Blog

  • ঘাটাইলে চায়না জাল বিরো-ধী অভি-যানে ৬০টি জাল ধ্বং-স

    ঘাটাইলে চায়না জাল বিরো-ধী অভি-যানে ৬০টি জাল ধ্বং-স

    মো.রায়হান,
    ঘাটাইল প্রতিনিধি মোঃ রায়হান মিয়া
    ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে মা ইলিশ অভিযানে ২০২৫ চলাকালীন ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নে বল্লা বিলে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অভিযানে ৬০টি চায়না জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। জব্দকৃত জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।

    শনিবার (৪ অক্টোবর ) বিকালে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অফিসের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদুর রহমান।

    বল্লা বিলে অবৈধভাবে চায়না জাল ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় মাছের রেনু পোনা নিধন করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসন চায়না জাল বন্ধে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উদ্ধারকৃত সব জাল পরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর এই অভিযান চলবে।

    অভিযানে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, থানা পুলিশ, মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে, দেশীয় মাছের প্রজনন ও রেনু পোনা রক্ষায় এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বিএনপির ৩১ দফা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে-আব্দুল হালিম সাজ্জাদ

    বিএনপির ৩১ দফা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে-আব্দুল হালিম সাজ্জাদ

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর : বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা জনগণের মধ্যে পৌঁছে দেয়ার লক্ষে সুজানগরে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের ব্যানারে স্থানীয় উলাট বাজার চত্বরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক,সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-২ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল হালিম সাজ্জাদ।
    প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল হালিম সাজ্জাদ বলেন, বিএনপির ৩১ দফা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। এই ৩১ দফার মাধ্যমেই জনগণকে জানাতে হবে, বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে কীভাবে দেশ পরিচালিত হবে, এবং জনগণের উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ’তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা শুধু রাজনৈতিক সংস্কারের নীলনকশা নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেরও সুস্পষ্ট রূপরেখা। দুর্নীতি দমন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে ।
    তারেক রহমানর ৩১ দফা দাবি আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে জানিয়ে আব্দুল হালিম সাজ্জাদ আরো বলেন, পাবনা দুই নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের দুঃশাসনকালে নির্যাতনের শিকার হয়েছি,গ্রেপ্তার হয়েছি, জেল খেটেছি, সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মাঠে থেকে দলের নেতা কর্মী সহ শিক্ষার্থীদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছি। বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কাজ করেছি। নেতাকর্মীদের দলীয় কর্মসূচিতে চাঙা রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছি। আশা করছি, এসব বিষয় মূল্যায়ন করে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।
    তিনি আরও বলেন, নতুন সময়ের প্রত্যাশা পূরণে পাবনা-২ আসনে আমি নিঃসন্দেহে আমার দলের জন্য সেরা পছন্দ হব বলে আস্থা রাখি। আমি বিশ্বাস করি, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দলের জন্য আমার সুদীর্ঘ নিরলস পরিশ্রমের মূল্যায়ন করবে। পাবনা দুই নির্বাচনী এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। জনগণের সাথে আমার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। তৃণমূলের কর্মীরা আমার পাশে আছে। যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে পাবনা দুই নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি মডেল আসন হিসেবে গড়ে তুলব। বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করতে আমি সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই।
    মানিকহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন শেখের সভাপতিত্বে কর্মী সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান মোল্লা, সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মজিবর রহমান খান, পৌর বিএনপির সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দল বাতেন, উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক বাবু মোল্লা, বিএনপি নেতা রুহুল খান, নুরুজ্জামান শিকদার লালু, হান্নান কাজী, পান্না চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নবী মোল্লা,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ন আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি আলম মন্ডল,যুবনেতা আনোয়ার হোসেন আনাই ও আরিফ বিশ্বাস এবং এন এ কলেজ শাখা ছাত্রদল নেতা শাকিল খান প্রমুখ।

    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি ।।

  • ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমিটি অ-নুমোদনে  অনিয়ম বা-তিলের দাবিতে সংবা-দ সম্মেলন

    ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমিটি অ-নুমোদনে অনিয়ম বা-তিলের দাবিতে সংবা-দ সম্মেলন

    ঝিনাইদহ জেলা সংবাদদাতাঃ
    বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল কর্তৃক নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঝিনাইদহ জেলা কমান্ড অনুমোদনের বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলার মুক্তিযোদ্ধারা। শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ আইনজীবী সমিতির ভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ঝিনাইদহ শহীদ জিয়াউর রহমান ল কলেজের অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম মশিয়ুর রহমান। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল আলীম, গোলাম মোস্তফা লোটন, মোঃ রেজাউল ইসলাম, মোঃ ইসরাইল হোসেন, সিদ্দিকুর রহমান ও লিয়াকত আলীসহ শাতাধীক মুক্তিযোদ্ধা উপিস্থিত ছিলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, দেশের সরকার পরিবর্তন হলেও “দেশকে স্বাধীন করার জন্য জীবন বাজি রাখা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না।”অভিযোগ করা হয়, গত ৫ জুলাই কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভায় স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়, জেলা কমান্ড গঠন করতে হবে উচ্চতর ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে। যেখানে একাধিক কমিটি থাকবে, সেখানে সমঝোতা অথবা কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠনের কথা বলা হয়। এছাড়া বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিংবা অবৈধ সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে ঝিনাইদহ জেলা কমান্ড গঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

    অভিযোগে দাবী করা হয়, অনুমোদিত কমিটির ১ নং আহ্বায়ক, ২ নং যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এই তিনজনের কেউই উচ্চতর ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা নন। বরং তাঁরা বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং অবৈধ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন।এছাড়া জেলার পক্ষ থেকে চারটি কমিটি জমা দেওয়া হলেও প্রস্তাবিত তিন কমিটির কাউকে না জানিয়ে গোপনে একটি প্যানেল থেকে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ঘোষিত কমিটির আহ্বায়কের ছেলে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের নিয়ন্ত্রিত মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব। উপরন্তু ঘোষিত কমিটির ১১ সদস্যের মধ্যে রেজাউল মাষ্টার, আব্দুল ওয়াহেদ জোয়ারদার, সাহেব আলী, সিরাজুল ইসলাম, লিয়াকত হোসেন ও মসির উদ্দীন পদত্যাগ করেছেন, ফলে গঠিত ওই কমিটির কোনো বৈধতাই নেই।

    সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “বর্তমান জেলা কমান্ড অবৈধ। অবিলম্বে এ কমিটি বাতিল করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। নইলে যে কোনো পরিস্থিতির দায় কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলকেই বহন করতে হবে।”

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।

  • বাবুগঞ্জে  ১৪ লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার ও মালামাল চু-রি- সিসিটিভিতে ধ-রা দুই চো-র

    বাবুগঞ্জে ১৪ লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার ও মালামাল চু-রি- সিসিটিভিতে ধ-রা দুই চো-র

    বরিশাল বাবুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মোঃ মহিউদ্দিন খাঁন রানা>>

    বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার এয়ারপোর্ট থানাধীন পশ্চিম রহমতপুর এলাকায় এক ভাড়াটিয়া বাসায় তালা ভেঙে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারসহ প্রায় ১৪ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকার মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

    ভুক্তভোগী তরুন চন্দ্র মন্ডল (৩৬), পিতা মৃত বিজন বিহারী মন্ডল, মাতা মলিনা রানী মন্ডল, স্থায়ী ঠিকানা ঝালকাঠি জেলার গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের জুতিয়া গ্রাম। বর্তমানে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে পশ্চিম রহমতপুর এলাকার নুর কমপ্লেক্স ভবনের ৪র্থ তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। তিনি রূপালী ব্যাংক পিএলসি রহমতপুর বাজার শাখায় চাকরি করেন। ঘটনাটি ঘটেছে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল ৯টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে। ওই সময় ভুক্তভোগী ও তার স্ত্রী নিজ নিজ কর্মস্থলে এবং শ্বাশুড়ি নাতিকে নিয়ে স্কুলে ছিলেন। দুপুরে বাসায় ফিরে শ্বাশুড়ি দেখতে পান, দরজার তালা ভাঙা এবং দরজা খোলা অবস্থায়। পরবর্তীতে তরুন চন্দ্র মন্ডল বাসায় ফিরে আলমারি খুলে দেখেন স্বর্ণ ও রুপার অলংকারসহ কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে এবং বহু মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়ে গেছে। চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে উল্লেখযোগ্যঃ

