Category: দেশজুড়ে

  • ঢাকা ইসিবি চত্বরে ১৪ ও ১৫ আগস্ট সারা দেশে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি

    ঢাকা ইসিবি চত্বরে ১৪ ও ১৫ আগস্ট সারা দেশে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি

    সুমন খান:

    ১৪, ১৫ ও ১৬ আগস্ট সারা দেশে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে১৪ও১৫আগস্ট কেন্দ্রীয়কার্যালয়সহ সারা দেশের সব দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে।ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গণহত্যার বিচারের দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন এবংবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের জন্য ১৬ আগস্ট দোয়া অনুষ্ঠান হবে।বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের এক সম্প্রীতি সমাবেশে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কি ধারাবাহিক মধ্য দিয়ে ,ঢাকার ইসিবি চত্ত্বর এ ক্যান্টনমেন্ট থানা বিএনপি, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি, থানা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, তাঁতি দল অবস্থান কর্মসূচি করেন। কেউ যেন কোন প্রকার বিশৃঙ্খল ও অরাজকতা না করতে পারেন! সেজন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। এখানে উপস্থিত ছিলেন থানা বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন,মিয়াজ উদ্দিন, জিন্নাত আলী, শিহাব উদ্দিন, পারভেজ সহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন বাবু, সংগ্রামী সেক্রেটারি রনি সহ নেতৃবৃন্দ।এরং যুবদলের রতন, তুহিন, সাইফুল, বিল্লাল হোসেন সহ নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক দলের মিজান হোসেন, শামীম নেতৃবৃন্দ, কৃষকদলের মাসুদ রানা, জনি সহ নেতৃবৃন্দ, ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল সহ হাজার হাজার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নেতৃবৃন্দরা হুশিয়ার উচ্চারণ করে জানান দেন যে আগামী দিনে কোন প্রকার আইনশৃঙ্খলার কেউ যদি অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে তাদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়ে যথাযথ বিচার করা হবে।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে ছাত্র-জনতাকে হত্যার ‘নির্দেশদাতা’ শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে সংগঠন দুটি এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। ছাত্রদল ১৪ ও ১৫ আগস্ট শাহবাগে সমাবেশ এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে ১৬ আগস্ট দোয়া মাহফিল করবেন।

  • ঝিনাইদহে ৪ দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী  ছাত্র আন্দোলনের রোডমার্চ

    ঝিনাইদহে ৪ দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রোডমার্চ

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে “রেজিস্টান্স উইক” রোডমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে। ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্তর থেকে রোডমার্চটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ হয়। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সম্বনয়ক মনির হোসন মানিক জানান, অন্তর্বতীকালীন সরকারে কাছে ৪ দফা দাবি জানাতে আমরা একত্রিত হয়েছি। এছাড়াও ফ্যাাসিবাদী সরকার রাষ্ট্র কাঠামোকে ব্যবহার করে ছাত্রদের উপর যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তা দ্রæততম সময়ে ট্রাইবুন্যাল গঠন করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পালাতক হাসিনার আওয়ামী সন্ত্রাস বাহিনী সংখ্যালঘুদের বাড়ি ভাঙ্গচুরের নামে লুটপাট ও সহংিসতা করছে। তদন্ত করে অবিলেম্ব তার বিচার করতে হবে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সদস্য শারমিন সুলতানা বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আইন শৃংখলা বাহীনির যে সকল সদস্য হত্যায় মদদ দিয়েছিল তাদেরকে চাকরীচ্যুত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়াও প্রশাসন ও বিচার বিভাগে ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে বৈষম্যে শিকার সকলকে সুযোগ দিয়ে যোগ্য প্রশাসন গড়ে তুলতে হবে। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্বনয়ক রতœা খাতুন, তানাইম , তৈাফিক, ইমরান, করোবি, রাহুল ও রিপনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ

  • পিলখানায় চাকরীচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরীতে পুর্নবহালের দাবীতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন

    পিলখানায় চাকরীচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরীতে পুর্নবহালের দাবীতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    পিলখানায় চাকরীচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরীতে পুর্নবহাল, ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার বিচার ও বিডিআর বিদ্রোহের পুনঃ তদন্তের দাবীতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন করেছে চাকরীচ্যুত শাতাধীক বিডিআর সদস্য। বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে বিডিআর কল্যান পরিষদের ব্যানারে তারা মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেন। মানববন্ধন কর্মসুচিতে চাকরীচ্যুত সাবেক বিডিআর সদস্যদের পরিবার পরিজন ও সন্তানরা অংশ গ্রহন করেন। মানববন্ধন শেষে চাকরীচ্যুত বিডিআর সদস্যরা ঝিনাইদহ শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিলিল শেষে শহরের পায়রা চত্বরে বক্তব্য রাখেন সাবেক বিডিআর সদস্য এবিএম কামরুজ্জামান, হাবিলদার মনিরুজ্জামান, মেডিকেল এ্যসিসটেন্ট মুরাদ আলী, ল্যান্স নায়েক আব্দুল কাদের ও সিপাহী আশরাফুল ইসলাম। সাবেক বিডিআর সদস্যরা অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পিলখানায় ভারতীয় সৈন্য ঢুকিয়ে বিডিআরে কর্মরত দেশপ্রেমিক সেনা অফিসার ও সাধারন জওয়ানদের হত্যা করে। হত্যার পর সাধরণ বিডিআর সদস্যদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে তাদের চাকরীচ্যুতসহ মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে নির্মম নির্যাতন করা হয়। এতে অনেক বিডিআর সদস্য নিহত হন। মানববন্ধন কর্মসুচিতে সাবেক বিডিআর সদস্য এবিএম কামরুজ্জামান অভিযোগ করেন, ১৫ বছর ধরে বিডিআর সদস্যরা চাকরীতে না থাকলেও তারা কোন রাষ্ট্র বিরোধী উগ্রসংগঠনের সঙ্গে জড়িত হননি। মিথ্যা ও অসাড় তদন্তের মাধ্যমে তাদের চাকরীচ্যুত করে নাটক সাজানো হয়েছে। তিনি ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার বিচার ও বিডিআর বিদ্রোহের পুনঃ তদন্তসহ চাকরীচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরীতে পুর্নবহালের দাবী জানান।

  • মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে পালানোর সময় ভারতীয়  পুলিশের এসএসআই গ্রেফতার

    মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে পালানোর সময় ভারতীয় পুলিশের এসএসআই গ্রেফতার

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের মহেশপুর ৫৮ বিজিবির সদস্যরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় ভারতীয় এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত পুলিশ সদস্যের নাম পি জন সেলভারাজ (৫২)। তার বাড়ি ভারতের তামিলনাড়–তে। তিনি ভারতীয় পুলিশে এসএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে ভারতীয় ওই পুলিশ কি ভাবে এবং কেন বাংলাদেশ থেকে পালাচ্ছিল তা বিজিবির সুত্রগুলো নিশ্চিত করতে পারেনি। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় গত ২২ মার্চ অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করার অপরাধে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি তাকে গ্রেফতার করে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করে। গত ১৩ জুন আদালত হতে জামিনপ্রাপ্ত হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পালিয়ে থাকে। গত ১৩ আগস্ট সন্ধ্যার দিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে মহেশপুর বিজিবি তাকে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে মহেশপুর থানায় ভারতীয় পুলিশের এসএসআই পি জন সেলভারাজের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে পাঠানো হয় বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। এদিকে ভারতীয় পুলিশের এসএসআই পি জন সেলভারাজ কি ভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করলেন নাকি তিনি সেদেশের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করছিলে তা নিবিড় ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে অনেকেই মনে করেন। এ ব্যাপারে মহেশপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান কাজল বুধবার দুপুরে জানান, আদালত থেকে জামিন হওয়ার পর মামলা নিস্পিত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশেই থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি পালিয়ে আবার ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেকছে বলে ওসি জানান।

  • র‌্যাব-১২’র অভিযানে ৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    র‌্যাব-১২’র অভিযানে ৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    র‌্যাব-১২’র অভিযানে সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানা এলাকা হতে ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারসহ ২৮১ বোতল ফেন্সিডিল ও ট্রাক জব্দ।

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামী গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।

    ১। এরই ধারাবাহিকতায় মোঃ মারুফ হোসেন বিপিএম, পিপিএম, অধিনায়ক র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর দিক নির্দেশনায় গত ১৩ আগষ্ট ২০২৪ খ্রিঃ, সন্ধ্যা ১৮.৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-১২’র সিরাজগঞ্জ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল “সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানাধীন বাগীচাপাড়া গ্রামস্থ ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের উপর” একটি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ২৮১ বোতল ফেন্সিডিলসহ ০৩ জন মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তাদের সাথে থাকা মাদকদ্রব্য বহনের কাজে ব্যবহৃত ভুট্টা বোঝাই ০১টি ট্রাক, ০৪টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৩,৬০০ টাকা জব্দ করা হয়।

    ২। গ্রেফতারকৃত আসামিগণ ১। মোঃ মফিজুল ইসলাম (৩০), পিতা-মোঃ কছর আলী, সাং-উত্তর বত্রিশ হাজারী, (২) মোঃ রবিউল ইসলাম (২৪), পিতা-মৃত-জহির আলী, সাং-কাশিরাম গুড়াতিপাড়া এবং ৩। মোঃ সুমন মিয়া (২৯), পিতা-মৃত-আমিনুল ইসলাম, সাং-সুতিধার, উভয় থানা-কালিগঞ্জ, উভয় জেলা-লালমনিরহাট।

    ৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামিগণ দীর্ঘ দিন যাবৎ লোকচক্ষুর আড়ালে সিরাজগঞ্জ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় ট্রাকের মধ্যে ভুট্টা ভর্তি বস্তার ভিতরে মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য বহন করে আসছিল।

    ৪। গ্রেফতারকৃত আসামিগণের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    এ ধরনের মাদক উদ্ধার অভিযান সচল রেখে মাদকমুক্ত সোনার বাংলা গঠনে র‌্যাব-১২ বদ্ধপরিকর।

    র‌্যাব-১২ কে তথ্য দিন- মাদক, অস্ত্রধারী ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিন।

  • পুঠিয়ার শিলমাড়িয়ায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে হা*মলায় যুবদল নেতা নিহ*ত

    পুঠিয়ার শিলমাড়িয়ায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে হা*মলায় যুবদল নেতা নিহ*ত

    পুঠিয়া,প্রতিনিধি ঃ পুঠিয়ার শিলমাড়িয়ায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে  হামলায় আজিজুল ইসলাম (৪৩) নামের এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছে। নিহত আজিজুল শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বড় কাজুপাড়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ও উক্ত ওয়র্ডের যুবদল সভাপতি। মঙ্গলবার (১৩ আগষ্ট) সকাল ১০টায় উপজেলার শিলমাড়িয়া ্ইউনিয়নের ভেরার মোড় নামক স্থানে এ ঘটনাটি ঘটে। বাসুপাড়া বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম তিনু জানান, পাশ^বর্তী উপজেলা দুর্গাপুরের শেখ পাড়া গ্রামের আ’লীগ কর্মী মহসিনের কাছে থেকে আজিজুলের ৬ হাজার টাকা পাওনা ছিলো। সেই টাকা দীর্ঘ দিন ধরে দিব দিচ্ছি বলে ঘুরা চ্ছিলো। আজ বুধবার সকাল ৯টায় বাসুপাড়া বাজারে আজিজুল মহনিকে দেখে তার পাওনা টাকা দিতে বলে। এসময় মহসিন টাকা বাড়িতে গেলে দিবে বলে জানায়। আজিজুল ও তার এ বন্ধু মিজান মহসিনের কথা মত তার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথি মধ্যে ভেরার মোড় নামক স্থানে পৌঁছানো মাত্রই মহসিনের ছেলেরাসহ বেশ কয়েকজন আজিজুলকে লাঠি সোটা ও দেশিও অস্ত্রসস্ত্রসহ হামলা চালায়। এসময় তার বন্ধু এগিয়ে এলে তাকেও মারধোর করা হয়। তাদের হামলায় দুইজনই গুরুতর জখম হয়। এসময় স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রামেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রামেক হাসপাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজিজুল মারা যায় এবং মিজানকে আইসিউতে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সাইদুর রহমান জানান, বিষয়টি জানার পর ঘটনা স্থলে যাচ্ছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে এ কর্মকর্তা জানান। #

     

    মাজেদুর রহমান( মাজদার) 
    পুঠিয়া, রাজশাহী।

  • বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি পিকেএম আব্দুল বারী, সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন লাইফ

    বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি পিকেএম আব্দুল বারী, সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন লাইফ

    বড়াইগ্রাম(নাটোর) প্রতিনিধি:

    নাটোরের বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ আগষ্ট) বিকেলে উপজেলার বনপাড়াস্থ একটি রেষ্টুরেন্ট সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো: আবু সাঈদ ২১ জনের কার্যকরি কমিটির নাম ঘোষনা করেন। এতে সভাপতি পিকেএম আব্দুল বারী (দৈনিক শতকন্ঠ,দৈনিক সিনসা) ও সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন লাইফ (দৈনিক ঢাকা, দৈনিক চাঁদনী বাজার) নির্বাচিত হন।
    নির্বাচিত অন্যরা হলেন, সহ-সভাপতি আবু সাঈদ, আব্দুল আলীম, মাহমুদুল হাসান মেমন ও সুরুজ আলী , যুগ্ম সম্মাদক মো: সৈকত হোসেন ও সাহাবুদ্দিন শিহাব, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রতন আলী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম, দপ্তর সম্পাদক মোজাহিদ হোসেন,সহ-দপ্তর সম্পাদক মো: তারেক হোসেন, অর্থ সম্পাদক কায়েস উদ্দিন, তথ্য ও প্রযুক্তি ওমর ফারুক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো: মোলেম উদ্দিন, শিক্ষা ও মানব সম্পদ মো: করিম মৃধা, কার্য্য নির্বাহী সদস্য, মো: নাঈম সরকার, ঈশা হাম্মাম তুহিন, মো: সাহাবুল ইসলাম , মো: আব্দুল হামিদ ও নূর জাহান।
    বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের নব র্নিবার্চিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লাতুল জান্নান, সহকারী কমিশনার(ভূমি) আশরাফুল আলম, বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শফিউল আজম খাঁন, নাটোর প্রেসক্লাবের সম্পাদক যমুনা টিভি’র সিনিয়র স্টাফ করসপন্ডেন্ট নাজমুল হাসান, বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মু. ওহিদুল হক সহ জেলার বিভিন্ন প্রেসক্লাবের সভাপতি সম্পাদক, বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ।

    সংবাদদাতা
    মোঃ শাহ আলম ।।

  • প্রথম বীর, মহাকাব্যের নায়ক শ-হীদ আবু সাঈদ

    প্রথম বীর, মহাকাব্যের নায়ক শ-হীদ আবু সাঈদ

    মোঃ হায়দার আলীঃ মানব জাতি মানব সভ্যতার ধারাবাহিক ইতিহাসের ধারায় এমন কিছু দুঃখজনক, বেদনাদায়ক, হৃদয় গ্রাহী ঘটনা সংযোজিত হয়েছে যা অধ্যায়ন করলে মন শুধু ব্যথিত ও মর্মহত হয় । আর এ সব ঘটনা সংঘটনের নায়কদের উদ্দেশ্যে মন থেকে বেরিয়ে আসে নানা ধিক্কারজনক উক্তি। ইতিহাসের ঘটনা থেকে জানা যায়, এমন কিছু ব্যক্তির জীবন প্রকাশ্যে শত শত জনতার উপস্থিতিতে এই পূথিবীতে অকালে ঝরে গেছে, যাদের এই অপমৃত্য বিবেকই কোন অবস্থাতেই মেনে নিতে পারে না ।
    অকালে পুলিশের গুলিতে ঝরে গেল এক মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন। তিনি হলেন বীর সৈনিক পুলিশের বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন তিনি আর কেউ নয় বীর শহীদ আবু সাঈদ।

    আবু সাঈদ (২০০১ – ১৬ জুলাই ২০২৪) ছিলেন একজন শিক্ষার্থী ও ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সক্রিয়কর্মী। তিনি এই আন্দোলনের রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সমন্বয়ক ছিলেন। গত ১৬ জুলাই আন্দোলন চলাকালে একজন পুলিশ সদস্যের গুলিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কোটা আন্দোলনকারীরা তাকে আন্দোলনের প্রথম শহীদ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

    ব্যক্তিগত জীবন: আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মকবুল হোসেন এবং মাতার নাম মনোয়ারা বেগম। আবু সাঈদের ছয় ভাই ও তিন বোন, নয় ভাই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। তিনি স্থানীয় জাফর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপরে স্থানীয় খালাশপীর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জি‌পিএ-৫ পে‌য়ে এসএসসি পাশ করেন। এরপর তিনি ২০১৮ সালে রংপুর সরকা‌রি কলে‌জ থেকে জি‌পিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাশ করেন। পরে তিনি ২০২০ সালে বেগম রো‌কেয়া‌ বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে ইং‌রে‌জি বিভাগে ভ‌র্তি হন।তিনি রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    ২০২৪-এর কোটা সংস্কার আন্দোলনঃ
    আবু সাঈদ ছিলেন ২০২৪ সালের বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন কর্মী। ২০১৩, ২০১৮ সালের পর ২০২৪ সালের ৬ জুন আবারো কোটা সংস্কারের আন্দোলন শুরু হয়। তিনি রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক হিসাবে এই আন্দোলনে যোগদান করেন। তিনি রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ও রংপুর অঞ্চলে কোটা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তিনি আন্দোলনকে বেগবান করতে ১৫ জুলাই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শামসুজ্জোহাকে উল্লেখ ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন:“স্যার! (মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা), এই মুহূর্তে আপনাকে ভীষণ দরকার স্যার! আপনার সমসাময়িক সময়ে যারা ছিলো সবাই তো মরে গিয়েছে। কিন্তু আপনি মরেও অমর। আপনার সমাধি আমাদের প্রেরণা। আপনার চেতনায় আমরা উদ্ভাসিত। আপনারাও প্রকৃতির নিয়মে একসময় মারা যাবেন। কিন্তু যতদিন বেচেঁ আছেন মেরুদণ্ড নিয়ে বাচুঁন। নায্য দাবিকে সমর্থন জানান, রাস্তায় নামুন, শিক্ষার্থীদের ঢাল হয়ে দাড়াঁন। প্রকৃত সম্মান এবং শ্রদ্ধা পাবেন। মৃত্যুর সাথে সাথেই কালের গর্ভে হারিয়ে যাবেন না। আজন্ম বেচেঁ থাকবেন শামসুজ্জোহা হয়ে। অন্তত একজন ‘শামসুজ্জোহা’ হয়ে মরে যাওয়াটা অনেক বেশি আনন্দের, সম্মানের আর গর্বের।
    ১৬ জুলাই দুপুর ১২টা থেকেই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চলে কোটা আন্দোলনকর্মীরা বিক্ষোভ করছিলো। আবু সাঈদ এই আন্দোলনের সম্মুখ ভাগেই অবস্থান করছিলো সব সময়।

    মামলাঃ রহস্যজনক হলেও বাস্ত সত্য আবু সাঈদের মৃত্যুর পরদিন ১৭ জুলাই তাজহাট থানার উপপরিদর্শক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় তাজহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী আবু সাঈদের মৃত্যুর দায় বিক্ষোভকারীদের ওপর দায় চাপানো হয়। প্রশাসনের লোকজন কতটা বেহায়া, মিথ্যাবাদী হলে মামলার তথ্য বিবরণীতে এমন মিথ্যা পুলিশ উল্লেখ করেছেন “বিভিন্ন দিক থেকে আন্দোলনকারীদের ছোড়া গোলাগুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের এক পর্যায়ে একজন শিক্ষার্থীকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সহপাঠীরা ধরাধরি করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। যেখানে লাখ লাখ মানুষ ভিডিওতে পরিস্কার দেখতে পাচ্ছেন আবু সাঈদ হাতে থাকা লাঠি ফেলে দিয়ে পুলিশের দিকে বুক পেতে দিচ্ছেন, দু,হাত প্রসারিত করে আর এ সময় পুলিশ তাকে খুব কাছাকাছি থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করে হত্যা করছেন। স্বৈরাচারী পুলিশ তাকে গুলি না করে সহজে গ্রেফতার করতে পারতো, আইনের আওতায় আনন্তে পারতো। তা হলে তাকে চির বিদায় গ্রহন করতে হতো না।

    প্রতিক্রিয়াঃ আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সাল আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ছেলেটার কাছে যেহেতু প্রাণঘাতী কোনও অস্ত্র ছিল না, কাজেই পুলিশের সহিংস হওয়ার কোনও দরকার ছিল না, কিন্তু পুলিশ সেটি না করে গুলি ছুড়লো। নিরীহ মানুষের উপর এমন আক্রমণ মোটেও মেনে নেওয়া যায় না। গত ১৭ জুলাই ভারতীয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ফেসবুকে আবু সাঈদের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেন, “আজ, অস্থির লাগছে। আমিও তো সন্তানের জননী। আশা করবো বাংলাদেশ শান্ত হবে।” গত ২৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আবু সাঈদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এ সাহায্য কী আবু সাঈদের অভাব পূরণ করতে পারবে।

    বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদের জানাজাঃ ১৭ জুলাই, বুধবার সকাল ৯টায় পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামে জাফরপাড়া মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মানুষের ঢল নামে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন আবু সাঈদ। জানাজায় ইমামতি করেন, আবু সাঈদের আত্মীয় মো. সিয়াম মিয়া। আবু সাঈদের লাশ গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে তার গ্রামে এসে পৌঁছে। লাশ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। শোক আর কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে যায়। সেখানে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষ ছিলেন। এলাকাবাসী জানান, আবু সাঈদ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, প্রতিবাদী, সৎ, সাহসী।

    কিংবদন্তি: কোটা আন্দোলনকে কবি শহীদুল্লাহ ফরায়জী তার নামে প্রজন্মের বীর আবু সাঈদ নামে একটা কবিতা লিখেন, আন্দোলন কর্মীরা রংপুর পার্ক মোড়ের নাম পরিবর্তন করে ‌‘আবু সাঈদ চত্বর’ দিয়েছেন।সেই সাথে শিক্ষার্থীরা রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলগেটের নাম “শহীদ আবু সাঈদ গেইট’’ নামকরণ করেন।

    কোটা সংস্কার আন্দোলনঃ পুলিশের গুলিতে নিহত সাঈদের শেষ পোস্ট: বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তার মৃত্যুর একদিন আগে ১৫ জুলাই আবু সাঈদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে চলমান আন্দোলনে শিক্ষকদের অংশ গ্রহণ না করা নিয়ে আক্ষেপ করে একটি পোস্ট দেন। তাঁর মৃত্যুর পর এখন সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়ে। ১৯৬৯ সালে ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ স্বাধীনতার পূর্বে তৎকালীন পাকিস্তানের শাসক আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন সেই সময়কার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক (তৎকালীন রিডার) সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা। এই শিক্ষকও তার মৃত্যুর আগের দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষদের এক সভায় বলেন- “আজ আমি আমার ছাত্রদের রক্তে রঞ্জিত। এরপর কোন গুলি হলে তা ছাত্রকে না লেগে যেন আমার আমার গায়ে লাগে।”সেই শামসুজ্জোহার এই উক্তিটি ফেসবুকে পোস্ট করে নিজের মৃত্যুর আগের দিন আবু সাঈদের লিখেছেন- “স্যার! এই মুহুর্তে আপনাকে ভীষণ দরকার স্যার! আপনার সমসাময়িক সময়ে যারা ছিল সবাই তো মরে গেছে, কিন্তু আপনি মরেও অমর। আপনার সমাধি, আমাদের প্রেরণা। আপনার চেতনায় আমরা উদ্ভাসিত। এই প্রজন্মে যারা আছেন, আপনারাও প্রকৃতির নিয়মে একসময় মারা যাবেন। কিন্তু যতদিন বেচেঁ আছেন মেরুদণ্ড নিয়ে বাচুঁন। নায্য দাবিকে সমর্থন জানান, রাস্তায় নামুন, শিক্ষার্থীদের ঢাল হয়ে দাড়াঁন। প্রকৃত সম্মান এবং শ্রদ্ধা পাবেন। মৃত্যুর সাথে সাথেই কালের গর্ভে হারিয়ে যাবেন না। আজন্ম বেচেঁ থাকবেন শামসুজ্জোহা হয়ে।
    অন্তত একজন ‘শামসুজ্জোহা’ হয়ে মরে যাওয়াটা অনেক বেশি আনন্দের, সম্মানের আর গর্বের।” হয় তো তার পোষ্টে অনুপ্রানিত হয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল, মাদ্রাসার শিক্ষকগণ ছাত্রদের এ আন্দোলন শরীক হন তাদের প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে আসেন।

    ভিডিওঃ পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের নিহত হওয়ার পুরো ঘটনার একটি ভিডিও বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়।
    সেই ভিডিওতে দেখা গেছে- আন্দোলকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংর্ঘষ শুরু হওয়ার সময় সবার সামনে ছিলেন আবু সাঈদ। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়তে থাকলে আন্দোলনকারী অন্যরা পিছু হটে গেলেও হাতে একটি লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে স্লোগান দিতে থাকেন আবু সাঈদ। এই সময় ঠিক সামনে থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পুলিশ। হাতে থাকা লাঠি দিয়ে পুলিশের সেই রাবার বুলেট ঠেকানোর চেষ্টা করতে দেখা যায় আবু সাঈদকে। কিন্তু ক্রমাগতভাবে পুলিশের ছুড়তে থাকা রাবার বুলেটে কয়েকটি শরীরে লাগে তার।
    ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গুলি শরীরে লাগলে এক পর্যায়ে পিছু হঠেন আবু সাঈদ। ফুটপাতে বসে পড়েন। তখন পেছন থেকে কয়েকজন আন্দোলনকারী দৌড়ে এসে তার হাত-পা ধরাধরি করে নিয়ে যায়। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোকে নিহত আবু সাঈদের বন্ধু অঞ্জন রায় বলেন, “শরীরে একের পর রাবার বুলেটে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার পর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আবু সাঈদ। তাঁর নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। এ সময় সংঘর্ষ চলছিল। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি হয়।”
    রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হৃদয় রঞ্জন রায় বলেন, “মেডিকেলের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তির আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁর শরীরের একাধিক স্থানে রাবার বুলেটের ক্ষত রয়েছে। নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। কিন্তু রাবার বুলেটের আঘাতে মারা গেছেন কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।”

    নিহত আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান বলেন, “বাবা মকবুল হোসেন শারীরিক অসুস্থতায় শয্যাশায়ী। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আবু সাঈদ ছিল সবচেয়ে মেধাবী। তাই পরিবারের সবার উপার্জন দিয়ে তাকে এতদূর পর্যন্ত পড়ালেখা চালিয়ে নিয়ে এসেছি। একদিন সে অনেক বড় হবে, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে সে আশা ছিল।“আদরের ছোট ছেলের মৃত্যুর খবরে প্রায় পাগল হয়ে গেছেন মা মনোয়ারা বেগম। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।”

    রংপুর পার্ক মোড়ের নাম পরিবর্তনঃ পার্ক মোডের নাম ‌‘আবু সাঈদ চত্বর’ দিলেন শিক্ষার্থীরা পুলিশের গুলিতে নিহত কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয় কমিটির সদস্য ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদের স্মরণে রংপুর পার্ক মোড়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ আবু সাঈদ চত্বর’ নামকরণ করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শেষ পর্যন্ত তা করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল, বিভিন্ন পেজ এবং গ্রুপে এ দাবি জানান। বর্তমানে গুগল ম্যাপে পার্কের মোড়ের জায়গায় ‘শহীদ আবু সাঈদ চত্বর’ নাম দেখা যাচ্ছে। ওবায়দুর রহমান নামে বেরোবির একজন ফেসবুক গ্রুপে লিখেছিলেন, ‘এরইমধ্যে গুগল ম্যাপে পার্কের মোড়ের নাম পরিবর্তন করে শহীদ আবু সাইদ চত্বর করা হয়েছে। তাকে সম্মান করে তার নামে এই চত্বরকে ডাকবেন নাকি অন্য নামে!’ আরেক শিক্ষার্থী ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘আজ থেকে রংপুর পার্ক মোড়ের নাম শহীদ আবু সাঈদ চত্বর- সাধারণ শিক্ষার্থী।’

    ভারতের অঙ্কন শিল্পী’র রংতুলিতে আবু সাঈদঃ চলছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। এ কারণে ঢাকাসহ সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতে থেমে নেই তারকাদের ফেসবুক টাইমলাইন। সরব হয়েছেন শোবিজ অঙ্গন থেকে মিডিয়া পাড়ার অনেক তারকারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে পুলিশের গুলিতে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের একটি আঁকা ছবি পোস্ট করেছেন জনপ্রিয় নাট্য পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ। তিনি সেই ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘বীর শহীদ আবু সাঈদের এই ছবিটি এঁকেছেন ভারতের অঙ্কন শিল্পী কৌশিক সরকার।’ এর আগের পোস্টে তিনি লেখেন, তুমি যতো বেশি সততার সাথে কথা বলবে তত বেশি সম্মানিত হবে। – হযরত আলী (রাঃ) উল্লেখ্য, বুধবার (১৭ জুলাই) কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নিহত ৬ জনের গায়েবানা জানাজা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি)। এসময় কফিন ছুঁয়ে আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শপথ করেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত ও এক দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

    আবু সাঈদ সম্পর্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূসঃ
    মহাকাব্যের নায়ক আবু সাঈদ, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এটা আবু সাঈদের বাংলাদেশ। এই আবু সাঈদের বাংলাদেশে কোনো ভেদাভেদ নেই। তাই যে যেখানে আছেন আবু সাঈদের মা-বাবা, ভাইবোনদের বা যারা যেখানে আছেন তাদের রক্ষা করুন। কোনো গোলযোগ করতে দেবেন না। আবু সাঈদের মতো আর কাউকে যাতে মৃত্যুবরণ করতে না হয়। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপাড়া গ্রামে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, আবু সাঈদ যেভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, আমাদেরও সেভাবে দাঁড়াতে হবে। আবু সাঈদ এখন ঘরে ঘরে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবারই সন্তান। এখানে হিন্দু-মুসলমান, খ্রিস্টান-বৌদ্ধ পরিবার সবার ঘরের সন্তান এই আবু সাঈদ। কাজেই আপনারা খেয়াল রাখবেন, কোথাও যেন কোনো গোলোযোগ না হয়। কেউ যেন ধর্ম নিয়ে কথা-বার্তা না বলে। কারণ, আমরা এই মাটিরই সন্তান, সবাই আবু সাঈদ। বাংলাদেশে যত পরিবার আছে সব পরিবারের সন্তান। শিক্ষার্থীরা স্কুলে পড়বে আবু সাঈদের কথা। নিজে নিজে বুঝে যাবে আমিও ন্যায়ের জন্য লড়ব, আমিও বুক পেতে দেব। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. ইউনূস বলেন, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এই মাটির সন্তানদের রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। আমরা যেন এটি নিশ্চিত করি। আবু সাঈদ যেমন দাঁড়িয়েছে, আমাদেরও সেভাবে দাঁড়াতে হবে। যারা পার্থক্য করে, এ রকম সন্তান ও রকম সন্তান- এ রকম না। আমরা সবাই বাংলাদেশি, আমরা বাংলাদেশেরই সন্তান। আবু সাঈদের মা সবার মা এবং সবার মা আবু সাঈদের মা। কাজেই তাকে রক্ষা করতে হবে, তাদের বোনদের রক্ষা করতে হবে, তাদের ভাইদের রক্ষা করতে হবে। সবাই মিলে এটি করতে হবে।
    কবর জিয়ারতের পর আবু সাঈদের বাড়িতে যান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টাকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। আবু সাঈদের বাড়ির আঙিনায় বেশ কিছু সময় বসেন এবং তার বাবা-মা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের সান্ত্বনা দেন। আবু সাঈদের বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। পরে জাতীয় পতাকাটি সাঈদের পরিবারের হাতে দিয়ে বলেন, এই পতাকার জন্য আবু সাঈদ প্রাণ দিয়েছেন। এই পতাকা ঠিকমতো রাখবেন। এ সময় তিনি পরিবারকে আবু সাঈদের হত্যার বিচারের আশ্বাস দেন। এ সময় পীরগঞ্জের রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান। তিনি আবু সাঈদ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা মহাকাব্য পড়ে থাকি। আবু সাঈদকে নিয়ে মহাকাব্য লেখা হবে। আবু সাঈদ মহাকাব্যের নায়ক। ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে কবিতা, গল্প ও সাহিত্য লেখা হবে। তার গুলি খাওয়ার যে ছবি মানুষ দেখল। এর পরে মানুষকে আর থামানো যায়নি। আবু সাঈদ বিশ্বকে চমকে দিয়েছে।

    আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের দেশবাসীর নিকট আবেদনঃ ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে জনকল্যাণমুখী কিছু করুন-আবু সাঈদের বাবা ছেলের ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিবর্তে জনকণ্যানমুখী কিছু করার অনুরোধ করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রথম শহীদ শিক্ষার্থী আবু সাঈদের পিতা মকবুল। পিতার পক্ষে আবু সাঈদের বড় ভাই রমজানের সাক্ষরিত এক চিঠিতে তিনি বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি কিছু লোক আবু সাঈদের ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। আামি সকলের প্রতি সন্মান রেখে অনুরোধ করছি, যেহেতু ইসলাম ধর্মে সকল ধরনের মূর্তি, ভাস্কর্য কিংবা প্রতিকৃতি বানানো নিষিদ্ধ সেহেতু ছেলের জন্য কিছু করতে চাইলে জনকণ্যাণমুখী এমন কিছু করুন, যার সওয়াব শহীদ আবু সাঈদ কবরে পাবে। আমরা মুসমান। ইসলাম ও আখিরাত বিশ্বাস করি।

    কোটা সংস্কার আন্দোলনে আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ শ শ মৃত্যু বরনকারীর আত্নার মাগফিরাত কামনা করচ্ছি, আল্লাহ যেন তাদের শহীদের মর্যাদা দান করে শহীদ হিসাবে কবুল করে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ স্হান দান করেন এবং হাজার হাজার আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করচ্ছি, সঠিক তদন্ত করে সকল হত্যা কান্ডের যেন বিচার যেন দেশের মানুষ দেখতে পান দেশবাসী বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট প্রত্যাশা করেন।

    মো: হায়দার আলী,
    গোদাগাড়ী,রাজশাহী।

  • তানোরে বিএনপির দোয়া মাহফিল

    তানোরে বিএনপির দোয়া মাহফিল

    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর তানোরে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে
    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সারা দেশে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।
    জানা গেছে, গত ১২ আগষ্ট সোমবার উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আবু সাইদ চাঁদ এবং সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও তানোর পৌর সভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান। এর আগে, তানোর উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
    (ইউএনও) এবং থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। এসময় তানোরে শান্তিপূর্ণ সহবস্থান রক্ষায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন উপস্থিত
    নেতৃবৃন্দ।#

  • তানোরে জনরোষ  এড়াতে প্রধান শিক্ষক লাপাত্তা

    তানোরে জনরোষ এড়াতে প্রধান শিক্ষক লাপাত্তা

    আলিফ হোসন,
    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর তানোরের বাধাইড় ইউনিয়নের (ইউপি) নারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইউব আলী জনরোষ এড়াতে স্কুলে যাতায়াত বন্ধ করে লাপাত্তা হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গত ৫ আগষ্ট সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ৬ আগষ্ট মঙ্গলবার স্থানীয় অভিভাবকগণ স্কুলে গিয়ে অফিস কক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি নামিয়ে ফেলতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বাধাদেন।এনিয়ে অভিভাবকগণ বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে ও তাদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। এঘটনার পর থেকেই প্রধান শিক্ষক আইউব আলী স্কুলে যাতায়াত বন্ধ করে লাপাত্তা হয়েছে।
    অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত প্রায় ১৫ বছর যাবত প্রধান শিক্ষক আইউব আলী আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। নিয়মিত স্কুল না করা, নিয়োগ বাণিজ্যে,স্কুলের জমি বন্ধক রাখা, গোলাম আজম নামে এক শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্কুলের জায়গা কেনার জন্য ডোনেশনের ৬ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে
    নগদ-বিকাশ একাউন্ট খুলতে মাথাপিছু ১৫০ টাকা ও বিদ্যুৎ বিলের জন্য প্রতি মাসে মাথা পিছু ২০ টাকা করে আদায়, দুটি ল্যাপটপ আত্মসাৎ,তিনটি মটর স্থাপনের নামে টাকা আত্মসাৎ,স্কুল অডিটের সময় সকল শিক্ষক-কর্মচারীর এক মাসের বেতনের টাকা কেটে নেয়া, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরুণে অতিরিক্ত টাকা ও পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকিয়ে টাকা আদায়, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের টাকা কেটে নেয়া ও স্কুলের বিভিন্ন অনুদানের টাকা নয়ছয় ইত্যাদিসহ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ লাখ টাকা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
    এদিকে সরেজমিন দেখা গেছে, স্কুলের যে অবস্থা তাতে ডিজিটাল বাংলাদেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন বেহাল দশা দেখে যে কেউ আঁতকে উঠবে। একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমান সুযোগ-সুবিধাও এখানে নাই। স্কুলে কমনরুম নাই, শিক্ষক আছে কম্পিউটার নাই, লাইব্রেরিয়ান আছে লাইব্রেরী নাই,
    বিজ্ঞানাগার নাই, মানসম্মত টয়লেট ও নলকুপ নাই, সিমানা প্রাচীর ও খেলার মাঠ নাই, বেড়া-তাঁটির ঝুঁকিপূর্ণ মাটির ঘরে পড়ানো হচ্ছে।
    এবিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,ঘটনার দিন স্কুলের দপ্তরি শহিদুল ইসলাম বাবু তাকে মারপিট করে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেছেন, নইলে তাকে স্কুলে আসতে দিবে না। তিনি বলেন, ঘটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে দপ্তরি শহিদুল ইসলাম বাবু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছবি নামানো নিয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বাকবিতণ্ডা হয়েছে।#