Blog

  • বাংলাদেশে জুলাই জাতীয় স-নদ স্বাক্ষর হবে ১৫ অক্টোবর-২০২৫

    বাংলাদেশে জুলাই জাতীয় স-নদ স্বাক্ষর হবে ১৫ অক্টোবর-২০২৫

    হেলাল শেখঃ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আগামী (১৫ অক্টোবর ২০২৫ইং) অনুষ্ঠিত হবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান।

    অনুষ্ঠানটি নেতৃত্ব দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের ঐকমত্য কমিশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

    কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা পবন চৌধুরী জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

    সভায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের পাঁচটি বৈঠকে পাওয়া প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করা হয়। আশা করা হচ্ছে, এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে খুব শিগগিরই বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সুপারিশ তৈরি করা হবে এবং চূড়ান্তকৃত সনদ সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. মো. আইয়ুব মিয়া। এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারও ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য সভায় উপস্থিত ছিলেন আরও অনেকেই।

  • বিএনপি বিশ্বা-স করে রাজনীতি মানে ক্ষ-মতা  প্রতিযোগিতা নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো- সোবাহান

    বিএনপি বিশ্বা-স করে রাজনীতি মানে ক্ষ-মতা প্রতিযোগিতা নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো- সোবাহান

    কে এম সোহেব জুয়েল :

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সব সময় মানুষের পাশে থাকে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে আমরা সবাই একই ঁ অংশ। বিএনপি বিশ্বাস করে রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়, বরং মানুষের কল্যাণে পাশে দাঁড়ানো। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু-মুসলমান এক হয়ে লড়াই করেছে। ৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও আমরা একসঙ্গে ছিলাম। আজও সেই ঐক্যের ধারাবাহিকতায় আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায়। আগামী জাতীয় নির্বাচনে আপনারা ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন যেন সবাই মিলেমিশে সত্যিকারের একটি গণতান্ত্রিক দেশ গড়ে তুলতে পারি। ১/১১ মত ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্হিতিতেও আপনাদের ফেলে চলে যাই নাই অবিরাম আপনাদেরকে নিয়েই মাঠে কাজ করে গেছি। শহীদ জিয়ার আদর্শকে বুকে ধারন করে কাজ করে গেছি। এছারাও আমি সব সময় আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো তার আগৈলঝাড়ার নির্বাচনি এলাকার এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন , বি এন পির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বরিশাল -১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশি আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান।

  • গৌরনদীতে কলেজ ছাত্রকে ব-লাৎকার মাম-লার প্রধান আ-সামিকে গ্রে-প্তার করেছে র‌্যাব

    গৌরনদীতে কলেজ ছাত্রকে ব-লাৎকার মাম-লার প্রধান আ-সামিকে গ্রে-প্তার করেছে র‌্যাব

    কে এম সোয়েব জুয়েল।
    গৌরনদী প্রতিবেদক।
    বরিশালের গৌরনদীতে এক কলেজছাত্রকে (১৭) বলাৎকার করার অভিযোগে গৌরনদী মডেল থানায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি কিং মাসুদকে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার র‌্যাব সদস্যরা বরিশাল কোতোয়ালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে ওই দিন রাতে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। গ্রেপ্তারকৃত কিং মাসুদ কলেজ ছাত্র বলাৎকার মামলার প্রধান আসামি। মাসুদ সরদার ওরফে কিং মাসুদ খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোসলেম সরদারের ছেলে ও নিজেও বিএনপির স্থানীয় নেতা। ভিকটিম মাদারীপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

    খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য কিং মাসুদ সরদারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মডেল একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (৮ অক্টোবর) সকালে ভিকটিম কলেজ ছাত্রের বাবা বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ বুধবার ভোর রাতে প্রধান আসামির সহযোগী মো. নিলয় আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রধান আসামি কিং মাসুদ ইতালী প্রবাসী খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য পলাতক ছিল।

    এজাহার সুত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত খঞ্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য কিং মাসুদ সরদার প্রথমে ফেসবুকে মেসেজ দিয়ে মাদারীপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র (১৭)র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে মাসুদের পরিকল্পনা মোতাবেক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভিকটিমের সহপাঠী ইমন সরদার কৌশল অবলম্বন করে কলেজ ছাত্রকে গৌরনদী উপজেলার সমরসিংহ বাজারে একটি দোকানের সামনে ডেকে নিয়ে যায় এবং মোবাইল ফোনে কিং মাসুদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। এরপর মাসুদের সহযোগী ইমন কলেজ ছাত্রকে ভ্যানযোগে ইল্লা বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে হাঁটা পথে অন্যএকটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে চা পান করায়। সেখানে কিং মাসুদ উপস্থিত হয়ে চায়ের বিল পরিশোধ করে। চা পানের পর কিং মাসুদ তার সহযোগী ইমনের সহায়তায় ভিকটিমকে মাসুদের আরেক সহযোগী নিলয় আহম্মেদের বসত ঘরের পেছনে বারান্দায় নিয়ে আটকে জোর পূর্বক বলৎকার করে। কলেজ ছাত্র অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নেতা কিং মাসুদ তার দুই সহযোগী ইমন ও নিলয়ের সহায়তায় আমাকে নিলয়ের ঘরে আটকে রেখে বিবস্ত্র করে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে আমাকে জোরপূর্বক বলৎকার করেছে। খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য কিং মাসুদ সরদারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মডেল একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (৮ অক্টোবর) সকালে ভিকটিম কলেজ ছাত্রের বাবা বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

    বলৎকারের শিকার কলেজ ছাত্রর বাবা মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, নিলয় ও ইমনের সহায়তায় কিং মাসুদ আমার কলেজছাত্র পুত্রকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এরপর বিবস্ত্র করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক যৌনসঙ্গমে বাধ্য করা হয় এবং এতে তার শরীরে আঘাত লাগে। শারীরিক নির্যাতনের পর আসামি কিং মাসুদ ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ছেলেকে নানা ধরনের ভয়ভীতি সহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে বাড়ি ফিরে কলেজ ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা বিষয়টি অবগত হই এবং থানায় মামলা দায়েরে করি।
    গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদি হয়ে কিং মাসুদকে প্রধান আসামিসহ তিন জনকে আসামি করে বুধবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার এজাহারনামীয় আসামি বাড়ির মালিক নিলয় আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি কিং মাসুদ পলাতক ছিল। বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা বৃহস্পতিবার বরিশাল কোতোয়ালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে রাতে থানায় সোপর্দ করেছে। আজ তাকে আদালতে প্রেরন করা হবে। মামলার অপর আসামি ইমন সরদারকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। স্থানীয়রা জানান, ইতালী প্রবাসী মাসুদ সরদার ওরফে কিং মাসুদ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর নিজ এলাকায় আসেন। পরবর্তীতে তিনি (মাসুদ) ইতালী প্রবাসী বিএনপি নেতা দাবি করে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার ছবি সম্মিলিত ব্যানার ও পোস্টারের মাধ্যমে এলাকায় বিএনপির ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে নানান অপকর্মে লিপ্ত হন।

  • মাত্র ১৬ মাসে পবিত্র কোরআন মুখস্থ, হাফেজ শিহাবকে রাজকীয় বিদায়

    মাত্র ১৬ মাসে পবিত্র কোরআন মুখস্থ, হাফেজ শিহাবকে রাজকীয় বিদায়

    পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি।।
    মাত্র ১৬ মাসে পবিত্র কোরআনুল কারিম মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছে পঞ্চগড়ের শাহরিয়া প্রধান শিহাব (১১)। তার এই অসাধারণ অর্জনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের সাহেববাজার এলাকার হলি কোরআন নুরানী কিন্ডারগার্টেন মাদরাসায় অনুষ্ঠিত হয় এক আবেগঘন ও বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। মাদরাসার পক্ষ থেকে তাকে দেওয়া হয় রাজকীয় বিদায়, যা এলাকাজুড়ে আনন্দ-উল্লাসের সৃষ্টি করেছে।

    শিহাব পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের নালাগছ গ্রামের মনিরুজ্জামান প্রধানের ছেলে।

    মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জুন মাসে শিহাব ওই মাদরাসায় ভর্তি হয়। নিয়মিত পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও শিক্ষকদের যত্নে মাত্র ১৬ মাসের মধ্যেই সে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করতে সক্ষম হয়। তার এই অসাধারণ সাফল্যে শিক্ষক, সহপাঠী ও অভিভাবক সবাই মুগ্ধ ও গর্বিত।

    শিহাবের এই কৃতিত্বকে স্মরণীয় করে রাখতে মাদরাসার উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিলের। অনুষ্ঠানে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয় তাকে। শিক্ষার্থীরা ‘নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার’, ‘আহলান সাহলান মারহাবা মারহাবা’ স্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলে মাদরাসার প্রাঙ্গণ।

    পরে এক সুসজ্জিত মাইক্রোবাসে তাকে বসিয়ে মোটরসাইকেল বহরের মধ্য দিয়ে রাজকীয় সম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় মাদরাসা থেকে মাইক্রোবাস উঠার মুহূর্ত পর্যন্ত দুই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে বিদায় জানায়।

    অনুষ্ঠানে শিহাবের বাবা মনিরুজ্জামান প্রধানকেও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

    নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে শিহাব বলেন, আমাদের মাদরাসার শিক্ষকরা অনেক যত্নসহকারে পড়ান। তাদের আন্তরিকতার কারণেই আমি এত অল্প সময়ে কোরআনের হাফেজ হতে পেরেছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন আমি বড় হয়ে একজন আলেম হতে চাই।

    তার বাবা মনিরুজ্জামান প্রধান বলেন, এই মাদরাসার পরিবেশ খুবই ভালো। অল্প সময়ের মধ্যে আমার ছেলে ৩০ পারা কোরআনের হাফেজ হয়েছে এটা আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের। আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি এবং সবার কাছে দোয়া চাইছি যেন সে বড় হয়ে একজন খাঁটি আলেম হতে পারে।

    মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. আব্দুর রহমান বলেন, ২০২১ সালে হলি কোরআন নুরানী কিন্ডারগার্টেন মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শিহাব শুরু থেকেই মেধাবী ও মনোযোগী ছিল। কঠোর পরিশ্রমের ফলেই সে মাত্র ১৬ মাসে কোরআনের হাফেজ হতে পেরেছে। বর্তমানে আমাদের মাদরাসায় নুরানী বিভাগে ২২০ জন এবং হেফজ বিভাগে ২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

  • সাংবাদিক নির্যা-তনের বিরু-দ্ধে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের অবস্থান

    সাংবাদিক নির্যা-তনের বিরু-দ্ধে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের অবস্থান

    স্টাফ রিপোর্টারঃ
    সাংবাদিকদের উপর হামলা, হয়রানি ও মিথ্যা মামলার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে নানা ধরনের হুমকি, চাপ ও সহিংসতার। এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো।

    ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়ন এসব বিষয়ে শুরু থেকেই সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে। সংগঠনটি সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলছে, আইনি সহায়তা প্রদান করছে এবং ন্যায়বিচারের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

    এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। যখন একজন সাংবাদিক সত্য প্রকাশের জন্য নিপীড়নের শিকার হন, তখন সেটা শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, সেটা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হামলা।

    এ ছাড়াও তিনি বলেন, আমরা সবসময় সাংবাদিকদের পাশে আছি, এবং থাকব। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা, হামলা কিংবা যেকোনো হয়রানির বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ও সামাজিকভাবে রুখে দাঁড়াবো। প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান, দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিধান করা হোক।

    ইতিমধ্যে সংগঠনটি বেশ কয়েকটি ঘটনায় নির্যাতিত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি সহায়তা, সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের অধিকার রক্ষার চেষ্টা করেছে।

    সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এ দায়িত্ব কেবল সংগঠনের নয়, বরং রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষেরও। সাংবাদিক ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের মতো সংগঠনগুলো সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় যে ভূমিকা রাখছে, তা সত্য প্রকাশে উৎসাহী সাংবাদিকদের সাহস জোগাবে।

  • ত্রিশালে রায়েরগ্রাম শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক ক-মিটির সভাপতি হলেন পিআইও শহীদ উল্লাহ

    ত্রিশালে রায়েরগ্রাম শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক ক-মিটির সভাপতি হলেন পিআইও শহীদ উল্লাহ

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    ময়মনসিংহের ত্রিশালে রায়েরগ্রাম শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং (এডহক) কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ।

    বুধবার (৮অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহের চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে বিদ্যালয় পরিদর্শক চার সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটির অনুমোদন প্রদান করেন।

    এডহক কমিটি গঠন সংক্রান্ত বোর্ডের আদেশে বলা হয়, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রবিধানমালা এস.আর.ও নং- ৮১/আইন/২০২৪-এর ৬৪ (১) ধারা অনুযায়ী এ কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির মেয়াদ পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে আগামী ৩০/১১/২০২৫ ইং তারিখ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে, এবং এই সময়ের মধ্যে নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠন করতে হবে।

    এডহক কমিটির সদস্যরা হলেন- সভাপতি মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ , সদস্য সচিব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক
    মোঃ ছাইফুল ইসলাম, সাধারণ শিক্ষক সদস্য-মুহাম্মদ ফজলুল হক, অভিভাবক সদস্য-আসাদুজ্জামান।

    এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ বলেন, রায়েরগ্রাম শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় আমি অত্যন্ত গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। এই দায়িত্ব যেমন আমার জন্য সম্মানের, তেমনি বিশাল দায়িত্বও। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে আমি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। বিদ্যালয়ের উন্নয়নে অবদান রাখতে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করার পাশাপাশি তিনি তাকে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি নিযুক্ত করায়,ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক,উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে রায়েরগ্রাম শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ধন্যবাদ জানান সুন্দর একটি কমিটি গঠনে সচেষ্ট হয়ে কাজ করার জন্য। তিনি বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক,এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ,সম্মানিত শিক্ষকগণের ও সংশ্লিষ্ট সকলের একান্ত সহযোগিতা কামনা করে সকলের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি ,শৃংখলা ,নিয়মানুবর্তিতা,সদ্যবহার ইত্যাদি পুনর্জাগরণ সৃষ্টি করাই তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

  • পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের ১২ ঘণ্টায় প্রসূতির মৃ-ত্যু

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের ১২ ঘণ্টায় প্রসূতির মৃ-ত্যু

    পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে প্রথম সন্তান জন্মের মাত্র ১২ ঘণ্টা ঘণ্টায় বাইশ বছর বয়সী কৃষ্ণা রানী নামের এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, ডাক্তার না থাকা এবং জরুরী অবস্থায় পর্যাপ্ত সেবা প্রদানে অক্ষমতার কারণে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ।

    প্রসূতি কৃষ্ণা রানী দেবীডুবা ইউনিয়নের প্রেমবাজার এলাকার ধর্ম নারায়ণের স্ত্রী। ৪ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। দেবীগঞ্জ পৌর শহরের করতোয়া সেতু টোল পাড় সংলগ্ন দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কৃষ্ণার সিজারিয়ান অপারেশন হয়।

    জানা গেছে, কৃষ্ণা রানীর আগে থেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। গর্ভকালীন তেমন কোন জটিলতা ছিল না। গতকাল (০৯ অক্টোবর) সিজারের জন্য তাকে দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। প্রাথমিক পরীক্ষার পর বিকাল ৩টার পরে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় প্রসূতি মা কে। সিজারিয়ান অপারেশনটি সম্পন্ন করেন ডা: শিখা মনি।

    অপারেশনের মাধ্যমে কৃষ্ণা কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। অপারেশনের পরে বেডে স্থানান্তরের পর থেকেই শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। রাত ২টা পর্যন্ত ক্লিনিকে রাখা হয় তাকে, এরপর রংপুরে নেওয়ার পথে নীলফামারীতে পৌঁছানোর পরেই তিনি মারা যান।

    কৃষ্ণা রানীর শাশুড়ী কনিকা রায় বলেন, বউমাকে বেডে দেওয়ার পর থেকে বুক ছটফট করছে এবং পায়ে ব্যাথার কথা বলতে থাকে। আমি বারবার ক্লিনিকে জানানোর পরও ডাক্তার আসেননি। শুধু নার্স এসে দেখে যাচ্ছিলেন। আর স্যালাইন ইঞ্জেকশন চলছিল।

    কনিকা রায় আরো বলেন, বউমার সন্তান হচ্ছে না দেখে গত তিন বছর কত জায়গায় যে চিকিৎসা করিয়েছি। আমার বউমার মতো মেয়ে হয়না। এখন নাতনি আছে কিন্তু আমার বউমা নেই। সার্জারির পরে অস্বাভাবিক ভাবে পেট ফুলে উঠেছিল বলেও জানান তিনি।

    কৃষ্ণা রানীর স্বামী ধর্ম নারায়ণ বলেন, আমার স্ত্রীর বিয়ের আগে থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। তবে গুরুতর কোন শারীরিক জটিলতা ছিল না। কাল পরীক্ষানিরীক্ষার পর ডাক্তার বলে রক্ত স্বল্পতা আছে। পরে রক্ত’ও জোগাড় করি। সিজারের পর থেকে বউ সমস্যার কথা বলছিল। রাতে অবস্থা বেশি অবনতি হওয়ায় রংপুরে নেওয়ার পথে নীলফামারী পৌঁছানোর পর বউ মারা যায়।

    এইদিকে সকালে সরেজমিন কৃষ্ণার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। সন্তান রেখে অল্প বয়সে মৃত্যুর বিষয়টি কেউ মেনে নিতে পারছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষ্ণার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল জেনেও ডাক্তার আসেননি আবার তাকে দ্রুত রংপুর কিংবা দিনাজপুরেও রেফার্ড করা হয়নি। কেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ এতক্ষণ সময় নিলেন।

    এই বিষয়ে দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শহিদুল ইসলাম বাবুল মুঠোফোনে বলেন, বিকেলে ক্লিনিকে আসেন। সাক্ষাতে সব বলব।

    এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সুমন ধর বলেন, আমি নিজেই ওই ক্লিনিকে গিয়ে বিষয়টি দেখব।

    সিভিল সার্জন ডা. মো: মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনিনি। আমি ওখানকার লোকাল অথোরিটিকে বলে প্রতিবেদন জমা দিতে বলব।

    উল্লেখ্য, এর আগেও একই ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া অন্তত তিনটি নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল।

  • পিআর নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দা-বিতে ময়মনসিংহে ইসলামি আন্দোলনের বিক্ষো-ভ সমাবেশ

    পিআর নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দা-বিতে ময়মনসিংহে ইসলামি আন্দোলনের বিক্ষো-ভ সমাবেশ

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ।

    জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সাতটি ইসলামী দলের চলমান যুগপৎ আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্বের অংশ হিসেবে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বাদ জুম্মা উক্ত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ময়মনসিংহের উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা।
    ১২ অক্টোবর সব জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করবে দলটির নেতাকর্মীরা।

    বিক্ষোভ সমাবেশে জানানো হয়, জুলাই সনদের ভিত্তিতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, গণহত্যার বিচার, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচারের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বাদ জুমা বিক্ষোভ-মিছিল করা হয়েছে। দাবী বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক এই এই কর্মসূচি চলবে।

