Category: দেশজুড়ে

  • গোদাগাড়ীতে কুরবানীর মাংশ নিয়ে বিপাকে, হঠাৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

    গোদাগাড়ীতে কুরবানীর মাংশ নিয়ে বিপাকে, হঠাৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের জোহরুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম বাড়িতে ফ্রিজভর্তি কোরবানির মাংস। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ এলই না। তারা খোঁ খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন, এলাকায় যে সৌরবিদ্যুতের প্ল্যান্ট ছিল, তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ আর আসবেই না। তাই দুপুরের পর থেকে অনেকে পদ্মানদীর এপারে বস্তায় করে মাংশ নিয়ে এসে ফ্রিজে রাখছেন, অনেক বাড়ির নারীরা ফ্রিজ থেকে মাংশ বের করে রান্না শুরু করেন।

    গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চর কানাপাড়া গ্রামে এক প্রায়মারী স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, বিদ্যুৎ নেই, আসার সম্ভাবনা নেই, নষ্ট হওয়ার ভয়ে ২৫ কেজি মাংশ ফ্রিজ থেকে বের করে নানী দাদীদের মত পরানো পদ্ধিতে মাংশ জাল দেয়া শুরু করেছি, কি যে কষ্ট আপনাদের বলে বুঝাতে পারবো না। ঈদের পর একটু ঘুরাঘুরি করবো কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি, একই অবস্থা অন্য পরিবারের নারী সদস্যদের মাঝে ।
    শুধু কুরবনীর মাংশ নয়, মোবাইল চার্জ, টিভি, ফ্যান সবকিছু বন্ধ হয়ে পড়ে। চরের মানুষের জীবণ জীবিকায় নেমে আসবে প্রতিবন্ধকতা। পদ্মা নদীর ডান তীরে ভারতীয় সীমান্ত লাগোয়া এই ইউনিয়ন সৌরবিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছিল প্রায় ৯ বছর আগে। সরকারের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) কারিগরি সহযোগিতায় চর আষাড়িয়াদহে সৌরবিদ্যুতের প্ল্যান্ট স্থাপন করেছিল বেসরকারি সংস্থা আভা। প্ল্যান্টটির নাম দেওয়া হয়েছিল আভা মিনি-গ্রীড প্রজেক্ট। কোনো ঘোষণা ছাড়াই বৃহস্পতিবার এই গ্রিডটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের জোহরুল মেম্বার বলেন, ‘প্রথম দিকে ২৪ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। বছর দু-এক থেকে শুধু দুপুরে জোহরের নামাজের সময় ১ ঘণ্টা, আসরের নামাজের সময় ৩০ মিনিট, মাগরিবের নামাজের সময় থেকে রাত ১০টা, রাত ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ দেওয়া হতো। এতে কোনোরকমে ফ্রিজটা চলত। কাল থেকে একেবারেই বন্ধ। ফ্রিজের ভেতর প্রায় ৪০ কেজি মাংস ছিল। এগুলো বের করে রান্না করা হচ্ছে। খাওয়া যাবে কি-না জানি না।’

    ভুবনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, আগে মোবাইলে চার্জ দিতে পদ্মা নদী নৌকায় পার হয়ে ওই পারে যেতে হতো। এতদিন সেই সমস্যা ছিল না কিন্তু গত বৃহস্পতি থেকে প্লান্টটি বন্ধ করায় পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে হচ্ছে। সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পেয়ে আলো জ্বালানো যেত, টিভি দেখতে পারি আর ফ্যানের বাতাস তো পাওয়া যায়। রাতে ছেলেমেয়েরা বিদ্যুতের আলোয় পড়ালেখা করতে পারে। এখন আর হবে না।

    কানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলেয়া বানু বলেন, বিদ্যুৎ আসার পরে গ্রামের অনেক পরিবর্তনই হয়েছে। এখন তো বন্ধ হয়ে গেল।

    আভার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্গম চরাঞ্চলের ঘরে ঘরে সৌর বিদ্যুৎ দিতে ২০১৫ সালের ৬ নভেম্বর এ প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। এরপর চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের আষাড়িয়াদহসহ পানিপার, ভুবনপাড়া, কানপাড়া, হনুমন্তনগর ও নওশেরা গ্রামের প্রায় ১ হাজার ৩০০ পরিবারকে সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। প্রি-পেইড মিটারে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য গ্রাহককে দিতে হতো ৩০ টাকা। এরপরও লোকসান হচ্ছিল বলে আভার দাবি।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এই প্ল্যান্ট স্থাপনে প্রণোদনাও দেয়। আর কারিগরি সহায়তা করে সরকারের আরেক সংস্থা ইডকল। এই সংস্থাটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সমীক্ষাও করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি বলেছিল, প্ল্যান্টটি চালালে প্রতি মাসে ১৫ লাখ টাকা করে লাভ করতে পারবে আভা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত লাভের মুখ দেখা যায়নি।

    এই প্ল্যান্টে মোট ৫৯৪টি সৌর বিদ্যুতের প্যানেল স্থাপন করা আছে। এগুলোর বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বলা হয়েছিল ১৪৮ দশমিক ৫০ কিলোওয়াট। প্যানেলের কার্যক্ষমতা কমে বর্তমানে মাত্র ৬০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল। এই বিদ্যুতে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিটারে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণে বৃহস্পতিবার এই গ্রিডটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিদ্দিকুর রহমানের গ্রামেই এই গ্রিডটি স্থাপন করা হয়। শুক্রবার দুপুরে এই ইউপি সদস্যকে কল করা হলে তিনি বলেন, ‘বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই বলে প্রতিবেশীর নিজস্ব সৌর বিদ্যুতে মোবাইল চার্জ দিয়েছিলাম। হঠাৎ করে ঈদের পর এভাবে বিদ্যুতের প্ল্যান্ট বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হয়নি। ফ্রিজের কোরবানির মাংস বের করে রান্না করতে হচ্ছে। চরের বেশির ভাগ মোবাইল চার্জের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফ্রিজ-টিভিগুলোর এখন কি হবে কেউ জানে না। প্রায় ৫ হাজার টাকা দিয়ে বাড়িতে বাড়িতে মিটার নিতে হয়েছে। সেটাও এখন লস।’

    জানা গেছে, আভা মিনি-গ্রীড প্রজেক্টের প্ল্যান্ট ব্যবস্থাপক হিসেবে শুরু থেকেই কর্মরত ছিলেন মিল্লাত হোসেন। এ ছাড়া আরও দুজন কর্মচারী সেখানে থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার মিল্লাত হোসেন এই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে প্ল্যান্ট বন্ধ করে চলে আসেন। যোগাযোগ করা হলে মিল্লাত হোসেন বলেন, ‘চাহিদা ১২০ কিলোওয়াটের। আর আমরা সরবরাহ করতে পারছিলাম মাত্র ৬০ কিলোওয়াট। সে কারণে প্ল্যান্ট বন্ধ করে চলে এসেছি।’

    সৌর বিদ্যুৎ ২-আভা মিনি গ্রীড প্রজেক্ট
    সৌর বিদ্যুৎ ২-আভা মিনি গ্রীড প্রজেক্ট।
    আভার মহাব্যবস্থাপক শালেউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘চাকরি ছাড়তে হলে অন্তত এক মাস আগে জানাতে হবে। তাহলে কর্তৃপক্ষ সেখানে নতুন লোক দেবে এবং কার্যক্রম চালু রাখবে। কিন্তু মিল্লাত চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েই প্ল্যান্ট বন্ধ করে চলে এসেছেন।’

    তিনি বলেন, চাহিদামতো বিদ্যুৎ দিতে না পারার কারণে লোকজন মন্দ কথা বলতেন। তাই হয়তো মিল্লাত চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

    শালেউদ্দীন আহমেদ আরও বলেন, ‘এই প্ল্যান্টটি আসলে চালানো সম্ভব না। ২৪ ঘণ্টার ভেতরে ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিয়েও প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ টাকা লোকসান হচ্ছিল। অথচ কার্যক্রম শুরুর আগে ইডকল যাদের দিয়ে সমীক্ষা করিয়েছিল, তারা বলেছিল মাসে ১৫ লাখ টাকা লাভ হবে। লাভ তো দূরের কথা, পরিবেশবান্ধব এই প্ল্যান্টে সৌরবিদ্যুৎ ছাড়াও ডিজেল দিয়ে জেনারেটর চালিয়েও চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়নি। বিষয়টি স্রেডা এবং ইডকলও জানে।’

    তিনি বলেন, ‘সবকিছু পর্যালোচনা করে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রায় দুই বছর আগে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) সঙ্গে আভার চুক্তি হয়েছে। কথা ছিল, সাব-মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে নেসকো পদ্মার ওপারের চরে বিদ্যুৎ নিয়ে যাবে। তারপর তারাই চরবাসীকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ দেবে। আর সৌর প্ল্যান্টে যেটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে সেটা আভা নেসকোর কাছে বিক্রি করবে। কথা ছিল, এই চুক্তির ছয় মাসের মধ্যে নেসকো তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত নেসকো কার্যক্রম শুরু করেনি।’

    গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল বলেন, ‘কালকেই আমি শুনেছি যে আভা তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। এতে চরের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত যেন এ প্ল্যান্ট চালু করা হয় তার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। সাব-মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে যদি বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে সেটাও যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন করা হয়। তা না হলে চরের জীবন-জীবিকা আবার থমকে যাবে।’

    নেসকোর নির্বাহী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, ‘সৌরবিদ্যুৎ স্থায়ী সমাধান নয়। এটি যুগ যুগ চলবেও না। দুর্গম অঞ্চলে বিদ্যুৎ দিতে সরকারের অগ্রাধিকার ছিল বলে নেসকো বিনা মূল্যেই আভাকে নানা সহযোগিতা করেছে। কিন্তু নদী পার করে সাব-মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়া সহজ কাজ নয়। আভার সঙ্গে এ রকম কোন চুক্তিও ছিল না। আভা সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিলে আমাকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তারপর দেখি কী করা যায়!’

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • ঝিনাইদহের তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ কর্মসুচির ২৬৪ বস্তা চাল বিক্রির অভিযোগ

    ঝিনাইদহের তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ কর্মসুচির ২৬৪ বস্তা চাল বিক্রির অভিযোগ

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ঈদুল আযহা উপলক্ষে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভালনারেবল গ্রæপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসুচির চাল বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে কালীগঞ্জের তিন ইউপি চেয়ারম্যান এই চাল বিতরণ না করে ১৫ জুন বিকেলে মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর বাজারের একটি দোকানে বিক্রি করে দিয়েছেন। শুক্রবার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায় কালীগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে ৪টি শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নসিমনযোগে ২৬৪ বস্তা ভিজিএফ কর্মসুচির চাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মহেশপুরের খালিশপুরে। প্রতি গাড়িতে ৬৬ বস্তা ভিজিএফ কর্মসুচির চাল বহন করা হচ্ছে। পাচারকৃত বস্তায় খাদ্য অধিদপ্তরের স্টিকারযুক্ত সিলমোহর রয়েছে। গাড়ি চালকের কাছে পাওয়া ডিও লেটারে উল্লেখ আছে চালগুলো কালীগঞ্জ উপজেলার ৪নং নিয়ামতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ রনি লস্কর, ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ঋতু হিজড়া ও ৮নং মালিয়াট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান খানের নামে বরাদ্দ। গত ১২ জুন চালগুলো কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং চাল বিতরণের মেয়াদ ছিল গত ৩০ জুন পর্যন্ত। এই চালের মধ্যে চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ রনি লস্করের ২.৫ মেট্রিক টন, চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ঋতু হিজড়ার ৩ মেট্রিক টন ও আজিজুর রহমান খানের ২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিস সুত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে এ চাল দরিদ্র মানুষের জন্য বিশেষ বরাদ্দের। কোরবানী ঈদের আগেই তার গরীব মানুষদের মাঝে বিতরণ করা কথা। প্রত্যক্ষদর্শী রাকিবুল ইসলাম রকি জানান, কালীগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে চালগুলো মহেশপুর উপজেলা খালিশপুর বাজারের দীপুর দোকানে নিয়ে যাচ্ছিল। মোট ৪ গাড়ি চাল খাদ্য গুদাম থেকে পাচার করা হয়। প্রতি গাড়িতে ৬৬ বস্তা চাল ছিল। এ বিষয়ে কালীগঞ্জের নিয়ামতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ রনি লস্কর বলেন, বিষয়টি আমি জানিনা। খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি। ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ঋতু হিজড়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ফোনে আমি কিছুই বলবো না। আপনি সরাসরি ইউনিয়নে আসলে সব খুলে বলবো। বিষয়টি জানতে কালীগঞ্জের ৮নং মালিয়াট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান খানের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি ফেঅন রিসিভ করেননি। কালীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহদী হাসান শিহাব বলেন, গত ১৫ জুন সরকারি বরাদ্দের চাল গুদাম থেকে দেওয়া হয়েছে। ডিও লেটার দেখালে আমরা চাল প্রদান করি। তবে এখন এই চাল কে কোথায় বিক্রি করেছে সেটা আমি জানি না। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশরাত জাহান বলেন, এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে কেউ দোষী হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরো জানান, এই চালগুলো ভিজিএফ না অন্য কোন বরাদ্দের চাল কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তদন্তের পরই সব জানা যাবে।

    আতিকুর রহমান, ঝিনাইদহ।

  • পাইকগাছা কয়রার  জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

    পাইকগাছা কয়রার জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা ( খুলনা) ।।
    বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুলের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি নাগরিক প্রতিনিধি দল ঘূর্ণিঝড় রেমাল এ ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় জনপদ খুলনার পাইকগাছা ও কয়রার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ দুর্গত দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল (খুলনা-সাতক্ষীরা-বাগেরহাট) এ তিন সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলের নেতৃবৃন্দ শুক্রবার সকালে পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের আলমতলা ভাঙ্গনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে তারা কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ভুক্তভোগী মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন। পরিদর্শন শেষে আমাদী বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাট এলাকায় কপোতাক্ষ নদের পাড়ে দুর্যোগ কবলিত দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলের উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স এবং সামাজিক সংগঠন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন এ কর্মসূচীর আয়োজন করে। সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন এর সমন্বয়ক সিনিয়র সাংবাদিক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক নেতা মনজুরুল হাসান বুলবুল। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রসুল বাবুল, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, লিডার্স এর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল, পার্লামেন্ট নিউজ এর সম্পাদক সাকিলা পারভিন, অর্থনীতিবিদ আশফিয়া নিশা বৃষ্টি লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে এম আরিফুজ্জামান তুহিন, অধ্যক্ষ রাজিব বাছাড় আওয়ামী লীগ নেতা মৃণাল কান্তি বাবু, বিশ্বজিৎ সিনহা, সাংবাদিক সানজিদুল ইসলাম, মোঃ আব্দুল আজিজ, ওবায়দুল কবির সম্রাট, রিয়াদ হোসেন, আব্দুল হামিদ সরদার, আফজাল হোসেন, প্রদীপ দত্ত, আনিস রহমান, বিষ্ণুপদ, শহিদুল সরদার ও জহুরুল ইসলাম। মানববন্ধন কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্যানা, ফেস্টুন ও প্লা কর্ড নিয়ে অংশ গ্রহণ করে।

    ইমদাদুল হক
    পাইকগাছা খুলনা।

  • পাইকগাছায় বজ্রপাতে ঘের কর্মচারী নিহত

    পাইকগাছায় বজ্রপাতে ঘের কর্মচারী নিহত

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় বজ্রপাতে এক ঘের কর্মচারী নিহত হয়েছে। নিহত শ্রীকান্ত মন্ডল (২৫) উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের গেওয়া বুনিয়া গ্রামের পতীত মন্ডলের ছেলে।দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয়।এসময় ঘের কর্মচারী শ্রীকান্ত চিংড়ি ঘেরের বাসায় আশ্রয় নেয়।এসময় বজ্রপাত ঘেরের বাসায় আঘাত হানলে বজ্রপাতে শ্রীকান্ত এর করুন মৃত্যু হয়।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা খুলনা।

  • পূর্নবাসন কাজে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে….. এমপি রশীদুজ্জামান

    পূর্নবাসন কাজে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে….. এমপি রশীদুজ্জামান

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা(খুলনা)।।
    সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা। সেখানে বেড়িবাঁধ, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মৎস্য ঘের, ফসল ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুপেয় পানির উৎসগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনে পশুপাখির মৃত্যুসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ত্রাণ ও পূনর্বাসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা যথেষ্ট নয়। দুর্যোগ পরবর্তী পূনর্বাসন কাজে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি বৃহস্পতিবার বিকালে ঘুর্ণিঝড় রেমাল দূর্গত উপকূলে বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে নাগরিক প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। পাইকগাছা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স ও সামাজিক সংগঠন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের জন্য উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ঘূণিঝড় রেমালে প্রকৃত ক্ষতি সরকারি হিসেবের চেয়েও কয়েকগুন বেশি। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ত্রাণের থেকে জরুরি লবণপানি নিয়ন্ত্রণ। লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে কৃষিকাজ করেই উপকূলের মানুষ তার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে।
    অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ভৌগলিক অবস্থান, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দূর্যোগ, ভঙ্গুর অবকাঠামো, দারিদ্রতা, দীর্ঘমেয়াদী লবণাক্ততা, সংকটাপন্ন কৃষি, প্রভৃতির কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। ওই এলাকাকে বিশেষ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা উদ্যোগ নেওয়া দরকার। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।
    সভায় বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি পূনর্বাসন ও নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। শিশু খাদ্য, রান্নার সামগ্রী, জ্বালানি ও শুকনো খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পুনঃস্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ সেবা কেন্দ্রগুলো মেরামত করতে হবে। জরুরি জীবিকা সহায়তা ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করতে হবে। বসতি ও ফসলি এলাকাকে লবণপানি মুক্ত করতে হবে। উপকূলের জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্ধের পাশাপাশি বাজেট বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার ইকবাল মন্টু, মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর,বাপা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রসুল বাবুল, নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আনন্দ মোহন বিশ্বাস, লিডার্স এর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল, পার্লামেন্ট নিউজ এর সম্পাদক সাকিলা পারভিন, আশফিয়া নিশা বৃষ্টি, নবনির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান স ম আব্দুল ওয়াহাব বাবলু, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান অনিতা রাণী মন্ডল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কৃষ্ণ পদ মন্ডল, ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল,সাংবাদিক রকিবউদ্দীন পান্নু, জাহিদ হোসেন,আবু হেনা মোস্তফা কামাল, আব্দুল আজিজ, ইউপি মেরি রাণী সরদার ও ভূক্তভোগী আসমা বেগম।

  • গোদাগাড়ীতে উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেলের সংবর্ধনা, ঈদ শুভেচ্ছা অব্যাহত

    গোদাগাড়ীতে উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেলের সংবর্ধনা, ঈদ শুভেচ্ছা অব্যাহত

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংবর্ধনা অব্যাহতভাবে চলছে ও ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন নব নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল।

    গত ১৯ জুন উপজেলার রাজাবাড়ী হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ব্যাচ ২০০১ এর পক্ষ থেকে গোদাগাড়ী উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ বেলাল উদ্দীন সোহেল কে সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
    এ বিদ্যালয়ের ২০০১ ব্যচের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ছাত্র ছাত্রীরা উপস্থিত হয়ে এ সংবর্ধনার আয়োজন করেন।

    গত ১৮ জুন (মঙ্গলবার) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন তিনি।

    ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাহাবুবুল আলম মুক্তি, দেওপাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা যুবলীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কামাল পাশা, পাকড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি সোলেমান কবির প্রমুখ। এদিকে বিভিন্ন এলাকায় ফুটবল, ক্রিকেট খেলার ফাইন্যাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন।

    উল্লেখ্য , রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন যুবলীগের অর্থবিষায়ক সম্পাদক বেলাল উদ্দিন সোহেল। উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে দোয়াত কলম প্রতীকে ৬৭ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি। এর আগে তিনি দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সফল চেয়ারম্যান ছিলেন।
    উপজেলার যে কোন ইউনিয়নে যাচ্ছেন হাজার হাজার নারী পুরুষ, যুবক, যুবতীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভালবাসা, ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন।

    এ ব্যপারে বেলাল উদ্দিন সোহেল বলেন, মানুষ আমাকে ভালবেসে ভোট দিয়ে বিশাল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। আমি ২ টি পৌরসভা ও ৯ ইউনিয়নের যেখানে যাচ্ছি সেখানে হাজার হাজার মানুষের ভালবাসা পাচ্ছি, ফুলের শুভেচ্ছা পাচ্ছি, সংবর্ধনা পাচ্ছি। মানুষ প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সাথে আছে। এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলাকে স্মাার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সকল মানুষের দোয়া চাই।

    এব্যাপরে রাজাবাড়ী হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, বেলাল উদ্দীন সোহেল আমাদের বিদ্যালয়ের ২০০১ ইং সালের এসএসসির ব্যাচ। এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সংবর্ধনা দেয়ায় আমি গর্ববোধ করি। শিক্ষক, ছাত্র, ছাত্রী, কৃষক, শ্রমিক, ভ্যানচালক, অটোচালক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, চাকুরীসহ সকল পেশার মানুষের তার প্রতি গভীর ভালবাসা রয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে এ ভালবাসা অর্জন করা সম্ভাব নয়। তাই তো আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী এমপির মনোনীত প্রার্থী ও আসাদুজ্জান আসাদ এমপির মনোনীত প্রার্থীকে পেছনে ফেলে বিশাল ভোটের ব্যবধান গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সে যেখানে যাচ্ছেন সেখানে হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা তার সাথে ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা দেখে পরাজিত একটি মহল তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চলাচ্ছেন, কিন্তু কোন লাভ হচ্ছে না। আগামীতে সে আরও বড় জায়গায় যায় এ দুয়া করি।

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    রাজশাহী।

  • সুন্দরগঞ্জের সাংবাদিক মিঠু আর নেই

    সুন্দরগঞ্জের সাংবাদিক মিঠু আর নেই

    মোঃ আনিসুর রহমান আগুন, গাইবান্ধা থেকেঃ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি ও উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের দুলাল গ্রামের মৃত আজিজুল হক সরকারের ছেলে সাংবাদিক মশিউর রহমান মিঠু হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

    বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিক মিঠু বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেল আনুমানিক ৩ঘটিকার সময় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া….. রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। এসময় তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে যান।

    সাংবাদিক মশিউর রহমান মিঠুর মৃত্যুতে সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাকে তার গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।

  • একুশে পদক প্রাপ্ত তারুণ্য ও সংগ্রামের কবি রুদ্রের ৩৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    একুশে পদক প্রাপ্ত তারুণ্য ও সংগ্রামের কবি রুদ্রের ৩৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    মোংলা ( বাগেরহাট) প্রতিনিধি

    ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানের শ্রষ্টা তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র আজ(শুক্রবার) ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলাদেশের কবিতায় অবিসস্মরণীয় এই কবির শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাকে দিয়েছে সত্তরের অন্যতম কবি-স্বীকৃতি। ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান। চলতি বছর তিনি একুশে পদকে(মরনোত্তর) ভূষিত হন

    দিনটির স্মরণে রুদ্র স্মৃতি সংসদ, মিঠেখালি আজ কবির গ্রামের বাড়ি মোংলার মিঠেখালিতে সকালে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল, দোয়া এবং রুদ্র স্মরনানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। স্মরণসভা শেষে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও রুদ্রের গান পরিবেশিত হবে।

    উল্লেখ্য, অকালপ্রয়াত এই কবি নিজেকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন আপামর নির্যাতিত মানুষের আত্মার সঙ্গে। সাম্যবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহ্যচেতনা ও অসাম্প্রদায়িকবোধে উজ্জ্বল তার কবিতা। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’ এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি উচ্চারণ করেছেন অবিনাশী স্বপ্নÑ ‘দিন আসবেই দিন সমতার’। যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান তাকে পরিণত করেছে ‘তারুণ্যের দীপ্র প্রতীক’-এ। একই সঙ্গে তাঁর কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা।

    মাত্র ৩৫ বছরের (১৯৫৬-১৯৯১) স্বল্পায়ু জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন।‘উপদ্রুত উপকূল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদ’ থেকে পরপর দু’বছর ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন।

  • শাজাহানপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ‘ইউএনও’র ঈদ উৎসব

    শাজাহানপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ‘ইউএনও’র ঈদ উৎসব

    মিজানুর রহমান মিলন,
    শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি :

    বগুড়া শাজাহানপুরে ঈদ পরবর্তী সময়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের এক অন্যরকম ঈদ আনন্দ এনে দিলেন ইউএনও মুহসিয়া তাবাসসুম।
    বৃহস্পতিবার (২০ জুন) দুপুরে স্বপ্নপূরণ স্কুল মানিকদিপা শাখা পরিদর্শন শেষে গ্রামের শিশুদের নিয়ে আনন্দ উৎসব এবং ভালো মানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
    উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহসিয়া তাবাসসুম,গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের উদ্দেশ্যে দেশপ্রেম, নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ জাগাতে উপদেশ মূলক আলোচনা করেন।
    এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ভূইয়া,গন্যমান্য ব্যক্তি,শিক্ষিকা আফরুজা আকতার, মরিয়ম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য -স্বপ্নপূরণ স্কুল টি ১৮টি শাখায় স্কুলের মাধ্যমে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত কাজ করে যাচ্ছে।

  • শার্শার জামতলায়  ট্রাকের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত

    শার্শার জামতলায় ট্রাকের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত

    আজিজুল ইসলাম : যশোরের শার্শার জামতলায় পাট বোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় আল আমিন (২৪) নামে এক অটোভ্যান চালক নিহত হয়েছে।

    বুধবার(১৯ জুন) বিকাল ৪ টার দিকে যশোর – সাতক্ষীরা মহাসড়কে জামতলা মবিল ফ্যাক্টরী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ভ্যানচালক আলআমিন শার্শা উপজেলার পশ্চিম কোটা (দক্ষিণ পাড়া) গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আলআমিন অটোভ্যান নিয়ে বাগআঁচড়া বাজারে আসছিলো। সে জামতলা মবিল ফ্যাক্টরী এলাকায় পৌঁছালে পিছন থেকে একটি পাট বোঝাই ট্রাক ( যশোর-ট ১১-০২৭৯) তার ভ্যানে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।

    নাভারন হাইওয়ে থানার এস আই মফিজুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক ট্রাক ও তার চালককেঙ আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।