Blog

  • সুন্দরগঞ্জে জেলহ*ত্যা দিবস পালন

    সুন্দরগঞ্জে জেলহ*ত্যা দিবস পালন

    মোঃ আনিসুর রহমান আগুন গাইবান্ধা থেকেঃ
    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জেল হত্যা দিবস পালন করা হয়েছে।
    এ উপলক্ষে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুজিব নগর সরকারের রূপকার ও জাতীয় চার নেতার মুৃরালে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন উপজেলা আওয়ামীলীগ ও তার বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
    শুক্রবার সকালে উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও কাল পতাকা উত্তোলন, শোক র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মিসেস আফরুজা বারী’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম সরকার লেবু’র সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, সহ-সভাপতি আজিজার সরদার মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল আলম সরকার রেজা, গোলাম কবির মুকুল, , সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজা বেগম কাকলী, প্রচার সম্পাদক আখতারুজ্জামান শাকিল, তথ্য সম্পাদক খালেদ রেজা বাবুল, পৌর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আশিকুজ্জামান প্রামানিক তুহিন, সাধারণ সম্পাদক জামিউল আনছারী লিংকন, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি গণেশ চন্দ্র শীল প্রমূখ। আলোচনা শেষে জাতীয় চার নেতার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন পৌর বাজার জামে মসজিদের খতিব সৈয়দ মাহমুদ হাসান।

  • উজিরপুরে জেলহ*ত্যা দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত

    উজিরপুরে জেলহ*ত্যা দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত

    মোঃ জুনায়েদ খান সিয়াম,উজিরপুর প্রতিনিধিঃ

    বরিশালের উজিরপুরে নানা আয়োজনে জেলহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।

    দিবসটি উপলক্ষে ৩ নভেম্বর শুক্রবার বিকাল ৪ টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম জামাল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু, উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র মোঃ গিয়াস উদ্দীন বেপারী,উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল হাকিম সেরনিয়াবাত, বাবু অশোক দাস,হাফিজুর রহমান ইকবাল,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বাবু অপুর্ব কুমার বাইন রন্টু, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আজিজ সিকদার, বরাকোঠা ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম মৃধা, সহ সভাপতি এ্যাডভোকেট সালাউদ্দীন সিপু, পরিমল বাইন, উজিরপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাপস রায়, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অসীম কুমার ঘরামী, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বিউটি খানম,

    এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর পৌর শ্রমিকলীগের সভাপতি মোঃ শাহে আলম সিকদার। শিকারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহিম মাষ্টার, উজিরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ লাভলু তালুকদার, প্রমুখ।

    বক্তব্য শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামরুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী সহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়।

  • সাগরকান্দিতে আ.লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ

    সাগরকান্দিতে আ.লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ পাবনার সুজানগর উপজেলা ও আমিনপুর থানার অন্তর্গত সাগরকান্দি ইউনিয়নে বিএনপি-জামায়াতের দেশব্যাপী অগ্নিসন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাগরকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক(ভারপ্রাপ্ত) সরদার তোফায়েল আহম্মেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক ও পাবনা-২ আসনের নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী কামরুজ্জামান উজ্জল। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন বেড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আমিনপুর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বাবু ও আমিনপুর থানা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও সাগরকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন চৌধুরী।বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা আ.লীগ নেতা দারোগ আলী মাস্টার। অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন রুপপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাশেম উজ্জল, মাসুন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিরোজ হোসেন, ঢালারচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাদারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, আওয়ামী যুবলীগ সুজানগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, পৌর শাখার সভাপতি জুয়েল রানা, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম তমাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তুষার প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক ও পাবনা-২ আসনের নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী কামরুজ্জামান উজ্জল বলেন, রাজপথে থেকেই দেশ বিরোধীদের নৈরাজ্য মোকাবেলা করা হবে। অবরোধের নামে সড়কে কোন নাশকতা নৈরাজ্য বিএনপি জামায়াতকে করতে দেওয়া হবেনা। নাশকতা রোধে রাজপথে আমাদের এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের মোকাবেলা করব।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • নড়াইলে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

    নড়াইলে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে//
    নড়াইলে সদর থানা পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার। মাদক মামলায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোঃ বাবুল মোল্যাকে গ্রেফতার করেছে নড়াইল জেলার সদর থানা পুলিশ। আসামি মোঃ বাবুল মোল্যা নড়াইল সদর থানার লস্কারপুর গ্রামের মৃত গোলাম রসুল এর ছেলে। বুধবার (১ নভেম্বর) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবাইদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এএসআই (নিঃ) ওছিয়ার সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোসাঃ সাদিরা খাতুন নির্দেশনায় ওয়ারেন্ট তামিলে জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।

  • সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা চাই-বিশিষ্ট সাংবাদিক হেলাল শেখ

    সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা চাই-বিশিষ্ট সাংবাদিক হেলাল শেখ

    হেলাল শেখঃ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে এক ‘জাতীয় সংলাপে বক্তব্যে আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জাতীয় দৈনিক চৌকস পত্রিকার বিশিষ প্রতিনিধি-বিশিষ্ট সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ) সবার উদ্দেশ্যে বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা চাই, প্রকৃত সাংবাদিকদের উপর হামলা, মামলা হলে তা মেনে নেয়া যাবে না। তিনি আরো বলেন, “সাংবাদিকদের অসম্মান করার অধিকার কারো নেই” যারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন বিভিন্ন মিডিয়ায় তাদের কোনো ভয় নাই, কোনো প্রকৃত সাংবাদিক কারো বিরুদ্ধে বদনাম বা অপপ্রচার করেন না।
    বিশেষ করে যারা মানুষের ভালো কিছু করা দেখতে পারে না, দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে, মানুষের বদনাম ছড়ায়-আল্লাহ চাইলে সেই ষড়যন্ত্রকারীদের ধ্বংস নিশ্চিত। কলম সৈনিকরা কখনো কারো মিথ্যা সংবাদ লিখে প্রকাশ করেন না। যারা কলম হাতে নিয়ে মিথ্যা কোনকিছু লিখে তা অপপ্রচার করে তারা দেশ ও জাতির শক্র। প্রতারকদেরকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হোক বলে অভিমত প্রকাশ করেন সাংবাদিক নেতারা। প্রকৃত সাংবাদিক যারা তাদেরকে নিয়ে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্র করছে। গণমাধ্যমে কাজ করতে হলে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক রাখতে হয়। নতুন সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার আদর্শলিপি বই পড়া প্রয়োজন, প্রকৃত সাংবাদিকতা করলে তা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল হয়। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না থাকার কারণে অনেকেই বিভিন্ন হামলা মামলার শিকার হচ্ছেন। সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, সাংবাদিক শব্দ সহজ হলেও এই পেশা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, আবার এই পেশাকে সম্মানজনক বলা হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করলেও কেউ সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করেন না, তা জাতির জন্য লজ্জাজনক।
    সাংবাদিকরা ৩৬৪ দিন একজনের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করবে এতে তার লোক বলা হয়, আর ১দিন যদি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো সংবাবাদ প্রকাশ হয় তখন সাংবাদিক জাতির বিবেককে গালি দিয়ে বলা হয় সাংবাদিকরা খারাপ। অনেকেই নিজেদের বড় মনে করেন, নিজেদের স্বার্থের জন্য শক্রতা সৃষ্টি করেন আর একজন অন্যজনের ক্ষয়ক্ষতি করার চেষ্টায় ব্যস্ততা থাকেন এটা আমাদের ভুল হচ্ছে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার মধ্যে আনন্দ আছে। আমাদের লেখার মধ্যেও অনেক ভুল হয়। এই জন্য সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার আদর্শলিপি পড়া দরকার। বিশেষ করে “কলম সৈনিক অর্থাৎ সাংবাদিক দেশ ও জাতির বিবেক, ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন,বিশেষ সম্মান অর্জন করার জন্য কিন্তু সম্মান অর্জন না হয়ে আরও বদনাম হচ্ছে। শুধুমাত্র মানুষের সুখ, দুঃখ, আনন্দ বেদনা, দুর্ঘটনাসহ সকল বিষয়ে জাতির কাছে তুলে ধরতে সাংবাদিকরা কাজ করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের অবশ্যই চোখ কান খোলা রেখে সচেতন ভাবে কাজ করতে হবে।
    সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেও কারো মনজয় করতে পারেন না কেন? ছোট একটি ভুল করলেই সাংবাদিকদের উপর হামলা, মামলা করা হয়, এমনকি সাংবাদিককে হত্যার শিকার হতে হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবাইকে বলা হয় সাংবাদিকদের সহযোগিতা করবেন, কিন্তু তার উল্টো দেখা যায়, পুলিশ সাংবাদিক কি কখনো বন্ধু হতে পেরেছেন? কেউ কি খবর নিয়েছেন যে, সাংবাদিকরা কেমন আছেন? কোনো সহযোগিতা লাগবে কি না?। সাংবাদিকরাই আজকাল মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জনগণের কল্যাণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে থাকেন সাংবাদিকরা, এর বিনিময়ে কি পাচ্ছেন তারা? নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অনেক সাংবাদিক, হয়রানিমূলক মামলার শিকার হচ্ছেন অনেকেই, যার কোনো হিসাব নেই।
    বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৮কোটি জনগণ, সেই তুলনায় আইনশৃঙ্খা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকের সংখ্যা অনেক কম। ধন্যবাদ জানাই তাদেরকে যারা মানুষের কল্যাণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। “পুলিশ, সাংবাদিক” আইনজীবি ও জনপ্রতিধিগণ, এই চারটি শব্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলো “কলম সৈনিক অর্থাৎ সাংবাদিক”। বিশেষ করে সাংবাদিকতার আদর্শলিপি’র বেশিরভাগ শব্দ আছে যা সাংবাদিকদের জন্য জানা অতি জরুরি-যেমনঃ সংবাদের উৎসহের মত সংবাদের উপাদান কি? মানুষ এবং প্রকৃতি, মানুষের আশা-আকাঙ্খা, আনন্দ, বেদনা, সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনাই সংবাদের মূল প্রতিপাদ্য। এর সাথে সম্পৃক্ত সকল বিষয়ই সংবাদের উপাদান। যেমনঃ কুকুর যদি মানুষকে কামড়ায় তা কোনো সংবাদ নয়, আর মানুষ যদি কুকুরকে কামড়ায় বা অপ্রত্যাশিত কিছু অপকর্ম করে তা সংবাদ হয়। নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটনা, অন্যায় অবিচার, যা মানুষের অধিকারকে হরণ করে, এরকম অনেক বিষয়কে সংবাদ বলা যেতে পারে। সাংবাদিক সবাইকে তথ্য জানার অধিকার আছে, তবে কারো সাথে বিবাদ বা শক্রতা করে সাংবাদিকতায় সাফল্য আসতে পারে না। সাংবাদিকরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, এতে স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করা সহজ হবে বলে অনেকেরই অভিমত।
    সাংবাদিক নেতারা অনেকেই বলেন, সাংবাদিক শব্দ ছোট হলেও এটি মহান পেশা। সাংবাদিকতা অনেক সম্মানজনক, তবে প্রকৃত সাংবাদিক হতে হলে অবশ্যই সাংবাদিককে সাংবাদিকতার আদর্শলিপি পড়তে হবে, সেই সাথে সর্বশেষ সংশোধনীসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ম্যানুয়েল বই এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বইসহ বেশি বেশি বই পড়তে হবে। অনেকেই জানেন না যে, ১/ সাংবাদিক মানে জাতির বিবেক। ২/ সাংবাদিক মানে দেশ প্রেমিক। ৩/ সাংবাদিক মানে কলম সৈনিক। ৪/ সাংবাদিক মানে জাতির দর্পণ। ৫/সাংবাদিক মানে জাতির সেবক। ৬/সাংবাদিক মানে শিক্ষিত জাতি। ৭/সাংবাদিক মানে স্বাধীনভাবে কাজ করা। ৮/সাংবাদিক মানে সম্মানিত জাতি। ৯/ সাংবাদিক মানে তদন্তকারী। ১০/ সাংবাদিক মানে আইন বিষয়ে জানা। ১১/ সাংবাদিক মানে সিস্টেম পরিবর্তন করা। ১২/ সাংবাদিক মানে সকল বিষয়ে জানা। তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে আঙ্গল দিয়ে দুই লাইন লিখে পোস্ট করলেই সাংবাদিক হওয়া যায় না, বর্তমানে ফেসবুক লেখক ও সাংবাদিকরা কিছু নেতাদের ফেসবুক নেতায় পরিণত করেছে যা জাতির জন্য খুবই লজ্জাজনক। দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পেলেও সাংবাদিকরা তাদের মহান পেশায় কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না, তবে কিছু কথিত সাংবাদিকদের কারণে জাতি লজ্জিত, তারা নিউজ লিখতে পারেন না, নিউজ লেখা শিখতেও চায় না, শুধু অর্থের পিছনে সময় দিচ্ছেন, এমন কথিত সাংবাদিকদেরকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যগণ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, কিন্তু সাংবাদিকও মানুষ। কাকের মাংস কাকে খাওয়ার গল্পের মতো সাংবাদিকরা অনেকেই অন্যদের বদনাম করে থাকেন, এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক। হিংসা বিবাদ ভুলে গিয়ে সকল সাংবাদিক ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বয় করে কাজ করুন। আবারও বলা হচ্ছে সবকিছু মিলে সাংবাদিকদের অসম্মান করার অধিকার কারো নেই। পুলিশ ও সাংবাদিক ঐক্যবদ্ধ হাতের এপিট ওপিট। গত ২৪ অক্টোবর ২০২৩ইং জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় সংলাপের আয়োজন করেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি’ এই জাতীয় সংলাপে সভাপতিত্ব করেন কে. এম. আবু হানিফ। সেখানে দ্বাদশ নির্বাচন কেমন চাই, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের সমন্বয়ে এই “জাতীয় সংলাপ” হয়। সংলাপ করে কি হবে জাতি জানতে চায়।

  • সুজানগরে অবরোধ বিরোধী বিশাল মোটর শোভাযাত্রা

    সুজানগরে অবরোধ বিরোধী বিশাল মোটর শোভাযাত্রা

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ পাবনার সুজানগরে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেছে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার সকালে সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীনের নেতৃত্বে ৭ শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়া শোভাযাত্রাটি সুজানগর পৌরসভা,উপজেলার সাতবাড়িয়া,মানিকহাট,ভাঁয়না নাজিরগঞ্জ,হাটখালী,দুলাই,তাঁতীবন্দসাগরকান্দি,আহম্মদপুর,রাণীনগর ইউনিয়নসহ স্থানীয় বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীনের বলেন, অবরোধের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সুজানগর উপজেলার বিভিন্ন সড়কে অবস্থান করছেন। রাজপথে থেকেই দেশ বিরোধীদের নৈরাজ্য মোকাবেলা করা হবে। অবরোধের নামে সড়কে কোন নাশকতা নৈরাজ্য বিএনপি জামায়াতকে করতে দেওয়া হবেনা। নাশকতা রোধে আমাদের এই অবস্থান ও মিছিল। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের মোকাবেলা করব। শোভাযাত্রায় আমিনপুর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ইউসুব আলী, সুজানগর পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, জেলা পরিষদের সদস্য আহমেদ ফররুখ কবির বাবু, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ মর্জিনা খাতুন,নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান খান, হাটখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান, সাবেক প্রচার সম্পাদক রবিউল হক টুটুল,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শ্রী সুবোধ কুমার নটো, আ.লীগ নেতা মন্টু হাজারী,সুজানগর পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আফসার আলী, সুজানগর পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক রাজা হাসান, সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ইউনুস আলী বাদশা, সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক সরদার আব্দুর রউফ, সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক রায়হান উদ্দিন, সাবেক উপ দপ্তর সম্পাদক রেজা মন্ডল, সাবেক সদস্য মাহমুদ্দুজ্জামান মানিক,আ.লীগ নেতা কুতুব, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজ,তাতীবন্দ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি খন্দকার আব্দুল কুদ্দুস,সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল,মানিকহাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারেক, নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ রাজু,উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি সরদার রাজু আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এস এম সোহাগ ও এন এ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেদোয়ান নয়ন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য অবরোধের ৩য় দিনেও সুজানগর উপজেলায় তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। যানবাহন চলাচল রয়েছে স্বাভাবিক এবং স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে খোলা।

    এম,এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • পাইকগাছায় শিক্ষকতার পাশাপাশি ছাদ বাগান গড়ে তুলেছেন খালেদা খাতুন

    পাইকগাছায় শিক্ষকতার পাশাপাশি ছাদ বাগান গড়ে তুলেছেন খালেদা খাতুন

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা,খুলনা ॥

    বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বাড়ির ছাদে বাগান করা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অধিকাংশ বাড়ির ছাদের দিকে তাকালেই বিভিন্ন ধরনের বাগান দেখা যায়। অবশ্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের ছাদে যেসব বাগান দেখা যায় তার অধিকাংশই অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে বাড়ির ছাদে যেকোন গাছ, এমনকি শাকসবজিও ফলানো সম্ভব। এসব বাগান করে সফলতাও পাচ্ছেন অনেকে। শখ থেকে হয়ে উঠছে বানিজ্যিক চিন্তাধারাও।
    এমন একজন শখের ছাদ বাগানি খুলনার পাইকগাছার সফল প্রধান শিক্ষক খালেদা খাতুন। তিনি তার নিজ বসতবাড়ির দ্বিতল ভবনের ছাদে বিভিন্ন প্রকারের ফল, ঔষধী, সবজি ও ফুলের চাষ করেছেন। তার ছাদ বাগান দেখে এলাকার অনেকেই ছাদ বাগান করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
    শিক্ষক খালেদা খাতুন পাইকগাছার গদাইপুর ইউনিয়নের ২৬ নং মানিকতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক। স্বামী এস,এম,আলাউদ্দিন সোহাগ একজন সিনিয়র সাংবাদিক। তিনি পাইকগাছা উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবে দৈনিক যায়যায়দিন,ডেইলি অবজারভার ও দৈনিক গ্রামের কাগজ পত্রিকায় কর্মরত রয়েছেন।খালেদা খাতুন পেশায় একজন শিক্ষক হলেও বাগান করার প্রতি তার আগ্রহ ছোট বেলা থেকেই। ছোট বেলায় বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা আশপাশ যেখানে জায়গা পেতো সেখানেই তিনি বিভিন্ন ধরণের গাছের চারা রোপন করতেন। ছোট বেলার শখকে তিনি একটি মডেল হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
    গত ১৯৯৭ সালের ২৯ জুন থেকে অদ্যবধি পৌর সদরের বান্দিকাট গ্রামে খালেদা খাতুন তার পরিবারকে নিয়ে এক সঙ্গে জীবনযাপন শুরু করেন। বসবাসের শুরু থেকেই নিজ বসতবাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা আশপাশ তেমন ফসলি জায়গা না থাকায় ছাদে দু একটা গাছা লাগিয়ে বাগান করা শুরু করেন। বসতবাড়ির দ্বিতল ভবনের ছাদকে এখন তিনি জীবন্ত বাগানে পরিণত করেছেন। ছাদের কোথাও তিনি লাগিয়েছেন কমলা, মাল্টা, আপেল, কদবেল, বেদানা, লিচু, আমলকি, সিডলেস কাগুজী লেবু ও চায়না কাগুজী লেবু, ড্রাগন, আপেল,আজোয়া সৌদি খেজুর,বারোমাসি আমড়া,বল সুন্দরী কুল,চায়না পেয়ারা সহ বিভিন্ন প্রকার ফলের গাছ, কোথাও লাগিয়েছেন পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন,করেল্লা,শসা,কাকুড়,ঢেঁড়স,লালশাক,পালংশাক,মুলা,ওল কপি,লাউ,সীম,কয়েকটি প্রজাতির মরিচ সহ অনেক ধরণের সবজি, আবার কোথাও লাগিয়েছেন দোপাটি, রঙ্গন, জুঁই, হাসনাহেনা, গোলাপ, জবা, গাঁধা, রজনীগন্ধা, লজ্জ্বাবতী,ক্যকটাস,বনসাই বটগাছ,নীল অপারজিতা সহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ।
    ছাদের কোন অংশে আবার লাগিয়েছেন পাথর কুঁচি, কাল মেঘা, তুলসী, ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রক গাছ সহ বিভিন্ন ধরণের ঔষধী গাছ। সবজি, ফল আর ফুলে ভরে গেছে ছাদের সমস্ত অংশ। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কোন ছাদ, নাকি সবুজ ফসলের মাঠ। সব ধরণের সবজি ও ফল কীটনাশক ব্যবহার না করেই এবং জৈবসার ব্যবহার করে উৎপাদন করছেন শিক্ষক খালেদা খাতুন।উৎপাদিত সবজি ও ফল নিজের পরিবারের চাহিদা পুরণ করে অতিরিক্ত ফল ও সবজি আত্মীয় স্বজনের মাঝে বন্টন করেন বলেও তিনি জানান। খালেদা খাতুন শিক্ষকতা ও স্কুল, কলেজ পড়ুয়া তিন ছেলে মেয়ের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত সময় তিনি বাগান পরিচর্যার কাজে ব্যবহার করেন।
    এ ব্যাপারে শিক্ষক খালেদা খাতুন জানান, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে করোনাকালীন আমার বিদ্যালয়ে ছুটি পড়ায় ওই সময় থেকে অনেক গাছ লাগিয়ে ছাদবাগান গড়ে তুলি। ছোট বেলা থেকেই বাগান করা আমার শখ। আমার বাড়ীর সাথে তেমন ফসলি জায়গা না থাকায় ছাদে বাগান করা শুরু করি। প্রতিদিন ভোর ৫টার দিকে এবং স্কুল থেকে ফিরে বিকালে এক দেড় ঘন্টা করে বাগানের পরিচর্যার কাজ করি।
    গত ৩/৪ বছরের ব্যবধানে ছাদ ছেয়ে গেছে সবজি ও ফল-মূলে। আমার পরিবারের চাহিদা পূরণ করে অনেক সবজি ও ফলমূল অতিরিক্ত থেকে যায়। প্রতিদিন লোকজন যখন আমার বাগান দেখতে আসে তখন একদিকে খুব ভালো লাগে। অপরদিকে নিজেকে মনে হয় ছাদ বাগান করে আমি মনে হয় সফল হয়েছি।
    ভবিষ্যতে ছাদে ড্রেনেজ সিষ্টেম ও বাড়ির সামনে বড় পরিসরে বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ওই শিক্ষক জানান। খালেদা খাতুনের ছাদ বাগান দেখে এলাকার অনেকেই এ ধরণের বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি খালেদা খাতুনের ন্যায় দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ছাদে বাগান করার মত নানন্দিক পারিবারিক কাজকে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। এতে নিজে ও তার পরিবার সহ সমাজ উপকৃত হবে।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা,খুলনা ॥

  • পাইকগাছায় ফল বাগান ও নার্সারী করে সফল বেলাল হোসেন; তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সম্মাননা লাভ

    পাইকগাছায় ফল বাগান ও নার্সারী করে সফল বেলাল হোসেন; তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সম্মাননা লাভ

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা,খুলনা ॥
    মিশ্র ফল চাষী ও দেশী-বিদেশী গাছের চারা উৎপাদনকারী হিসেবে তরুণ উদ্যোক্তা সম্মাননা পেয়েছেন পাইকগাছার তরুণ উদীয়মান সফল কৃষি উদ্যোক্তা মোঃ বেলাল হোসেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু’র মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বেলাল হোসেনকে তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।
    উল্লেখ্য, উপজেলার সিলেমানপুর গ্রামের নূর আলী গাজীর ছেলে বেলাল হোসেন ইতোমধ্যে ডিগ্রী পাশ করেছেন। তার বর্তমানে ২০ বিঘা জমিতে মিশ্র ফলের বাগান ও নার্সারী রয়েছে। স্কুল জীবন থেকেই কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে বেলাল হোসেন। ২৫ বছর আগে ৮ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ২ হাজার ৭শ টাকা পুজি নিয়ে ৬ কাঠা জমিতে নার্সারী শুরু করে বেলাল হোসেন।
    সেই থেকে নার্সারীতে চারা উৎপাদন করে আসছিল বেলাল। অনেকেই তার নার্সারী থেকে চারা নিয়ে ফল বাগান করে লাভবান হওয়ায় নার্সারী পাশাপাশি ফল বাগান করার উদ্যোগ নেয় তরুণ উদ্যোক্তা বেলাল হোসেন। বর্তমানে তার ২০ বিঘা জমিতে মিশ্র ফলের বাগান এবং ফলের বাগানের সাথে নার্সারী রয়েছে।
    তিনি ৩ বিঘা জমিতে গোল্ডেন ৫ ও গোল্ডেন ৮ জাতের পেয়ারা বাগান করেছেন। ১০ বিঘা জমিতে তার কুল বাগান রয়েছে। এখানে তার বিদেশী জাতের ভারত সুন্দরী, বল সুন্দরী, কাশ্মির সুন্দরী জাতের কুল রয়েছে। ৪ বিঘা জমিতে আমের বাগান রয়েছে, এখানে রেড আই ভেরী, থ্রী টেস্ট, ব্রুনাই কিং, শ্রাবণী, বিএন-৭, জাপানী জিয়াজাকি সূর্য ডিম, সুপার সিন্ধু, আলপানসু, ডগ মাই, রেড তোতাপুরী, কিং অব চাকাপাত, কিউজাই, বারো মাসি থাই কাটি মুন, বারী-৪, বারী-১১, বারী-১৩, গৌরমতি, আমেরিকান রেড পলমার, তাইওয়ান রেট, ব্যানানা ম্যাংগো, ব্লাক স্টোন, হানিডিউ, বেনিসন আম্পুনা, থাই বারোমাসি, রেড বারোমাসি, শীতা ভোগ, মাল দই, রাজভোগ, বাদশা ভোগ ও বেন খাস জাতের আম রয়েছে।
    ৪ বিঘা জমিতে রাজশাহী বোম্বাই (মোজাফফর), চায়না থ্রী, বেদনা লিচু, বোম্বাই লিচু, থাই লংগান, রেড লংগান, হোয়াইট লংগান, রাম ভুটান জাতের লিচু রয়েছে। ৪ বিঘা জমিতে বেড ভেল ভেট, থাইরেট, আমেরিকান রেট, বাউ-২, ইয়োলো ড্রাগন ও হোয়াইট ড্রাগন করেছে। ৪ বিঘা জমিতে বারী-১ মাল্টা, ভিয়েতনামী মাল্টা, ইয়োলো মাল্টা, দার্জিলিং কমলা, চায়না কমলা ও মেন্ডারীন কমলা রয়েছে। ফল বাগান ও নার্সারী প্রসঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তা বেলাল হোসেন বলেন স্কুল জীবন থেকে আমি কৃষি কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছি। মাত্র ২৭শ টাকা নিয়ে আমি নার্সারী ব্যবসা শুরু করি। বর্তমানে আমার ২০ বিঘা জমিতে ফলের বাগান রয়েছে। শতভাগ সঠিক জাতের চারা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রতিটি বাগানের সাথেই নার্সারী রয়েছে।
    প্রতিদিন আমার ফল বাগানে ২০ জন শ্রমিক কাজ করে থাকে। বছরে বাগান থেকে ২০ লাখ টাকার ফল ও ১০ লাখ টাকার চারা উৎপাদন হয়ে থাকে। সদ্য বিদায়ী উপজেলা কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, বেলাল হোসেন অত্র এলাকার একজন আদর্শ তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। তার ফল বাগানের সফলতা দেখে অনেক শিক্ষিত বেকার যুবকরা ফল বাগান করতে এগিয়ে এসেছে। তার এই সফলতার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বেলাল হোসেনকে তরুণ উদ্যোক্তার সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে বলে কৃষি বিভাগের এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

  • বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কে গাছ কেটে অবরোধ

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কে গাছ কেটে অবরোধ

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির. বাগেরহাট:বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত অবরোধের তৃতীয় দিনে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪ টার দিকে সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের আমতলা এলাকায় গাছ কেটে সড়কে ফেলে যানবাহন চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে প্রায় ২ ঘন্টা স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়।

    খবর পেয়ে ভোর ৬ টার দিকেই স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাছ অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেয় থানা পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতিতে বিএনপির পিকেটাররা পালিয়ে যায়।

    এ বিষয়ে থানার ওসি মো. সাইদুর রহমান বলেন, কিছু লোক একটি গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে গাড়ি চলাচলে বাঁধার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছে। ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। সড়কে পুলিশের টহল রয়েছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক আছে।

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির
    বাগেরহাট সংবাদদাতা ।

  • আজ ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা উঠছে , জেলেপল্লীতে চলছে মাছ শিকারের প্রস্তুতি

    আজ ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা উঠছে , জেলেপল্লীতে চলছে মাছ শিকারের প্রস্তুতি

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির:মা ইলিশের বাধাহীন প্রজননের জন্য সকল প্রকার মৎস্য আহরণে ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠতে বাকি আর মাত্র এক দিন। বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) রাত ১২টার পর থেকেই দেশের সকল নদ-নদী ও সাগরে আবার শুরু হবে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার মহোৎসব। সেই লক্ষ্য নিয়ে বাগেরহাটের শরণখোলার মৎস্য আড়ত ও জেলেপল্লীতে চলছে জোর প্রস্তুতি। জেলেরা দীর্ঘদিন অবসর সময় কাটিয়ে সাগরে যাওয়ার উদ্দেশে তাদের নিজ নিজ মহাজনের আড়ত ও ট্রলার মালিকের গদিতে ফিরেছেন।

    তবে এবারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা (অবরোধ) নিয়ে মৎস্যসংশ্লিষ্টরা দিলেন ভিন্ন তথ্য। তাদের দাবি, এবার অবরোধের সময় নির্ধারণ সঠিক হয়নি। মা ইলিশ ডিম ছাড়ে পূর্ণিমা গোনে। কিন্তু এবার অবরোধ দেওয়া হয়েছে অমাবস্যার গোনে।
    ইলিশের প্রজননের জন্য অবরোধ দেওয়া হলেও অর্ধেক মা ইলিশও ডিম ছাড়তে পারেনি। অবরোধের পরেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। এই অবরোধ ১১ অক্টোবরের পরিবর্তে আরো ১৫ দিন পিছিয়ে পূর্ণিমার গোনে দেওয়া উচিত ছিল বলে তারা মনে করেন।

    বুধবার (১ নভেম্বর) দুপুরে শরণখোলার রাজৈর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য ট্রলার এসে ভিড়েছে ঘাটে।
    জেটিতে জাল, তেলের ড্রামসহ বিভিন্ন মালামালের স্তূপ। জেলেরা সেগুলো তুলছেন ট্রলারে। আবার কেউ কেউ ঝুড়িতে করে বরফ নিয়ে ভরছেন ট্রলারের কুঠুরিতে। মহাজন, আড়তদার ও ট্রলরা মালিকরা নিজ নিজ গদিতে হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত।

    এ সময় জেলে-মহাজন ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে নানা ক্ষোভ ও হতাশার কথা।
    জেলে মোস্তফা, সুজন, আসাদুজ্জামান, কুদ্দুস হাওলাদারসহ অনেকেই জানান, তারা অবরোধেই শেষ হয়ে গেছেন। ছয় মাসের ইলিশ মৌসুমের তিন মাসই থাকে অবরোধ। তার ওপর দফায় দফায় দুর্যোগে সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। প্রত্যেকে জেলে হাজার হাজার টাকা দেনাগ্রস্ত হয়ে পেড়েছেন। অবরোধকালীন সরকার তাদের যে খাদ্য সহায়তা দেয় তা খুবই সামান্য। তারা সহায়তা বৃদ্ধির দাবি জানান সরকারের কাছে।

    এফবি মা-বাবার দোয়া ট্রলারের মাঝি ছগির হোসেন, এফবি সল্লাহ ট্রলারের মাঝি ডালিম পহলান, এফবি রূপসা ট্রলারের মাঝি আলম মিয়া ও এফবি খায়রুল ইসলাম ট্রলারের মাঝি কবির হোসেন জানান, অবরোধের সময় ভারতের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় এসে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে দেশীয় জেলে-মহাজনরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হচ্ছে ভিনদেশি জেলে-মহাজনরা। সরকার যদি শুধু ২২ দিনের অবরোধ (নিষেধাজ্ঞা) রেখে ৬৫ দিনের অবরোধ তুলে নেয় তাহলে তারা উপকৃত হতেন।

    মৎস্য আড়তদার মজিবর তালুকদার ও কবির হাওলাদারের দাবি, মা ইলিশ মূলত পূর্ণিমার গোনে ডিম ছাড়ে। কিন্তু এবারের ২২ দিনের অবরোধ (নিষেধাজ্ঞা) দেওয়া হয়েছে অমাবস্যার গোনে। পূর্ণিমার সময় ডিম ছাড়ার জন্য ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ সাগর থেকে শাখা নদ-নদীতে উঠে আসে। এবারের অবরোধ সফল হয়েছে বলে মনে করছেন না তারা। বিশেষজ্ঞরাই বা কী ভেবে অমাবস্যার গোনে অবরোধ দিলেন, তাও তাদের বোধগম্য হচ্ছে না।

    এই মৎস্য আড়তদাররা হতাশা প্রকাশ করে আরো জানান, তারা একেকজন ট্রলার মালিক ও আড়তদার এই মৌসুমে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এ বছর ইলিশ কম ধরা পড়ায় তারা প্রত্যেকেই লোকসানে আছেন। তাদের এই লোকসানে পড়ার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, ভরা মৌসুমে যখন বেশি ইলিশ ধরা পড়ে এবং দামও ভালো পাওয়া যায়, ঠিক তখনই ৬৫ দিনের অবরোধ দেওয়া হয়। ওই সময় ভারতের জেলেরা এসে সমস্ত মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে দেশীয় জেলে-মহাজনরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই ৬৫ দিনের অবরোধ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

    শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, তাদের সমিতির আওতায় তিন শতাধিক ট্রলার রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার চারটি ডকে দেড় শতাধিক ট্রলার মেরামত করে সাগরে যাওয়ার জন্য প্রস্তু রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকেই এসব ট্রলার সাগরের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

    শরণখোলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও শরণখোলার জেলে-মহাজনরা যথাযথভাবে নিষেধাজ্ঞা পালন করেছেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

    নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার আরো বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার নিষেধাজ্ঞার সময়ে নির্ধারণ করেছে। সেভাবেই নিষেধাজ্ঞা সফলে আমরা কাজ করেছি।’

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির
    বাগেরহাট সংবাদদাতা: