Category: দেশজুড়ে

  • ধামইরহাটে কৃষি প্রণোদনা বি-তরণ

    ধামইরহাটে কৃষি প্রণোদনা বি-তরণ

    আবুল বয়ান, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ ধামইরহাটে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে রবি/ ২০২৫-২৬ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ফসলের বীজ ও সার বিতরণের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তর ধামইরহাট উপজেলার বাস্তবায়নে ২৯ অক্টোবর বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদের সামনে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ইউ এন ও শাহরিয়ার রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তৌফিক আল জুবায়ের, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরদার, জনস্বাস্থ্য দপ্তরের উপসহকারি প্রকৌশলী মিলন কুমার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনসুর আলী, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা (এসএপিপিও) জাহাঙ্গীর রাব্বি। চলতি মৌসুমে ১১০০ জন গম চাষীকে ২০কেজি গম, ২০ কেজি ডিএপি, ১০কেজি এমওপি। ৪২০০ জন সরিষা চাষীকে ১কেজি বীজ, ১০কেজি ডিএপি ও ১০কেজি এমওপি। ২০ জন সূর্যমুখী চাষীকে ১ কেজি বীজ ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি। ১০জন চীনাবাদাম চাষীকে ১০কেজি চীনাবাদাম ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি। ৪০ জন শীতকালীন পেঁয়াজ চাষীকে ১কেজি বীজ ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি। ২০জন মুগ ডাল চাষীকে ৫কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫কেজি এমওপি। ৯০ জন মশুর ডাল চাষীকে ৫কেজি বীজ, ১০কেজি ডিএপি ও ৫কেজি এমওপি। ৩০ জন অড়হড় চাষীকে ২কেজি বীজ, ৫কেজি ডিএপি ও ৫কেজি করে এমওপি প্রদান করা হয়। মোট ৫৫১০জন কৃষকের মাঝে প্রণোদনা বিতরণ করা হয়।

    আবুল বয়ান
    ধামইরহাট, নওগাঁ।

  • পাইকগাছায়  তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পেটে লা-থি গর্ভস্থ শিশুর মৃ-ত্যু; থানায় অ-ভিযোগ

    পাইকগাছায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পেটে লা-থি গর্ভস্থ শিশুর মৃ-ত্যু; থানায় অ-ভিযোগ

    পাইকগাছা ( খুলনা ) প্রতিনিধি।।
    খুলনার পাইকগাছায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পেটে লাথি মেরে গুরুতর আহত করার ঘটনায় গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। হামলাকারীরা শুধু শারীরিক নির্যাতনেই থামেনি — তারা ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ভেঙে তছনছ করেছে, লুট করেছে নগদ টাকা, ভাঙচুর করেছে শান্তি ও মানবতার দেওয়াল।
    ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকাল ৬টার দিকে উপজেলার ৫নং সোলাদানা ইউনিয়নের কাকড়াবুনিয়া (জামাইপাড়া) এলাকায়। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রভাবশালী একটি চক্র ভূমিহীন পরিবারের ওপর দমননীতি চালিয়ে আসছে।
    মোছাঃ রাজিয়া বেগম (৪৫) পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন— আমাদের মতো প্রায় ৫০টি ভূমিহীন পরিবার সরকারি ওয়াপদার রাস্তায় ইউনিয়ন পরিষদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতিতে দীর্ঘদিন বসবাস করছে। কিন্তু কিছু দুর্বৃত্ত আমাদের জায়গা দখলের পাঁয়তারা করছে।
    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়— আসামী ইয়াসিন আরাফাত (২০), নয়ন মোড়ল (২২), তরুণ মুনি (২৩) ও আরও কয়েকজন রাজিয়া বেগমের বাড়ির সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। প্রতিবাদ করলে ইয়াসিন আরাফাত রাজিয়ার গর্ভবতী পুত্রবধূ মোছাঃ শাপলা খাতুনের (তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা) পেটে লাথি মারে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি রক্তক্ষরণে অচেতন হয়ে পড়েন। ওই সময় ভুক্তভোগী পরিবার ৯৯৯ কল করলে পাইকগাছা থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে এবং ভূমিহীন পরিবারের ওপর দমননীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক হয়রানিমূলক মামলা রয়েছে।
    স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভের সন্তান মারা যায়।
    এসময় নয়ন মোড়ল ও তার সহযোগীরা শাপলার স্বামী শেখ আলী হোসেনকে পিটিয়ে জখম করে। পরে হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং বিছানার নিচে থাকা ৫০ হাজার ভাটার দাদনের (অগ্রিম নেওয়া) নগদ টাকা লুট করে নেয়।এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
    বাদী রাজিয়া বেগম বলেন, আমার পুত্রবধূর গর্ভের সন্তানকে তারা মেরে ফেলেছে। এটা শুধু হামলা নয়— এটা নৃশংস হত্যা। আমি আমার সন্তানের রক্তের বিচার চাই।
    পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সঞ্জয় কুমার মন্ডল জানান,— ফিজিক্যাল এ্যাসাডে ভর্তি করা হয়েছিলো এবং তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আল্ট্রাসনো করার পরে রিপোর্টে গর্ভের বাচ্চা
    নষ্ট হওয়ায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পেটে আঘাতের কারণে বাচ্চা নষ্ট হতে পারে।
    পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ঘটনা অভিযোগ পেয়েছি নিয়মিত মামলা হবে।
    এলাকাবাসীর দাবি, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন বর্বরতা করার সাহস না পায়।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা খুলনা।

  • পাইকগাছা পৌর সদরে কাঠ পুড়ি-য়ে চিংড়ি শু-কানো ধোঁ-য়ায় অতি-ষ্ঠ এলাকাবাসী

    পাইকগাছা পৌর সদরে কাঠ পুড়ি-য়ে চিংড়ি শু-কানো ধোঁ-য়ায় অতি-ষ্ঠ এলাকাবাসী

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    খুলনার পাইকগাছা পৌরসভায় কাঠ পুড়িয়ে চিংড়ি শুকানোর ধোঁয়ায় পরিবেশ ও বায়ু দূষণে ভোগান্তিতে পড়েছে পৌরবাসী। পাইকগাছা পৌরসভায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জনবসতি এলাকায় প্রকাশ্যে কাঠ পুড়িয়ে চিংড়ি মাছ শুকানোর ঘটনায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃস্টি হযেছে। ধোঁয়ায় পরিবেশ, বায়ু দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
    সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কামাল হোসেন ও দেবব্রত জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাড়িঘরের মাঝখানে শত শত মন দেশীয় কাঠ পুড়িয়ে চিংড়ি মাছ শুকাচ্ছেন। আমাবশ্যা ও পুর্নিমার সময় দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশ ঢেকে রাখে, চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে যায়। এতে একদিকে পথচারীরা শ্বাসকষ্টে ভোগেন, অন্যদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চরম কষ্টে দিন পার করছেন। এঘটনায় এলাকাবাসী অভিযোগ করলেও তার প্রতিকার পায়নি।
    স্থানীয়রা জানান, সরকারি অনুমোদন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই জনবসতির মধ্যে এ অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। চিংড়ি শুকানোর কাজে তারা কাঠের পাশাপাশি কেরোসিন তেল ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করেন, যা থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
    স্থানীয় নাগরিক কবির হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার বাচ্চারা ধোঁয়ায় কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। ঘরের ভেতরেও ধোঁয়ার গন্ধে থাকা যায় না। আমরা বহুবার মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
    বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিংড়ি শুকানোর সময় কাঠে কেরোসিন তেল ব্যবহার করলে তাতে থাকা রাসায়নিক উপাদান চিংড়ির মধ্যে প্রবেশ করে। এসব মাছ নিয়মিত খেলে ফুসফুস, লিভার ও কিডনি জটিলতা, এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
    স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সরকার যেখানে পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেখানে জনবসতির মধ্যে কাঠ পুড়িয়ে মাছ শুকানো শুধু আইন ভঙ্গই নয়, জনগণের জীবনের ওপরও ভয়ানক হুমকি। আমরা দ্রুত এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই।

  • গাজীপুর জেলা ইলেক্ট্রিক্যাল এসোসিয়েশনের নির্বাচনের প্র-চারণা শুরু

    গাজীপুর জেলা ইলেক্ট্রিক্যাল এসোসিয়েশনের নির্বাচনের প্র-চারণা শুরু

    গাজীপুর প্রতিনিধি:
    গাজীপুর জেলা ইলেক্ট্রিক্যাল এসোসিয়েশন ২০২৬-২০২৭ সেশনের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। ইতোমধ্যে ভোট প্রার্থনায় নেমেছেন জহিরুল-ফারুক ঐক্য পরিষদ। পরিচ্ছন্ন ইমেজ ও সৎ আদর্শের কারণে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে প্যানেলটি।

    প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্যানেলটির নেতাকর্মীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সমর্থন চাইছেন। ভোটারদের অনেকেই জানিয়েছেন, বিগত দিনে সংগঠনের কল্যাণে মোঃ জহিরুল ইসলাম সরকার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। তাই তারা সভাপতি পদে তাকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    ভোটাররা বলেন “জহিরুল ইসলাম সরকার দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের স্বার্থে কাজ করেছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে সংগঠনকে গতিশীল করেছেন।”

    সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ জহিরুল ইসলাম সরকার বলেন, “আমি এবং আমার পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী হলে, গাজীপুর জেলা ইলেক্ট্রিক্যাল এসোসিয়েশনকে একটি মডেল সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবো। বর্তমানে জেলায় প্রায় ১৬০০ এর বেশি ইলেক্ট্রিক্যাল দোকান রয়েছে। আমরা সবাইকে এই সংগঠনের আওতায় নিয়ে আসবো।”

    অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফারুক হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “কোনাবাড়ি ও কাশিমপুর এলাকায় আমার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে এই পেশার সাথে যুক্ত। পরিচ্ছন্ন ইমেজ এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমি আশা করছি, ভোটাররা আমাকে এবং আমার পূর্ণ প্যানেলকে বিজয়ী করবেন।” আগামী নির্বাচনকে ঘিরে ইলেকট্রিক্যাল ব্যবসায়ী সমাজে উচ্ছ্বাস ও নির্বাচনমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

  • মোরেলগঞ্জে অ-সহায় পরিবারের ওপর স-শস্ত্র হা-মলা: বৃদ্ধের দাড়ি টে-নে ছিঁ-ড়ে ফেলার অভিযোগ

    মোরেলগঞ্জে অ-সহায় পরিবারের ওপর স-শস্ত্র হা-মলা: বৃদ্ধের দাড়ি টে-নে ছিঁ-ড়ে ফেলার অভিযোগ

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির,বিশেষ প্রতিনিধি:
    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বিশারীঘাটা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অসহায় পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় আব্দুস ছোবাহান হাওলাদার (৫৮)। স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা শুধু মারধরই করেনি, বরং তার দাড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলে—যা ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ অক্টোবর (শুক্রবার) জুমার নামাজের আগে দুপুরে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ১৫–২০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি হঠাৎ আব্দুস ছোবাহানের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ও তার দুই মেয়ে রওশন আরা বেগম ও জায়েদা বেগমকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় ঘরের আলমারির তালা ভেঙে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লুটের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

    ভুক্তভোগীর মেয়ে রওশন আরা বেগম বলেন, “আমরা কারও সঙ্গে কোনো ঝামেলায় ছিলাম না। কিন্তু একই গ্রামের আবু ছালেহ শেখ, আব্দুল্লাহ শেখ, আব্দুস সালাম শেখ, ইয়াছিন শেখ, রুহুল আমিন বয়াতী ও মানিক শেখসহ আরও কয়েকজন হঠাৎ অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।”

    হামলার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মোরেলগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়, পরে আব্দুস ছোবাহানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সুস্থ হয়ে তিনি ছয়জনকে আসামি করে বাগেরহাট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিআর ২৪১/২৫) মামলা দায়ের করেছেন।

    স্থানীয় প্রবীণ আব্দুল কাদের হাওলাদার বলেন, “আব্দুল্লাহ শেখ তো ওদের ভাগ্নে, ছোবাহানের আশ্রয়ে বড় হয়েছে। অথচ সেই ভাগ্নেই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে—এটা অমানবিক।”

    মসজিদের মুসল্লি আবুবকর সিদ্দিক বলেন, “দাড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলা নবীর সুন্নতের অপমান। এটা ধর্মীয় অনুভূতিতে গুরুতর আঘাত। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

    স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা ও সম্পদ দখলের সঙ্গে জড়িত, কিন্তু প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

    আব্দুস ছোবাহান হাওলাদার বলেন, “আমি বৃদ্ধ মানুষ, কোনোমতে প্রাণে বেঁচেছি। এখনো হুমকি পাচ্ছি। আমি শুধু নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই।”

    মোরেলগঞ্জ থানার এক কর্মকর্তা বলেন, “আদালতের নির্দেশনা পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    দক্ষিণ বিশারীঘাটার এই ঘটনা শুধু জমি-বিরোধ নয়—এটি আত্মীয়তার মুখোশে লুকানো লোভ, নৈতিক অবক্ষয় ও প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রতিচ্ছবি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এক বৃদ্ধের দাড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলার মতো নৃশংসতার বিচার না হলে সমাজে আইনের প্রতি আস্থা কোথায় থাকবে?

  • সরকারি টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে টাকা আ-ত্মসাতের অভিযোগ পাইলট চেয়ারম্যানের ভাইয়ের বিরু-দ্ধে

    সরকারি টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে টাকা আ-ত্মসাতের অভিযোগ পাইলট চেয়ারম্যানের ভাইয়ের বিরু-দ্ধে

    খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:

    রংপুরের তারাগঞ্জে সরকারি টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে সাদেকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৫নং সয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আল ইবাদত হোসেন পাইলটের ছোট ভাই ডলারের বিরুদ্ধে। রবিবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বুড়িরহাট বাজারে সেই টাকা ফেরত চাওয়ায় নাজমা বেগমের সাথে হাতাহাতি হয় সাদেকুল ইসলামের। উক্ত ঘটনায় ভুক্তভোগী নাজমা বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। নাজমা বেগম উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের দামোদরপুর নয়াপাড়া গ্রামের সাদিনুর ইসলামের স্ত্রী।

    অভিযোগে বলেন, দেড় বছর পূর্বে সরকারি টিউবওয়েল দেওয়ার জন্য সাদিকুল ইসলামের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা নেন চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ডলার। দীর্ঘদিন পর সেই টাকা ফেরত চাওয়ায় সাদিকুল ইসলামের সাথে বুড়িরহাট বাজারে নাজমা বেগমের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার কিছুক্ষণ পরে নাজমা বেগম বাড়ি ফেরার সময় রাস্তায় আটক করে তাকে বেধড়ক মারধর করেন সাদেকুল ও তার পরিবারের লোকজন। নাজমা বেগম ঘটনাস্থলে গুরুতর অসুস্থ হলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করান। বর্তমানে নাজমা বেগম তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরো বলেন, চেয়ারম্যানের বড় ভাই সাজু বকসী জমি মাপার কথা বলে ২ হাজার ৫শত টাকা নিয়েছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে সাদেকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার মাধ্যমে চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ডলার ৫শত টাকা নিয়েছেন বলে সত্যতা স্বীকার করেন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুবেল রানা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নলছিটিতে মাইক্রোবাস নিয়-ন্ত্রণ হা-রিয়ে খাদে আহ-ত ১০

    নলছিটিতে মাইক্রোবাস নিয়-ন্ত্রণ হা-রিয়ে খাদে আহ-ত ১০

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চায়ের দোকানে ঢুকে পাশের খাদে পড়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সকালে বরিশাল-পটুয়াখালি-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস বাখেরগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। দপদপিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে সড়কের পাশে চায়ের দোকানে বসা কয়েকজনকে চাপা দিয়ে মাইক্রোবাসটি খাদে পড়ে যায়। এ সময় দোকানের ক্রেতা ও মাইক্রোবাসের যাত্রীসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হন।

    আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চালক সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, যার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

    নলছিটি থানার ওসি আব্দুস সালাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে স্বাভাবিক হয়।

  • নাগেশ্বরীতে পশ্চিম সাপখাওয়া ভোটকেন্দ্র ব-হির্ভূতভাবে অ-পসারণের চেষ্টা উপজেলা নির্বাচন অফিসারের

    নাগেশ্বরীতে পশ্চিম সাপখাওয়া ভোটকেন্দ্র ব-হির্ভূতভাবে অ-পসারণের চেষ্টা উপজেলা নির্বাচন অফিসারের

    এম এস সাগর,
    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

    নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাচন অফিসার নির্বাচনী বিধিমালা অমান্য করে অতি-গোপনে নাগেশ্বরী পৌরসভারর ৩নং ওয়ার্ডের পশ্চিম সাপখাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র (২৫শতাধিক ভোটার) স্থানান্তর বন্ধে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে স্থানীয় ভোটার ও এলাকাবাসী।

    নির্বাচনী পরিপত্র-মতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ (পরবর্তী সময়ে সংশোধিত) আইনে উল্লেখ জনগণকে অবগত না করে ভোট কেন্দ্র স্থানান্তর করা নির্বাচনী আইনের একটি গুরুতর লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    সরেজমিনে ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গঙ্গারহাট এলাকার আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান, আওয়ামী লীগ সমর্থনকারী ও নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আব্দুল লতিফ নির্বাচনী বিধিমালা লংঘন করে তার নিকট আত্মীয় নাগেশ্বরী উপজেলার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজের নবাগত এমপিওভুক্ত মধুরহাল্লা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অতি-গোপনে স্থানান্তর করার পায়তারা করে আসছেন। নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাচন অফিসার অতি-কৌশলে কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসারের সহায়তায় পশ্চিম সাপখাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে এবং জনগণকে অবগত না করে নির্বাচনী আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে ভোটকেন্দ্র স্থানান্তর করার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাগেশ্বরী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পশ্চিম সাপখাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে “পশ্চিম সাপখাওয়া, মন্দিসেরখামার, সাপখাওয়া, সরকারটারী ও মধুরহাল্লা” মহল্লার ২৫শতাধিক ভোটার দেশ স্বাধীনতার পর থেকে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে তাদের ভোট প্রদান করে আসছিলো।

    সম্প্রতি, নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আব্দুল লতিফ ভোটারদের বিশৃঙ্খলা তৈরি করাসহ আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পশ্চিম সাপখাওয়া ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন করে প্রায় ৩কিলোমিটার দূরে প্রধান শিক্ষক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আজিজের নবাগত এমপিওভুক্ত মধুরহাল্লা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করার পায়তারা চলছে। এ নিয়ে চলছে পশ্চিম সাপখাওয়াসহ ৫ মহল্লার নারী ও পুরুষ ভোটারদের মাঝে চরম উত্তেজনা। এলাকার ভোটারের দাবি পূর্বের ন্যায় পশ্চিম সাপখাওয়া ভোট কেন্দ্র বহাল রাখার দাবি।

    স্থানীয় ভোটার ও অভিযোগকারী প্রভাষক এস এম হাবিবুর রহমান, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, আঃ কাদের, রফিকুল ইসলাম, ইউনুছ আলী, হাবিবুর রহমান সরকার, খায়রুল ইসলাম সরকার বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আমরা এই ৫ গ্রামের বাসিন্দারা পশ্চিম সাপখাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছি। নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আব্দুল লতিফ এর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আজিজের মাস্টার প্লানে পশ্চিম সাপখাওয়া ভোটকেন্দ্রে না আসে এবং জনগণকে অবগত না করে নির্বাচনী বিধিবালা লঙ্ঘন করে ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের পায়তারা করছে। প্রায় ৩কিলোমিটার দূরে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাটি” মধুরহাল্লা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের ষড়যন্ত্র চলছে এবং ৩কিলোমিটার দূরত্বর কারণে বৃদ্ধ ও মহিলাদের ঐ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়া একেবারে অসম্ভব। এছাড়াও এই এলাকা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সুপরিচিত। নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাচন অফিসার নির্বাচনী বিধিবালা অমান্য করে নিজ স্বার্থ হাসিলে ভোট কেন্দ্রটি স্থানান্তরের পায়তারা করছেন। আমাদের দাবি ভোট কেন্দ্রটি পূর্ণবহাল রাখতে হবে। অন্যথায় আমরা ৫গ্রামের মানুষ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবো এবং উপজেলা ও জেলা নির্বাচন অফিস ঘেরাও কর্মসূচি গ্রহণ করবো। তারা আরো বলেন, গত-২২অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাচন অফিসার, নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক লিখিতভাবে কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও এখনো পর্যন্ত সুস্থ সমাধান হয়নি।

    নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আব্দুল লতিফ বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পশ্চিম সাপখাওয়া ভোটকেন্দ্র স্থানান্তর প্রক্রিয়াধীন। ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি ও জনগণকে অবগত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করতে জনগণের মতামতের প্রয়োজন নেই। নাগেশ্বরী ইউএনও এবং জেলা প্রশাসক বিষয়টি ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। আপাতত কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

    নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিব্বির আহমেদ বলেন, ৬/৭জন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। নির্বাচন অফিসার ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে এবং ভোটারদের কোন অবগত না করে ভোট কেন্দ্র স্থানান্তরের অভিযোগ পেয়েছি। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    নাগেশ্বরী পৌর বিএনপির সদস্য আজিজুল হক বলেন, ইউএনও অফিসে ভোট কেন্দ্র বিষয়ে কোন আলোচনার বিষয়ে আমি জানিনা। বাংলাদেশ জামাত ইসলামী নাগেশ্বরী উপজেলা আমির আব্দুল মান্নান বলেন, ভোটকেন্দ্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিন্তু স্থানান্তরের বিষয়ে কোন আলোচনা হয়নি। ইসলামী আন্দোলনের কুড়িগ্রাম ১ আসনের প্রার্থী আলহাজ্ব আরিছুল বারী রনি বলেন, ভোট কেন্দ্র বিষয়ে আমার সঙ্গে কোন আলোচনা হয়নি।

    কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ বলেন, অভিযোগ হওয়ার পরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে লিখিতভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জনগণকে অবগত না করে ভোট সেন্টার স্থানান্তরের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ শুনলাম। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • হেব্রোণ খ্রীষ্টিয়ান স্কুলে বিজ্ঞান মেলা অ-নুষ্ঠিত

    হেব্রোণ খ্রীষ্টিয়ান স্কুলে বিজ্ঞান মেলা অ-নুষ্ঠিত

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    কক্সবাজার জেলা বমুবিলছড়ি চকরিয়া উপজেলার  হেব্রোণ খ্রীষ্টিয়ান স্কুলে আজ দু’ দিন ব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক দেওয়ালিকা  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা ২০২৫। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীল চিন্তাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলায় শিক্ষার্থীরা নানা উদ্ভাবনী প্রকল্প ও মডেল প্রদর্শন করেন।

    বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে সমাপনী দিনে মোট ১৫টি প্রকল্প স্থান পায়, যার মধ্যে সৌরশক্তিচালিত ঘর, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ভূমিকম্প-নিরোধক স্থাপনা, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)–নির্ভর স্মার্ট হেলথ সিস্টেম, পরিকল্পিত স্কুল, স্টার ওয়াটার সাপ্লাই ও পরিকল্পিত সেমিনার ঘর অন্যতম স্থল দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
    অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, মেমোরিয়াল খ্রিস্টান উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাংগঠনিক সচিব এবং ট্রান্সপেরেন্সী ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি-চকরিয়া) সহ সভাপতি রুনেন্দু বিকাশ দে। বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক ও সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হেব্রোণ খ্রিষ্টিয়ান স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্মিতা ত্রিপুরা। স্হানীয়  বিশিষ্ট শিক্ষক ও বিজ্ঞান অনুরাগীরা।
    মেলায় শিক্ষার্থীরা রোবটিকস, নবায়নযোগ্য শক্তি, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের উপর তৈরি বিভিন্ন প্রকল্প উপস্থাপন করে।

    সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ট্রাইব্যাল এসোসিয়েশন অফ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের চেয়ারম্যান মনতাজন ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভাইস-চেয়ারম্যান ক্যজহা ত্রিপুরা, বিটিএবিসি মিনিস্ট্রি সহকারী পরিচালক লূক মিলন ত্রিপুরা, হেব্রোণ খ্রীষ্টিয়ান স্কুলে এস এম সি কমিটির সভাপতি সুভাষ ত্রিপুরা ও এস এম সি কমিটির সদস্য শ্যামাচরণ ত্রিপুরা প্রমুখ। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
     প্রধান অতিথির উপস্থিতিতে মেলার উদ্বোধন করেন। শিক্ষার্থীরা সৌরশক্তি চালিত গাড়ি, স্বয়ংক্রিয় সেচযন্ত্র, প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার প্রকল্পসহ নানা উদ্ভাবনী প্রদর্শনী উপস্থাপন “সোলার চালিত সেচযন্ত্র” এবং “বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন” প্রকল্প ১৫ টি স্হল দর্শনের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

    প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিপ্রীতি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।” শেষে সফল অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী বছর আরও বৃহত্তর পরিসরে মেলা আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    মেলা শেষে বিচারকমণ্ডলীর শ্রেষ্ঠ প্রকল্প হিসেবে দশম দল প্রথম, সপ্তম দল দ্বিতীয়, ও পঞ্চম দল তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের, পরিকল্পিত স্কুল, স্টার ওয়াটার সাপ্লাই, পরিকল্পিত সেমিনার ঘর প্রকল্পকে পুরস্কৃত করেন। দেয়ালিকার শ্রেষ্ঠ হিসেবে, গল্প অষ্টম শ্রেণীর শান্ত ত্রিপুরা, কবিতা ৫ম শ্রেণির নভজিৎ মার্ক দাশ, অংকন নবম শ্রেণির সুবল ত্রিপুরা। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট এ বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

    দুইদিন ব্যাপী বিজ্ঞান মেলায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। পুরো ক্যাম্পাস ছিল উৎসবমুখর পরিবেশে মুখরিত।

  • বরগুনার তালতলীতে ধানক্ষেতে ইঁদুর মা-রার ফাঁ-দে শিশুর মৃ-ত্যু

    বরগুনার তালতলীতে ধানক্ষেতে ইঁদুর মা-রার ফাঁ-দে শিশুর মৃ-ত্যু

    মংচিন থান,
    তালতলী (বরগুনা)প্রতিনিধি।।
    বরগুনার তালতলীতে বৈদ্যুতিক ইঁদুর দমন ফাঁদে জড়িয়ে ইমরান (৮) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার বড়ভাইজোড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইমরান ওই গ্রামের রিপা বেগমের ছেলে এবং হরিণবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের বড়ভাইজোড়া এলাকায় সকালে ইমরান তার মায়ের সঙ্গে ধানক্ষেতে ছাগলের জন্য ঘাস কাটতে যায়। এ সময় স্থানীয় আবু সালেহ ইঁদুর দমনের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মসজিদের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে ধানক্ষেতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে রাখেন। ধানক্ষেতে ওই ফাঁদের কোনো সতর্কবার্তা বা চিহ্ন দেওয়া ছিল না। অসাবধানতাবশত ইমরান সেই ফাঁদে জড়িয়ে পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্থানীয়রা বলেন, কৃষিক্ষেতে এভাবে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে রাখা মারাত্মক অপরাধ। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ছাড়া এমন দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব নয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত আবু সালেহ পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

    নিহতের মা রিপা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি বুঝতেই পারিনি ওখানে বিদ্যুৎ ছিল। সেই ফাঁদে জড়িয়ে মুহূর্তেই আমার ছেলেটা চোখের সামনে নিথর হয়ে গেল।

    এ বিষয়ে তালতলী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম মো. ইমরান শেখ বলেন,মসজিদের সংযোগ ব্যবহার করে ধানক্ষেতে বিদ্যুৎ নেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তালতলী থানার ওসি মো. শাহজালাল বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে । এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মংচিন থান
    তালতলী প্রতিনিধি।