Category: পর্যটন

  • খালি চো-খে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড় কখন আসবেন

    খালি চো-খে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড় কখন আসবেন

    মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় প্রতিনিধি :

    বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে যেন আকাশের বুকে প্রকাণ্ড পাহাড়ের ওপর একগুচ্ছ রঙিন প্রতিচ্ছবি। কখনো দেখতে শ্বেত-শুভ্র আবার কখনো দেখতে সূর্য ও কমলা রঙের। ২৮ হাজার ১৬৯ ফুট উচু এই চূড়া মাথায় নিয়ে মহান হিমালয়ের অবস্থান নেপাল ও ভারতের সিকিম রাজ্যের মাঝামাঝি সীমান্তরেখায়। আর বাংলাদেশ থেকে এই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে যেতে হবে পঞ্চগড়ে।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড় ভ্রমণের পদ্ধতি

    দেশের উত্তরাঞ্চলের শেষ বিভাগ রংপুরের জেলা পঞ্চগড়। এর পূর্বে ফাঁমাগড় প্রশাসন, পশ্চিমে ও উত্তরে পশ্চিমবঙ্গ ও দক্ষিণে ঠাকুরগাও ও দিনাজপুর জেলা।

    পঞ্চগড়ের কোন জায়গা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়

    পঞ্চগড়ের অন্তর্গত তেঁতুলিয়া দেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা। এই সদরের প্রাণকেন্দ্রে একটি ঐতিহাসিক ডাকবাংলো রয়েছে। কথিত আছে– এটি নির্মাণ করেছিলেন কুচবিহারের রাজা। জেলা পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত ডাকবাংলোটির পাশে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা হয়েছে সুন্দর একটি পিকনিক স্পট।

    দুটি স্থাপনা একসাথে দারুণ এক দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। সৌন্দর্যমণ্ডিত এ জায়গাটি দেখার জন্য ভূমি থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার উচুতে উঠতে হবে। এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে স্রোতস্বিনী মহানন্দা। নদীর ওপারে ভারত আর এপারে সুউচ্চ গড়ের ওপর এই ডাকবাংলো ও পিকনিক স্পটটি। এই ডাকবাংলোর বারান্দা থেকেই দেখা যায় দূরের দিগন্তরেখায় ভেসে আছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এ ছাড়া তেঁতুলিয়ার অন্যান্য জায়গার মধ্যে বাংলাবান্ধা, বাইপাস, ভজনপুর করতোয়া সেতু, ভিতরগড় থেকেও দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘাকে।

    পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সেরা সময়

    সাধারণত শীতকালে দূরের মেঘমুক্ত আকাশে যেন ভেসে থাকতে দেখা যায় তুষারশুভ্র পাহাড়ের চূড়া। রোদের আলোয় চিকচিক করতে থাকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সেই মোহনীয় শোভা উপভোগ করার জন্য শীতই সবচেয়ে সেরা সময়। পাহাড় চূড়ার প্রাকৃতিক দৃশ্যটি সারা দিনের ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রুপ ধারণ করে। তাই বছরের যে কোন সময় না গিয়ে অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়টাতে যাওয়া উত্তম। এই সময়টাতে আকাশ একদম পরিষ্কার থাকে। মেঘের সঙ্গে বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার লুকোচুরি খেলার কোন উপায় থাকে না। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানের ফাঁকা জায়গায় দাড়ালে খুব ভোরে মেঘ ও কুয়াশামুক্ত নীল আকাশ জুড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের খালি চোখেই এঁকে দেয় বিস্ময়ের চিহ্ন।

    ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যাওয়ার সহজ পদ্ধতি

    বাস এবং ট্রেনের মাধ্যমে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় জেলায় পৌঁছানো যায়। ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল, শ্যামলী ও মিরপুর থেকে পঞ্চগড়ের বাস পাওয়া যায়। পঞ্চগড় নেমে লোকাল বাসে করে যেতে হবে তেঁতুলিয়ায়। এ পথে সারাদিন এই বাসগুলো চলাচল করে। পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়া যাওয়ার পথে এশিয়ান হাইওয়ে পড়ে। ঢাকা থেকে সরাসরি তেঁতুলিয়ারও বাস আছে। ট্রেনে যেতে হলে ঢাকার কমলাপুর থেকে সরাসরি পঞ্চগড় ট্রেন রয়েছে। পঞ্চগড় নেমে এখানকার কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন ও চৌরঙ্গী মোড়ে পাওয়া যাবে প্রাইভেটকার ও মাইক্রো। এগুলোতে করে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যাবে।

    পঞ্চগড় ভ্রমণে থাকা–খাওয়ার ব্যবস্থা

    তেতুলিয়া উপজেলায় আবাসিক হোটেল রয়েছে। মহানন্দা নদীর তীরের ডাকবাংলোতে থাকা যেতে পারে। তবে তার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জেলা পরিষদের ডাকবাংলো এবং বন বিভাগের ও সওজ রেস্টহাউস আছে এগুলোতেও থাকার জন্য অনুমতির প্রয়োজন হবে। আর পঞ্চগড়ে এসে থাকতে চাইলে এখানে সাধারণ মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে।

    পঞ্চগড়ের বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবার রয়েছে, যেগুলো এখনো গ্রামগুলোতে রান্না হয়ে থাকে। অবশ্য এগুলোর অধিকাংশই এখন বিলুপ্তির পথে। খাবারগুলোর মধ্যে ডিম ভূনা, তেঁতুলিয়া উপজেলায় হালকা, শীদলের ভর্তা, পাটা শাকের খাটা, কাউনের ভাত, সজির মুড়ার ছ্যাকা ও মোড়ত লাভা শাকের পেলকা অন্যতম।

    পঞ্চগড়ের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানসমূহ

    কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় দৃশ্য ছাড়াও পঞ্চগড় ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক নিদর্শনের অপূর্ব উপচার সাজিয়ে রেখেছে। এগুলোর মধ্যে মহারাজার দিঘী, চা বাগান, ভিতরগড়, শাহী মসজিদ, মিরগড়, জিরো পয়েন্ট, রক্স মিউজিয়াম, এবং বারো আউলিয়া মাজার অন্যতম।

    বাংলাদেশ থেকে সুদূর কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য দর্শনে পঞ্চগড় ভ্রমণে পাওয়া যাবে এক অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের অভিজ্ঞতা। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নানা শ্রেণীর পর্যটকদের আসা–যাওয়ার ফলে এ অঞ্চলটিতে তৈরি হয়েছে পর্যটন শিল্পের সমৃদ্ধির সুযোগ। হাজার বছরের চমকপ্রদ ইতিহাস-ঐতিহ্য, পাথর ও চা শিল্প; সব মিলিয়ে ভ্রমণের জন্য এক পরিপূর্ণ এলাকা। শুধু প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়নের। বিশেষ করে সরকারি উদ্যোগে এখানে পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হলে, এই ছোট্ট উপজেলাই পরিণত হতে পারে রাজস্ব আয়ের একটি কার্যকর উৎস।

  • বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের দেশি-বিদেশি পর্যটক বনজীবীদের জন্যদ্বার খুলছে

    বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের দেশি-বিদেশি পর্যটক বনজীবীদের জন্যদ্বার খুলছে

    এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট:বিশ্ব ঐতিহ্য পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সুন্দরবন তিন মাস নিষেধাজ্ঞার পর পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলে দেওয়া হবে শুক্রবার। ওই দিন সকাল থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হবে সুন্দরবন। দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ সব ধরনের বনজীবীদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ খ্যাত বাংলার সবুজে ভরা প্রাণ সুন্দরবন।

    শুক্রবার থেকে উঠে যাবে সুন্দরবনে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা। ওই দিন থেকে পুনরায় পর্যটকরা যেতে পারবেন বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বনে। গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটকসহ সব ধরনের বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ।

    রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও হরিণসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও ২৯১ প্রজাতির মৎস্য সম্পদের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে পর্যটকসহ বনজীবীদের কোলাহলমুক্ত থাকায় সুন্দরবনে বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণের পাশাপাশি নির্বিঘ্ন প্রজননের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে জেলে ও পর্যটকদের জন্য পারমিট দেওয়া শুরু হবে। এ জন্য নির্ধারিত স্টেশনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলে ও পর্যটকরা ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন।

    তিনি বলেন, পর্যটকরা বনে যাওয়ার সময় প্লাস্টিকের পানির বোতল, একবার ব্যবহার হয় এমন প্লাস্টিকের খাবার প্লেট, সফট ড্রিংকসের বোতল ও ক্যান নিতে না পারেন সেবিষয়ে কঠোর অবস্থানে সুন্দরবন বন বিভাগ। বনের অভ্যন্তরে পানি ও স্থলভাগে যাতে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক, পলিথিন ও অপচনশীল দ্রব্য ফেলতে না পারে সেজন্য সুন্দরবনে দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কেউ প্লাস্টিকের এসব সামগ্রী বনের মধ্যে নিয়ে যায় তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। করা হবে জরিমানা।

    বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই ম্যানগ্রোভ বনের তিনটি এলাকা ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড ঘোষণা করে। সুন্দরবনের মধ্যে ১৮৭৪ বর্গ কিলোমিটার জলভাগে কুমির, ৬ প্রজাতির ডলফিনসহ ২৯১ প্রজাতির মাছ রয়েছে। অক্সিজেনের অফুরন্ত ভাণ্ডার এই বনে বাংলাদেশ অংশের আয়তন প্রায় ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটর। সুন্দরবনের এই বিশাল অংশ বিশ্বের বৃহৎ জলাভূমি রামসার এলাকা হিসেবেও স্বীকৃত।

    মাছ ও বন্যপ্রাণীর বংশবৃদ্ধি, বিচরণ এবং প্রজনন কার্যক্রমের সুরক্ষায় জুন-জুলাই-আগস্ট এই তিন মাস বনের নদী-খালে মাছ শিকার আহরণে বনবিভাগের নিষেধাজ্ঞা ছিল। শুধু মাছ শিকারই বন্ধ নয়, নির্দিষ্ট এ সময় বনের অভ্যন্তরে ও অভয়ারণ্যে পর্যটকদের প্রবেশও ছিল বন্ধ। সুন্দরবনে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর ৩ মাস সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ আহরণ বন্ধ থাকে।প্রসঙ্গত, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার। সুন্দরবনের মোট আয়তনের ৫২ ভাগই এখন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অংশ। বনের মোট আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ ভাগই হচ্ছে জলাভূমি। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই জলাভূমি ‘রামসার’ এলাকা হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বের অন্যান্য ম্যানগ্রোভ বনের তুলনায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র আবার অধিকতর সমৃদ্ধ। সুন্দরীসহ এই বনে রয়েছে ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড। বাঘ, হরিণ, কুমির, কিং কোবরা, বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতিসহ ৬ প্রজাতির ডলফিন, ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও ২১০ প্রজাতির মৎস্য সম্পদ।

    (এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির)
    বাগেরহাটসংবাদদাতা

  • অতিথি পাখিদের অবাধ বিচরণ রাঙ্গাবালীর সোনারচরে

    অতিথি পাখিদের অবাধ বিচরণ রাঙ্গাবালীর সোনারচরে

    রফিকুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী ঃ
    বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া সোনারচরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোকে নিয়ে ‘এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।

    পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর, কলাগাছিয়ার চর, তুফানিয়ার চর, জাহাজমারার চর, চর হেয়ার সহ সকল দ্বীপ নিয়ে ‘এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছেন। সর্বশেষ গত ২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উল্লেখিত চরসমূহকে নিয়ে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট স্পট তোলার বিষয়ে পুনরায় নির্দেশনা প্রদান করেন।
    পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে শুধুমাত্র বন্ধের দিনগুলোতে পর্যটকরা আসতেন সোনারচরে, কিন্তু পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্নতর, এখন প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি পর্যটরা ভিড় করছেন সোনারচর। এদিকে এ বিপুল পরিমাণে পর্যটকদের আগমন সোনার চরে ঘটলেও পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ করে তাদের উপজেলার মধ্যেই নিকটবর্তী অন্য পর্যটন স্পটগুলোতে নিয়ে নৌ পথে যাওয়া-আসার উন্নতর কোনো বিশেষ ব্যবস্থা চালু নেই। যার ফলে একদিকে যেমন পর্যটকরা ঘুরতে এসে শুধুমাত্র সোনার চরের আশেপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করে ফিরে যাচ্ছে তেমনি পুনরায় এখানে আসার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। কিন্তু এই উপজেলার অন্যান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত এক্সক্লুসিভ এলাকাগুলোতে শুধুমাত্র পরিকল্পিত নৌবিহারের মাধ্যমেই সোনার চরে ঘুরতে আসা পর্যটকদের করা যেতে পারে অধিকতর আকর্ষীত।
    বঙ্গোপসাগরের কোলঘেষে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে দ্বীপ হিসেবে জেগে ওঠা পটুয়াখালী জেলার এ সকল চরসমূহ মূল ভূখন্ড থেকে আনুমানিক ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এবং চরসমূহের অভ্যন্তরীণ দূরত্ব ৩-৫ কিলোমিটার। বিস্তৃত বনভূমির মাঝে শতাধিক ছোট-বড় খাল নিয়ে বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে উঠেছে দশ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর ‘সোনারচর নামে দ্বীপটি। দুই পাশে সারি সারি গাছ, এর মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ছোট বড় খালগুলো। সংরক্ষিত এ বনে রয়েছে কেওড়া, সুন্দরী, বাবলা, ছৈলা, করমচা গোলপাতা, সহ নানা প্রজাতির গাছ। বনে রয়েছে চিত্রা হরিন, মায়া হরিন, শুকর, বন বিড়ালসহ বিলুপ্ত প্রায় বিড়াল প্রজাতির এ সব প্রাণী ও পাখিদের অভয়ারণ্য, অতিথি পাখিদের অবাধ বিচরণে সহজেই মন কেরে নেয় ভ্রমণপিপাসুদের । মনোরম এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উত্তর এবং পশ্চিমে বুড়া গৌরাঙ্গ নদী এবং দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত যে সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বিরল মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সংরক্ষিত এ বনকে বন্যপ্রাণীর জন্য অভায়রান্য হিসেবে ঘোষণা দেন।
    বঙ্গোপসাগরের একবারে নিকটবর্তী রাঙ্গাবালী উপজেলার আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থান হচ্ছে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে জাহাজমারা চর। জাহাজমারার চরের সৈকত জুড়ে লাল কাঁকড়ার ছুটে চলার আলপনা পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষিত করে। রাঙ্গাবালীর উপজেলার কলাগাছিয়ার চরও চরতুফানিয়ার দীর্ঘ সাগর সৈকতেও রয়েছে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার বিরল মনোমুগ্ধকর সুযোগ।
    পটুয়াখালী জেলা সদর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার ও গলাচিপা উপজেলা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে সাগরের তীরে এসব চর ও দ্বীপের অবস্থান এবং এসব দ্বীপগুলোতে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌপথ। কিন্তু এসব চর ও দ্বীপে নৌ জেটি না থাকায় সেখানে নৌযান নোঙ্গর করতে অথবা নৌযান থেকে পর্যটকদের সেখানে ওঠা-নামা করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে যা পর্যটন শিল্প বিকাশে একটি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। তাই রাঙ্গাবালীর এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করতে এসব চর ও দ্বীপে সুবিধাজনকের স্থানে নৌজেটি স্থাপনের জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক।
    এদিকে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরে দক্ষিণবঙ্গের পর্যটন স্পটগুলোকে কেন্দ্র করে সাগর ভিত্তিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবার অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ‘ব্লুু ইকোনমিথ বাস্তবায়নেরও পথ সুগম করতে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

    অপর দিকে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পরে বরিশাল ও ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী লঞ্চসমূহ যাত্রী সঙ্কটে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, এরই মধ্যে ঢাকা থেকে চরমোন্তাজ নতুন লঞ্চ সার্ভিস চালু হওয়ায় সোনারচর সহ সকল পর্যটন রিসোর্ট গুলোতে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেক্ষেত্রে সোনার চর ও জাহাজ মারা সমুদ্র সৈকত থেকে সমুদ্র বিহার বা বেক্রুজ পরিচালনা করা গেলে বেকার হওয়া লঞ্চগুলোকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে সচল রাখা সম্ভব হবে, তেমনি বরিশাল বিভাগের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে।
    এছাড়া সমুদ্র বিহারের মাধ্যমে এখান থেকে বাংলাদেশের দুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা ও কচিখালী/কটকা সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবন গমন সম্ভব হলে তা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে যা পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করা সহ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করবে।
    স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর সোনারচর সহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী আরো কিছু রোমাঞ্চকর বিষয়াদি সংযোজন করা গেলে পর্যটকগণ অধিকতর আকৃষ্ট হবেন। এ ক্ষেত্রে সোনার চর থেকে-কচিখালী, জাহাজমারা-চরতুফানিয়া, কটকা-সুন্দরবনের সাথে নৌ বিহার চালু করা গেলে তা এ অঞ্চলসহ দেশের পর্যটন শিল্পে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা ঘটবে।

  • হিমালয় কন্যা পঞ্চগড় টিউলিপ ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা, যেন একখণ্ড নেদারল্যান্ড

    হিমালয় কন্যা পঞ্চগড় টিউলিপ ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা, যেন একখণ্ড নেদারল্যান্ড

    পঞ্চগড় হতে মোহাম্মদ বাবুল হোসেন :
    সমতলের চা ও কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্যের পর উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এখন মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে শীত প্রধান দেশের নজরকাড়া ফুল টিউলিপ। ভিনদেশি টিউলিপের সৌন্দর্যে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার দর্জিপাড়া গ্রাম। প্রায় দুই একর জায়গা রাঙানো ১০ রঙের টিউলিপ ফুলের উদ্যান যেন একখন্ড নেদারল্যান্ড। এ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বেড়েছে পর্যটক সমাগমও। পর্যটনে যুক্ত হয়েছে নতুনমাত্রা।
    এবার ২০ জন উদ্যোক্তা নিয়ে চাষ হয়েছে টিউলিপ। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচার ডেভলপমেন্ট (ইফাদ)’র সহযোগিতায় দেশের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)’র মাধ্যমে পাইলট প্রকল্পে চাষ করা হচ্ছে বিদেশি ফুল টিউলিপ।
    ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি মহান মাতৃভাষা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক এই ফুলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
    ম গিয়ে দেখা যায়, দুই একর জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠা বাগানের এক লাখ গাছে দুলছে বাহারি রঙের ১০ প্রজাতির রাজসিক টিউলিপ। বাগানের ঠিক মাঝখানে সবুজ গমের চারার মাঝে টিউলিপ ফুটিয়ে দেয়া হয়েছে জাতীয় পতাকার রূপ। এসব ফুল যেমন সৌন্দর্য বর্ধন করছে, তেমনি ছড়াচ্ছে মুগ্ধতাও। আর উদ্যোক্তারা দেখছেন অর্থনীতিক সমৃদ্ধির স্বপ্ন। পর্যটকে মুখরিত বাগানে সবাই যেন ব্যস্ত ফটোসেশনে। টিউলিপ ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের এখানে ঘুরতে এসে যাতে কোন প্রকার অসুবিধা না হয় সেজন্য এখানেই পঞ্চগড়ে সদরে ও পর্যটন এলাকায় অত্যাধুনিক মডেলের ধানসিঁড়ি ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেল মাধ্যমে থাকা-খাওয়ার হোটেল ব্যবস্থাও রয়েছে।
    এদিন টিউলিপ পাইলট প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের অবহিতকরণ করেছেন ইএসডিও’র পরিচালক (প্রশাসন) ড. সেলিমা আখতার। তিনি বলেন, ভৌগলিক অবস্থানগত দিক থেকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া পর্যটনে অপার সম্ভাবনাময় এলাকা। হিমালয় কন্যাখ্যাত এ জেলার তেঁতুলিয়ায় আমরা ইকো ট্যুরিজম গড়ে তুলতে ভিনদেশি টিউলিপ ফুলের চাষ ‘পাইলট প্রকল্প’ গ্রহণ করেছি। টিউলিপ ভিনদেশি নেদারল্যান্ডের উচ্চ মূল্যের দামি ফুল। পর্যটন এলাকায় টিউলিপ ফুলের বাগান সৃষ্টি হওয়ায় পর্যটনের আকর্ষণও বেড়েছে। দেশ বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এসে বাহারি রঙের টিউলিপ ফুল দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। কেউ সেলফি তুলছেন। আবার কেউ ফুল কিনছেন।
    ড. সেলিমা আখতার আরও বলেন, টিউলিপ চাষে এবার ব্যয় হয়েছে ৮০ লাখ টাকা। বাল্ব বা চারার দাম, শেড নেট, ফেন্সিং নেট, রাসায়নিক সার, জৈবসার, কীটনাশক ও শ্রমের মূল্য ধরেই এই ব্যয় হয়েছে। গত ১০ জানুয়ারি এক লাখ টিউলিপ ফুলের বাল্ব (বীজ) রোপণ করা হয়। রোপনের ১৫-১৬ দিনেই চারা গজিয়ে কলি ফুটে। টিউলিপ ফুল উৎপাদন করে ফুলের জগতে অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে উৎপাদিত প্রতিটি ফুল বাগান থেকে ৫০ টাকা দরে স্থানীয়ভাবে বিক্রি শুরু করা হচ্ছে। ফুল বাগানে ক্ষুদ্র পরিসরে বিনোদন পার্ক তৈরি করে পর্যটক ও ফুলপ্রেমিদের জন্য প্রবেশ মূল্য চালু করা হয়েছে। এতে করে ফুল বিক্রি বাদেও তারা অতিরিক্ত টাকা আয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
    মুগ্ধ পর্যটকরা বলছেন, ফাগুনের আগমনে বসন্ত রাঙাচ্ছে নেদারল্যান্ডের ফুটন্ত টিউলিপ। যেন আমরা কাশ্মীর বা নেদারল্যান্ডে আছি। বাহারি রঙের টিউলিপের সৌন্দর্য আমাদেরকে মোহিত করছে। দেশের মাটিতে এরকম বাণিজ্যিক আকারে শীত প্রধান দেশের এমন দামি ফুল চাষ হবে ভাবাই যায় না।
    সুমি আক্তার, মনোয়ারা খাতুন, আয়েশা সিদ্দিকাসহ কয়েকজন উদ্যোক্তা বলেন, প্রথমবারের মতো গত বছর আমরা প্রান্তিক ৮ জন নারী মিলে এ অঞ্চলে নেদারল্যান্ডের রাজকীয় টিউলিপ ফুটিয়ে ছিলাম। এ অঞ্চলে টিউলিপ চাষ করে আমরা যেমন সফল হয়েছিলাম তেমনি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছিলাম। এছাড়া টিউলিপ ফুল দেখতে এ অঞ্চলে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটেছিল। আশা করছি এবারও টিউলিপের দৃষ্টি নন্দন সৌন্দর্য ও হাসিতে মুগ্ধ করবে।
    জানা গেছে, টিউলিপ ফুল চাষ করতে হলে তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে উত্তরের এ উপজেলায় বরফের পর্বতযুগল হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা কাছে থাকায় এখানে বেশ সময় শীত থাকে। এরকম শীতে টিউলিপ চাষে সুবিধা রয়েছে।
    এর আগে, গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে দর্জিপাড়া ও শারিয়ালজোত গ্রামে ৮জন প্রান্তিক নারী কৃষাণীদের নিয়ে ৬ প্রজাতের ৪০ হাজার টিউলিপ চাষ শুরু করা হয়। প্রথমবারেই টিউলিপ ফুটিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলে নারীরা।
    দ্বিতীয়বারের মতো এবার বাণিজ্যিকভাবে ২০ জন নারী কৃষাণীদের হাতে প্রস্ফুটিত হচ্ছে ১০ প্রজাতের নজরকাড়া টিউলিপ। সেগুলো হলো- অ্যান্টার্কটিকা হোয়াইট (সাদা), ডেনমার্ক (কমলা ছায়া), লালিবেলা (লাল), ডাচ সানরাইজ (হলুদ), ষ্টংগোল্ড (হলুদ),জান্টুপিঙ্ক (গোলাপী), হোয়াইট মার্ভেল (সাদা), মিষ্টিকভ্যান ইজক (গোলাপী), হ্যাপি জেনারেশন (সাদা লাল ছায়া) এবং গোল্ডেন টিকিট (হলুদ)।
    উল্লেখ্য, টিউলিপ শীত প্রধান অঞ্চলের ফুল। যার বৈজ্ঞানিক নাম ‘টিউলিপা’। এটি নেদারল্যান্ডস’র ফুল। যা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ। এটি বাগানে কিংবা কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করা হয়। ফুলদানীতে সাজিয়ে রাখার জন্য এর আবেদন অনন্য। বর্ষজীবী ও কন্দযুক্ত প্রজাতির এ গাছটি লিলিয়াসিয়ে পরিবারভুক্ত উদ্ভিদ। টিউলিপের প্রায় ১৫০ প্রজাতি এবং এদের অসংখ্য সংকর রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিডসহ এর সব প্রজাতিকেই সাধারণভাবে টিউলিপ নামে ডাকা হয়। শীতপ্রধান দেশের বসন্তকালীন ফুল হিসেবে পরিচিত।
    তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তেঁতুলিয়ার মাটিতে ভিনদেশি ফুল, সবজি ও ফল চাষ হচ্ছে। বিদেশি ফুল টিউলিপ চাষে এ অঞ্চলে পর্যটনে নতুনমাত্রা তৈরি করেছে। সেই সাথে টিউলিপ চাষে ২০ নারী চাষিদের অর্থনীতি সমৃদ্ধি ঘটছে। কৃষি অফিস সব সময় পাশে আছে। আগামীতে টিউলিপ চাষ আরও বড় আকারে সম্প্রসারিত করা হলে অর্থনীতি ও আর্থ-সামাজিক এবং পর্যটনে সমৃদ্ধ ঘটবে বলে আশা করছি।

  • নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা রাঙ্গাবালীর সোনারচর ও জাহাজ মারা

    নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা রাঙ্গাবালীর সোনারচর ও জাহাজ মারা

    রফিকুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী পটুয়াখালী ঃ
    সাগরকন্যা কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেসা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোকে নিয়ে ‘এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।

    পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর, কলাগাছিয়ার চর, তুফানিয়ার চর, জাহাজমারার চর, চর হেয়ার ও দ্বীপ নিয়ে ‘এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছেন। সর্বশেষ গত ২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উল্লেখিত চরসমূহকে নিয়ে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট স্পট তোলার বিষয়ে পুনরায় নির্দেশনা প্রদান করেন।
    পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে শুধুমাত্র বন্ধের দিনগুলোতে পর্যটকরা আসতেন কুয়াকাটায়, কিন্তু পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্নতর, এখন প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি পর্যটরা ভিড় করছেন কুয়াকাটায়। এদিকে এ বিপুল পরিমাণে পর্যটকদের আগমন কুয়াকাটায় ঘটলেও পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ করে তাদের পটুয়াখালী জেলার মধ্যেই নিকটবর্তী অন্য পর্যটন স্পটগুলোতে নিয়ে নৌ পথে যাওয়া-আসার উন্নতর কোনো বিশেষ ব্যবস্থা চালু নেই। যার ফলে একদিকে যেমন পর্যটকরা ঘুরতে এসে শুধুমাত্র কুয়াকাটার আশেপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করে ফিরে যাচ্ছে তেমনি পুনরায় এখানে আসার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। কিন্তু এই কুয়াকাটা সাগর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার অন্যান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত এক্সক্লুসিভ এলাকাগুলোতে শুধুমাত্র পরিকল্পিত নৌবিহারের মাধ্যমেই কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের করা যেতে পারে অধিকতর আকর্ষীত।
    বঙ্গোপসাগরের কোলঘেষে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে দ্বীপ হিসেবে জেগে ওঠা পটুয়াখালী জেলার এ সকল চরসমূহ মূল ভূখন্ড থেকে আনুমানিক ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এবং চরসমূহের অভ্যন্তরীণ দূরত্ব ৩-৫ কিলোমিটার। বিস্তৃত বনভূমির মাঝে শতাধিক ছোট-বড় খাল নিয়ে বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে উঠেছে দশ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর ‘সোনারচর নামে দ্বীপটি। দুই পাশে সারি সারি গাছ, এর মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ছোট বড় খালগুলো। সংরক্ষিত এ বনে রয়েছে কেওড়া, সুন্দরী, বাবলা, ছৈলা, করমচা গোলপাতা, সহ নানা প্রজাতির গাছ। বনে রয়েছে চিত্রা হরিন, মায়া হরিন, শুকর, বন বিড়ালসহ বিলুপ্ত প্রায় বিড়াল প্রজাতির এ সব প্রাণী ও পাখিদের অভয়ারণ্য। মনোরম এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উত্তর এবং পশ্চিমে বুড়া গৌরাঙ্গ নদী এবং দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত যে সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বিরল মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সংরক্ষিত এ বনকে বন্যপ্রাণীর জন্য অভায়রান্য হিসেবে ঘোষণা দেন।
    বঙ্গোপসাগরের একবারে নিকটবর্তী রাঙ্গাবালী উপজেলার আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থান হচ্ছে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে জাহাজমারা চর। জাহাজমারার চরের সৈকত জুড়ে লাল কাঁকড়ার ছুটে চলার আলপনা পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষিত করে। রাঙ্গাবালীর উপজেলার কলাগাছিয়ার চরও চরতুফানিয়ার দীর্ঘ সাগর সৈকতেও রয়েছে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার বিরল মনোমুগ্ধকর সুযোগ।
    পটুয়াখালী জেলা সদর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার ও গলাচিপা উপজেলা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে সাগরের তীরে এসব চর ও দ্বীপের অবস্থান এবং এসব দ্বীপগুলোতে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌপথ। কিন্তু এসব চর ও দ্বীপে নৌ জেটি না থাকায় সেখানে নৌযান নোঙ্গর করতে অথবা নৌযান থেকে পর্যটকদের সেখানে ওঠা-নামা করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে যা পর্যটন শিল্প বিকাশে একটি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। তাই রাঙ্গাবালীর এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করতে এসব চর ও দ্বীপে সুবিধাজনকের স্থানে নৌজেটি স্থাপনের জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক তিনি বলেন, পটুয়াখালীর কুয়াকাটাকে ঘিরে এ অঞ্চলে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট স্পট গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অংশ হিসেবে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এ প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।
    এদিকে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরে কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে সাগর ভিত্তিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবার অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ‘ব্লুু ইকোনমিথ বাস্তবায়নেরও পথ সুগম করতে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। কুয়াকাটা সাগর সৈকত হতে সুসজ্জিত জাহাজ/লঞ্চের মাধ্যমে খাবার ও থাকার সুবিধা সংবলিত ‘বেক্রুজথ বা সমুদ্র বিহারের আদলে সুন্দরবনের কচিখালী /কটকা সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত ভ্রমণের আয়োজন করা গেলে পর্যটকদের আমোদভ্রমণ ও রোমাঞ্চকর যাত্রার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার দফতর থেকে বিভাগীয় কমিশনার ২০ অক্টোবর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করছেন।
    পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পরে বরিশাল ও ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী লঞ্চসমূহ যাত্রী সঙ্কটে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, সেক্ষেত্রে কুয়াকাটা সাগর সৈকত থেকে সমুদ্র বিহার বা বেক্রুজ পরিচালনা করা গেলে লঞ্চগুলোকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে সচল রাখা সম্ভব হবে, তেমনি বরিশাল বিভাগের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
    এছাড়া সমুদ্র বিহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের দুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে কচিখালী/কটকা সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবন গমন সম্ভব হলে তা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে যা পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করা সহ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
    কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর কুয়াকাটায় দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী আরো কিছু রোমাঞ্চকর বিষয়াদি সংযোজন করা গেলে পর্যটকগণ অধিকতর আকৃষ্ট হবেন। এ ক্ষেত্রে কুয়াকাটা-কচিখালী/কটকা-সুন্দরবনের সাথে নৌ বিহার চালু করা গেলে তা এ অঞ্চলসহ দেশের পর্যটন শিল্পে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা ঘটবে।

  • নড়াইলের প্রাচীন স্থাপনা রাণী রাশমণিএস্টেটের কাচারি বাড়ি হতে পারে আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র

    নড়াইলের প্রাচীন স্থাপনা রাণী রাশমণিএস্টেটের কাচারি বাড়ি হতে পারে আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলের প্রাচীন স্থাপনা রাণী রাশমণি এস্টেটের কাচারি বাড়ি হতে পারে আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র। নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানার অন্তর্গত জয়নগর ইউনিয়নের নড়াগাতি নামক গ্রামে রয়েছে রাণী রাশমণি এস্টেটের কাচারি।
    কালিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলােমিটার পূর্ব দিকে নড়াগাতি নামক গ্রামের অবস্থান।
    এ গ্রামের নড়াগাতি বাজারের সাথে লাগােয়া দক্ষিণ দিকে নড়াগাতি–বাঐসােনা পাকা সড়কের পশ্চিম পাশে রাণী রাশমনি এস্টেটের কাচারি বাড়ির অবস্থান।
    জানা যায় যে, ব্রিটিশ আমলে কলকাতায় রাণী রাশমণি নামে একজন জমিদার ছিলেন । তিনি তৎকালীন মকিমপুর ( বর্তমান রাধানগর ) পরগণার মালিক ছিলেন । নড়াগাতিতে রাণী রাসমণি এস্টেটের একটি প্রাচীন কাচারিবাড়ি আছে।
    জনশ্রুতি আছে , রাণী রাসমণি তাঁর জমিদারি মকিমপুর থেকে কালিয়ার নড়াগাতিতেও বিস্তার করেন। নড়াগতি বাজার সংলগ্নে অবস্থিত প্রাচীন কাচারি বাড়িটি রাণী রাশমণি এস্টেটের কাচারি বাড়ি হিসেবে স্থানীয় লােকজনের কাছে সুপরিচিত ।
    এটিকে আবার অমৃতনগর জমিদারির কাচারী নামে অনেকে উল্লেখ করেন। রাণী রাশমণি এস্টেটের কাচারি বাড়ির মাঝখানে একতলা বিশিষ্ট ১ টি ভবন রয়েছে । কাচারি ঘর হিসেবে পরিচিত এ ভবন থেকে প্রায় ৬.৫ মিটার পূর্ব দিকে ১ টি কালী মন্দির , প্রায় ৯ মিটার দক্ষিণ দিকে ধ্বংসাবশেষের ১ টি টিবি এবং প্রায় ৩৫ মিটার উত্তর–পূর্ব দিকে একটি প্রাচীন পুকুর রয়েছে।
    এ কাচারি বাড়ির দক্ষিণাংশে বিদ্যমান ধ্বংসাবশেষের ঢিবিটি রয়েছে। ঢিবিটির আয়তন প্রায় ৪৫০ বর্গ মিটার। এ ঢিবিটি পার্শ্ববর্তী সমতল ভূমি থেকে প্রায় ১ মিটার উঁচু । সম্ভবত এ ধ্বংসাবশেষের ঢিবিটি তৎকালে নীলকরদের নীল প্রক্রিয়াজাতকরণের স্থান বা নীল জাগের হাউজ ছিল । এ স্থানে প্রায় ৬০ সে.মি. পুরু দেয়ালের অংশবিশেষ দেখা যায়।
    তাই স্থানীয় লোকজনের দাবী নড়াইল জেলায় কালিয়া উপজেলার প্রাচীন স্থাপনাটি অর্থাৎ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনাগুলিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘােষণা করে সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হলে পর্যটকদের কাছে হতে পারে আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র।