Category: দেশজুড়ে

  • গুরু শিষ্যের প্রেমময় জীবন

    গুরু শিষ্যের প্রেমময় জীবন

    নজরুল ইসলাম তোফা:
    গুরু যদি শিষ্যকে একটি অক্ষর বা কর্ম শিক্ষা দান করে সেটাই গুরুবিদ্যা। তবে পৃথিবীতে এমন কোনও জিনিস নেই, যা গুরুর কাছ থেকে না নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় তবে বর্তমান সমাজের মানুষরা গুরুবিদ্যা নিয়েও গুরুর মর্যাদা দিতে চায় না। আফসোস! বলতে চাই, সেই শিষ্য গুরুর ঋণ শোধ করতে কখনোই পারবে না। গুরু-শিষ্য এক আত্মার সৃষ্টি হয় তখনি যখন একে অপরকে গভীর ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে। আমি এ আলোচনার শুরুতেই বলতে চাই, শিষ্যের উচিত হবে গুরুদের জন্য নিবেদিত প্রাণ হওয়া, গুরুর কথার ব্যাখ্যা না বুঝে তাঁর সমালোচনা করার মতো- “পাপ”, এই জগতে আর কিছু নেই। অনন্ত জীবন আপনার এই সামান্য ভূলেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। গুরু সমস্ত সমালোচনার উর্দ্ধে। তাঁর কথার সমালোচনা করা তো দুরের কথা, তাঁর ‘কথা বা বাণী’র’ মানে বুঝতে হলেও শিষ্যকে বার বার জন্ম নিতেই হবে। সেটা তো সম্ভব নয়।

    আমি এখানে বলবো, শ্রদ্ধেয় গুরুজনের কোনো কথার মানে না বুঝতে পারলে তাঁকে বার বার জিজ্ঞেস করতে হয়। নতুবা নিজের মতো করে মন গড়া কোনো ধরনের ব্যাখ্যা করে নেওয়া ভয়ানক অপরাধ বলেই মনে করি। তবে গুরু পছন্দ করার দ্বায়িত্ব আপনার নিজের কিংবা পরিবারের। তো সেই গুরুকে ‘অবজ্ঞা করার অধিকার’ আপনার নেই। গুরুর সান্নিধ্যে থেকে গুরুর মতো হয়ে ওঠাই প্রতিটি শিষ্যের কর্ত্তব্য। গুরুকে ‘ধরতে’ বড় দেরী নয়, ‘চিনতেও’ বড় দেরী নয়। গুরু-শিষ্য একই আত্মা ও মতাদর্শের হয় তবেই তো ইহজগৎ ও পরজগতের মঙ্গল হবে। এখানে বলে রাখি যে, জগতের “ভার বহন” করার জন্যই “গুরুর আত্মপ্রকাশ ঘটে”। জগৎ সংসারের সমস্ত কিছুর মূলেই গুরু-শক্তিই কাজ করে। গুরুর ‘ভার বহন’ করার সাধ্য কারোর নেই। গীতিকার এক গানে বলেন,- শিষ্যের বাড়ির ফুল-বাগিচা, ফুলের অঙ্কুর আছে ‘গুরুর ঠাঁই’। “গুরুর অঙ্কুর” না বসিলে তাকে কেবা “শিষ্য” কয়। ফকির লালন বলেন, সাঁইর বচনে শিষ্য হওয়া বড় দায়। তিন মনকে এক মন করে, ঐ চরণে সাধন ভজন করতে হয়।

    যাই হোক, – আমি শুধু গুরু গুরু করছি, গুরুর অনেক প্রতিশব্দ আছে। যেমন,- শিক্ষক, পণ্ডিত কিংবা ওস্তাদ। তো এগুলো সবই এক সুত্রে গাঁথা। মানুষ এই গুলোকে বিভিন্ন জায়গায় সম্মান পূর্বক ব্যাবহার করে শ্রদ্ধা এবং “ভালোবাসা অর্পণ” করে থাকে। এই জগতের মানুষরাই তাঁর সন্তানকে শুধুই জন্ম দেন, তাদেরকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে একজন দক্ষ গুরু, শিক্ষক, পণ্ডিত কিংবা ওস্তাদ দরকার মনে করে। তাই আমি বলবো যে, এমন পদবী গুলো হচ্ছে নিজ সন্তানের ২য় পিতা কিংবা মাতাও বলা যেতে পারে। জানা দরকার, গুরু বা উস্তাদ, শিক্ষক বা পন্ডিত যখন যা কিছুর আদেশ করে থাকেন, তখন তা অবশ্যই পালন করা “উত্তম”। আপনার শ্রদ্ধেয় গুরুজনের কোনোধরনের দোষগুণের বিচার না করেই। এখানে বলে রাখি, এ জগতে যাকে লোকে অতি পবিত্র বা ভালো কার্য্যভাবে, তাকেও “গুরু” যদি নিষেধ করেন, সেই গুলো করা উচিত নয়। আবার লোকে যাকে “ঘোর পাপ” বলে, গুরু যদি তাকে সেই “পাপ” করতেও বলেন, সেই গুলোকেও অম্লান বদনে প্রফুল্ল চিত্তে করাকে গুরু ভক্তির কাতারে পড়ে।

    তো কোনো গুরুরাই সেই- ‘পাপ’ করার নির্দেশ কখনোই দিবেন না বা দিতে চায় না। গুরুরা সাধনা করেই- ‘জ্ঞান’ অর্জন করেছেন। তাই গুরুরা অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি, ক্ষমতাশীল ব্যক্তিরাও শ্রদ্ধেয় পণ্ডিত, গুরু বা শিক্ষকের মর্যাদা, সম্মান কিংবা দাম দিয়েই কথা বলেন। এইখানে বারাক ওবামার কথা বলি,’যদি আপনি জীবনে সাফল্য অর্জন করে থাকেন, তা হলে মনে রাখবেন যে আপনার পাশে একজন গুরু বা শিক্ষকরা ছিলেন, তারা আমাকে আপনাকে নানান বিষয়ে সাহায্য করেছিলেন। খোদা বা ঈশ্বরীয় আলোচনায় শ্রদ্ধাভাজন গুরু কিংবা শিক্ষকের মুখের দিকে সু-গভীর দৃষ্টি রেখে শ্রবণ করতে হয়। সেই সময় অবশ্যই ‘শিষ্যদের খেয়াল’ রাখতে হয় যে ঈশ্বরীয় কথা ঈশ্বরীয় আবেশেই গুরুর মুখ থেকে নিঃশৃত হচ্ছে, সেই সময় আপনার মন-কে পুর্ন একগ্রতার সঙ্গে গুরুর উপর নিবেশ করতে হয়। এই বিশ্বাস না রাখলে কখনো আপনি পূর্ণাঙ্গ ‘শিষ্য’ হতে পারবেন না।

    এমন আলোচনায় আমরা জানার চেষ্টা করবো, গুরু ও শিষ্য কাকে বলে? ”গু”- শব্দে অন্ধকার আর ”রু” – শব্দে আলোক। যিনি অজ্ঞান রূপ অন্ধকার নাশ করে কিংবা জীবনের অন্ধকার গুলোকে সমাপ্তি করার উৎসাহ নিয়ে জ্ঞানালোক প্রকাশ করে থাকেন, তিনিই তো গুরু। কাম, ক্রোধ, লোভ, মদ, মোহ এবং মাৎসর্য্য – এই ছয় রিপুকে যিনি জয় করেন, তিনিই তো আধ্যাত্মিকতার বিমল পথ অবগত করেছেন, আর যিনি নিষ্কপট ভাবে ইন্দ্রিয় দমন করতে পেরেছেন, তিনিই “সত্যবাদী”, সর্বদা ধর্মের পথে চলেন। যিনি স্থির এবং মনকে পবিত্র রাখেন, তিনিই তো আত্মদর্শন করেছেন, এই গুলো মেনে বা জীবনের সঙ্গে প্রতিফলন ঘটিয়ে জ্ঞানী হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেছেন। আর সত্যের প্রতি উৎস্বর্গী হয়ে আজীবন সাধনা করেন, তিনিই গুরু হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। সুতরাং এমন গুণ গুলোকেই গুরু বলা যেতে পারে। এখানে বলে রাখি যে, আমাদের জন্ম দানকারী পিতা-মাতা হলেন পরম গুরু। বাল্যকাল বা শিশু কাল থেকে যিনি সামাজিক শিক্ষায় শিক্ষিত করেন, তিনিই – “মহান শিক্ষা গুরু”। সর্বোপরি পরমাত্মাই হল আমাদের “আদি গুরু” পরমাত্মার প্রতি ‘ভক্তি, শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সমর্পণ’ থাকলে, তিনি আমাদের মোক্ষ লাভ করায়ে তাঁর সহিত যুক্ত করে নেন। আর যে মানুষ নিষ্কপট ভাবেই গুরুকে ভক্তি করেন, গুরু ও সৃষ্টি কর্তার ‘ভেদ জ্ঞান’ করেন না, নিজের জ্ঞান বুদ্ধি কোনো অকার্যে প্রয়োগ করেন না, শূন্য মস্তিষ্কে গুরুর নিকটেই ভক্তি, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস এর সহিত জ্ঞান লাভ করেন এবং গুরুর আজ্ঞা পালন করেন তাঁকেই আমরা ‘শিষ্য’ বলতে পারি।

    এখন আলোচনায় আসা যাক, গুরু ও শিষ্যর সম্পর্কটা যেন মুক্তির বন্ধন, যাকে মুলত এক অদৃশ্যের বন্ধন বলা যেতে পারে। প্রতিটি শিষ্যের জন্যে একজন গুরু নির্দিষ্ট থাকেন আর সেই শিষ্যকেই যেন এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় গুরুকে। শিষ্যকে যেগুলো গুরু দীক্ষা দেন তার নেপথ্যে গুরুর নিজস্ব কোন স্বার্থ থাকে না। থাকে একটাই লক্ষ্য, শিষ্যকে তার ঠিকানায় পৌছে দেয়া। আর সেখানে শিষ্য পৌছতে পারাই হচ্ছে গুরুর একমাত্র গুরুদক্ষিনা। যাক আলোচনাটি সংক্ষিপ্ত করতে চাই, অনেক ‘জটিল কথা’ থাকলেও অল্প পরিসরে শেষ করছি। শুধু একটা কথাই বলবো যাকে আপনি কোনো সময়ে “গুরু” মেনে ছিলেন তাকে কখনোই অশ্রদ্ধা করবেননা। সার্থক হোক আমার আপনার গুরুশিষ্যের মেইল বন্ধন। আমরা খুব সহজেই যেন গুরু অমৃতের পথে যাত্রা করতে পারি।

    লেখক:
    নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং অধ্যাপক।

  • পাইকগাছায় অবাধে পাখি শিকার করা হচ্ছে

    পাইকগাছায় অবাধে পাখি শিকার করা হচ্ছে

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
    শীত মৌসুম শেষ হয়েছে তবুও পাইকগাছায় পাখি শিকারীরা জাল পেতে অবাধে দেশি পাখি শিকারের উৎসবে মেতেছে। এলাকার বিভিন্ন ধানক্ষেত, খাল-বিল, জলাশয় ও চিংড়ি ঘের থেকে শিকারীরা এসব পাখি শিকার করছে। ইতোমধ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিকারীদের বিরুদ্ধে দু’একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও যথাযথ তদারকি না থাকায় শিকারীরা তৎপর রয়েছে পাখি শিকারে।উপজেলার পুরাইকাটি বিলে খুটি পুতে তাথে লম্বা নেট জাল টাঙ্গিয়ে ফাঁদ তৈরি করে পাখি শিকার করা হচ্ছে।
    উপজেলার পুরাইকাটি, বয়রা, কচুবুনিয়া, বাসাখালী, বাইসারাবাদ, তেঁতুলতলা, লতা, হানিমুনকিয়া, বাহিরবুনিয়া, দেলুটি, সোলাদানা, চকবগুড়া, খড়িয়া, অকাইবাসী, ঠাকুনবাড়ী, আমিরপুর, বাইনবাড়ীয়া, কুমখালী ও পৌরসভা সহ বিভিন্ন এলাকায় ধানের ক্ষেত, খাল-বিল, জলাশয় ও চিংড়ি ঘের রয়েছে। এ সব খাল বিলে শীত মৌসুমের শুরুতে কমবেশি পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। সকাল হলেই পাখিরা এসব স্থানে গিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করে। এ সময় ঘেরে এলাকার লোকজন সহ সাধারণ শিকারীরা পূর্ব থেকেই ওই সব স্থানে বিভিন্ন মাছ ও ফড়িং জাতীয় প্রাণীতে বিষ মিশিয়ে রাখে। শিকারীরা পাখি শিকারে অভিনব পদ্ধতি বের করেছে। ইন্টারনেট থেকে পাখির ডাক রেকর্ড করে সেই পাখির স্বর ধান ক্ষেতে সাউন্ড বক্সের মাধ্যমে বাজিয়ে পাখি শিকারে ফাদ পেতে পাখি শিকার করছে। সাউন্ড বক্সে পাখির ডাক শুনে অতিথি ও স্থানীয় পাখিরা ফাঁদে গিয়ে ধরা পড়ছে। তাছাড়া দুই/তিন একর জুড়ে বাঁশ পুতে কারেন্ট জালের ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করছে। এভাবেই শিকারীরা প্রতিদিন ফাঁদ ও বিষ টোপ দিয়ে পাখি শিকার অব্যাহত রেখেছে।
    প্রতি বছর শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাওর-বাঁওর, নদ-নদী, বিল, পুকুর-জলাশয়ে পরিযায়ী বা অতিথি পাখির আগমন ঘটে। শীত প্রধান দেশের তীব্র শীত ও তুষার পাত থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয়ে ও অস্তিত্ব রক্ষার্থে খাবারের খোঁজে বাংলাদেশের মত কম শীত প্রধান দেশে পাখির আগমন ঘটে। পৃথিবীর সব দেশে পাঁখি আছে। পৃথিবীতে ১০ হাজারেরও বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে। কেউ শখের বসেই শিকার করুক, আর কেউ অসচেতনতার কারণে শিকার করুক; পাখি শিকার আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।
    পাখি বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের সৃষ্ট নানা করণে পাখিরা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। পরিবেশ বিপর্যয় ও খাদ্যের অভাবের কারণে পাখিরা প্রতিবছর শীতকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাওর ও জলাশয়ে আশ্রয় নেয়। পরিযায়ী পাখির নিরাপদ জীবন যাপন ও পরিবেশ অনিরাপদ হয়ে উঠছে। শীত মৌসুমে অনেকে শখ মেটাতে পাখি শিকার করেন। আবার অনেকে শীত মৌসুমটাকে পাখি শিকার পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন। পাখি শিকারীরা ফাঁদ, বিষটোপ, জালপেতে ও গুলি করে পরিযায়ী পাখি শিকারে মেতে ওঠেন। বাজারেও পাখি বিক্রয় করতে দেখা যায়। অনেকেই রসনা তৃপ্তি মেটাতে পাখি কিনে বাড়ি নিয়ে যান।
    এ ব্যাপারে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন,পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসন সবসময় তৎপর রয়েছে এবং পাখি শিকারীর বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।পাখি শিকার বন্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সচেতন এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র রক্ষায় পাখিদের ভূমিকা অপরিসিম। পরিবেশবান্ধব এই প্রাণীরা মানুষের সুস্থ্য জীবনধারাকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • র‌্যাব-১২’র অভিযানে ফেন্সিডিলসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    র‌্যাব-১২’র অভিযানে ফেন্সিডিলসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    র‌্যাব-১২’র অভিযানে সিরাজগঞ্জ জেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানা এলাকা হতে ৩৫০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, ০১টি পিকআপ জব্দ করা হয়েছে।

    ১। র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন, এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামী গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।

    ২। র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানি, সিরাজগঞ্জ এর কোম্পানি কমান্ডার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, দিনাজপুর হতে নারায়নগঞ্জগামী ০১টি চাউল ভর্তি পিকআপযোগে ০৩ জন ব্যক্তি নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল বহন করে সিরাজগঞ্জের দিকে আসছে। উক্ত সংবাদ প্রাপ্ত হয়ে অদ্য ১৪ মার্চ ২০২৪ খ্রি. ভোর ০৫.০০ ঘটিকায় “সিরাজগঞ্জ জেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানাধীন গোল চত্ত¡র এলাকায়” একটি অস্থায়ী চেকপোষ্ট স্থাপন করা হয়। চেকপোষ্ট চলাকালিন উপরোক্ত স্থানে ০১টি পিকআপ যার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১৭-০১২৬ আসতে দেখে পিকআপটি সংকেত দিয়ে থামানো হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১। মোঃ শফিকুল ইসলাম (৩৮), পিতা-মৃত দইয়া, সাং-বৈইকুণ্ঠপুর, থানা-চিরির বন্দর, জেলা-দিনাজপুর, ২। মোঃ নাইম হোসেন (২৮), পিতা মোঃ আঃ রহিম, সাং-লক্ষনপুর, থানা-মনোহরগঞ্জ, জেলা-কুমিল্লা ও ৩। মোঃ স্বপন মোল্লা (২৮), পিতা মৃত- মোসলেম মোল্লা, সাং-চরদোয়াইল, থানা-ভাঙ্গা, জেলা-ফরিদপুরকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য অনুযায়ী পিকআপের ভিতরে চাউলের বস্তার নিচে ০২টি কার্টুনে ৩৫০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।

    ৩। এছাড়াও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে থাকা মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত ০৩টি মোবাইল ফোন, ০৩টি সিম কার্ড, নগদ ৭৬৫০/- এবং ০১টি পিকআপ জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন যাবৎ লোকচক্ষুর আড়ালে বড় বড় মাদকের চালান সিরাজগঞ্জ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পিকআপযোগে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    এ ধরণের মাদক উদ্ধার অভিযান সচল রেখে মাদকমুক্ত সোনার বাংলা গঠনে র‌্যাব-১২ বদ্ধপরিকর।

    র‌্যাব-১২ কে তথ্য দিন – মাদক , অস্ত্রধারী ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিন।

  • পাইকগাছার ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    পাইকগাছার ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥
    পাইকগাছার ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। পবিত্র মাহে রমজানে দ্রব্য মূল্য স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকালে পৌর বাজার মনিটরিং করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন। এ সময় মূল্য তালিকা না থাকায় ৪ ব্যবসায়ীর প্রত্যেককে ৫শ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর ঈমান উদ্দিন ও পেশকার মোঃ ইব্রাহীম।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • পাইকগাছায় বড় ভাই ও তার সন্তানদের হাতে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানদের মারপিট ; আদালতে মামলা

    পাইকগাছায় বড় ভাই ও তার সন্তানদের হাতে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানদের মারপিট ; আদালতে মামলা

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি॥
    পাইকগাছায় জায়গা-জমির বিরোধ কে কেন্দ্র করে বড় ভাই ও তার সন্তানদের হাতে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানদের মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার উত্তর খড়িয়া(ঢেমসাখালী) গ্রামের মৃত্যু বিষ্ণু গাইন এর ছেলে রবেন্দ্রনাথ গাইন ও সুব্রত কুমার গাইনের মধ্যে দীর্ঘ দিন যাবৎ জায়গা জমির বিরোধ চলে আসছে। ইতিপূর্বে রবেন্দ্র নাথ তার ভাই সুব্রত গাইনদের নামে থানায় একটি জিডি করে। পরে উক্ত জিডি প্রসিকিউসন হলে সুব্রতর পরিবারের লোকজন আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। এর পর আসামী রবেন্দ্র নাথ গংরা ঘটনার দিন গত ১১ মার্চ ২০২৪ তারিখে সুব্রতর বাড়িতে প্রবেশ করে সুব্রতর স্ত্রী শিবানী গাইনকে মারপিট করতে থাকে এবং বাড়ি ঘর ভাংচুর ও শিবানীর পরহিত কানের দুল, চেইন, হাতের রুলি, ঘরে থাকা টাকা লুটপাট করে। এ সময় শিবানীর দু সন্তান সেখানে আসলে রবেন্দ্র নাথ গংরা তাদেরও মারপিট করে। এ ঘটনায় সুব্রত কুমার গাইনের স্ত্রী শিবানী গাইন বাদি হয়ে ১৪ই মার্চ বৃহস্পতিবার ভাসুর রবেন্দ্রনাথ গংদের নামে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছে। এ মামলার বিজ্ঞ আইনজীবী এ্যাডভোকেট এফএমএ রাজ্জাক বলেন আদালত বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

  • পাইকগাছায় ফুলে ফুলে ভরে গেছে সূর্যমুখী গাছ; সৌন্দের্যের শোভা বর্ধন করছে ফাগুন রাঙা সূর্যমুখী

    পাইকগাছায় ফুলে ফুলে ভরে গেছে সূর্যমুখী গাছ; সৌন্দের্যের শোভা বর্ধন করছে ফাগুন রাঙা সূর্যমুখী

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা, খুলনা ॥
    ফাগুনের বাতাসে দুলছে সূর্যমুখী। সূর্যের দিকে তাকিয়ে হাসছে সূর্যমুখী। চারিদিকে হলুদ গালিচায় সৌন্দের্যের শোভা বর্ধন করছে ফাগুন রাঙা সূর্যমুখী। ফাল্গুনকে বিদায় ও চৈত্রকে স্বাগত জানাতে সূর্যটা যখন চৈত্রের রূপে অবতীর্ণ এমন প্রখর রোদের মাঝে সূর্যমুখীর পরিচর্যায় ব্যস্ত তখন খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার সফল কৃষি উদ্যোক্তা জিল্লুর রহমান টুটুল। জিল্লুর রহমান উপজেলার বেতবুনিয়া গ্রামের এসএম শওকত আলীর ছেলে। পরিবার পরিজন নিয়ে খুলনায় স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও উদ্যোক্তা জিল্লুর রহমান কৃষি কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে জন্মস্থান পাইকগাছায়। তিনি ২০১৭ সালে উপজেলা সদরের পাশেই বয়রা এলাকায় ৫০ বিঘা জমিতে মৎস্য খামার করেন। খামারে তিনি ১২টি পুকুর খনন করেন। প্রথম দিকে ৩টি পুকুরের পাড়ে তিনি কুল চাষ করেছেন। কুল থেকে তিনি প্রতিবছর ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা বাড়তি আয় করে থাকেন। পুকুর গুলোতে লবণ পানির চিংড়ি চাষ করায় টানা কয়েক বছর লোকসান গুনছেন। ফলে তিনি সিদ্ধান্ত নেন মিষ্টি পানির মাছ চাষ করার পাশাপাশি পুকুরের পাড়ে কৃষি ফসল উৎপাদন করে চিংড়ির ক্ষতি পুষিয়ে নিবেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী চলতি মৌসুমে তিনি ৯টি পুকুরের পাড়ে ৬ বিঘা জমিতে হাইসান ৩৬ জাতের উন্নতমানের সূর্যমুখীর চাষ করেছে। ইতোমধ্যে ফুলে ফুলে ভরে গেছে প্রতিটি সূর্যমুখী গাছ। প্রথম বছরেই ভালো ফলনের আশা করছেন উদীয়মান কৃষি উদ্যোক্তা জিল্লুর রহমান। জিল্লুর রহমানের ন্যায় কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় অনেকে সূর্যমুখী চাষে এগিয়ে আসায় উপকূলীয় এ উপজেলাতে চলতি বছর সূর্যমুখীর আবাদ বেড়েছে। সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি সরকারি পতিত জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করতে এগিয়ে এসেছেন সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে ইউএনও বাংলোর পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন। ইউএনও’র পাশাপাশি বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট লোনাপানি কেন্দ্রে বেশ অনেকটা জায়গায় সূর্যমুখী চাষ করেছেন কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ লতিফুল ইসলাম। এ সব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নিজ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে চমক সৃষ্টি করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ রশীদুজ্জামান। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অসীম কুমার দাস বলেন, সূর্যমুখী চাষ অনেক সহজ এবং লাভ জনক। এটি একদিকে যেমন সৌন্দর্যের শোভা বর্ধন করে পাশাপাশি সূর্যমুখীর পাশে গিয়ে মানুষ প্রশান্তি লাভ করে। সরিষার চেয়ে সূর্যমুখীতে তেলের পরিমাণ অনেক বেশি, এটি কোলেস্টেরল মুক্ত। লবণ সহিষ্ণু, সেচ এবং পরিচর্যা কমলাগে। এজন্য উৎপাদন খরচ কম হয়। সূর্যমুখী স্থানীয় সরিষার মিলে মাড়াই করা যায়। সরিষা তেলের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। প্রতি ১০ লিটারে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম শুকনো লবণ দিয়ে সূর্যমুখী তেল সংরক্ষণ করা যায়। এসব কারণে অত্র উপজেলায় সূর্যমুখীর আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষিবিভাগের এ কর্মকর্তা বলেন ২০২১-২২ বছরে অত্র উপজেলায় সূর্যমুখীর আবাদ ছিল মাত্র ১০ হেক্টর। ২০২২-২৩ বছরে ১৯৩ হেক্টর। যা বর্তমান বছরে প্রায় ৩শ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে আনতে এবং স্বাস্থ্য সম্মত তেল ব্যবহারের জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে সূর্যমুখীর আবাদ বাড়ানোর উপর তাগিদ দিয়ে সংসদ সদস্য মোঃ রশীদুজ্জামান বলেন আমি নিজেই সূর্যমুখী চাষ করেছি। আমাদের কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। বহুমুখী ফসল উৎপাদনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। লবণ পানি পরিহার করে পরিবেশ বান্ধব কৃষি ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান স্থানীয় এ সংসদ সদস্য।

  • নড়াইলে দূর্নীতিবাজ কালচারাল অফিসারকে অবাঞ্চিত ঘোষণা দ্রুত অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানালো সাংস্কৃতিক কর্মীরা

    নড়াইলে দূর্নীতিবাজ কালচারাল অফিসারকে অবাঞ্চিত ঘোষণা দ্রুত অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানালো সাংস্কৃতিক কর্মীরা

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সেচ্ছাচারী ও দূর্নীতিবাজ কালচারাল অফিসার হামিদুর রহমানকে সাংস্কৃতিক কর্মীরা অবাঞ্চিত ঘোষণা এবং দ্রুত অপসারণ ও শাস্তির জানালো।উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমীর এই সামনে দাবিতে সাংস্কৃতিক কর্মীরা শহওে প্রতিবাদ মিছিল ,ঘেরাও ও সমাবেশ করে। জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসারের সেচ্ছাচারিতা ও দূর্নীতি প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে সংগ্রাম কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলুর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রওশান আরা কবীর লিলি,সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নড়াইলের সভাপতি মলয় কুমার কুন্ডু, সাধারণ সম্পাদক শরফুল আলম লিটু, মূর্ছনা সংগীত নিকেতনের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সংগীত বিভাগের শিক্ষক নিরঞ্জন বিশ^াস প্রমুখ।
    সমাবেশে বক্তরা বলেন, গত এক বছরে এই দূর্নীতিবাজ অফিসার বিভিন্ন অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ,কর্মশালা, অডিটোরিয়াম সংস্কারের নামে প্রায় ৫০ লাখ টাকার দূর্নীতি করেছে। বিভিন্ন সময় কালচারাল অফিসার শিল্পকলা একাডেমীর শিক্ষক-কর্মচারিদের অপমান ও শিল্পকলা থেকে বের করে দিয়েছে। এসব কারণে গত ১০ দিন শিল্পকলা একাডেমীর শিক্ষক ক্লাস বর্জন করেছেন। এই সেচ্ছাচারি ও দূর্নীতিবাজ এই ব্যক্তিকে একদিনও দেখতে চাই না। তারা এক সপ্তাহের মধ্যে এই অফিসার নড়াইল ছেড়ে চলে না গেলে শিল্পকলা একাডেমী তালা মেরে দেওয়ার ঘোষণা দেন
    পরে সাংস্কৃতিক কর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান গ্রহন করেন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরীর সাথে দেখা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সম্প্রতি তার (কালচালাল অফিসার) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সংস্কৃতি বিষয়ক সচিবের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে বলেও জানান।
    শিল্পকলা একাডেমীর শিক্ষক ও সদস্যরা অভিযোগে জানান, জেলা কালচারাল অফিসার হামিদুর রহমান ২০২৩ সালের জানুয়ারী মাসে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিল্পী, বিচারক ও কলাকুশলীদের জন্য সরকারি নির্ধারিত কয়েক লাখ টাকা সম্মানি দেননি। জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়াম সংস্কারে ১০ লাখ টাকা আসলেও খাতা-কলমে টেন্ডার দেখিয়ে নিজেই কাজ করেছেন। এ পর্যন্ত এই দূর্নীতিবাজ অফিসার নড়াইল থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আতœসাৎ করেছে। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমিতে সংগীতের বিভিন্ন শাখার ক্লাস চলাকালীন সময়ে কালচারাল অফিসার সংগীত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে তিনি অসদাচরণ করে থাকেন। এবং শিক্ষার্থীদেও কাছ থেকে অতিরিক্ত ভর্তি ও বেতন নিয়ে থাকেন।
    গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর নড়াইল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরীর কাছে জেলা কালচারাল অফিসারের বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়। এর প্রেক্ষিতে ২৪ ডিসেম্বর সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ব্যবসায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কালচারাল অফিসারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের স্বাক্ষ্য দেয়। জেলা প্রশাসন কালচারাল অফিসারের বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতি তদন্ত করে এর সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে গত ৬ ফেব্রুয়ারী সংস্কৃতি বিষয়ক সচিবের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠায়।
    এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা কালচারাল অফিসার মোঃ হামিদুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি কুচক্রিমহল উঠেপড়ে লেগেছে। জেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির যে প্রতিবেদন প্রদান করেছে এটিকে তিনি মিথ্যা দাবি করেন।

  • ধামইরহাটে ভোক্তা অধিকার দিবস উদযাপন

    ধামইরহাটে ভোক্তা অধিকার দিবস উদযাপন

    আবুল বয়ান, ধামইরহাট প্রতিনিধি:

    নওগাঁর ধামইরহাটে ভোক্তা অধিকার দিবস উদযাপন করা হয়েছে। ধামইরহাট উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে ১৫ মার্চ ১০ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোসা. জেসমিন আকতার। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশিদ, স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মো. আনিসুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সমাজ সেবা কর্মকর্তা এ টি এম ফসিউল আলম, জাহানপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া, পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের প্রতিনিধি গোলাম সরফরাজ রাঙ্গা, ধামইরহাট কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ আব্দুল বারিক, সাংবাদিক এম এ মালেক, আবু মুছা স্বপন প্রমুখ। বাজারে রাস্তার পাশে খোলা ইফতারি সামগ্রী বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ মূল্যে খেজুর, আপেল, মাল্টা, পচা মাছ, কেমিক্যাল বা রং মিশ্রিত জিলাপি, বিস্কুট, চানাচুর, কেমিক্যাল যুক্ত আচার, ঘরে তৈরি অস্বাস্থ্যকর জুস ইত্যাদি খাদ্যপণ্য বাজারজাত নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আকতার অঙ্গীকার করেন- ‘ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় শতভাগ দায়িত্ব পালন করব।’ এছাড়াও তিনি জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।

    আবুল বয়ান।

  • পাইকগাছায় বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালিত

    পাইকগাছায় বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালিত

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন শুক্রবার সকালে র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ” স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ি, ভোক্তার স্বার্থে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করি ” প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, ওসি ওবাইদুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু। প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ উৎপল বাইন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাসিবুর রহমান, বন কর্মকর্তা প্রেমানন্দ রায়, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ঘোষ, সমবায় পরিদর্শক তোরাব আলী, জি এম জাকারিয়া, প্রভাষক মোমিন উদ্দিন, ষোলআনা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি জি এম শুকুরুজ্জামান, কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট ও গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, প্রভাষক বজলুর রহমান, মৎস্য আড়ৎদারি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল হক মিঠু, জীবন কিশোর দে, সাংবাদিক মাজহারুল ইসলাম মিথুন, মোশাররফ হোসেন, হাবিবুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ ও রেজাউল ইসলাম।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা খুলনা।

  • বানারীপাড়ায় ব্রাকের “প্রবাস বন্ধু ফোরাম” এর কমিটি গঠন।। সভাপতি মোঃ সিদ্দিক সম্পাদক এস মিজান

    বানারীপাড়ায় ব্রাকের “প্রবাস বন্ধু ফোরাম” এর কমিটি গঠন।। সভাপতি মোঃ সিদ্দিক সম্পাদক এস মিজান

    বানারীপাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা।। বৃহস্পতিবার ১৪ মার্চ বেলা ১১ টায় ব্রাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম, ইম্পুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশী রিটার্ন মাইগ্রেশন(প্রত্যাশা-২) প্রকল্পের “প্রবাস বন্ধু ফোরাম” এর সভা চাখার ব্রাক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
    এসময় অনুষ্ঠানে বিদেশ ফেরত বিভিন্ন অসহায় ব্যক্তির সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করেন, ব্রাকের দেবানন্দ মন্ডল এম.আর.এস.সি কো-অর্ডিনেটর, মো: তানভীর আহমেদ, সেক্টর স্পেশালিষ্ট ইকোনমিক রিইন্টিগ্রেশন, এম আর এস সি, মো: শোভন খান প্রোগ্রাম অর্গানাইজার, বানারীপাড়া, এস মিজানুল ইসলাম, মোঃ শাজাহান, নাজমীন জাহান পলি প্রমূখ।
    আলোচনা শেষে বানারীপাড়া “প্রবাস বন্ধু ফোরাম” এর কমিটি গঠন করা হয়। ফোরামের সভাপতি বাকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: সিদ্দিকুর রহমান, সহ-সভাপতি নারীনেত্রী নাজমিন জাহান পলি, সাধারণ সম্পাদক বানারীপাড়া এনজিও সমন্বয় পরিষদ সম্পাদক ও সাংবাদিক এস মিজানুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক কলেজ শিক্ষক মোঃ শাজাহান, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক মোঃ রেজাউল ইসলাম বেলাল, সদস্য এমআরএসসি(ব্রাক) দেবানন্দ মন্ডল প্রমূখ সহ ১৫ সদসের কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। #