Blog

  • বরগুনায় ভলান্টিয়ার পোলের মাধ্যমে দ্রুত মানবিক সহায়তা প্রদানে কর্মশালা

    বরগুনায় ভলান্টিয়ার পোলের মাধ্যমে দ্রুত মানবিক সহায়তা প্রদানে কর্মশালা

    খাইরুল ইসলাম মুন্না ।

    দ্রুত মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য ভলান্টিয়ার পোল (সেচ্ছাসেবীদের তালিকা) গঠন করার লক্ষে বরগুনায় স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত পাঠশালা জাগোনারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মশালার প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম মিঞা।

    আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অক্সফাম বাংলাদেশের সহায়তায় স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা জাগোনারীর মাধ্যমে বরগুনায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ লক্ষ্যে স্টেকহোল্ডারদের অবহিতকরণসহ ধারণা সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আয়োজিত বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের ৫৪ জন স্টেকহোল্ডার অংশগ্রহণ করে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এছাড়াও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা সহ জাগো নারীর কর্মকর্তাবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে ১১ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসনের সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন কক্ষেও ৫০ জন স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রশাসক মোহাঃ রফিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি ছিলেন।

    জাগোনারীর প্রধান নির্বাহী হোসনে আরা হাসি জানান, সেচ্ছাসেবীদের তালিকা গঠনে প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং সেচ্ছাসেবীদের তালিকা উন্মুক্ত করা হবে। যারা ভবিষ্যতে যে কোন দূর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারী সংগঠনের সাথে কাজ করার জন্য তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে।

    সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম মিঞা ভলান্টিয়ার পোলের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সর্বাত্ত্বক সহযোগিতা করার আস্বস্ত করেন।

  • মহালছড়িতে বুদ্ধিজীবী দিবসে স্মরণ সভা

    মহালছড়িতে বুদ্ধিজীবী দিবসে স্মরণ সভা

    (রিপন ওঝা, মহালছড়ি)

    খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী অঙ্গ সংগঠন কর্তৃক নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আজ ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবসে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

    উক্ত স্মরণসভায় প্রধান বক্তা সহসভাপতি চিন্তাহরণ শর্মা সমাপনী বক্তব্য রাখেন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন সঞ্চালনায় ছিলেন।
    এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নন্দন দে, যুবলীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল হক মাসুদ, উপজেলা কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক রিপন ওঝা, উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি বাবলু চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

    এ সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দীপন ধর, দপ্তর সম্পাদক অলক সেন, উপজেলা কৃষকলীগ সভাপতি মোঃ ফরিদ, উপজেলা শ্রমিক লীগ সহসভাপতি মোঃ বক্কর, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রনজিত দাশ ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের সিনিয়র নেতাকর্মী ও ভক্ত সমর্থকগণ উপস্থিত ছিলেন।।

    প্রসঙ্গত যে, ১৯৭১ সালের ১৪ডিসেম্বরে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আলশামস, শান্তি কমিটি পরিকল্পনা করে বাংলার শ্রেষ্ঠ সূর্য সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
    মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সংস্কৃতি কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার বরেণ্য ব্যক্তিদের অপহরণ করা হয়। পরে নিদারুণ যন্ত্রণা দিয়ে রায়েরবাজার ও মিরপুরে তাদের হত্যা করা হয়। এ দু’টি স্থান এখন বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষিত।
    মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে স্থাপিত আল-বদর ঘাঁটিতে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করে।
    ১৯৭১ সালের ১৫ডিসেম্বর তৎকালীন মহকুমা ও বর্তমান খাগড়াছড়ি জেলা হানাদারমুক্ত হয়। মহালছড়ি মুক্ত হয় ১৭ ডিসেম্বর।

  • চারঘাটে পালিত হলো শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস

    চারঘাটে পালিত হলো শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস

    চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

    সারাদেশের ন্যায় চারঘাটেও পালিত হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস। দিবসটির কর্মসূচি মোতাবেক সকাল ১০ টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন চারঘাট উপজেলা প্রশাসন ও চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন।

    এরপরে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালন উপলক্ষে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদা খানম এর সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফখরুল ইসলাম।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাঞ্জুরা মুশাররফ, উপজেলা মুক্তি যোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান আলমাছ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ লুৎফুন নাহার, চারঘাট মডেল থানার ওসি এ এস এম সিদ্দিকুর রহমান, সরদহ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাসানুজ্জামান মধু ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাজদার রহমান।

    এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের সকল কর্মকর্তা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

    সবশেষে নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদা খানম কে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন উপজেলার চেয়ারম্যান সহ নেতৃবৃন্দ।

    এবং শহীদ বৃদ্ধিজীবিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

    মোঃ মোজাম্মেল হক
    চারঘাট, রাজশাহী।

  • খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া কলেজে  শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

    খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া কলেজে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

    নুরুল ইসলাম( টুকু), সদর উপজেলা প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি

    খাগড়াছড়ির পার্বত্য জেলার সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া কলেজে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৩ পালিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৪ ই ডিসেম্বর) ২০২৩ সকাল ১০ ঘটিকার সময় কলেজ হল রুমে এ অনুষ্টান অনুস্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে কলেজ এর অধ্যক্ষ সুবিনয় চাকমা বলেন ১৯৭১ সালে পরিকল্পিত ভাবে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা খুঁজে খুঁজে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী মেধাবী সন্তানদের হত্যা করে।

    কলেজ এর ইতিহাস প্রভাষক শ্যামলী চাকমা বলেন: বুদ্ধিজীবীদের হত্যা আমাদের বাংলার দামাল ছেলেরা মেনে নিতে পারেনি, তাই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে এদেশকে শত্রুমুক্ত করে।কলেজ নির্বাহী কমিটির সভাপতি মংশি মারমা বলেন বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেও বাংলাদেশের বিজয় ঠেকাতে পারেনি পাকিস্তানি শত্রুর দল।এতে সঞ্চালনা করেন অফিস প্রধান নুরুল ইসলাম।এসময় কলেজ এর শিক্ষক, শিক্ষিকা,কর্মচারী,নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • ১৬ ই ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস আমাদের গর্ব

    ১৬ ই ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস আমাদের গর্ব

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ কৃষকের ধানের মূল্য প্রতিমন ধানভেদে সাড়ে ১১শ থেকে ১৪শ টাকা, চারা (খড়) প্রতি হাজার সাড়ে ২৫ শ টাকা হাজার টাকা।
    সে মোতাবেক ১ আঁটি খড়ের দাম ২.৫ টাকা। উৎপাদিত ধান ও খড়ের নায্য মূল্য পেয়ে ধারুন খুশি। তাই কৃষকের আমন ধান চাষ করে ধান উৎপাদন করতে সার, বীজ, কীটনাশক, নিড়ানী, কৃষি শ্রমিক ইত্যাদিতে কি পরিমান ব্যয় এবং বর্তমানে ধানের বাজার মূল্যেতে কি কৃষক কতটা লাভবান হচ্ছেন। ধান চাষে কৃষক আগ্রহ ফিরে পাচ্ছেন এ সম্পর্কে লিখার জন্য, তথ্য উপাত্ত নিয়ে ল্যাপটপ ওপেন করলাম এমন সময় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী আল ইসলা ইসলামী একাডেমিতে ৭ম. শ্রেণীতে পড়ুয়া আমার ছোট ছেলে আজিজ আরেফিন জীম দৌড়ে এসে বললেন, আব্বু আমাদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসে ম্যাসেজ দিয়ে গেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও বিজয় দিবসের উপর ১ টি ছবি আঁকতে হবে আমি কিসের ছবি আঁকবো? আমি প্রশ্ন করলাম কেন আঁকতে হবে সে উত্তর দিল তুমি জান না। ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস তাই তুমি তা হলে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে নিয়ে ছবি আঁক জীম। তুমি এ ব্যপারে পত্রিকায় কিছু লিখ। তাই লিখার থিম পরিবর্তন করে ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের উপর কিছু তথ্য উপাত্ত নিয়ে ল্যাপটপে লিখা শুরু করলাম। বাঙালি জাতির ইতিহাস হাজার বছরের পরাধীনতার ইতিহাস। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের হাত থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীন হলেও এই ভুখণ্ডের বাঙালির স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আসেনি। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভক্ত হয় এবং পূর্ব বাংলাকে নিয়ে পাকিস্তান নামে একটি অসম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। তখন থেকেই পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী বাঙালির ওপর চেপে বসে এবং শাসন, শোষণ ও নির্যাতনের স্টিম রোলার চালায়। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, বাংলাদেশের স্থপতি,হাজার বছরের শ্রষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জাতি ১৯৭১ সালে উপনীত হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আধুনিক অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাঙালি জাতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠেন, এরই প্রেক্ষাপটে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ।

    বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে বন্দি করে রাখা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতেই তাকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত বাংলাদেশের সরকারের অধীনে পরিচালিত দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। এই বিজয় অর্জনে মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের ত্যাগ-তিতিক্ষায় এই বিজয় অর্জিত হয়। কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও গৌরবগাঁথা গণবীরত্বে পরাধীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় বাঙালি জাতি।
    বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে মুক্তির আকাঙ্খায় উজ্জীবিত করে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নিয়ে যান। ’৫২-এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ, ’৫৬-এর সংবিধান প্রণয়নের আন্দোলন, ’৫৮-এর মার্শাল ’ল বিরোধী আন্দোলন, ’৬২-এর শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-এর বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফার আন্দোলন, ৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ’৬৯-এর রক্তঝরা গণঅভ্যুত্থান, ৬-দফা ভিত্তিক ’৭০-এর ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন মুক্তিযুদ্ধকে অবধারিত করে তোলে। এই সব আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।এর পর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’… যার কাছে যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে’ ১৮ মিনিটের ১১ শ ৮ শব্দের কালজয়ী ভাষণ ও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতিকে চূড়ান্তভাবে উদ্বুদ্ধ করে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন প্রভূত ঘটনা প্রবাহের মধ্য স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে বাঙালি জাতি। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিলে তার ডাকে সাড়া দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালি জাতি। বাঙালির এই মুক্তিযুদ্ধে পাশে দাঁড়ায় প্রতিবেশী দেশ ভারত, সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রগতিশীল রাষ্ট্রের সরকার ও মুক্তিকামী মানুষ। তবে কোনো কোনো পরাশক্তি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরুদ্ধে নামে এবং পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে সব ধরণের সহযোগিতা দেয়। শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে মুক্তিযুদ্ধে দোর্দণ্ড গতিতে এগিয়ে যায় বাঙালি। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী জনযুদ্ধ শেষে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ১৬ ডিসেম্বর যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে বাঙালির চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।এ দিবসটি বাঙালির বিজয় দিবস ও বাংলাদেশের জাতীয় দিবস। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। এই দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে সর্বোচ্চ গৌরবের একটি অবিস্মরণীয় দিন। জীবন দিয়ে যুদ্ধ করে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এই বিজয় অর্জিত হয়। যতদিন পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ থাকবে, বাঙালি জাতি থাকবে ততদিন এই দিনটির গুরুত্ব ও সম্মান অক্ষুণ্ন থাকবে।

    বাঙালি জাতির ইতিহাস লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস, আত্মত্যাগের ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পথ ধরেই বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খলা ভাঙতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। জিন্নাহের দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক একটি অসম রাষ্ট্রকে বাঙালির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। শুরু হয় পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ, নির্যাতন। দিনের পর দিন বাঙালির ওপর অত্যাচার নির্যাতন ও শোষণ চালাতে থাকে পাকিস্তানি বর্বর শাসক গোষ্ঠী।
    এই শাসন-শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি একে একে গড়ে তোলে আন্দোলন-সংগ্রাম। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬ দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচনে বিজয় লাভের মধ্য দিয়ে বাঙালি চূড়ান্ত বিজয়ের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে।
    এসব আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ও নেতৃত্ব দিয়ে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির যে আন্দোলন শুরু হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়। যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে। সর্বস্তরের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও এদেশের কিছু মানুষ, জাতির কুলাঙ্গার সন্তান পাক হানাদার বাহিনীর পক্ষ নেয়। রাজাকার, আল বদর, আল সামস বাহিনী গঠন করে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে গণহত্যা ও ধ্বংস যজ্ঞে মেতে উঠে তারা। বাঙালি জাতির মরণপণ যুদ্ধ এবং দুর্বার প্রতিরোধের মুখে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজয়ের চূড়ান্ত পর্যায় বুঝতে পেরে বিজয়ের দুই দিন আগে জাতির সূর্য সন্তান বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যা করে। এতেও সহযোগিতা ও সরাসরি অংশ নেয় এ দেশীয় রাজাকার, আল বদর, আল সামস বাহিনী ও শন্তি কমিটির সদস্যরা। অবশেষে বাঙালির দুর্বার প্রতিরোধের মুখে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়েই বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পায় নতুন স্বাধীন দেশ বাংলাদেশ।

    পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণঃ
    ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে। তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে। ১৭ এপ্রিল শপথ নেয় মুজিবনগর সরকার। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে এই সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী হন তাজউদ্দীন আহমদ। এই সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় মুক্তিযুদ্ধ। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের শেষ ভাগে ৩ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশের চারদিক থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওপর সাঁড়াশি আক্রমণ শুরু করে। মিত্রবাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে তারা টিকতে না পেরে পিছু হটে গিয়ে বড় শহরগুলোতে সমবেত হতে থাকে। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পাকিস্তানি সেনাদের ছোট ছোট দল মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে থাকে। পরাজয় অনিবার্য দেখে ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল এ এ কে নিয়াজিকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সে দিন বিকেলেই নিয়াজি যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠান। ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। পাকিস্তানি বাহিনীর প্রধান জেনারেল হামিদ এ প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার জন্য নিয়াজিকে সংকেত দেন। মানেকশ নিয়াজিকে প্রস্তাব গ্রহণ ও কার্যকর করার জন্য ১৫ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটা থেকে পরদিন সকাল নয়টা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। পরে এই মেয়াদ বেলা তিনটা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টার সময় মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান। ঢাকায় আলোচনাকালে নিয়াজি দলিলে ‘আত্মসমর্পণ’ শব্দটির জায়গায় ‘যুদ্ধবিরতি’ লেখার প্রস্তাব দিলে জেকব তা বাতিল করে দেন। এরই মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী মানসিকভাবে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছিল। আত্মসমর্পণের দলিলসহ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন বিষয়ে নিয়াজির সম্মতি পেতে জেকবকে তাই বিশেষ বেগ পেতে হয়নি।

    অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়। দেশের অন্যান্য জায়গায় স্থানীয়ভাবে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আত্মসমর্পণের দলিল স্বাক্ষরিত হতে থাকে।
    ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় স্বাক্ষরিত দলিলের বাংলা ভাষ্য নিচে দেওয়া হলো:
    আত্মসমর্পণের দলিল, ঢাকা ১৬৩১ ঘণ্টা (আইএসটি), ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ মোপূর্ব রণাঙ্গনে ভারতীয় ও বাংলাদেশ বাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে পাকিস্তান পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড বাংলাদেশে অবস্থানরত পাকিস্তানের সকল সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে আত্মসমর্পণে সম্মত হলো। পাকিস্তানের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ সব আধা সামরিক ও বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে এই আত্মসমর্পণ প্রযোজ্য হবে। এই বাহিনীগুলো যে যেখানে আছে, সেখান থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কর্তৃত্বাধীন সবচেয়ে নিকটস্থ নিয়মিত সেনাদের কাছে অস্ত্র সমর্পণ ও আত্মসমর্পণ করবে। এই দলিল স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড লেফটেন্যান্ট জেনারেল অরোরার নির্দেশের অধীন হবে। নির্দেশ না মানলে তা আত্মসমর্পণের শর্তের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধের স্বীকৃত আইন ও রীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আত্মসমর্পণের শর্তাবলির অর্থ অথবা ব্যাখ্যা নিয়ে কোনো সংশয় দেখা দিলে, লেফটেন্যান্ট-জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আত্মসমর্পণকারী সেনাদের জেনেভা কনভেনশনের বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান দেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন এবং আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সামরিক ও আধা সামরিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও সুবিধার অঙ্গীকার করছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার অধীন বাহিনীগুলোর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিক, সংখ্যালঘু জাতিসত্তা ও জন্মসূত্রে পশ্চিম পাকিস্তানি ব্যক্তিদের সুরক্ষাও দেওয়া হবে। জগজিৎ সিং অরোরা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ পূর্ব রণাঙ্গনে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ বাহিনী ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১,
    আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক, অঞ্চল বি এবং পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের (পাকিস্তান) অধিনায়ক
    ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ বিজয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি লাল সবুজের পতাকার বাংলাদশ। বাংলাদেশের পরিচয় মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, জনগণের সম্মিলিত শক্তি সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে এনে দেবে নতুন মুক্তি। গড়ে উঠবে ডিজিটাল বাংলাদেশ, স্মার্ট বাংলাদেশ, বিশ্বের দরবারে মাথা উচ্চু করে দাঁড়িয়ে থাকবে এদেশের জনগন।

    লেখক : মোঃ হায়দার আলী ।

  • ১৪ ডিসেম্বর সুজানগর মুক্ত দিবস

    ১৪ ডিসেম্বর সুজানগর মুক্ত দিবস

    এম এ আলিম রিপন ঃ ১৪ ডিসেম্বর সুজানগর মুক্ত দিবস । মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগাঁথা এই দিনে সুজানগর উপজেলা পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিলো, উড়েছিলো বিজয়ের পতাকা। স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ জানান, ১৯৭১ সালের ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর তিন দিনে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল দুলাল, নুরুল ইসলাম, আবু বকর পাক হানাদার বাহিনীদের হাতে শাহাদাত বরণ করেন। যুদ্ধ পরিচালনার পর ১৪ ডিসেম্বর ভোর পৌনে ৭টার দিকে পাকিস্তানী হনাদার বাহিনী পালিয়ে যায়। এসময় আমাদের হাতে ৫ পাকিস্তানি হানাদার নিহত হয় এবং জনতার হাতে ধরা পড়ে বিচ্ছিন্ন ভাবে আরো প্রায় ১৫-১৬ জন মারা গেলে ১৪ ডিসেম্বর সুজানগর উপজেলা হয় পাক হানাদার মুক্ত।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি

  • পাইকগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্ধিত সভায় দলীয় প্রার্থী কে বিজয়ী করার আহবান

    পাইকগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্ধিত সভায় দলীয় প্রার্থী কে বিজয়ী করার আহবান

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পাইকগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে পাইকগাছা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও জেলা সদস্য সাংবাদিক তৃপ্তি রঞ্জন সেন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ রশীদুজ্জামান মোড়ল। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল হাসান টিপু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ আনিসুর রহমান মুক্ত, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস, ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়ার্দ্দার, হেমেশ চন্দ্র মন্ডল,বিজন বিহারী সরকার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৈয়বুর রহমান ও মফিজুল ইসলাম, উপজেলা তাঁতী লীগের আহ্বায়ক শেখ ফরহাদ হোসেন, উপজেলা মৎস্যজীবি লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এড. গোপাল সরকার, সদস্য সচিব হামীম সানা। জেলা ছাত্রলীগের নিত্যানন্দ দাশ, মৃনাল বাছাড়। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন এর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জি এম কামরুল হাসান, গপ্ফার খাঁ, পিযুষ কান্তি মন্ডল, জি এম বাশারুল ইসলাম, মাহাফুজুল হক কিন্তু, সুজন রায়, সিরাজুল ইসলাম, সাংবাদিক বি সরকার, জাহাঙ্গীর আলম, পৌর কাউন্সিলর কবিতা দাশ, মনোজ মন্ডল, অমল রাজ মন্ডল,রিপন রায়, সঞ্জীব মন্ডল, বিশ্বজিৎ অধিকারী, বাপিন মজুমদার, সমারেশ বিশ্বাস, উজ্জ্বল মন্ডল, বাশারুল ইসলাম বাচ্চু,আল তারিক আকুঞ্জী , আলহাজ্ব ময়নুল ইসলাম বাবু, মোঃ কামরুজ্জামান, প্রদীপ দত্ত, বিদ্যুৎ মন্ডল, রাজিকুজ্জামান সুমন, মোঃ হাবিবুর রহমান, শংকর ঢালী, পলাশ বাছাড়, সোহাগ হোসেন বাবু, তেজেন মন্ডল ও ইমরান হোসেন। সভায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা -৬ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ রশীদুজ্জামান কে বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান বক্তারা।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা,খুলনা।

  • পাইকগাছা উপজেলা ওয়াটসন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছা উপজেলা ওয়াটসন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছা উপজেলা ওয়াটসন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু ‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লিপিকা ঢালী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান কে এম আরিফুজ্জামান তুহিন, কওছার আলী জোয়ার্দার, কাজল কান্তি বিশ্বাস, আব্দুল মান্নান গাজী, জি এম আব্দুস ছালাম কেরু, শাহজাদা আবু ইলিয়াস, শেখ জিয়াদুল ইসলাম জিয়া, প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রাজিবুল হাসান, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা কবিরুল ইসলাম, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গোবিন্দ দে, উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, সিসিটি অরুণ কুমার ঢালী, প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ ও সাংবাদিক স্নেহেন্দু বিকাশ। সভায় উপজেলা ওয়াটসন কমিটির নিয়মিত সভা করা, বেসরকারি পর্যায়ের পানির প্লান্টের তালিকা প্রণয়ন এবং পানির গুণগত মান তদারকি করা সহ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • পাইকগাছা আদালতের এজলাস কক্ষে অগ্নিসংযোগ ; ডিসি এসপি’র ঘটনাস্থল পরিদর্শন

    পাইকগাছা আদালতের এজলাস কক্ষে অগ্নিসংযোগ ; ডিসি এসপি’র ঘটনাস্থল পরিদর্শন

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস কক্ষে অগ্নিসংযোগ করেছে দুষ্কৃতিকারীরা। আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত করতে নাশকতার অংশ হিসেবে দুর্বৃত্তরা বুধবার ভোররাতে এ অগ্নিসংযোগ করে। এতে এজলাস কক্ষের সোফা সহ অন্যান্য জিনিসপত্র পুড়ে গিয়ে অনেকটাই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে পুলিশ ও প্রশাসন জানিয়েছে। ডিসি এসপি সহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। থানা পুলিশ ও স্থানীয় আইনজীবীরা জানান পাইকগাছা আদালতের দুই পাশে দুই ধরনের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। ভবনের পূর্ব পাশে রয়েছে সিনিয়র সহকারী জজ আদালত এবং পশ্চিম পাশে রয়েছে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস কক্ষের সামনে জানালার একটি গ্লাস ভাঙ্গা রয়েছে। দুস্কৃতিকারীরা বুধবার ভোররাতের দিকে জানালার ওই ফাঁকা জায়গা দিয়ে পেট্রোল জাতীয় পদার্থ দিয়ে কক্ষের ভিতরে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়। পরে উপজেলা মডেল মসজিদের মুসল্লীরা ফজরের নামাজ পড়ে ফিরে যাওয়ার সময় আদালতের এজলাস কক্ষ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে। এরপর বিষয়টি আদালত কতৃপক্ষের নজরে আসলে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ খবর জানতে পেরে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ডি সার্কেল সাইফুল ইসলাম, ওসি ওবাইদুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ভূমি আরিফুজ্জামান ও উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু। এরপরই খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফিন, খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাঈদুর রহমান বিপিএম সহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাঈদুর রহমান বলেন বিজ্ঞ আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত করতে নাশকতাকারীরাই এ অগ্নিসংযোগ করেছে বলে প্রাথমিক ধারণা করছি।আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফিন বলেন এই ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে এ জন্য আমরা শক্তভাবে নজর রাখবো পাশাপাশি খুব শক্তিশালী ভাবে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

  • শৈলকুপায় রাতের আঁধারে কৃষকের পেঁয়াজ চারা নিধন

    শৈলকুপায় রাতের আঁধারে কৃষকের পেঁয়াজ চারা নিধন

    আতিকুর রহমান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় রাতের আঁধারে ৫ কৃষকের বাড়ন্ত পেঁয়াজ চারা নিধন করছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার কাঁচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামে সোমবার ঘটনাটি জানা গেছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে গ্রামবাসী ও ক্ষতিগ্রস্থ চাষীরা জানান।এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের যে কোন রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা পচনশীল কীটনাশক ছিটিয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেঁয়াজ দানার বাজার চড়া হলেও এ বছর দাম ভাল পাওয়ার আশায় উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছে প্রান্তিক চাষীরা। প্রতি কেজি দানা জাতভেদে ৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। খন্দকবাড়িয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মতিয়ার রহমান, আলী আহম্মদ, শাহাদত হোসেন, সাইফুল ইসলাম, সাব্দার আলী।ক্ষতিগ্রস্থ পাশর্^বর্তী উত্তর কচুয়া গ্রামের সাব্দার আলী’র বাড়ন্ত পিঁয়াজ চারায় কে বা কাহারা বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে করেছে এখন পর্যন্ত তার সঠিক তথ্য জানা নেই। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি চাষীদের নজরে আসে। ক্ষতিগ্রস্থ শাহাদত হোসেন জানান, ৫ জনের মোট ২৪ কাঠা জমিতে পেঁয়াজ চাষের উদ্দেশ্যে বপনকৃত দানা নিধনের ফলে এ বছর তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। লাখ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখে এসব চাষীদের এখন মাথায় হাত। এঘটনায় এলাকার অন্যান্য কৃষকের মাঝে রিতিমত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।কাচেরকোঁল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার মামুন জানান, মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) ঠাকুরদাস মন্ডল জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    ঝিনাইদহ
    আতিকুর রহমান।