Category: দেশজুড়ে

  • ঝিনাইদহে একজন পলাতক অধ্যক্ষের  দুই আলীশান বাড়ি নিয়ে হৈচৈ

    ঝিনাইদহে একজন পলাতক অধ্যক্ষের দুই আলীশান বাড়ি নিয়ে হৈচৈ

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহ অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ বাদশা আলমের আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে। একজন ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল কুমার দাস তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন। এদিকে অধ্যক্ষ বাদশা আলম হাসিনা সরকারের পতনের পর পালিয়েছেন। তিনি কলেজে আসছেন না। শোনা যাচ্ছে কলেজ ফান্ডের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি ভারতে পালনের চেষ্টা করছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ বাদশা আলম আলম আপাদ মস্তক একজন দুর্নীতিবাজ। এক সময় ঝিনাইদহ সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখকের কাজ করতেন। এখনো দলিল লেখকদের তালিকায় তার নাম রয়েছে। তিনি ঝিনাইদহ কলেজের প্রথমে প্রভাষক ও পরে এক বছরের জন্য ভাইস প্রিন্সিপালহন। আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর যোগ্যতা না থাকার পরও প্রভাব খাটিয়ে অধ্যক্ষের পদ দখল করেন। চাকরী জীবন থেকেই তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। ফলে তিনি কলেক করনে না। আসলেও দুপুরের পর। যে করণে কলেজের কাজকর্ম ব্যহত হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, অধ্যক্ষ পদে আসার আগে তিনি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করলেও আরাপপুর এলাকায় এখন তার দুইটি আলীশান বাড়ি। যার মধ্যে একটি পাঁচতলা ও একটি চারতলা বাড়ি। বাড়ি দুইটির আনুমানিক মুল্য ২০ কোটি টাকা হবে বলে তার প্রতিবেশিরা দাবী করেন। বেসরকারী কলেজের একজন অধ্যক্ষের এমন দুইটি আলিশান বাড়ি কি ভাবে হলো তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ১৩ বছর অধ্যক্ষ হওয়ার সুবাদে তিনি কলেজের কোটি কোটি টাকা পকেটস্থ করেছেন। কলেজে ভর্তির সময় নেওয়া টাকার কোন হিসাব নেই। লাইব্রেরী ফান্ডে টাকা নেওয়া হলেও বই কেনা হয় না। শিক্ষার্থীদের আইডি বাবাদ ভর্তির সময় টাকা নেওয়া হয়, কিন্তু আইডি দেওয়া হয়না। ভর্তির সময় বিজ্ঞানাগারের জন্য টাকা কেটে রাখা হলেও ১৩ বছরে কোন যন্ত্রপাতি কেনা হয়নি। আইসিটি ও কৃষি শিক্ষার ব্যবহারীর পরীক্ষায় বাধ্যতামুলক ভাবে ৩০০ টাকা করে জোর পুর্বক আদায় করেন অধ্যক্ষ বাদশা আলম। অনার্স লেভেলে ইনকোর্স পরীক্ষার নামে প্রতি ছাত্রের কাছ থেকে ৭০০ টাকা করে আদায় করেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। অনার্স ফাইনাল ইয়ারে ভাইবা পরীক্ষার নামে ছাত্র প্রতি ২০০০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। এ নিয়ে ২০২৩ সালে ছাত্রলীগ কলেজে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করলেও অধ্যক্ষ বাদশা আলম এখনো জোরপুর্বক টাকা আদায় অব্যাহত রেখেছেন। কলেজে প্রতিটি নিয়োগে কয়েক কোটি টাকার বানিজ্য করা হয়েছে। খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়ার শিক্ষকরা নিয়মিত কলেজ করেন না। এ জন্য তাদের প্রতি মাসে অধ্যক্ষকে মাসোহারা দিতে হয়। ডিগ্রী ও উন্মুক্ত পরীক্ষায় নকল সরবরাহের জন্য কলেজের মালি আসলামের মাধ্যমে অর্থ আদায় করেন অধ্যক্ষ বাদশা আলম। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তির সময় উন্নয়ন বাবদ টাকা আদায় করা হলেও ১৩ বছরে কলেজের ফান্ড থেকে দৃশ্যত কোন উন্নয়ন করা হয়নি। অথচ কলেজের ৬টি একাউন্ট থেকে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে একাউন্টেন মোঃ আইয়ুব হোসেনের সহায়তায় অন্তত কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুরে দুইটি বাড়ি নির্মান করেছেন। এছাড়া অধ্যক্ষ বাদশা আলমের চাকরীর বয়স শেষ হলেও জাতীয় বিশ^বিদ্যলয়ের জাল কাগজ করে জোরপুর্বক অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করে বসে আছেন। অর্থ আত্মসাৎ ও অবসরের পরও অবৈধ ভাবে চেয়ার দখল করা নিয়ে অধ্যক্ষ বাদশা আলমের কাছে ফোন করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার অফিসে গিয়ে জানা যায় সরকার পতনের পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল কুমার দাস বুধবার দুপুরে জানান, অধ্যক্ষ বাদশা আলমের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে তিনি তদন্ত করবেন। তদন্ত করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রনালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ ।

  • জনবলের অভাবে বাগআঁচড়া সাত মাইল পশু হাট বন্ধ, মাসে লোকসান কোটি টাকা

    জনবলের অভাবে বাগআঁচড়া সাত মাইল পশু হাট বন্ধ, মাসে লোকসান কোটি টাকা

    আজিজুল ইসলামঃ প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় যশোরের বাগআঁচড়া সাত মাইল পশুহাট বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা ও  ব্যবসায়ীরা

    দেশের দক্ষিন- পশ্চিম অঞ্চলের সব চেয়ে বড় গরুরহাট, যশোরের শার্শার বাগআঁচড়া সাত মাইল পশু হাট বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ফলে জমজমাট গরু হাটের চেহারা রাতারাতি পাল্টে গেছে। বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

    মঙ্গলবার সাকালে গরু ব্যাপারীদের আন্দোলনের মুখে হাটটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাটে পূর্বের নিয়ম চলছেনা। ফলে ব্যাপারী ও সাধারণ ক্রেতাদের একই মুল্যে গরু পাশ শুরু হলে ক্ষোভে ফু্সে উঠেন কার্ডধারী ব্যপারীরা। তারা হাটে আন্দোলন শুরু করলে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির  অবনতি থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় হাটটি বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

    তবে এলাকাবাসী থেকে বলা হচ্ছে রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তন হওয়ায় এ হাট বন্ধ করা হয়েছে । দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গড়ে উঠা ভারতীয় এবং স্থানীয় গরুচাষী ও খামারিদের সাতমাইল গরুর হাট গরু ও ক্রেতার অভাবে এখন খাঁ খাঁ করছে।

     সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার প্রতিদিন গড়ে কমপে ৫ হাজার গরু কেনাবেচা হয়ে থাকে এ হাটে। গরুর হাট থেকে মাসে সরকারের টোল আদায় হয় প্রায় এক কোটি টাকা।  

    স্থানীয় বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেনের বলেন, এই হাটটি এর আগে প্রায় ১০ বছর ইজারা নিয়ে চালিয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুল। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অনিয়মের মধ্যে হাট পরিচালনা করেছেন। চলতি বছর হাটের কোন ইজারা তারা না নিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে হাট পরিচালনা করে কোটিকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

     স্বৈরাচার সরকার পতন হওয়ার পর হঠ্যাৎ করে প্রশাসন হাটটি বন্ধ করে রেখেছেন। এটা দুঃখজন। তিনি হাটটি পুনরায় চালু করার জোর দাবী জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নয়ন কুমার রাজবংশী বলেন,সাতমাইল গরু হাটটি পরিচালনা করতে ১৩০ থেকে ১৫০ জন জনবল প্রয়োজন। এতো জনবল উপজেলা প্রশাসনের না থাকায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে আপাতত হাটটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

  • সুনামগঞ্জে দূর্নীতিবাজ ডাক্তারের অপসারণের দাবিতে ৩য় দফাসুনামগঞ্জে দূর্নীতিবাজ ডাক্তারের অপসারণের দাবিতে ৩য় দফা কর্মসূচি পালিত

    সুনামগঞ্জে দূর্নীতিবাজ ডাক্তারের অপসারণের দাবিতে ৩য় দফাসুনামগঞ্জে দূর্নীতিবাজ ডাক্তারের অপসারণের দাবিতে ৩য় দফা কর্মসূচি পালিত

    সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
    সুনামগঞ্জ জেলা ২৫০শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মীদের ১দিনের নোটিশে চাকরিচূত করায় দূর্নীতিবাজ তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের স্বপনের অপসারণের দাবীতে এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের কর্মস্হলে বহাল রাখার দাবী জানিয়ে ৩য় দফায় কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
    ১৯শে আগষ্ট হতে ঐ সমস্ত কর্মীরা সদর হাসপাতালের সামনে প্রতিদিন তাদের দাবি আদায়ের জন্য দফায় দফায় শান্তিপ্রিয় ভাবে আন্দলন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। টানা তিন দিন ধরে তাদের কর্মসূচিতে সান্তনা দিতেও দেখা যায়নি কোন কর্তৃপক্ষকে? যার ফলে যতই দিন যাচ্ছে আউটসোর্সিং কর্মীদের আন্দোলন জুড়ালো ভাবে এগিয়ে চলছে । তারই ধারাবাহিকতায় ২১ আগষ্ট সকাল ১০ টায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আউটসোর্সিং কর্মীদের আয়োজনে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অবস্থান কর্মসূচিতে ভোক্তভোগী কর্মীরা বলেন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালের উপ-পরিচালক দূর্নীতিবাজ ডাঃ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে অপসারণ করে তাদের দাবী মেনে নিয়ে কর্মস্থলে কাজ করার সুযোগ করে দিবেন বর্তমান অন্তর্ভুর্তকালীণ সরকার এমনটি আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভোক্তভোগী কর্মীরা। অন্যথায় তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানান।
    অন‌্যদিকে কর্মীদের আন্দোলনের খবর পেয়ে তিন দিন যাবৎ হাসপাতালে দেখা মেলেনি ঐ অভিযুক্ত উপ-পরিচালকের।
    উল্লেখ্য যে দীর্ঘ বছর যাবত ৮তলা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে লোকবল সংকটের কারনে রোগীদের সেবা প্রদানের জন্য ঐ সমস্ত কর্মীদের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জেলা ও সকল উপজেলায় আয়া, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্ন কর্মী, নাইট গার্ডসহ লোকবল নিয়োগ করা হয়। এবং প্রতি বছর উপজেলার সকল হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ে কর্মীদের সেবাদানের অভিজ্ঞা বিবেচনা করে সিভিল সার্জন তাদের মেয়াদ বাড়িয়ে তাদের বহাল রাখার ব্যবস্থা করে দেন । শুধু সদর হাসপাতালটি সিভিল সার্জনের আন্ডারে না থাকায় টেন্ডার বাণিজ্যের ফায়দা লুটতে ৬৪ জন কর্মীদের ১দিনের নোটিশে চাকরিচূত করেন দূর্নীতিবাজ ডাঃ মোঃ মাহবুবুর রহমান এমনটি জানান কর্মীরা । এবং ঐ অভিযুক্ত উপ-পরিচালকের নিজ এলাকার এবং তার ব্যবসায়ী প্রাইভেট ক্লিনিকের রোগীদের দালাল লোকদের এনে হাসপাতালে নিয়োগ পত্র ছাড়াই মাস্টার রোলে চাকরি দিচ্ছেন এমন দৃশ্য ও ফুঠে উঠেছে হাসপাতালে। এদিকে আন্দোলনকারী ভোক্তভোগী কর্মীরা জানান তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা চেয়েছেন ঐ তত্ত্বাবধায়ক? তারা টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করায় তাদের চাকরিচূত করা হয়েছে? ঐ সমস্ত দূর্নীতিবাজ ডাক্তারের অপসারণের দাবী জানান তৃণমূল সাধারণ মানুষেরা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমানকে অপসারণ করে আউটসোর্সিং কর্মীদের কর্মস্হলে বহাল রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ভোক্তভোগী আউটসোর্সিংয়ের কর্মীরা।
    এব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ মাহবুবুর রহমান হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকায় এবং তার ব্যবহিত মোবাইল নাম্বারে কল দিযলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
    ।### কর্মসূচি পালিত
    সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
    সুনামগঞ্জ জেলা ২৫০শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মীদের ১দিনের নোটিশে চাকরিচূত করায় দূর্নীতিবাজ তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের স্বপনের অপসারণের দাবীতে এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের কর্মস্হলে বহাল রাখার দাবী জানিয়ে ৩য় দফায় কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
    ১৯শে আগষ্ট হতে ঐ সমস্ত কর্মীরা সদর হাসপাতালের সামনে প্রতিদিন তাদের দাবি আদায়ের জন্য দফায় দফায় শান্তিপ্রিয় ভাবে আন্দলন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। টানা তিন দিন ধরে তাদের কর্মসূচিতে সান্তনা দিতেও দেখা যায়নি কোন কর্তৃপক্ষকে? যার ফলে যতই দিন যাচ্ছে আউটসোর্সিং কর্মীদের আন্দোলন জুড়ালো ভাবে এগিয়ে চলছে । তারই ধারাবাহিকতায় ২১ আগষ্ট সকাল ১০ টায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আউটসোর্সিং কর্মীদের আয়োজনে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অবস্থান কর্মসূচিতে ভোক্তভোগী কর্মীরা বলেন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালের উপ-পরিচালক দূর্নীতিবাজ ডাঃ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে অপসারণ করে তাদের দাবী মেনে নিয়ে কর্মস্থলে কাজ করার সুযোগ করে দিবেন বর্তমান অন্তর্ভুর্তকালীণ সরকার এমনটি আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভোক্তভোগী কর্মীরা। অন্যথায় তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানান।
    অন‌্যদিকে কর্মীদের আন্দোলনের খবর পেয়ে তিন দিন যাবৎ হাসপাতালে দেখা মেলেনি ঐ অভিযুক্ত উপ-পরিচালকের।
    উল্লেখ্য যে দীর্ঘ বছর যাবত ৮তলা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে লোকবল সংকটের কারনে রোগীদের সেবা প্রদানের জন্য ঐ সমস্ত কর্মীদের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জেলা ও সকল উপজেলায় আয়া, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্ন কর্মী, নাইট গার্ডসহ লোকবল নিয়োগ করা হয়। এবং প্রতি বছর উপজেলার সকল হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ে কর্মীদের সেবাদানের অভিজ্ঞা বিবেচনা করে সিভিল সার্জন তাদের মেয়াদ বাড়িয়ে তাদের বহাল রাখার ব্যবস্থা করে দেন । শুধু সদর হাসপাতালটি সিভিল সার্জনের আন্ডারে না থাকায় টেন্ডার বাণিজ্যের ফায়দা লুটতে ৬৪ জন কর্মীদের ১দিনের নোটিশে চাকরিচূত করেন দূর্নীতিবাজ ডাঃ মোঃ মাহবুবুর রহমান এমনটি জানান কর্মীরা । এবং ঐ অভিযুক্ত উপ-পরিচালকের নিজ এলাকার এবং তার ব্যবসায়ী প্রাইভেট ক্লিনিকের রোগীদের দালাল লোকদের এনে হাসপাতালে নিয়োগ পত্র ছাড়াই মাস্টার রোলে চাকরি দিচ্ছেন এমন দৃশ্য ও ফুঠে উঠেছে হাসপাতালে। এদিকে আন্দোলনকারী ভোক্তভোগী কর্মীরা জানান তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা চেয়েছেন ঐ তত্ত্বাবধায়ক? তারা টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করায় তাদের চাকরিচূত করা হয়েছে? ঐ সমস্ত দূর্নীতিবাজ ডাক্তারের অপসারণের দাবী জানান তৃণমূল সাধারণ মানুষেরা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমানকে অপসারণ করে আউটসোর্সিং কর্মীদের কর্মস্হলে বহাল রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ভোক্তভোগী আউটসোর্সিংয়ের কর্মীরা।

    এব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ মাহবুবুর রহমান হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকায় এবং তার ব্যবহিত মোবাইল নাম্বারে কল দিযলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
    ।###

  • সুন্দরবনের উপকূলীয় বাগেরহাটে বৃষ্টিতে আমন বীজতলা নষ্ট, বিপাকে কৃষকরা

    সুন্দরবনের উপকূলীয় বাগেরহাটে বৃষ্টিতে আমন বীজতলা নষ্ট, বিপাকে কৃষকরা

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির. বিশেষ প্রতিনিধি:বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের উপকূলীয় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টিতে প্লাবিত হয় বাগেরহাটের ৯ উপজেলার নিম্নাঞ্চল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে জেলার ৯ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। ভেসে যায় শত শত পুকুর-মৎস্য খামার। অবিরাম বৃষ্টিতে ফসলি জমি, বীজতলা, পানবরজসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। পানি নিষ্কাশনের পর দৃশ্যমান হতে থাকে ক্ষতির পরিমাণ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমনের বীজতলা। বীজতলা পচে ও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে দেখা দিয়েছে বীজ সংকট। বীজধান না পেলে অধিকাংশ জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চাষীরা। বাগেরহাটে বিভিন্ন উপজেলার এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, গেল আষাঢ় থেকে ২/৩ দফা বীজতলা করেও ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে ২/৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে থাকার কারণে বাঁচাতে পারেনি বীজতলা। বেশীর ভাগই পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। সবশেষে শ্রাবণের শেষের দিকে বীজ তলা করেও তা গত কয়েকদিন টানা বর্ষণ ও অতি জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় তাও বাঁচানো যাবে কিনা শঙ্কায় রয়েছেন কৃষক। এ দিকে আমন বীজতলা করার আর এখন সময়ও তেমন নেই এবং কৃষকের কাছে বীজতলা করার মত কোন বীজধানও নেই। এ কারণে এ বছর আমন বীজের (চাড়া) ভিষণ সংকট দেখা দিবে বলে মনে করেন অনেক কৃষক। এ সংকট মোকাবেলায় উচ্চ/চড়া দামে বীজ (ধানের চাড়া) কিনতে হবে কৃষককে। কিন্তু বীজ (ধানের চারা) কৃষক ফসল ফলিয়ে তেমন লাভবান হবেনা বলে মনে করেন কৃষকরা। মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, মোরেলগঞ্জ মোট ২৩ হাজার ৩৯৩ জন চাষীর মাধ্যমে এবার ৬০ হাজার ৪৩৯ হেক্টর আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্য নিয়ে বিআর-১১, বিআর-৫২ ও বিআর-২২ জাতের ধান চাষের জন্য ৩ হাজার ৩৫২ হেক্টর বীজতলা তৈরি করা হয়। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে সব বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। শুধু মোরেলগঞ্জ নয়, রামপাল, মোংলা, ও শরণখোলায় অধিকাংশ এলাকায় বীজতলা নষ্ট হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বীজ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারি সহায়তা দাবি করেন এসব এলাকার কৃষক।

    শরণখোলা উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, শরণখোলায় মোট ১১ হাজার ২৯০ জন চাষীর মাধ্যমে এবার ৯ হাজার ৪৩৯ হেক্টর আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্য নিয়ে বিআর-১১, বিআর-৫২ ও বিআর-২২ জাতের ধান চাষের জন্য ৭৩০ হেক্টর বীজতলা তৈরি করা হয়। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে সব বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। শুধু শরণখোলা নয়, রামপাল, মোংলা, মোরেলগঞ্জেরও অধিকাংশ এলাকায় বীজতলা নষ্ট হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বীজ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারি সহায়তা দাবি করেন এসব এলাকার কৃষক।

    শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজৈর গ্রামের চাষী মো. সাইয়েদ আলী জানান, তার ১০ কাঠা জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরির জন্য ডিলারের কাছে বীজধান কিনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো ডিলারের কাছে বীজধান পাইনি।

    সাউথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী গ্রামের আলম নামের এক কৃষক জানান, সম্প্রতি বৃষ্টির ফলে ২০ কেজি ধানের বীজতলা পানিতে ডুবে থাকায় পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এবার আর আমন চাষ করা সম্ভব নয়। নতুন ধান চাষাবাদের জন্য অনেক জায়গায় যোগাযোগ করেও বীজ সংগ্রহ করতে পারিনি।

    মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ফুলহাতা গ্রামের কৃষক মোস্তফা শেখ বলেন, ছয় বিঘা জমির বীজতলা সবই নষ্ট হয়ে গেছে।

    মোরেলগঞ্জ উপজেলার ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী বীজধানের ডিলার সুখদেব হালদার বলেন, সম্প্রতি বৃষ্টিতে বীজধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমাদের কাছে অনেক কৃষক এসেছেন। কিন্তু আমরা কাউকে বীজ দিতে পারছি না।

    সরকারি বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিএডিসির (বীজ) বাগেরহাট কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ৬০ টন বীজ বরাদ্দ ছিল। আমরা ৬০ টনেরও কিছু বেশি বীজ এ মৌসুমে কৃষকদের সরবরাহ করেছি। কিন্তু এখন নতুন করে আর বরাদ্দের সুযোগ নেই।

    বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শঙকর কুমার মজুমদারবলেন, ২৭জুলাই-৬আগস্ট পর্যন্ত ভারি বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে জেলায় ২ হাজার ৫৮৮ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। ##** ছবি সংযুক্ত আছে ** ## **

  • মোরেলগঞ্জে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে গণ-সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

    মোরেলগঞ্জে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে গণ-সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির.বিশেষ প্রতিনিধি:
    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান আন্দোলন পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারে পীর সাহেব চরমোনাই ঘোষিত ৯ দফা প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোরেলগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেলে মোরেলগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন কেন্দ্রীয় মডেল মসজিদ চত্ত্বরে এই গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোড়েলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা এইচ এম সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে,প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য (পীর সাহেব মোড়েলগঞ্জ) প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল মজিদ দাঃবা।এছাড়াও সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বাগেরহাট জেলা শাখার (সভাপতি) হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান,বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, মাওলানা ওমর ফারুক নূরী,জেলা শাখা সাংগঠনিক সম্পাদক,মুফতি শেখ নুরুজ্জামান, শরোনখোলা উপজেলা শাখা সভাপতি, মাস্টার রুহুল আমিন সরদার, মোরেলগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক, মাওলানা মোঃ আসাদুল্লাহসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর বাগেরহাট জেলা উপজেলার নেতৃবৃন্দরাও এতে বক্তব্য রাখেন।সমাবেশে প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন, অগনতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে দেশে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে।বৈষ্যমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ তাদের নেতাকর্মীরা সারা দেশে যত হত্যা খুন রাহাজানি করেছে সবগুলোর দ্রুত তদন্ত করে সব অপরাধীর বিচার করতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের ধৈর্যের সঙ্গে শান্ত থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এলাকার পরিবেশ ভালো রাখার জন্য ভূমিকা রাখতেও আহবান জানান।সেই সাথে কোনো মন্দির ও সংখ্যালঘুর বাড়িতে যেন কোনোভাবেই কেউ হামলা করতে না পারে সেদিকেও সর্তক থাকার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।

  • গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    মোঃ আনিসুর রহমান আগুন, গাইবান্ধা থেকেঃ
    গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ে এ উপলক্ষে রেলী, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক গোলাম আযমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক বাবুল আহমেদ, সাবেক সভাপতি মাজারুল ইসলাম, পৌর বিএনপির আহবায়ক (ভারঃ) ইখতিয়ার উদ্দিন নিপন ভূইয়া, সদস্য সচিব নিপু সরকার, পৌর বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনারুল ইসলাম মিলন,সদস্য সচিব আব্দুল গফ্ফার, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল প্রামাণিক,থানা সদস্য সচিব মতিউর রহমান, থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ, থানা ছাত্রদলের আহবায়ক রিয়াল মণ্ডল প্রমূখ। পরে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর একটি রেলি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদ্রাসার সভাপতির পদত্যাগ দাবি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদ্রাসার সভাপতির পদত্যাগ দাবি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রসমাজ নরেন্দ্রপুর দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদত্যাগ দাবি করেছে। মঙ্গলবার সকাল ১১.০০ মি. মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও এলাকার বৈষম্য বিরোধী ছাত্রসমাজ এক দফা দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ করে।
    বৈষম্য বিরোধী ছাত্রসমাজ নরেন্দ্রপুর দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: শাহজামান (বাবু) ও অন্যান্য সদস্যের অপসারণের দাবি জানিয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সভাপতির পদত্যাগ দাবি করেছে। তারা সকাল থেকেই ক্লাস বর্জন করে মাদ্রাসা মাঠে জমায়েত হতে থাকে। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো: আব্দুল্লাহ তাদের জমায়েতের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষার্থীরা সভাপতির পদত্যাগ দাবি করে। সুপার ও অন্যান্য শিক্ষকগণ ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে ফিরে যেতে বললেও তারা সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকে। শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার অফিস কক্ষের সামনে জমায়েত হয়ে সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করতে থাকে। শিক্ষার্থীরা দফা এক দাবি এক সভাপতির পদত্যাগ, ভুয়া-ভুয়া সভাপতি ভুয়া এমন শ্লোগান দিতে থাকে। শিক্ষার্থীদের এ যৌক্তিক দাবির সাথে সাবেক শিক্ষার্থীরাও একাত্ত্বতা ঘোষণা করে সভাপতির অপসারণ দাবি করেছে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্রসমাজ এক প্রতিবাদি মিছিল নিয়ে নরেন্দ্রপুর বাজার প্রদক্ষিণ করে শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জমায়েত হয়ে সভাপতির অপসারণের জন্য শ্লোগান দিতে থাকে। ইউপি অফিসে চেয়ারম্যান না থাকায় তারা এক বিক্ষোভ সমাবেশ করে শ্লোগান দিতে দিতে আবার মাদ্রাসায় ফিরে আসে।
    উল্লেখ্য, এ বছর ১ আগস্ট ২ বছরের জন্য নরেন্দ্রপুর দাখিল মাদ্রাসায় মো: শাহজামান (বাবু) ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এলাকার যোগ্য ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে মাদক সেবনকারী ও ইসলাম ধর্মজ্ঞানহীন মো: শাহজামানকে মাদ্রাসার মতো একটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর আগেও শাহজামান বাবু নরেন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও নরেন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন। দলীয় প্রভাব ও সাংসদের সহযোগিতায় তিনি সবসময় এলাকায় শক্তি খাটিয়ে বিভিন্ন পদ দখল করে থাকেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করেন এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে জড়িত। মাঝে মাঝে ঠিকাদারদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কোন স্লিপ ফান্ড বা কাজের অর্থ বরাদ্দ হলে সেখান থেকে সে চাাঁদা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়াও সে এলাকায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসার কক্ষে বখাটেদেও নিয়ে মাদকের আড্ডা বসায়।
    নরেন্দ্রপুর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্রসমাজের দাবি কোন মাদকাসক্ত এবং বেনামাজি ব্যক্তি মাদ্রাসায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবে না। তারা দ্রুত সভাপতির পদত্যাগ দাবি করেছে। মাদ্রাসার সুপার শিক্ষার্থীদের দাবি শুনেছেন এবং তা শিক্ষা অফিসে জানানোর ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে স্বাগত জানিয়ে আশ^স্ত করেছেন। শিক্ষার্থীরা বলেছে দ্রুত এ দাবি না মানলে তারা জেলা প্রশাসক বরাবর লং মার্চ কর্মসূচি পালন করবে।

    বার্তা প্রেরক: সেলিম রেজা।।

  • লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে ১৩ টি অবৈধ প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআই’র সার্ভিল্যান্স অভিযান

    লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে ১৩ টি অবৈধ প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআই’র সার্ভিল্যান্স অভিযান

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি
    লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে ১৩ টি অবৈধ প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআই’র সার্ভিল্যান্স অভিযান পরিচালনা এবং ০৩ টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা প্রদান প্রক্রিয়াধীন

    বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর এর উদ্যোগে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় একটি সার্ভিল্যান্স অভিযান পরিচালিত হয়। উক্ত অভিযানে-
    লাইসেন্স গ্রহণের জন্য ১ সপ্তাহ সময় প্রদান করা হয়েছে ঃ
    ১. নিউ মিতু আইসক্রিম, হাজি মার্কেট, বিসিক শি/ন, লালমনিরহাট – আইসক্রিম- ব্যবহৃত ঘনচিনি ও নিম্নমানের ফ্লেভার ধ্বংস করা হয়েছে।
    ২. আল-সাদ রেস্তোরা, মিশন মোড়, সদর, লালমনিরহাট – ফার্মেন্টেড মিল্ক ও মিষ্টি
    ৩. মেসার্স মদিনা ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি, বিসিক শি/ন, সদর, লালমনিরহাট – কেক
    ৪. মদিনা বেকারি এন্ড কনফেকশনারি, স্টেশন রোড, আদিতমারী, লালমনিরহাট – আজওয়া
    ৫. চাঁদ বেকারি, সাপ্টিবাড়ী, আদিতমারী, লালমনিরহাট- ব্রেড, বিস্কুট – নবায়ন
    ৬. বৈশাখী সুইটস এন্ড কনফেকশনারি, মিশন মোড়, সদর, লালমনিরহাট – দই, মিষ্টি
    ৭. চমক হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে, মিশন মোড়, সদর, লালমনিরহাট- দই, মিষ্টি
    ৮. শাহান অটো ফ্লাওয়ার মিল, সদর, লালমনিরহাট – বিল পরিশোধের তাগাদা
    ৯. নয়নমণি অটোমেটিক ফ্লাওয়ার মিল, রেল বাজার, সদর, লালমনিরহাট – নবায়ন
    ১০. মা আমেনা ফ্লাওয়ার মিল, বানিয়ার দিঘী, সাপটানা রোড, লালমনিরহাট – আটা, গমের ভূষি নবায়নের পরামর্শ
    যে সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা প্রদান করা হচ্ছে ঃ
    ১১. আঁখি স্টোর, রেল বাজার, সদর, লালমনিরহাট – প্রতিষ্ঠানটি বসুন্ধরা ব্রান্ডের নকল ভূষি সংরক্ষণ ও বিক্রয় বিতরণ করছেন
    ১২. রাফিয়া এন্টারপ্রাইজ, নামাটারী, তওশীলদার মোড়, সদর, লালমনিরহাট- দানব মশার কয়েল- প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে বিএসটিআই এর মানচিহ্ন ব্যবহার করে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অন্য প্রতিষ্ঠানের কয়েল নকল করে ঢাকা থেকে তৈরী করে এনে বিক্রয় বিতরণ করছে
    ১৩. আল-আকসা আইসক্রিম ফ্যাক্টরি, টাপুরচর, বুড়ির বাজার, হলোখানা, কুড়িগ্রাম-আইস ললি, ফার্মেন্টেড মিল্ক- প্রতিষ্ঠানটি একটি ছোট মাটির ঘরে নিম্নমানের পরিবেশ ক্ষতিকর কাঁচামাল ব্যবহার করে বিএসটিআই এর বাধতামূলক শিশুখাদ্য আইসললি ও দই উৎপাদন,সংরক্ষণ ও বিক্রয় বিতরণ করছে।

    উপপরিচালক (পদার্থ) ও বিভাগীয় অফিস প্রধান, রংপুর প্রকৌঃ মুবিন-উল-ইসলাম এর নেতৃত্বে উক্ত অভিযানটিতে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌঃ মোঃ জাহিদুর রহমান, সহকারী পরিচালক (সিএম) ও খন্দকার মোঃ জামিনুর রহমান, ফিল্ড অফিসার (সিএম) বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর।

  • তানোরে সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগ

    তানোরে সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগ

    আলিফ হোসেন,
    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর তানোর সরকারি একে
    সরকার কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন।
    গত সোমবার দুপুরে পদত্যাগ করেন অধ্যক্ষ। পদত্যাগের পর বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিলসহ উপজেলা পরিষদ যায়। এদিকে অধ্যক্ষের পদত্যাগের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা তার সময়ে করা
    নানা অনিয়ম দূর্নীতির তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।
    জানা গেছে, বিগত ২০২১ সালের জুন মাসে নীতিমালা লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রভাষক সাইদুর রহমানকে
    (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ করা হয়।
    এদিকে সাইদুর রহমান দায়িত্ব পাবার পরপরই আওয়ামী লীগ মতাদর্শী একশ্রেণীর শিক্ষকের যোগসাজশে
    কলেজে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বলায় তৈরি করেন। এছাড়াও রাজশাহী শহরে বসবাসরত ও স্থানীয় শিক্ষকদের মাঝে দেখা মতবিরোধ ও কাঁদা ছোঁড়া-ছুড়ি। অধ্যক্ষের অনুগত শহরে বসবাস করা অধিকাংশ শিক্ষক নিয়মিত কলেজে উপস্থিত না হয়েও সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। এতে কলেজে পাঠদান মুখ থুবড়ে পড়ে।
    অন্যদিকে স্থানীয় শিক্ষকদের নিয়মিত কলেজে উপস্থিত হতে চাপ দেয়া হতো বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
    এদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান আওয়ামী লীগ মতাদর্শী শিক্ষকদের যোগসাজশে অভিভাক ও শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে কলেজে ভর্তি ও ফরম পুরুনে ব্যবস্থাপনা-ফি ৫০ টাকার স্থলে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং ফরম পুরুণে ৮০০ থেকে হাজার টাকা করে বেশী নেয়া হয়।
    এছাড়াও একাডেমিক কাউন্সিল ফি ২০০ টাকা হলেও আদায় করা হয় ৩০০ টাকা। ওদিকে কলেজে কোনো শিক্ষক পরিষদ না থাকলেও (ভারপ্রাপ্ত)
    অধ্যাক্ষ মনগড়াভাবে নেকছার আলী নামের এক শিক্ষককে সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে তার মাধ্যমে যাবতীয় কাজ করেছেন। অবশেষে ১৯ আগষ্ট সোমবার বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান। এবিষয়ে জানতে চাইলে (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান জানান, ছাত্ররা সাদা কাগজে লিখে এনে আমাকে জোর করে পদত্যাগ করাতে বাধ্য করেন। তিনি বলেন, সব শিক্ষক অফিসে বসেছি, ইউএনও স্যারের কাছে সবাই মিলে যাব। অনিয়ম দূর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পদত্যাগ পত্র পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর যে নির্দেশনা দিবেন সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।#

  • নড়াইল জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা ও কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত

    নড়াইল জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা ও কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি

    নড়াইল জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা ও কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত।
    নড়াইল জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, সোমবার (১৯ আগষ্ট) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জুলাই/২০২৪ খ্রিঃ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব মোহাঃ মেহেদী হাসান, পুলিশ সুপার, নড়াইল । অপরাধ পর্যালোচনা সভার শুরুতে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও
    অপরাধ চিত্র তুলে ধরেন তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্), নড়াইল।
    অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুলিশ সুপার মামলা তদন্ত, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, ওয়ারেন্ট তামিল, গুরুত্বপূর্ণ মামলা সমূহের অগ্রগতি, মামলার রহস্য উদঘাটন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই সহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের গ্রেফতার, সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়সহ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
    ব্যাংক বীমাসহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জুয়েলার্স দোকানগুলোতে চুরি, ডাকাতি যেন না হয় সেজন্য রাতে টহল জোরদার করতে পুলিশ সুপার নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়া নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারের আয়ের একমাত্র অবলম্বন গরু, ছাগল যাতে চুরি না হয় সেজন্য চেকপোস্ট জোরদার করতে বলেন। রাত পর সন্দেহজনক লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ প্রদান করেন। সাধারণ জনগণ যাতে হয়রানি ছাড়াই তাৎক্ষণিক প্রত্যাশিত আইনি সেবা পায় তা নিশ্চিত করতে বলেন। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা, উঠান বৈঠক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজনসহ সর্বস্তরের মানুষের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রতিটি বিটে ভিলেজ ডিফেন্স পার্টি (ভিডিপি) গঠন করে রাতে পালাক্রমে টহল ডিউটি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রেখে জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সকলকে দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও সততার সাথে নিজ নিজ কর্তব্য পালনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের আস্থা অর্জনের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন।
    অপরাধ পর্যালোচনা সভায় জনাব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ); তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মোঃ দোলন মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল); কিশোর রায়, সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পুলিশ সুপার, সিআইডি, নড়াইল, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক, সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, জেলা বিশেষ শাখার পুলিশ পরিদর্শক, অপরাধ শাখার পুলিশ পরিদর্শক, গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, জেলার সকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্প ইনচার্জগণ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে
    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, নড়াইল জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত
    সোমবার (১৯ আগষ্ট) সকালে পুলিশ লাইনস্ ড্রিলশেডে আগস্ট/২০২৪ খ্রি: মাসের কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতেই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ০১ মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়। অতঃপর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। কল্যাণ সভায় বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, ক্যাম্প থেকে আগত বিভিন্ন পদমর্যাদার অফিসার ও ফোর্স এবং পুলিশ লাইনস্ এর অফিসার ও ফোর্স তাদের সামগ্রিক সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। পুলিশ সুপার তাদের উল্লেখিত সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারদের নির্দেশ প্রদান করেন। সকল পুলিশ সদস্যকে এক হয়ে জনগণ ও দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করে স্মার্ট পুলিশ গঠনে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে নিয়মমাফিক ছুটি, আবাসন ব্যবস্থা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা, মানসম্মত খাবারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি থানা, তদন্ত কেন্দ্র এবং পুলিশ ক্যাম্প সমূহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতি সপ্তাহে একদিন শনিবার “ক্লিনিং ডে” পালন করায় সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের নিয়মানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ, পিতা-মাতার প্রতি উত্তম আচরণ, নৈতিকতা, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন, অশোভন আচরণ পরিহার করা ইত্যাদি বিষয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
    পুলিশ সুপার মোহাঃ মেহেদী হাসান মহোদয় নড়াইল জেলা পুলিশের মনোবল বৃদ্ধি ও কর্তব্যকর্মে সচেষ্ট থাকতে ক্যাম্প, ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রে অফিসার-ফোর্সদের খেলাধুলার সামগ্রী(ক্যারাম বোর্ড, দাবা, লুডু এবং ফুটবল) প্রদান করেন।
    আগস্ট/২০২৪ মাসে পিআরএল গমনকারী পুলিশ সদস্য এএসআই (সশস্ত্র)/১৩ মোঃ আবু তালেব, এএসআই (সশস্ত্র)/১৪৩ মোঃ আব্দুর রহমান, কনস্টেবল/১৪৯ অসীম কুমার দাস, কনস্টেবল/২১৫ মোঃ জাফরুল ইসলাম, কনস্টেবল/১৪৪ মোঃ আমিনুর রহমান, কনস্টেবল/১৩৯ মোহাম্মদ তৈমুর ইসলাম, কনস্টেবল/১১২ চুনু মিয়া, কনস্টেবল/১২৬ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, কনস্টেবল/২৩০ মুহাম্মদ মাহফুজুল হক, কনস্টেবল/২৩১ এস এম এমদাদ হোসেন গণদের সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট ও পুরস্কার প্রদান করেন।
    জুলাই/২০২৪ মাসে নড়াইল জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ মামুনুর রহমান, শ্রেষ্ঠ এএসআই (নিঃ) মোঃ বাচ্চু শেখ, ট্রাফিক শাখার শ্রেষ্ঠ চৌকস অফিসার হিসেবে টিএসআই মোঃ জসিম রানা, শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার হিসেবে নড়াইল সদর থানার এসআই (নিঃ) মোঃ মেহেদী হাসান ও এএসআই নিঃ) মারুফ আহমেদ, নড়াগাতি থানার এএসআই (নিঃ) মোঃ ইকবাল হোসেন, জেলা গোয়েন্দা শাখার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার হিসেবে এসআই (নিঃ) মোঃ ফারুক হোসেন, এএসআই (নিঃ) মোঃ মাহফুজুর রহমান ও এএসআই (নিঃ) মোঃ আনিসুজ্জামানদের অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন। এছাড়া ১ বছরের ঊর্ধ্বে সাজা পরোয়ানা তামিলকারী অফিসার হিসেবে নড়াগাতি থানার এসআই (নিঃ) মোঃ খাইরুল আলম, লোহাগড়া থানার এসআই (নিঃ) আব্দুস শুকুর, এএসআই (নিঃ) সাকের আলী, এএসআই (নিঃ) মোঃ মিকাইল হোসেনদের আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন। নড়াগাতী থানা, জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সিসিআইসি টিমের যৌথ অভিযানে নড়াগাতি থানার ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধার সংক্রান্তে বিশেষ পুরস্কার হিসাবে উল্লিখিত টিমদের আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন। জেলা বিশেষ শাখার শ্রেষ্ঠ অফিসার এএসআই (নিঃ) মোঃ হাবিবুর রহমান ও ওয়াসার কনস্টেবল/২১৩ মোঃ তরিকুল ইসলামকে অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন। পুলিশ লাইনস্ নড়াইল কম্পাউন্ড এলাকার মধ্যে বিভিন্ন প্রকার গাছের ডালপালা কেটে অন্ধকারাচ্ছন্ন দূর করায় সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ পুলিশ পরিদর্শক (সশস্ত্র) মোঃ আলমগীর হোসেনকে অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন। ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, ঝিনাইদহে ৬ দিন মেয়াদী “গার্ড এন্ড স্কট” কোর্সে প্রথম স্থান অধিকার করায় নায়েক/২৫৬ বিশ্বজিৎ মন্ডলের হাতে অর্থ পুরস্কার তুলে দেন।
    পুলিশ সুপার এএসআই (নিঃ) হতে এসআই (নিঃ) পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হওয়ায়
    মোঃ জিয়াউর রহমানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন এবং তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
    এছাড়া ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে সহযোগিতা করায় পুলিশ সুপার মোহাঃ মেহেদী হাসান মহোদয় নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের জমির হোসেনকে শ্রেষ্ঠ গ্রাম পুলিশ হিসেবে ক্রেস্ট ও অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন।
    কল্যাণ সভায় মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত; তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্); মোঃ দোলন মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল); জনাব কিশোর রায়, সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল); সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, জেলা বিশেষ শাখার পুলিশ পরিদর্শক, ইন্সপেক্টর ক্রাইম, জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক, কোর্ট ইন্সপেক্টর, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, জেলার সকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্প ইনচার্জগণসহ পুলিশ লাইনসের অফিসার ও ফোর্স এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।