Blog

  • আগৈলঝাড়ায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় ও গাছের চাড়া রোপন

    আগৈলঝাড়ায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় ও গাছের চাড়া রোপন

    বি এম মনির হোসেনঃ-

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময়সভা করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী) আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ -এমপি। ৪ নবেম্বর
    শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে মতবিনিময় সভা করেন মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।এ সময় প্রধান অতিথি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিজয় পুনরায় নিশ্চিত করতে সকল ভেদাভেদ ভুলে সকল নেতা-কর্মীতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
    সভায় ধৈর্য্যধরে দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন অভিযোগ-অনুযোগ শোনেন তিনি। ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের সাথে জনপ্রতিনিধিদের মতানৈক্য, ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দর সাথে আভ্যন্তরীণ মনোমালিন্যও নিরসন করেন তিনি। এসময় মন্ত্রী স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন প্রচার ও আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাবার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা, সুবিধা শুনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করতে ৬ নবেম্বর বাকাল ইউনিয়নের কোদালধোয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭ নবেম্বর বাগধা ইউনিয়নের নাঘিরপাড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৮ নবেম্বর রত্নপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৯ নবেম্বর গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিকেল তিনটায় দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সম্পাদক ও দলীয় মেম্বরদের নিয়ে সাংগঠনিক সভা করার নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। মন্ত্রী বিএনপি-জামাতের দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও অপরাজনীতি ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান।
    সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সেরনিয়াবাত মঈন আবদুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ, উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিযাবাত,
    উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন,
    মন্ত্রীর একান্ত সচিব মোঃ খায়রুল বশার, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুনীল কুমার বাড়ৈ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মোঃ লিটন সেরনিয়াবাত, আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলম চাঁদ,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মলিনা রানী রায়,ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম তালুকদার, জেলা পরিষদ সদস্য পেয়ারা ফারুক বক্তিয়ার, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার, আমিনুল ইসলাম, বাবুল ভাট্টি, বিপুল দাস, শফিকুল হোসেন টিটু, উপজেলা ছাত্র লীগ সভাপতি মোঃ মিন্টু সেরনিয়াবাত, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন পাইক, রাজিহার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুরাদ হোসেন শিকদার, বাকাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম পাইকসহইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকগন।পরে মন্ত্রী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন এর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে নির্মিত দৃষ্টিনন্দিত ফুলের বাগানে ফুল গাছের চাড়া রোপণ করেন।

  • আগৈলঝাড়া ৫টি ইউনিয়নের  জাতীয় শ্রমিক লীগের কমিটির অনুমোদন

    আগৈলঝাড়া ৫টি ইউনিয়নের জাতীয় শ্রমিক লীগের কমিটির অনুমোদন

    বি এম মনির হোসেনঃ-

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের নেতা-কর্মীদের আরও সু-সংহত করতে জাতির পিতার ভাগ্নে, মন্ত্রী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র নির্দেশনায় বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের জাতীয় শ্রমিক লীগের আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দরা দক্ষিণ বাংলার রাজনৈতিক অভিভাবক মন্ত্রী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আবুল কাশেম সরদার ও সাধারণ সম্পাদক রবিবার সন্ধ্যায় ছরোয়ার দাড়িয়া স্বাক্ষরিত রাজিহার, বাকাল, বাগধা, গৈলা ও রত্নপুর ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের আংশিক কমিটি অনুমোদন করেছেন।অনুমোদিত কমিটি ঘোষণার সময় উপস্থিত বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ, আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মোঃ লিটন সেরনিয়াবাতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।শ্রমিক লীগের অনুমোদিত ইউনিয়ন কমিটিতে রাজিহার ইউনিয়নে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মনোতোষ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক রবিউল করিম। বাকাল ইউনিয়নে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ জামাল ফকির, সাধারণ সম্পাদক সমীর পান্ডে। বাগধা ইউনিয়নে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নারাযণ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাবুল বখতিয়ার। গৈলা ইউনিয়নে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ বাবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শংকর বিশ্বাস।রত্নপুর ইউনিয়নে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন প্রদীপ সরকার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুমন মৃধা। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলা শ্রমিক লীগের বিশেষ বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ি ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ সেপ্টম্বর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে শ্রমিক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

  • প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদক পেল ঘাটাইলের অন্বেষা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড

    প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদক পেল ঘাটাইলের অন্বেষা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড

    ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :
    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপির কাছ থেকে স্বর্ণপদক ও সম্মাননা সনদ নেন অন্বেষা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো.আব্দুছ ছাত্তার।

    জাতীয় সমবায় দিবসে শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি হিসেবে স্বর্ণপদক পেয়েছে ঘাটাইল অন্বেষা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড । ৫২তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে বহুমুখী সমবায় শ্রেণিতে শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতির এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপির কাছ থেকে গত শনিবার (৪ নভেম্বর) অন্বেষা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষে স্বর্ণপদক ও সম্মাননা সনদ গ্রহণ করেন অন্বেষা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো.আব্দুছ ছাত্তার।

    অন্বেষা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড ৩৫ বছরের স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদক ও সম্মাননা সনদ পেল প্রতিষ্ঠানটি।

    জাতীয় সমবায় দিবসে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে অন্বেষা বহুমুখী সমবায় সমিতির লিমিটেড স্বর্ণপদক ও সম্মাননা সনদ প্রাপ্তি বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ হুমায়ূন কবির বলেন, প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদক ও সম্মাননা সনদ প্রাপ্তি অন্বেষা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের জন্য একটি গর্ব ও অহংকারের বিষয়। বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনের ইতিহাসে আগামীদিনেও অন্বেষা অনব্দ ভুমিকা পালক করবে বলে আমি আশা করছি।

    মোঃ রায়হান মিয়া
    ঘাটাইল টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

  • সিগারেট কোম্পানির অপতৎপরতা বন্ধে নলছিটিতে সংবাদ সম্মেলন

    সিগারেট কোম্পানির অপতৎপরতা বন্ধে নলছিটিতে সংবাদ সম্মেলন

    ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    ২০৪০ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশকে তামাকমুক্ত করতে নানা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্র নিকোটিন-নির্ভর বিকল্প পণ্যসমূহ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে বাজারজাতকরণের সুপারিশ করেছেন দেশি ও আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নীতিপ্রণেতারা। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও ধূমপানের ক্ষতি হ্রাসের জন্য প্রচলিত সিগারেটের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরামর্শ দেন ।

    সোমবার (০৬ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় নলছিটি প্রেসক্লাবে “তামাকমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষমাত্রা অর্জনে তামাক কোম্পানীর হস্তক্ষেপ” সিগারেট কোম্পানির অপতৎপরতা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এবং মিতু সেতু এডুকেশন এন্ড চ্যারিট্যাবল সোসাইটি ঝালকাঠি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

    নলছিটি মডেল সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও নলছিটি প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: খলিলুর রহমান মৃধার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মানব সেবার নির্বাহী পরিচালক মো: রেজাউল গাজী,
    সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম পলাশ, এম এ হাসান প্রমুখ।
    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রভাষক মো: আমির হোসেন।

  • শীত মৌসুমে মৎস্য আহরণে জেলেদের সমুদ্রযাত্রা শুরু

    শীত মৌসুমে মৎস্য আহরণে জেলেদের সমুদ্রযাত্রা শুরু

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা, খুলনা।।
    শীত মৌসুমে মৎস্য আহরণে জেলেদের সমুদ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে দুবলার চরের শুঁটকি মৌসুম। জীবনের ঝুঁকি ও ঋণের বোঝা নিয়ে মৎস্য আহরণে সমুদ্রে যাত্রা করছে জেলেরা। জেলেরা সমুদ্রে মৎস্য আহরণকে ঘিরে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে । ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় জীবনের ঝুকি নিয়ে চলেছে উপকূলের জেলে ও মহাজনেরা। সাগরে যেতে যে যার মত প্রস্তুত করছেন জাল, দড়ি, নৌকা-ট্রলার। কেউ কেউ গড়ছেন নতুন ট্রলার, আবার কেউ পুরাতন নৌকা মেরামত করে নিয়েছেন। প্রস্তুতি অনুযায়ী অনেকেই আগেভাগে রওনা দিয়েছেন।দুবলার চর বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের দক্ষিণে, কটকার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং হিরণ পয়েন্টের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত একটি দ্বীপ যা চর নামে হিন্দুধর্মের পূণ্যস্নান, রাসমেলা এবং হরিণের জন্য বহুল পরিচিত। কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝে এটি একটি বিচ্ছিন্ন চর। এই চরের মোট আয়তন প্রায় ৮১ বর্গমাইল। আলোরকোল, হলদিখালি, কবরখালি, মাঝেরকিল্লা, অফিসকিল্লা, নারকেলবাড়িয়া, ছোট আমবাড়িয় এবং মেহের আলির চর নিয়ে দুবলার চর গঠিত।দুবলার চরে তৈরি হয় জেলে গ্রাম। মাছ ধরার সঙ্গে চলে শুঁটকি শোকানোর কাজ। বর্ষা মৌসুমের ইলিশ শিকারের পর বহু জেলে চার মাসের জন্য সুদূর কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ, বাগেরহাট, পিরোজপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা থেকে ডেরা বেঁধে সাময়িক বসতি গড়ে সেখানে। মেহেরআলীর খাল, আলোরকোল, মাঝেরচর, অফিসকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া, মানিকখালী, ছাফরাখালী ও শ্যালারচর ইত্যাদি এলাকায় জেলে পল্লী স্থাপিত হয়। এই চার মাস তারা মাছকে শুঁটকি বানাতে ব্যস্ত থাকেন। এখান থেকে শুঁটকি চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জের পাইকারী বাজারে মজুদ ও বিক্রয় করা হয়।
    সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগ থেকে মাছ সংগ্রহের অনুমতি সাপেক্ষে বহরদার ও জেলেরা দুবলার চরে প্রবেশ করে থাকেন। দুবলার চর থেকে সরকার নিয়মিত হারে রাজস্ব পেয়ে থাকে। প্রতি বছর বিএলসি বা বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট, ডিএফসি বা ডেইলি ফুয়েল (জ্বালানি কাঠ) কন্‌যাম্পশন ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় বন বিভাগকে রাজস্ব প্রদান করে মৎস্য ব্যবসায়ীগণ সুন্দরবনে ঢোকার অনুমতি পান, এছাড়া আহরিত শুঁটকি মাছ পরিমাপ করে নিয়ে ফিরে আসার সময় মাছভেদে প্রদান করেন নির্ধারিত রাজস্ব।
    খুলনা জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে পলি জমে ভরাট হওয়ায় শুধুমাত্র সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে ও নানা প্রতিকূলতায় ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারেনি জেলে পরিবারগুলো। বরং দিন দিন তাদের অবস্থার অবনতি ঘটেছে। ক্রমবর্ধমান ক্ষতির মুখে ইতোমধ্যে পূঁজি ও জাল-নৌকা হারিয়ে পেশা হারিয়েছেন অনেকে। আবার অনেকে চড়াহারে মহাজনদের সুদের মাশুল গুণে এ পেশায় টিকে থাকার জন্য কঠোর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ তফশীলি ব্যাংক থেকে জেলেদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করার কথা থাকলেও বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দেওয়ায় তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। উপজেলার বোয়ালিয়া জেলে পল্লীর বাসিন্দা শিতেনাথ বলেন, প্রতি বছর আমরা মহাজনসহ বিভিন্নভাবে ঋণ করে সমুদ্রে যাই। সরকারিভাবে আমরা তেমন কোন সাহায্য সহযোগীতা পাই না। সুন্দরবনে জলদস্যু-বনদস্যুর উৎপাত ও মুক্তিপণ আদায়সহ আসাধু বনরক্ষীদের দৌরাত্ম্য কিছুটা বন্ধ হলেও এখনও সীমাহীন সমস্যায় মধ্যে থাকতে হয় আমাদের।
    জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রতিবছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র থেকে মাছ ধরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব সরকারকে দেই। কিন্তু আমরা সহজ শর্তে কোন ঋণ পাই না। জেলেদের সকল সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণসহ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

  • পাইকগাছায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা,খুলনা।।
    পাইকগাছা উপজেলার আগড়ঘাটা নদীতে নৌকা বাইচের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শনিবার (৪ই নভেম্বর) শেষ বিকালে পাইকগাছা উপজেলার আগড়ঘাটা কপোতাক্ষ নদের বুকে শিলেমানপুর যুব সংঘের উদ্যোগে এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে , নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত ৪টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি নৌকায় ৩০/৩৫ জন মাঝি বৈঠা হাতে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। উক্ত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় তালার ” কপোতাক্ষ তুফান” প্রথম স্থান অধিকার লাভ করে। দ্বিতীয় স্থান অধিকার লাভ করেন, চুকনগর এক্সপ্রেস ও তৃতীয় স্থান লাভ করেন তালার চরের পঙ্খিরাজ।
    উক্ত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কপিলমুনি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল মান্নান সানা।যুবলীগ নেতা মোঃ ফারুক হোসেনের স ালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কপিলমুনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়ারদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস, কপিলমুনি ইউনিয়ন আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সরদার বজলুর রহমান, কপিলমুনি ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ইকবাল হোসেন খোকন, উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ ছোরমান গাজী।
    উপস্থিত ছিলেন, শিলেমানপুর যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাধন বিশ্বাস, কপিলমুনি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সংকর কুমার ঢালী, খুলনা জেলা মহিলা আ’লীগের সদস্য নাজমা কামাল, শেখ জুলি ও নিবেদিতা মন্ডল, পাইকগাছা উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ফাতেমাতুজ জহুরা রুপা, শিলেমানপুর যুব সংঘের মোঃ শাহিনুর রহমান মালি, মোঃ জামাল মোড়ল, মোঃ আশরাফ গাজী, মোঃ রবিউল ইসলাম, মোঃ মুজিবর সানা, মোঃ আমিরুল গাজী, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ ইয়াচ উদ্দিন গাজী, মোঃ মামুন গাজী, মোঃ শহর গাজী, মোঃ জসিম মোড়লসহ বিভিন্ন উপজেলা হতে আগত হাজার হাজার দর্শক, সাংবাদিক বৃন্দ, থানা প্রশাসন, সুশীল সমাজ প্রমুখ।

    ইমদাদুল হোক
    পাইকগাছা খুলনা।

  • শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে- এমপি-ফিরোজ কবির

    শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে- এমপি-ফিরোজ কবির

    এম এ আলিম রিপন ঃ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মান ভালো করতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির। রবিবার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং জেলা পরিষদের সদস্য ও অত্র বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ আহম্মেদ ফররুখ কবীর বাবুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির আরও বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে মূখস্ত বিদ্যাকে বাদ দিয়ে সরকার যে আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত বাস্তবমুখী ও সৃজনশীল পাঠদান শিক্ষাক্রম চালু করেছে তা প্রশংসনীয়। এই আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগতসহ বাস্তবমুখী সৃজনশীল পদ্ধতির শিক্ষা ব্যবস্থা আগামী প্রজন্মকে উন্নত ও দক্ষ শিক্ষায় শিক্ষিত করে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। উদ্বোধনী বক্তব্যে পাবনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.স.ম আব্দুর রহিম পাকন বলেন, একটা সফল পরিবার গঠনের মূল হাতিয়ার হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে,আদর্শবান, চরিত্রবান ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। মানুষের জীবনকে করে কল্যাণমুখী ও কর্মমুখী। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের নিয়ে এ ধরণের সমাবেশ সত্যিকার অর্থে বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মানকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্যে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.তরিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তোমাদের দিকে দেশ তাকিয়ে থাকবে। তোমরা এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন কিছু করো যাতে ভবিষ্যতে তোমরা তোমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করে প্রকৃত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারো। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সুজানগর পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজা,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো.সোলাইমান হোসেন,উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার নাজমুল হোসেন ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মনোয়ার হোসেন। অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সাতবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল বাছেত বাচ্চু ও অভিভাকদের মধ্যে মাহফুজ প্রমুখ। এর আগে শুরুতেই শিক্ষার মান বজায় রাখতে অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করে স্বাগত বক্তব্য দেন সাতবাড়িয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • নড়াইলে সড়ক দূর্ঘ*টনায় পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরার ড্রাইভার নি*হত, মেয়রসহ আহত ৩

    নড়াইলে সড়ক দূর্ঘ*টনায় পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরার ড্রাইভার নি*হত, মেয়রসহ আহত ৩

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    সড়ক দূর্ঘটনায় নড়াইল পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরার ড্রাইভার সুজন কর্মকার নিহত এবং মেয়র, এক কাউন্সিলরসহ ৩জন আহত হয়েছেন। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, রোববার (৫নভেম্বর) দুপুরে নড়াইল পৌর এলাকার ভওয়াখালী নামক স্থানে এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুজন (৩৮) শহরের মহিষখোলা এলাকার নিরাপদ কর্মকারের পূত্র। গাড়ীতে থাকা আহত অন্যরা হলেন কাউন্সিলর ইপি রাণী বিশ^াস, নড়াইল পৌর যুবলীগের সহ-সভাপতি যুবলীগ নেতা মেশকাতুল ওয়ায়েজিন লিটু এবং নড়াইল পৌরসভার একাউন্টেন্ট সাইফুজ্জামান লিন্টু।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ওবাইদুর রহমান।
    আহত সাইফুজ্জামান লিন্টু জানান,বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে নড়াইল পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আঞ্জুমান আরা গাড়ীতে ৫নং ওয়ার্ডের বাহিরডাঙ্গায় সুইপার কলোনির জায়গা পরিদর্শন করে পৌরসভায় ফিরছিলেন। ভওয়াখালী এলাকার লাবু বিশ্বাসের বাড়ীর পাশে গাড়ীটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে একটি বাড়ীর দেয়ালে ধাক্কা দিলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেয়রের ড্রাইভার সুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মেয়রকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর কুইন্স হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া অপর ২ জনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
    এদিকে মেয়র আঞ্জুমান আরার এ দূর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী,মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ হাসপাতালে দেখতে আসেন।

  • পুলিশ সদস্যকে নি*র্মম হ*ত্যা বিচারের দাবিতে মোরেলগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন

    পুলিশ সদস্যকে নি*র্মম হ*ত্যা বিচারের দাবিতে মোরেলগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট : :স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পুলিশ সদস্য আমিরুল ইসলাম পারভেজকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা ও নগ্ন হামলার জড়িতদের দ্রæত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন মোরেলগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সন্তানেরা।
    রবিবার বেলা ১১ টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের বিজয় স্তম্ভ চত্ত¡রে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের মোরেলগঞ্জ শাখার আয়োজনে প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন যুদ্ধ কালিন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লিয়াকত আলী খান। বক্তৃতা করেন বাগেরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের সভাপতি মো. মাসুম হাওলাদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার তৈয়েবুর রহমান সেলিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবি ছিদ্দিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আশ্রাব আলী শেখ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সন্তান কমান্ডের সহ-সভাপতি রনি, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড নেতা আব্দুল হালিম হাওলাদার,মামুনুর রহমান, সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। সভা পরিচালনা করেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম।

    সভায় বক্তারা বলেন, ২৮ তারিখের সমাবেশের নামে বিএনপি -জামায়াত সন্ত্রাস নৈরাজ্য করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পুলিশ সদস্য আমিরুল ইসলাম পারভেজকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। একই সাথে দেশ বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে মুক্তিয্দ্ধোা সন্তানদেনর ঐক্যব থাকার আহবান জানান। #

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির
    বাগেরহাট সংবাদদাতা:

  • সুন্দরবনে বাঘ গননা শুরু, উদ্ধোধন করলেন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার

    সুন্দরবনে বাঘ গননা শুরু, উদ্ধোধন করলেন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার

    মোংলা প্রতিনিধি
    সুন্দরবনের অনেক বন্যপ্রাণীই এখন আর চোখে পড়েনা, অনেক প্রাণী ইতিমধ্যেই বিলুপ্তি হয়ে গেছে, আরো প্রায় বিলুপ্তির পথেও রয়েছে অনেক প্রাণী। তবে এ বিলুপ্তির পথে নেই বনের রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগার। প্রতি বছরই বাঘের সংখ্যা বাড়ছে বলে বনবিভাগের জরিপে উঠে আসছে। এদিকে সুন্দরবনে আবারো নতুন করে বাঘের সংখ্যা জানতে শুরু হয়েছে গননার কাজ। এ বাঘ গননা কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার। রবিবার (৫নভেম্বর) দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের হাড়বাড়ীয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে বাঘ গননার উদ্ধোধন করা হয়। এ সময় উপমন্ত্রী বলেন, বাঘ বাচলে সুন্দরবন বাচবে, আর সুন্দরবন বাচলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশ বাচবে। তাই সকলকে মিলেই বাঘ ও সুন্দরবন সুরক্ষা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এবার তৃতীয়বারের মতো বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় বাঘ গননার কাজ শুরু করা হয়েছে। ৫নভেম্বর সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগে বাঘ গননা শুরু হয়, যা শেষ হবে আগামী বছরের এপ্রিলে। আর চলতি বছরের জানুয়ারীতে শুরু হয়ে সম্পন্ন হয়েছে সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের বাঘ গননা। এ গননার ফলাফল আগামী বছরের ২৯জুলাই বাঘ দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
    বাঘ গননার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারের সাথে ছিলেন খুলনাঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো, বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক ড. আবু নাসের মহসিন হোসেন, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের (খুলনা) বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল, সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মোঃ নুরুল করিম, চাঁদপাই রেঞ্জের (মোংলা) সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) রানা দেব ও করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবিরসহ বাঘ গননার কাজে বিশেষজ্ঞরা।
    পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জের বনের অভ্যন্তরে ক্যামেরা বসিয়ে বাঘের সংখ্যা নির্ণয় করা হবে এবং সুন্দরবনে কতগুলো বাঘ রয়েছে তার সংখ্যা আগামী বছরের ২৯জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবসে ঘোষণা করা হবে। এ তথ্য দিয়ে বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক ড. আবু নাসের মহাসিন হোসেন জানান, ২০১৩ইং-২০১৪ইং সালে প্রথম সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণ ও জরিপ কাজ শুরু হয়। ২০১৫সালের সেই জরিপে ১০৬টি বাঘ সুন্দরবনে আছে বলে জানা যায়। এরপর ২০১৮সালে জরিপ চালিয়ে ১১৪টি বাঘের তথ্য পাওয়া যায়। এখন বাঘের সেই সংখ্যা কমেছে, নাকি বেড়েছে তা জানতে নতুন করে রবিবার (৫নভেম্বর) থেকে জরিপ চালানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। আগামী বছরের এপ্রিল মাসে এই জরিপ কাজ শেষ হবে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই ও শরনখোলা রেঞ্জে ৩০০টি ষ্টেশনের প্রতিটিতে দুইটি করে মোট ৬০০টি ক্যামেরা বসিয়ে বাঘের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে। পরে তা বিশ্লেষণ শেষে ২০২৪সালের ২৯জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবসে বাঘের প্রকৃত সংখ্যা তুলে ধরা হবে। ‘বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পে’র আওতায় বাঘ গননার কাজে ২কোটি ৭০লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
    ড. আবু নাসের মহসিন হোসেন বলেন, সুন্দরবনে বাঘের শিকার প্রাণীর সংখ্যা বাড়ছে। গত বছর এর সংখ্যা ছিল ৮২হাজার। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১লাখ ৪২হাজার। তাই সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়বে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
    বনবিভাগ জানায়, বাঘ গননার বৈশ্বিক যে পদ্ধতি সেটা হলো ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতি। এর মাধ্যমে বাঘের ঘনত্ব নির্ণয় করে বাঘের সংখ্যা নির্ণয় করা হয়। বাংলাদেশেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করে ছয় হাজার বর্গ কিলোমিটারের চার হাজার ৪০০বর্গকিলোমিটারে বাঘ গননার কাজ চালানো হবে। ক্যামেরার মাধ্যমে বাঘের মুখমন্ডল ও ডোরা কাটার ছাপ উঠে আসবে। এটা জটিল একটা পরিসংখ্যান কাজ। এ কাজ করেই বাঘের সংখ্যা বের করা হবে।