    ইসলামি আন্দোলন ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সভাপতি,মুসল্লী পরিষদ বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাবেক সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর ময়মননসিংহ এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়ন কমিটি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সদস্য সচিব ময়মনসিংহ-৪ আসনে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা) এর মনোনয়ন প্রত্যাশী
    বিশিষ্ট চিকিৎসক, হাড় জোড়া রোগ বিশেষজ্ঞ ট্রমা ও স্পাইন সার্জন অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, দেশের এতোগুলো রাজনৈতিক সংগঠন ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করার পরেও সরকারের পক্ষ থেকে কোন রকম ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কেমন যেনো স্বৈরতান্ত্রিক সরকারগুলোর মতো এই সরকারও জনতার দাবীর প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করছে। এই সরকার একমাত্র জনতার রক্তমাখা-জীবন উৎসর্গ করা অভিপ্রায়ে গঠিত। ফলে জনতার দাবীর প্রতি ক্রমাগত উপেক্ষা এই সরকারের নৈতিক ও আইনগত বৈধতাকে নষ্ট করবে।

    অভিলম্বে তিনি সরকারের কাছে আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, ফ্যাসিবাদী ও তার দোসরদের বিচার এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবী জানান।

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডাক্তার নাসির উদ্দীন আহমেদ এর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে
    বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর ভালুকা আসন থেকে মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোস্তফা কামাল কাশেমী,ময়মনসিংহ দক্ষিন জেলা সভাপতি মাওলানা মামুনুর রশিদ সিদ্দিকী, আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

    বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বড় মসজিদের সামনে থেকে বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নতুন মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

  • পিআরসহ ৫ দফা দা-বীতে ময়মনসিংহ নগরীতে জামায়াতের গণ-মিছিল

    পিআরসহ ৫ দফা দা-বীতে ময়মনসিংহ নগরীতে জামায়াতের গণ-মিছিল

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    পিআর পদ্ধতিতে আগামী জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ ঘোষণাসহ পাঁচ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে গণমিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ময়মনসিংহ মহানগর শাখা।

    শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকাল ৪ ঘটিকায় ময়মনসিংহ নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে মিছিল পূর্ব সমাবেশে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ্ কায়সার এর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, ময়মনসিংহ মহানগরীর আমীর ও ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল। তিনি বলেন, জুলাই সনদ এদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা ও প্রত্যাশার। আরেকটি স্বৈরাচারী সরকার যেন আবার চেপে বসতে না পারে সেজন্য জুলাই সনদকে আইনী ভিত্তি দিয়ে পিআর পদ্ধতিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দিতে হবে। সন্ত্রাস, দুর্নীতিমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য জামায়াতের এ আন্দোলন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
    কর্মসূচিতে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এসময় এই মুহূর্তে দরকার পিআর আর সংস্কার, পিআর পদ্ধতির নির্বাচন, দিতে হবে দিয়ে দাও, জামায়াত-শিবির জনতা, গড়ে তোলো একতা স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ময়মনসিংহ জেলা শাখার আমীর আব্দুল করিম। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করতে হবে। অবাধ, সুষ্টু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

    সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে মিছিল বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চরপাড়া মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ, ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ও ত্রিশাল সংসদীয় আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল, সহ-সেক্রেটারি আনোয়ার হাসান সুজন, মাহবুবুল হাসান শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নেত্রকোনা-৪ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার, শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য ডাঃ আব্দুল আজিজ, হায়দার করিম, খন্দকার আবু হানিফ, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারী প্রমুখ ।

  • গোপালগঞ্জে ‘ল’ কলেজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আ-ত্মসাৎ-এর অভি-যোগ

    গোপালগঞ্জে ‘ল’ কলেজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আ-ত্মসাৎ-এর অভি-যোগ

    কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    গোপালগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব থানাপাড়া কবরস্থান সড়কে প্রতিষ্ঠিত শেখ ফজলুল করিম সেলিম “ল” কলেজের পূর্ণ সংস্কার সহ অবৈধ শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    জনস্বার্থে এ সংক্রান্তে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন আহম্মদ খান, আবুল কাশেম মিয়া, রফিক শেখ ও লিজন অধিকারী। এছাড়াও অভিযোগ পত্রে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে মাননীয় আইন উপদেষ্টা, মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), গোপালগঞ্জ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের নাম উল্লেখ রয়েছে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শেখ ফজলুল করিম সেলিম “ল” কলেজের শুরুতে নাম ছিলো ন্যাশনাল “ল” কলেজ, গোপালগঞ্জ। উক্ত “ল” কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন প্রয়াত অ্যাডভোকেট বাবু রনজিৎ কুমার বাড়ৈ গামা। উক্ত কলেজের উপাধ্যক্ষ আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মোঃ আজগার আলী খান। “ল” কলেজের নিজস্ব কোন ক্যাম্পাস/ভবন না থাকায় পূর্ব থানাপাড়া কবরস্থানে অবস্থিত অধ্যক্ষ মহোদয়ের নিজের বাসার নিচ তলায় আন্ডার গ্রাউন্ডে ব্যবহার অনুপযোগী ছোট্ট একটি কক্ষে অধ্যক্ষ মহোদয়ের ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনুযায়ী তাহার অনুগত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ব্যতীত কতিপয় হিন্দু/মুসলমান অ্যাডভোকেটদের দ্বারা তিনি এল.এল.বি শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়াতেন। ক্লাস নেওয়া শিক্ষকগণ উক্ত “ল” কলেজের তালিকাভুক্ত শিক্ষক না হওয়ার কারণে তাদেরকে তিনি কোন প্রকার বেতন ভাতা বা সম্মানী দিতেন না এবং উক্ত কলেজের কোন আয়-ব্যয়ের হিসাব তিনি শিক্ষকদেরকে দেখান নাই বলে অভিযোগ রয়েছে। বিগত ২০২৪ সালের ২২ মার্চ উক্ত কলেজের অধ্যক্ষ বাবু রনজিৎ কুমার বাড়ৈ গামা অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বরণ করেন। তার মৃত্যুর পর থেকে অধ্যক্ষের স্ত্রী জুনিয়র অ্যাডভোকেট মমতা রানী কির্ত্তনীয়া উক্ত “ল” কলেজের কোন স্টাফ বা শিক্ষক না হওয়া সত্ত্বেও বাৎসরিক লক্ষ-লক্ষ টাকার লোভে অবৈধ ও বে-আইনীভাবে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দাবি করে ভুয়া সই/স্বাক্ষর ও সিল দিয়ে উক্ত কলেজের বিভিন্ন কাগজপত্রে তা ব্যবহার করে অতি গোপনে ভুয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে উক্ত কলেজের পক্ষে প্রতি সেশনের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ভর্তি, ফরম- ফিলাপ ও ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার আনুষাঙ্গিক আর্থিক খরচ-খরচা বাবদ প্রতি বছর প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার উর্ধ্বে আয় করে কলেজ উন্নয়নের পক্ষে বা অন্য কোন প্রয়োজনীয় খাতে তেমন কোন ব্যয় না করে চরম প্রতারণাও জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়া তার স্বামীর মৃত্যুর পর হইতে এ পর্যন্ত এক বছর যাবত প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মূল অধ্যক্ষ তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কলেজের পক্ষে আয় কৃত ১৫/২০ কোটি টাকা ব্যক্তিগত স্বার্থে অন্যায় ও অবৈধভাবে আত্মসাৎ করেছেন। “ল” কলেজের দৈনন্দিন বা সাপ্তাহিক বা মাসিক বা বাৎসরিক হিসাব-নিকাশের কোন খাতা পত্র বা রেজিস্ট্রার নেই বা আয়-ব্যয়ের কোন হিসাব সংরক্ষণ করেননি বা কার্যকরী পরিষদের কোন সভা অনুষ্ঠিত হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রয়াত অধ্যক্ষ মহোদয় সাবেক এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিমের একান্ত বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে উক্ত “ল “কলেজের নাম পরিবর্তন করেছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মমতা রানী কির্ত্তনীয়া “ল” কলেজের নামে অর্জিত বরাদ্দকৃত ও আয়কৃত কোটি টাকা অন্যায় অবৈধ বে-আইনিভাবে আত্মসাৎ করেছেন বলে জানান। “ল” কলেজের স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মমতা রানী কির্ত্তনীয়া জাল- জালিয়াতি ও প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা অর্জন ও আত্মসাৎ এর পথ প্রদর্শক বা নাটের গুরু হিসেবে জালজালিয়াতির প্রশিক্ষক বা সম্রাট হিসেবে খ্যাত উক্ত কলেজের নিয়োগ বিহীন স্বঘোষিত অফিস সহকারী বা পিয়ন হিসেবে নিয়োজিত মিন্টু বর (৩২) এবং জাহিদ হোসেন সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে। এরা বিভিন্ন জেলা থেকে ঘুষ- দালালীর মাধ্যমে এল.এল.বি পড়ুয়া সহজ-সরল শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা আদায় করা ও কলেজে ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে চরম জালজালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আর এ কাজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী জড়িত রয়েছেন, তাদের জোগসাজস ছাড়া এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে ধারণা অভিযোগকারীদের।

    বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট সংস্কারের সূত্র ধরে উক্ত শেখ ফজলুল করিম সেলিম “ল” কলেজের নাম পরিবর্তন করে গোপালগঞ্জ “ল” কলেজ রাখা সহ অবৈধ স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং নিয়োগ বিহীন অবৈধ অফিস সহকারী বা পিয়নদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত শেখ ফজলুল করিম সেলিম “ল” কলেজের স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মমতা রানী কির্ত্তনীয়ার নিকট জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই “ল” কলেজটি তারপর প্রয়াত স্বামী অনেক কষ্ট করে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সেবা তার স্বামী কোন দুর্নীতি অনিয়মের সাথে জড়িত নন। তিনি কিভাবে উক্ত কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হয়েছেন শেখ সংক্রান্তে জানতে চাইলে তিনি জানান তিনি রেজুলেশনের মাধ্যমে বৈধভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি যদি বৈধ না হবেন তাহলে কলেজের দাপ্তরিক কাজকর্ম তিনি কিভাবে করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ব্যাপারে অবহিত রয়েছেন। তবে তিনি এ দাবির স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রসেসিং এ রয়েছে বলে জানান, একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদেরকে ম্যানেজের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বলেন, এ বিষয়ে আপাতত কোন নিউজ করার প্রয়োজন নেই। কাগজপত্র ঠিক হলে পরে আপনারা আমাদের পক্ষে নিউজ করে দিবেন আমরা আপনাদেরকে উপযুক্ত সম্মানি দিবো।

    এছাড়াও এ বিষয়ে অভিযুক্ত অফিস সহকারী/ পিয়ন মিন্টু বর ও জাহিদ হোসেনের বক্তব্য নিতে আমাদের প্রতিনিধি উক্ত “ল” কলেজে একাধিকবার গিয়ে তাদেরকে না পাওয়ায় তাদের কারোরই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, “ল” কলেজের নামে ছোট্ট একটি সাইনবোর্ড অতীতে দৃশ্যমান থাকলেও বর্তমানে সেখানে গিয়ে সেই সাইনবোর্ডটি আর দেখা যায়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন “ল” কলেজের নাম পরিবর্তন হয়েছে। আমরা নতুন সাইনবোর্ড তৈরি করতে দিয়েছি।

    উক্ত কলেজের উপাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মোঃ আজগার আলী খান সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের কঠোর শাস্তি প্রদান সহ “ল” কলেজটির কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।