Category: দেশজুড়ে

  • গরুর গাড়ির ইতিহাস সুপ্রাচীন- এখন বিলুপ্ত প্রায়।

    গরুর গাড়ির ইতিহাস সুপ্রাচীন- এখন বিলুপ্ত প্রায়।

    মো: হায়দার আলী | কি বিষয়ে লিখব, তা চিন্তা করছিলাম, শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম এবার কি কৃষির প্রাণ কৃষক কী সরকারী খাদ্য গুদামগুলিতে তাদের কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে পারছেন, না তৃতীয় প্রভাবশালী অসৎ পক্ষ কৃষক সেঁজে খাদ্য গুদাম গুলি ভর্তি করেছেন। ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকদের মাথায়। কেন না বাংলার কৃষকেরা ধান চাষ করে ধান উৎপাদন করতে সার, বীজ, কীটনাশক, নিড়ানী, কৃষি শ্রমিক ইত্যাদিতে যে পরিমান ব্যয় করেন এবং বর্তমানে ধানের বাজার মূল্যেতে কি কৃষক লাভবান হবেন না ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধান চাষে অগ্রহ হারাবেন সেটা একটি মুখ্য বিষয়। এ সম্পর্কে লিখার জন্য চিন্তা ভাবনা করলাম। অটো রাইস মিল মালিক, ধানের পাইকারি ব্যবসায়ীদের কথা বলার জন্য, গত শুক্রবার দুজন শালক নূরনসুলতান ও দীপের সাথে গিয়েছিলাম চাঁপাই জেলার পালশা গ্রামের বরেন্দ্রভূমিতে।
    হঠাৎ রাস্তায় দেখলাম ২ টি গরুর গাড়ির একটিতে খড় বোঝায় অন্যটিতে ধান ভর্তি বস্তা করে নিয়ে যাচ্ছিল, তাই কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া গরুর গাড়ির দৃশ্য দেখে লিখার থিম পরিবর্তন করে গরুর গাড়ি সম্পর্কে লিখার চিন্তা ভাবনা করলাম।
    গরুর গাড়ির ইতিহাস সুপ্রাচীন। নব্যপ্রস্তর যুগের সময় থেকেই মানুষ এই যানটি ব্যবহার করে আসছে। ফ্রান্সের ফঁতান অঞ্চলে আল্পস পর্বতের উপত্যকায় একটি গুহায় গরুর গাড়ির যে ছবি পাওয়া যায়, তার থেকে জানতে পারা যায় খ্রিস্টের জন্মের ৩১০০ বছর আগে ব্রোঞ্জ যুগেও গরুর গাড়ির অস্তিত্ব ছিল। হরপ্পা সভ্যতাতেও যে গরুর গাড়ির অস্তিত্ব ছিল তার সপক্ষে প্রতœতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানেও নানা অঞ্চল থেকে এক অক্ষ বিশিষ্ট চাকাওলা নানা খেলনা পাওয়া গেছে। এগুলি থেকে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, খ্রিস্টজন্মের ১৬০০ থেকে ১৫০০ বছর আগেই সিন্ধু অববাহিকা ও ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে গরুর গাড়ির প্রচলন ছিল, যা সেখান থেকে ক্রমে ক্রমে দক্ষিণেও ছড়িয়ে পড়ে।
    ১৯০৪ সালে অঙ্কিত ওলন্দাজ শিল্পী আডলফ ফান ড্যের ভেনা’র চিত্র রাইখে এরনটে (পাকা ফসল)
    সভ্যতার প্রায় উন্মেষকাল থেকেই গরুর গাড়ি এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার প্রায় সর্বত্রই ছিল যাতায়াত ও পরিবহনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যান। কিন্তু পশ্চিম ইউরোপে পরে দ্রুতগামী ঘোড়ায় টানা গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন ও যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে গরুর গাড়ির ব্যবহার কমে আসে।
    পরবর্তীকালে যন্ত্রচালিত লাঙল বা পাওয়ার টিলার এবং নানাবিধ যন্ত্রযানের উদ্ভবের ফলে এখন ঐ অঞ্চলে গরুর গাড়ির ঐতিহ্য কেবলমাত্র টিকে রয়েছে নানারকম লোকসংস্কৃতি ও তাকে ভিত্তি করে নানা মেলা-অনুষ্ঠানে।
