Blog

  • পাইকগাছায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

    পাইকগাছায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥
    খুলনার পাইকগাছায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৫২ তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন, সমবায় বিভাগ ও সমবায়ীবৃন্দের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র‍্যালি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন এমপি আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাড়ুলী সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর। বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন ফিরোজ (বুলু), পাইকগাছা প্রেসক্লাব সভাপতি এ্যাডভোকেট এফ এম এ রাজ্জাক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম কেরু, শেখ জিয়াদুল ইসলাম, সাবেক অধ্যক্ষ রমেন্দ্র নাথ সরকার, প্রভাষক ময়নুল ইসলাম, দিজেন্দ্র নাথ মন্ডল।

  • পাবনা-২ আসনে এমপি পদপ্রার্থী সবুজ খানের বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

    পাবনা-২ আসনে এমপি পদপ্রার্থী সবুজ খানের বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

    এম এ আলিম রিপনঃ পাবনা-২ আসনের নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সাবেক সদস্য আশিকুর রহমান খান সবুজ ৫ শতাধিক গাড়িবহর নিয়ে বিশাল শোভাযাত্রা করেছেন। শনিবার সকালে সুজানগর পৌর শহর থেকে এই শোভাযাত্রা বের হয়। এ সময় বিভিন্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে থেকে শত শত মোটরসাইকেল নিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মী জড়ো হতে থাকে। পরে সেখান থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে সুজানগর উপজেলার ভাঁয়না,সাতবাড়িয়া,মানিকহাট,নাজিরগঞ্জ,হাটখালী,রাণীনগর,আহমদপুর,তাঁতিবন্দ,দুলাই,সাগরকান্দি,বেড়া উপজেলা ও আমিনপুর থানার মাসুন্দিয়া,ঢালারচর,রুপপুর, জাতসাকিনিয়াসহ পাবনা-২ সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া আ.লীগ ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, পাবনা-২ আসনের সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক আশিকুর রহমান খান সবুজ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন, তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় শাখার সমাজ সেবা সম্পাদক,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন । নির্বাচনী এলাকার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখাসহ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন,সমাজ সেবা, ও ক্রীড়া ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে চলেছেন। ফলে নির্বাচনী এলাকা জুড়ে আ.লীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তার একটা পরিচ্ছন্ন ও নিজস্ব ব্যক্তি ইমেজ তৈরি হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আশিকুর রহমান খান সবুজকেই মনোনয়ন দেবেন বলেও প্রত্যাশা রাখেন তারা। এ সময় সরকারের উন্নয়ন ও সফলতা সাধারণ ভোটারদের সামনে তুলে ধরে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সাবেক সদস্য আশিকুর রহমান খান সবুজ বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগকে আবারও বিজয়ী করতে উন্নয়নের প্রতীক নৌকায় ভোট দেবার আহ্বান জানান । এছাড়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশা রেখে তিনি বলেন, পাবনা-২ নির্বাচনী এলাকার গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। তাই আমি আশা রাখি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পাবনা-২ আসনের নৌকার মনোনয়ন দেবেন। আর আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হবেন এবং তিনি তার সকল যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে নির্বাচনী এলাকার অবহেলিত জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবেন । শোভাযাত্রায় পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও নাজিরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান খান, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা হামিদুল হক হাজারী, সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল হাসান রোজ, উপজেলা আ.লীগের সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক রেজা মন্ডল, সুজানগর পৌর কাউন্সিলর মুশফিকুর রহমান সাচ্চু, সরদার পাশু,নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক মন্ডল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম মন্ডল, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মানিক খান ও আ.লীগ নেতা তফিজ মন্ডল,দলীয় নেতা মুক্তি, স্বপন, শ্রী সুবাশ,উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সোহেল হাসান বাবুসহ পাবনা-২ আসনের বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগসহ সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য দলীয় নেতাকমী অশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে বি.এস.সি,এম.এস.সি সম্পন্ন করা সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের নওয়াগ্রামের মেধাবী কৃতি সন্তান আশিকুর রহমান খান সবুজের পিতা প্রয়াত সৈয়দ আলী খান নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম একজন এবং (১৯৬৯-১৯৭৩) সাল পর্যন্ত নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আশিকুর রহমানের সেজ ভাই মশিউর রহমান খান বর্তমানে পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও নাজিরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেজ বোন জিন্নাত আরা রোজী বর্তমানে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ সভাপতি এবং এর আগে ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও সমাজ সেবা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ছোট বোন জেসমিন আরা মৌসুমী ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • জাতীয় সংবিধান দিবস উপলক্ষ্যে সুজানগরে র‌্যালি ও সভা অনুষ্টিত