    ১০ আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের লাল পলা

    এক ভরি ওজনের গলার হার এক ভরি ওজনের ২টি চেইন, ৫টি হাতের আংটি ,স্বর্ণের আয়স্তি, এক জোড়া বালা, কানের ঝুমকা, পাশা, দুল ও কান ফুল রুপার চেইন, বালা, নুপুরসহ অন্যান্য অলংকার সব মিলিয়ে চুরিকৃত মালামালের মোট বাজারমূল্য আনুমানিক ১৪,৩৭,০০০/- টাকা। চোরেরা তালা ও কড়া ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে চুরি করে এবং ভাঙা তালা ও কড়া একটি বেডরুমের বিছানার নিচে ফেলে যায়।

    সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে দুই চোর ঘটনার পর ভবনের চারপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দুইজন অজ্ঞাতনামা চোর সকাল ১০টার দিকে ঘোরাঘুরির করে এবং কিছুক্ষণ পর ভবনে প্রবেশ করে। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, তারাই চুরির সঙ্গে জড়িত, এবং ভবনের ঘেট থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। ফুটেজে চোরদের স্পষ্ট চেহারা ধরা পড়েছে, যা পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভুক্তভোগী ঘটনার পর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

    এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • পাইকগাছায় জমে উঠেছে মৌসুমী কাঁচা সুপারির হা-ট

    পাইকগাছায় জমে উঠেছে মৌসুমী কাঁচা সুপারির হা-ট

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
    খুলনার পাইকগাছায় গদাইপুর বাজারে কাঁচা সুপারি বেচা কেনার হাট জমে উঠেছে। এখন সুপারির ভরা মৌসুম চলছে। ফলে বাগান মালিক, খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতারা সুপারি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। উপজেলার গদাইপুর, আগড়ঘাটা, বাকা, নতুন বাজার, কপিলমুনিসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রচুর পরিমাণে সুপারি বিক্রি হচ্ছে। এ বছর সুপারির ফলন খুব বেশি ভাল হয়নি। ব্যবসাহীরা জানান, সুপারি পাকার শুরুতে দাম বেশী ছিলো, এখন দাম কিছুটা কমে গেছে।উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে,উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। গাছের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার ৪শতটি। গাছ প্রতি ২ থেকে ৪ কাধি সুপারির ফলন ধরে। কোন কোন গাছে সর্বনিন্মে ৫০ থেকে ১৫০ আবার কোন কোন গাছে ৫শত থেকে ৬শত সুপারি ফলন হয়। লবণাক্ত এ উপজেলার ভূমির অবস্থান উচু ও বিলান, নিচু ও বিলান জমির পরিমাণ বেশী। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মধ্যে গদাইপুর, হরিঢালী,কপিলমুনি, রাড়ুলীতে সুপারি গাছের পরিমাণ বেশী। চাঁদখালী ও পৌরসভার আংশিক এলাকায় সুপারি গাছ রয়েছে। বাকী ইউনিয়নগুলোতে গাছ নেই বললেই চলে।বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন হাটে সুপারি সরবরাহ করে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে পাইকারী সুপারি ক্রয় করে এলাকার বাইরে মোকাম গুলোতে বিক্রি করছে। তাছাড়া স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীরা সুপারি ক্রয় করে গুদামজাত করছে। যা পরে শুকিয়ে বা পানিতে মজিয়ে পরবর্তীতে বিক্রি করা হবে। গদাইপুর গ্রামের সুপারি বাগান মালিক শফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর সুপারির ফলন খুব ভাল হয়নি তবে বাজার মূল্য ভাল। স্থানীয় সুপারি ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর বাজারে সুপারির পরিমাণ কিছুটা কম। সুপারির দাম উঠানামা করেছে, প্রথমে ৭শত থেকে ৮ শত টাকা কুড়ি বিক্রি হলেও এখন ২৫০ থেকে ৩শত টাকা দরে কুড়ি বিক্রি হচ্ছে। সুপারির হিসাব অঞ্চল হিসাবে ভিন্ন। এ এলাকায় এক কুড়ি ৫৫গোন্ডা অর্থাৎ ২২০টি সুপারি। ব্যবসায়ীরা স্থানীয় হাট-বাজার থেকে পাইকারী সুপারি কিনে বড়দল, সোলাদানা, শান্তাসহ পাশ্ববর্তী হাট-বাজারের আড়ৎ গুলোতে সুপারি বিক্রয় করেন।সুপারি স্থানীয় সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। সুপারি ছাড়া পানের পূর্ণতার কথা ভাবা যায় না। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সুপারি ব্যবহার হয়। সুপারি কাঁচা, শুকনা, মজানো-ভিজা পান পাতা দিয়ে মুড়িয়ে খিলি বানিয়ে খাওয়া হয়।অনেকের আবার শুধু সুপারি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠির এক দশমাংশ সুপারি খান। শিশু, নারী ও পুরুষ সুপারি ব্যবহার করেন।এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, সুপারি এ অঞ্চলের একটি অর্থকারী গুরুত্বপূর্ণ ফসল। তাছাড়া এ এলাকার সুপারির মানও ভালো। তবে লম্বা সুপারি গাছ গুলো মরে যাওয়ায় অথবা কেঁটে ফেলায় নতুন করে সুপারির বাগান তেমন একটা গড়ে উঠছে না। তাই কৃষি অফিস থেকে নতুন করে সুপারি বাগান তৈরীর জন্য বাগান মালিক ও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা খুলনা।

  • র‍্যাবের অভি-যানে বিপুল পরিমাণ মা-দকসহ আ-টক ১

    র‍্যাবের অভি-যানে বিপুল পরিমাণ মা-দকসহ আ-টক ১

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৫, সিপিসি-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও ফেন্সিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
    জানা গেছে,গত শুক্রবার (০৩ অক্টোবর ২০২৫) দুপুরে গোপণ সংবাদের ভিত্তিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার নতুন বাররশিয়া গ্রাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব সদস্যরা। এ সময় তারা ১১৭ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ, ৮৮ বোতল ফেন্সিডিল, একটি বার্মিজ চাকু ও মাদক বিক্রির নগদ ৯২ হাজার ৭৭০ টাকা উদ্ধার করে।
    আটককৃত ব্যক্তির নাম জিহাদ আলী(১৯)।তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার নামোচাকপাড়া গ্রামের আমান আলীর পুত্র। র‍্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত বিদেশি মদের মধ্যে রয়েছে-ROYAL STAG, SUPERIOR WHISKY, SIGRAM QUALITY (৩০ বোতল), SEAGRAM’S IMPERIAL BLUE SUPERIOR GRAIN WHISKY (৩০ বোতল), BLACK DOG CENTENNARY WHISKY (৩৪ বোতল) ও VAT 69 BLENDED SCOTCH WHISKY (২৭ বোতল)।
    র‍্যাব-৫ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংস্থাটি দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ সফল অভিযান পরিচালিত হয়। উদ্ধারকৃত আলামত ও আটককৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।#

  • দোয়ারাবাজারে”অবৈ-ধ বালু উত্তোলন” মোবাইল কোর্টে দুইজনকে কা-রাদণ্ড” ২টি হ্যান্ড ট্রলিসহ বালু জ-ব্দ

    দোয়ারাবাজারে”অবৈ-ধ বালু উত্তোলন” মোবাইল কোর্টে দুইজনকে কা-রাদণ্ড” ২টি হ্যান্ড ট্রলিসহ বালু জ-ব্দ

    হারুন অর রশিদ।
    দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
    সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার চিলাই নদী থেকে ইজারা বিহীন অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে দুই যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অরূপ রতন সিংহ।

    শনিবার (৪ অক্টোবর ২০২৫) সকালে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ মোবাইল কোর্ট অভিযান দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের বালিচড়া গ্রামে বাংলাবাজার– বোগলাবাজার সড়কের পাশে চিলাই নদীর ভোলাখালী ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত হয়। অভিযানে বোগলাবাজার ইউনিয়নের বালিছড়া গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের পুত্র মিলন মিয়া (২৭) ও লাল মিয়ার পুত্র ফালান মিয়া(২৫)কে ৬ মাস করে কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে এবং ২টি হ্যান্ড ট্রলি বালু বুঝাইসহ জব্দ করা হয়েছে।

    অভিযানে দোয়ারাবাজার থানার এসআই কৌশিক উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করেন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, দোয়ারাবাজার উপজেলার ইজারাবহির্ভুত চিলাই নদীর বালিচড়া এলাকা হতে ২ জনের প্রত্যেককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, বালিচড়া গ্রাম সংলগ্ন ভোলাখালী ব্রীজ তলদেশ হতে অবৈধভাবে বালুউত্তোলনের সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • পাইকগাছায় চিংড়ী রোগ ব্যবস্থাপনা কৌশল শীর্ষক কর্মশালা অ-নুষ্ঠিত

    পাইকগাছায় চিংড়ী রোগ ব্যবস্থাপনা কৌশল শীর্ষক কর্মশালা অ-নুষ্ঠিত

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ।।

    খুলনার পাইকগাছায় চিংড়ী রোগ ব্যবস্থাপনা কৌশল শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শনিবার সকালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, লোনাপানি কেন্দ্র, পাইকগাছা, খুলনার অডিটোরিয়ামে চিংড়ী রোগ ব্যবস্থাপনা কৌশল শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস ও ইউনাইটেড স্টেটস্ ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার এর যৌথ অর্থায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত চিংড়ীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কৌশল প্রণয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উক্ত কর্মশালা আয়োজিত হয়। প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুর রহমান, মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমন্ত্রিত বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার (চিংড়ি চাষি, উদ্যোক্তা, টেকনিশিয়ান, ম্যানেজার, একুয়া ড্রাগস কোম্পানির প্রতিনিধি, গবেষক, বিজ্ঞানী) এর উদ্দেশ্য কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লোনাপানি কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কেন্দ্র প্রধান ড. মো. লতিফুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আবু সাবাহ, সহকারী অধ্যাপক, ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজ ও সফল চিংড়ী চাষী।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাকুয়াটিক এনিমেল হেলথ গ্রুপ কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন জনাব শাওন আহম্মেদ, প্রভাষক, মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন লোনাপানি কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জনাব মোঃ গোলাম মোস্তাফা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আহসান হাবিব (সেকশন ম্যানেজার, সিপি বাংলাদেশ), জিএম মিজানুর রহমান (সাংবাদিক), কমলেশ বিশ্বাস, (সিনিয়র টেকনিশিয়ান, শ্রিম্প কালচার, ইয়ন গ্রুপ), ইবরার হোসেন (টেকনিশিয়ান, সেতারা ফিস এন্ড শ্রিম্প ফার্ম), সাফুজ্জামান সাগর (পরিচালক, ব্লু-বে বাগদা ও গলদা ফার্মিং), হেলাল উদ্দিন খান (ম্যানেজার, রয়েল গ্রুপ), তারক সানা (চিংড়ী চাষী) সহ আরো অনেকে । কর্মশালায় চিংড়ী চাষীদের বাস্তব ভিত্তিক উপলব্ধি প্রকাশ, চিংড়ীর প্রধান রোগসমূহের বর্তমান অবস্থা ও ব্যবস্থাপনা কৌশলের উপর অতিথিবৃন্দ আলোচনা করেন।

    ইমদাদুল হক
    পাইকগাছা,খুলনা।

  • পাইকগাছায়  অ-নির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন

    পাইকগাছায় অ-নির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ।।

    বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাইকগাছায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে এসোসিয়েশন এর আওতাধীন কর্মচারীরা। ১ অক্টোবর থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়। সরকারি ছুটি শেষে ৪ অক্টোবর শনিবার ও অব্যাহত রয়েছে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি কর্মসূচি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রস্তাবিত মাঠ পর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়োগ বিধি সংশোধন পূর্বক স্নাতক / সমমান সংযুক্ত করে ১৪ তম গ্রেড প্রদান ও ইন সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ, টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদান, পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড প্রদান সহ ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ইপিআই এবং টিসিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন সহ সকল কার্যক্রম বন্ধ করে এসোসিয়েশন এর পাইকগাছা উপজেলা শাখা এ অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতি পালন করছে। কর্মবিরতি পালনের সময় উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশন এর উপজেলা শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সহ সভাপতি আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক তুষার সরকার, এম আজিজুর রহমান, মিজানুর রহমান, রীতা সরদার, বেবী সরদার, তরুলতা, কল্পনা বালা, নমিতা গাইন, প্রজিত রায়, সাইফুল ইসলাম, আল আমিন রেজা, রোকেয়া আক্তার, মুসলিমা খাতুন, লাইলী খাতুন ও ঝর্ণা সিকদার সহ সকল স্বাস্থ্য সহকারী।

  • ৮০ বছর থেকে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে বি-খ্যাত গোদাগাড়ীর পানিহার লাইব্রেরি

    ৮০ বছর থেকে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে বি-খ্যাত গোদাগাড়ীর পানিহার লাইব্রেরি

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ আলবার্ট আইনস্টাইন এর মতে, “লাইব্রেরির অবস্থান জানা ঠিক পাঠশালার ঠিকানা জানা মতো”
    লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার শুধু বইয়ের ভাণ্ডার নয়—এটি জ্ঞান, কল্পনা এবং স্বপ্নের এক অনন্ত জগৎ। এখানে প্রতিটি বইয়ের পাতায় লুকিয়ে থাকে নতুন এক অভিজ্ঞতা, নতুন এক শিক্ষা। এসব কথাগুলির মূল্যয়ন করে
    রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল অজপাড়াগাঁ পনিহার গ্রামে এনায়েত উল্লাহ পন্ডিত গড়ে তোলেন লাইব্রেরির যার নাম ঐতিহাসিক বিখ্যাত পানিহার লাইব্রেরি। এখানে যে কেউ এসে পাঠাগারের গ্রন্থবলির বৈচিত্র্য ও বিপুল সংখ্যা দর্শন করে বিস্মিত হবেন। কতটা ঐকান্তিক আগ্রহ এবং সাধনা থাকলে এইরূপ একটি বিরাট সংখ্যার একত্র সমন্বয় করা যায়, সে শুধু কল্পনার বিষয়।” আমরা গর্বিত জাতি, গর্ব করার মতো এখনো অনেক কিছু আছে।

    শেখ এনায়েত উল্লাহর জন্ম এই পানিহারেই‌। গ্রামটিতে যাতায়াতের জন্য আগে কোন পাঁকা সড়ক ছিল না‌। এনায়েত উল্লাহ প্রতিদিন হেঁটে যেতেন ১৩ কিলোমিটার দূরের স্কুলে। এভাবেই প্রাথমিকের পাঠ চুকিয়ে পড়াশোনা করতে যান অবিভক্ত বাংলার নবাব বাহাদুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। তিনি যখন মাইনোর (এখনকার অষ্টম শ্রেণি) পাস করেন, তখন মারা যান বাবা। এনায়েতের স্কুলজীবনও এখানেই শেষ‌‌। কিন্তু বই পাগল এনায়েতের পড়ার ঝোঁক ছাড়ে না।

    তিনি বই কিনতেন আর আলমারিতে সাজিয়ে রাখতেন। তখন গ্রামের স্বল্প শিক্ষিত মানুষও তাঁর বাড়িতে গিয়ে বই পড়া শুরু করলেন। তা দেখেই আশেপাশের কিছু মানুষকে নিয়ে এনায়েত উল্লাহ প্রতিষ্ঠা করলেন পানিহার পাবলিক লাইব্রেরি। তখনো পানিহারের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ছিল না। গ্রাম থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে ছিল বাসস্ট্যান্ড। আর ১০ কিলোমিটার দূরে ছিল রেলস্টেশন‌। তবুও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই লাইব্রেরীতে আসতেন।

    রাজশাহী থেকে বিখ্যাত ‘পানিহার লাইব্রেরী দেখতে গিয়েছিলাম গত বৃহস্পতিবার রাজশাহী এক বন্ধুর সাথে। গোদাগাড়ী যাবার পথে বসন্তপুর মোড়, রাজশাহী মহানগরী থেকে ১৭ কিঃ মিঃ, সেখান থেকে ৭/৮ কিঃমিঃ গ্রোগ্রাম ইউনিয়ন হয়ে পানিহার গ্রাম। সেখানে জরাজীর্ণ ভগ্ন লাইব্রেরী দেখে কষ্টই হয়েছিল, এক সময়কার বিখ্যাত মনীষী ও গুণীজনের পদভারে আলোকিত সেই বিখ্যাত লাইব্রেরী দেখে।

    গোদাগাড়ী উপজেলার বরেন্দ্রভূমির এক সময়কার সাঁওতাল অধ্যুষিত এলাকার পল্লীর এক নিভৃত গ্রাম পানিহার। এই গ্রামের শিক্ষানুরাগী এনায়েত উল্লাহ পন্ডিত তাঁর বাড়ির সামনে ২ শতক জমির উপর মাটির ঘর ও টিনের চালা নির্মিত দুটি ঘরে এই ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরীটি ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন।
    এই লাইব্রেরীতে বর্তমানে ত্রিশ হাজেরের মত নামী দামী দেশ বিদেশের বহু লেখকের বই রয়েছে। সাময়িকী পত্রিকা, উপন্যাস, কবিতা, বাংলা অনুবাদ,কাব্য ও কবিতা, বিশ্বকোষ, নাটক, জীবনী, রহস্য উপন্যাস, ভ্রমণ কাহিনী, ডিকেটটিভ, অর্থনীতি, উদ্ভিদ ও প্রাণী বিজ্ঞান বই ইত্যাদি।
    গোদাগাড়ীর সাঁওতাল জনপদে জন্ম নেওয়া সাঁওতাল সংগ্রামী নেতা এনায়েত মাষ্টারের পরম বন্ধু শিক্ষানুরাগী সারগাম ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে সংসদ সদস্য এল,এম,এ নির্বাচিত হলে এ লাইব্রেরীটি আরও সমৃদ্ধ হয়।

    তৎকালীন মন্ত্রী প্রভাস লাহিড়ী, ধীরেন দত্ত, আইনুদ্দীন চৌধুরী,পল্লী কবি জসিম উদ্দীন,কবি বন্দে আলী মিয়া সহ অনেক দেশ বিদেশের কবি,সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ,গবেষক এই লাইব্রেরীতে এসেছেন এবং মুগ্ধ হয়েছেন। জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদি তে এ লাইব্রেরির কথা সুন্দরভাবে তুলে ধরেণ সুন্দর উপস্থাপনার অধিকারী হানিফ সংকেত। ৫০ হাজার টাকা অনুদানও হয়েছ।
    চাঁপাই নবাবগঞ্জের নাচোলের রানী খ্যাত তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ইলা মিত্র এই গ্রামে লুকিয়ে থাকা অবস্হায় এই লাইব্রেরীতে যেতেন ও সময় কাটাতেন বলে কথিত রয়েছে।

    ১৯৭৫ সালে এনায়েত মাষ্টারের মৃত্যুর পর হতে ধীরে ধীরে এর অবকাঠামো দূর্বল হয়ে পড়ে, মাটির দেওয়াল খসে পড়ে, চালার টিনগুলো ফুটো ও মরিচাধরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে লাইব্রেরীটি এক প্রকার বন্ধ হয়ে যায়।

    পরবর্তী সরকারী ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় ও চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় লাইব্রেরীটির ছাঁদওয়ালা পাঁকাঘর নির্মাণ করে দেন। ফলে বহুকালের পুরাতন গুরুত্বপূর্ণ বই সংরক্ষনের ব্যবস্থাকরনের ফলে লাইব্রেরীটি আবারো তার পুরাতন ঐতিহ্য ফিরে পায় ঐতিহ্য আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছেন এলাকাবাসী জানান। আসুন আমরা এই লাইব্রেরীটিকে রক্ষা করি ও জ্ঞান অর্জনে ভবিষ্যত প্রজন্মকে সহায়তা করি।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ পানিহার পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই গ্রামীণ লাইব্রেরিটি একসময় ছিল শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র। প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এখানে এসে জ্ঞানের আলো ছড়াতেন। ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ—বই পড়া, আলোচনা, পাঠচক্র, প্রাণবন্ত উপস্থিতি।

    কিন্তু আজ এই লাইব্রেরিটি তার প্রাণ হারিয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয়, এটি এখন প্রায় সারাবছর বন্ধই থাকে—শুধু কোনো গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এলে সাময়িকভাবে খোলা হয়, এরপর আবার তালা ঝোলে। ধুলো পড়ে, বই অযত্নে থাকে, কোন কার্যক্রম হয় না।

    কাশিমালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শওকত আলী জানান, একটি লাইব্রেরি শুধু ভবন নয়—এটি জ্ঞান, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও চিন্তার বিকাশের স্থান। পানিহার লাইব্রেরীতে দেশ বিদেশের অনেক বিখ্যাত লোকজন এসেছেন, বিবিসি, টেলিভিশন, স্থানীয়, জাতীয় পত্রিকা, ইত্যাদিতে প্রচার করা হয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট উদ্ধোর্তন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ করি যেন লাইব্রেরীটিকে আধুনিক ডেকরেশন করে জাঁকজমকপূর্ণভাবে সচল ও কার্যকর করতে। এককই মন্তব্য করেন দিগরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান।

    লাইব্রেরীতে বইয়ের সংখ্যা এখন ৭ হাজার ৩১৫টি। এর বেশির ভাগই কলকাতা থেকে সংগ্রহ করেছিলেন শেখ এনায়েত উল্লাহ। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় নিবন্ধিত গ্রন্থাগার ৩১টি। সর্বোচ্চ ৩২ হাজার ৫৪৪টি বই আছে রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারে। এরপরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বই আছে গোদাগাড়ীর নিভৃত পল্লির সেই লাইব্রেরীতে।

    প্রতিষ্ঠাতা শেখ এনায়েত উল্লাহর জীবন প্রদীপ থেমেছে অনেক আগেই‌। কিন্তু আজও নিভৃত পল্লির জ্ঞানের আলোর প্রদীপ হয়ে আছে তাঁর প্রতিষ্ঠা করা লাইব্রেরি‌। ১৯৭৫ সালের ৯ এপ্রিল পানিহার পাবলিক লাইব্রেরি গিয়ে পরিদর্শন বইয়ে এ কথা লিখেছিলেন কবি বন্দে আলী মিয়া‌‌।

    ১৯৮৯ সালেও জাইদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি লাইব্রেরিতে গিয়ে পরিদর্শন বইয়ে লিখেছেন, “দীর্ঘ পাঁচ মাইল পথ পায়ে হেঁটে পানিহারে আসার সময় নিজের প্রতিই ভীষণ ক্ষুব্ধ হচ্ছিলাম। আমার বলতে এখন লজ্জা নেই, আসার সময় বারংবার মনে হচ্ছিল যেখানে আলো নেই, সভ্যতার বাইরে যারা বাস করে, সেখানে আবার লাইব্রেরি! অথচ এসে আমার চক্ষু চড়কগাছ! সত্যিই এ এক অগাধ জ্ঞানের সমুদ্রই বটে। যার কূল আমি হয়তোবা কোন দিনই পাব কি না, সন্দেহ।”

    নতুন তিনটি ঘরে সারি সারি পুরনো দিনের আলমারিতে রাখা আছে সাহিত্য, কবিতা, বিজ্ঞান, শিশুসাহিত্য, অভিধান, ভ্রমণ, নাটক, ইংরেজি সাহিত্য, ধর্মগ্রন্থ, ইতিহাস, জীবনী, রম্যরচনা, উপন্যাস-রহস্য উপন্যাসের বই গুলো। বই ছাড়াও আছে শনিবারের চিঠি, মাসিক মোহাম্মদী, ভারতবর্ষ, সাপ্তাহিক নতুন দিন-এর মতো পুরনো পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী। দেয়ালে দেয়ালে টাঙানো বিখ্যাত মনীষীদের ছবি। যত্ন করে রাখা হয়েছে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠাতা স্কুলশিক্ষক এনায়েত উল্লাহর ছবিও।

    এখন একটি কমিটির মাধ্যমে লাইব্রেরীটি পরিচালিত হয়। গত শুক্রবার বিকালে লাইব্রেরিতেই পাওয়া গেল লাইব্রেরিয়ান মোয়াজ্জেম হোসেনকে। তিনি জানালেন, আগে গ্রামের মানুষের বিনোদনের মাধ্যমই ছিল বই। এখন যুগ পাল্টেছে‌। সবাই মোবাইলে ব্যস্ত! তাও কিছু শিক্ষার্থী লাইব্রেরিতে আসেন। আর আসেন গবেষকেরা। পুরনো বইপত্র থেকে খুঁজে নেন নানা তথ্য। আগামী প্রজন্ম শুধু লাইব্রেরির নাম শুনবে, কিন্তু তার প্রাণবন্ত রূপ আর কখনও দেখতে পাবে না।

    মোঃ হালদার আলী
    রাজশাহী।