Category: দেশজুড়ে

  • পাইকগাছায় বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্মে দুর্গ-ন্ধে পাঠদান ব্যাহত — প্রশাসনের হ-স্তক্ষেপ দাবি

    পাইকগাছায় বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্মে দুর্গ-ন্ধে পাঠদান ব্যাহত — প্রশাসনের হ-স্তক্ষেপ দাবি

    পাইকগাছা (খুলনা ) প্রতিনিধি।।
    খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ২৬ নং মানিকতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে দুটি পোল্ট্রি ফার্ম থাকার কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শ্রেণি পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নাকাল হতে হচ্ছে দুর্গন্ধে।

    এছাড়াও এখানে উপজেলা প্রাইমারী এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার শিক্ষকদের বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষকরা। কেন্দ্রের পাশে একটি পোল্ট্রি ফার্ম থাকায় সারাক্ষণ দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ফলে প্রশিক্ষণ চলাকালীন শিক্ষক প্রশিক্ষণার্থীরা নাক চেপে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

    বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় মো. নুরুজ্জামানের মালিকানাধীন দুটি পোল্ট্রি ফার্ম বিদ্যালয়ের একেবারে সংলগ্ন স্থানে স্থাপিত। ফার্মগুলো থেকে নির্গত দুর্গন্ধ ও বর্জ্য পদার্থের কারণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে দুর্গন্ধের মাত্রা বেড়ে যায়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে।

    বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দিয়ে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা অনেক সময় অসুস্থও হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার ফার্ম মালিককে অনুরোধ করা হলেও তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি। এমনকি স্যানিটারি ইনস্পেক্টর ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের তাগিদেও ফার্ম মালিক কর্ণপাত করেননি।

    উপজেলা প্রাইমারী এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার এর ইন্সট্রাক্টর মো. ঈমান আলী জানান, এটা নিয়ে আমরা একাধিকবার ইউএনও অফিসে আবেদন করেছি। ফার্ম কর্তৃপক্ষ সময় নিয়েও সেটা এখনো অপসারণ করে নাই। উক্ত বিষয়ে উপজেলা স্যনিটারি ইন্সপেক্টর উদয় মন্ডল পরিদর্শন করেছে কিন্তু তার কাছ থেকেও সময় নিলেও এখনো পর্যন্ত সেটা অপসারণ করা হয়নি।

    বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), পাইকগাছা বরাবর লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করেছে। আবেদনপত্রে বিদ্যালয়ের পাশের দুটি পোল্ট্রি ফার্ম অপসারণ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি এটা তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

    স্থানীয় সচেতন মহল বিদ্যালয়ের শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা,খুলনা।

  • বিনামূল্যে পাঁচশতাধিক ব্যক্তি পেলেন চি-কিৎসাসহ ঔষধ

    বিনামূল্যে পাঁচশতাধিক ব্যক্তি পেলেন চি-কিৎসাসহ ঔষধ

    কে এম সোয়েব জুয়েল।।

    ষ্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

    প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের পাঁচ শতাধিক নারী ও পুরুষ একসাথে পেলেন বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চিকিৎসা সেবা এবং ওষুধ। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকাল নয়টা থেকে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে এ সেবা পেয়ে বেজায় খুশি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের নারী-পুরুষরা।

    জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মৈস্তারকান্দি গ্রামের ব্যাপিস্ট চার্চ মিশন মাঠে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইনিং ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি।

    দিনব্যাপী ওই ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছেন গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের গাইনী ও প্রসূতি বিশেষ্ণ এমবিবিএস চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান নাঈম এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. গৌরব মজুমদার বিক্রম। তাদের সহযোগি হিসেবে হাসপাতালের দুইজন নার্স মেডিক্যাল ক্যাম্পে সহায়তা প্রদান করেছেন।

    ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজক সাইনিং ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল রায় বলেন-দীর্ঘবছর যাবত গ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে সাইনিং ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সদস্যরা স্বেচ্ছায় কাজ করে যাচ্ছেন।

    তারই ধারাবাহিকতায় অর্থাভাবে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের রোগীদের বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসদের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দিয়ে ওষুধ বিতরণ করার জন্য আমাদের এ মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন। তবে মেডিক্যাল ক্যাম্পে গ্রামাঞ্চলের সর্ব শ্রেনীর পেশার মানুষ চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।

    মেডিক্যাল ক্যাম্পে সংগঠনের ক্যাশিয়ার পল্লব বৈদ্য, উপদেষ্টা রেভা বিদ্যুৎ রায়, শিশু রঞ্জন ঢালীসহ অন্যান্য সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন।

    চিকিৎসা সেবা নেয়া রঞ্জিত বাড়ৈ, সুম্মিতা বালা, ইলিয়াস হোসেন, রেবেকা বেগমসহ এই ক্যাম্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চিকিৎসা সেবা এবং ওষুধ পেয়ে সকলেই মহাখুশি। তারা সকলেই আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

    গ্রামের দরিদ্র পরিবারের নারী-পুরুষদের দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান নাঈম এবং ডা. গৌরব মজুমদার বিক্রম বলেন-এভাবে অন্যান্য সংগঠনগুলো এগিয়ে আসলে আমরা তাদের ক্যাম্পে গিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করবো।

    গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহতা জারাব সালেহিন বলেন-প্রথম উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার আমাকে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি আমার কাছে খুব ভাল মনে হওয়ায় হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ নার্সদের ওই ক্যাম্পে পাঠিয়েছি। ভবিষ্যতে স্বেচ্ছায় কোন সংগঠন থেকে এধরনের মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করলে তাদেরকেও সহযোগিতা করা হবে।

    গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন-সাইনিং ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নেতৃবৃন্দরা যখন স্বেচ্ছায় ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প করার জন্য অনুমতি নিতে আমার কাছে এসেছেন, তখন তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য শুনে আমার খুব ভাল লেগেছে। এভাবে তাদের (সাইনিং ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি) মতো অন্যান্য সংগঠনগুলো স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসলে প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র পরিবারের কেউ অর্থাভাবে আর চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হবেন না।

    এমন উদ্যোগ নিয়ে কোন সংগঠন এগিয়ে আসলে তাদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

  • আশুলিয়ায় জামগড়া আর্মি ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর অ-ভিযানে বিদেশি অ-স্ত্র ও বিপুল মা-দকসহ গ্রে-ফতার ৪

    আশুলিয়ায় জামগড়া আর্মি ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর অ-ভিযানে বিদেশি অ-স্ত্র ও বিপুল মা-দকসহ গ্রে-ফতার ৪

    হেলাল শেখঃ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীরা স্থানীয়দের মধ্যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো,
    অবশেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে ভেঙে যায় সেই দাপট।

    গত বুধবার (৩০ অক্টোবর ২০২৫ইং) গভীর রাতে আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকায় আকস্মিকভাবে পাঁচ রাউন্ড গুলির শব্দে পুরো এলাকা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জামগড়া আর্মি ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করেন।

    অভিযানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ৪জনকে গ্রেফতাট করতে সক্ষম হোন। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি ও নির্দেশনা অনুযায়ী সেনা ও পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অস্ত্র, গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন।

    উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদকের মধ্যে রয়েছে-১টি বিদেশি পিস্তল, ৮ রাউন্ড গুলি, ২টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ১৭টি শটগানের কার্তুজ, ১৬টি পিস্তলের কার্তুজ, ৪টি দেশি অস্ত্র (চাপাতি, ছুরি), ১টি হকি স্টিক, ২টি ইলেকট্রিক শকার, ১৩টি মোবাইল ফোন, ৩টি ওয়াকি-টকি, ৩০৪০ পিস ইয়াবা, ৭০০ গ্রাম গাঁজা এবং ৪ লিটার বিদেশি মদ।

    অভিযানে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- মেহেদী হাসান মিঠুন (২৪), গাজীরচট, আশুলিয়া,
    মোঃ মোজাম্মেল ভূঁইয়া (৪৪), গাজীরচট, আশুলিয়া ,মোঃ জাহিদুল আলম (২৪), রাণীনগর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মাসুমা আক্তার রিয়া (২৩), মধ্য গাজীরচট, আশুলিয়া ।

    গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী।
    অভিযান শেষে আটক আসামি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনী জানান।

  • গোপালগঞ্জ সদরের উলপুর গ্রামের আলমগীর ফকিরের বিরুদ্ধে সালিশের অর্থ আ-ত্মসাতের অ-ভিযোগ

    গোপালগঞ্জ সদরের উলপুর গ্রামের আলমগীর ফকিরের বিরুদ্ধে সালিশের অর্থ আ-ত্মসাতের অ-ভিযোগ

    কে এম সাইফুর রহমান।।
    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ১২ নং উলপুর ইউনিয়নের আন্ধারকোঠা গ্রামের বাসিন্দা, ছিরু ফকিরের ছেলে আলমগীর ফকির (৫৫) -এর বিরুদ্ধে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ -এর অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে অসহায়দের নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারিতে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি একাধিক গণমাধ্যমকর্মী সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী এবং সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানাগেছে, গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে আলমগীর ফকির। এ সময় তিনি এলাকায় অসহায় মানুষের জমি দখল, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং মাদক কারবারিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েন। কেউ তার অপরাধের প্রতিবাদ করলেই তাঁদেরকে মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হুমকি-ধমকি দেন‌ এবং অসহায়দের
    মার-ধর করেন।

    আলমগীরের নির্যাতনের স্বীকার- একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ খসরুল আলম শেখ, একাধিক গণমাধ্যমকে জানান- আমি একজন সাধারণ কৃষক, আমার ছেলে সবুজ শেখ ও সুজন শেখকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে হাফিজ মোল্লা,
    পিতা- মৃত ইলিয়াস মোল্লা, সাং উলপুর পূর্বপাড়া, আমার নিকট থেকে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেয়। পরবর্তীতে হাফিজ মোল্লা আমার ছেলেকে প্রবাসে পাঠাইতে ব্যর্থ হয়। আমি বিভিন্ন সময় হাফিজ মোল্লার নিকট পাওনা টাকা ফেরত চাই। তখন আলমগীর ফকির স্থানীয় প্রভাবশালী মাতুব্বর হওয়ায় সে আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। এবং আমার কথা বলে ইলিয়াসের কাছ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা নেয়। আমি টাকা চাইলে আমাকে পুরো টাকা ফেরত না দিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং জীবননাশের হুমকি দেয়।

    অভিযুক্ত আলমগীর ফকিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পাওয়ায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

    এ বিষয়ে আমি গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে বিশ্বস্ত সুত্রে জানতে পারি, বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়ির সাব ইন্সপেক্টর আফজাল মোল্লার নেতৃত্বে, আলমগীর ফকিরকে নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম বলেন, একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আলমগীর ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সাভারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  শিক্ষার্থীদের জি-ম্মি হাম-লা ও অ-গ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে পা-ল্টাপাল্টি মা-মলা

    সাভারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জি-ম্মি হাম-লা ও অ-গ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে পা-ল্টাপাল্টি মা-মলা

    হেলাল শেখঃ ঢাকার সাভারের বেসরকারি ড্যাফোডিল ও সিটি ইউনিভার্সিটির মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষার্থী জিম্মির ঘটনায় অবশেষে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে উভয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    গতকাল বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিঞা।

    পুলিশ জানায়, সকালে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পৃথকভাবে সাভার মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করলে তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এখন আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    উল্লেখ, গত রবিবার রাতে থুতু ফেলাকে কেন্দ্র করে সাভারের খাগান এলাকায় সংঘর্ষে জড়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাতভর চলা এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের শতাধিকের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন, পরিবহনসহ বিভিন্ন স্থাপনায়।

    অভিযোগ রয়েছে, এসময় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১১ শিক্ষার্থীকে সিটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে সোমবার লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাদের ফেরত দেয়া হয়।

    অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের সময় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে পরদিন লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাদের ফেরত দেয়া হয়।

    সংঘর্ষের পর দিন সিটি ইউনিভার্সিটি এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, হামলায় তাদের ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তুলে ধরেন এবং ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি জানায়।

    পরবর্তী দিন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে তাদের শিক্ষার্থীদের জিম্মি ও আহত করার অভিযোগ তুলে ধরে সিটি ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করে।

    সবশেষে গতকাল বুধবার, উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ই হামলা, ভাঙচুর ও জিম্মির অভিযোগে একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

  • আমি আ.লীগ করি এটাই আমার অপরাধ চেয়ারম্যান – নজরুল ইসলাম

    আমি আ.লীগ করি এটাই আমার অপরাধ চেয়ারম্যান – নজরুল ইসলাম

    নেছারাবাদ উপজেলা প্রতিনিধি //

    নেছারাবাদ উপজেলার সারেংকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কোর্টে পাঠানোর সময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমি আওয়ামিলীগ করি এজন্য আমাকে গ্রেফতার করেছে আমি একজন কলেজের অধ্যক্ষ আমার নামে কোন মামলা নাই। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) মধ্যরাতে উপজেলার ছারছীনা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

    পুলিশ জানায়, একটি মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে কোন মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ।

    নেছারাবাদ থানার ডিউটি অফিসার জানান, চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে রাতে থানায় আনা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার পিরোজপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

    অন্যদিকে, গ্রেফতারকৃত চেয়ারম্যানের স্ত্রী মোসাঃ মমতাজ বেগম দাবি করেছেন, তার স্বামী নির্দোষ। তিনি বলেন, “আমার স্বামীর নামে কোনো মামলা নেই। তিনি আওয়ামী লীগ করেছেন বলেই হয়তো তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

    চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম নেছারাবাদের ১০নং সারেংকাঠি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি পশ্চিম সোহাগদল শহিদ স্মৃতি বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।আদালতে পাঠানো পূর্ব মুহুর্তে চেয়ারম্যান সাংবাদিক এর প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি আওয়ামিলীগ করি এটাই আমার অপরাধ এ কারনেই আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বনি আমিন বলেন, “একটি মারামারি মামলায় চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।”

    আনোয়ার হোসেন
    নেছারাবাদ উপজেলা প্রতিনিধি ।।

  • সলঙ্গায় বিএনপি নেতা কর্তৃক প্রধান শিক্ষক লা-ঞ্ছিত : প্র-তিবাদে মান-ববন্ধন

    সলঙ্গায় বিএনপি নেতা কর্তৃক প্রধান শিক্ষক লা-ঞ্ছিত : প্র-তিবাদে মান-ববন্ধন

    জি.এম স্বপ্না,সিরাজগঞ্জ :
    বিএনপি নেতা কর্তৃক সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় উনুখাঁ পাগলাপীর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও শিক্ষকদের অপমানের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে। মানববন্ধনে বিএনপি নেতার বিচার দাবী করেছে শিক্ষার্থীরা।আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

    স্থানীয়রা জানায়,উল্লাপাড়া উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা তৌহিদুর রহমান দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ে অতর্কিতভাবে ভাবে প্রবেশ করে সুদক্ষ ও প্রবীণ প্রধান শিক্ষক ইসমাঈল হোসেন তালুকদারের সঙ্গে অসদাচরনসহ অন্যান্য শিক্ষকদেরও অপমান করেন।এরই প্রতিবাদে বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীরা তখনই ভুয়া ভুয়া বলে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করলে তাৎক্ষণিকভাবে চলে যেতে বাধ্য হয়।প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন তালুকদার একজন সুদক্ষ,প্রবীণ ও যোগ্য প্রধান শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেন। তাই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা বিএনপি নেতার এমন অসদাচারণ,খাম খেয়ালিপনার সু-বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
    প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থী মিন্টু আহমেদ,খায়রুল ইসলাম,রাশিদুল ইসলামসহ অনেকে।
    এছাড়াও প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক,অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

  • চট্টগ্রামে এমপি পদপ্রার্থী জনাব শফিউল আলমের সমর্থনে উঠান বৈঠ-ক অনুষ্ঠিত

    চট্টগ্রামে এমপি পদপ্রার্থী জনাব শফিউল আলমের সমর্থনে উঠান বৈঠ-ক অনুষ্ঠিত

    শহিদুল ইসলাম,
    বিশেষ সংবাদদাতাঃ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানার আওতাধীন দারুস সালাম ওয়ার্ডের উদ্যোগে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি পদপ্রার্থী জনাব মোঃ শফিউল আলমের সমর্থনে এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বন্দরটিলা কাঁচাবাজারের পেছনে আলিশা নগর এলাকায়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দারুস সালাম ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি জনাব সাইফুল ইসলাম।

    সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইপিজেড থানা জামায়াতে ইসলামী’র সংগ্রামী আমীর জনাব আবুল মোকাররম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ সাহেদ।
    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দারুস সালাম ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ মিজান খান, যুব ওয়ার্ড সভাপতি আনিসুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাস্টার শাহিন,সহ বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার বিপুল সংখ্যক জনগণ।

    প্রধান অতিথি জনাব আবুল মোকাররম তাঁর বক্তব্যে বলেন—“দেশে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামী নেতৃত্বকে সামনে আনতে হবে। জামায়াতে ইসলামী সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করছে। আসন্ন নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী শফিউল আলম ভাইকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

    বিশেষ অতিথি মোহাম্মদ সাহেদ বলেন—“আমরা পরিবর্তন চাই, কিন্তু সে পরিবর্তন আসবে ইসলাম ও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য আমাদের আরও বেশি জনসংযোগ ও সেবামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে।”

    ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ মিজান খান বলেন— “দারুস সালাম ওয়ার্ডের প্রতিটি দায়িত্বশীল মাঠে থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণকে ইসলামী প্রার্থীর পক্ষে উদ্বুদ্ধ করব।”

    যুব ওয়ার্ড সভাপতি আনিসুর রহমান বলেন—“যুব সমাজই পরিবর্তনের চালিকা শক্তি। আমরা তরুণরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে আমাদের প্রার্থী শফিউল আলম ভাইয়ের বিজয় নিশ্চিত করব।”

    শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাস্টার শাহিন বলেন— “শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় ইসলামী নেতৃত্ব অপরিহার্য। আমরা মাঠে থেকে শ্রমিকদের সংগঠিত করব, যাতে ভোটের মাধ্যমে প্রকৃত পরিবর্তন আনা যায়।”

    বক্তারা এককণ্ঠে আহ্বান জানান— “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী মূল্যবোধ, ন্যায়নিষ্ঠ নেতৃত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনাব শফিউল আলমকে বিজয়ী করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

    শেষে উপস্থিত সকলের মধ্যে নির্বাচনী উদ্দীপনা ও ঐক্যের চেতনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উঠান বৈঠকটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত গণসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, জমিদারবৃন্দ, দায়িত্বপ্রাপ্ত,ব্যবসায়ী, শ্রমিক, যুবসমাজসহ সর্বস্তরের জনগণ। বক্তাদের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয় ইসলামী মূল্যবোধ, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়।

  • সুজানগরের কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে বীজ ও সার বি-তরণ

    সুজানগরের কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে বীজ ও সার বি-তরণ

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ পাবনার সুজানগর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে রবি মৌসুমে গম, সরিষা, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, শীতকারনি পেঁয়াজ, মসুর, খেসারী ও অড়হড় ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষক ও কৃষাণীদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় এ বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ জাহিদ হোসেন । অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামীম এহসান, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এই প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় ২৫০০ জন কৃষক-কৃষাণীকে গম বীজ , ৩১০০ জন কৃষক-কৃষাণীকে সরিষা, ৩০ জনকে সূর্যমুখী, ২৫০ জনকে চিনাবাদাম, ১০০০জনকে পেঁয়াজ বীজ, ৪০০ জনকে মসুর বীজ, ২০০জনকে খেসারী বীজ ও ২০জনকে অড়হড় বীজ সহ উপজেলার সর্বমোট ৭৫০০জন কৃষক-কৃষাণীকে এ বীজ বিতরণের পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত সার বিতরণ করা হয়।

    সুজানগর পাবনা প্রতিনিধি।।

  • গোদাগাড়ীতে প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের  সহকারী অধ্যাপক  মেরিনার  বিদা-য়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    গোদাগাড়ীতে প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মেরিনার বিদা-য়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    রাজশাহী মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী ডিগ্রী কলেজে আজ ৩০ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার
    সকাল ১০ টায় সমাজকর্ম বিভাগের স্বনামধন্য সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান জ মেরিনা বেগমের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ ( ভারপ্রাপ্ত ) মোঃ জামিউল আরিফ
    ​সভাপতিত্বে ​প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এহসানুল কবির

    সম্মান জানাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বনামধন্য শিক্ষাবিদগণ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, প্রফেসর ড. জোবাইদা আয়েশা সিদ্দিকা ,
    রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, (সমাজকর্ম), প্রফেসর ড. সেলিম রেজা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের
    প্রফেসর আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ,
    রাজশাহী কলেজের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান, সমাজকর্ম, প্রফেসর বেগম রোকেয়া প্রমূখ।

    জানা গেছে বিদায়ী মেরিনা বেগমের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ যাঁরা ছিলেন ব্যক্তিগত জীবনে সহপাঠী, বন্ধু ও ক্লাসমেট ছিলেন।
    অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কলেজের প্রভাষক মেহেদী মনজুর।

    ​ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ বিদায়ী অধ্যাপক সম্পর্কে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন, কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগ সহকারী অধ্যাপক ড. উম্মে নাহার, সহকারী অধ্যাপক অবসরপ্রাপ্ত,
    মোঃ আসাদুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক মোঃ এখলাসুর রহমান: , হিসাববিজ্ঞান বিভাগ।

    ​কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মোঃ আনোয়ারুল করিমের
    সঞ্চালনায় বক্তরা বলেন,​প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, স্বনামধন্য সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান জনাব মেরিনা বেগম — যিনি তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা ও অনন্য কর্মদক্ষতা দিয়ে প্রতিষ্ঠানে সর্বদা জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। মেরিনা বেগম ১ নভেম্বর, ১৯৬৫ সালে রাজশাহী মিশন হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন শ্রদ্ধেয় পিতা মোঃ মুসলেম উদ্দিন ও মাতা জেবুন নাহার বেগমের ঘর আলো করা কনিষ্ঠতম সন্তান।

    জন্মলগ্ন থেকেই অসম্ভব মেধার অধিকারী মেরিনা বেগমের শিক্ষাজীবনের শুরু রাজশাহীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সরকারি পিএন গার্লস হাইস্কুলে। সেখান থেকে ১৯৮০ সালে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করে তিনি ভর্তি হন বাংলাদেশের সেরা শিক্ষাঙ্গনগুলির অন্যতম রাজশাহী কলেজে। রাজশাহী কলেজ থেকে ১৯৮২ সালে এইচএসসি-তে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগে ভর্তি হয়ে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

    ​তাঁর কর্মজীবনের শুরু ১৯৯৩ সালে প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজে সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক হিসেবে। দীর্ঘ পথচলায় ২০১৭ সালে তিনি সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান এবং যোগদানের পর থেকে তিনি একই বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দায়িত্বকালে তিনি স্বীয় নিষ্ঠা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সমাজকর্ম বিভাগকে কলেজের অন্যতম সেরা বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

    শিক্ষার্থীদের মাঝে কেবল গতানুগতিক একাডেমিক জ্ঞান নয়, তিনি সর্বদা বাস্তব সমাজসম্পর্কিত গভীর জ্ঞান সঞ্চারিত করেছেন। ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি পর্যায়ে সমাজকর্মের জ্ঞানকে কিভাবে কাজে লাগিয়ে কার্যকরভাবে সমস্যা সমাধান করা যায়, সেই মূল্যবান দীক্ষা তিনি নিরন্তর প্রদান করে গেছেন।

    ​পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতে ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। রাজশাহী শহরের ‘সুরবাণী সঙ্গীত বিদ্যালয়ে’ তিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নেন। প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানে তাঁর সুরময় কণ্ঠের গানে মুগ্ধ হতেন সকলে।

    ​ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৯০ সালে তিনি ইকবাল আহমেদুল কবিরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বর্তমানে তিনি দুই মেধাবী কন্যা সন্তানের জননী। মায়ের পথ অনুসরণ করে তাঁর বড় মেয়ে মনিকা কবির রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে বিএসসি ও এমএসসি সম্পন্ন করে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন এবং বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মারডগ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণারত আছেন। তাঁর ছোট মেয়ে আনিকা কবির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে মার্কেটিং বিভাগ থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন।

    প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের পক্ষ থেকে আমরা এই গুণী শিক্ষাবিদের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করা হয়। তাঁর কর্মময় জীবনের মতো প্রাজ্ঞ ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠুক তাঁর অবসর জীবনও, আপনার প্রতি রইল প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা, বিদায়ী সংবর্ধনা ও অজস্র শুভকামনা করা হয়েছে।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।