Category: দেশজুড়ে

  • উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নাজনীন হক মিনুকে চান বানারীপাড়াবাসী

    উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নাজনীন হক মিনুকে চান বানারীপাড়াবাসী

    নিজস্ব প্রতিবেদক।
    উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে নাজনীন হক মিনুকে দেখতে চায় এলাকাবাসী। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে যদিও দলীয় মনোনয়ন দেবেনা তার পরও উপজেলার চলমান উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিনুকে জনগণ আগামী উপজেলা নির্বাচনে এই পদে দেখতে চায়। তাই তিনিই হচ্ছেন এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলাদের মধ্যে জনপ্রিয় ও হেভিওয়েট প্রার্থী এমন গুঞ্জনই এখন উপজেলার সাধারণ জণগনের মুখে মুখে।

    বানারীপাড়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ ও মতবিনিময়ে তার অতীত রাজনৈতিক জীবন এবং ভবিষ্যতে এলাকার রাজনীতিতে নিজের অর্জন-পরিকল্পনার কথা জানান দিচ্ছেন নাজনীন হক মিনু। অন্যদিকে,উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মত তাকে ব্যাতিত যোগ্য প্রার্থী নেই বলে দাবি এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।

    এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহকালে জানা যায়, আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একজন জনবান্ধব কর্মী হিসাবে নাজনীন হক মিনুকে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় এখানকার উঠতি ভোটাররা। স্থানীয় তরুণ প্রজন্মের নেতা-কর্মীদের সাথে আলাপের মাধ্যমে এমন তথ্য জানা গেছে। তাদের মতে মহিলা আওয়ামী লীগ এই নেত্রী এরই মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। মহিলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিতে নিজেকে টেনে নিয়ে এসেছেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। বর্তমানে তিনি বানারীপাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাইতো নিজ দলীয় কর্মী-সমর্থকসহ এলাকাবাসীর অধিক আগ্রহের কারণেই মনস্থির করেছেন আগামী উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবার।

    জানা গেছে, এবারে দলীয় প্রতীক না থাকায় জনতার প্রার্থী হিসেবে নাজনীন হক মিনু উপযুক্ত তাই আওয়ামী লীগের, সাধারণ কর্মীরা তার পক্ষেই একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন।

    উল্লেখ্য নাজনীন হক মিনু আপনাদের কাছে দোয়া ও প্রার্থনা কামনা করেছেন।

  • পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ঈদ উপহার পেল এক হাজার অসহায় পরিবার

    পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ঈদ উপহার পেল এক হাজার অসহায় পরিবার

    এম এ আলিম রিপন ঃ মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো.সাহাবুদ্দিন এর উদ্যোগে এবং পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় সুজানগর উপজেলার হত দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সুজানগর পৌর শহরের কদ্দুস কমপ্লেক্স চত্বরে অসহায় মানুষদের মাঝে এসকল ঈদ উপহার সামগ্রী তুলে দেন পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সহ সভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আফসার আলী বিশ^াস, পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ¦ আব্দুল কুদ্দুস ও পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পুলিশ সুপার(এসপি) আসলাম উদ্দিন। এসময় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম তুষার উপস্থিত ছিলেন। পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেয়ে এ সময় আবেগাপ্লুত অসহায় মানুষদের অনেকের দুই চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে থাকে। এ সময় উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের সৌক্ষেতুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা জাহানারা খাতুন বলেন, সামনে ঈদ, কত মানুষ কত কিছু খাবে। কেউ খোঁজ নেয় না আমাদের মত মানুষদের। আপনারা চাল,ডাল,চিনি,সেমাই, গুড়ো দুধ,সয়াবিন তেল ও ছোলা নিয়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবেন,ভাবতে পারি নাই। ঈদের দিন এগুলো রান্না করতে পারব, ভাবতে অবাক লাগছে। রাষ্ট্রপতিসহ আপনাদের জন্য পরান ভরে দোয়া করি। আল্লাহ আপনাদের সুখে রাখুক,ভালো রাখুক,শান্তিতে রাখুক। এই ঈদ উপহার না পেলে ঈদের দিন ভালো কিছু রান্না করতে পারতাম না। ঈদ উপহার বিতরণকালে পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সহ সভাপতি আফসার আলী বিশ^াস,আজীবন সদস্য আলহাজ¦ আব্দুল কুদ্দুস ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পুলিশ সুপার(এসপি) আসলাম উদ্দিন জানান, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভপতি মো.সাহাবুদ্দিন স্যার এর উদ্যোগে এবং পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাবেক রেল সচিব সেলিম রেজা স্যারের পরামর্শক্রমে শনিবার সুজানগর উপজেলার ১২০জন সহ জেলার এক হাজার হত দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের মাঝে এ ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। গরীব অসহায় ও দুস্থ মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পাবনা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের এ ঈদ সামগ্রী বিতরণ। আমাদের সামর্থ্য দিয়ে কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই আমাদের এই ক্ষুদ্র মানবিক প্রয়াস বলেও জানান তারা।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • পাইকগাছায় ফিশারিজ কো ম্যানেজমেন্ট মিটিং অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছায় ফিশারিজ কো ম্যানেজমেন্ট মিটিং অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছা উপজেলা পর্যায়ে ফিশারিজ কো-ম্যানেজমেন্ট মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর ও উন্নয়ন সংস্থা এসডিএফ বাস্তবায়িত সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট কম্পোনেন্ট-৩ এর আওতায় রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিটিং এ প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক। বিশেষ ছিলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার, থানার সেকেন্ড অফিসার আজগর হোসেন, নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিন্টু, এসডিএফ ক্লাস্টার অফিসার নাসিম আহম্মেদ আনসারী। উপস্থিত ছিলেন, এসডিএফ ক্লাস্টারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীবৃন্দ।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • লবণ পানি উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ, প্রাণ ও প্রকৃতি ধ্বংস করেছে….এমপি রশীদুজ্জামান

    লবণ পানি উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ, প্রাণ ও প্রকৃতি ধ্বংস করেছে….এমপি রশীদুজ্জামান

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
    খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রশীদুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। এ জন্য এ সরকারের সময়ে দেশের কৃষকরা যেমন ভালো আছে তেমনি কৃষিতে এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। তিনি বলেন, কৃষি হচ্ছে গ্রামীন অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। কৃষি এবং কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য সরকার কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এমপি রশীদুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কাজ শুরু করেছিলেন। যার সুফল পেয়ে ওই সময় এ অঞ্চলের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। কালের বিবর্তনে আশি’র দশকে এ অঞ্চল গ্রাস করে নেয় লবণ পানি। লবণ পানির আগ্রাসনে এখানকার কৃষি, পরিবেশ, প্রাণ ও প্রকৃতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। যে কোন উপায়ে লবণ পানির অগ্রাসন থেকে এ অঞ্চলের পরিবেশ ও প্রকৃতিকে বাঁচাতে হবে। তিনি বলেন, কৃষি চাষাবাদে অতিতের সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ঘরে ঘরে স্মার্ট কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরী করতে হবে। ফসলী জমির বহুমুখী ব্যবহার করতে হবে। তিনি আগামী আমন মৌসুমে চিংড়ি ঘেরের এক ইঞ্চি জায়গাও ফেলে না রেখে ধান চাষ করতে সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি রোববার দুপুরে পাইকগাছার গড়ইখালী ইউনিয়নের কানাখালী রাধা গোবিন্দ মন্দির চত্তরে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন। ক্লাইমেট-স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলনা কৃষি অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন প্রকল্পের আওতায় পাইকগাছা উপজেলায় কৃষির বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের প্রযুক্তির সম্প্রসারণের লক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ কৃষক সমাবেশের আয়োজন করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লিপিকা ঢালী, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অসীম কুমার দাস, ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আব্দুস সালাম কেরু, সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস, কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিশিত রঞ্জন মিস্ত্রী, কৃষিবিদ ড. ফেরদৌস, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কৃষ্ণপদ মন্ডল, আওয়ামী লীগনেতা এসএম আয়ুব আলী, গাজী মিজান, প্রভাষক আব্দুল ওহাব বাবলু, ইউপি সদস্য সরৎ চন্দ্র মন্ডল, আয়ুব আলী সরদার, আক্তার হোসেন গাইন, আব্দুল মোমিন, রমেশ চন্দ্র বর্মণ, নাছিমা আক্তার, গাউস সরদার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শেখ তোফায়েল আহম্মেদ তুহিন, আবুল কালাম আজাদ, আতাউল্লাহ, ফয়সাল আলম, আকরাম হোসেন, সোহাগ হোসেন, ইমরান হোসেন, শরিফুল ইসলাম, সুব্রত দত্ত, এনামুল হক, তাপস সরকার, সুমিত দেবনাথ, মুনিয়া রুবাইয়া, মফিজুল ইসলাম, শামীম আফজাল, দেবদাশ, নাহিদ মল্লিক, সরাজ উদ্দীন, মৃণাল, ময়না বেগম, কৃষক বিজয় কৃষ্ণ রায়, জ্যোতিকা রায়, মলয় মন্ডল, জেলা ছাত্রলীগনেতা মৃণাল কান্তি বাছাড়, স্বেচ্ছাসেবক লীগনেতা রাজিকুজ্জামান সুমন, মৎস্যজীবী লীগনেতা হামিম সানা, ছাত্রলীগনেতা আরিফ আহম্মেদ জয় ও ফয়সাল আলম।

  • গড গিফটেড শিশুর প্রতি সবার সদয় হওয়া উচিৎ

    গড গিফটেড শিশুর প্রতি সবার সদয় হওয়া উচিৎ

    মো: হায়দার আলী।। নতুন শিক্ষাক্রম, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কি অবস্থা, অভিভাবক, শিক্ষার্থীরা কি পরিমান উপকৃত হচ্ছে অপর দিকে দেদারসে চলছে শিক্ষকদের প্রাইভেট, কোচিং বানিজ্য, রহস্যজনক কারণে প্রশাসন রয়েছে নিরব দর্শকের ভূমিকায়। কিন্তু কোন কোন স্থানে এসব অবৈধ প্রাইভেট কোচিং বানিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছেন প্রশাসন যা পত্র পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর পাওয়া গেছে। স্মার্ট ফোন, ইন্টারনেটের গতি নিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা কতটা সমস্যার মুখে পড়েছে। এ সম্পর্কে লিখার জন্য, তথ্য উপাত্ত নিয়ে ল্যাপটপ ওপেন করলাম। এমন সময় আমার প্রতিবেশী মৃত. ইলিয়াস আলীর ছেলে অটিজম, একবার হারিয়ে গিয়েছিল অনেক খোঁজাখোজি, কান্নাকাটি করে তাকে ২ মাস পর পাওয়া গিয়ে ছিল। তার মা তাকে অনেক কষ্ট করে মানুষ করছেন, ছেলেটা অনেক বড় হয়েছে, দাড়ি, গোফ উঠেছে। তাই তো মা তাকে বাড়ী আটকিয়ে রাখে। সচেতন হলে, সঠিক পরিচর্যা করা হয়ে সে আরও ভাল হত। অভাবের সংসারে নুন আন্তে পান্তা ফুরায় অবস্থা, তাই ভর্তি করতে পারেনি সে ধরণের স্কুলে। ওই ভাবীর কষ্টের কথা চিন্তা করে লিখার থিম পরিবর্তন করে
    অটিজমে আক্রান্ত শিশু সম্পর্কে আল্লাহর নাম নিয়ে লিখা শুরু করলাম।

    মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধির বা পরিপক্বতার হেরফেরের কারণেই একটি শিশু অটিজমে আক্রান্ত হয়। কিন্তু কেন এই হেরফের, তা অজানা। তবে গবেষকরা মনে করেন চারটি কারণেঅটিজমের জন্য প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
    ১. জিনগত সমস্যা. ২.রোগজীবাণুর সংক্রমণ ৩. শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় গোলমাল ৪. পরিবেশগত সমস্যা