    জাতীয় সংবিধান দিবস উপলক্ষ্যে সুজানগরে র‌্যালি ও সভা অনুষ্টিত

    এমএ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ পাবনার সুজানগরে র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জাতীয় সংবিধান দিবস-২০২৩। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে সুজানগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার (৪ নভেম্বর) সকালে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের অংশগ্রহনে র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংবিধান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ মর্জিনা খাতুন। অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মাহে আলম, উপজেলা সমবায় অফিসার মো.দেলোয়ার হোসেন(বিদ্যুৎ), উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আব্দুস ছাত্তার, নাজিরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাদের হোসেন, এন এ কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক আবুল হাশেম, আ.লীগ নেতা কুতুব উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ইউনুস আলী বাদশা, সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক রাজা হাসান, সদস্য মাহমুদ্দুজ্জামান মানিক, দৈনিক যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি এম এ আলিম রিপন,যায়যায়দিন প্রতিনিধি এম মনিরুজ্জামান, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সংবিধান একটি দেশের দর্পন, সংবিধান ছাড়া কোন দেশ চলতে পারেনা। সংবিধানের মাধ্যমে একটি দেশ সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিকভাবে গর্ব করার মত আমাদের অর্জন হল সংবিধান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনন্য নেতৃত্বের কারণে অতি অল্প সময়ে আমরা একটি সংবিধান পেয়েছি। যেখানে সকল নাগরিকের অধিকারের কথা বলা হয়েছে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • শেষ হলো খেতুর ধামে  শ্রী শ্রী নরোত্তম ঠকুরের তিরোভাব তিথিতে  মহোৎসব

    শেষ হলো খেতুর ধামে শ্রী শ্রী নরোত্তম ঠকুরের তিরোভাব তিথিতে মহোৎসব

    মোঃ হায়দার আলী রাজশাহী থেকেঃ গত ১নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩ নভেম্বর শেষ হলো রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী খেতুরধামে মহোৎসব। প্রতিবছর ঠাকুর শ্রী শ্রী নরোত্তম ঠাকুরের তিরোভাব তিথিতে এ মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সারা পৃথিবীতে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলাম্বীদের ধামের সংখ্যা মাত্র ছয়টি। এর মধ্যে পাঁচটিই ভারতে অবস্থিত। আর একটি বাংলাদেশের এই খেতুর ধাম।

    মহোৎসব উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের মত এবারও দেশ-বিদেশ থেকে ঠাকুর শ্রী শ্রী নরোত্তম ঠাকুরের এ মহোৎসবে দেশ বিদেশের কয়েক লাখ ভক্তসমবেত হয়েছেন এখানে। মহোৎসবকে কেন্দ্র করে বসেছে বড়ধরনের মেলা। এ নিয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছে গৌরাঙ্গদেব ট্রাস্টি বোর্ড। আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের সদস্যগন দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের প্রেমতলীর গৌরঙ্গবাড়ীতে খেতুর ধাম অবস্থিত। এই ধামে প্রতিবছর বাংলা কার্তিক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এখানে চলে মেলা ও সংকীর্তন। প্রেমতলীতে গৌরাঙ্গবাড়ি নামে একটি বৈষ্ণবীয় তীর্থস্থান অবস্থিত। এই বাড়িতে ১৫৩১ খ্রিস্টাব্দের বাংলা মাঘ মাসের শুক্ল পঞ্চমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন ঠাকুর নরোত্তম দাস (১৫৩১-১৫৮৭)। তার তিরোভাব তিথি উপলক্ষে এখানে তিন দিন ব্যাপি মেলা ও মহোৎসবের আয়োজন হয়েছে।

    দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ভক্ত এখানে মহোৎসবে যোগদান করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, আসাম, ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা, মণিপুর ইত্যাদি রাজ্য থেকে বৈষ্ণব ভক্তরা এখানে এসে সমাবেত হয়। দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ভক্তের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছিল খেতুর ধাম। বৈষ্ণব ভক্তদের সঙ্গে মিলিত হয় সন্ন্যাসী ও বাউল ভক্তরা। আসামের কামাক্ষা থেকে প্রতিবছর এখানে সন্নাসীদের আগমন ঘটে। ভারত ছাড়াও নেপালের পুণ্যার্থীরা এই মেলায় আসে। এছাড়া আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন)-এর উদ্যোগে ফ্রান্স, আমেরিকা, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি দেশ থেকে ভক্তরা এই মেলায় আসে। হাজার হাজার ভক্তের পদচারণা আর প্রার্থনায় প্রেমতলী আর গৌরাঙ্গবাড়ি মুখরিত হয়ে ওঠেছিল। মেলা উপলক্ষে তৃতীয় দিনে গোদাগাড়ী এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ২৪ ঘণ্টার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এই মেলাকে ‘বৈষ্ণবের মহামিলন’ বলে অভিহিত করা হয়।

    ঠাকুর নরোত্তমের জন্ম সম্পর্কে কিংবদন্তী হলো— ‘একবার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু পার্ষদ ভক্তদের নিয়ে নদীয়ায় মহানাম কীর্তন করছিলেন। হঠাৎ মহাপ্রভুর চোখ প্রেমতলীর খেতুর গ্রামের দিকে গেল। মহাপ্রভু তৎক্ষনাৎ ‘নরোত্তম, নরোত্তম’ বলে কেঁদে উঠলেন। এর পর মহাপ্রভু প্রয়াণের বহু বছর পর পদ্মা নদীর তীরে গোপালপুর নগরের রাজা রাজা কৃষ্ণানন্দ ও শ্রী নারায়ণী দেবীর ঘরে মাঘ মাসে শুক্ল পঞ্চমীতে শ্রী নরোত্তম দাস ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন। বয়োবৃদ্ধি হলে নরোত্তম ঠাকুর ভক্তমুখে শ্রী গৌরসুন্দর ও নিত্যানন্দের মহিমা শ্রবণ করে পরম আনন্দ অনুভব করলেন। গৌরলীলা স্থান দর্শনের অভিলাষে সংসার ত্যাগ করে বৃন্দাবন ধামে গমন করলেন। সেখানে শ্রী লোকনাথ গোস্বামীর কাছে রাধাকৃষ্ণ মন্ত্রে দীক্ষা গ্রহণ করলেন এবং শ্রীল জীব গোস্বামীর কাছে বৈষ্ণব দর্শন শিক্ষা লাভ করলেন। এরপর ঠাকুর এক বিপ্রের ধানের গোলা থেকে গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া বিগ্রহ উদ্ধার করে খেতুরে প্রতিষ্ঠা করলেন।’

    মেলার সময় গৌরাঙ্গ বাড়ির চারিদিক থেকে লোক আসতে থাকে। ভক্তদের অনেকে সদলবলে কীর্তন করতে করতে উৎসব প্রাঙ্গনে ঢোকে। তাদের মধ্যে কেউ মৃদঙ্গ, কেউ করতাল, শঙ্খ, হারমোনিয়াম, বেহালা ইত্যাদি বাজিয়ে নগর কীর্তন করতে করতে উৎসব স্থলে প্রবেশ করে। চার দিন ব্যাপি নামকীর্তন চলে। তৃতীয় দিন হলো অষ্টপ্রহর নামকীর্তনের নির্ধারিত দিন।

    শ্রীচৈতন্য তিরোধানের পাঁচ দশক পর পদাবলী কীর্তনের সূত্রপাত হয়। নরোত্তম ঠাকুর এই প্রথাবদ্ধ পদাবলী গায়নের সূত্রপাত করেন। তিনি ১৫৮৩ মতান্তরে ৮৪ খ্রিস্টাব্দে খেতুরিতে এক বৈষ্ণব মহাসম্মেলনের আয়োজন করেন। এই সম্মেলনে তিনি সর্বপ্রথম গৌরচন্দ্রিকা গায়নসহ প্রণালীবদ্ধভাবে লীলাকীর্তন গাওয়ার প্রস্তাব করেন। এই উৎসবে উপস্থিত বৈষ্ণব কবি, দার্শনিক, রসবেত্তা ও গায়কেরা সেটি অনুমোদন করেন। তখন থেকে খেতুরি উৎসব ব্রজবুলির পদ এবং গৌরচন্দ্রিকা গায়নসহ প্রণালীবদ্ধ লীলাকীর্তনের প্রধান অঙ্গ হয়ে ওঠে। নরোত্তম যে পদাবলীকীর্তন প্রবর্তন করেন তার বৈশিষ্ট্য হলো— লীলাকীর্তনের পূর্বে গৌরচন্দ্রিকা গাওয়া, পরিবেশনের জন্য যে পালা গঠিত হবে তাতে পদকর্তাদের মর্মানুসারী পদ সংকলন, মৃদঙ্গের ব্যবহার, তালছন্দ রচনা এবং বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কীর্তন আলাপের মধ্য দিয়ে কীর্তন পরিবেশন। এভাবে নরোত্তম প্রবর্তিত কীর্তনের একটি আলাদা ঘরানা তৈরী হয়। খেতুরি ছিল রাজশাহীর গড়েরহাটী পরগণার অধীন। উৎস স্থলের নামানুসারে এই কীর্তন ধারার নাম হয় গরানহাটী বা গড়েরহাটী ঘরানা।

    চরিদিক থেকে লোক মেলায় আসতে থাকে। ভক্ত, দর্শনার্থী, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, গবেষক, ব্যবসায়ীর, সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ, ছাত্রসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ মেলায় আসে। এছাড়া এই মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পেশাজীবী শ্রেণি তাদের উৎপাদিত দ্রব্যাদি বিক্রির জন্য নিয়ে আসে। মেলা প্রাঙ্গনের চারি দিক ঘিরে থাকে নানা প্রকার দোকান। এক এক দিকে এক এক প্রকার দোকানীদের পসরা সাজিয়ে বসতে দেখা যায়। কোথাও বাদ্যযন্ত্র বিশেষ করে মৃদঙ্গ, পূজার উপকরণ ও ধর্মীয় গ্রন্থ বিক্রি হয়। এই সব স্থানে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে হিন্দু ধর্মের উপর তাদের প্রচারমূলক গ্রন্থ বিক্রি করে। অন্য দিকে থাকে নানা প্রকার খাবারের দোকান। মাছ-মাংসসহ ভাত খাওয়ার হোটেল যেমন দেখা যায় তেমনি নিরামিষ খাবারেরও দোকান লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া অস্থায়ী বিভিন্ন মিষ্টির দোকান গড়ে ওঠে। খেতে পাওয়া যায় চিড়া-দৈ। খাবার হিসেবে জিলাপী, ঝরি ডালপুরি, সিঙ্গাড়া, পিঁয়াজি ইত্যাদি মুখরোচক খাবার তৈরী হয়। একদিকে দেখা যায় চানাচুর, খোরমা, চিনাবাদাম, বাতাসা, খাজা ইত্যাদির দোকান। এই সকল দোকান পেরিয়ে মনোহরী পট্টি। এখানে বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী, খেলনা ইত্যাদির ঘটা দেখতে পাওয়া যায়। কুমারদের দোকানে দেখা যায় হাড়ি, পাতিল, মাটির পুতুল, ব্যাঙ্ক, খেলনা, ফুলদানী, গয়না, টেরাকোটা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। ছুতারেরা বিক্রি করে কাঠের তৈরী জিনিসপত্র। এর মধ্যে পিড়ি, জলচৌকি, খাট, পালঙ্ক, চেয়ার, টেবিল, আলমারী, আলনা, শোকেস, ড্রেসিংটেবিল ইত্যাদি দেখা যায়। ওঠে কামারদের তৈরী জিনিসপত্র। যেমন, দা, কুড়াল, খোন্তা, কোদাল, শাবল, বটি, কাঁস্তে, ছুরি, হাঁসুয়া, চাপাতি, নাঙ্গলের ফলা, নারকেল কোরানী ইত্যাদি। মেলার বাইরের দিকে খোলা মাঠে দেখা যায় সার্কাস প্যাণ্ডেল। এর কিছু দূর গিয়ে দেখা যায় নাগরদোলা।

    পুরো উৎসব স্থল জুড়ে ভক্তরা শুয়ে-বসে কাটায়। অনেক ভক্তদের রান্না করা উপকরণ নিয়ে আসে। এছাড়া মেলায় চাল-ডাল-আনাজ-তরকারী কেনার ব্যবস্থাও থাকে। সেখান থেকে ভক্তরা রান্নার উপকরণ কিনি নিয়ে রান্না করে। আবার মন্দির কর্তৃপক্ষ ভোগের ব্যবস্থা করে। অনেক ভক্ত পূর্বপুরুষের নামে, দেবতার নামে ভোগ উৎসর্গ করে। ভক্তদের খাওয়ায়। সেখান থেকেও দর্শনার্থীদের খাওয়ার যোগান হয়। খাওয়া ছাড়াও ভক্তদের থাকার জন্য বিভিন্ন বিভিন্ন প্যাণ্ডেল তৈরী করে দেওয়া হয়। সেখানে তারা রাত্রি যাপন করতে পারে। আবাসনের স্থানেও গুচ্ছে গুচ্ছে কীর্তন দল দিন, রাত কীর্তন করে। কীর্তনের মধ্যে আছে পালা কীর্তন, নামকীর্তন, গৌর কীর্তন ইত্যাদি।

    মেলার একদিকে আছে ইসকন সাধুদের প্যাণ্ডেল। তারা সেখানে কীর্তন করে ও তাদের প্রকাশিত ধর্মীয় গ্রন্থ, পূজার উপকরণ, জপের মালা, গলার মালা, তিলক মাটি, চন্দন ইত্যাদি বিক্রি করে। এই প্যাণ্ডেলে অনেক বিদেশী ভক্তের আগমন ঘটে। অনেক স্থানে খ্রিস্টান মিশনারীদের উদ্যোগে যিশুর বাণী প্রচার করা হয়। এছাড়া হিন্দু ধর্মের অন্যান্য উপাসক সম্প্রদায়ও এই মেলাকে ধর্ম প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। যেমন, সৎসঙ্গী, মতুয়া এঁদের ধর্মগ্রন্থের দোকানও এই মেলায় লক্ষ্য করা যায়। মূলত খেতুর মেলা ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোত্র নির্বিশেষের একটি মিলন মেলা হিসেবে বর্তমানে সার্বজনীন চরিত্র লাভ করেছে।

    মূলত হিন্দু ধর্মের লোক জনের এ মেলা হলেও এলাকার মসুলমানগণ এ মেলার কার্যক্রম সুন্দর, সুচারুরুপে সম্পূন করা জন্য শত কষ্ট সহ্য করে সাহায্য করে থাকেন। প্রেমতলী ডিগ্রী কলেজ, প্রেমতলী সুকবাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, প্রেমতলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, এলাকার বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলিতে হাজার হাজার গাড়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারিগন তাদের যে কয় দিন অনুষ্ঠান চলে সে কয়দিন আন্তরিকভাবে সহযৌগিতা করে থাকেন।

    এ প্রসঙ্গে শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গঁদেব ট্রাষ্ট বোর্ড পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাবেক উপপরিচালক কাষ্টম গোয়েন্দা শ্রী সুনন্দন দাস রতন বলেন, এবারই প্রথম প্রতিটি পুজা মন্ডপে দূর্গাপুজা সময় সভাপতি/ সাধারন সম্পাদকগণের মাধ্যমে নিমন্ত্রণ পত্রের মাধ্যমে নিমন্ত্রণ করা হয়। নরোত্তমের সাহিত্যকর্মও মধ্যযুগের পদাবলী সাহিত্যের ইতিহাসে অতুলনীয় সম্পদ। বৈষ্ণব পদাবলী বৈষ্ণব শাস্ত্রেরই রসভাষ্য। প্রধানত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার বিচিত্র পর্যায় বর্ণনাই এর উদ্দেশ্য; নর-নারীর পার্থিব প্রেমের সকাল ভাবানুভবের মধ্যদিয়ে পারমার্থিক প্রেমতত্ত্বের এক অতুলনীয় মহিমা পদাবলী সাহিত্যে বিধত। পর্ববাগ অনুরাগ অভিসার মান. মান. মিলন. বিরহ. প্রার্থনা, আত্মনিবেদন প্রভৃতি ধারাক্রমের মধ্য দিয়ে [রাধাকৃষ্ণ প্রেম বৈষ্ণব পদাবলীতে এমন এব তত্ত্বে উপনীত হয়েছে, যেখানে অক্তের সঙ্গেভগবানের জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার, সীমার সঙ্গে অসীমের এক মহামিলনের, এক অপার্থির পূর্ণতার অভিপ্রায়ই ব্যক্ত হয়েছে। এজন্য পদাবলী সাহিত্যের আবেদন শুরু ভক্ত বেষ্ণব সমাজের মধ্যেই সীমিত থাকেনি, তা দেশকাল থাকেনি, তা দেশকাল নির্বিশেষে সকল মানুষের আত্মিক আকুতিকেই অভিব্যক্ত করেছে। আমাদের ধর্মে বৈষ্ণব কূলের শ্রেষ্ট বৈষ্ণব বলা হয় শ্রী শ্রী নরোত্তম ঠাকুর মহাশয়কে। প্রেমভক্ত মহারাজা বৈষ্ণব কুলের ছড়া মনি বলাই পদাবলী কীর্তনের সৃষ্টিকারি উনার জন্ম স্থান প্রেমতলী খেতুর ( আতুর ঘর) হিন্দু ধর্মে ৬ টি ধাম আছে, তার মধ্যে ৫ টি ভারতে বিন্দাবন, পুরি, গয়া কাসি, নবদীপ আর ১ টি বাংলাদেশের রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার খেতুর ধাম। দেশের খেতুরী ধাম ধর্মীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত চৈতন্য মহাপ্রভুর শিষ্য হচ্ছে নরোত্তম ঠাকুর। তিনি আরো বলেন, হিন্দু ধর্ম মতে, তিন ধাম বিন্দাবন, পুরি, নবদ্বীপ ধামে তিন রাত্রী যাপন করলে যে মাহত (পুন্য) লাভ করা যায় আর এ খেতুর ধামে ১ রাত্রী যাপন করলে সমপরিমান (মাহত) পুন্য লাভ হয়। শ্রী নরোত্তম ঠাকুরের তিরোভাব বড় অনুষ্ঠান। এ উৎসবে দেশ বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাবেশ ঘটে, এসব ভক্তদের সেবার জন্য খেতুরী ধামের ট্রাষ্ট বোর্ড সদস্যরা মন্দির চত্তরে থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন এবং মন্দিরের চারিপাশে ৫০ থেকে ৬০ জন গুরুদেব পৃথকভাবে তাদের ভক্তদেরকে নিয়ে এসে পৃথক পৃথক প্যান্ডেল তৈরী ভক্তসহ আগত যাত্রীদের নিজ খরচে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন। এখানে নরোত্তম ঠাকুরের বিচরণ অংশ হিসেবে আরো ৪ টি বিচরণ অংশ রয়েছে। ভজনতুলি যেখানে তিনি ভজন করতেন, খিললতুলি, দন্ততুলি একটি বড় পুকুর আছে সেখানে তিনি স্নান করতেন, মুখ চোখ ধৌত করতেন, তমালতোলা। এগুলি বিচরন স্থান।

    বদ্রীনাথ, দ্বারকা, পুরী ও রামেশ্বরম- এই চার তীর্থক্ষেত্রকে একত্রে ‘চারধাম’ বলে। বিশ্বাস করা হয় যে, এই চার তীর্থ দর্শনে মোক্ষ অর্জন করা সম্ভব। আদি শঙ্করাচার্য এই চারধামের কথা বলে গিয়েছেন। খেয়াস করে দেখুন এই চারটি তীর্থস্থলের অবস্থান ভারতের চারটি ভিন্ন অঞ্চলে। বদ্রীনাথ উত্তরের উত্তরাখণ্ডে, দ্বারকা পশ্চিমের গুজরাটে, পুরী পূর্বের ওড়িষায় এবং রামেশ্বরম দক্ষিণের তামিলনাডুতে অবস্থিত। আদি শঙ্করাচার্য এই চার ধামেই মন্দির স্থাপনা করেছিলেন।

    বদ্রীনাথঃ মনে করা হয়, বিষ্ণুর অবতার নর-নারায়ণ বদ্রীনাথে তপস্যা করার পর থেকে এখানকার গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। সে সময় এখানে প্রচুর বেরিগাছ ছিল। সংস্কৃতে বেরিকে ‘বদরি’ বলে। নর-নারায়ণ যেখানে তপস্যা সেখানে তাঁকে বৃষ্টি ও রোদের হাত থেকে বাঁচাতে মা লক্ষ্মী নিজে একটি বড় বদরি গাছে রূপান্তরিত হন। এ সবই সত্যযুগের ঘটনা। তাই বদ্রীনাথ প্রথম ধাম হিসেবে পরিচিতি।

    রামেশ্বরমঃ ত্রেতাযুগে ভগবান রাম ভগবান শিবের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য এখানে শিব লিঙ্গ তৈরি করে পুজো করেছিলেন। রামেশ্বরম কথার অর্থ রামের ঈশ্বর। এটি তাই দ্বিতীয় ধাম।
    দ্বারকাঃ এটি তৃতীয় ধাম। দ্বাপর যুগে মথুরা পরিত্যাগ করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এখানে থাকতে শুরু করেন। সেই থেকে তীর্থক্ষেত্র হিসেবে এর গুরুত্ব বেড়ে যায়।
    পুরীঃ পুরীতে ভগবান জগন্নাথ কলিযুগের অবতার হিসেবে পূজিত হন। পুরীকে তাই চতুর্থ ধাম হিসেবে মনে করা হয়।
    ছোট চারধামঃ বদ্রীনাথ-সহ উত্তরাখণ্ডের আরও তিনটি প্রাচীন তীর্থস্থান যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী, কেদারনাথকে একত্রে ছোট চারধাম বলা হয়।

    এ প্রসঙ্গে শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গঁদেব ট্রাষ্ট বোর্ড পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামাপদ সান্যাল সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ১৩ অক্টোবর অধিবাস, ১৪ অক্টোবর মূল মহা উৎসব এবং বাসি মহা উৎসব ও মহন্তবিদায় অনুষ্ঠিত হবে।
    মূল কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাব কমিটির মাধ্যমে সমন্বয় করে কাজগুলি সুন্দর সুচারুভাবে করা হয়েছে। তিন দিন পূর্বে থেকে ভক্তদের সমাগম ঘটে থাকে, সব সময় ২ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি থকে। ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সবাই আগত মানুষের সাহায্য করে থাকেন। এলাকার মসুলমান ভাই, বোন নিজেদের অনেক কষ্ট সহ্য করে আগত ভক্তদের সাহায্য করে থাকেন বলে তিনি জানান। গোদাগাড়ী থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের ৫০০ জন সদস্য, ৩০ জন আনসার, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারী, চিকিৎসক, ২ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক দিনরাত কাজ করে করছেন। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারিগন দিনরাত পরিশ্রম করে করছেন। ২৬ টি সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকবে ৩০ বিঘা জমির উপর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ মহা উৎসব সুষ্ঠভাবে চলছে সকল কার্যক্রম।

    উল্লেখ্য, ১৫৩১ খ্রিস্টাব্দে ঠাকুর নরোত্তম দাস তৎকালীন গড়েরহাট পরগণার অন্তর্গত বর্তমানের গোদাগাড়ী উপজেলার খেতুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জমিদার কৃষ্ণ নন্দদন্ত দাস, মা নারায়ণী রাণী। গোপালপুরে শৈশব অতিবাহিত করে ঠাকুর শ্রী শ্রী নরোত্তম দাস বৃন্দাবন অভিমুখে যাত্রা করেন। সেখানে নিখিল বৈষ্ণবকুল লোকনাথ গোস্বামীর শিষ্যত্বগ্রহণ করে ধর্মীয় দীক্ষা লাভ করেন। পরে তিনি খেতুরে ফিরে আসেন। খেতুর মন্দিরে গড়ে তোলেন স্থাপনা। এরপর তিনিই প্রথমে এখানে এ উৎসবের আয়োজন করেন। ভক্তরা দূর-দূরান্ত থেকে তার কাছে এসে দীক্ষাগ্রহণ করতে শুরু করেন।

    ১৬১১ খ্রিস্টাব্দের কার্তিকী কৃষ্ণা পঞ্চমী তিথিতে ঠাকুর শ্রী শ্রী নরোত্তম দাসের দেহ সাদা দুধের মতো তরল পদার্থে পরিণত হয়ে গঙ্গাজলে মিলিয়ে যায়। তখন থেকেই নরোত্তমের কৃপা লাভের আশায় প্রতিবছর বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীরা খেতুরীধামে তার তিরোভাব তিথি মহোৎসবে মিলিত হন। দিনে দিনে তার ভক্তের সংখ্যা বাড়ছে।

    মোঃ হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

  • সুজানগরে ৫২তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

    সুজানগরে ৫২তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

    এমএ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ ‘সমবায়ে গড়ছি দেশ,স্মার্ট হবে বাংলাদেশ’-এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সুজানগরে পালিত হয়েছে ৫২তম জাতীয় সমবায় দিবস। এ উপলক্ষ্যে শনিবার(০৪ নভেম্বর) সকালে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের অংশগ্রহনে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি স্থানীয় বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের স ালনায় জাতীয় সমবায় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ মর্জিনা খাতুন। অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মাহে আলম ও উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আব্দুস ছাত্তার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমবায় অফিসার মো.দেলোয়ার হোসেন(বিদ্যুৎ)। সুজানগর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় দপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠানে নাজিরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাদের হোসেন, এন এ কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক আবুল হাশেম, আ.লীগ নেতা কুতুব উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ইউনুস আলী বাদশা, সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক রাজা হাসান, সদস্য মাহমুদ্দুজ্জামান মানিক, দৈনিক যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি এম এ আলিম রিপন,যায়যায়দিন প্রতিনিধি এম মনিরুজ্জামান, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশের কৃষিসহ অন্যান্য উৎপাদনে বিনিয়োগ, উৎপাদিত পণ্যের বিপণন ও ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠির জীবনমানের উন্নয়নে সমবায় খুবই কার্যকরী পদ্ধতি। উন্নত বাংলাদেশ গঠনের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সমবায় আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন । এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিবৃন্দ জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলন করেন।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • নড়াইলে অপরিচিত পাগলা কুকুরের কামড়ে ৭ জন আহত

    নড়াইলে অপরিচিত পাগলা কুকুরের কামড়ে ৭ জন আহত

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে পাগলা কুকুরের কামড়ে প্রায় সাতজন আহত। এক ঘন্টার ব্যবধানে নড়াইলে অপরিচিত পাগলা কুকুরের কামড়ে প্রায় ৭ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (০৪ নভেম্বর) দুপুরে মাইজপাড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাইজপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জসিম উদ্দিন।

    স্থানীয় সূত্রে থেকে জানাযায়, মাইজপাড়া বাজারের মিষ্টি দোকানদার পরাণ কুন্ডু (৪০)কে ওই অপরিচিত পাগলা কুকুরটি কামড়ে দিয়ে দৌঁড়ে চলে যায়। তাৎক্ষণিক বাজারে আকঙ্ক সৃষ্টি হয়। এরপর ওই কুকুরটি আরও ৩/৪ জনকে এ বাজার থেকে কামড়ে দৌঁড়িয়ে ছুটে যায় অন্য গ্রামে।

    এরপর চারিখাদার গ্রামের ওই অপরিচিত কুকুরটি ডুকে সৈয়দ তাছিম বিল্লাহ (১২) নামের এক স্কুল পড়ুয়া ছেলে দুপুরে গোসল সেরে সে বারান্দায় দাড়িয়ে কাপড় পাল্টাচ্ছিল, এমন সময় ওই পাগলা কুকুরটি এসে তার হাত কামড় দেয়। একই গ্রামের মো: আনজার মোল্যা (৫০) এর পা ও হাতের মাংশ ছিড়ে নেয় ওই পাগলা কুকুরটি। আনজার মোল্যাকে যখন কুকুর কামড়াচ্ছিলো তখন তার স্ত্রী বেবী (৪০) দৌঁড়িয়ে কুকুরকে ধাওয়া দিতে গেলে তিনি নিজেই ওই কুকুরের আক্রমনের স্বীকার হন এবং কুকুর তার হাত কামড়ে দিয়ে দৌঁড়িয়ে পালিয়ে যায়।

    তাৎক্ষণিক কুকুরের আক্রমনের স্বীকার ব্যক্তিরা নড়াইল সদরহাসপাতাল এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়।

    নড়াইল সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়া সকলেই আগামিকাল ০৫ নভেম্বর ২০২৩ তারিখ দুপুর ২টার দিকে পুনরায় হাসপাতালে এসে ভ্যাক্সিন নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

  • নড়াইলে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার ১

    নড়াইলে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার ১

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইলে ৩০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেফতার একজন। মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত সোহরাব খাঁ (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত সোহরাব খাঁ (৪৫) লোহাগড়া থানার গোপিনাথপুর গ্রামের ইকলাস খাঁ এর ছেলে। শনিবার (৪ নভেম্বর) ভোররাতে লোহাগড়া পৌরসভাধীন ৬নং ওয়ার্ড গোপিনাথপুর ব্যাপারীপাড়া সাকিনস্থ ঋষিপাড়া নদীর ঘাটের সামনে হতে পলায়নকালে তাকে আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন এর তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ মামুনুর রহমান, এএসআই (নিঃ) মোঃ মিকাইল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে সোহরাব খাঁ কে গ্রেফতার করে। এ সময় ধৃত আসামী সোহরাব খাঁ এর নিকট থেকে ত্রিশ পিচ অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ সংক্রান্তে নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নড়াইল জেলার পুলিশ সুপার মোসাঃ সাদিরা খাতুন নির্দেশনায় মাদকমুক্ত নড়াইল গড়ার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

  • তানোরে ইউপি আওয়ামী লীগের প্রস্ত্ততি সভা

    তানোরে ইউপি আওয়ামী লীগের প্রস্ত্ততি সভা

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরের তালন্দ ইউনিয়ন (ইউপি) আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বর্ধিতসভা সফল করার লক্ষ্যে প্রস্ত্ততি সভা আয়োজন করা হয়েছে। জানা গেছে, ৪ নভেম্বর শনিবার ইউপি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এবং ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক আবুল হাসানের সঞ্চালনায় তালন্দ ইউপি ভবন চত্ত্বরে আয়োজিত প্রস্ত্ততি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না। অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন তালন্দ ইউপি চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন বাবু, ইউপি যুবলীগের সভাপতি মুকলেসুর রহমান ও সম্পাদক মইফুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও ইউপির ৯টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্ত্ততি কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৬ নভেম্বর তালন্দ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বর্ধিতসভা আয়োজন করা হয়েছে।#

  • র‌্যাব-১২’র অভিযানে রাষ্ট্র বিরোধী মামলায় ১ জন আসামি গ্রেফতার

    র‌্যাব-১২’র অভিযানে রাষ্ট্র বিরোধী মামলায় ১ জন আসামি গ্রেফতার

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন, এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।

    গত ০৩ নভেম্বর ২০২৩ খ্রি. তারিখ র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানীর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানার মামলা নং-০২, তাং-০২/১১/২০২৩ খ্রি., ধারায়-১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) সংক্রান্তে রাষ্ট্র বিরোধী নাশকতামূলক সন্ত্রাসী মামলার সন্দেহভাজন আসামি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানাধীন ক্ষীরতলা বাজার এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে গত ০৩ নভেম্বর ২০২৩ তারিখ রাত্রি আনুমানিক ২২.২০ ঘটিকায় উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রাষ্ট্র বিরোধী নাশকতামূলক সন্ত্রাসী মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি মোঃ কাজিম উদ্দিন (৫৫), পিতা-মৃত জিল্লার রহমান, সাং-ক্ষীরতলা, থানা-রায়গঞ্জ, জেলা-সিরাজগঞ্জকে গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য যে, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ কর্তৃক সারা দেশে গত ২৯ অক্টোবর ২০২৩ তারিখ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল এবং ৩১ অক্টোবর হতে ০২ নভেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত ৭২ ঘন্টার অবরোধ চলাকালে ধৃত আসামি সহ আরও অন্যান্য আসামিগণ সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানাধীন তবারীপাড়া হাইওয়ে রোডে অবস্থান করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্তর্ঘাতী কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে হরতালের সমর্থনে মিছিল, পিকেটিংসহ হাতে লাঠি-সোটা, লোহার রড ও বিভিন্ন ধরণের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের কর্মক্ষমতা দুর্বল করার নিমিত্তে ইট, পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ট্রাকে পেট্রোল ছিটিয়ে ১টি গম বোঝাই ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে। উক্ত আসামি বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে একই উদ্দেশ্যে অন্তর্ঘাতমূলক কার্য সম্পাদনসহ সরকারী কাজে বাধা প্রদান করে মর্মে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। এই ঘটনা সংক্রান্তে অগ্নিদ্বগ্ধ ট্রাকের মালিক মোঃ সাইদুল ইসলাম (৩০), পিতা- মোঃ আবুল হোসেন, সাং-শালগ্রাম, থানা-আদমদীঘি, জেলা-বগুড়া সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানায় উপরোল্লেখিত মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। র‌্যাবের সাহসী অভিযানের মাধ্যমে এই গ্রেফতারের ফলে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

    মোহাম্মদ ইলিয়াস খান

    স্কোয়াড্রন লীডার

    কোম্পানী কমান্ডার

    র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানী, সিরাজগঞ্জ।

    ফোন-০১৭৭৭৭১১২৫৮

  • র‌্যাব-১২’র অভিযানে ৪৮০ বোতল ফেন্সিডিল সহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার

    র‌্যাব-১২’র অভিযানে ৪৮০ বোতল ফেন্সিডিল সহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন, এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামী গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।

    ১। এরই ধারাবাহিকতায় মোঃ মারুফ হোসেন পিপিএম, অধিনায়ক র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর দিকনির্দেশনায় অদ্য ০৪ নভেম্বর ২০২৩ খ্রিঃ ১২.৪০ ঘটিকায় র‌্যাব-১২’র সদর কোম্পানীর একটি চৌকষ আভিযানিক দল “সিরাজগঞ্জ জেলার বঙ্গবন্ধু সেতু টোলপ্লাজা এলাকায়” একটি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৪৮০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ০২ জন মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তাদের সাথে থাকা মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত ০২টি মোবাইল ফোন, নগদ ১,৫০০ টাকাসহ ০১টি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়।

    ২। গ্রেফতারকৃত আসামি ১। মোঃ জাবের আলী (৩৩), পিতা-মৃত উসমান আলী, সাং-বালিয়াচন্ডি পাইকুড়া, থানা-ঝিনাইগাতী, ২। মোঃ রাজু মিয়া (২৮), পিতা-মৃত হায়দার আলী, সাং-মীরগঞ্জ, থানা-সদর, উভয় জেলা-শেরপুর।

    ৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামিদ্বয় দীর্ঘদিন যাবৎ লোকচক্ষুর আড়ালে সিরাজগঞ্জ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কাভার্ড ভ্যান যোগে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিলো।

    ৪। গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়ের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ জেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    এ ধরণের মাদক উদ্ধার অভিযান সচল রেখে মাদকমুক্ত সোনার বাংলা গঠনে র‌্যাব-১২ বদ্ধপরিকর।

    র‌্যাব-১২ কে তথ্য দিন – মাদক , অস্ত্রধারী ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিন।

    মোহাম্মদ ইলিয়াস খান

    স্কোয়াড্রন লীডার

    কোম্পানী কমান্ডার

    র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানী, সিরাজগঞ্জ।

    ফোন-০১৭৭৭৭১১২৫৮