভিযানে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন কর্তৃপক্ষ কিন্তু বিকেলে অভিযান শেষে রাতে আবারও অবৈধ সংযোগ দেয়া হয়, এ যেন চোর পুলিশের খেলা। সরকারের তহবিল থেকে প্রতিটি অভিযানে খরচ হয় প্রায় লক্ষাধিক টাকা, একই স্থানে ৭-৮ বার অভিযান চালানোর নজির রয়েছে, তাহলে সরকারের কত টাকা খরচ ও কত টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে তার কোনো হিসাব নাই। তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দিয়ে প্রতিটি বাসা বাড়ির সংযোগ থেকে ৩০-৫০ হাজার টাকা নিয়ে থাকে দালালরা, হোটেল বা শিল্প-কারখানার সংযোগ হলে লক্ষাধিক টাকা নেয়া হয়, সরকারি সম্পদ নষ্ট করে গ্যাসের এ যেন চলছে জমজমাট বাণিজ্য।
    সূত্র জানায়, গত বছর (৩ আগস্ট ২০২২ইং) ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া মোল্লা পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছেন সাভার তিতাস কর্তৃপক্ষ। তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের দাবি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ দেওয়ার পরিস্থিতি বা সক্ষমতা আপাতত নেই, তাই গ্রাহকদের আশায় ঝুলিয়ে না রেখে গ্যাস সংযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার জন্য সরকারি সিদ্ধান্তটি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে-কথাগুলো বলেছেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া, ইউসুফ মার্কেট, তাজপুর, এদিকে ইয়ারপুর ইউনিয়নের জামগড়া গফুর মন্ডল স্কুল এলাকা, মীর বাড়ি, চিত্রশাইল এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগের ছড়াছড়ি। তথ্যমতে, এসব অবৈধ সংযোগ দাতারা হচ্ছে জামগড়া এরাকার নাজিমউদ্দিন, সোহেল মীর, সাঈদ মীর, শামীম, শরীফ, মোস্তফাসহ ১৫-২০ জনের দালাল চক্র।
    অন্যদিকে ইয়ারপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর, তাজপুর, ইয়ারপুর এলাকার সিরাজ, হানিফ, জলিল, ফারুকসহ আরও অনেকেই তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। গ্যাসের অবৈধ সংযোগ থেকে অগ্নিকান্ডে নারী ও শিশুসহ গত দুই বছরে সাভার ও আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪৫-৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষ দগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। এদিকে সিলিন্ডার গ্যাসের বোতলের দাম বেড়েই চলেছে, ওষুধের দোকান, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ গ্রাহকদের চুলার গ্যাস টিপটিপ করে জ্বলে কিন্তু অবৈধ সংযোগের চুলায় সবসময় গ্যাস থাকে এর রহস্য কি?। তাদের দাবি-বৈধ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল ঠিকই নেয়া হয় কিন্তু গ্যাস না থাকার কারণ কি?।
    বিশেষ করে সরকারের উক্ত সিদ্ধান্তে দুই শ্রেণীর গ্রাহক সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন, এদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো রাজধানী ঢাকাসহ সাভার আশুলিয়ায় ও বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন পর্যায়ে ও শহরের বাসা বাড়ি ফ্ল্যাটের মালিকেরা। আরেকটি হলো বিভিন্ন আবাসন কোম্পানিগুলো। তাদের মধ্যে অনেকেই গ্রাহকদের গ্যাসের পাইপলাইনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আবাসন কোম্পানির অনেকেই বলেন, এখন গ্যাসের সংযোগ না পেলে তাদের প্লট, জমি ও ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে না। তারা অনেকেই দাবি করেন যে, গ্যাস সংযোগ নতুন করে আর কেউ পাচ্ছেন না, এতে গ্রাহকরা বেশি বিপাকে পড়েছেন কিন্তু অবৈধভাবে চলছে গ্যাসের হাজার হাজার সংযোগ। জানা গেছে, ২০১৮ইং সালে এলএনজি আমদানি শুরুর পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা গ্যাসের সংযোগ নতুন করে শুরু হওয়ার কথা নীতিনির্ধারণী মহলেও শুনা যাচ্ছিল। তখন ঢাকা ও সাভার, আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলায় অবৈধ সংযোগের সংখ্যা আরো বাড়িয়ে দেয় দালাল চক্র সিন্ডিকেটগুলো। গ্রাহকদের তারা আশ্বাস দেয়, কিছুদিন পরে গ্যাসের নতুন বৈধ সংযোগ দেওয়া শুরু করলে তারা এগুলোকে বৈধ করে দেবেন কিন্তু এখন এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পালায় এই গ্রাহকদের সংযোগও কাটা পড়েছে।
    জানা গেছে, সরকারি ভাবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেশ জোরেসোরেই মাঠে নেমেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ, একটি অভিযানে সরকারের লক্ষাধিক টাকা খরচ হচ্ছে, অভিযানের দুইদিন পর আবার সেখানে অবৈধ সংযোগ দেয়া হয়, আবারও অভিযান চালানো হয়, এতে সরকার বেশি ক্ষতি হচ্ছে, এটা কারো মাথায় ঢুকছে না। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোকে কিছুদিন আগে জ্বালানি বিভাগ উক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়ে তা বাস্তবায়নের আদেশ দিয়েছিলো। সূত্র জানায়, ডিমান্ড নোট ইস্যু হওয়া এবং টাকা জমা দেওয়া গ্রাহকদের আবেদনও বাতিল করা হবে। তাদের অর্থ ফেরত দেবে সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানিগুলো। বিতরণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, নতুন সংযোগের জন্য ডিমান্ড নোট ইস্যু হওয়া এবং প্রয়োজনীয় ফি জমা দেওয়া গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখের মতো। গ্যাস ও খনিজ সম্পদ খাতের নেতৃত্ব প্রদানকারী সংস্থা পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, বৈধ অবৈধ নানা উপায়ে এই শ্রেণির গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৮লাখ হবে। দেশে সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী আলী ইকবাল মোঃ নুরুল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। গৃহস্থালিতে আর গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না। যেসব গ্রাহক সংযোগের জন্য আবেদন করেছেন এবং টাকা জমা দিয়েছেন, তাদের নাম আমাদের তথ্যভান্ডারে রয়েছে। আগামীতে এ বিষয়ে আমরা একটি সভা করে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের রোডম্যাপ তৈরি করবো। বিঃ বা সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বা অন্য কোনো উপায়ে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। দেশে গ্যাস বিতরণে নিয়োজিত অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, পশ্চিমা ল গ্যাস কোম্পানি ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি। এই সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, আগামীতে সভা করে তারা সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের রূপরেখা ঠিক করবেন। উক্ত ব্যাপারে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্যাসের অবৈধ সংযোগ কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। নানা প্রলোভন দেখিয়ে জনগণকে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ নিতে বাধ্য করে কিছু দালাল চক্র।
    সাভার ও আশুলিয়ার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিঃ ব্যবস্থাপক (জোবিঅ) প্রকৌশলী আবু সাদাৎ মোহাম্মাদ সায়েম বলেন, সাভার ও আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাসের বৈধ গ্রাহক সংখ্যা ৫২ হাজারের বেশি হবে। শিল্প গ্রাহক সংখ্যা ১৫০০। গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারী দালালদের বিরুদ্ধে সাভার থানায় ৬টি ও আশুলিয়ায় ৪৮টি মামলা করা হয়েছে। গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারী দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে বলেও তিনি জানান। এক স্থানে ৬-৮ বার অভিযান করা হলেও আবার অবৈধ সংযোগ দেয়া হয়, তাহলে সরকার প্রতি বছরে কত কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে জানতে চায় সচেতন মহল। প্রতিটি এলাকায় কিছু মেম্বার ও চেয়ারম্যানসহ অনেক নেতার নাম জড়িত রয়েছে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগের সাথে। গ্যাসের মামলায় থানা পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেন না, মামলা হলে আদালত থেকে জামিনে এসে আবারও সরকারি গ্যাস চুরি করে চোরেরা, এ যেন চোর পুলিশের খেলা।