    যেহেতু এটি একটি সমষ্টিগত আচরণের সমস্যা, তাই অনেক অটিস্টিক শিশুর সব লক্ষণ থাকে না। তবে ‘অটিজম স্পেকট্রাম অব ডিজঅর্ডার’ বা অটিজমের লক্ষণ গুলোকে তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যেতে পারে: ১. সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে অপারগতা
    অটিজম আছে এমন শিশুর ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বাভাবিক একটি শিশু যেভাবে বেড়ে ওঠে, যেভাবে সামাজিক সম্পর্কগুলোর সঙ্গে ধীরে ধীরে যোগাযোগ তৈরি করে, সে তা করতে পারে না।
    বাবা-মা বা প্রিয়জনের চোখে চোখ রাখতে, মুখভঙ্গি ও শারীরিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নিজের চাওয়া বা না-চাওয়া বোঝাতে সে অপারগ হয়।
    সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে না। অমিশুক প্রবণতা থাকে।
    কোন ধরনের আনন্দদায়ক বস্তু বা বিষয় সে অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেয় না। যেমন, স্বাভাবিক একটি শিশু কোন খেলনা হাতে পেলে তার দিকে অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কিন্তু অটিস্টিক শিশুর ক্ষেত্রে এ ধরনের কোন খেলনার প্রতি তার নিজের কিছু আগ্রহ থাকলেও সেটা নিয়ে কোনো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে না।
    শারীরিক আদর, চুমু দেওয়া এবং চেপে ধরে কোলে নেওয়া তারা মোটেই পছন্দ করে না।
    ২. যোগাযোগের সমস্যা
    আশপাশের পরিবেশ ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার ক্ষমতা কমে যায়। তবে মনে রাখতে হবে, কেবল কথা শিখতে দেরি হওয়া মানেই অটিজম নয়।
    কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিশুটি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে হয়তো পারে, কিন্তু একটি বাক্য শুরু করতে তার অস্বাভাবিক দেরি হয়। অথবা বাক্য শুরু করার পর তা শেষ করতে পারে না।
    কখনো দেখা যায়, একই শব্দ বারবার সে উচ্চারণ করে যাচ্ছে।
    তিন বছরের কম বয়সী শিশুরা তার বয়সের উপযোগী নানা রকমের খেলা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেরাই তৈরি করে খেলে। কিন্তু অটিস্টিক শিশুরা এ রকম করে না।
    ৩. আচরণের অস্বাভাবিকতা
    একই আচরণ বারবার করতে থাকে।
    আওয়াজ পছন্দ করে না।
    তারা রুটিন মেনে চলতে ভালোবাসে। দৈনন্দিন কোনো রুটিনের হেরফের হলে তারা মন খারাপ করে।
    কোনো কারণ ছাড়াই দেখা যায় তারা হঠাৎ রেগে ওঠে বা ভয়ার্ত হয়ে যায়।
    কোন বয়সে ও কিভাবে অটিজম প্রথম সনাক্ত করা সম্ভব?
    যত দ্রুত অটিজম রোগটি সনাক্ত করা যায়, শিশুর জন্য ততই মঙ্গল। সাধারণত ৩ বছর বয়সের পর শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত কিনা তা দ্ব্যর্থহীনভাবে সনাক্ত করা সম্ভব হয়। তবে মা-বাবারা সচেতন থাকলে ও বাচ্চার আচরণের দিকে ভাল ভাবে লক্ষ্য রাখলে ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যেই সমস্যাটি আঁচ করতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে যে বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে অটিজম সনাক্তকরণ সম্ভব তা হল:

    শিশুর দেরী করে হাসতে শেখা (সাধারণত শিশু জন্মের ছয় মাসের মধ্যে হাসতে শেখে। কিন্তু অটিস্টিক শিশু ছয় মাসেও হাসে না),
    কথা না বলা বা ঠিকমত না বলা (শিশুরা সাধারণত এক বছর বয়সের মধ্যে কিছু না কিছু শব্দ উচ্চারণ করে, কিন্তু অটিস্টিক শিশুরা এক বছরের মধ্যে মুখে কোনো শব্দ করে না। আঙুল দিয়ে কিছু নির্দেশ করে না, কোনো কিছু চাওয়া বা চাওয়ার ভঙ্গি করে না। ১৬ মাসেও কোনো শব্দ উচ্চারণ না করা। দুই বছরের মধ্যে দুটি শব্দ বলতে না পারা।) কানে না শোনা ( শিশুটিকে নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেওয়া)।
    অটিস্টিক শিশুদের বিভিন্ন পর্যায়গুলো কি কি?
    সাধারণত অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের ৪টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়। বয়সের সাথে নয় বরং প্রতিটি শিশুর সামর্থের উপর তার পর্যায় নির্ভর করে। প্রথম পর্যায় (আত্মকেন্দ্রিক): এই পর্যায়ে শিশুরা আত্মকেন্দ্রিক থেকে এবং আপন মনে একাকী খেলতে পছন্দ করে। এরা সাধারণত কোন আদেশ-নিষেধ অথবা নির্দেশ বুঝতে পারে না ও পালন করে না।
    দ্বিতীয় পর্যায় (অনুরোধকারী): এই পর্যায়ের শিশুরা শারীরিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে খুব কাছের লোকদের সাথে অল্প সময়ের জন্য যোগাযোগ স্থাপন করে এবং তাদের চাহিদা পূরণ করার জন্য অনুরোধ করে।

    তৃতীয় পর্যায় (যোগাযোগ স্থাপনকারী ): এই পর্যায়ের শিশুরা কিছু প্রচলিত শব্দ বুঝতে পারে এবং অতি পরিচিত মানুষের সাথে অল্প সময়ের জন্য যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। তারা ছোটখাট আদেশ-নির্দেশ পালন করতে পারে।

    চতুর্থ পর্যায় (সহযোগী): এই পর্যায়ের শিশুরা পরিচিত সমবয়সী শিশুদের সাথে অল্প সময়ের জন্য খেলা করে। ভাষায় দক্ষতা একটু ভালো এবং অন্যদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়।

    অটিস্টিক শিশুদের যোগাযোগে ভিন্নতা থাকে। যেহেতু তারা প্রচলিত সামাজিকতার বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে না, তাই তারা নিজস্ব পদ্ধতিতে অনুভূতিগুলো প্রকাশ করে। অনেক অটিস্টিক শিশু সারা জীবনেও কথা বলে না। কিছু শিশু প্রথম দিকে মুখ দিয়ে কোনো শব্দ করে (উহ্, আহ্, বাহ্), কিন্তু হঠাৎ তা বন্ধও করে দেয়। কোন কোন শিশু আবার দেরিতে কথা বলে। কেউবা আবার অগোছালো ও অর্থহীন কথা বলে। কোন কোন শিশু একই কথা বা শব্দ বারবার বলতে থাকে। আসলে সে তার অনুভূতি বোঝাতে চায়, কিন্তু পারে না।

    তাই দেখা যায় অটিস্টিক শিশুরা মাথা নেড়ে, হাত নেড়ে, কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গ ভঙ্গিমায় তার মনের ভাব প্রকাশ করে। যেমন হাঁ-বোধক, না-বোধক অনুভূতি মাথা নেড়ে বোঝায় অথবা খিদে পেলে প্লেটের কাছে, ফ্রিজের কাছে, চুলার কাছে অন্যকে টেনে নিয়ে যায়। পেটে হাত দিয়ে বসে থাকে। বাইরে যাওয়ার জন্য দরজার কাছে টেনে নিয়ে যায়, কোনো কিছু চাওয়ার থাকলে চিৎকার করে, রেগে যায়, মন খারাপ করে।

    একটি নিজস্ব রুটিনমাফিক জীবন তারা বেছে নেয়। যেমন একটি নির্দিষ্ট সময় ঘুম থেকে উঠে, খায়, ছবি আঁকে ইত্যাদি। কিন্তু এই রুটিনের ব্যত্যয় ঘটলে তারা মানতে পারে না। রেগে গিয়ে জিনিসপত্র নষ্ট করে।

    অটিজম রয়েছে এমন শিশুদের মধ্যে ১০ থেকে ২০ শতাংশ চার থেকে ছয় বছর বয়সের মধ্যে মোটামুটি সুস্থ হয়ে ওঠে এবং সাধারণ স্কুলে স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে পড়ালেখা করতে পারে। আরও ১০ থেকে ২০ শতাংশ শিশু স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে পড়ালেখা করতে পারে না। তারা বাসায় থাকে বা তাদের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষায়িত স্কুল ও বিশেষ প্রশিক্ষণের। বিশেষায়িত স্কুলে পড়ে, ভাষাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা সমাজে মোটামুটি স্বাভাবিক অবস্থান করে নেয়। কিন্তু বাদবাকি প্রায় ৬০ শতাংশ শিশু যাদের অটিজম আছে, তারা সহায়তা পাওয়ার পরও স্বাধীন বা এককভাবে জীবন অতিবাহিত করতে পারে না। তাদের জন্য প্রয়োজন হয় দীর্ঘদিন; প্রায় সারা জীবনের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরতা। তা ছাড়া বিশেষ আবাসন, নার্সিং কেয়ারের প্রয়োজন হয় তাদের। ধৈর্য সহকারে অটিস্টিক শিশুটিকে যে সব বিষয়ে প্রশিক্ষন দিতে হবে তার মধ্যে স্বাবলম্বীতা বিকাশঃ বেঁচে থাকার জন্য যে কাজগুলো করা অবশ্যই দরকার সেগুলো প্রশিক্ষণ দিতে হবে যেমনঃ টয়লেট ও ওয়াশ করা, জামা ও জুতা পরিধান করা, দাঁত ব্রাশ করতে পারা, মাথা আচরাতে পারা, নিজে নিজে খেতে পারা ইত্যাদি। খাওয়ার এবং ঘুমের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে খুব বেশি খেয়ে মুটিয়ে না যায় এবং দিনের বেলা ঘুমিয়ে রাতে নিজে এবং অন্য সকলের ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটায়।

    সংবেদনশীলতার সমম্বয়ঃ
    এই ধরনের শিশুদের সংবেদনশীতা অত্যান্ত প্রখর অথবা অপ্রতুল হওয়াতে তাদের সংবেদনশীলতার সমম্বয় না করা হলে কোন কিছু শিখতে কিংবা মনসংযোগ করতে অনেক বিলম্ব হয়। বর্তমানে এ ধরনের শিশুদের প্রশিক্ষণের জন্য এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হচ্ছে।

    ফিজিও এবং অকুপেশনাল প্রশিক্ষণঃ অনেক অটিষ্টিক শিশুর বিভিন্ন মাংসপেশী, চোখ ও হাতের যথাযথ সমম্বয় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যথাযথভাবে পরিপক্কতা ও পরিপূর্ণতার ঘাটতি থাকে। যথাযথ ফিজিওথেরাপি এবং অকুপেশনাল থেরাপি প্রয়োগ করলে এসব ক্ষেত্রে বেশ কার্যকরী ফলাফাল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রশিক্ষণের সাথে সাথে এ বিষয়টিকেও গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে।

    কথা ও ভাষা বিকাশঃ
    অটিষ্টিক শিশুদের কথা ও ভাষা প্রশিক্ষণ অন্যান্যদের চেয়ে বেশ কঠিন কারণ তারা চঞ্চল এবং বেশিক্ষণ মনসংযোগ করতে পারে না। কথা ও ভাষা শিক্ষণের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবেঃ শিশুদের সাথে মুখোমুখি এবং একই উচ্চতায় ও চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হবে। ঠোঁটের নাড়াচাড়া এবং চোখের ও হাতের সঞ্চালন অনুসরণ করতে সাহায্য করতে হবে। যে কোন কার্যক্রম করার সময় শিশুর সাথে কথা বলে কাজটি করতে হবে এবং শিশুকে দিয়ে করাবার চেষ্টা করতে হবে।
    স্বাভাবিকভাবে শিশুটি কোন শব্দ উচ্চারণ করলে তাকে অর্থপূর্ণ শব্দে রূপান্তর করার চেষ্টা করতে হবে।
    শুরুতে অতি দরকারি কিছু সহজ এবং এক সেলেবলযুক্ত শব্দ নির্বাচন করে সেগুলো শেখানোর চেষ্টা করতে হবে। যেমন মা, বাবা, পানি, ভাত, জামা, জুত, বই, বল ইত্যাদি।
    শেখানো কথাগুলো বার বার এবং প্রতিদিন পুনরাবৃত্তি করতে হবে যাতে কোনভাবেই শিশুটি শিখে ফেলা শব্দগুলো ভুলে যেতে না পারে। সাথে সাথে এক শব্দের সাথে অরেকটি শব্দ যুক্ত করে দুই শব্দের বাক্য শেখানো চেষ্টা করতে হবে। যেমন- পানি খাব, জামা দাও, বই দাও, বল নেব ইত্যাদি।
    শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, ছবির বই, দরকারি জিনিসপত্র ইত্যাদি দেখিয়ে ধীরে ধীরে শেখানোর চেষ্টা করতে হবে।
    কথা বলতে না পারলে তাকে ছবির ভাষা দেয়ার চেষ্টা করতে হবে যেন ছবি দেখিয়ে তার চাহিদা বুঝাতে পারে।
    এরপর ধীরে ধীরে অক্ষর, সংখ্যা, ছড়াগানের ক্যাসেট, ভিডিও ইত্যাদির প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে হবে এবং শেখানোর চেষ্টা করতে হবে।
    যেসব কথাগুলো বলতে পারবে সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবে ব্যবহার করতে এবং অভ্যাস করতে হবে।
    সামাজিকতা ও আচরণগত বিকাশঃ
    অটিষ্টিক শিশুদের প্রয়োজনীয় সামাজিক আচরণ শেখাতে হবে। এক্ষেত্রে যেসব কার্যক্রম করতে হবে তা নিম্নরূপঃ

    সমবয়সী শিশুদের সাথে মিশতে ও ভাবের আদান-প্রদান করতে সহায়তা করতে হবে।
    কখনই একাকী খেলতে দেয়া যাবে না। অন্য কারো সাথে খেলতে দিতে হবে এবং একে অন্যের মাধ্যমে কোন কিছু আদান প্রাদান করা শেখাতে হবে।
    সম্ভাষণ করতে পারা, হাসির জবাবে হাসি, আনন্দ প্রকাশ, করমর্দন সালাম প্রদান, বিদায় সুচক হাত নাড়া, শরীরিক স্পর্শদ্বারা বন্ধুত্ব করতে পারা ইত্যাদি শেখাতে হবে।
    আদান-প্রদানমূলক খেলা যেমন- বল দেয়া-নেয়া, গাড়ি দেয়া-নেয়া ইত্যাদি নিয়ম করে শিশুদের সাথে খেলতে হবে প্রথমে সহজ যেমন লুকোচুরি, টুকি ইত্যাদি থেকে ধীরে ধীরে গঠনমূলক খেলা খেলতে হবে।
    শিশুকে খেলার মাঠে-পার্কে নিয়ে যেতে হবে এবং সহজভাবে চলাফেরা করতে দিতে হবে।
    তত্ত্বাবধানের সাথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অন্যান্যদের সাথে খেলায় সক্রিয় অংশগ্রহনের জন্য অনুপ্রাণিত করতে হবে।
    শিশুটিকে সকল সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে নিয়ে যেতে হবে। এটা ধরো না, ওটা করো না, সারাক্ষণ এই জাতীয় নিয়ন্ত্রন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
    কেউ যেন শিশুটিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করে, বিরূপ সমালোচনা না করে এবং কোন কঠিন আচরণ না করে তার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

    জরুরী বিষয়গুলো শেখানোর উপায় কি?
    প্রথমেই নিশ্চিত হোন আপনার শিশুটি কি কি জিনিস, বিষয়, খাবার, খেলনা ইত্যাদি খুব পছন্দ করে। এগুলো প্রশিক্ষণ সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। প্রশিক্ষণ সহায়ক বিষয়টিকে শিশুর দৃষ্টিসীমার মধ্যে রেখে তাকে আস্বস্ত করতে হবে যে নির্দেশিত কাজটি করলে তার পছন্দের জিনিসটি দেয়া হবে। এভাবে শিক্ষণীয় কাজটি সে নির্ভুল করে একনাগাড়ে ৩-৫ বার করতে পারলে তার চাহিদা পূরণ করতে হবে এবং তাকে পুরস্কৃত করতে হবে। এছাড়া নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

    কোন প্রকার জোর-জবরদস্তি না করে শিশুটি যা করতে পছন্দ করে তা থেকে তাকে সৃজনশীল কিছু শেখাবার চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই শিশুটির পছন্দ- অপছন্দকে গুরুত্ব দিতে হবে। সে যা দিয়ে খেলছে তাতে যুক্ত হয়ে তাকে শেখানোর চেষ্টা করতে হবে।
    প্রথমে এমন কিছু নির্বাচন করতে হবে যা শিশুটি করতে সক্ষম হয়। সফলতার জন্য তাকে পুরস্কৃত করতে হবে।

    মা–বাবারও প্রয়োজন কাউন্সেলিংঃ অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের সুরক্ষার জন্য একমাত্র মায়েরাই বেশির ভাগ সময় ব্যয় করে থাকেন। তাঁরা অনেক সময় পরিবারের থেকে প্রয়োজনীয় সহানুভূতি আর সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হন। সে কারণেই তাঁরা হতাশা, বিষণ্নতায় ভোগেন। নিজের যত্ন নিতে পারেন না। মনে রাখতে হবে, অন্যকে সুস্থ করার জন্য সবার আগে নিজের সুস্থতা জরুরি। সে কারণে ‘প্যারেন্টস কাউন্সেলিং’ নেওয়াটা বিশেষভাবে জরুরি। এতে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকতে সাহায্য করবে।
    শিশুর প্রশংসার বিকল্প নেই, তুলনা চলবে না
    মা–বাবা বা বাড়ির সবাইকে শিশুদের সব কাজের প্রশংসা করতে হবে। আদর, উৎসাহ আর উদ্দীপনা দিয়ে কাছে টেনে নিতে হবে। ভালোবাসা দেখাতে হবে। হাসিখুশিভাবে তার সামনে থাকতে হবে। টয়লেট ক্লিনিং শেখাতে হবে। নিজের জামাকাপড় নিজেই পরা শেখাতে হবে। কখনোই তাঁর এই শিশুকে অন্য স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। বিধাতার আশীর্বাদ মনে করতে হবে তার এই আজীবনের জন্য জন্মানো নিষ্পাপ সন্তানটিকে। সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। দেখবেন আপনার নিরলস প্রচেষ্টা এবং ইতিবাচক চিন্তার আলোকছটা ওর আচরণে প্রতিফলিত হবে। তাই নিজে উদ্বুদ্ধ হবেন, আপনার পরিবারের সবাইকে উদ্বুদ্ধ করবেন আপনার সন্তানের যত্ন নিতে এবং সব কাজে তাকেও উৎসাহিত করতে হবে। শুধু পরিবারের সন্তানদের আবদ্ধ করে না রেখে তাদের স্কুলে বা বিভিন্ন সংগঠনে পাঠানো উচিৎ। তাদের জন্য সারা বাংলাদেশে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে রয়েছে বিশেষায়িত সব স্কুল, উন্নয়ন সংস্থা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখানে শিশুরা লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন গঠনমূলক কাজ শেখে, খেলাধুলা করতে পারে। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কী পেতে পারে না। শিক্ষক, পিতামাতার, এলাকাবাসী, সমাজ, প্রতিবেশিসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    মোঃ হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

  • আশুলিয়ায় জমকালো  আয়োজনে দৈনিক আমাদের খবর পত্রিকার ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠিত

    আশুলিয়ায় জমকালো আয়োজনে দৈনিক আমাদের খবর পত্রিকার ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠিত

    হেলাল শেখঃ বহুল প্রচারিত দৈনিক আমাদের খবর পত্রিকার ৬ ষ্ঠ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    গত ৩০ শে মার্চ রোজ শনিবার বিকাল ৫ ঘটিকায় দৈনিক আমাদের খবর পত্রিকার সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও আশুলিয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আল-শাহরিয়ার বাবুল খাঁনের সঞ্চালনায় ঢাকা ইপিজেড সংলগ্ন হাসেম প্লাজার ২য় তলা লাসানিয়া চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আলোচনা সভা ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    উক্ত আলোচনা সভা ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (DUJ), এর সাবেক সভাপতি ও ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক জনাব আবু জাফর সূর্য, প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশুলিয়া থানা পরিদর্শক (ওসি) তদন্ত জনাব মাসুদুর রহমান ও পরিদর্শক (ওসি) অপারেশন নির্মল কুমার,

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক আমাদের খবর পত্রিকার সহ-সম্পাদক এ্যাডঃ আবু জাফর শিকদার, আশুলিয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন , আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি জনাব শহিদুল্লাহ মুন্সি, আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার আশুলিয়া প্রতিনিধি মেহেদী হাসান মিঠু, সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক করতোয়া পত্রিকার আশুলিয়া প্রতিনিধি মুঞ্জুরুল মোর্শেদ, আশুলিয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল হক রিপন, আশুলিয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মাহবুব আলম মানিক।

    আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ), সাধারণ সম্পাদক মোঃ কলিম উদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকা প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা আশুলিয়া প্রতিনিধি এ্যাডঃ মোতালেব হোসেন, আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান মুন্সি, এশিয়ান টিভির স্টাফ রিপোর্টার মোঃ নাসিম খাঁন, আশুলিয়া মডেল সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম সোহাগ, মোঃ শাহ আলম সরকার সহ সাভার আশুলিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

    এসময় আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি জনাব আবু জাফর সূর্য গণমাধ্যম বিষয় বস্তু নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য রাখেন এবং দৈনিক আমাদের খবর পত্রিকার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এবং আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখায় প্রধান অতিথি আবু জাফর সূর্য কে ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় প্রধান আলোচক এ এফ এম সায়েদকে দৈনিক আমাদের খবরের পত্রিকার পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

    সেই সাথে সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখায়, আশুলিয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আল-শাহরিয়ার বাবুল খান, আশুলিয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দু হক রিপন, আশুলিয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মাহবুব আলম মানিক, দৈনিক আমাদের খবর পত্রিকার নিজস্ব প্রতিনিধি মনির হোসেন, ও সুমনকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন দৈনিক আমাদের খবর পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, প্রধান অতিথি আবু জাফর সূর্য, প্রধান আলোচক সহ সম্মানিত অতিথিগণ।

  • একটি মানবিক সাহায্যের আবেদন- ইয়ামিন বাঁচাতে সাহায্য করুন

    একটি মানবিক সাহায্যের আবেদন- ইয়ামিন বাঁচাতে সাহায্য করুন

    ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের নলচিড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ উজ্জ্বল ইসলামের দ্বিতীয় ছেলে ইয়ামিন। বয়স ১৭মাস। জন্মগতভাবেই হ্রদরোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনের সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তাকে বাঁচাতে হলে তার হার্ট অপারেশন করতে হবে। এজন্য ভারতে চিকিৎসার খরচ হবে প্রায় ৬,০০,০০০/= (৬ লক্ষ) টাকা, যা ইয়ামিনের বাবা শ্রমিক উজ্জল বা পরিবারের পক্ষে যোগাড় করা একেবারেই সম্ভব নয়।

    জানা যায়, ইয়ামিন তার পরিবারের দ্বিতীয় পুত্র। গরীব খেটে খাওয়া শ্রমিক বাবা উজ্জ্বল , সে তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি। টাকার অভাবে ইয়ামিন ক্রমশ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ৬ লক্ষ টাকা যোগার হলে তবেই ইয়ামিনের অপারেশন করতে তাকে নিয়ে ভারতে যাবে তার পরিবারবর্গ।

    মাহে রমজান উপলক্ষে অনেকে দান ও ফিতরা বিতরণ করে থাকেন। অপনাদের একটুখানি সহায়তাই কেবল পারে ইয়ামিনকে দ্বিতীয় জীবন উপহার দিতে। আর তাই ইয়ামিনের পরিবারের লোকজন এখন নিরুপায় হয়ে সমাজের বিত্তশালীদের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করছেন।

    সাহায্য পাঠাবার ঠিকানা : হিসাব নং- 0935010011193 রুপালী ব্যাংক, ফাতেমা নগর শাখা ত্রিশাল ময়মনসিংহ, অথবা সরাসরি যোগাযোগ করতে ফোন করুন 01707265965 (বিকাশ-নগদ) নম্বরে।

  • সুন্দরগঞ্জে জাপা নেতা শাহীনের মাতার ইন্তেকাল

    সুন্দরগঞ্জে জাপা নেতা শাহীনের মাতার ইন্তেকাল

    মোঃ আনিসুর রহমান আগুন, গাইবান্ধা থেকেঃ
    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়ন জাতীয় পাটির সভাপতি ও ধুবনী মহিলা কলেজের প্রভাষক শরিফুল ইসলাম শাহীনের মাতা সেলিনা হোসেন (৬৬) অসুস্থ্যজনিত কারনে রবিবার সকালে শান্তিরাম পরান গ্রামস্থ তার নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ……..রাজেউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। ওইদিন তার নিজ বাড়িতে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে সাবেক সাংসদ ও জাপা নেতা ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা, পৌর মেয়র মো. আব্দুর রশিদ রেজা সরকার ডাবলু, উপজেলা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান আকন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক ও সাংবাদিকগণ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপনসহ মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

  • সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সদরবাসীকে এ জীবন বিলিয়ে দিতে চাই-আশরাফ হোসাইন

    সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সদরবাসীকে এ জীবন বিলিয়ে দিতে চাই-আশরাফ হোসাইন

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    আগামী ১১ই মে দ্বিতীয় দাপে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ময়মনসিংহ সদর ও মুক্তাগাছা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। এই উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নেতাকর্মীরাও সক্রিয় রাজনীতির মাঠে। দল ও দলের বাইরে সবাইকে এক করে মাঠে আনার প্রচষ্টা যেমন প্রার্থীদের, তেমনই দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটাররাও চান ভালো মানুষ আসুক আগামীর নেতৃত্বে। ময়মনসিংহ সদর উপজেলাবাসীর চাওয়া এমনই একজন ভালো মানুষ বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফ হোসাইন। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সদস্য। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে যিনি দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈচার বিরোধী আন্দোলনসহ বিএনপি জামাতে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। যিনি প্রকৃত অর্থেই আপাদমস্তক একজন ভালো মানুষ বলে প্রতীয়মান সদরবাসীর কাছে। তাদের ভাষ্য মতে, উপজেলা চেয়ারম্যান ( আশরাফ হোসাইন ) এর মতো পরোপকারী মানুষ এই ময়মনসিংহ ( সদর ) অঞ্চলে বিরল। খালি হাতে কেউ কখনও ফিরে আসেনি। তিনি ভিন্ন মতাদর্শের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও বলে জানান অনেকে। সদর উপজেলাবাসীর মাঝে আপনাকে নিয়ে এতো ইতিবাচক মনোভাব, যা বর্তমান সময়ের অনেক ডাকসাইটের রাজনৈতিকের মাঝেও অনুপস্থিত । এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিবেদককে তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, জবীনটা খুব বড় নই, মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মাঝে যে আনন্দ আছে, তা অন্য কিছুতে নেই।

    আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আপনার মাধ্যমে সকলকে অবহিত করতে চাই- ব্যক্তিস্বার্থে রাজনীতি করি না, সাধারণ মানুষ ও রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করি। উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরপরই উপজেলার কৃষি খাত, পানি সরবরাহ, শিক্ষা, মানব সম্পাদ উন্নয়ন, কুঠির শিল্প, হাট বাজারের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য খাত, সামাজিক নিরাপত্তা, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবহন ও যোগাযোগ খাত এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতিক খাতের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করার চেষ্টা করেছি। সত্যি বলতে, আমার কোন চাওয়া পাওয়া নেই। আমার চাওয়া শুধু এই জনপদের ( উপজেলাবাসীর ) মানুষের কিসে মঙ্গল নিহিত হয়, তার জন্য কাজ করে যাওয়া। এর বাইরে আমার বিন্দু মাত্র ভাবার অবকাশ নেই। আমি যদি তাদের ( সদরবাসীর ) মুখে হাসি ফুটাতে পারি, তবেই জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার মত ক্ষুদ্র একজন রাজনৈতিক কর্মীর স্বার্থকতা।বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবীত হয়েই ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্য দিয়ে আজ এই অবস্থায় এসেছি। একথা অস্বীকার করবো না, মনের মাঝে সুপ্ত বাসনা ছিল; আল্লাহ যদি কখনও জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করার সুযোগ করে দেন, তবে মানুষের ভালোবাসা অর্জনে যা কিছু করার সব করে যাব। এর ব্যত্যয় করবো না। মানুষ যেন বলে- ‘আশরাফ’ কিছু করেছে। তার কথা ও কাজে গড়মিল নেই। এর বেশি চাওয়া-পাওয়া নেই। পবিত্র এই রমজান মাসে উপজেলাবাসীর উদ্দেশ্য এটুকু না বললেই নয় – আমি আপনাদের ( সদর ) সন্তান। সুখে-দুঃখে আপনাদের পাশে থেকে এ জীবন বিলিয়ে দিতে চাই। স্মার্ট ও আধুনিক উপজেলা বিনির্মানে আপনাদের ভোটে আরও একবার সুযোগ চান বলে জানান তিনি। দেশের মানুষ যেন বলে ময়মনসিংহ সদর, প্রকৃত অর্থেই স্মার্ট ও আধুনিক উপজেলা।

    শনিবার (৩০ মার্চ ২০২৪) প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফ হোসাইন এসব কথা বলেন।

    সদর উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, আর ইসলামের সংবিধান হলো মহাপবিত্র আল কুরআন। এটি কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির পথপ্রদর্শক। মুসলিমদের জন্য রয়েছে আরেকটি বিধান সেটি হলো মহানবী (স.) এর হাদীস। এই দুটিকে আঁকড়ে ধরতে পারলে পথভ্রষ্ট হওয়ার কোন আশঙ্কা নেই। বরং কুরআন ও হাদীসের আলোকে জীবন পরিচালনা করতে পারলে পরকালে পুরস্কার হিসেবে রয়েছে চির শান্তির জান্নাত।

    আশরাফ হোসাইন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে আমাদের মত ক্ষুদ্র কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছি। নেত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য নৈতিক, মানবিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষের বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সততা ও মেধা দিয়ে বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন। আর বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তার সততা, মেধা, মনন, প্রজ্ঞা, এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে এমন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন যে, শুধু বাংলাদেশ নয়-আন্তর্জাতিক মহলও আজ নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের মতো ক্ষুদ্রকর্মী দলে যারা আছেন, অর্থাৎ যার যার অবস্থান থেকে সততার সঙ্গে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, বাংলাদেশ একদিন ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সেই স্বপ্ন পূরণ ও ‘রূপকল্প ২০২১’-এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ‘রূপকল্প ২০৪১’ গ্রহণ করা হয়। ২০ বছর মেয়াদি সুদূরপ্রসারী এই স্বপ্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত এবং জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত বাংলাদেশ সরকারের একটি জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনায় বাংলাদেশের লক্ষ্য শিল্পায়নের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের প্রসারকে উৎসাহ দেওয়া রূপকল্প ২০৪১-এর মূল উদ্দেশ্য। নেত্রীর উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার সারথি হতে সম্মানিত ভোটারদের কাছে আরও একবার ভোট চান তিনি।

  • কুড়িগ্রামে হ*ত্যাকে অপমৃ*ত্যু চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ

    কুড়িগ্রামে হ*ত্যাকে অপমৃ*ত্যু চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ

    এম এস সাগর,
    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

    নাগেশ্বরীতে পশ্চিম মন্নেয়ারপাড় এলাকায় ঘাতক স্বামী ছলিম উদ্দিনের হাতে গৃহবধূ হত্যাকাণ্ডকে অপমৃত্যু বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেন গৃহবধূর বাবা-মা ও এলাকাবাসী। তবে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ বলছেন লাশ পোস্টমর্টেমর তথ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের পুর্ব মন্নেয়ারপাড় এলাকার মনির উদ্দিনের কন্যা মহুয়া বেগমের সাথে ভিতরবন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম মন্নেয়ারপাড় এলাকার মৃত খয়বর আলীর পুত্র ছলিম উদ্দিনের সাথে প্রায় ২৪বছর পুর্বে বিবাহ হয়। ছলিম উদ্দিন ও মহুয়া বেগমের ঘরে প্রথম কন্যা ছকিনা বেগম ও দুই পুত্র মামুন, মাছুম মিয়ার মধ্য কন্যা ছকিনা বেগম বিবাহীত আর দ্বিতীয় সন্তান মামুন ঢাকায় কাজ করেন। তাদের সংসার জীবন ভালোই চলছিল। খয়বর আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী সুফিয়া বেগম হচ্ছেন ছলিম উদ্দিনের সৎ মা। দীর্ঘদিন থেকে ছলিম উদ্দিন তার সৎ মা সুফিয়া বেগমের কু-পরামর্শে তার স্ত্রী মহুয়া বেগম কে বিনা-অপরাধে নির্যাতন করে মানসিক রোগী করেন।

    মনির উদ্দিন, স্ত্রী আকলিমা বেগম ও তার পুত্র কামাল মিয়া, হাসান আলী অভিযোগ করে বলেন, জামাই ছলিম উদ্দিন (গত ১৪আগষ্ট ২০২৩খ্রিঃ) রাতে আমাদের জানান মহুয়া বেগম বাড়ীতে নেই আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মহুয়া কে মেরে ফেলার সন্দেহ করাসহ শোকে কাতর আমরা। মহুয়া কে খুঁজতে থাকি ও অবশেষে গত ২২আগষ্ট ২০২৩খ্রিঃ সন্ধ্যায় মহুয়ার মাতা আকলিমা বেগম তার জামাই ছলিম উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তার ঘরের পেছনে পুকুরে দেখতে পায় দুটো পা ভেসে আছে এবং তিনি চিৎকার করলে সেখানে লোকজনের ভীর জমায়। ২২আগষ্ট ২০২৩খ্রিঃ দিবাগত রাত ৩টায় নাগেশ্বরী থানার এসআই অলক বাবুর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে (৮দিনের পচাঁ লাশ) নেতরের মাধ্যমে উত্তোলনের সময় দেখা যায় পুকুরে লাশ মশারী দিয়ে পেচানো, তার উপরে চটের বস্তা, বাঁশের চট্টি, তার উপরে বাঁশের ঝিক ও কচরীপানা দিয়ে ঢাকা। মহুয়া বেগমের শরীরে লবণ দেয়ার কারণে লাশ পচেঁ গেছে। ততক্ষণিক মহুয়ার ঘাতক স্বামী ছলিম উদ্দিন নাগেশ্বরী থানায় বাদী হয়ে অপমৃত্যু মামলা করেন। অপমৃত্যু মামলা নম্বর- ২৯/২৩, তারিখ- ২৩আগষ্ট ২০২৩খ্রিঃ। পরদিন নাগেশ্বরী থানা পুলিশ মহুয়ার লাশ পোস্টমর্টেমর জন্য কুড়িগ্রাম পাঠায়। সেদিনই মহুয়ার লাশ বিকেল ৫টা তার বাবার এলাকায় দাফন হয়। সে সময় মহুয়া বেগমের পিতা, মাতা ও ভাইরা থানায় অভিযোগ করার জন্য গেলে পুলিশ তাদের অভিযোগ নেয়নি এবং এই ঘটনার পেছনের মূল হোতা মহুয়া বেগমের সম্পর্কে মামা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য এনামুল হক বলে তারা জানান।

    পুর্ব মন্নেয়ারপাড় এলাকার মোস্তফা মিয়া, রাবেয়া বেগম, কমিলা বেগম, নুরবানু বেগম, দুলালী বেগম, সহিভান বেওয়া, রাবেয়া বেওয়া বলেন, লাশ উত্তোলনের সময় আমরা দেখছি পুকুরে লাশ মশারী দিয়ে পেচানো, তার উপরে চটের বস্তা, বাঁশের চট্টি, তার উপরে বাঁশের ঝিক ও কচরীপানা দিয়ে ঢাকা। মহুয়া বেগম কে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা হত্যা করেছে। আমরা এর ন্যায্য বিচার দাবি করছি।

    সরেজমিনে মহুয়া বেগমের অপমৃত্যু না হত্যাকাণ্ডের সংবাদ সংগ্রহের জন্য ছলিম উদ্দিনের বাড়ীতে উপস্থিত হওয়া মাত্র ছলিম উদ্দিনের পরিবার ততক্ষণিক বাড়ীতে তালা লাগিয়ে উধাও হয়ে যায়। তবে ছলিম উদ্দিনের সৎ মা সুফিয়া বেগম ক্যামেরার সামনে বলেন, মহুয়া বেগম মারা গেছে। না না না হারিয়ে গেছে। পড়ে সড়িয়ে পরেন।

    নাগেশ্বরী থানার এসআই অলক বাবু বলেন, মহুয়া বেগমের লাশ পোস্টমর্টেমর তথ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মো: শহিদুল্লাহ লিংকন বলেন, মহুয়া বেগমের লাশ ময়না তদন্ত হয়েছে। দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট দেয়া হবে।