    আবার আফ্রিকার বহু জায়গায় প্রবল জঙ্গলাকীর্ণ ভূমিরূপের কারণে সেখানে পথঘাট যেকোনও রকম গাড়ি চালনারই অনুপযুক্ত ছিল। তাই এইসব জায়গার মানুষদের মধ্যে গরুর গাড়ি সংক্রান্ত কোনও ধারণার প্রচলনই ছিল না। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন ওলন্দাজ ঔপনিবেশিকরা প্রবেশ করতে থাকে, বহুক্ষেত্রেই তারা বাহন হিসেবে গরুর গাড়িকে ব্যবহার করে। ঊনবিংশ শতাব্দীর বিভিন্ন জনপ্রিয় উপন্যাসেও তাই আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় যাতায়াত ও মালবহনের উপায় হিসেবে গরুর গাড়ির উল্লেখ দেখতে পাই। উদাহরণস্বরূপ আমরা এ ক্ষেত্রে এইচ. রাইডার হ্যাগার্ড’এর বিখ্যাত উপন্যাস কিং সলোমনস মাইনস ‘এর উল্লেখ করতে পারি। এ ক্ষেত্রে তারা গরুর গাড়ির আরেকটি ব্যবহার জনপ্রিয় করে তোলে। রাত্রিতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় বা বিপদে পড়লে তারা প্রায়শই গরুর গাড়িগুলোকে গোল করে সাজিয়ে একধরনের দুর্গ গড়ে তুলে তার মধ্যে আশ্রয় নিত।
    গরুর বা ঘোড়ার গাড়িকে ব্যবহার করে এইধরনের দুর্গ গড়ে তোলার রেওয়াজ অবশ্য আমরা এর অনেক আগে থেকেই দেখতে পাই। চেঙ্গিজ খানের নাতি বাতু খানের নেতৃত্বে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপে যে মোঙ্গল আক্রমণ চলে সেখানে তার প্রতিরোধে স্থানীয় অধিবাসীদের দ্বারা গরুর গাড়ির এই ধরনের ব্যবহারের কথা আমরা জানতে পারি। বিশেষ করে কালকার যুদ্ধে কিয়েভ রুশেরা এই ধরনের গাড়িনির্মিত চলমান দুর্গ তৈরি করে মঙ্গোল আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
    পূর্ব ইউরোপ ও এশিয়ার বহু অংশে গ্রামীণ অঞ্চলে মূলত মাল পরিবহনের কাজে গরুর গাড়ির ব্যবহার এখনও প্রচলিত আছে। একসময় গ্রামে গরুর গাড়িই ছিল প্রধান বাহন।
    গরুর গাড়ি হল দুই চাকাবিশিষ্ট গরু বা বলদে টানা একপ্রকার যান বিশেষ। এই যানে সাধারণত একটি মাত্র অক্ষের সাথে চাকা দুটি যুক্ত থাকে। সামনের দিকে একটি জোয়ালের সাথে দুটি গরু বা বলদ জুতে এই গাড়ি টানা হয়।
    সাধারণত চালক বসেন গাড়ির সামনের দিকে। তাঁর পিছনে বসেন যাত্রীরা। বিভিন্ন মালপত্র বহন করা হয় তারও পিছনের দিকে। বিভিন্ন কৃষিজাত দ্রব্য ও ফসল বহনের কাজে গরুর গাড়ির প্রচলন যথেষ্টই ব্যাপক। গ্রাম বাংলায় ঐতিহ্যগতভাবে গরুর গাড়ি কিছুদিন আগে পর্যন্তও যাতায়াত ও মালবহনের কাজে প্রভূত পরিমানে ব্যবহৃত হত। তবে বর্তমানে নানাধরনের মোটরচালিত যানের আধিক্যর কারণে অপেক্ষাকৃত ধীর গতির এই যানটির ব্যবহার অনেক কমে এসেছে।
    এককালে যা কল্পনা করেনি তাই এখন পেয়ে যাচ্ছে হাতের নাগালে। ইট পাথরের মত মানুষও হয়ে পড়ছে যান্ত্রিক। মানুষ তার নিজস্ব ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে তারই ধারাবাহিকতায় হারিয়ে যাওয়ার পথে এক সময়ের যোগাযোগের প্রধান অবলম্বন গরুর গাড়ি। পায়ে হাঁটার যুগের অবসান হওয়ার পর মানুষ যখন পশুকে যোগাযোগের মাধ্যমে হিসাবে ব্যবহার করতে শিখলো তখন গরুর গাড়িই হয়ে উঠেছিল সকল পথের যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম। পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি বিবাহের বর-কনে বহনের ক্ষেত্রেও গরুর গাড়ি কোন বিকল্প ছিলনা।
    কিন্তু কালের বিবর্তনে এই গরুর গাড়ি আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। অনুসন্ধানভেদে কিছুকিছু জায়গায় পণ্য পরিবহনের জন্য গরুর গাড়ি ব্যবহার করা হলেও বিবাহের বর-কনের পরিবহনের জন্য গরুর গাড়ির কথা যেন আর চিন্তাই করা যায় না। অনেকের কাছেই একটি যেন অসম্মানজনক হয়ে পড়েছে। একসময় গ্রামবাংলায় কৃষকের ঘরে ঘরে শোভা পেত নানা ডিজাইনের গরুর গাড়ি। গরুর গাড়িতে টোপর দিয়ে মানুষ এক স্থান থেকে অন্যস্থানে চলাচল করতো। টোপর বিহীন গরুর গাড়ি ব্যবহার হতো মালামাল পরিবহন, ব্যবসা, ফসল ঘরে তোলা বা বাজারজাতকরণের জন্য।
    যান্ত্রিক আবিষ্কার ও কৃষকদের মাঝে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগার কারণে গরুর গাড়ির স্থান দখল করে নিয়েছে ভ্যান, অটোরিকশা, নছিমন-করিমন, ভটভটি, বাস, ট্রাক ইত্যাদি।
    ওকি গাড়িয়াল ভাই, হাঁকাও গাড়ী তুই
    বিখ্যাত এ গান এখনো কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শোনা গেলে হৃদয়ে ভেসে উঠে গরু-মহিষের গাড়ী হাঁকিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। কিন্তু গান থাকলেও, নেই সেই আগের গরু মহিষের গাড়ী, নেই গাড়িয়াল। নেই হৈ হৈ রৈ রৈ হাঁক ডাক, নেই গাড়ির চাকার ক্যাচ ক্যাচ শব্দ। গরুর হাম্বা অথবা গলা ঝোলানো ঘন্টার টুং টাং আওয়াজ। গরুর গাড়ির পরিবর্তে যান্ত্রিক নছিমন, করিমন, আগলামন, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যন্ত্র যানের কারণে আজ জাদুঘরে স্থান হতে চলেছে গরুর গাড়ী। বংশ পরম্পরায় গাড়িয়ালরা জীবন জীবিকার তাগিদে পরিবর্তন করেছে পেশা। এদের কেউ শহরে মজুর খাটছে, আবার কেউবা রিক্সার হেন্ডেল ধরেছে, কেউ অন্যকোন পেশায় নিয়োজিত।
    রাজশাহী, রগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, নওগাঁ, কুষ্টিয়াসহ উত্তরাঞ্চলে গরু গাড়ির প্রচলন আদিকাল থেকেই। গরুর গাড়িতে বিয়ে, বরযাত্রী, মালামাল পরিবহন, নাইয়রি আনা নেয়া ইত্যাদি একসময় হতো খুব জাঁকজমকের মধ্য দিয়ে। এ ছাড়া প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় শোভা পেতো এই দু’ চাকার গাড়িটি।
    এক সময় ওইসব জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে কোন গ্রামে অবশ্যই চোখে পড়তো গরু কিংবা মহিষের গাড়ী। সেই দৃশ্য খুব একটা এখন চোখে পড়ে না।
    প্রতœতাত্বিক গবেষণা গ্রন্থ ও বাংলা বিশ্বকোষ সূত্রে জানা গেছে, ব্রোঞ্জ যুগের পূর্ব গোলার্ধে কুমারের চাকা এবং গাড়ির শঠিন কাষ্ঠ নির্মিত চাকাটির মতো চাকা সর্বপ্রথম মানুষ ব্যবহার শুরু করে।
    মিশরীয় ব্যবিলন এবং ভারতের সভ্যতায় চাকাওয়ালা গাড়ি ছিল। এ থেকে ধারণা করা যায় চাকার প্রাথমিক আবিষ্কার ৬ হাজার বছর আগে। ৬ হাজার বছর আগে কাঠ, পাথর, মালপত্র এবং অন্যান্য জিনিসপত্র বয়ে নিয়ে যাওয়া হতো ঢালু পথে গোলাকৃতি কাঠের গুঁড়ির ওপর দিয়ে। এই কাঠের গুঁড়ি থেকে মানুষের মাথায় চাকার ধারণা আসে। একটি বসবার জায়গা তৈরি করে তার দুদিকে দুটো চাকা জুড়ে দিয়ে তৈরি করা হয় গাড়ির প্রচলন।
    এক সময় গাড়ি টানার জন্য ব্যবহৃত হতো গরু, মহিষ, ঘোড়া, কুকুর ও মানুষ। এ সময় গরুর গাড়ির চাকায় লৌহ আবরণ ছিল না কেবল কাঠ দ্বারা নির্মিত হতো। দ্রারিড় যুগে যখন এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে তখন থেকে লোহার ব্যবহার চালু হয়। ১৬৪৬ সালে বাই সাইকেলের আবিষ্কার, ১৮২৬ সালে রেল ইঞ্জিন আবিষ্কার, এর পরে মটর গাড়ি বাস, ট্রাক, মটরসাইকেল শ্যালো চালিত যান ইত্যাদি আবিষ্কার হলে পুরনো যানবাহনের যায়গা দখল করে নেয়। কিছুদিন আগেও এ অঞ্চলে গরুর গাড়ির ক্যাচ ক্যাচ শব্দে মুখরিত ছিল চার পাশ। গরুর খুড়ার ধুলি গৃহস্থলের হাক ডাক ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।
    কালের বিবর্তনে কত কিছু পাল্টায়Ñপাল্টায় সংস্কৃতি, সভ্যতা সেই সঙ্গে পাল্টে যায় মানুষের জীবনধারা। এ পরিবর্তনের রেশ ধরেই হারিয়ে যায় সংস্কৃতির সুপরিচিত অনেক পুরনো ঐতিহ্য। এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের মধ্যে পালকি অন্যতম। গরুরগাড়িতে পালকি সাজিয়ে
    ‘পালকি চলে, পালকি চলে, গগনতলে আগুন জ¦লে’… তাছাড়া আরো সুন্দর ছন্দবদ্ধ কথা ‘… তুমি যাচ্ছ পালকিতে মা চড়ে …।’ পালকি আমাদের দেশের জাতি, ধর্ম, বর্ণ সবার কাছে সমান পছন্দনীয় ছিলো। এটি আমাদের দেশের হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য। পালকি নিয়ে লেখা হয়েছে গান, ছড়াসহ কত শত কবিতা। ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেক কবি পালকি নিয়ে লিখেছেন।
    এক কালে এদেশের জমিদার-নবাবসহ সমাজের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা কোথাও যাতায়াত করলে পালকি ছাড়া চলতোই না যেন। তাদের সামান্য পথটুকু চলতেও পালকি লাগতো। যেমনÑতাদের খাসমহল থেকে ঘোড়ার পিঠ পর্যন্ত বা পানসি ঘাট পর্যন্ত যেতেও পালকি ব্যবহার করা হতো। এ তো গেলো এক শ্রেণীর লোকদের কথা। এরা ছাড়াও সমাজের জ্ঞানী-গুণী মানুষদের বরণ করতে তৎকালে পালকির বিকল্প যেন পালকিই ছিলো। সে আমলে বিদেশি কোনো মেহমান এলেও তাকে পালকিতে চড়িয়ে বরণ করা হতো। যেমনটা করা হয় বর্তমান দিনে অতিথিদের সম্মানে মোটর শোভাযাত্রায়। সে যা হোক, পালকির কথা সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা তার এদেশে আসা ভ্রমণ কাহিনীতে। তার লেখার মধ্যে এ কথাও পাওয়া যায় যে, তিনি পালকি বহনের দৃশ্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন।
    তখনকার দিনের বিয়ে এবং পালকি এ যেন ছিলো একই সুতোয় গাঁথা। আমাদের দেশে এমন একসময় গেছে যখন বিয়ের অনুষ্ঠান পালকি ছাড়া হতোই না, পালকি ছাড়া বিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলে যেন নিজেদের হতভাগা বলে মনে করা হতো। নতুন বউ তুলে দেয়া হতো বরের বাড়িতে পালকিতে করে। আবার এ বিয়ে উপলক্ষে পালকি সাজানো হতো মনোলোভা ও দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যে। সব পরিবারে আবার পালকি ছিলো না।
    তখনকার দিনে বিত্তশালী ও উচ্চবংশীয় লোকদের প্রত্যেকের বাড়িতে পালকি ছিল বংশের মর্যাদার প্রতীক। সাধারণ পরিবারের লোকদের বাড়িতে পালকি ছিল না বললেই চলে। তাই বলে তাদের উৎসব পার্বণ পালকি ছাড়া হতো তা কিন্তু নয়। তাদের জন্য অন্য ব্যবস্থা ছিলো। সে সময়ে কিছুকিছু মানুষ এ পালকি নিয়ে বাণিজ্য করতো, মানে পালকি বানিয়ে অর্থের বিনিময়ে চুক্তিতে দিতো। এজন্য পালকি মালিকদের দিতে হতো মোটা অংকের কড়ি বা টাকা অথবা তার সমতুল্য অন্য কোনো জিনিস।
    পালকিকে ঘিরে আরো কিছু লোক জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতো। এ লোকদের বলা হতো ‘কাহার’ বা ‘বেহারা’ যেদিন তাদের দরকার হতো তার আগে ‘বায়না’স্বরূপ মাইনে দিতে হতো। বিয়ের অনুষ্ঠানের দিন বিয়ে বাড়িতে তাদের খাওয়ানো হতো জামাই আদরে। এ ছাড়া তাদের সম্মানী দিতে হতো বরপক্ষ থেকে।
    মেয়ে বাবার বাড়িতে নাইওর যেতেও ব্যবহার করতো পালকি। পালকিতে চারজন বেহারা বা কাহার প্রয়োজন হতো। গ্রামগঞ্জে অন্যান্য লোকালয়ে পালকিতে করে বউ নেয়া, দৃশ্য চোখে পড়তো। পালকির দরজার ফাঁক দিয়ে নতুন বউটি বাইরে দৃষ্টি দিতো কান্না ভেজা চোখে। যখন বেহারারা বউ নিয়ে যেত গ্রাম থেকে গ্রাম পেছনে ফেলে, তখন তাদের কণ্ঠে চলতো পালকি বহনের গানÑ‘হুন হুনা হুন হুনরে’ বা ‘চার বেহারার পালকি চড়ে যায় রে কন্যা পরের ঘরে।’ আরো এরকম হৃদয় ছোঁয়া গানে গ্রামগঞ্জ যেন জেগে উঠত নতুন প্রাণে। তাদের পালকি বহনের সময় পা ফেলার আলাদা তাল বা ছন্দ ছিলো। সেই ছন্দ আর তালের সঙ্গে নিজস্ব গানে গানে কাঁধে নিয়ে বইতো পালকি।
    এখন আর গ্রামগঞ্জ, শহর, বন্দরে দেখা যায় না গরুর গাড়িতে সাজানো পালকি বহনের দৃশ্য। পালকি এখন স্থান পেয়েছে জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য। পালকির সেই ঐতিহ্যময় ব্যবহার ক্রমে গ্রাস করেছে যান্ত্রিক সভ্যতার বিদেশি নানান রংয়ের বাহারি গাড়ি। পালকি বহনের দৃশ্য এখন যেন স্বপ্ন। সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে ছন্দমাখা পালকি বহনের গান।

