Category: সাহিত্য ও সংস্কৃতি

  • দিক নির্ভর কবি  –আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন

    দিক নির্ভর কবি –আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন

    দিক নির্ভর কবি

    –আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন

    দখিনা বাতায়নে কবি কুল হাটছে
    কাশফুল,ঘাস ফুল, হাতরিয়ে ফেরে,নাইটকুইন
    একঝাক শালিকের চিৎকার,গুন্জনে
    কানপেতে উত্তরে হিমালয়ের শব্দঋণ।

    পূর্ব দক্ষিনে আতংকিত জনপদ, সেই থেকে
    মংডুর বুকচেরা রক্তাভ মৃত্তিকাগর্ভ,কষ্ট পায়
    সান্নিধ্য পেতে একান্তকোণে রোহিঙ্গা,রোহিঙ্গা
    আর মানুষ রুপময়তায় নির্লিপ্ত চরণ আঙ্গিনায়।

    আরাকানবাসী সমুদ্রঝড় কতটা সয়েছে
    কিংকর্তব্য বিমুর ভালবাসা আর নোনাঢেউ
    পূর্ব -পশ্চিম সমুদ্র পাড়ে বিহঙ্গমা আলিঙ্গন করে
    আর ইতিহাসের পাতা ছিড়ে বেড়িয়ে আসতে চায়।

    পশ্চিমদেশ বিদগ্ধসমাজে মাথা উচুকরে সর খোজে
    উন্নয়নের নামে চারিদিক ডোনেট দিয়ে যায়
    গতানুগতিক এনজিও দালালেরা ততোক্ষণে
    ব্যবসার হাড়ি বসিয়ে ফেলে দেশে শেষভূমি সমুদ্রপাড়ে

    পাহাড় ঘেড়া পূর্ব জনপদে আজ রাজপূণ্যা
    একদল মানুষ বসবাস করে অনেককাল
    অহিংসক মানবিকতা মিলনের মেলবন্ধন
    দেশ জুড়ে শান্তিধাম, বলিষ্ঠ নেত্রপাত একুন্জে।।

  • তেতুল খাওয়ার শখ্ লিখেছেন আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন

    তেতুল খাওয়ার শখ্ লিখেছেন আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন

    আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন

    তেতুল গাছে তেতুল ধরে
    আম গাছেতে আম,
    বারোমাসি আমড়া খেলাম
    বর্ষা কালের জাম।

    তেতুল তলায়,তেতুল কুড়াই
    মুখ খুললেই জল,
    তেতুল খাওয়ায় সাদ্ধি লাগে
    বাড়িয়ে দেবে বল।

    তেতুল গোলা ছোট্ট বেলা
    ফেরির নিকট খেতাম,
    উপহারটা গোলা দিয়েই
    হেব্বি মজা পেতাম।

    তেতুল আচাঁড় মজার লাগে
    চটপটিতে জল,
    বন্ধুরা সব হৈ দিয়েছে
    তেতুল খাবো চল।

    বাঘা তেতুল মিষ্টি তেতুল
    তেতুল মানেই টক,
    কেন জানি আমার এখন
    তেতুল খাওয়ার শখ।

  • উচ্চ রক্ত চাপ সমাচার লিখেছেন আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন

    উচ্চ রক্ত চাপ সমাচার লিখেছেন আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন

    উচ্চ রক্ত চাপ সমাচার

    – আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন

    রক্তনালীর প্রেসার থেকে
    বাঁচতে যদি চান
    তেল চর্বি কমিয়ে দিয়ে
    সুষম খাবার খান।

    ভাজাপোড়া তেলের খাবার
    যতোই খাবেন কম
    নিজের কাছে নিজেই ভালো
    বাড়বে পেশির দম।

    লবণ বেশি খাবেন নাকো
    জর্দ্দা তামাক বাদ
    আপনি তবে রবেন ভালো
    পরিবারের চাঁদ।

    ঘুম পাড়বেন নিয়ম মেনে
    প্রতিদিনই হাঁটা
    তাড়িয়ে দেবেন রক্তচাপের
    জুজুবুড়ির ঝাঁটা।

    রক্তচাপের মাপটা যদি
    খুব এগিয়ে চলে
    চিকিৎসকের সেবা নিতে
    যাবেন দলে দলে।

    উচ্চরক্তচাপের কথা
    হয়না কভু শেষ
    নিরব ঘাতক চুপিচুপি
    এগিয়ে আমার দেশ।

    লাগাম ধরে টানতে হবে
    বাঁচতে যদি চান
    নিয়ম মেনে ঔষধ সেবন
    টক ফলমূল খান।

  • আমাদের সুন্দরবন লিখেছেন মো. আমজাদ হোসেন রতন

    আমাদের সুন্দরবন লিখেছেন মো. আমজাদ হোসেন রতন

    আমাদের সুন্দরবন মো. আমজাদ হোসেন রতন

    সুন্দরবন পাহাড়ি বনজ গাছ গাছরা ভরা সমতল উঁচু-নিচু নিয়ে এর অবস্থান।

    অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা নয়নাভিরাম, তোমার মাঝে রয়েছে মানবজাতির সরল নিঃশ্বাসের আহ্বান।

    কোটি মানুষকে দিচ্ছ বিশুদ্ধ বাতাস, তোমার মাঝে রয়েছে হরেক প্রজাতির পশু আর পাখির কলতান।

    সকাল-সন্ধ্যায় সাজো তুমি অপরূপা, ছোট ছোট নদী বেষ্টিত রয়েছে ঝর্ণা ও পাখির কলতান, তুমি কি নারী! নহ নর জানি।
    তোমার মোহতে পাগল সকলে দেখে তোমার রুপ, কি যে অপরুপ।

    সারি সারি সুন্দরি, গজারি আরো না কত কি, ছায়া আর শীতল বাতাসে মন যে আমি হেরি।
    তুমিতো অপরূপ সুন্দরী।
    সুন্দরবন তোমারে তাইতো এমন করে ভালবেসে বার বার ছুটে আসি।
    সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমারি এই ভুমি খানি, তোমারি রূপে বাড়িয়েছো আরও একটু খানি।
    দেখবো তোমায় কাটাবো সময় কত না স্বপ্ন বুনি, একবার দেখলে মন ভরেনা তোমার ঐ রুপ খানি।
    তোমার মাঝে ঠাঁই দিয়েছো কত না জীব জানোয়ার, বনের রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
    সুন্দরবনের সুন্দরী গাছ, রয়েছে ঔষধি গাছের সমাহার।
    সবুজ পাতায় পাতায় অক্সিজেন ভরা জোৎস্না স্নাত আমাদের সুন্দরবন, আমাদের অহংকার।

    মৌমাছির গুঞ্জন শুনি গভীর অরণ্যে ফুলে-ফলে ভরা কতনা বৃক্ষরাজি, ঝরনার জলধারা খেলছে অবিরাম।
    ধ্বংস গড়ার খেলায় মত্ত অবিরাম।
    নাগ নাগিনীর মিলন দেখো একটু খানি, হাজারো পাখির কলতান।
    বিশ্ববাসীকে যেন ডেকে ডেকে করে আহ্বান, এসো এসো হে সখা প্রকৃতিপ্রেমী এই সুন্দরবনে।

  • সভ্যতার পালে হাওয়া লিখেছেন এস এম আক্তারুজ্জামান

    সভ্যতার পালে হাওয়া লিখেছেন এস এম আক্তারুজ্জামান

    “সভ্যতার পালে হাওয়া”
    এস এম আক্তারুজ্জামান

    তেলে মাথায় তেল দেওয়া,
    ধনীর আরোও ধনী হওয়া,
    সহজ পাঠে মন্দ হলেও
    সভ্যতার পালে হাওয়া।

    কর্জ করে ঘি খাওয়া,
    ক্রেডিট কার্ডে বিদেশ যাওয়া,
    নিন্দুকের পীড়া হলেও
    সভ্যতার পালে হাওয়া।

    পরের ধনে পোদ্দারি,
    ভাইয়ে ভাইয়ে গাদ্দারি,
    নীতির চোখে জ্বালা হলেও
    সভ্যতার পালে হাওয়া।

    মরার উপর খাড়ার ঘা,
    বেকার ছেলের প্রেমিকা,
    কানের মাঝে ব্যাথা হলেও
    সভ্যতার পালে হাওয়া।

  • ঝিমিয়ে পড়েছে খাগড়াছড়ির সাংস্কৃতিক অঙ্গন ,ঢিলে ঢালা ভাবে চলে কার্যক্রম,শিল্পী সমাজের ক্ষোভ প্রকাশ

    ঝিমিয়ে পড়েছে খাগড়াছড়ির সাংস্কৃতিক অঙ্গন ,ঢিলে ঢালা ভাবে চলে কার্যক্রম,শিল্পী সমাজের ক্ষোভ প্রকাশ

    মিঠুন সাহা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

    খাগড়াছড়ির সাংস্কৃতিক চর্চা আগের মতো নেই। ঝিমিয়ে পড়েছে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন।সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আগের মতো সেই প্রাণচাঞ্চল্য আর নেই। দিবসভিত্তিক দায়সারা গোছের সরকারি কিছু অনুষ্ঠানই যেন সাংস্কৃতিক চর্চার প্রধান ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সমাজ,রাষ্ট্র সহ সমগ্র বিশ্ব যা দিয়ে পরিবর্তিত হয়।যার প্রয়োগে ব্যক্তি ও সমাজে যুগান্তকারী সফলতা আসে।সেই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রটাতে দিনের পর দিন মাসের পর মাস ধরে চলছে অবহেলা ও উদাসীনতা।যে ক্ষেত্রটাতে রবীন্দ্র নজরুল,জসিমউদদীন,শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সহ অসংখ্য লেখক কবি বিচরণ করে পৃথিবী জোড়া সফলতা ও শান্তির বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল।

    সেই ক্ষেত্রটার কোনো সঠিক চর্চা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় দেখা যাচ্ছে না।খাগড়াছড়ি সদরে নামমাত্র কিছুটা চর্চা হলেও বাকি আটটি উপজেলায় এর কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে।সরকারি প্রোগ্রামগুলোও চলে ঢিলেঢালা ভাবে।তাও নামমাত্র। প্রতিটি উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমি থাকলেও এখানে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।ফলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের খরা চলছে এই পার্বত্য খাগড়াছড়িতে।

    এই পার্বত্য খাগড়াছড়িতে জেলা,উপজেলা প্রশাসক আসে যায় কিন্তু এই ক্ষেত্রটার উন্নয়নে কোনো সুদূরপ্রসারী উদ্যোগও পরিলক্ষিত হয় নি।আর তাছাড়া শিল্পকলা একাডেমিতে স্থানীয় ভাবে যাদের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে তাদেরও নেই কোনো আন্তরিক উদ্যোগ।আর মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি গুলোর কোন পুর্নগঠন না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে থমকে আছে কার্যক্রম।শিল্পী সমাজে নানা অভিযোগ ও গুঞ্জন রয়েছে শিল্পকলায় সরকারি বাজেট এর টাকা যথাযথ ভাবে ব্যয় করা হয় না এবং এই খাতের টাকা নিয়ে রয়েছে নানা অনিয়ম। ২০১৮ সালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ৯টি উপজেলা থেকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যাচাই ও বাচাইকৃত শিল্পীদের নিয়ে যে প্রতিভা অন্বেষণ এর আয়োজন করা হয়েছিল,তার সমাপ্তটা আজও হয়নি।এই নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবাদ জানানো হলেও আজও কোন সুরেহা করেনি কেউ।

    আর তাছাড়া এখানে নেই কোনো ব্যক্তিগত, সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ। শিল্পী,লেখক,কবি উঠে আসার পূর্বে যেন আতুর ঘরে একেকজন প্রতিভাবান শিল্পীর মৃত্যু ঘটছে।এর দায় কে নেবে প্রশ্ন উঠছে সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে। শুধু তাই নয়।বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে রবীন্দ্র নজরুল সহ যারা ফুলের ঢালি সাজিয়ে এই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।এখানে তাদের জন্মদিন কিংবা মৃত্যু দিবসেও নেই কোনো আয়োজন ও কর্মসূচি।

    এই অবস্থা যদি চলমান থাকে তাহলে শিক্ষার্থীরা/ছেলেমেয়েরা কি শিখবে?সেই জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিদের কিভাবে চিনবে এই প্রজন্ম? তাদের কিভাবে লালল করে সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে কাজ করবে? তারা কিভাবে জাতির সম্পদ হয়ে উঠবে?এই প্রশ্নগুলো উঠেছে সাহিত্য ও সঙ্গীত অঙ্গনে।সরকার শিল্পকলার জন্য যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বাজেট রাখেন তার কিছুই বাস্তবায়িত হয় না এই জেলায়।ফলে ছেলে মেয়েরা মোবাইল গেম সহ ভয়ঙ্কর পথে ধাবিত হচ্ছে দিনের পর দিন।

    পানছড়ি উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য ও শিক্ষক সবিতা চাকমা বলেনঃ সাহিত্য, সঙ্গীত সহ শিল্পকলার প্রতিটি সেক্টরে বিচরণ করার মধ্যে দিয়ে কিন্তু মানুষের মাঝে প্রকৃত মূল্যবোধ জাগ্রত হয়।সঠিক নির্দেশনা ও গাইড লাইন এর অভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মেধাবী শিল্পীরা উঠে আসতে পারে না।পানছড়ি উপজেলায় বর্তমানে সাংস্কৃতিক চর্চার একটা শূন্যতা বিরাজ করছে।খাগড়াছড়ি জেলা সহ সব স্থানে যেসব সংগঠন আছে তাতে যদি জেলা উপজেলা প্রশাসন সুদৃষ্টি দেন তাহলে এই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

    মাটিরাঙ্গা বাউল শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মোঃখোকন মিয়া জানান,মাটিরাঙ্গা সহ সমগ্র জেলায় একসময় গানের,নৃত্যের, নাটকের খুব প্রচার ও চর্চা হতো।মানুষের মাঝে উৎসাহ ও প্রেরণা কাজ করতো।প্রত্যেক মানুষের মাঝে এক সুন্দর সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো যা এখন কম দেখা যায়। এর মূল কারণ হচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্থবিরতা।এর গতি ও কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সুদৃষ্টি কামনা করি।

    মাটিরাঙ্গা উপজেলা মেয়র ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শামসুল হক বলেন,একসময় আমরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ঐক্য ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলাম।তবে দুঃখজনক হলেও সত্য সেই ধারা বর্তমানে এসে থমকে গেছে।ছেলেমেয়েরা ফেইসবুক ও অনলাইনের নানা গেইমে আসক্ত হয়ে পড়েছে যেভাবে,এই ধারা চলতে থাকলে মেধাশক্তি হারিয়ে এই ফেলবে তরুণ সমাজ।আর যারা সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পছন্দ করে না তাদের দ্বারা কখনো সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ,জেলা পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন যদি এই কর্মকাণ্ড ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করেন তাহলেই আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র সঠিক পথে এগিয়ে যাবে।নয়তো কখনো সম্ভব নয়।

    বাংলাদেশ টেলিভিশন ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার একজন স্বনামধন্য শিল্পী আবুল কাশেম বলেন: এই পার্বত্য খাগড়াছড়িতে সঙ্গীত চর্চা তেমন ভাবে হচ্ছে না।তাও কোনো রকম ভাবে চলে ঢিলে ঢালা ভাবে।সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও কর্মসূচি নেই।এটা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত।যা থেকে উত্তোরনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা খুবই জরুরী।এখন যেভাবে বাচ্চারা মোবাইলের দিকে ধাবিত হচ্ছে এটাও সঠিক সাংস্কৃতিক চর্চার অভাবের কারণে।

    খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও জেলা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আদনান বলেন: সাংস্কৃতিক অঙ্গন গতিশীল না হলে আমাদের তরুণ প্রজন্ম অপসংস্কৃতিমুখী হবে যার ফলে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।’

    খাগড়াছড়ির শিল্পী, সাহিত্যিক, নাট্যকার ও নির্দেশক সূত্র জানায়,বর্তমানে এসেও গৎবাঁধা এবং পুরোনো কিছু পরিবেশনা ছাড়া অনেক দিন ধরে জেলায় ব্যতিক্রম কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন নেই। রাজনৈতিক অস্থিরতা, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব,তরুণ প্রজন্মের অনাগ্রহ, গণমাধ্যমের একমুখী প্রচারণাসহ নানা কারণ এর জন্য দায়ী।

    আর এই দিকে পানছড়ি ,দিঘীনালা, মহালছড়ি
    ,মানিকছড়ি শিল্পকলা একাডেমির সদস্য ও সঙ্গীত শিক্ষক থোয়াই অঙ্গ চৌধুরী,মুর্তজা পলাশ,বিনু মারমাসহ অনেক সাংস্কৃতিক শিল্পী এই নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন যে দেশ সাংস্কৃতিক জাগরণের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য গান মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রানিত করে চড়ান্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে নিয়েছিল।কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে খাগড়াছড়ি জেলায় সাংস্কৃতিক অঙ্গন যেভাবে ঝিমিয়ে পড়েছে।যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কখনো ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।।সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বেঁচে থাকলে তবেই দেশ বা রাষ্ট্র সঠিক পথে এগিয়ে যায়।

    খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় এই সাংস্কৃতিক চর্চার সঠিক বাস্তবায়ন এর উদ্যোগ গ্রহণ এর জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানান তারা।

    অন্যদিকে অনেক অভিভাবকরা বলেন শিল্পকলা একাডেমিতে বাচ্চাদের নিয়ে তেমন কোনো আয়োজন দেখা যায় না।এতে বাচ্চারা সঙ্গীত চর্চা থেকে পিছিয়ে পড়ছে।এর ফলে নৈতিক অবক্ষয় এর দিকে ধাবিত করছে বাচ্চারা। সামাজিক মূল্যবোধ ধরে রাখা ও অপসংস্কৃতি রোধে দেশীয় সংস্কৃতি চর্চার গতি ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়ার কর্তপক্ষকে অনুরোধ জানান অভিভাবকবৃন্দ।

    জানা যায়,এই জেলায় সাহিত্য, নাটক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রায় অর্ধশতাধিক সংগঠন থাকলেও হাতে গোনা দু-একটি সংগঠন ছাড়া বাকিগুলো নামসর্বস্ব হয়ে পড়েছে। অনেক সংগঠন বিলুপ্তির পথে। পৃষ্ঠপোষকতা ও জেলা, উপজেলা প্রশাসন এর কোনো কার্যকরী উদ্যোগ না থাকার কারণে এই সাংস্কৃতিক পদযাত্রা দিন দিন থেমে যাচ্ছে।

  • “মায়ের চিঠি” লিখেছেন কানু ঘোষ

    “মায়ের চিঠি” লিখেছেন কানু ঘোষ

    “মায়ের চিঠি”
    কানু ঘোষ

    মায়ের চিঠি পেলাম হাতে
    মা আমায় লিখেছে চিঠি।
    যেতে হবে আজই বাড়ি
    মায়ের শরীর নেইকো ভালো।
    মা ছাড়া যে কেহ নাইতো বাড়ি
    আছে মা একাই ঘরে।
    কিছু হলে কি যে হবে
    বুঝে নিলাম দূরে থেকে।
    যানবাহন নাইতো ঘাটে
    দুটি নৌকা আছে পরে।
    তুফান দেখে যাবেনা তারা
    ভাবতে থাকি দাড়িয়ে একা।
    কোন পথ নাইবা পেলাম
    মায়ের দোয়া নিয়ে আমি,
    দিলাম ঝাঁপ জলের মাঝে।
    সাতার কেটে যাব বাড়ি,
    ঘরে কাছে এসে পড়ি।
    মা বলে ডাকটি দিলাম
    মা ছিলো ঘুমের ঘরে।
    জরে শরীর যাচ্ছে পুড়ে,
    আমার ডাক শুনতে পেয়ে
    ঘুমের ঘরে জেগে ওঠে।
    খোকা তুই আসছ নাকি?
    দুয়ার খুলে দেখে আমায়
    খোকা আমার আসছে দেখি!
    জড়িয়ে ধরি মাকে পেয়ে
    খোকা তুই আসবি জানি।
    যাচ্ছে বয়ে ঝড় বাহিরে
    সাতার কেটে আসছি আমি
    তোমার চিঠি পেয়ে হাতে।