Blog

  • মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন

    মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
    মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি ও লৌহজং উপজেলায় দুটি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। তিনি গতকাল শুক্রবার বিকাল চারটায় লৌহজং উপজেলার আটিগাঁও গ্রামে স্টেডিয়াম দুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে লৌহজং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও খেলাধুলার মানোন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন।

    লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে, সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) মো. ইলিয়াস শিকদারের সঞ্চালনায়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, জমি অধিগ্রহণসহ দুটি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ কোটি টাকা। তিন একর জমির উপর প্রতিটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।

    সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তপন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ শিকদার।

    উক্ত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিনা ইসলাম। সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বেপারী। লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোন্দকার ইমাম হোসেন। লৌহজং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এর প্রিন্সিপাল মোজাম্মেল হক। লৌহজং উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান বৃন্দ। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ লৌহজং উপজেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, মিডিয়া, প্রমুখ।

  • মুন্সিগঞ্জের শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠনের স্বীকৃতি পেলেন  বিক্রমপুর যুব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী ফুলন

    মুন্সিগঞ্জের শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠনের স্বীকৃতি পেলেন বিক্রমপুর যুব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী ফুলন

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    মুন্সীগঞ্জে জাতীয় যুব দিবসে এ বছর২০২৩ সালের জেলার শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠনের মর্যাদা পেয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিক্রমপুর যুব ফাউন্ডেশন।

    ১ নভেম্বর রোজ বুধবার সকালে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের অন্তর্গত
    ভাঙা এলাকায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মিলনায়তনে
    জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, যুব ঋণ, প্রশিক্ষণ সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এই স্বীকৃতি তুলে
    দেয়া হয় সংগঠনটির চেয়ারম্যান কাজী ফুলনের হাতে ।
    সংগঠনের এমন অর্জনে সকল সদস্য ও উপকারভোগীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট মুন্সিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় হকার্স লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি এবং বিক্রমপুর যুব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী ফুলন।

  • মহালছড়িতে ৪৮তম জাতীয় জেলহ*ত্যা দিবস পালিত

    মহালছড়িতে ৪৮তম জাতীয় জেলহ*ত্যা দিবস পালিত

    রিপন ওঝা,মহালছড়ি

    খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী অঙ্গ সংগঠন উপজেলা আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগ কর্তৃক আজ ৩রা নভেম্বর ৪৮তম জেল হত্যা দিবস পালিত হয়েছে।

    উক্ত দিবসে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান অতিথি রতন কুমার শীল বলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশে খাগড়াছড়ি জেলাধীন মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী অঙ্গ সংগঠন কর্তৃক ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রমে রাজপথে ছিলাম আছি, থাকবো এবং আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ ও ২৯৮নং সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার নেতৃত্বে সরকার গড়ার লক্ষ্যে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে প্রস্তুত থাকার জন্যে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। আমরা যেন আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকায় ভোট দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভোটের মাধ্যমে ৪র্থ বারের মতো স্বাধীন দেশের জনগণের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছে জনগণ বাংলার জনগণ।

    আজকের ৩রা নভেম্বর রোজ শুক্রবার সকাল ৮.১৫মিনিটে শহীদ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বিকাল ৪.১৫ মিনিট আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    উক্ত দিবসে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন, সহসভাপতি চিন্তাহরন শর্মা, সাংগঠনিক সম্পাদক দীপন ধর, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক রিপন ওঝা, আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক মাসুদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রনজিৎ দাশ, উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের সভাপতি বাবলু চৌধুরী।

    এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নন্দন দে, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বাবলা দে, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মোঃ ফরিদ, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি কাজল দাশ, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনন শীল ও সকল ইউনিয়ন হতে আগত উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ইউনিয়ন পর্যায় হতে আগত সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ।

    উক্ত দিবসে উপজেলা আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগ সহসভাপতি প্রকাশ দে সভাপতিত্ব করেন ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুল ইসলাম সঞ্চালনায় ছিলেন।

  • ময়মনসিংহ-১১ আসনকে স্মার্ট আসন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: এডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম

    ময়মনসিংহ-১১ আসনকে স্মার্ট আসন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: এডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

    ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক, ভালুকা উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক ময়মনসিংহ জজ কোর্টের সরকারী আইন কর্মকর্তা (এপিপি) এডভোকেট মোঃ আব্দুল কাইয়ুম বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চাইবো। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।

    ঙ্গলবার (৩১অক্টোবর) বিকালে ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভবনে (নতুন ভবনে) তার পেশাগত কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    এডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ময়মনসিংহ-১১ আসনটি ঢাকার কাছাকাছি একটি শিল্প এলাকা। যেখানে রয়েছে অসংখ্য শিল্প কারখানা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে কলকারখানার বিষাক্ত পানিয় ফসলের জমিতে প্রবাহিত হয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগবালাই সহ প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষ প্রতিনিয়ত জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সমস্যায় ও বনের মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছ। আমার প্রথম কাজ হবে সর্বাধিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এইসব সমস্যাগুলোর সমাধান করা এবং পৌর এলাকার সাথে সমন্বয় পূর্বক স্বল্পতম সময়ের মধ্যে টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত করা। প্রতিটি ওয়ার্ডে কমপক্ষে একটি কবরস্থান এবং একটি খেলার মাঠ থাকবে। বাসিন্দাদের আর সমাধির জন্য দূরে যেতে হবে না।

    শিশুরা মানসম্মত শিক্ষা পাবে। বিশেষ মনিটরিং টুলস থাকবে যাতে স্কুলগুলো সর্বোত্তম ভাবে কাজ করার জন্য দায়বদ্ধ থাকে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়ার জন্য বিনামূল্যে পরামর্শ সেবা দেওয়া হবে।

    বেকার সমস্যা সনাধানে একটি উপযুক্ত স্থানে একটি কারিগরি ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে যেখানে যুবকরা কারিগরি প্রশিক্ষণ পাবে। শুধু তাই নয়, দেশে-বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা হবে। প্রতিটি বড় বাজার এলাকায় বিনামূল্যে ইন্টারনেট হটস্পট থাকবে যাতে বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের উন্নতির জন্য প্রযুক্তির সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করতে পারে। ময়মনসিংহ-১১ এর সকল জনগণ অর্ধবার্ষিক বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পেইন উপভোগ করবেন যেখানে এক্স-রে, চক্ষু, নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ সহ মৌলিক ঔষুধ সুবিধা সহ অভিজ্ঞ ডাক্তার উপস্থিত থাকবেন। ভালুকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভালো, মেধাবী কিন্তু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পূর্ণ উপবৃত্তি প্রদান করা হবে। আমি অবশ্যই এটা নিশ্চিত করব।

    এডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমি নিরলসভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় কাজ করব যাতে একজন শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী চাকরি নিয়ে স্নাতক হয়। এটি তাদের সমাজে মূল্য সংযোজন করতে আরও অনুপ্রাণিত করবে।

    আমাদের আসনে যানজটের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাব। প্রতিটি বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। যেসব এলাকায় প্রাথমিকভাবে গ্যাসের আওতাভুক্ত করা হবে না সেসব এলাকায় এলপিজি পয়েন্ট থাকবে। যেখানে সম্ভাব্য সর্বনিম্ন বাজারদর থাকবে।

    আমি তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও গাইড করার জন্য একটি অত্যাধুনিক যুব উদ্যোক্তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার শপথ করছি। কেন্দ্র যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলবে। তারা পরে নিজেদের মতো করে ব্যবসা শুরু করবে। এমনকি স্টার্টআপের জন্য সীমিত আকারে তহবিল থাকবে।

    তিনি বলেন আমার নেতা জাতীয় পার্টির প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সর্বপ্রথম ইসলাম ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আমি আমার নেতার স্বপ্ন পুরণে
    প্রতিটি মসজিদে শিশুদের মৌলিক ইসলামী শিক্ষা বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে কমপক্ষে ১০টি কেন্দ্র (মসজিদ) থাকবে যেখানে এই সুবিধাটি প্রদান করা হবে।

    তিনি বলেন- ভালুকা হবে মাদকমুক্ত। সন্ত্রাসের ভয় ছাড়াই মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করবে। এই আসন জনগণ দ্বারা পরিচালিত হবে। যেখানে থাকবে না কোন সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজ।তিনি আরো বলেন, আমি জনগণের সেবক হতে চাই। নির্বাচিত হলে আমি আমাদের মমতাময়ী নেত্রী জাতীয় পার্টির প্রধানপৃষ্টপোষক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এমপির নেতৃত্বে তার পরামর্শে ময়মনসিংহ-১১ভালুকা কে সকল আসনের মধ্যে সেরা করার প্রয়াস নিয়ে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

    এডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে জড়িত। তিনি জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক,জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০২১-২০২২ সালে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির অডিটর ও ময়মনসিংহ জেলা জজ কোর্টের লিগ্যাল এইড এর প্যানেল এডভোকেট সহ বহু সামাজিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করছেন।

  • পাইকগাছায় নার্সারী গুলোতে তালের চারা উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে

    পাইকগাছায় নার্সারী গুলোতে তালের চারা উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা, খুলনা।। পাইকগাছা বানিজ্যিক ভিত্তিতে নার্সারীতে তালের চারা উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তালের চারার চাহিদা বাড়ায় নার্সারীগুলিতে প্রচুর পরিমাণ চারা তৈরি করা হচ্ছে। পাইকগাছার সততা নার্সারীতে গত মৌসুমে প্রায় ৮০ হাজার তালের চারা তৈরীর পরিচর্যা চলছে।চলতি মৌসুমে মায়ের দোয়া নার্সারীতে প্রায় ৩২ হাজার চারা তৈরির প্রস্তুতি চলছে।তাল গাছ প্রকৃতির বন্ধু ও প্রাকৃতিক ভারসম্য রক্ষাকারী বৃক্ষ। তালগাছ পরিবেশ বান্ধব ও বজ্রপাত থেকে রক্ষাকারী গাছ। তালগাছ ভুমির ক্ষয়রোধ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।তাই তালের চারা রোপন করা হচ্ছে প্রচুর পরিমানে।
    তাল একটি অতি প্রাচীন ফল। একক কান্ড বিশিষ্ট এদেশে অতি পরিচিত একটি বৃক্ষ। এর কান্ড সোজা এবং চমৎকার আকৃতির পাতাগুলো পাখার মত গোলাকার। তালের জন্মস্থান মধ্য আফ্রিকা বলে ধারণা হলেও অনেকে বলেন এটি আমাদের উপ-মহাদেশীয় বৃক্ষ। তালের পত্রে অনেক উচু শিরা আছে। শিরাগুলো পত্রদন্ডের গোড়া হতে অগ্রভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত, পত্রের কিনারা কাঁটার মত। পত্রদন্ডের উভয় কিনারায় করাতের মত কালবর্ণের দাঁত আছে। পুরুষ ও স্ত্রী আলাদা গাছ উৎপন্ন হয়। বাংলাদেশের সব এলাকায় কমবেশী তাল উৎপাদন হলেও ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, রাজশাহী ও খুলনা এলাকায় সবচেয়ে বেশী উৎপাদন হয়। তালের কোন অনুমেদিত জাত নেই। তবে এদেশে বিভিন্ন আকার ও রংয়ের তাল দেখা যায়। আবার কোন কোন তাল গাছের বারমাসই কমবেশী তাল ধরে থাকে।
    প্রায় সব ধরনের মাটিতেই তাল ফসলের আবাদ করা যায়। তবে উঁচুজমিতে এবং ভারী মাটি ইহা চাষের জন্য বেশী উপযোগী। এদেশে বাগান আকারে কোন তাল ফসলের আবাদ নেই। আগষ্ট মাস থেকে তাল পাকতে শুরু করে এবং অক্টোবর মাস পর্যন্ত পাকা তাল পাওয়া যায়। ভালো তাল বীজ সংগ্রহ করে চারা তৈরী করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নির্বাচিত মাতৃবৃক্ষ হতে তালের বীজ সংগ্রহ করা উচিত।
    দুই ভাবে তাল গাছ লাগানো যায়। একটি পদ্বতি হলো সরাসরি বীজ বপন করে অথবা বীজতলায় চারা উৎপাদন করে চারা রোপনের মাধ্যমে এর আবাদ করা যায়। ভাদ্র হতে কার্তিক মাস বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। সারি থেকে সারি ৭ মিটার এবং চাবা থেকে চারা ৭ মিটার বীজের মাধ্যমে তালের বংশ বিস্তার হয়ে থাকে।
    পাইকগাছার গদাইপুরে সততা নার্সারীতে তালের চারা তৈরীর জন্য গত বছর দেড় লাখ তাল বীজ বপন করা হয়। মাটির ২ ফুট উঁচু বেড তৈরী করে তালের বীজ বপন করা হয়। অংকুরিত বীজ মাটির নিচের দিকে বাড়তে থাকে। চলতি মৌসুমে মাটি খুড়ে বীজপত্র তুলে চটের তৈরী পলিব্যাগে রোপন করে চারা তৈরীর পরিচর্যা করা হচ্ছে। সততা নার্সারীর মালিক অশোক কুমার পাল জানান, বানিজ্যিক ভিত্তিতে তালের চারা উৎপদন করছে। গত বছর দেড় লাখ তালবীজ থেকে ৮০ হাজার তালের অংকুরিত বীজ রোপনসহ আনুসাঙ্গিক খরচ হয়েছে ৯ লক্ষ টাকা। এখনো চারা তৈরীর পরিচর্যার কাজ চলছে। মায়ের দোয়া নার্সারীর মালিক মো: ইউছুপ গাজী জানান, প্রায ৩২ হাজার চারা তৈরির প্রস্তুতি চলছে।২৫ হাজার চারা টিকতে পারে, সব আটি থেকে চারা বের হয় না। চারা তৈরি করতে তার প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। উৎপাদিত তালের চারার প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাথ টাকা বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন। চট্রগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন নার্সারী, এনজিও ও সরকারি ভাবে তালের চারা ক্রয়ের জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হযেছে। তাছাড়া উৎপাদিত তালের চারা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বানিজ্যিক ভিত্তিতে বিক্রি করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
    তার নার্সারীতে তাল বীজতলা তৈরীর পর সবসময় ভিজিয়ে রাখা হচ্ছে। ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যেই বীজ অংকুরিত হতে শুরু করবে। বীজ অংকুরোদগমের সময় বীজপত্রের যে আবরণী বের হয়ে আসে তা দেখতে শিকড়ের মত কিন্তু আসলে তা শিকড় নয়। এই বীজপত্রের আবরণীর মাঝে ফাঁপা থাকে, অগ্রভাগে ভ্রূণ অবস্থান করে এবং টিউবের আকৃতিতে বৃদ্ধি পায়। হলদে রং-এর জার্মটিউবের অগ্রভাগে ভ্রূণ আবৃত থাকে এবং তা সাধারণত মাটির নীচের দিকে বৃদ্ধি পায়।
    জার্মটিউব লম্বা হবার পরেই ভ্রূণের কান্ডের আবরণী এবং ভ্রূণ মূলের আবরণী-এর বৃদ্ধি শুরু হয়। জার্মটিউবের মতো ১৫-৪০ সে. মি. লম্বা হয়ে থাকে। জার্মটিউব লম্বা হবার ১০-১৫ সপ্তাহের মধ্যে একটি পাতলা আবরণীতে পরিণত হয়। এ অবস্থায় চারায় কেবল ১টি শিকড় থাকে। চারার গোড়া ও শিকড়ের গা হতে ছোট ছোট অনু শিকড়ও গজাতে শুরু করে। মৌসুমী বৃষ্টিপাত আরম্ভ হওয়ার পরপরই পলিব্যাগে উত্তোলিত ৩০-৩৫ সে. মি. লম্বা পাতা বিশিষ্ট চারা মাঠে রোপন করা হবে। তবে মাটিতে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতা থাকলে অথবা পানি সেচের ব্যবস্থা থাকলে চারা এপ্রিল- মে মাস পর্যন্ত লাগানো যেতে পারে। চারা রোপণের পর অন্তত প্রথম তিন বছর রোগ- বালাই ও কীট -পতঙ্গের আক্রমণের হাত হতে চারা রক্ষা করা আবশ্যাক। এ বিষয় উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অসিম কুমার দাশ বলেন, তালের চারা তৈরি করে নার্সারী মালিকরা যেমন লাভবান হচ্ছে তেমনি তালের চারার গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ জানতে পারছে।তালগাছ বজ্রপাত রোধক বৃক্ষ।কৃষকরা বজ্রপাতে বেশী আক্রান্ত হয়, তাদের খোলা মাঠে কাজ করেতে হয় তাই বজ্রপাতে কৃষক বেশী মারা যায়। রাস্তার পাশে ও খোলা মাঠের উচু স্থানে সরকারি ভাবে ও কৃষি অফিস থেকে তাল বীজ ও চারা রোপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের তালের চারা রোপন করতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

    ইমদাদুল হোক
    পাইকগাছা খুলনা।

  • ৪ নভেম্বর সু- সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের ১৪২তম জন্মদিন; বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ

    ৪ নভেম্বর সু- সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের ১৪২তম জন্মদিন; বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা, খুলনা।।
    আজ ৪ নভেম্বর সু- সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের ১৪২তম জন্মদিন।
    বহুমুখী সাহিত্য প্রতিভার অধিকারী ছিলেন কাজী ইমদাদুল হক। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, প্রবন্ধকার, উপন্যাসিক, ছোট গল্পকার, শিশু সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। বিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে যেসকল বাঙ্গালী মুসলমান মননশীল গদ্য লেখক বিশিষ্টতা অর্জন করেন তাদের মধ্যে অন্যতম কাজী ইমদাদুল হক। শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসর তৎকালীন মুসলমান সমাজ ব্যবস্থায় ব্যাতিক্রমধর্মী প্রতিভার অধিকারী হয়ে সাহিত্য অঙ্গণে আবির্ভূত হন।
    স্বল্প সংখ্যক গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী আসন লাভে সক্ষম হন। তাঁর অন্য কিছু রচনা থাকলেও একটি মাত্র অসমাপ্ত উপন্যাস আব্দুল্লাহ রচনা করে তিনি যে কৃতিত্বের নির্দেশনা রেখে গেছেন, তাতেই তিনি বাংলা সাহিত্যে চির স্মরণীয়। আব্দুল্লাহ উপন্যাসে যে বিষয়বস্তু উপস্থাপনা করা হয়েছে তাতে বিংশ শতাব্দির গোড়ার দিকে বাঙালী মুসলমান সমাজে যে অবস্থা ছিল তার একটি নিখুঁত চিত্র বিধৃত হয়েছে। আজ
    ৪ নভেম্বর ২০২৩ সু-সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের ১৪২তম জন্মদিন। সাহিত্যিক ইমদাদুল হকের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জন্ম স্থান পাইকগাছায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কাজী ইমদাদুল হক স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাহিত্যিকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন, আলোচনা সভা, পদক ও পুরস্কার বিতরণ সহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন এর সভাপতিত্ব করবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় সংসদ সদস্য মো: আক্তারুজ্জামান বাবু। বিশেষ অতিথি থাকবেন,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার ইকবভল মন্টু, মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম,ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জিয়াদুল ইসলাম জিয়ানহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সমকালীন বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখায় শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড.নজরুল ইসলাম এবং শিক্ষাবিদ সাহিত্যিক অধ্যাপক সুরঞ্জন রায়কে কাজী ইমদাদুল হক স্মৃতি পদক প্রদান করা হবে বলে কাজী ইমদাদুল হক স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক প্রকাশ ঘোষ বিধান জানিয়েছেন।
    বিশ শতকের সূচনালগ্নে যন্ত্রণাজর্জর এই যুগ-প্রতিবেশে বাংলা সাহিত্য- মুক্তচিত্ত-দ্রোহী এক আধুনিক শিল্পী রুপে আবির্ভূত হন কাজী ইমদাদুল হক। তিনি ছিলেন সংস্কারমুক্ত, উদার মানবতাবাদী, মননশীল এবং যুক্তিবাদী শিল্পদৃষ্টিসম্পন্ন ঔপন্যাসিক। কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রথালালিত সামন্ত-মূল্যবোধে স্নিগ্ধ মুসলিম সমাজ-অঙ্গণে বাসন্তী হাওয়ার প্রত্যাশায় ইমদাদুল হক সাহিত্যক্ষেত্রে দ্রোহীসত্তা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তবু তিনি বিদ্রোহী নন, সমাজ ভাঙ্গার ডাক নেই তার কর্মে-বরং মুসলিম সমাজের বিবিধ খন্ডচিত্র আর গ্লানির অঙ্গন উপস্থাপন করেই তিনি তৃপ্ত থেকেছেন। মুসলমান সমাজের সয়িষ্ণু আর্দশ ও রীতিনীতির বিপরীতে স্বাধীনচেতা ও প্রগতিশীল শিতি মনের নব্যসমাজ প্রতিষ্ঠার বাসনাই তাঁর উপন্যাসে ঔপন্যাসিক প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যক্ত করার প্রয়াস পেয়েছেন। চুয়াল্লিশ বছরের কর্মচ ল জীবনে ইমদাদুল হকের প্রধান কীর্তি আবদুল্লাহ্ (১৯৩৩) উপন্যাস। একটিমাত্র উপন্যাস লিখে ইমদাদুল হক বাংলা সাহিত্যে রেখে গেছেন তার স্বতন্ত্র প্রতিভার স্বাক্ষর।
    ১৮৮২ সালে ৪ নভেম্বর খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর গ্রামে কথা সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ কাজী ইমদাদুল হক জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা কাজী আতাউল হক। কাজী ইমদাদুল হক ছিলেন পিতার একমাত্র সন্তান। কাজী ইমদাদুল হকের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় গ্রামের স্কুলে ও পারিবারিক পরিবেশে। জগৎ বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের সঙ্গে ছিল তাঁর পিতার বন্ধুত্ব। প্রফুল্য চন্দ্র রায়ের উৎসাহ ও পরামর্শে কাজী ইমদাদুল হকের পিতা তাকে ১৮৯০ সালে খুলনা জেলা স্কুলে ৫ম শ্রেণিতে ভর্তি করেন। ১৮৯৬ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে এন্ট্রার্স পাশ করেন। ১৮৯৮ সালে কলকাতা মাদ্রাসা থেকে এফএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াকালীন তিনি পদার্থ বিদ্যা ও রসায়ন শাস্ত্রে অনার্স নিয়ে ডিগ্রী ক্লাসে ভর্তি হন। কিন্তু পরীক্ষার আগে অসুস্থতার কারণে অনার্স পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী বিষয়ে এমএ ক্লাসে ভর্তি হন।
    কাজী ইমদাদুল হকের কতিপয় পাঠ্য পুস্তক ও রচনাগুলি হল কবিতা আঁখিজল ১৯৯০, আব্দুল্লাহ ১৯৩৩, প্রবন্ধ-মোসলেম জগতের বিজ্ঞান চর্চা ১৯০৪, প্রবন্ধমালা প্রথম খ- ১৯১৮, প্রবন্ধমালা দ্বিতীয় খ- ১৯১৬ শিশু সাহিত্য নবী কাহিনী, কামারের কান্ড ১৯১৯, পার্থ পুস্তক ভূগোল শিক্ষা প্রনালী, প্রথম ও ২য় ভাগ ১৯১০, সরল সাহিত্য।
    তিনি শিক্ষক নামে মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। তিনি ছিলেন সুপরিচিত বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির অন্যতম স্থপতি এবং সমিতির মুখপত্র বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার পরিচালনা কমিটির সভাপতি।
    কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কাজী আতাউল হক আসামের জরিপ বিভাগে চাকরি করতে করতেন এবং পরবর্তীতে খুলনার ফৌজদারি আদালতের মোক্তার নিযুক্ত হন।
    ১৯০৪ সালে খুলনা শহরে মৌলভী আব্দুল মকসুদ সাহেবের জ্যেষ্ঠ কন্যা সামসন্নেসা খাতুনকে বিয়ে করেন। কাজী ইমদাদুল হকের চার পুত্র ও ২ কন্যা- কাজী আনারুল হক, কাজী সামছুল হক, কাজী আলাউল হক, কাজী নুরুল হক এবং কন্যা জেবুন্নেছা ও লতিফুন্নেছা।
    ১৯০০ সালে কাজী ইমদাদুল হক কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ সম্পন্ন করেন। ১৯১৪ সালে তিনি বিটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯০৪ সালে কাজী ইমদাদুল হক কলকাতা মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এর দুই বছর পর ১৯০৬ সালে আসামের শিলং বিভাগে শিাবিভাগের উচ্চমান সহকারী হিসেবে যোগ দেন। ১৯০৭ সালে তিনি ঢাকা মাদ্রাসার শিক্ষক হন। ১৯১১ সালে তিনি ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ভূগোলের অধ্যাপক হন। এরপর ১৯১৪ সালে ঢাকা বিভাগে মুসলিম শিক্ষা সহকারী স্কুল পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন। ১৯১৭ সালে তাকে কলকাতা ট্রেনিং স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ১৯২১ সালে তিনি সদ্য প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বোর্ডের সুপারিন্টেনডেন্ট হন। আমৃত্যু তিনি এই পদে বহাল ছিলেন।শিক্ষা বিভাগে বিভিন্ন কাজে অসামান্য দক্ষতা, গভীর দায়িত্ববোধ ও উদ্ভাবনী শক্তির স্বীকৃতিস্বরূপ তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার তাকে ১৯১৯ সালে খান সাহেব উপাধিতে ভূষিত করেন ও ১৯২৬ সালে তাকে খান বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করে।
    কাজী ইমদাদুল হক কখনো সু-স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন না। সারা বছর কোন না কোন অসুখ-বিসুখ লেগে থাকতো। ১৯২৬ সালে তিনি কিডনী রোগে আবারও আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় চিকিৎসায় কোন প্রতিকার না হলে হেকিমী চিকিৎসার জন্য দিল্লির উদ্দেশ্যে কলকাতা গমন করেন। কলকাতায় অবস্থান করাকালীন ১৯২৬ সালের ২০মার্চ ৪৪ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন। বিংশ শতাব্দীর বরেণ্য সু- সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হককে গোবরা কবরস্থানে তার মাতার কবরের পাশে দাফন করা হয়।

  • ব্রিটিশ যুগে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হাজারদুয়ারি

    ব্রিটিশ যুগে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হাজারদুয়ারি

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলী।। (ভারতের হাজারদুয়ারী থেকে) কি বিষয়ে লিখব, তা চন্তা করছিলাম, শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম এবার দেশের হরতাল, অবরোধ, আগামি সংসদ নির্বাচন, দেশী, বিদেশীদের
    চাপসহ দেশের রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে লেখার চিন্তা ভাবনা করলাম কিন্তু হাঠাৎ করে ভারতের কলিকাতা চলে এলাম। তাই এ সম্পর্কে লিখা হলো না। আমার এক ভ্যাগনে ও সহযাত্রী এক প্রধান শিক্ষকের সাথে ঘুরতে আসলাম হাজার দুয়ারী। লিখার থিম পরিবর্তন করে এ সম্পর্কে লিখার জন্য তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করলাম।

    বাঙালি যেমন ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়, তেমনি কোন ভ্রমণপিপাসু বাঙালির মন সবসময়ই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বাঁধন ভেঙ্গে মুখোমুখি হতে চায় নতুন কোন সাংস্কৃতিক জগতের। আর পৃথিবীতে সংস্কৃতি কিংবা ঐতিহ্য উভয়েরই শিকড় প্রোথিত থাকে অতীত ইতিহাসের অন্তঃস্থলে। তাই ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের আগ্রহ বাঙালির সর্বকালের।

    ব্রিটিশ যুগে বাংলার এক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হল হাজারদুয়ারি। বিশালাকার এই প্রাসাদে প্রত্যেকটি হলঘর অনুপম সৌন্দর্যের আলোকে সজ্জিত। বাংলার নবাবি আমলে স্থাপত্যকলার এক উজ্জল প্রতিফলন হল এই হাজারদুয়ারি প্রাসাদ।

    হাজারদুয়ারি প্রাসাদ এখন ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, এখানে দেশ বিদেশের ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের জন্য একটি অন্যতম সেরা ঐতিহাসিক নিদর্শন এখানে মাসে অন্তত ৭০ হাজার মানুষ এর অনুগমন হয়, হাজারদুয়ারির অবস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলায় লালবাগ নামক অঞ্চলে। এর পাশ দিয়ে ভাগীরথী আপন রূপ নিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বহুদূরে। সাধারণত এই প্রাসাদটি বহু দরজাবিশিষ্ট বলে তাই একে ‘হাজারদুয়ারি’ নামকরণ করা হয়ে থাকে। বাইরে থেকে ও ভিতর থেকে হাজারদুয়ারিতে অনেক দরজা দৃশ্যমান হলেও এর মধ্যে অনেক দরজাই আদপে নকল। অথচ দূর থেকে পুরোপুরি আসল বলে মনে হয়। হাজারদুয়ারির চমক শুধু তার দুয়ারেই না, ঘরগুলোও মনোমুগ্ধকর।

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের মুর্শিদাবাদে
    অবস্থিত একটি রাজপ্রাসাদ।এই প্রাসাদে অনেক দরজা আছে৷ তার থেকেই প্রাসাদের এই নামকরণ হয়েছে৷ অবশ্য সব দরজা সত্য নয়, অনেক নকল দরজাও রয়েছে ৷

    বাংলার নবাবদের রাজধানী মুর্শিদাবাদ। মুঘলদের অধীনে যখন সুবাহ বাংলার রাজধানী ছিল ঢাকা, ওই রকম সময়ে সম্রাট ঔরঙ্গজেব মুর্শিদকুলি খাঁকে বাংলার দেওয়ানের পদে নিযুক্ত করেছিলেন। তখন অবশ্য মুর্শিদকুলির নাম ছিল করতলব খাঁ। করতলবের সততা এবং দক্ষতা সম্রাটকে মুগ্ধ করেছিল। তিনি করতলব খাঁকে ভাগীরথী গঙ্গার তীরে মকসুদাবাদে রাজধানী সরানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে ‘মুর্শিদকুলি খাঁ’ উপাধি প্রধান করেছিলেন সম্রাট ঔরঙ্গজেব, মকসুদাবাদের নাম পাল্টে মুর্শিদাবাদ করার অনুমতিও দেন তার সঙ্গে। ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর বেশ কিছু বছর পর ১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খাঁ ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে বাংলার প্রাদেশিক রাজধানী সরিয়ে আনেন। ততদিনে তিনি বাংলার সুবাহদার। দিল্লির রাজশক্তি তখন ক্রমশ ক্ষয় পাচ্ছে, সেই সুযোগে প্রায় স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন করতেন। হয়ে ওঠেন বাংলার প্রথম নবাব।

    ১৭শ শতাব্দী থেকে ইংরেজ শাসনের আগে পর্যন্ত সুবা বাংলা, বিহার ও ওড়িষার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদ শহর৷ এখানে রাজত্ব করতেন নবাবরা ৷এখানকার নবাব হুমায়ুন জা ইউরোপিয় স্থপতি দিয়ে এই প্রাসাদ বানান৷ অনেকে ভুল করে ভাবেন যে, এই প্রাসাদ বুঝি নবাব সিরাজউদ্দৌলার দৌলার তৈরি। এই প্রাসাদ তৈরী হয় সিরাজ জমানার পরে। সিরাজের প্রাসাদের নাম ছিল হীরাঝিল প্রাসাদ৷ তা এখন ভাগীরথী নদীতে তলিয়ে গেছে৷ এই প্রাসাদ ইউরোপিয় ধাঁচে বানানো। এটি ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত৷ তিনতলায় বেগম ও নবাবদের থাকার ঘর, দোতলায় দরবার হল, পাঠাগার, অতিথিশালা এবং একতলায় নানা অফিসঘর ও গাড়ি রাখার জায়গা ছিল।

    বর্তমানে ভারতের পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ এখানে একটা সংগ্রহশালা বানিয়েছেন৷ তবে দুর্বল কাঠামোর জন্য দর্শকদের তিনতলায় উঠতে দেওয়া হয় না৷ শুক্রবার মিউজিয়াম বন্ধ থাকে।

    এটি ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত৷ তিনতলায় বেগম ও নবাবদের থাকার ঘর, দোতলায় দরবার হল, পাঠাগার, অতিথিশালা এবং একতলায় নানা অফিসঘর ও গাড়ি রাখার জায়গা ছিল। বর্তমানে ভারতের পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ এখানে একটা সংগ্রহশালা বানিয়েছেন৷ তবে দুর্বল কাঠামোর জন্য দর্শকদের তিনতলায় উঠতে দেওয়া হয় না।

    তারপর ভাগীরথী দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। বাংলার মসনদে বসেছেন সুজাউদ্দিন, সরফরাজ খাঁ, আলিবর্দি খাঁ, সিরাজ-উদ-দৌলা। সিরাজকে পরাজিত করে ১৭৫৭ সালে বাংলার দখল নিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। মিরজাফরকে নবাব বানাল তারা। তারপর মিরকাশিম নবাব হলেন, তারপর আবার মিরজাফর। ততদিনে বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতা পুরোপুরি ব্রিটিশদের দখলে। একের পর এক পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছে মুর্শিদাবাদ। সেই জীবন্ত সাক্ষীকে চাক্ষুস দেখতে পর্যটকরা মুর্শিদাবাদে ভিড় জমান।

    মুর্শিদাবাদে দর্শনীয় স্থানগুলির তালিকায় মধ্যে পর্যটকরা সবার আগে রাখেন হাজারদুয়ারি প্রাসাদকে। এই দুর্গপ্রাসাদ যেখানে অবস্থিত, সেই পুরো চত্বরটাকে বলে নিজামত কিলা বা কিলা নিজামত। হাজারদুয়ারি ছাড়াও ইমামবাড়া, ঘড়ি ঘর, মদিনা মসজিদ, চক মসজিদের মতো বেশ কিছু স্থাপত্য রয়েছে কিলা নিজামত এলাকায়।

    জানা যায়, নবাব নাজিম হুমায়ুন জা তৈরি করিয়েছিলেন হাজারদুয়ারি। ১৮২৯ সালে তিনি এই প্রাসাদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। গোটা স্থাপত্যের রূপকার ছিলেন ডানকান ম্যাকলিওড। দেখলেই বোঝা যায়, এই প্রাসাদের স্থাপত্যশৈলী ইউরোপীয় ঘরানার, বিশেষ করে ইতালীয় রীতির সৌধগুলোর সঙ্গে মিল প্রচুর। ১৮৩৭ সালে মুর্শিদাবাদের প্রধান আকর্ষণ হাজারদুয়ারির নির্মাণকার্য শেষ হয়।

    ৪১ একর জায়গা নিয়ে এই প্রাসাদ দাঁড়িয়ে আছে। ১ হাজারটা দরজা আছে বলে এর নাম হাজারদুয়ারি। অবশ্য দরজাগুলির মধ্যে ১০০ টাই নকল। তবে চট করে দেখে নকল দরজাগুলোকে চিহ্নিত করা বেশ মুশকিল। দেওয়ালের মধ্যে এমনভাবে ডিজাইন করা, বাইরে থেকে দেখলে হুবহু আসল দরজা মনে হবে। দুর্গপ্রাসাদে যদি হঠাৎ করে শত্রুরা আক্রমণ করে বসে, তাদের বিভ্রান্ত করার জন্যই নকল দরজাগুলো বানানো হয়েছিল। সাধারণভাবে প্রাসাদটি হাজারদুয়ারি নামে প্রচলিত হলেও, হুমায়ুন জা একে ‘বড়ো কুঠি’ নামেই ডাকতো

    এখন ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের তত্ত্বাবধানে প্রাসাদটির মধ্যে জাদুঘর গড়ে উঠেছে। বাংলার নবাব, অভিজাত এবং ব্রিটিশদের ব্যবহৃত ও শৌখিন নানা জিনিস স্থান পেয়েছে এখানে। রয়েছে তখনকার আসবাব, বাসনপত্র, বিখ্যাত শিল্পীদের আঁকা ছবি, নবাবি আমলের বই, পুঁথিপত্র। যেমন আইন-ই-আকবরির পাণ্ডুলিপি এবং সোনা দিয়ে মোড়া কোরান শরিফ। ২ হাজারেরও বেশি অস্ত্রের সম্ভার আছে। তার মধ্যে পলাশীর যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র যেমন দেখা যায়, তেমনই দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছে সেই ছুরি, যা দিয়ে মহম্মদি বেগ সিরাজকে হত্যা করেছিলেন। আলিবর্দি খাঁ এবং সিরাজ-উদ-দৌলার তলোয়ারও সেখানে দেখতে পাবেন। আরো যে কত কিছু রয়েছে, বলে শেষ করা যাবে না। গোটা জাদুঘরটি ঘুরে দেখতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে। শুক্রবার বাদে প্রতিদিনই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য জাদুঘর খোলা থাকে।

    হাজারদুয়ারির ঠিক বিপরীতে রয়েছে নিজামত ইমামবাড়া। মহরমের দিন এটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বাকি দিনগুলি এই স্থাপত্য কেবল বাইরে থেকেই দেখতে পাবেন। হাজারদুয়ারির প্রাঙ্গণেই আছে বিখ্যাত ঘড়ি মিনার। প্রাসাদের সামনেই দেখতে পাবেন বাচ্চাওয়ালি তোপ। কাছাকাছি অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলি হল খোশবাগ, মোতঝিল, কাটরা মসজিদ, নসিপুর প্রাসাদ, কাঠগোলা বাগানবাড়ি, কাশিমবাজার রাজবাড়ি ইত্যাদি। তবে এগুলির বিভিন্ন স্থানে ২০/২৫ রুপি টিকেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবস্থান গুলিতে ব্যপকহারে ইতিহাস বিক্রিত করা হয়েছে, বিভিন্নভাবে মূর্তি তৈরী করে রাখা হয়েছে, সত্যি দুঃখজনক, অনেকের ধারনা এক সময় মসুলমানদের জিনিসের অস্তিত্ব থাকবে না। এক শ্রেনীর প্রভাবশালী মানুষ জমিজায়গা দখল করে নির্মান করছেন ঘর, বাড়ী, দোকান, হোটেল,, লজ।
    এখানে আগত মানুষদের সুয়োগ সুবিধার দারুন অভাব রয়েছে। শুধু কি তাই সুকৌশলে মাস্তানী ও চাঁদাবাজি করা হচ্ছে কথিত গাইডার দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার রুপি, সহজ সরল ভ্রমন পিপাসুরা বাধ্য হয়েই প্রতারিত হচ্ছেন।
    বিভাবে যাওয়া যায়ঃ ট্রেনে যেতে চাইলে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে লালগোলা প্যাসেঞ্জার কিংবা ভাগীরথী এক্সপ্রেস অথবা কলকাতা স্টেশন থেকে হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেসে টিকিট কেটে নামতে হবে মুর্শিদাবাদ স্টেশনে। এছাড়া এসপ্ল্যানেড থেকে মুর্শিদাবাদ যাওয়ার বাস পাওয়া যায়।
    থাকার স্থানঃ বহরমপুরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের বহর ট্যুরিজম প্রপার্টি। সেখানে থেকেই মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখতে পারেন। বহরমপুর থেকে মুর্শিদাবাদের দূরত্ব ১১ কিলোমিটারের মতো। এছাড়া মুর্শিদাবাদ শহরেও বেশ কিছু হোটেল এবং রিসর্ট,লজ রয়েছ।
    মুর্শিদাবাদের হাজার দুয়ারীতে কি হাজারটা দরজা আছে? হাজার দুয়ারীর ইতিহাস কী?
    হাজারদুয়ার কথাটির অর্থ ১,০০০টি দরজা। সুতরাং, হাজারদুয়ারিতে ১,০০০টি দরজাই আছে। তবে এদের মধ্যে ১০০টি দরজা কিন্তু কৃত্রিম, দেয়ালের গায়ে দরজার অনুকরণে ছবি আঁকা।তাই সত্যিকারের দরজা আছে ৯০০টি। সুতরাং, আক্ষরিক অর্থে এখানে ১,০০০টি দরজা থাকলেও সবগুলি আসল দরজা নয়।
    ভাগীরথী নদীর তীরে ১২ বিঘা জমিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ৮০ ফুট উচ্চতার হাজারদুয়ারি প্রাসাদ। বর্তমানে এটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া। এর বর্তমান নাম হাজারদুয়ারী প্যালেস মিউজিয়াম। এই প্রাসাদের নির্মাণকাজ ১৮২৯ সালে শুরু হয়ে ১৮৩৭ সালে শেষ হয়। মূল স্থপতি ছিলেন ডানকান ম্যাকলয়েড। নবাব নাজিম হুমায়ুনজার আদেশ অনুযায়ী তার তত্ত্বাবধানে প্রাসাদটি নির্মিত হয়। বাঙালি সগুর মিস্ত্রী ছিলেন তার সহকারী। এখানে একটি কথা জানিয়ে রাখি, সিরাজউদ্দৌলার মৃত্যুর ৮০ বছর পরে এই প্রাসাদ তৈরি হয়। সুতরাং, সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে হাজারদুয়ারির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। বর্তমানে এই প্রাসাদটিকে একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছে। হাজারদুয়ারি ভাল করে দেখতে কমপক্ষে ৪ ঘণ্টা সময় লাগবে। ত্রিতল প্রাসাদটির প্রথমতলে আছে অস্ত্রাগার, অফিস-কাছারি ও রেকর্ড রুম। অস্ত্রাগারে মোট ২,৬০০টি অস্ত্র আছে। এখানে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করার জন্য ব্যবহৃত মহম্মদী বেগের অস্ত্র, পলাশীর যুদ্ধে ব্যবহৃত মীরমদনের কামান ছাড়াও অনেক রকমের অস্ত্র রাখা আছে। আছে আলীবর্দী খাঁয়ের ব্যবহার করা তলোয়ার ও বহুনলা বন্দুক, মীরকাসিমের ছোরা, নাদির শাহের মাথার বর্ম, বিভিন্ন ধরন ও আকারের কামান, বিভিন্ন ধরনের ছোরা-সহ দুর্লভ সংগ্রহ।

    ‘একতলা প্যালেসের সামনের বিশাল সিঁড়িটি দরবার পর্যন্ত উঠে গেছে। সামনে লম্বা গোলাকার স্তম্ভে সুন্দর নকশার কাজ। সিঁড়ির দু’পাশে দুটি সিংহ মূর্তি ও দুটি ছোট সেলামি কামান। তিনতলায় বেগম ও নবাবদের থাকার ঘর, দোতলায় দরবার হল, পাঠাগার, অতিথিশালা। দোতলা ও তৃতীয় তলায় আর্ট গ্যালারি ও লাইব্রেরি। গ্যালারিতে বহু বিখ্যাত চিত্রশিল্পীর চিত্রকলা আছে এখানে। লাইব্রেরিতে রয়েছে বহু ধর্মপুস্তক, চুক্তিপত্র, নাটক, উপন্যাস, তাম্রলিপি, ইতিহাস, প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজ, বিদেশি ভাষার গ্রন্থ ইত্যাদি।

    সম্রাট আকবরের সময়কার আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরির পাণ্ডুলিপি ও বাগদাদের বিখ্যাত লেখক হারুন অর রশিদের হাতে লেখা ‘কোরান শরীফ’ আছে এখানে। এছাড়াও আছে নবাব আর ইংরেজদের ব্যবহৃত বহু অস্ত্র, বাসন, আসবাব, বহু বিখ্যাত শিল্পীদের হাতে আঁকা ছবি রয়েছে। প্যালেসের সামনে রয়েছে মনোরম বাগান।

    ‘হাজারদুয়ারির ঠিক মুখোমুখি রয়েছে বড়া ইমামবরা। হাজারদুয়ারি ও ইমামবরার মাঝখানে মদিনা মসজিদ। সিরাজউদ্দৌলার তৈরি করা স্থাপনার মধ্যে শুধু এই মসজিদটিই টিকে আছে। মদিনা মসজিদের সামনে বাঁধানো বেদীর ওপর রাখা আছে ১৮ ফুট দৈর্ঘ্যের বাচ্চাওয়ালি কামান। ‘ শোনা যায়, এই কামান ১৩-১৪ শতকে গৌড়ের কোনও নবাবের আমলে বানানো হয়েছিল। কেউ বলেন এটি বাংলার সুলতান ইলিয়াস শাহের কামান। তবে সবচেয়ে চালু মতটি হল, ১৬৪৭ সালে এটি বানিয়েছিলেন ঢাকার বিশিষ্ট লোহার মিস্ত্রি জনার্দন কামার। এই কামান দাগার জন্য ১৮ সের বারুদের প্রয়োজন হত। প্রশ্ন হল, কামানের নাম বাচ্চাওয়ালি কামান হল কেন? শোনা যায়, এই কামান দাগা হয়েছিল মাত্রই একবার। কিন্তু সেই তোপ দাগার শব্দ এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে আশেপাশের অনেক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার গর্ভপাত ঘটে যায়। সেই থেকে কামানের নাম বাচ্চাওয়ালি।
    ‘হাজারদুয়ারির সামনের পূর্ব পাশে আকাশছোঁয়া ঘড়ি ঘর পশ্চিমমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুর্শিদাবাদবাসী ও ভাগীরথী নদীতে চলাচলকারী যাত্রীবাহী নৌকা ও জলযানের মাঝি-মল্লার ও যাত্রীদের সুবিধার্থে ঘড়িটি নির্মাণ করা হয়।’

    ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেও সংস্কারের অভাবে অনেক কিছু ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে, দেখার জন্য কেউ নেই। ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ হাজার দুয়ারীর ইতিহাস বিকৃতি থেকে এর সংস্কার ও উন্নয়ন করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সচেতন মহল।।

    হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

  • গলাচিপার চর বিশ্বাসে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেলো ৬০০ মানুষ

    গলাচিপার চর বিশ্বাসে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেলো ৬০০ মানুষ

    গলাচিপা প্রতিনিধি :
    পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার ১২ নং চর বিশ্বাস ইউনিয়নের দঃ চর বিশ্বাস এম আলী লতিফীয়া দাখিল মাদ্রাসা “নবজাগরন ইয়ুথ ফাউন্ডেশন ” এর উদ্দ্যোগে বিনামূল্যে ৪০০ জনকে রক্তের গ্রুপ নির্নয় ও ২০০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে । আজ (৩ নভেম্বর ২০২৩) বেলা ১০:০০ মিনিটে অত্র মাদ্রাসার হলরুমে হাফেজ মোহাম্মদ ইমরানের কোরআন তেলাওয়াত দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব তোফাজ্জল হোসাইন বাবুল মুন্সি, চেয়ারম্যান ১২ নং চর বিশ্বাস ইউনিয়ন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা: আতাউর রহমান , মেডিকেল অফিসার গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। জনাব নেছার উদ্দিন নাসির, মো কবির হোসেন, মো. সাইদুল ইসলাম সাকু, আবু সায়েম গাজী,ফারুক ব্যপারী, মাকসুদ খান, অসিম মন্ডল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন মো. ইসমাইল হোসেন জাকু।

    ফ্রী চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের ডাক্তার মো. আতাউর রহমান ( এমবিবিএস ঢাকা, মেডিসিন ও স্বাস্থ্য)

    নবজাগরণ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন গলাচিপা উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ মুনতাসীর মামুন বলেন, গলাচিপায় আমরা সর্ব প্রথম বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ব্লাড গ্রুপ নির্নয় ক্যাম্প এর আগেও করেছি, যার ধারাবাহিকতায় এবারও দঃ চর বিশ্বাস এম আলী লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসায় করছি। আমাদের এই ক্যাম্প পুরো উপজেলায় চলমান থাকবে, চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত সকল মানুষের পাশে দাড়াতে চাই আমরা। আমাদের নবজাগরণ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন যুবকদের উন্নয়নে সর্বদা কাজ করে থাকে, এর পাশাপাশি আমরা ব্লাড ডোনেশন, অসহাদের খাবার বিতরন, মাদক বিরোধী সেমিনার সহ নানা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। আমরা সম্পূর্ণ আমাদের নিজেদের অর্থায়নে আত্ম মানবতার সাথে নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করি।

    সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া খাঁন নিসা বলেন, আমাদের কাজগুলো সম্মিলিত কাজ, নিজেরা নিজেদের অর্থায়নে করে আসছি দীর্ঘদিন। ভবিষ্যতে ও করবো। গলাচিপা উপজেলার পাশাপাশি সারা দেশে আমাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে চাই। আমরা দেশ ও মানবতার স্বার্থে সর্বদা কাজ করি। আমাদের কাজগুলো যখন সাধারণ মানুষের উপকারে আসে তখন সত্যিই নিজেদের গর্বিত মনেহয়। আমরা দেশ ও জনতার পক্ষে সর্বদা কাজ করবো।

    নবজাগরণ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন চর বিশ্বাস ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, আমাদের চরাঞ্জলের মানুষজন উপজেলা কিংবা জেলা শহরে গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা নিতে হিমশিম খায়। তাই আমরা নবজাগরণ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করার ক্যাম্পের আয়োজন করেছি। যাতে মানুষ ভোগান্তি সহ্য না করে অল্পতেই চিকিৎসা নিতে পারে।

    সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম অনিক বলেন, আমরা গলাচিপা উপজেলার মধ্যে একটি বিচ্ছিন্ন দীপাঞ্জলে বসবাস করি,এখানে চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য আমাদের এই আয়োজন। আমরা গরীব দুঃখী মানুষের পাশে দাড়াতে পেরে গর্ববোধ করছি।

    নবজাগরণ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. হুজ্জাতুল ইসলাম বলেন,নবজাগরণ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত একটি যুব সংগঠন। আমাদের বেশ কয়েকটি শাখা কমিটি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যুবদের নিয়েই নবজাগরণ ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের কাজ। সামাজিক, মানবিক এবং দেশের স্বার্থে আমরা যুবদের নিয়ে সেবা মূলক কাজ করে যাচ্ছি। রক্তদান সেবা, স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প, গরিব ও দুস্থদের সাহায্য, শীতবস্ত্র বিতরণ, মাদকমুক্ত যুব সমাজ গঠন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপদগ্রস্ত লোকের পাশে থাকা, মেধাবী এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের আর্থিকভাবে কোন অনুদান নেই তবে প্রতিটি কমিটি তাদের নিজ নিজ উদ্যোগে অবিরত কাজ করে চলেছে।

    এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবকগণ, ছাত্র ছাত্রী ও সংগঠনের সহ সভাপতি হাওলাদার ফারজানা, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিফাত রহমান , প্রচার সম্পাদক আদনান সাকিব, সহ প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সজীব মাহমুদ, জান্নাতুল ফেরদৌস, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এস এম সুবর্না, ইমরান মাহমুদ, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক এস এম সাইদুল ইসলাম,চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক উদয় সরকার, সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক মো. রাব্বি খান

    চর বিশ্বাস ইউনিয়ন শাখার – ইসমাইল হোসেন জাকু,রুবেল আকন, মনির হোসেন, জলিল মাহমুদ, রহিম মাহমুদ, ফরহাদ হোসেন, লিমন,রিফাত, বিপ্লব, সাইফুল ইসলাম রবি,সোলাইমান, রাকিব,শাকিল, সায়েম, জালাল,সাইফুল ইসলাম, কাবিরুল, ওমর, রিয়ামনি,বৃষ্টি হাওলাদার, অপর্না, ফারিয়া,ইউসুফ।

  • আন্দোলনের নামে জামায়াত-বিএনপি নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চাই- এমপি বাবু

    আন্দোলনের নামে জামায়াত-বিএনপি নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চাই- এমপি বাবু

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    বঙ্গবন্ধু সহ জাতীয় চার নেতার হত্যাকারীরা এখনো ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে উল্লেখ করে খুলনা -৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু বলেছেন এরা এখনো এদেশের স্বাধীনতা কে মেনে নিতে পারিনি। এজন্য এরা এদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি চাই না। এদের লক্ষ শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কে এদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। এমপি বাবু বলেন জামায়াত বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী না এজন্য তারা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই না। তারা আন্দোলনের নামে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চাই। জামায়াত বিএনপি সহ কোন ষড়যন্ত্রকারীরা কোন ভাবেই যাতে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে এজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি ১৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুলনার জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান। তিনি শুক্রবার সকালে পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় জেলা হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল হাসান টিপুর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার জি এম মাহবুবুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার প্রেম কুমার মন্ডল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রশীদুজ্জামান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু, জেলা পরিষদ সদস্য রবিউল ইসলাম গাজী, আওয়ামী লীগ নেতা হেমেশ চন্দ্র মন্ডল, সহকারী অধ্যাপক ময়নুল ইসলাম, মশিউর রহমান, বিভূতি ভূষণ সানা, এস এম শামছুর রহমান, কৃষ্ণপদ মন্ডল, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাংবাদিক তৃপ্তি রঞ্জন সেন, সাংবাদিক স্নেহেন্দু বিকাশ, বি সরকার, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেতা নিবেদিতা মন্ডল, জুলি শেখ, যুবলীগ নেতা পবিত্র মন্ডল, দ্বিজেন্দ্র নাথ মন্ডল, আকরামুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক রাজু, মিজানুর রহমান, গৌরাঙ্গ মন্ডল, জামাল হোসেন, বিশ্বজিৎ মন্ডল, ছাত্রলীগ নেতা রায়হান পারভেজ রনি, মুক্ত অধিকারী, রিপন রায় ও রাশেদুজ্জামান রাসেল।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা খুলনা।

  • বরগুনার তালতলীতে বিসিক কর্তৃক মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণ কোর্স সমাপ্ত

    বরগুনার তালতলীতে বিসিক কর্তৃক মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণ কোর্স সমাপ্ত

    মংচিন থান,বরগুনা প্রতিনিধি।।
    বরগুনার তালতলীতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)কর্তৃক বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার বসবাসরত রাখাইন সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ কোর্স সমাপ্ত হয়েছে, ৩০ অক্টোবর থেকে ০৩ নভেম্বর পর্যন্ত ০৫ দিনব্যাপী তালতলী উপজেলার ক্রীড়া সংস্থা কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়, সুস্থ্য সবল দেহ চাই, নিয়মিত মাশরুম খাই এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের কাঠের গুড়া পদ্ধতি, ধানের পদ্ধতি, খরের পদ্ধতি এই তিনটি পদ্ধতি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় উক্ত সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মি:খেমংলা তালুকদার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবি- উল-কবির জমাদ্দার,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত আনোয়ার তুম্পা,আরো বিশেষ অতিথি বিসিক জেলা কার্যালয় উপ -ব্যবস্থাপক কাজী তোফাজ্জেল হক,তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র সরকার,বিসিক জেলা কার্যালয়ের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র বৈরাগী ও তালতলী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মি: ধলুসে প্রমূখ। উল্লেখ্য উক্ত প্রশিক্ষণে নারী-পুরুষ ২০ জন এবং প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিসেস জিনিয়া আক্তার।

    মংচিন থান
    বরগুনা প্রতিনিধি