    লেখক: মোঃ হায়দার আলী,
    গোদাগাড়ী উপজেলা,
    রাজশাহী।

  • ব্যক্তিগত কারণে বিএনপির সকল কার্যক্রম থেকে অ -ব্যাহতি নিলেন মুহাম্মদ ইমাম উদ্দিন তালুকদার

    ব্যক্তিগত কারণে বিএনপির সকল কার্যক্রম থেকে অ -ব্যাহতি নিলেন মুহাম্মদ ইমাম উদ্দিন তালুকদার

    নেছারাবাদ সংবাদদাতা, (পিরোজপুর)

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘ ২৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলার ইতি টানলেন নেছারাবাদের পরিচিত রাজনৈতিক নেতা মুহাম্মদ ইমাম উদ্দিন তালুকদার। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি দলের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
    মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) পিরোজপুর জেলা বিএনপির সম্মানিত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর লিখিত আবেদনের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
    আবেদনে মুহাম্মদ ইমাম উদ্দিন তালুকদার উল্লেখ করেন, বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি টানা ২৮ বছর ধরে দল ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ফ্যাসিবাদী শাসনের দীর্ঘ ১৭ বছরে তিনি একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামি হন এবং হামলা-মামলার শিকারও হয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন।
    ব্যক্তিগত কারণের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে তিনি বিএনপি ও এর সকল অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি গ্রহণ করছেন।
    দলের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর দায়িত্বের মধ্যে ছিল—
    যুগ্ম আহ্বায়ক, নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপি;
    আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক, নেছারাবাদ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল;
    যুগ্ম আহ্বায়ক, নেছারাবাদ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল;
    সাধারণ সম্পাদক, ২নং সোহাগদল স্বেচ্ছাসেবক দল;
    সদস্য সচিব, নেছারাবাদ উপজেলা মৎস্যজীবী দল;
    সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী ফোরাম (বরিশাল বিভাগ);
    এছাড়াও তিনি পিরোজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ মহানগর ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
    রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নেছারাবাদ এলাকায় আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

    আনোয়ার হোসেন ।।

  • সারজিস আলমকে শো-কজ

    সারজিস আলমকে শো-কজ

    মোহাম্মদ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় :
    পঞ্চগড়-১ (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) আসনে ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমকে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড়-১ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর আমিরের একটি জনসভাকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি অমান্য করে প্রচারণা চালিয়েছেন সারজিস আলম। অভিযোগগুলো হলো:

    অবৈধ তোরণ নির্মাণ: নিয়মবহির্ভূতভাবে জনসভার জন্য বিশাল তোরণ নির্মাণ করা।

    অতিরিক্ত বিলবোর্ড ও ব্যানার: নির্বাচনী প্রচারণার নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে যত্রতত্র বিলবোর্ড এবং বড় আকারের ব্যানার স্থাপন করা।

    পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাপের পোস্টার এবং ব্যানার ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও সারজিস আলমের পক্ষ থেকে তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে এই শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

    সারজিস আলম বা তাঁর নির্বাচনী প্রচার টিমের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় এনসিপি ও জোটের নেতাকর্মীদের দাবি, এটি জনসভার সাজসজ্জার অংশ ছিল, সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে নয়।

  • ভোটাধিকার পু-নরুদ্ধারে নারীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান, রায়গঞ্জে বিএনপির নারী সমাবেশ

    ভোটাধিকার পু-নরুদ্ধারে নারীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান, রায়গঞ্জে বিএনপির নারী সমাবেশ

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে নারী কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

    শনিবার সকালে চান্দাইকোনা সমন্বয় কেজি স্কুল মাঠ চত্বরে এ নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল মোমিন সরকার।

    চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু শামা সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি মনোনীত সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের এমপি প্রার্থী ভিপি আয়নুল হক।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিপি আয়নুল হক বলেন, “গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে নারী সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে নারী ভোটারদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুল ইসলাম, সাবেক আহ্বায়ক ব্যারিস্টার আব্দুল বাতেন, সাবেক সহ-সভাপতি খায়রুল ইসলাম মাস্টার, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন খান, জার্মান বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোকাদ্দেস হোসাইন সোহানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    সমাবেশে নারী নেত্রী ও কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠান শেষে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।#

  • ভালুকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ওপর হা-মলা ও প্র-চারণায় বাধার অ-ভিযোগ

    ভালুকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ওপর হা-মলা ও প্র-চারণায় বাধার অ-ভিযোগ

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, হুমকি এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকাল ১১টায় ভালুকা পৌর এলাকার ‘হরিণ’ প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব
    মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম।

    সংবাদ সম্মেলনে মোর্শেদ আলম জানান, তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হরিণ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ২২ জানুয়ারি থেকে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর কর্মী-সমর্থকরা তাঁর কর্মী-সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের নয়নপুর এলাকায় তাঁর নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।

    এ ছাড়া ৪নং ধীতপুর ইউনিয়নের রান্দিয়া গ্রামে তাঁর কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করা হয়। আহতদের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উথুরা ইউনিয়নের হাতিবের ভাঙার ভিটা এলাকা এবং রাজৈ ইউনিয়নের মাঠের ঘাট এলাকাতেও তাঁর কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক আহত কর্মীকে জোরপূর্বক মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয় এবং পরে তাঁকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।

    আলহাজ্ব মোর্শেদ আলম আরো বলেন,শুক্রবার সন্ধ্যায় ধীতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষের প্রতীকের সমর্থকের ২০/২৫ জনের একটি দল রামদা, কুড়াল, লাঠি, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হরিণ প্রতীকের অফিস ভাংচুর করে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হুমকি দেন। তাদের হামলা ও মারধরে আমার কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

    অভিযোগ উঠেছে- ভালুকা উপজেলা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী নাইমুল হাসান নাঈমকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলম এর পক্ষে কথা বলার কারণে মারধর করেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা। উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় কর্মী সাজল এর ছেলেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় তার উপর মব সৃস্টি করে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি জানান সাজল তার ছেকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও পিঠিয়ে আহত করা হয়। এছাড়াও মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের ৬নং ওয়াডের নয়নপুরে মহিলা কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলমের প্রচারণায় গেলে বাচ্চু সমর্থকরা মহিলাদের সাথেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে, ১১ নং রাজৈ,ইউনিয়ন রাজৈ নদীর পাড়ের,নাজমুল হককে মারাত্মক ভাবে,যখম,করে ফখরউদ্দিন বাচ্চুর লোকজন।

    সুত্র জানিয়েছে স্বতন্ত্রের পক্ষে কাজ করার অপরাধে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাড়িয়ে ধীতপুর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী নাইম। সংবাদ সম্মেলনে এসব হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্ত মোলক শাস্তির দাবী করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে, ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত মাইক ও অটোরিকশা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। মোর্শেদ আলম বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী উন্মুক্ত থাকলে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব হবে না।’তিনি সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে- হামলা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তেরী করতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

    নেতাকর্মীরা জানান- বিগত ১৭ বছর দলীয় নেতাকর্মীদের উপর জুলুম-অত্যাচারের প্রতিবাদে ভালুকা উপজেলা বিএনপি আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম এর নেতৃত্ব প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিলো,আজ যখন সুদিন এসেছে তখন সুবিধাবাধীদের দলে স্থান করে দিয়ে ত্যাগীদের উপর জুলুম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তারা জানান- যত নির্যাতন-হামলা-মামলাই হউক ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতা আলহাজ্ব মোর্শেদ আলম এর বিজয় নিশ্চিত করে ঘরে ফিরতে ঐক্যবদ্ধ আছেন এবং থাকবেন।

  • গোপালগঞ্জ-২ আসনে টেলিফোন প্রতীক পেয়ে নির্বাচনী জনসভা শুরু করলেন-প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া লুটুল

    গোপালগঞ্জ-২ আসনে টেলিফোন প্রতীক পেয়ে নির্বাচনী জনসভা শুরু করলেন-প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া লুটুল

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট -২০২৬ উপলক্ষে ২১৬ গোপালগঞ্জ -২ আসনে স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া লুটুল গত ২১ জানুয়ারি জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টেলিফোন প্রতীক হাতে পেয়ে সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া নিজ গ্রামে বিশাল সমাবেশের মধ্যদিয়ে তার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে চন্দ্রদিঘলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে আয়োজিত এ নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত হোসেন মোল্লা।

    অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের পর টেলিফোন প্রতীকে স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া লুটুল চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়নের প্রয়াত এবং জীবিত সকল কৃতি সন্তান ও গুণীজনদের নাম গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করে বলেন, আপনাদের দোয়া ও সমর্থন পেয়ে আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছি। আপনারা পাশে থাকলে আমি গুলিকেও ভয় পাই না। আমি আপনাদেরই সন্তান। আমি ওয়াদা করছি সুখে- দুঃখে সব সময় আপনাদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। আমি অন্যায় ভাবে জেল খেটেছি তাতেও আমার কোন দুঃখ নেই। আমি কোন হিংসা রাজনীতি পছন্দ করি না। আমি সকলকে সাথে নিয়ে গোপালগঞ্জকে একটি আধুনিক ও মডেল জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যেখানে থাকবে না কোন চাঁদাবাজ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও সজন প্রীতি। বেকারদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। আপনারা সবাই টেলিফোন মার্কায় ভোট চাইবেন, আপনারা ভয় পাবেন না। প্রশাসন সব সময় নিরপেক্ষ থাকবে। সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হবে, আপনারা সবাই ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন। তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থক ছাড়াও সকলের উদ্দেশ্যে নির্বাচনী আচরণ বিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন। পরিশেষে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে টেলিফোন প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে জয়ী করতে তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। এর আগে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন সমাবেশে আগত সাধারণ জনগণ।

    এ সময় নওশের মোল্লা, আনোয়ার হোসেন মোল্লা, জাকির হোসেন ভূঁইয়া, ইউপি সদস্য হান্নান শেখ, শেখ সাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া, ফি এম রাজু কামাল, মোঃ নজরুল মোল্লা, মোঃ কাউছার ভূঁইয়া, আকু মোল্লা সহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৬ সহস্রাধিক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • পেশাগত দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে টুঙ্গিপাড়ায় ইসলামী আন্দোলনের পদ ছাড়লেন সাংবাদিক ইমরান শেখ

    পেশাগত দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে টুঙ্গিপাড়ায় ইসলামী আন্দোলনের পদ ছাড়লেন সাংবাদিক ইমরান শেখ

    গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

    সাংবাদিকতায় নিরপেক্ষতা ও পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার স্বার্থে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা শাখার জয়েন্ট সেক্রেটারির পদ থেকে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পদত্যাগ করেছেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ইমরান শেখ।

    লিখিত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, সাংবাদিক হিসেবে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ থাকা তার মৌলিক দায়িত্ব। সেই বিবেচনা থেকেই তিনি উক্ত রাজনৈতিক দলের সব ধরনের পদ ও দায়িত্ব থেকে চিরদিনের জন্য সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রচলিত আইন, সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাগত মানদণ্ডের প্রতি সম্মান রেখেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    সাংবাদিক মো. ইমরান শেখ টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পাটগাতী গ্রামের প্রয়াত আবু মুসা শেখের ছেলে। সাংবাদিক মোঃ ইমরান শেখ দীর্ঘদিন ধরে বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত রয়েছেন।

  • অপরিকল্পিত নগরায়ণে হু-মকিতে কুমিল্লা সচেতনতা থেকে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

    অপরিকল্পিত নগরায়ণে হু-মকিতে কুমিল্লা সচেতনতা থেকে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

    তরিকুল ইসলাম, তরুণ
    “অপরিকল্পিত নগরায়ণ; হুমকিতে কুমিল্লা—সচেতনতা থেকে সমন্বিত উদ্যোগ” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অ্যালায়েন্স ফর কেয়ার এন্ড ইকুইটি (এইস)-এর আয়োজনে নগরীর চকবাজারের একটি কনফারেন্স হলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কুমিল্লার নগর সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা, কঠোর নীতি বাস্তবায়ন এবং নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
    বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ কেবল অবকাঠামোগত সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনমানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই সংকট মোকাবিলায় একক কোনো উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, নগর পরিকল্পনাবিদ, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
    গোলটেবিল বৈঠকের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বাপা’র কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন। তিনি বলেন, দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে কুমিল্লায় যত্রতত্র ভবন নির্মাণ, খাল ও জলাধার ভরাট, জলাবদ্ধতা, তীব্র যানজট, সবুজ উন্মুক্ত স্থান হ্রাস এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর অস্তিত্ব মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। এসব সমস্যা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং নগর ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতারই প্রতিফলন।
    বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্টজনেরা কুমিল্লার জন্য একটি হালনাগাদ ও সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, খাল ও জলাধার সংরক্ষণে জিরো টলারেন্স নীতি, আধুনিক ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু এবং নগর ব্যবস্থাপনায় নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন।
    এইস-এর প্রধান নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া বিনতে হোসাইনী বলেন, “এই গোলটেবিল বৈঠকের উদ্দেশ্য কেবল সমস্যা চিহ্নিত করা নয়; বরং বাস্তবসম্মত সমাধান ও নীতিগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করা। আলোচনায় উত্থাপিত সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।”
    গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শরিফুল করীম, বার্ড-এর পরিচালক ফৌজিয়া নাসরিন সুলতানা, শিশু বিশেষজ্ঞ ও বিএমএ (কুমিল্লা)-এর সাবেক সভাপতি ডা. ইকবাল আনোয়ার, বাপা (কুমিল্লা জেলা)-এর সভাপতি বদরুল হুদা জেনু ও সাধারণ সম্পাদক এবং কুমিল্লা কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ মো. হুমায়ূন কবীর মাসউদ, সান মেডিকেল সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান ডা. আব্দুল লতিফ, সুজন (কুমিল্লা জেলা)-এর সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান টিটু, কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন লিটন, সি অ্যান্ড এফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জামাল আহমেদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য ও এখন টিভির ব্যুরো চিফ খালেদ সাইফুল্লাহ, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রভাষক শামীম আহমেদ, ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক জিয়া উদ্দিন, বাসস-এর বিশেষ প্রতিনিধি হাসান কামরুল, সোহানুর রহমান সোহাগ, আব্দুর রহিম, হাসান মাহমুদ তারেক, সাইফুল ইসলাম সাইফ, শফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
    বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সমন্বিত পরিকল্পনা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কুমিল্লাকে একটি বাসযোগ্য, নিরাপদ ও টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

  • সুন্দরগঞ্জে ব্যারিস্টার শামীম আওয়ামী লীগকে অভ-য় দিয়ে ভোট প্রার্থনা

    সুন্দরগঞ্জে ব্যারিস্টার শামীম আওয়ামী লীগকে অভ-য় দিয়ে ভোট প্রার্থনা

    মোঃ আনিসুর রহমান আগুন, গাইবান্ধা থেকেঃ

    ২৯ গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সাংসদ ও জাপার মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী নির্বাচনী বক্তব্য বলেন, “আমি আগে ২ বার সংসদ সদস্য ছিলাম। সংসদে কিভাবে কাজ করতে হয়, সেটা আমি জানি। ৭১ বিধি, ৪১ বিধি, ৪২ বিধি, সিদ্ধান্ত প্রস্তাব, সরকারি বিল, বেসরকারি বিল, সংশোধনী, জনমত যাচাই, এগুলো আমার মুখস্থ। আমাকে এমপি বানানো মানে, প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই আমি ফাটাই দেব।”

    বৃহস্পতিবার রাতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বড়ুয়ার হাটে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। পতনের পর তাদের অনেকেই পালিয়ে গেছে। তাদের লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি সমর্থক বাংলাদেশে রয়ে গেছে। তারা বাংলাদেশের নাগরিক। কেউ অন্যায় করে থাকলে অবশ্যই তার বিচার হবে, কিন্তু এখন তাদেরকে প্রচন্ড চাপের ওপর রাখা হয়েছে। তাদেরকে বাড়িতে থাকতে দেওয়া হয়না। আমি যদি এমপি না হই, তাহলে তাদের ওপর আরও নির্যাতন চালানো হবে, জুলুম করা হবে।

    আরো বলেন, আমি ভয় পাই এই কারণে যে, আমি যদি এমপি না থাকি এবং অন্য কেউ এমপি হয়, তাহলে তারা এই অবস্থানে যেতে পারবে না। আমার একটা পজিশন আছে। আমি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সেই অভিজ্ঞতা দিয়েই সুন্দরগঞ্জ চালাতে পারবো। অন্য কোনো এমপি হলে সুন্দরগঞ্জকে সেভাবে চালাতে পারবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা যদি আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন, তাহলে আমার অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, শক্তি ও প্রতিভা দিয়ে সুন্দরগঞ্জে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি করবো ইনশাল্লাহ।

    ব্যারিস্টার শামীম আরও বলেন, সুন্দরগঞ্জের মানুষের ভালবাসাতেই আমি দলের মহাসচিব হয়েছি। এখন কোনো কারণে যদি মহাসচিব হেরে যায়, তাহলে কি তার মানসম্মান থাকবে? সুন্দরগঞ্জের মানসম্মানই বা থাকবে কোথায়? আমি ছাড়া এই সুন্দরগঞ্জ থেকে আর কে মহাসচিব হতে পারবে? কোনো দলের মহাসচিব এই সুন্দরগঞ্জ থেকে হওয়ার সম্ভাবনাই নেই। আপনারা আমাকে একটু ভোট দিন। আপনাদের ভোট ও ভালবাসায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ। এই বিজয়ের কেতন হাতে নিয়ে সুন্দরগঞ্জে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবো।

    শ্রীপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি মতিয়ার রহমান ডাকুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা এবং উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি আনছার আলী সরদার। এসময় জাতীয় পার্টি ও তারপর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • ধোবাউরায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাগণের প্র-শিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    ধোবাউরায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাগণের প্র-শিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ ও গণভোটকে অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিবেশে উপহার দেওয়ার লক্ষে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাগণের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত”হয়েছে।

    শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট, ঢাকার সহযোগিতায়, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় ময়মনসিংহের আয়োজনে ধোবাউড়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের হল রুমে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্ণিং অফিসার মোঃ সাইফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান।

    উক্ত কর্মশালায় সম্মানিত অতিথিবৃন্দ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করেন জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান।