Blog

  • মালদ্বীপে দূতাবাসের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

    মালদ্বীপে দূতাবাসের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

    আবদুল্লাহ কাদের মালদ্বীপ থেকে ঃ-
    শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) ২০২৩ বাংলাদেশ হাই কমিশন মালদ্বীপ কর্তৃক দিনব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়, বিজয় দিবস উপলক্ষে সান্ধ্যকালীন আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যুষে বাংলাদেশ হাই কমিশন প্রাঙ্গনে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ।

    মোহাম্মদ ইবাদ উল্লাহ এর সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন মাওলানা তাজুল ইসলাম, এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। হাইকমিশনার রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বানীসমূহ পাঠ পাঠ করেন যথাক্রমে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিশনের তৃতীয় সচিব চন্দন কুমার সাহা , প্রশাসনিক কর্মকর্তা, মিজ শিরিন ফারজানা, কনস্যূলার সহকারী ময়নাল হোসেন এবং কল্যাণ সহকারী আল মামুন পাঠান।
    অনুষ্ঠানে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ সোহেল পারভেজ স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দেশের সূর্য সন্তান বীর মুক্তি যোদ্ধাদের স্মরন করেন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য যার যার অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান।

    বিজয় দিবসে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষ হতে বক্তব্য প্রদান করেন বিশিস্ট ব্যবসায়ী ও সি আই পি আলহাজ্ব মো: সোহেল রানা, মালদ্বীপ আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ দুলাল মাতবর। পর্যায়ক্রমে মুক্তিযুদ্ধ ও উন্নয়নমূলক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

    উল্লেখ্য উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাদের আত্মত্যাগের ফলে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও তিনি জাতীয় চার নেতা, সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রম হারা ২ লক্ষ মা বোন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থক, বিদেশী বন্ধু, যুদ্ধাহত ও শহীদ পরিবারের সদস্য সহ সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন বঙ্গবন্ধুকে ষড়যন্ত্রকারীরা হত্যা করলেও তার স্বপ্নকে হত্যা করা যাবে না। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সকলকে বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে বলেন। প্রবাসী ও দেশে সবাই একযোগে কাজ করলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা তথা উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
    এরপর আলোচনা অনুষ্ঠানের পর একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হতে আগত শিল্পি আকাশ মাহমুদ, দৃস্টি তালুকদার বন্যা, মহুয়া মুনা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এছাড়াও, প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিক ডা: জেবা উন নাহার, মিজ ফেরদৌসী, তনিমা সাহা, জনাব শফিকুল ইসলাম সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করেন।
    মালদ্বীপের মালেতে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীবৃন্দ ও মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন । সবশেষে নৈশ ভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

  • তেঁতুলিয়ায় বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

    তেঁতুলিয়ায় বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম,তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ সারা বাংলাদেশের ন্যায় প গড়ের তেঁতুলিয়ায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রবি মৌসুমী কৃষি প্রনোদনা কর্মসূচি আওতায় গম, ভুট্টা, সরিষা, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, শীতকালীন পেঁয়াজ, মুগ, মসুর ও খেসারী এবং বোরো ধান হাইব্রিড, বোরো ধান উফশী উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হচ্ছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) উপজেলা কৃষি অফিসের বাস্তবায়নে ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস কার্যালয় চত্বরে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রবি মৌসুমের এই কৃষি উপকরণ বিতরণ উদ্বোধন করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফজলে রাব্বি’র সভাপতিত্বে আয়োজিত এ কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান (ডাবলু)। এ সময় উপজেলা কৃষি অফিসার তামান্না ফেরদৌস, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ জীবন ইসলাম, উপসহকারী সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মোতালেব, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হকসহ অন্যান্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ, ইউপি সদস্য এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়- সরিষা, গম, ভূট্টা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ বিতরণ করা হয়েছে এবং বোরো হাইব্রিড ধান ও বোরো উফশী ধান বীজ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চীনাবাদাম, মুগডাল বিতরণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়- উপজেলার মোট ৮ হাজার ১৯০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে বিভিন্ন ফসলের বিপরীতে প্রণোদনা বিতরণ করা হবে। প্রত্যেক কৃষককে একবিঘা জমির বিপরীতে এ প্রণোদনা দেয়া হবে। এর মধ্যে- ১ হাজার ২০০ জন গম কৃষককে জনপ্রতি ২০ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার, ৬৩০ জন ভুট্টা চাষীকে জনপ্রতি দুইকেজি বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার, ১হাজার ২৬০ জন সরিষা চাষীকে জনপ্রতি ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি, ৯০ জন শীতকালীন পেঁয়াজ চাষীকে জনপ্রতি ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বোরো হাইব্রিড ধান ও বোরো উফশী ধান বীজ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চীনাবাদাম ও মুগডাল বিতরণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিসার তামান্না ফেরদৌস বলেন, ইতোমধ্যে কৃষকরা সরকারের দেওয়া প্রণোদনার এই বীজ দিয়ে মাঠে চাষাবাদ করছেন। বিনামূল্যের এই প্রণোদনার বীজ ও সার পাওয়ায় কৃষকরা বেশ উপকৃত হচ্ছেন। আশা করছি বিনামূল্যে বিতরণকৃত এই বীজ ও সার কেউ অবহেলিত চোখে দেখবে না, কাজে লাগানোর জন্যই প্রণোদনায় উপকারভোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত হবেন।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।

  • ঝিনাইদহে শিশুদের নিউমোনিয়া প্রকোপ  হাসপাতালে চারগুন শিশু রোগী

    ঝিনাইদহে শিশুদের নিউমোনিয়া প্রকোপ হাসপাতালে চারগুন শিশু রোগী

    আতিকুর রহমান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    শিশু রোগীর কারণে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। জেলায় দিনকে দিন বাড়ছে শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, জ্বরসহ শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রকোপ। প্রতিদিন সদর হাসপাতালে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালে শয্যা আর জনবল সংকটে বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাসপাতালের কক্ষগুলোর মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে শিশুদের। প্রতিদিন নতুন করে শিশু ভর্তি হওয়ায় দিন দিন জায়গার সমস্যা বেড়েই চলেছে। হাসপাতালে যত শিশু রোগী ভর্তি আছে তার বেশিরভাগই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। ৪০ শয্যার বিপরিতে চারগুন বেশী রোগী ভর্তি থাকায় স্বল্প জনবলে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। গত অক্টোবর মাস থেকে শিশু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশিরভাগ শিশু রোগীর ৭০ ভাগই নিউমোনিয়া, জ¦রসহ শ^াসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত। এমন সমস্যায় আক্রান্ত শুধু সদর হাসপাতালাই নয়, সরকারি শিশু হাসপাতালসহ স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতেও বেড়েছে এ রোগীর সংখ্যা। হাটগোপালপুর এলাকার মশিয়ার রহমান জানান, আমার সন্তানকে হাসপাতালে আনলে দেখি রোগী রাখার কোন বের্ড খালী নেই। তাই কোন উপায়ন্ত না পেয়ে অবশেষে হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। সুফিয়া নামের এক নার্স জানান, হাসপাতালে কম সংখ্যক জনবল নিয়ে এত রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছি আমরা। তারপরও সাধ্যমত চেষ্টা করছি সকল রোগীর চিকিৎসা দিতে। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কনসালট্যান্ট (শিশু ওয়ার্ড) ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম শনিবার বিকালে জানান, শিশুকে ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে বাঁচাতে অভিভাবকদের সচেতনতার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাগুরা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডাক্তার অলোক সাহা বলেন শীত বাড়লে শিশুদের নানা ধরনের রোগ হতে পারে। সেই জন্য শিশুদেরকে সব সময় গরম কাপড় পরাতে হবে। রাতে পারলে রুম হিটার ব্যাবহার করতে হবে বা শিশুকে কাপড় দিয়ে হাত-পা ও পাথা ভাল করে ঢেকে রাখতে হবে। তাহলে শিশুরা রোগ থেকে নিারাপদে থাকবে। স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি রয়েছে ১৪০ জন। গত এক মাসে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়ার সাথে অন্যান্য সমস্যায় ২ টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মাত্র একজন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা।

    ঝিনাইদহ
    আতিকুর রহমান

  • মানা হচ্ছেনা সরকারি বিধিনিষেধ তেঁতুলিয়ায় ড্রেজারের পর ট্রাক্টর দিয়ে ডাহুক নদীতে পাথর উত্তোলন

    মানা হচ্ছেনা সরকারি বিধিনিষেধ তেঁতুলিয়ায় ড্রেজারের পর ট্রাক্টর দিয়ে ডাহুক নদীতে পাথর উত্তোলন

    মুুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ প গড়ের তেঁতুলিয়ায় ড্রেজারের পর ট্রাক্টর দিয়ে ডাহুক নদীতে নির্বিচারে চলছে পাথর উত্তোলন। বলা যায়, অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে নদীটি। হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা রূপ। বন্ধ হয়ে গেছে নদীর গতিপথ। নদীসংলগ্ন অনেকের জমি ও বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারও অভিযোগও রয়েছে। বর্ষার সময়ে অল্প বৃষ্টিতেই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে দুই পাড়ের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ক্ষতির মুখে পড়ে বিভিন্ন ফসল।

    কয়েক বছর আগে, এই ডাহুক নদীর বুক চিরে পাথর তুলতে চালানো হতো অত্যাধুনিক ড্রেজার মেশিন। এসব মেশিন দিয়ে মাটির ২০০ থেকে ২৫০ ফিট গভীর থেকে পাথর উত্তোলনের নদীর বুকে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল বিশাল গর্ত। এখন ড্রেজার মেশিনের পরিবর্তে নদীতে অভিনব পদ্ধতিতে ট্রাক্টর দিয়ে চলছে পাথর উত্তোলন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শালবাহান ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, গুচ্ছগ্রাম, লোহাকাচী, বালাবাড়ি এবং বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বুড়াবড়ি ডাহুক ব্রিজ সংলগ্ন উত্তর পার্শ্বে, কাটাপাড়া, সরকারপাড়া ও হারাদীঘি নামক এলাকায় ডাহুক নদীতে চলছে পাওয়ার ট্রাক্টর দিয়ে পাথর উত্তোলন।

    প গড় জেলা প্রশাসকের রাজস্ব শাখা হতে জানা যায়, গত ২০১৩ সালের মার্চ মাসের ১৪ তারিখের গেজেট প্রকাশের পর বাংলা ১৪২৬ সন হতে সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ডাহুক নদীর পাথর মহাল ইজারা বন্ধ করা হয়েছে। অথচ সরকারি সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে শ্রমিক নামিয়ে পাথর উত্তোলন করেই চলছে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখতে ও জানতে পারা যায়, নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাক্টর দিয়ে পাথর তুলছেন শ্রমিকরা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, নদীতে প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি সাইট রয়েছে। এসব সাইট থেকে দিন দুপুরে উত্তোলন হচ্ছে হাজার হাজার সিএফটি পাথর। পাথর উত্তোলিত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়- উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের আগা শালবাহানের আনিছুর, সানু বালাবাড়ী এলাকার আবু, আহাদ, জুয়েল, জাকের, কাজীগছ এলাকার আশরাফুল ইসলাম(চেয়ারম্যান), পলাশ (বিভিন্ন ক্ষমতাশীন ব্যক্তির পরিচয় দানকারী ব্যক্তি) ও বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের মান্দুলপাড়া এলাকার মনছুরগং, বন্দিভিটা গ্রামের মোতালেব ওরফে মোতা, সর্দারগছ এলাকার জিয়ারুল, আলমগীর ও আহসানসহ আরো অনেকেই এসব সাইট চালিয়ে আসছেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পাথর শ্রমিক বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) থেকে ট্রাক্টরের ইঞ্জিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করছেন মহাজনরা। এই ভাবে পাথর উত্তোলন করতে ৮-১০জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয় বলে জানতে পারা গেছে। তবে একটি খাত বা সাইটে পানিতে ডুবে বেধা দিয়ে টেনে যেসব পাথর কোয়ারীরা পাথর উত্তোলন করতেন তাতে ১৫-২০জন শ্রমিক প্রয়োজন হত।

    পাথর উত্তোলনের লাইন ম্যান ও নিজেকে ক্ষমতাশীন পরিচয় দানকারী ব্যক্তি পলাশের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি পাথর উত্তোলনের কথা অস্বীকার করে বলেন- আমার নিয়ন্ত্রণে কোন পাথর উত্তোলন হচ্ছে না। আপনি সকল সাইটের লাইন ম্যান এবং আপনি একজন ক্ষমতাশীন ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে আসছেন পাথর শ্রমিকসহ অনেকেই বলছেন জিজ্ঞাসায় তিনি কোনো সদুত্তোর দেয়নি। এদিকে পলাশকে এসব কথা জিজ্ঞাসা করতে মুঠোফোনে ফোন করলে আমার বিকাশ নম্বর চাই।

    এদিকে শালবাহান ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে মাস খানিক এবং রিপোর্ট লেখার দু’দিন আগে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমার সাইট আছে তবে অন্যের বিষয়ে আমি জানিনা। আপনি এসব লেখালেখি করে গরিবের পেটে লাথি দিয়েন না।

    পাথর উত্তোলন বিষয়ে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বাদল বলেন, ডাহুক নদীতে যে পাথর উত্তোলন হচ্ছে তা অবৈধভাবেই উত্তোলন করা হচ্ছে। তিনি নদীতে অবস্থিত খাস দাগের জমিসহ সিকস্তি ও পয়স্তি জমিতে পাথর উত্তোলন অবৈধ বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যখন তাঁরা অভিযানে ফিল্টে যায় তখন তাঁরা (পাথর উত্তোলনকারী শ্রমিক ও মহাজনরা) সরে যায় আবার যখন চলে আসি তখন পুনরায় পাথর উত্তোলন শুরু করেন।

    তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় জানান, আপনি জানেন আমি নতুন এই থানায় যোগদান করেছি। কথায় পাথর উত্তোলন হচ্ছে এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আপনার কাছ থেকে জানতে পারলাম অবশ্যই ট্রাক্টর দিয়ে পাথর উত্তোলন কারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে রাব্বি বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। যাতে কোনোভাবেই ডাহুক নদীতে এ ধরনের ট্রাক্টর দিয়ে কেউ পাথর তুলতে না পারে এর আগেও ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং তা চলমান থাকবে।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।

  • গোদাগাড়ীতে মহান বিজয় দিবস পালিত

    গোদাগাড়ীতে মহান বিজয় দিবস পালিত

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে সারা দেশের মত রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিকুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব অয়জুদ্দীন বিশ্বাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জাহিদ হাসান, সাবেক মুক্তিযোগা কমান্ডার অশোক কুমার চৌধুরী প্রমূখ। গোদাগাড়ী সরকারী স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পুলিশ,ভিডিপি, স্কাউটস, আনসার বাহনী তাদের কুজকাওয়াজ ও ডিসপ্লে উপস্থাপন করেন।
    এখানে উপস্থিত ছিলেন, গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র অয়জুদ্দিন বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ, গোদাগাড়ী সরকারি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মইনুল ইসলাম, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হায়দার আলী, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ প্রমূখ।

    সকাল ১১ টার সময় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাগনের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। গোদাগাড়ী প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবিএম কামারুজ্জামান বকুলের সঞ্চলনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক, সুফিয়া খাতুন মিলি।

    বক্তব্য রাখেন, গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি আব্দুল মতিন, বীর মুক্তিযোদা আবু হানিফ, বীব মুক্তিযোদ্ধা অশৌক কুমার চৌধুরী, মনিউর রহমান মন্টু প্রমূখ।

    বক্তাগণ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার বাঙালী জাতির সূর্যসন্তান। তাদের অবদান আমাদের ভূলবার নয়। তাদের বীরত্ব ও সংগ্রামের ফলেই আমরা স্বাধীনতা পেয়ে আজ ভালো ও সুখে আছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবার লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন। জাতির পিতা শেখ মুজিব আমাদের সংগ্রাম করা শিখিয়েছেন। আগামী দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় করেন।

    এদিকে মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সুলতানগজ্ঞ উচ্চ বিদ্যালয়, শাহ্ সুলতান ( রহ.) কামিল মাদ্রসা, গুনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, গোগ্রাম আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গোদাগাড়ী সরকারী স্কুল এন্ড কলেজ, গোদাগাড়ী সরকারী কলেজ, রাজাবাড়ী ডিগ্রী কলেজ, কাশিমপুর একে ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়, গুনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, গোগ্রাম আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়, রাজাবাড়ী হাট উচ্চ বিদ্যালয়, বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান দিবসটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে বলে জানা গেছে।

    এছাড়াও জাতীর শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন উপাসানালয়ে মোনাতাজ ও প্রার্থনা করা হয়, বিভিন্ন ইয়াতিম খানায় উন্নত খাবার পরিবেশন করা হয়। বিকেলে প্রতি ফুটবল খেলা, পুরস্তার বিতরণ ও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • টঙ্গী সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন এন্ড  কলেজে বিজয় দিবস উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ

    টঙ্গী সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন এন্ড কলেজে বিজয় দিবস উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ

    রবিউল আলম পূবাইল (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

    টঙ্গীর সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন এন্ড কলেজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা, কুইজ, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । শনিবার সকাল থেকে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন এন্ড কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ ওয়াদুদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র শিক্ষক রতন কুমার ঘোষ এর পরিচালনায় ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এডঃ মোঃ আজমত উল্লা খান। বিশেষ অতিথি মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ ওসমান আলী, বক্তব্য রাখেন সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন এন্ড কলেজ প্রভাতী শাখার সহকারী প্রধান মোঃ আব্বাস আলী, কলেজ সমন্বয়ক মোহাম্মদ শাহীন , শিক্ষক প্রতিনিধি হাজী মোঃ, আলতাফ হোসেন, ভোকেশনাল ইনচার্জ হাবিবুর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আশরাফ আলী, চৌধুরী আশরাফ হোসেন, সুরুজ্জামান সরকার, গোলজার হোসেন আকন্দ, মাও, আবুল কাশেম, হাবিবুর রহমান বি,এস সি, সায়দুর রহমান, মোঃ বেলাল হোসেন, মাওঃ খায়রুল ইসলাম মল্লিক, নাসরিন আক্তার খানম, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মোঃ আক্তার হোসেন, মোঃ জাকির হোসেন, মোঃ সেলিম খান প্রমুখ, আলোচনা সভা শেষে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও প্রেরণায় উজ্জীবিত করতে হবে-শাহীনুজ্জামান

    নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও প্রেরণায় উজ্জীবিত করতে হবে-শাহীনুজ্জামান

    এম এ আলিম রিপন : নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও প্রেরণায় উজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়ে সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেছেন বাঙ্গালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। মুক্তিযোদ্ধারা এ দেশ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তের ও ২ লক্ষ ৬৯ হাজার মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা। আর এই স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে যারা লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তাদের চেতনায় ছিল স্বাধীনতা, হৃদয়ে ছিল বঙ্গবন্ধু ও কণ্ঠে ছিল জয় বাংলা। শনিবার সুজানগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষ্যে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন প্রতিক্রিয়াশীলতা,উগ্রতা,মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ রুখতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের অতন্দ্র প্রহরীর মতো অবতীর্ণ হতে হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, সেই সোনার বাংলায় আওয়ামীলীগ যখনই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকে তখনই স্বাধীনতার ফসল জনগণ পুরোপুরি ভোগ করতে পারে। সব নাগরিকের মৌলিক ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত বাস্তবায়িত হয়। সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুখময় সরকারের সভাপতিত্বে ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজের স ালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজা, উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো.সাইফুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ মর্জিনা খাতুন, থানা অফিসার ইনচার্জ জালাল উদ্দিন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাফিউল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম সামছুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার প্রমূখ। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, যায়যায়দিন প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান, দৈনিক যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি এম এ আলিম রিপন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি

  • সুজানগরে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস পালিত

    সুজানগরে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস পালিত

    এম এ আলিম রিপন : সুজানগরে যথাযথ মর্যাদায় ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস-২০২৩ পালিত হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে শনিবার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিজয় র‌্যালি, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার,যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন সকালে পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবিরের নেতৃত্বে বের হওয়া বিজয় দিবসের র‌্যালিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুখময় সরকার, পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজা,উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো.সাইফুল ইসলাম,উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাফিউল ইসলাম,উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার নাজমুল হাসান সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পাবনা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার(সুজানগর সার্কেল)রবিউল ইসলাম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ মর্জিনা খাতুন, থানা অফিসার ইনচার্জ জালাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ সরদার,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার,বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী মন্ডল, এন এ কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন,উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ও এন এ কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক আবুল হাশেম, আ.লীগ নেতা ইউনুস আলী বাদশা,সরদার আব্দুর রউফ,রাজা হাসান, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান জর্জ, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজ, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি সরদার রাজু আহমেদ, যায়যায়দিন প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান, দৈনিক যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি এম এ আলিম রিপন, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এস এম সোহাগ,এন এ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেদোয়ান নয়ন সহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহন করেন। এর আগে ভোরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ও বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্মম্ভে পাবনা ২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ইউএনও সুখময় সরকার, পৌরসভার পক্ষে মেয়র রেজাউল করিম রেজা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠন, সুজানগর প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পূষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। শেষে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষ্যে সুজানগর সরকারি পাøিট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা,পুলিশ,আনসার,ফায়র সার্ভিস,বয়েজ স্কাউট,রোভার স্কাউট,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী কর্তৃক কুচকাওয়াজ ও প্যারেড অনুষ্টিত হয়।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ

    নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার মোঃ হামিদুর রহমান বিরুদ্ধে একের পর এক বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত জানুয়ারী মাসে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিল্পীদের সম্মানী ভাতা,যাতায়াত ভাড়া, বিচারকদের টাকা ঠিকমতো না দেওয়া এবং শিল্পকলা একাডেমীর শিক্ষক-কর্মচারি ও অভিভাবকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছে। সর্বশেষ গত ৩ ডিসেম্বর গণজাগরণের সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হলেও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী,কলাকুশলীসহ সংশ্লিষ্টদের এখনও পর্যন্ত কোনো সম্মানি দেয়া হয়নি। অথচ এ অনুষ্ঠানের টাকা আগেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের টাকা একইভাবে আতœসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম-দূর্নীতির ঘটনায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃবৃন্দ বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রাশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরীর কাছে এ ঘটনার তদন্তপূর্বক জেলা কালচারাল অফিসারের অপসারণ দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, জানা গেছে, গত ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে সারা দেশের মতো নড়াইলেও গণজাগরণের সাংস্কৃতিক-২০২৩ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সাংস্কৃতিক উৎসবে ব্যয় বিভাজন হিসেবে গত ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে দেখা গেছে, ৫টি সংগীত সংগঠন,৩টি নৃত্যের সংগঠন ও ২টি আবৃত্তি সংগঠনের সম্মানি হিসেবে প্রত্যেক ১০ হাজার টাকা করে ১ লাখ টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। ৫জন যন্ত্রশিল্পীকে ৪ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকা, একক সংগীত শিল্পী (সিনিয়র) ৫জনকে ১৫ হাজার টাকা, একক সংগীত শিল্পী (জুনিয়র) ৫জনকে ১০ হাজার টাকা, একক নৃত্য শিল্পী ৩জনকে ৬ হাজার টাকা, কবিতা আবৃত্তিতে ৩জনকে ৬ হাজার টাকা, একক আবৃত্তি শিল্পী ২জনকে ৪ হাজার টাকা এবং উপস্থাপকের সম্মানী হিসেবে ৪ হাজার টাকা দেওয়ার কথা। এছাড়া ব্যানার, সাজসজ্জা, ডকুমেন্টেশন, প্রচার ও উৎসব সমন্বয়কারীর সম্মানী হিসেবে আরো ৩৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও যন্ত্রশিল্পী,উপস্থাপকসহ মোট ৪১জনের কাওকে এ নিউজ লেখা পর্যন্ত একটি টাকাও দেয়া হয়নি।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিল্পকলা একাডেমির একাধিক শিক্ষক এবং শিল্পী অভিযোগে জানান, উৎসবে ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন এ উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করার কথা থাকলেও জেলা কালচারাল অফিসার নিজের ইচ্ছে মতো শিল্পকলা একাডেমির সংগীত,নৃত্য ও আবৃত্তি শিল্পীদের ৭টি গ্রুপে বিভক্ত করে এবং বাইরে থেকে ৩টি সংগঠন এনে অনুষ্ঠান করলেও কাওকে সম্মানী দেননি। শুধু তাই নয় শিল্পকলা একাডেমীতে সংগীতের বিভিন্ন শাখায় যেসব শিশু শিক্ষা গ্রহন করে থাকে ক্লাস ও পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তাদের সাথে এবং তাদের অভিভাবকদের সাথেও অকারণে তিনি অসাচারণ করে থাকে।
    এ বিষয়ে সংগীত শিল্পী পূর্বা সোম, পিংকী সাহা,পমা সোম,অথই সোম, মেঘা সোমসহ একাধিক শিল্পী জানান,তারা অনুষ্ঠানের পর তাদের কোনো সম্মানী দেওয়া হয়নি।
    অনুষ্ঠানে গান গাওয়া বাংলা বাউল দলের প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা ৫জন শিল্পী এসেছিলাম। সবার কাছ থেকে স্বাক্ষর রাখে এবং অনুষ্ঠান শেষ করে আসার সময় আমার হাতে জেলা কালচারাল অফিসার ২ হাজার টাকা দেয়।
    আশামনি সংগীত একাডেমীর আশামনি বলেন, তার শিল্পীরা অনুষ্ঠান করলেও কালচারাল অফিসার এখনও কোনো সম্মানী দেয়নি।
    এর আগে গত ৫জুন নড়াইল শিল্পকলা একাডেমীতে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ২লাখ টাকা। এ অনুষ্ঠানে সংগীত,নৃত্য, আবৃত্তি ও একক অভিনয়ে ২১জন বিচারক রাখার কথা থাকলেও রাখা হয় ১০জনকে। প্রত্যেক বিচারকের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার টাকা থাকলেও ১ হাজার টাকা দেওয়া হয়। জেলা পর্যায়ে বিজয়ী হয়ে জাতীয় পর্যায়ে মোট ২১জনের ঢাকায় যাওয়ার কথা। এখানে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ২৭শ টাকা করে।
    সম্প্রতি জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়ামে সাউন্ড, ইলেকট্রিক ও ভবন সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাউন্ড এবং ইলেকট্রিক-এর কাজে খাতা-কলমে টেন্ডার দেখিয়ে মূলত নিজেই কাজ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাউন্ড এবং ইলেকট্রনিক্স ও ডেকোরেশন ব্যবসায়ী এ প্রতিনধিকে জানান, তারা অডিটোরিয়ামের কাজ না করলেও তাদের কাছ থেকে জেলা কালচারাল অফিসার দোকানের ফাঁকা ভাউচার নিয়ে গেছেন।
    শিল্পকলা একাডেমীর তৎকালীন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ শিমুল শেখ অভিযোগে জানান, গত জুলাই মাসে নড়াইলে চাকরি করাকালীন সময়ে তার (কালচারাল অফিসার) অনিয়ম-দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার কাছ থেকে ৬টি কাগজে জোরপূর্বক সই করিয়ে রাখে। এর পর আগস্ট মাসে আমাকে পথের কাঁটা ভেবে মেহেরপুর বদলি করা হয়।
    উল্লেখ্য, গত প্রায় দেড় বছর আগে সংস্কৃতির জেলা ময়মনসিংহে জেলা কালচারাল অফিসার থাকা অবস্থায় ব্যাপক দূর্নীতির কারণে তাকে প্রত্যাহার করে ঢাকায় বদলি করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপক লেখালেখি হয়।
    এ বিষয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, নড়াইলের সভাপতি মলয় কুমার কুন্ডু বলেন, গণজাগরণের সাংস্কৃতিক উৎসবে ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে নড়াইলের উল্লেখযোগ্য কোনো সংগঠনকে এ বিষয়টি অবহিত করেননি। এছাড়া শিল্পী ও কলাকুশলী ৪১জনের কাওকে কোনো সম্মানি দেননি। বর্তমান কালচারাল অফিসার একের পর এক বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতি করে যাচ্ছেন। আমরা তার এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির তদন্তপূর্বক অপসারণ দাবি করছি। না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
    অভিযোগের বিষয়ে জেলা কালচারাল অফিসার মোঃ হামিদুর রহমান বলেন, সবাইকে অর্থ দেয়া হবে। নড়াইলের ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিয়ে উৎসব করেছেন কিনা এ প্রশ্ন করলে তার সদুত্তর দিতে পারেননি।
    এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী বলেন, এ অভিযোগের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাশ্বতী শীলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • নড়াইলে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ

    নড়াইলে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ। (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস নড়াইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে। শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসুচি আয়োজন করা হয়েছে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসুচির সূচনা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, বধ্যভূমি, গণকবর, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুস্পমাল্য অর্পণ, গণকবর জিয়ারত ও দোয়া, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহম্মদ ষ্টেডিয়ামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াচ ও বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি।

    সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোতুর্জার পক্ষে, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, নড়াইল পৌরসভা, সিভিল সার্জন অফিস, মহিলা আওয়ামী লীগ, জেলা ছাত্রলীগ, সদর উপজেলা, গণপূর্ত বিভাগ, সড়ক বিভাগ, এলজিইডি, সরকারি বিভিন্ন দফতরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

    সকালে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসুচির সূচনা করা হয় পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে জেলা জজ আদালতের পার্শ্বে বধ্যভূমি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু মুর‌্যাল, পুরাতন বাস টার্মিনালে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে অবস্থিত গণকবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

    জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড: সুবাস চন্দ্র বোস, পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান, স্থানীয় সরকার বিভাগ, নড়াইলের উপ-পরিচালক জুলিযা শুকায়না, সিভিল সার্জন ডাঃ সাজেদা বেগম ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাশ্বতী শীল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজ, এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ কুন্ডু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড আলমগীর সিদ্দিকী, বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম কবির, বীরমুক্তিযোদ্ধা এস এম বাকী, বীরমুক্তিযোদ্ধা তবিবুর রহমানসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, বীরমুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে বীরশ্রেষ্ট নুর মোহম্মদ ষ্টেডিয়ামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

    পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনাসভা অনুষ্টিত হয়।
    এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।