ইমদাদুল হক।।
আজ থেকে সুন্দরবনের দুবলার চরে ৩ দিন ব্যাপী রাস উৎসব শুরু হয়েছে। রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে ২৫ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী সুন্দরবনের দুবলারচরে ঐতিহ্যবাহী রাস পূর্ণিমায় পূজা ও পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হবে। শুক্লপক্ষের চাঁদের আলোয় শোভিত নিরব সুন্দরবন চরা ল সরব হয়ে উঠবে পূণ্যার্থীদের পূজা ও আরাধনায়। দূর্গম সাগর-প্রকৃতির অভাবমায় সৌন্দর্য্যরে মাঝে পূর্ণ্য অর্জন আর স ার যেন মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। কার্তিক-অগ্রহায়ণে শুক্লপক্ষের ভরাপূর্ণিমা সাগর উছলে ওঠে। চাঁদের আলোয় সাগর-দুহিতা দুবলার চরে আলোর কোল মেতে ওঠে রাস উৎসবে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ প্রাচীন সমুদ্র রাস উৎসব সুন্দরবনের সাগরদুহিতা দুবলারচরে অনুষ্ঠিত হয়। রাস উৎসব নিয়ে নানা মত রয়েছে। ধারণা করা হয়, ১৯২৩ সালে ঠাকুর হরিচাঁদের অনুসরি হরিভজন নামে এক সাধু এই উৎসব শুরু করেছিল। এই সাধু ২৪ বছরও বেশি সময় ধরে সুন্দরবনের গাছের ফল-মূল খেয়ে জবিন-যাপন করতেন। তিনি হরিচাঁদ ঠাকুরের স্বপ্নাদৃষ্টি হয়ে পূজা-পর্বনাদি ও অনুষ্ঠান শুরু করেন দুবলার চরে। তারপর থেকে মেলা বসেছে, লোকালয়ে এই মেলা নীল কোমল মেলা নামে পরিচিত। অন্যমতে হিন্দু ধর্মালম্বীদের অবতার শ্রীকৃষ্ণ কোন এক পূর্ণিমা তিথিতে পাপমোচন এবং পূর্ণলাভে গঙ্গাস্নেনর স্বপ্নাদেশ পান। সেই থেকে শুরু হয় রাস উৎসব। আবার কারও কারও মতে শারদীয় দুর্গোৎসবের পর পূর্ণিমা রাতে বৃন্দাবনবাসী গোপীদের সাথে রাসনৃত্যে মেতেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ।বঙ্গোপসাগরের মোহনায় সুন্দরবনের দুবলাচরে ও আলোর কোলে রাস পুর্ণিমায় রাধাকৃষ্ণের পুজা, পুর্ণ্যস্নন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে রাস উৎসবে পুর্ণিমা তিথিতে চরে নির্মিত মন্দিরে নামযজ্ঞ, রাধাকৃষ্ণ, কমল কামিনি ও বনবিবির পূজা অনুষ্ঠিত হবে। অটুট বিশ্বাস আর পুর্ণ ভক্তিতে কমল কামিনীর দর্শন মেলে। পুণ্যার্থীরা কমল কামিনী দর্শনের আশায় নিলকোমলের সাগর মোহনায় সাগর ঢেউঢেয় স্নান করে। রাস পুর্ণিমায় প্রথম আসা সমুদ্র ঢেউকে নিলকোমলের ঢেউ বলা হয়। এই প্রথম ঢেউয়ে পুর্ণাথিরা তাদের হাতে ধরে রাখা প্রসাদ ঢেউয়ে উৎসর্গ করে,এর পর স্নান শেষে চলে আসে।প্রকৃতির অকৃপণ হাতের সৃষ্টি লোনা জলের সাগরের এই রাসমেলায় দূর-র্দূরান্তে তীর্থযাত্রীদের ঢল নামে। ভয়ঙ্কর সুন্দর এই সুন্দরবন। যেখানে একদিকে অ্যাডভে ার, অন্যদিকে ভয় আর শিহরণ। জলে কুমির, আর ডাঙ্গায় বাঘ। বনের প্রতিটি মূহুর্ত যেন রহস্য আর রোমা কের এই মেলায় দর্শনার্থীরা প্রাকৃতিক সৌন্দার্যের অভাবনীয় রূপ উপভোগ করে। প্রতিবছর উৎসবের দিনগুলোতে নিরব সুন্দরবন যেন লোকালয় হয়ে জেগে ওঠে।
হিন্দুধর্মাবলম্বী লোকেরা পুর্ণিমার প্রথম প্রহরে সাগর জলে স্নান করে মনোবাসনা পুর্ণ ও পাপমোচন হবে এ বিশ্বাস নিয়ে রাসমেলায় যোগদিলেও সময়ের ব্যবধানে এ উৎসব নানা ধর্ম ও বর্ণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এ সময় অসংখ্যক বিদেশী পর্যটকদেরও আগমন ঘটে। আবাল বৃদ্ধ বনিতা, নির্বিশেষে সাগর চর এলাকায় উপস্থিতিতে কোলাহল, পদচালণায় মুখরিত হয়ে উঠবে। প্রতি বছর রাস উৎসব মানুষের মিলন মেলায় রূপ নেয়। সাগরপাড়ে দুবলা ও আলোরকোল চর সমুহে অনুষ্ঠিত রাস উৎসব সুন্দরবনের ঐতিহ্যকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।
পুণ্যস্নানে নিরাপদে যাতায়াতের জন্য দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীদের জন্য সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ পাঁচটি পথ নির্ধারণ করেছে। এ সকল পথে বন বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের টহল দল তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।
প্রতিটি অনুমতিপত্রে সিল মেরে পথ/রুট উল্লেখ করা হবে ও যাত্রীরা নির্ধারিত রুটগুলোর মধ্যে পছন্দমতো একটি মাত্র পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। ২৫নভেম্বর দিনের ভাটায় যাত্রা শুরু করতে হবে এবং নৌযানগুলো কেবল দিনের বেলায় চলাচল করতে পারবে। বনবিভাগের চেকিং পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও নৌকা, ল বা ট্রলার থামানো যাবে না। প্রতিটি ট্রলারের গায়ে রং দিয়ে বিএলসি অথবা সিরিয়াল নম্বর লিখতে হবে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অবস্থানকালীন সবসময় টোকেন ও টিকেট নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। প্রতিটি ল , নৌকা ও ট্রলারকে আলোরকোলে স্থাপিত কন্ট্রোলরুমে রির্পোট করতে হবে। রাসপূর্ণিমা পুণ্যস্নানের সময় কোন বিস্ফোরকদ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারো কাছে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরকদ্রব্য, হরিণ মারার ফাঁদ, দড়ি, গাছ কাটা কুড়াল, করাত ইত্যাদি অবৈধ কিছু পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ট্রলারে কোন প্লাস্টিকের খাবারের প্লেট বহন করা যাবে না। ল , ট্রলার, নৌকায় এবং পুণ্যস্নান স্থালে মাইক বাজানো, পটকা, বাজি ফোটানোসহ কোন প্রকার শব্দ দূষণ করা যাবে না। রাস পূর্ণিমায় আগত পুণ্যার্থীদের সুন্দরবনে প্রবেশের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট হতে প্রাপ্ত নাগরিকত্বের সনদপত্রের মূলকপি সাথে রাখতে হবে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানান, রাসপূর্ণিমায় পূজা ও পূর্ণস্নানে আগত তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে পশ্চিম বন বিভাগের অভিযান পরিচালনার জন্য কয়েকটি টিম কাজ করবে।
Blog
-

আজ থেকে ৩ দিন ব্যাপী সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস উৎসব
-

নড়াইলে ধানের ফলন মোটামুটি ভালো হলেও খরচের তুলনায় ধানের দাম কম শঙ্কায় কৃষক
উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
নড়াইলে ফলন মোটামুটি ভালো হলেও খরচের তুলনায় ধানের দাম কম শঙ্কায় কৃষক। নড়াইলের মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে আমন ধান। সোনালী ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ফলন মোটামুটি ভালো হলেও উৎপাদন ব্যয় উঠবে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা। এদিকে ফলন ভালো হয়েছে দাবি করে কৃষি বিভাগ বলছে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এবং কৃষক ন্যায্য মূল্য পেলে আগামীতে আমান চাষ আরও বাড়বে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান,
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ৪২ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪২৩ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ জমির ধান কর্তন হয়েছে।
সরেজমিন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, দিগন্ত বিস্তৃত মাঠজুড়ে আমন ধানের খেত সবুজ থেকে সোনালী বর্ণ ধারণ করেছে। কৃষকরাও ফসল ঘরে তুলতে দিন-রাত এক করে কাজ করছে। কেউ ধান কাটছে, কেউ আঁটি বাঁধছে। কেউ কেউ সেই ধান মাথায় নিয়ে খেত থেকে বাড়ি যাচ্ছে। আবার কেউ করছে মাড়াইয়ের কাজ। সকাল থেকে দিনভর এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। তবে কৃষকের মুখে নেই হাসি। ফলন মোটামুটি ভালো হলেও সার, কীটনাশক, ধান কাটা শ্রমিকসহ অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে। খরচের তুলনায় ধানের দাম কম। ফলে ধানের দাম না বাড়লে লাভ তো দূরে থাক এই দামে উৎপাদন খরচ উঠবে কি না তা নিয়ে এখন শঙ্কায় কৃষক।
সদর উপজেলার উজিরপুর এলাকার আমন চাষি সমীর সিকদার বলেন, ধানের ফলন একেবারে খারাপ না। ফলন ভালোই। কিন্তু সার, ওষুধ দিয়ে যে খরচ পড়ে তাতে তাদের মোটেই লাভ থাকে না। খরচের তুলনায় ধানের দাম কম। দাম বাড়ানো উচিত। দাম না বাড়ালি কৃষক বাঁচবে না।
অজিত বিশ্বাস জানান, তারা যে দাম পাচ্ছে সে দামের তুলনায় যে খরচ হয় সে খরচের পয়সা তাদের বাঁচে না। এ বছর পোকার (কারেন্ট পোকা) কারণে বিঘা প্রতি ধানের ফলনও কম হয়ছে। তারপর সার-মাটিতে যে খরচ তা চালান একটুও মেলে না। চাষি মানুষ, চাষ করতে হয়, তাই করে যাচ্ছেন।
কার্তিক দাসসহ জেলার আরো কয়েকজন কৃষক জানান, সব কিছুর যে দাম তাতে ধানের দাম ১৫শ টাকার নিচে হলে কৃষকের লস। যেভাবে খরচ হয়, তাতে কৃষকের বেঁচে থাকা সম্ভব না। তারপরও নিজেদের জমি, চাষ না করে কি করবেন। না খেয়ে তো আর মরা যায় না। তাই বাধ্য হয়ে লস হলেও চাষ করা লাগে।
এদিকে আমনের ফলন ভালো হয়েছে দাবি করে নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রোকনুজ্জামান এ প্রতিবেদক উজ্জ্বল রায়কে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা আগ্রহের সাথে রোপা আমন চাষ করেছে। তুলনামূলক রোগবালাই এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। তবে কৃষকদের একটি আশঙ্কার জায়গা হচ্ছে ধানের দাম। প্রতিটা স্তরে যে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং কৃষক যদি যথাযথ মূল্য পায় তাহলে নড়াইলসহ সারাদেশে রোপা আমনের আবাদ বাড়বে। একইসঙ্গে উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে কৃষক আরও আগ্রহী হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা। -

প্রতিবাদে ফুঁ*সে উঠেছে এলাকাবাসী: মোরেলগঞ্জে এনায়েতিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপারের বি*রুদ্ধে ষ*ড়যন্ত্র
এস এম সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে এনায়েতিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার আব্দুস ছালাম খানের বিরুদ্ধে ষড়ন্ত্রমূলক মামলা ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে এলাকাবাসি ফুঁসে উঠেছে।
প্রভাবশালী মহলের হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পেতে উর্দ্ধতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার। সুপার আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ধানসাগর গ্রামে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয়, অভিভাবক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ।
প্রতিবাদ সভায় এনায়েতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, মাদ্রাসার (ভারপ্রাপ্ত) সুপার মাওলানা মো. জাকারিয়া খান, শিক্ষক এসএম সাইফুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ হাওলাদার, অভিভাবক মো. আলম খান, মো. ওহিদুজ্জামান তালুকদার, ইব্রাহিম খান, সাবেক শিক্ষক মোশারেফ হোসেন তালুকদারসহ স্থানীয়রা বলেন, এনায়েতিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার আব্দুল ছালাম খানের বিরুদ্ধে এই প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির দায়ে বরখাস্তকৃত সাবেক সুপার মাওলানা ফজলুল আলম নির্বাহী কর্মকর্তা, এডিসি শিক্ষা বাগেরহাট দপ্তরে মাদ্রাসায় নিয়োগ বানিজ্যে, ভুয়া উপবৃত্তির টাকা আত্মস্বাৎ, বর্তমান অবৈধ কমিটি, মাদ্রাসায় জমি দাবি করে ৩ টি হয়রানিমূলক অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২টি তদন্তেই সেটি সঠিক প্রমানিত হয়নি। তিনি অভিযোগ দিয়ে তদন্তে উপস্থিত থাকেনা। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মাদ্রাসায় শিক্ষকদের বেতন ভাতা স্থগিত থাকে। সেই সময়ে কিভাবে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি উত্তোলন করতে পারে।
ফজলুল আলম এ ধরনের হয়রানিমূলক অভিযোগ তুলে শুধু মাদ্রাসা সুপারকে হয়রানি নয় এলাকায় বিভিন্ন মানুষকে একের পর এক মসজিদের জমি নিয়ে মামলা, গাছ কাটা মামলা বিভিন্ন মামলা দিয়ে অতিষ্ট করে তুলছে বলে প্রতিবাদ সভায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানায়। এ সময় স্থানীয়রা বর্তমান সুপার আব্দুস ছালামের মুক্তি দাবি করে পাশাপাশি ফজলুল আলমের হয়রানিমূলক অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে উর্দ্ধতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ বিষয়ে সাবেক সুপার ফজলুল আলম একটি মামলায় জেল হাজতে থাকায় তার বক্তাব্য নেয়া যায়নি।এস এম সাইফুল ইসলাম কবির
বাগেরহাট প্রতিনিধি। -

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ৩৩ বছর পূর্তি শনিবার
এস এম সাইফুল ইসলাম কবির: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আগামীকাল ২৫ নভেম্বর (শনিবার)। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রমের তেত্রিশ বছর পূর্ণ করে চৌত্রিশ বছরে পদার্পন করছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আপামর মানুষের নিরলস প্রচেষ্টা ও ত্যাগ। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করা হয়। ১৯৯০ সালের জুলাই মাসে জাতীয় সংসদে ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯০’ পাস হয়, যা গেজেট আকারে প্রকাশ হয় ওই বছর ৩১ জুলাই। এর পর ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে ৪টি ডিসিপ্লি¬নে ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়। ১৯৯১ সালের ৩০ আগস্ট প্রথম ওরিয়েন্টেশন এবং ৩১ আগস্ট ক্লাস শুরুর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের সূচনা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর শিক্ষাকার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রতিবছর এ দিনটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়ে আসছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় একটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় হলেও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এখানে জীববিজ্ঞান, বিজ্ঞান প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা, কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, আইন, চারুকলাসহ অন্যান্য অন্যান্য বিষয়ের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কুল বা অনুষদের সংখ্যা ৮টি এবং ডিসিপ্লিন বা বিভাগের সংখ্যা ২৯টি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি। যার মধ্যে ৩৪ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শিক্ষক আছেন পাঁচ শতাধিক, যার এক তৃতীয়াংশই পিএইচডি ধারী। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:১৪। ছাত্র-ছাত্রীর অনুপাত ৫৪:৪৬ যা দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। কর্মকর্তা তিন শতাধিক এবং কর্মচারীর সংখ্যা ৫ শত। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত ৬টি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার গ্র্যাজুয়েটকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিজ্ঞানপত্র প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পর গত ৩৩ বছরে এখানে কোনো ছাত্র সংঘর্ষ, হানাহানি বা রক্তপাত হয়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই দীর্ঘ সময়ে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। দেশে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সেশনজট, সন্ত্রাস ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে। তাহলো: ‘Learn, Lead and Live’ যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ‘শিখুন, নেতৃত্ব দিন এবং বাঁচুন’। এছাড়া নতুন ভিশন, মিশন এবং রিসার্চ স্ট্র্যাটেজি প্ল্যান নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাকালের দিক থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নবম। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের গল্লামারী নামক স্থানে স্থাপিত হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। স্থানটি একাত্তরের বধ্যভূমি। আর বধ্যভূমির ওপর গড়ে ওঠা এটাই দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রবেশ করেই মনে হবে এক শান্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। নেই কোনো কোলাহল, নেই শব্দ দূষণ। বিশেষভাবে চোখে পড়বে একই রঙে রাঙানো ভবগুলোর দেওয়াল। প্রশাসনিক বা একাডেমিকসহ কোনো ভবনের গায়ে চিকা মারা নেই। নেই কোনো শ্লোগান লেখা, নেই কোনো ব্যানার, ফেস্টুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি ভবনের নাম বিধৃত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের শহিদ তথা বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নামে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বার দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেই প্রথম চোখে পড়বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুউচ্চ ম্যুরাল, যার গায়ে উৎকীর্ণ আছে ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। এছাড়া রয়েছে শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ প্রশাসন ভবন, ড. সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবন, আচার্য জগদীশচন্দ্র একাডেমিক ভবন, কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবন। এমনিভাবে প্রত্যেকটি আবাসিক হল ও অন্যান্য স্থাপনার প্রবেশ পথেই শুধু দেখতে পাবেন নাম লেখা। এ যেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নিজস্বতা। বঙ্গমাতা হলে রয়েছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ম্যুরাল। রয়েছে কটকা স্মৃতিস্তম্ভ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহদাকার কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি স্থপত্যশৈলী চমৎকার। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে নামকরণ করা হয়েছে এ ভবনটির। যার ছাদ দৃষ্টিনন্দন টেনসাইল মেমব্রেনে তৈরি।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সব বিষয় নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় তা কিন্তু গতানুগতিক ছিলো না। তা ছিলো ভবিষ্যত প্রয়োজনমুখী। তখনকার বিশ্ববিদ্যায় কর্তৃপক্ষ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিদ্যাজন দূরদর্শিতা দেখিয়েছিলেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েটের পরই ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স ক্রেডিট পদ্ধতি চালু হয়। দেশের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিন, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিন, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিন এবং ঢাকার বাইরে স্থাপত্য ডিসিপ্লিন ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন প্রথম চালু হয়। দেশের মধ্যে ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় হিসেবে চালু হয়। সুন্দরবন ও উপকূল নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের মধ্যে প্রথম স্থাপিত হয়েছে ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দ্য সুন্দরবনস এন্ড কোস্টাল ইকোসিস্টেম (আইআইএসএসসিই)। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত হয়েছে দেশের প্রথম সয়েল আর্কাইভ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের মাটির ২০ ফুট গভীর নিচে সুরম্যভাবে স্থাপিত এ আর্কাইভ। এখানে সংগৃহীত আছে দেশের ৫টি জোনের এক হাজার আটশত আটান্নটি প্লটের ৫ হাজারের বেশী মাটির নমুনা। যা সংরক্ষণ করা হয়েছে গবেষণার জন্য।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নেই, সেশনজট নেই। তবে শিক্ষার্থীদের ৩২টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আছে। যার সাথে সম্পৃক্ত থেকে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব, দক্ষতা ও সাংগঠনিক মনোবল অর্জন করে। তারাই সারাবছর উৎসবমুখর রাখে ক্যাম্পাস। শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রক্তদানে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, খেলাধুলার জন্য আন্তডিসিপ্লিন ক্রিকেট, ফুটবল টুর্নামেন্ট ছাড়াও অ্যাথলেট প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। উপসানালয় হিসেবে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, রয়েছে মন্দির। এ বছর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন ক্যাফেটেরিয়ার উদ্বোধন করা হয়েছে। ইট পাথরের শহরের মধ্যে গোলপাতার ছাউনিতে গ্রাম বাংলার ছোঁয়া পেয়েছে এই ক্যাফেটেরিয়া। ওভাল শেপ আকারে নির্মিত এ ক্যাফেটেরিয়ার আয়তন ৫ হাজার ৪০০ স্কয়ার ফিট। এটি সবাইকে আকৃষ্ট করছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন লেকওয়ে। এখানে বৃক্ষছায়ায় হাটাহাটি গল্প আড্ডা ও চা কফির জায়গা।
বর্তমান সরকার দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে ইতোমধ্যে হেকেপ প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়াও শিক্ষার মান যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত হয় সেজন্য বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল স্থাপন করেছে। এই কাউন্সিল ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক- বিএনকিউএফ এর গাইডলাইন অনুসরণ করে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে বিশ্বমানের আউটকাম বেজড এডুকেশন (ওবিই) কারিকুলা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। গত জানুয়ারি থেকে প্রণীত ওবিই কারিকুলা এবং একই ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও মাস্টার্সে ক্লাস-পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবিকাশের ধারায় এখন শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনায় বিশ্বমান অর্জনে জোর দেওয়া হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়কে রিসার্চ ফোকাস্ড ইউনিভার্সিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গবেষণার গুণগত মানোন্নয়নে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এ বছর আন্তর্জাতিক র্যাংকিং, কিউএস র্যাংকিং, টাইমস্ হায়ার এডুকেশন র্যাংকিং এ স্থান করে নিয়েছে। এছাড়াও এবছর ইউজিসির এপিএ মূল্যায়নে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ ৯৫.৪৭ নম্বর পেয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটালাইজেশনের জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক, একাডেমিকসহ সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত করতে ডি-নথি চালু, সফট ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রকল্পের আওতায় হাইস্পিড ইন্টারনেট ব্যাকবোন, সিকিউরিটি সার্ভিলেন্স সিস্টেম স্থাপন এবং আধুনিক সুবিধা সম্বলিত স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন, আবাসিক হলের সিট বুকিং, অ্যাপস্ ব্যবহার করে ঢাকাস্থ গেস্ট হাউজের রুম বুকিং, অনলাইনে চাকরির আবেদন, আধুনিক সুবিধা সম্বলিত প্রশিক্ষণ কক্ষ, ল্যাব উল্লেখযোগ্য। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শীঘ্রই স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিলাইজেশনের ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের অধীন ‘ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব-স্মার্ট ইউনিবেটর স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর (বুধবার) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি স্মার্ট কার্ড পাঞ্চ করে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির অটোমেশনের কাজও শেষ হয়েছে। ২৫ নভেম্বর এটি উদ্বোধন করা হবে। এটা সম্পন্ন হলে এতদঞ্চলের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি হবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং যা অনলাইনে ব্যবহারের সুযোগ উন্মুক্ত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ শিক্ষাদানের পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনা। একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানে নিয়ে যায় তার গবেষণা ও উদ্ভাবনার সাফল্য। এ লক্ষ্য সামনে রেখে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি তথা নবীন-প্রবীণ গবেষকদের গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে গবেষণার অনুদান বৃদ্ধি।
এস এম সাইফুল ইসলাম কবির ।
-

রংপুর হাজিরহাটস্থ রনচন্ডি ধনিপাড়ায় বসতবাড়ি ও দোকানে অ*গ্নিকাণ্ড,থানায় অ*ভিযোগ
রংপুর থেকে বিভাগীয় প্রধান আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন। –
রংপুর হাজিরহাটস্থ রনচন্ডি ধনিপাড়ায় বসতবাড়ি ও দোকানে অগ্নিকাণ্ড,থানায় অভিযোগ।
রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট এলাকার রনচন্ডি ধনিপাড়াস্থ সাহেদা বেগমের বাড়িতে গত২৪ নভেম্বর ভোররাত ১২ টা ৩০ মিনিটের সময় এক অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে এতে ১০ লক্ষাধীক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
হাজিরহাট থানায় অভিযোগকারী সাজেদা বেগম এর অভিযোগে পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায় গত ২৪ নভেম্বর ভোররাত ১২ টা ৩০ মিনিটের সময় তার নিজস্ব চৌচালা টিনের ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকাকালে কে বা কাহারা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটান।
উল্লেখ্য এ বিষয়ে অভিযোগকারী সাহেদা বেগম স্বামী আব্দুল মজিদ জানান পারিবারিক পূর্ব শত্রুতা বশত এই অগ্নিকান্ড ঘটনো হয়েছে যা অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে জরুরি ভিত্তিতে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা জোর দাবী এলাবাসীর। -

প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী: মোরেলগঞ্জে এনায়েতিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ষ*ড়যন্ত্র
এস এম সাইফুল ইসলাম কবির: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে এনায়েতিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার আব্দুস ছালাম খানের বিরুদ্ধে ষড়ন্ত্রমূলক মামলা ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে এলাকাবাসি ফুঁসে উঠেছে।
প্রভাবশালী মহলের হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পেতে উর্দ্ধতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার। সুপার আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ধানসাগর গ্রামে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয়, অভিভাবক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ।
প্রতিবাদ সভায় এনায়েতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, মাদ্রাসার (ভারপ্রাপ্ত) সুপার মাওলানা মো. জাকারিয়া খান, শিক্ষক এসএম সাইফুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ হাওলাদার, অভিভাবক মো. আলম খান, মো. ওহিদুজ্জামান তালুকদার, ইব্রাহিম খান, সাবেক শিক্ষক মোশারেফ হোসেন তালুকদারসহ স্থানীয়রা বলেন, এনায়েতিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার আব্দুল ছালাম খানের বিরুদ্ধে এই প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির দায়ে বরখাস্তকৃত সাবেক সুপার মাওলানা ফজলুল আলম নির্বাহী কর্মকর্তা, এডিসি শিক্ষা বাগেরহাট দপ্তরে মাদ্রাসায় নিয়োগ বানিজ্যে, ভুয়া উপবৃত্তির টাকা আত্মস্বাৎ, বর্তমান অবৈধ কমিটি, মাদ্রাসায় জমি দাবি করে ৩ টি হয়রানিমূলক অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২টি তদন্তেই সেটি সঠিক প্রমানিত হয়নি। তিনি অভিযোগ দিয়ে তদন্তে উপস্থিত থাকেনা। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মাদ্রাসায় শিক্ষকদের বেতন ভাতা স্থগিত থাকে। সেই সময়ে কিভাবে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি উত্তোলন করতে পারে।
ফজলুল আলম এ ধরনের হয়রানিমূলক অভিযোগ তুলে শুধু মাদ্রাসা সুপারকে হয়রানি নয় এলাকায় বিভিন্ন মানুষকে একের পর এক মসজিদের জমি নিয়ে মামলা, গাছ কাটা মামলা বিভিন্ন মামলা দিয়ে অতিষ্ট করে তুলছে বলে প্রতিবাদ সভায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানায়। এ সময় স্থানীয়রা বর্তমান সুপার আব্দুস ছালামের মুক্তি দাবি করে পাশাপাশি ফজলুল আলমের হয়রানিমূলক অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে উর্দ্ধতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ বিষয়ে সাবেক সুপার ফজলুল আলম একটি মামলায় জেল হাজতে থাকায় তার বক্তাব্য নেয়া যায়নি। -

মুহিবুর রহমান মানিক ও নৌকা প্রতিকের পক্ষে মান্নারগাও’র আমবাড়ী বাজারে আনন্দ মিছিল
দোয়ারাবাজার সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে
সুনামগঞ্জ ৫ ছাতক দোয়ারাবাজার আসনের সংসদ মুহিবুর রহমান মানিক ও নৌকা প্রতিকের পক্ষে বিশাল আনন্দ মিছিল ও মিছিল পরবর্তী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) বিকালে মান্নার গাও ইউনিয়ন পরিষদের সামন থেকে মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ইউনিয়ন পরিষদের সম্মোখে মান্নার গাও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের আয়োজনে বিশাল আনন্দ মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় বক্তব্য রাখেন মান্নার গাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইজ্জত আলী তালুকদার উপজেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম সদস্য আব্দুল হান্নান, আওয়ামীলীগ নেতা বরুণ চন্দ্র দাস, মান্নার গাও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ভুপতি দাস, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অসিত তালুকদার, আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী, আওয়ামীলীগ নেতা সাহাব উদ্দিন তালুকদার, কৃষক লীগের সভাপতি তাহের উদ্দিন, ছাত্র লীগ নেতা নিউটন দাস, ছাত্রলীগ নেতা.নুর হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা সুন্দর আলী, আওয়ামীলীগ নেতা কৃপা সিন্ধু রায় ভানু, মান্নার গাও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার মিয়া, ইউপি সদস্য দিপক দাস প্রমুখ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ছাতক দোয়ারাবাজারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুহিবুর রহমান মানিক ও নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্য বদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
-

খুলনা -৬ আসন; কে ধরবেন নৌকার হাল; ভাগ্য নির্ধারণ আজ
ইমদাদুল হক, পাইকগাছা(খুলনা)।।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে ১০৪, খুলনা -৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পত্র কিনেছে ১৮ জন প্রার্থী। এ আসনটিতে কে হবেন নৌকার মাঝি তা নির্ধারণ হবে আজ।
খুলনা জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা-পাইকগাছা নামে দুইটি উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসন ১০৪, খুলনা-৬ গঠিত। অবহেলিত এ জনপদে রাজনৈতিক ভাবে বরাবরি আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী শক্ত অবস্থানে থাকলেও বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন না থাকলেও তারা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অপর দিকে আওয়ামী লীগ আছে শক্ত অবস্থানে। স্বাধীনতা পূর্ব নির্বাচনে এ আসনে নৌকার প্রার্থী শহীদ এম এ গফুর নির্বাচিত হন। দেশ স্বাধীনের পর থেকে এ আসনে জাতীয় পার্টি ২বার, জামায়াতে ইসলামী ২বার, বিএনপি ১ বার ও আওয়ামী লীগ ৬ বার এ আসন থেকে জয়লাভ করেছে।
দেশের সর্ব দক্ষিণের জনপদ হওয়ায় প্রাকৃতিক ঝড়-জলচ্ছাস প্রবন এলাকা হিসেবে কয়রা-পাইকগাছা অতি পরিচিত। আয়লা, সিডর, ফনি, নার্গিস, মহাসেন, তিতলী, বুলবুল, আম্ফানসহ বিভিন্ন ঝড়-জলচ্ছাসের আঘাতে বারবার লন্ডভন্ড হয়েছে এই জনপদের জীবন যাত্রা। বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এলাকার ওয়াপদা ভেঁড়িবাধ, রাস্তাসহ মাথা গোজার একমাত্র অবলম্বন বসতভিটা। নদী ভাঙ্গন ও অতি জোয়ারের সময় নির্ঘুম রাত কাটে হাজার মানুষের। পেশা বদল করে এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেয়ে বসবাস করতে হচ্ছে এখানকার মানুষের। এলাকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে এখনো কোন নেতা খুব বড় ধরনের উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়নি।
আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের ১৮জন নেতা দলীয় মনোনয়ন পত্র কিনেছেন বলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটির সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক সাইফুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু, সাবেক নবম জাতীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভকেট সোহরাব আলী সানা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভকেট সুজিত অধিকারী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার প্রেম কুমার মন্ডল, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাদাক্ষ্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব আলম, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষায়ক সম্পাদক শেখ রাশেদুজ্জামান রাসেল, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষায়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা.শেখ মোঃ শহীদ উল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক মোঃ খায়রুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ মনিরুল ইসলাম, পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আনোরয়ার ইকবাল (মন্টু), কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম মোহসিন রেজা, কয়রা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম শফি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটির সদস্য এস এম সাইফুল্লাহ আল মামুন, পাইকগাছা উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান রশীদুজ্জামান মোড়ল, খুলনা মহানগর শ্রমিকলীগের সদস্য সচিব মোঃ আসাদুজ্জান আসাদ, দলীয় কর্মী মোঃ ইসমাইল হোসেন এবং এস এম রাজু।
আজ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত তালিকার মাধ্যমে জানাযাবে এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন কে পাবেন।ইমদাদুল হক,
পাইকগাছা,খুলনা। -

হরিণাকুন্ডুতে সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতাকে গু*লি করে হ*ত্যা
আতিকুর রহমান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার শুড়া গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তের গুলিতে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি শামিম হোসেন মিয়া (৫৩) নিহত হয়েছেন। সাবেক সেনা সদস্য শামিম ওই গ্রামের গোলাম রসুল নান্টুর ছেলে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার বাড়ির সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গ্রামবাসির উদ্বৃতি দিয়ে হরিণাকুন্ডু হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ আল আমিন জানান, বৃহস্পতিবার এশার নামাজ পড়ে তিনি বাড়ির সামনে একটি সাঁকোর কাছে দাড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হয়তো অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা তাকে সেখান থেকে ধরে খালের ওপারে নিয়ে বুকে গুলি করে হত্যা করে। খবর পেয়ে স্বজনরা শামিমকে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষনা করেন। হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ জামিনুর রশিদ জানান, শামিম ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিলেন। হাসপাতালে মৃত অবস্থায় তাকে আনা হয়। ঝিনাইদহ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইমরান জাকারিয়া জানান, একজনকে গুলি করে হত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছি। সেখানে পৌছে বিস্তারিত জনাতে পারবো। উল্লেখ্য নিহত শামিম ২০২২ সালের ৩১ আগষ্ট ফেসবুক লাইভে এসে হরিণাকুন্ডুর সাবেক ওসি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে আলোচনায় আসেন। সেখানে তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে ওসি তুই তুকারি করেছে। তিনি আমাকে গ্রেফতার করতে পারেন, কিন্তু এমন ব্যাবহার করতে পারেন না। আমার মামা ব্রিটেনের রাষ্ট্রদুত। ভগ্নিপতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রটোকল অফিসার। তবুও আমি এই পরিচয় কাউকে দিয়ে চলি না”।ঝিনাইদহ
আতিকুর রহমান -

শার্শার পল্লীতে স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলা খু*ন, জিজ্ঞাসা বাদের জন্য প্রাক্তন স্বামী পুলিশ হে*ফাজতে
আজিজুল ইসলামঃ যশোরের শার্শা উপজেলার আমলাই গ্রামে নিজ বাড়ীতে সোনা ভান নামে ৪২ বছরের স্বামী পরিত্যাক্তা এক মহিলা খুন হয়েছেন। তিনি ঐ গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দীনের মেয়ে। বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে তিনি খুন হন। শার্শা থানা পুলিশ রাতেই সোনাভানের রক্তমাখা লাশ উদ্ধার করেন। এসময় তার পাশে পড়ে থাকা মুটভর একটি মেহগনির ডাল পুলিশ আলামত হিসেবে জব্দ করেন। পুলিশের ধারনা লাঠির আঘাতে সোনাভানকে হত্যা করা হতে পারে।
পুলিশ জানায়, স্বামী পরিত্যক্ত সোনাভান আমলাই গ্রামে মাঠের ধারে নিজ বাড়িতে বাক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বসবস করতেন। ঘটনার দিন রাতে সে বাড়ির আঙ্গিনায় বটিতে বসে মাছ কাটছিলো। এ সময় কেউ পিছন দিক থেকে লাঠি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বাকপ্রতিবন্ধী ছেলের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে ঘাতক পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করেন। এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার প্রাক্তন স্বামী আব্দুর রশিদকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে হত্যার কারন এখনো জানতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয়দের ধারনা পরকিয়া ও টাকা লেনদেনের বিষয়ে তাকে কেউ হত্যা করতে পারে।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এম আকিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে যশোর আড়াইশো সয্যা হাসাপাতাল মর্গে পাঠানো হয়ছে। এবং তথ্য জানার জন্য তার প্রাক্তন স্বামীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন পারিবারিক ভাবে এখনো কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগের পর তদন্তকরে প্রকৃত খুনি খুজে বের করা হবে। তবে পুলিশ তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন।