Category: দেশজুড়ে

  • বরগুনায় মধ্যরাতে ছাত্র আন্দোলনের দুই গ্রুপের শিক্ষার্থীদের  সংঘ*র্ষ

    বরগুনায় মধ্যরাতে ছাত্র আন্দোলনের দুই গ্রুপের শিক্ষার্থীদের সংঘ*র্ষ

    মংচিন থান বরগুনা প্রতিনিধি।।
    বরগুনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিনগত মধ্যরাতে বরগুনা পৌরশহরের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সদর রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    সমন্বয়কারীদের মধ্যে রেজাউল সমর্থকদের ওপর মীর নিলয় সমর্থকের শিক্ষার্থীরা হামলা করেছেন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহতরা হলেন- আরিফ, আশিক, মহিবুল্লাহ ও আবু হানিফ। তাদের মধ্যে আরিফের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের বরগুনায় আগমন উপলক্ষ্যে ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের একটি সভা আয়োজন করা হয়।

    এতে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের বরগুনায় আগমন কর্মসূচি বাতিল করা হলে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিগত সময়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।

    পরবর্তীতে উভয়পক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বের হয়ে বরগুনা পৌর শহরের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সদর রোড এলাকায় গেলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে আহতদের উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের মধ্যে মো. রেজাউল বলেন, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের আগমন উপলক্ষ্যে আমরা সবাই একত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একটি সভায় যোগ দেই।

    এ সময় গত ৪ আগস্টের কর্মসূচি বরগুনায় কী কারণে বন্ধ হয়েছিল তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা হলে মির নিলয়ের নাম উঠে আসে। তাতে নিলয় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে আমরা বের হয়ে সদর রোড এলাকায় গেলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। রাতে থানায় কোনো অভিযোগ না দিলেও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আজ থানায় অভিযোগ দেবেন বলেও জানান তিনি।

    অপরদিকে বরগুনার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের মধ্যে মীর নিলয় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই আমাদের ভূমিকা ছিল। বরগুনা শহরে ব্যবসায়ীদের খাজনা নিয়ে একটি সমস্যা চলছিল।

    এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে অনেক ব্যবসায়ীরাই কথা বলেছেন। তাদের সে সমস্যার সমাধানও হয়েছে। এতে ওরা (রেজাউল সমর্থকরা) আমাদের বলেন, আমরা বরগুনা বাজার থেকে অনেক টাকা পয়সা নিয়েছি।

    এ ছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরগুনায় দুটি গ্রুপ আছে। এর একটি গ্রুপ ৫ আগস্টের পর থেকেই আমাকে নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালায়। গতকাল কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের আগমন উপলক্ষ্যে তাদের সমন্বয়ে আরেকটি গ্রুপ খোলা হয়। সেখানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ব্যবসায়ীদের সংঙ্গে তোলা একটি সেলফি ওই গ্রুপে দিয়ে আমাদের দালাল বলে উল্লেখ করা হয়।

    পরে গতকাল রাতে আমরা একত্রে ছিলাম। এ সময় রেজাউল আমাদের নানা ধরনের উসকানিমূলক কথা বলেন। এতে উভয় পক্ষে তর্কবিতর্কসহ আমাকে একটি ধাক্কা দিলে উভয় পক্ষে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে আমি সবাইকে থামিয়ে ফিরে এসে ফেসবুকে দেখি, আমাদের মধ্যে মারামারি হয়েছে এবং তাদের কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি।

    বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ঘটনা ঘটেছে এতে রেজাউল একটি অভিযোগ দিবেন বলেছেন। তবে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ জানাননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মংচিন থান
    বরগুনা প্রতিনিধি

  • পীরগঞ্জ থেকে বন্যার্তদের জন্য সহায়তা পাঠালেন মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীরা

    পীরগঞ্জ থেকে বন্যার্তদের জন্য সহায়তা পাঠালেন মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীরা

    পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বন্যার্তদের জন্য প্রধান উপদেষ্টার ত্রান তহবিলে ১২ হাজার টাকা সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রমিজ আলমের মাধ্যমে এ টাকা পাঠিয়েছেন তারা। এ সময় মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারুল বেগম, পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদিন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক নসরতে খোদা রানা, সহকারি শিক্ষক রাজিউর রহমান রাজা সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • পীরগঞ্জে নিষিদ্ধ রিং জাল আটক

    পীরগঞ্জে নিষিদ্ধ রিং জাল আটক

    পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে প্রায় ২ হাজার ফুট মাছ ধরার নিষিদ্ধ চায়না রিং জাল উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা খালিদ মোশারফের নেতৃত্বে উপজেলার বৃদ্ধিগাঁও বিলে অভিযান পরিচালনা করে ঐসব অবৈধ রিং জাল আটক করা হয়।
    গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইসফাকুল করীরের উপস্থিতিতে এসব অবৈধ জাল পুড়ে ফেলা হয়।

  • পীরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের দূর্নীতির বিচার দাবীতে মানববন্ধন

    পীরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের দূর্নীতির বিচার দাবীতে মানববন্ধন

    পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবাদুল ইসলামের নারী কেলেংকারী, নিয়োগের নামে বানিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা ও নানা অনিয়ম-দ্যূনীতি বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও মিছিল সমাবেশ করেছেন ছাত্র-জনতা। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার লোহাগাড়া বাজারে এ কর্মসূচী পালন করেন তাঁরা।
    মানববন্ধন ও সমাবেশ চলাকালে বক্তব্য দেন, অভিভাবক রাকিবুল বারী শুভ, রাজু তালুকদার, রবিউল ইসলাম, ইমতিয়াজ আলম, রাসেল আল হাসান, প্রাক্তন শিক্ষার্থী শাহিন, শিক্ষার্থী রুপম প্রমূখ। অবিলম্বে প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবী করেন বক্তারা। অন্যাথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারী দেয়া হয় সমাবেশ থেকে। পরে লোহাগাড়া বাজারে মিছিল করেন তাঁরা। মিছিলে প্রধান শিক্ষকের নারী কেলেংকারী ও নানা অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়া হয়।
    এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এবাদুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।

  • কালীগঞ্জে ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

    কালীগঞ্জে ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কাঠালবাগান এলাকা থেকে ৪০ লাখ টাকা মুল্যের এক হাজার ১২ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব। গোপন সুত্রে খবর পেয়ে আজ বুধবার ভোরে এই বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার করা হয়। আটককৃত মাদক ব্যাবসায়ী বাদশা সোলায়মান কালীগঞ্জের কাঠালবাগান পাড়ার শাহাবুদ্দীনের ছেলে। বুধবার দুপুরে র‌্যাবের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মাদকের একটি বড় চালান দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর জন্য মজুদ করা হয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে কালীগঞ্জের কাঠালবাগান গ্রামে অভিযান চালায় র‌্যাব-৬। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও একটি গোডাউন থেকে উদ্ধার করা হয় এক হাজার ১২ বোতল ফেন্সিডিল, যার আনুমানিক মুল্য ৪০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে কালীগঞ্জ থানায় বুধবার দুপুরে মাদক আইনে মামলা করা হয়। আসামীকে কালীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।।

  • ঝিনাইদহে ইবির শিক্ষার্থী সাইফুল মামুন হ*ত্যা মামলায় ৯ পুলিশসহ ১৫ জন আসামী

    ঝিনাইদহে ইবির শিক্ষার্থী সাইফুল মামুন হ*ত্যা মামলায় ৯ পুলিশসহ ১৫ জন আসামী

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ইসলামী বিশ্বদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী শিবির নেতা সাইফুল ইসলাম মামুন হত্যার ৮ বছর পর মামলা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নিহত সাইফুলের পিতা ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মুচড়াপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমান বিশ্বাস বাদী হয়ে এই মামলা করেন। মামলায় ঝিনাইদহের সাবেক পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ ও সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার গোপিনাথ কাঞ্চিলালসহ ৯ পুলিশকে আসামী করা হয়েছে। এছাড়া আসামী হয়েছেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাসসহ ঝিনাইদহ ও শৈলকুপার ৫ নেতাকর্মী। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহন করার জন্য ঝিনাইদহ সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালের পহেল জুলাই ঝিনাইদহ শহরের পবহাটী গ্রামের টুলু মিয়ার বাড়ি থেকে সাদা পোশাকের লোকজন সাইফুল ইসলাম মামুনকে তুলে নিয়ে যায়। নিখোঁজ থাকার ১৭ দিন পর সদর উপজেলার আড়–য়াকান্দি গ্রামের মাঠে কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার কথা প্রচার করে পুলিশ। বাদী তার নালিশের বিবরণে উল্লেখ করেন, ১০ থেকে ১৫ নং আসামীগন আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী। তারা জনমনে ত্রাস সৃষ্টি ও শিবিরকে নিশ্চহ্ন করার জন্য শিবির নেতা সাইফুল ইসলাম মামুনকে পুলিশ দিয়ে প্রথমে অপহরণ ও পরে হত্যা করে। আসামীরা প্রভাবশালী ও পতিত সরকারের আজ্ঞাবহ হওয়ায় এতোদিন বাদী মামলা করতে সাহস পাননি বলে নালিশের বিবরণে উল্লেখ করেন। ঝিনাইদহের বিজ্ঞ আমালী সদর আদালতের বিচারক মামলাটি এজাহার হিসেবে গন্য করার জন্য ঝিনাইদহ সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বাদী লুৎফর রহমান বিশ্বাস বুধবার বিকালে নিশ্চিত করেন।

  • নড়াইলে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘ*র্ষে দুজন নিহত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

    নড়াইলে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘ*র্ষে দুজন নিহত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে নড়াইলে লোহাগড়া উপজেলার চর মল্লিকপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
    নিহতরা হলেন, চরমল্লিকপুর এলাকার সামাদ শেখের ছেলে মিরান শেখ (৪৮) ও জিয়া শেখ (৪০)। তারা আপন দুই ভাই। তবে আহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
    এলাকাবাসী জানায়, লোহাগড়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি মাহামুদ খান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সকালে মাহমুদ খানের অনুসারী লোকজন ফেরদৌস শেখের লোকজনের ওপর হামলা চালালে দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭ জন আহত হন। আহতদের লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিরান শেখ ও জিয়া শেখকে মৃত ঘোষণা করেন।
    লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুগ্রুপের সংঘর্ষে একই পরিবারের দুজন নিহত হয়েছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

  • নড়াইলে সাবেক এমপি মাশরাফী ও বাবা গোলাম মোর্ত্তজা স্বপনকে আসামী করে মামলা

    নড়াইলে সাবেক এমপি মাশরাফী ও বাবা গোলাম মোর্ত্তজা স্বপনকে আসামী করে মামলা

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে সাবেক এমপি ক্রিকেট তারকা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় মাশরাফীর পিতা গোলাম মোর্ত্তজা স্বপন, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ ৯০ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ৪০০-৫০০ জনকে। উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে নড়াইল সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ মোস্তফা আল-মুজাহিদুর রহমান পলাশ।
    মামলার অন্যান্য আসামীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, পৌরসভার প্যানেল মেয়র কাজী জহিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অচীন চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক মলয় কুন্ডু, জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গাউছুল আজম মাসুম, সাধারণ সম্পাদক খোকন কুমার সাহাসহ ৯০ জন।
    এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৪ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে আসামীরাসহ আরও অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রামদা, ছুরি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, শটগান, বন্দুক-পিস্তল, হাত বোমাসহ দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বেআইনি জোটবদ্ধ হয়ে নড়াইল চৌরাস্তায় সমাবেশ করে। ওই সময় মালিবাগ হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী তথা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার অভিভাবকসহ সাধারণ নিরীহ লোকজন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল সহকারে শহর অভিমুখে সেতুর পূর্ব পর্যন্ত পৌঁছালে আসামীরা তাদের শটগান দিয়ে গুলিবর্ষণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এসময় বোমার বিস্ফোরণ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে শান্তিকামী আন্দোলনকারীদের ওপর বেপরোয়াভাবে মারপিট ও কুপিয়ে জখম করে।

    মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সাইফুল ইসলাম জানান, ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর মামলার কাগজপত্র আদালতে প্রেরণ করা হবে।

  • ৬ ইউপি চেয়ারম্যান  আত্মগোপনে : সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত

    ৬ ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে : সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত

    জি এম স্বপ্না।।
    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
    সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার অন্তর্গত ইউপি চেয়ারম্যানগণ আত্মগোপনে থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে সেবা গ্রহীতারা।প্রয়োজনীয় জরুরি কাজে সেবা নিতে এসে চেয়ারম্যানদের না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছে ভুক্তভোগীরা।গণঅভ্যথানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পদত্যাগ হয়।এরপর ইউপি চেয়ারম্যানদের অপসারিত কার্যক্রম চলতে থাকে।আওয়ামী লীগের পদ পদবীতে অধিষ্ঠিত হয়ে নৌকার টিকিট নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।পরিষদের অন্যান্যদের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট পরিষদের অর্থ ও বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি,লুটপাট করায় হামলা-মামলার ভয়ে গত ৫ আগস্ট হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত পরিষদে অনুপস্থিত থেকে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।
    গা ঢাকা দেয়া অনেক চেয়ারম্যানের ফোন বন্ধ।২/১ জনের ফোন চালু থাকলেও সেবা নিতে আসা নাগরিকদের কল তারা রিসিভ করছেন না।ফলে জন্মনিবন্ধন,নাগরিক সনদ,ওয়ারিশীয়ান সনদ,মৃত্যু সনদ,বয়স্ক ভাতা,গর্ভবতী ভাতাসহ প্রয়োজনীয় কাজে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।পরিষদের ইউপি সদস্য (মেম্বর)রা জানান, ইউপি চেয়ারম্যানরা আত্মগোপনে থাকায় সরকারি নির্দেশ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট দফতরে প্যানেল চেয়ারম্যানদের পুন:গঠন তালিকা প্রেরণ করলেও অদ্যাবধি তাদের দায়িত্বভার/নির্দেশ না পাওয়ায় সুচারু ভাবে তারা পরিষদ পরিচালনা করতে পারছেন না। রামকৃঞপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর নায়েব আলী জানান,ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম হিরো আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা হয়ে কাউকে তোয়াক্কা না করে অনিয়ম, দুর্নীতি,প্রকল্পে লুটপাট সহ নানাবিধ অভিযোগে ইতিমধ্যেই তার বিরুত্ধে সকল মেম্বরগণ সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত ভাবে অনাস্থা করেন। কিন্ত রহস্যজনক কারনে এখনও তদন্ত হচ্ছে না। এমন দাবী করে সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের একাধীক মেম্বর জানান,আমাদের পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধেও অনাস্থা করলে আজ পর্যন্ত তার তদন্ত হচ্ছে না।
    ৮নং সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা জগজীবনপুর গ্রামের ভুক্তভোগী আ: মোমিন জানান,জমির খারিজ করতে ওয়ারিশীয়ান সনদ নিতে এসেছি। চেয়ারম্যান মোখলেছ ও সচিব বাসুদেব ঘোষ কাউকেই পাচ্ছি না। তাই সনদ না পেয়ে ফেরত যেতে হচ্ছে।একই কথা বললেন নাগরিক/চারিত্রিক সনদ নিতে আসা পুস্তিগাছা গ্রামের যুবক আবু তালেব।পরিষদে সেবা নিতে আসা বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান,চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান তালুকদার একমাস ধরে অনুপস্থিত।ভুক্তভোগী হচ্ছেন সেবা নিতে আসা ইউনিয়নের সাধারন মানুষ।তাই সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সকল সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের কাছে দ্রুত দাবী জানান ভুক্তভোগীরা।

  • নড়াইলে স্ত্রী হাতে স্বামী খুন, স্ত্রী গ্রেফতার

    নড়াইলে স্ত্রী হাতে স্বামী খুন, স্ত্রী গ্রেফতার

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইলের পল্লীতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী হাতে স্বামী খুন, স্ত্রী গ্রেফতার। মোঃ ইমরুল ইসলাম (৩৭), পিতা-মোঃ আব্দুল্লাহ গাজী, মাতা-রাজিয়া বেগম, সাং-শ্রীধরপুর, থানা-অভয়নগর, জেলা-যশোর এর আপন ছোট ভাই মোঃ শিমুল হোসেন গাজী (৩৪) অনুমান ৫ বছর পূর্বে বিধবা মোছাঃ পলি খাতুনকে বিবাহ করেন। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, মোছাঃ পলি খাতুন অনুমান ২ বছর পূর্বে হতে নড়াইল সদর থানাধীন কাইচদাহ গ্রামে জমি ক্রয় করে বাড়ী-ঘর তৈরী করে পলি খাতুনের ১ম স্বামীর দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়া বসবাস করতে থাকে। মোঃ শিমুল হোসেন বেশীরভাগ সময় তার ২য় স্ত্রী পলি খাতুনের বাড়ীতেই থাকত। মাঝে-মধ্যে শ্রীধরপুর গ্রামে তার নিজ বাড়ীতে এসে দুই একদিন থেকে আবারও ২য় স্ত্রী পলি খাতুনের কাছে চলে যেত। গত ৩১ আগস্ট/ বিকাল অনুমান ৪:টার সময় শিমুল হোসেন শ্রীধরপুরে তাদের বাড়ীতে আসে এবং সংসারের বাজারের জন্য ৫০০/- টাকা দিয়ে তিনি বাজার করার কথা বলে বাড়ী থেকে চলে যান। পরবর্তীতে গত ৬/৯/ সন্ধ্যা ৭:৩৯ মিনিটের সময় শিমুলের মোবাইলে তার ছেলে রায়হান (১৪) এর মোবাইল থেকে একটি মেসেজ আসে যে, তাকে কারা ধরে নিয়ে গেছে। কোথাও আটকে রেখেছে, তার মোবাইল ফোন ও টাকা কেড়ে নিয়েছে, সময় পেলে পরে কথা বলবে। উক্ত মেসেজ পাওয়ার পরে শিমুলের মোবাইল নম্বরে ফোন করলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে মোছাঃ পলি খাতুনকে মোঃ ইমরুল ইসলাম ফোন করে তার ভাই শিমুলের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান যে, গত (২ সেপ্টেম্বর) রাত্র অনুমান ১০ টার সময় শিমুল হোসেন তাকে মারধোর করে বাড়ী থেকে কোথাও চলে গেছে । এরপর থেকে তিনি আর কিছুই জানেন না।
    মোঃ ইমরুল ইসলাম তার ভাই শিমুলকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি গত ৭সেপ্টেম্বর যশোর জেলার অভয়নগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু বাদীর ভাইয়ের ২য় স্ত্রীর বাড়ী নড়াইল এবং তার ভাইও নড়াইলে বসবাস করায় অভয়নগর থানা পুলিশ তাদেরকে নড়াইল থানা পুলিশের সহায়তা নিতে বলেন। বাদীর ভাইয়ের মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় ও পলি খাতুনও কোন তথ্য দিতে না পারায় তিনি তার ভাই শিমুলকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করতে থাকেন। খোঁজাখুজির একপর্যায় সোমবার (৯/৯/) সকাল অনুমান ৯:৩০ মিনিটের সময় নড়াইল সদর থানাধীন কাইচদাহ সাকিনস্থ শিমুল হোসেনের ২য় স্ত্রী পলি খাতুনের বাড়ীতে এসে তার ভাই কোথায় আছে জানতে চাইলে পলি খাতুন তাদের উপর উত্তেজিত হয়ে যায়। একপর্যায় আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে গেলে তারা পার্শ্ববর্তী শেখহাটি পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানালে পুলিশ পলি খাতুনকে ফোন করে ক্যাম্পে ডাকেন। পলি খাতুন ক্যাম্পে আসলে পুলিশ তাকে বাদীর ভাইকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে এলোমেলো কথাবার্তা বলাতে সন্দেহ হয়। তখন পুলিশসহ বাদীপক্ষ পুনরায় পলি খাতুনের বাড়ীতে গিয়ে বাড়ী-ঘর সহ আশপাশে খোঁজাখুজি করাকালে আসামির বাড়ীর পশ্চিম পোতায় একচালা টিনশেড টিনের বেড়াযুক্ত ছাপড়া ঘরের মধ্যে একটি কাঠের চৌকির নিচে মাটি খোড়ার চিহ্ন ও মাটি একটু উঁচু দেখতে পায় । এছাড়া সেখানে সিমেন্টের বস্তায় বালু ভরে উপর করে রাখা দেখতে পায়। বিষয়টি তাদের কাছে সন্দেহের সৃষ্টি হলে শেখহাটি ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই/মোঃ শফিকুল ইসলাম পলি খাতুনকে গ্রেফতার করেন।
    নড়াইল জেলার নবাগত পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীর মহোদয়ের নির্দেশনায় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ দোলন মিয়া এবং নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ আসামি মোছাঃ পলি খাতুন (৩৬), পিতা-মোঃ নূর মোহাম্মদ মোল্যা, মাতা-ময়না খাতুন, স্বামী-মোঃ শিমুল হোসেন গাজী, সাং-কাইচদাহ, থানা ও জেলা-নড়াইলকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় তিনি তার স্বামীকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন।
    আসামি পলি খাতুনের দেখানো মতে তার ছাপড়ার মধ্যে গর্ত থেকে মাটি খুঁড়ে বাদীর ছোট ভাই শিমুলের অর্ধগলা-পঁচা লাশ উদ্ধার করা হয় । পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে মৃতদেহ নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। আসামি মোছাঃ পলি খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, গত (২/৯)তারিখ দিবাগত রাত্র অনুমান ১১:০০ টার সময় পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তার স্বামীকে ভাতের সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে খাওয়ায়। এতে তার স্বামী ঔষধ মেশানো ভাত খেয়ে অচেতন থাকা অবস্থায় ৩/ ৯/ রাত্র অনুমান ১:৩০ সময় থেকে ২:০০ সময়ের মধ্যে আসামি পলি খাতুন তার স্বামীকে পাজা কোলে করে ঘর থেকে তার বাড়ীর উঠানের উপরে শোয়াইয়ে সাদা রংয়ের লম্বা মোটা রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে উক্ত রশি গলায় প্যাঁচ দিয়ে টেনে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তার স্বামীকে খুন করে লাশ গুম করার জন্য তার বাড়ীর পশ্চিম পোতায় একচালা টিনশেড টিনের বেড়াযুক্ত ছাপড়া ঘরের মধ্যে মাটি খুঁড়ে লাশ পুতে রাখে ও সিমেন্টের বস্তায় বালু ভরে উপরে রাখে এবং তার উপরে কাঠের চৌকি দিয়ে লাশ গুম করে।
    আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আসামি দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন।