Category: দেশজুড়ে

  • কুমিল্লায় শিক্ষিকার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের  বিক্ষোভ মানববন্ধন

    কুমিল্লায় শিক্ষিকার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিক্ষোভ মানববন্ধন

    কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি :মোঃ তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা থেকে,
    এক দফা এক দাবি হারুনের বউ তুই কবে যাইবি এই স্লোগান নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লার ব্রাহ্মনপাড়ার চন্ডিপুর,অলুয়া,মনোহরপুরে।

    স্থানীয সূত্র থেকে জানা যায় স্থানীয় প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সহ বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের একাংশ। এসময় জনতার স্লোগান ছিল মূলতঃ প্রধান শিক্ষিকা আনোয়ারার বিরুদ্ধে। বিক্ষোভ কারীরা বলেন

    অযোগ্য অবৈধ প্রধান শিক্ষিকার পদত্যাগের দাবিতে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মনোহরপুর অলুয়া চন্ডিপুর রেজাউল হক উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানব বন্ধন করছেন।

    এসময় বিক্ষোভে অংশ গ্রহন করেন প্রান্তিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা, তারা তাদের স্লোগানে বলেন এক দফা এক দাবি হারুনের বউ তুই কবে যাইবি, অযোগ্য অবৈধ প্রধান শিক্ষিকার পদত্যাগের জন্য থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে মনোহরপুর অলুয়া চন্ডিপুর রেজাউল হক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসী প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায় ১৯ সেপ্টেম্বর ২৪ইং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ব্রাহ্মণ পাড়া উপজেলার মনোহরপুর অলুয়া চন্ডিপুর রেজাউল হক উচ্চ বিদ্যালয়টির মাঠে সহস্রাধিক প্রান্তক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। বেলা২টা পর্যন্ত এ প্রতিবেদন লেখার সময় বিক্ষোভ চলছিল। এসময় কিছু মেয়ে শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষিকার পক্ষে স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে,এতে দু পক্ষ দন্দ সৃষ্টি হয়,এক পর্যায় বিদ্যালয় কতৃপক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় বিদ্যালয় অনিদিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার

    দুপুরে উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সহস্রাধিক সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছেন। কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানব বন্ধন করছেন ।
    এ সময় স্কুলটির ক্লাস বন্ধ করে দিয়ে বর্তমান শিক্ষার্থীদেরও বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা যায়।স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মদ আনোয়ার (হারুন) অপসারণের দাবিতে প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রী এলাকাবাসীর মানববন্ধন করে।

    এ বিষয় জানতে চাইলে আবদু রব নামে চন্ডিপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা বলেন
    এক ধরনের পোলাপাইন আছে স্কুলের নাম হতে হবে মনোহরপুর অলুয়া চনডিপুর রেজাউল হক উচ্চ বিদ্যালয় যাহা বিগত বছরগুলোতে এভাবেই ছিলো ।
    মানব বন্ধনে এলাকাবাসী ও প্রাক্তন ছাত্ররা বক্তব্যে বলেন
    প্রতিষ্ঠাতা হারুনুর রশীদ ভুইয়া স্কুলের নীতিমালা অমান্য করে নিজের মনগড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেছেন।
    প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাথে কয়েক বার কথা বলে ও নাম সংশোধন করার ব্যাপারে কোন আশ্বাস পাওয়া যায়নি,
    যার কারনে আজকের এই মানব বন্ধন।

    মানব বন্ধনে প্রধান শিক্ষিকা বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ তুলে বলেন এবং আগেও ক্লিনার নিয়োগে বড় অংকের ঘোষ বানিজ্য করেন অভিযোগ তুলে স্থানীয় জনগন প্রতিষ্ঠাতা হারুনুর রশিদ ভুইয়া ।
    বক্তব্যে আরো বলেন প্রতিষ্ঠাতা নিজের সহধর্মিণী কে ও অনিয়ম করে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন।

    কমিটির কিছু সদস্যকে এ ব্যাপারে জিগ্যাস করা হলে কমিটির সদস্যগণ বলেন নাম পরিবর্তন করার ব্যাপারে আমাদের কমিটির কাউকে অবগত করা হয়নি, স্কুল কমিটির মিটিং এ বিষয়ে বসলে বিস্তারিত জানতে পারব বলে আমাদের জানান।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্ররা বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক মিলে অনেক ষড়যন্ত্র করেছেন। তাঁরা দুজনে মিলে স্কুলের সহকারী শিক্ষক যাঁরা আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন, সেসব শিক্ষক ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হুমকি–ধমকি দিতেন। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষক আনোয়ারা মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রিসিভ করেনি এবং বিদ্যালয়েও আসেননি,স্থানীয় অভিভাবকরা ও শিক্ষার্থীদের দাবি প্রধান শিক্ষক কে অপসারণ করে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক।

  • রাজশাহী সিটি মেয়র লিটনের দেড়শ কোটি টাকার আয়েশি দুই প্রকল্প বাতিল

    রাজশাহী সিটি মেয়র লিটনের দেড়শ কোটি টাকার আয়েশি দুই প্রকল্প বাতিল

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ‘আয়েশি প্রকল্পগুলো’ বাতিল করা হয়েছে।

    জনবান্ধব না হওয়ায় এগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে নিজের বাবার সমাধি কমপ্লেক্স ও আন্ডারপাস নির্মাণ এ দুটি প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় দেড়শ কোটি টাকা। প্রকল্প দুটি বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া তার ‘স্বপ্নের স্যাটেলাইন টাউন’ প্রকল্পও আর এগোচ্ছে না। সিটি করপোরেশনের প্রকল্প পর্যালোচনা কমিটি এই তিন প্রকল্পকে জনগুরুত্বপূর্ণ নয় বলে মত দিয়েছে। এরপর এগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

    রাসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধিসৌধ নির্মাণ প্রকল্প’-এর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দাখিল করেছিল সিটি করপোরেশন। গত ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এটি অনুমোদন দেন। এরপর ১৬ মার্চ অনুমোদন সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয়। মহানগরীর কাদিরগঞ্জে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধিস্থানে প্রকল্পটি হওয়ার কথা ছিল। এর আওতায় সৌধ নির্মাণ, সমাধি কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক ভবন, লাইব্রেরি, অভ্যন্তরীণ নর্দমা, আলোকায়ন, সীমানা প্রাচীর, ভূমি উন্নয়ন, প্রবেশ গেট, ওয়াকওয়ে, জলাশয়ের প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর, ল্যান্ড স্কেপিং নির্মাণ এবং ভূমি ও কাঠামোর ক্ষতিপূরণ খরচ ধরা হয়েছিল। প্রকল্পে গ্রেটার রোড হতে কামারুজ্জামানের

    সমাধি পর্যন্ত ৩৫ মিটারের সড়ক নির্মাণেরও কথা ছিল। মেয়াদকাল ধরা হয়েছিল চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে প্রকল্প পর্যালোচনায় ধরা পড়েছে এটি জনবান্ধব বা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

    লিটনের আরেকটি আয়েশী প্রকল্প ছিল ভদ্রা রেলক্রসিং ফ্লাইওভার। কিন্তু পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সম্মতি না পাওয়ায় রেললাইনের ওপর দিয়ে এ প্রকল্প থেকে সরে আসেন তিনি। পরে একই রুটে আন্ডারপাস প্রকল্প নেন তিনি। তার স্বপ্নের ৫২০ মিটার দৈর্ঘ্যরে এই আন্ডারপাস নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১১৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। প্রকল্প পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এই প্রকল্পের আপাতত প্রয়োজন নেই। তাই এটিও বাতিল করা হয়েছে।

    এ ছাড়া বাণিজ্যিক প্লট বিক্রির ব্যবসাতেও সিটি করপোরেশনকে নামিয়েছিলেন সাবেক মেয়র লিটন। নগরীর চকপাড়া এলাকায় প্রায় ৫০০ বিঘা জমির ওপর ‘স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন প্রকল্প’র জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন মন্ত্রণালয়ে। একই সঙ্গে দাগ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসককে চিঠিও দেওয়া হয়। যাতে অনুমতি ছাড়া কেউ প্রকল্প এলাকার জমি কেনাবেচা করতে না পারেন। একইভাবে ওই এলাকায় কোনো স্থাপনা নির্মাণে ছাড়পত্র না দিতে আরডিএকে চিঠি দেন। প্রকল্প পর্যালোচনায় প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটিও বাতিল করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি সাধারণ সভা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। পরে কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হয়। যাতে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো সচল থাকে। সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে যেসব প্রকল্প জনগুরুত্বপূর্ণ নয়, সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই নাগরিকসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে।

    এদিকে ২০০৯ সালে রাসিকের আওতায় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে নগরীতে আট থেকে ১৬ তলা উচ্চতার চারটি বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হয়। এর মধ্যে একটি ভবন বাণিজ্যিক-কাম-আবাসিক। করপোরেশনের আয় বৃদ্ধির কথা বলে বাণিজ্যিক ভবন ব্যবসায় সিটি করপোরেশকে নামান লিটন। কিন্তু গত ১৫ বছরে এগুলো চালু হয়নি। পাওনাদাররাও বুঝে পাননি দোকানের স্পেস বা ফ্ল্যাট। নির্মাণাধীন ভবনগুলো হলো নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় ‘স্বপ্নচূড়া প্লাজা’, নিউ মার্কেট এলাকায় ‘দারুচিনি প্লাজা’, সাহেববাজার মুড়িপট্টিতে ‘বৈশাখী প্লাজা’ ও সোনাদীঘির মোড়ে ‘সিটি সেন্টার’। দারুচিনি প্লাজা নির্মাণ করছেন জহির এন্টারপ্রাইজের জহিরুল ইসলাম, স্বপ্নচূড়া প্লাজা করছেন ফরিদ প্রোপার্টিজের ফরিদ উদ্দিন, বৈশাখী প্লাজা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা শামসুজ্জামান আওয়াল এবং সিটি সেন্টার নির্মাণ করছেন বাগমারা আসনের তৎকালীন এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হকের এনা প্রপার্টিজ। দারুচিনি প্লাজায় ফ্ল্যাটের জন্য তখন অগ্রিম ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন শামসুল আলম নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ। বহু দোকান ও ফ্ল্যাট প্রত্যাশীরা টাকা দিয়ে আর ফেরত পাননি। গত ১৫ বছরে এদের অনেকে মারাও গেছেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাসিকের এক প্রকৌশলী জানান, নিয়মানুযায়ী ভবন নির্মাণকাজ শেষের পর দুপক্ষের মধ্যে (রাসিক ও ঠিকাদার) অংশ বণ্টনের কথা। কিন্তু ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগেভাগেই জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে। যেহেতু সিটি করপোরেশনের এখানে কোনো অর্থায়ন নেই, তাই এ নিয়ে আপত্তি করা হয়নি। কাজ শেষের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার চিঠি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারা শেষ করতে পারছে না। অবশ্য ভবনগুলোতে কিছু কিছু দোকান চালু হয়েছে।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • শিক্ষার্থীরা আপনার সন্তানের মতো – জেলা প্রশাসক

    শিক্ষার্থীরা আপনার সন্তানের মতো – জেলা প্রশাসক

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    শিক্ষার্থীরা আপনার সন্তানের মতো তাদেরকে আপনার সন্তানের মতোই শিক্ষা প্রদান করতে হবে। শিক্ষকরাই পারে একজন মানুষকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। ঝালকাঠির নলছিটিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন নবাগত ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান।

    বৃহস্পতিবার( ১৯ সেপ্টেম্বর) ০১ টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলার সকল কর্মকর্তা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তূলনামূলক কম। আপনাদের এইদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষার্থীরা কেনো বিদ্যালয়ে আসতে চাচ্ছে না তার কারণ নির্নয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে আপনাদের সার্বিক সহায়তা প্রদানে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

    এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো.রুহুল আমিন,নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী । উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার সমাপ্তি রায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শিউলি পারভীন, কৃষি কর্মকর্তা সানজিদ আরা শাওন প্রমুখ ।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নলছিটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শিরিন আক্তার।

  • দেড় যুগ পর প্রকাশ্যে শিবিরের কর্মী সমাবেশ পঞ্চগড়ে 

    দেড় যুগ পর প্রকাশ্যে শিবিরের কর্মী সমাবেশ পঞ্চগড়ে 

    মোহাম্মদ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় :

    পঞ্চগড়ে দীর্ঘ দেড়যুগ পর প্রকাশ্যে কর্মী সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে সাত শতাধিক কর্মী নিয়ে এই সমাবেশ করে ছাত্র সংগঠনটি।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম। বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদ সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় কর্মমুখী ও নৈতিকতার মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষা বাদ দিয়ে ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে ওঠে পড়ে লেগেছিলো। যেই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চাকরির জন্য আরো ৫-৭ বছর পড়াশোনা করতে হয়, এটা কর্মমুখী শিক্ষা নয়। এই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, বুয়েট ক্যাম্পাসে আবরার ফাহাদের মত মেধাবী ছাত্রকে পিটিয়ে জখম করে হত্যা করা হয়েছে। এই সন্ত্রাস কারা এবং কোন আদর্শ থেকে তৈরি হয়েছে? ইসলাম বাস্তবায়ন হলে এই সমাজ থেকে এসব সন্ত্রাস, গুম, খুন, ধর্ষণ দুর হয়ে যাবে। বিগত সরকার এটা কখনোই চায়নি। কারণ তাদের রাজনীতিই এমন।

    তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক দিক থেকে এ দেশের কিছু প্রতিকূলতা রয়েছে। আমাদের চারদিকে ভারত, মাঝে মাঝে তারা হুমকি দেয় দখলে নেবে। আমরা ১৯৪৭ সালের ভারতবর্ষের ইতিহাস জানি। যতগুলো দেশে স্বাধীনতা চেয়েছিলো ভারত তাদের পরাধীন করে রেখেছিলো। বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে ভাগ না হয়ে ভারতের সঙ্গে থাকলে কখনই স্বাধীন হতোনা। হায়দ্রাবাদ মুসলমানদের নগরী ছিলো, এই হায়দ্রাবাদকে ভারত মাত্র একবছরের ব্যবধানে কেড়ে নিয়েছিলো। তারা সিকিমকে দখল করে নিয়েছে, কাশ্মীরে মুসলমানদেরকে অবর্ননীয় নির্যাতন করে দখলে নিয়েছে। ভারতের কাছ থেকে আমাদের গণতন্ত্র শেখার দরকার নাই, আমরা নিজেরাই অনেক সুন্দর একটি সম্প্রীতির দেশ গড়তে পারবো।

    তিনি আরো বলেন, বিগত পুতুল সরকার ভারতের মদদপুষ্ট হয়ে টানা ১৫ বছর ধরে এ দেশের অগ্রগতিকে নানাভাবে বাধাগ্রস্থ করেছে। ভারত আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা দেয়নি। তাদের প্রয়োজনে বাধ দিয়েছে। কিছুদিন আগেও বাধ ছেড়ে দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় কৃত্রিম বণ্যা সৃষ্টি করেছে। ভারত তাদের স্বার্থে সব করতে পারে। এই সরকারের মাধ্যমে ভারত আমাদের ওপর দাসত্বের গোলামী আবার চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলে। আমাদের দাস শ্রেণিতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো। আজকে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে সেই স্বৈরশাসক দেশ ছেড়েছে।

    ছাত্রশিবিরের পঞ্চগড় জেলা সভাপতি জুলফিকার রহমানের সভাপতিত্বে কর্মী সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- শিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক অহিদুল ইসলাম আকিক, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, জেলা জামায়াতের বাইতুলমাল সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি জয়নাল আবেদীন, তোফায়েল প্রধান, নূর-ই-আলম সালেহী, বেলাল হোসেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির নেতা ব্যারিষ্টার মাহমুদ আল মামুন হিমু প্রমূখ।

    উল্লেখ্য, পঞ্চগড়ে সর্বশেষ ২০০৬ সালে ইসলামী ছাত্রশিবির প্রকাশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিলো।

  • মোরেলগঞ্জে দুর্নীতির অভিযোগ ও ফ্যাসীবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদত্যাগের  দাবিতে  মানববন্ধন

    মোরেলগঞ্জে দুর্নীতির অভিযোগ ও ফ্যাসীবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির বিশেষ প্রতিনিধি:

    বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডাঃ শর্মী রায়ের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত ও দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী শতাধিক সেচ্ছাসেবকবৃন্দ। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।ভুক্তভোগী কর্মচারীবৃন্দ এবং করোনাকালীন সময়ে নিয়োজিত সেচ্ছেসবক সহ স্থানীয়রা এই মানববন্ধনে অংশ নেয়। এ সময়ের মানববন্ধন কর্মসূচি অংশগ্রহণকারীরা ডাঃ শর্মী রায়ের পদত্যাগ ও করোনাকালীন সময়ে তাদের নায্য প্রাপ্র্যতা ফিরিয়ে দিতে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর দাবি জানান। মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থানরত মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী ডাঃ শর্মী রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে হাতে ব্যানার নিয়ে অংশ নিতে দেখা যায়। ভুক্তভোগী সেচ্ছাসেবকদের দাবি ডাঃ শর্মী রায়ের পদত্যাগ এবং তাকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর উল্লেখ করে ব্যানের তার ছবি এবং হাসপাতালের সরকারি ঔষধ গরীবদের না দিয়ে হাসপাতালে রেখে মেয়াদউর্তীন করা,নৌ এম্বুলেন্স সংস্কার বাবদ অর্থ আত্মসাৎ সহ নানাবিধ বিষয়ে অভিযোগ এনে ডাঃ শর্মী রায়ের পদত্যাগ দাবি করেন ।
    এ ব্যাপারে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা বলেন, করোনাকালীন সময়ে সেচ্ছাসেবকদের তালিকা আমি পাই নি,আমি এখানে এসে যে তালিকা পেয়েছি সেটা দেখে টাকা বিতরণ করেছি।

  • মুরাদনগর সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জয়নাল মোল্লার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার প্রতিবাদে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

    মুরাদনগর সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জয়নাল মোল্লার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার প্রতিবাদে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

    কুমিল্লা থেকে মোঃতরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা র মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা থানাধীন ৫ নং পূর্ব দৈইর পশ্চিম ইউনিয়নের হাঠাশ গ্রামের মিথিল দেবনাথের মেয়ে শান্তা দেবনাথ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পতিপক্ষ মুরাদনগর উপজেলার সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জয়নাল মোল্লার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার প্রতিবাদে ইউনিয়ন ছাত্র বিক্ষোভ মিছিল ও মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী গিয়াস উদ্দিন ভুঁইয়া, সাবেক চেয়ারম্যান কাজী ময়নাল হোসেন বাঙ্গরা বাজার উমলোচন উচ্চ বিদ্যালয়ের চারবারের সদস্য মোঃ গোলাম মোস্তফা, হরিদন দেবনাথ, বিপ্লব চক্রবর্তী,বলাই দেবনাথ, দুলাল দেবনাথ, মাজেদুল মেম্বার, বশির আহমেদ, ছামছুল হক,নোভেল ভুইয়া,হেলাল হোসেন,মোক্তার হোসেন,নজরুল মেম্বার, মনির সরকার , চন্দন দেবনাথ, বায়েজিদ খন্দকার, সাগর সরকার, আমীর হানজালা,কাদির ভুইয়াসহ ছাত্র জনতা।এসময় বিক্ষোভ কারীরা মানব বন্ধন শেষে হাঠাশ গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে বাজারে এসে শেষ হয়। বক্তব্য হিন্দু সমাজ বাদী শান্তা দেবনাথের বিচার দাবি করে বলেন এই মহিলা নষ্টা তার ঘরে অনৈতিক কাজ করে মানুষ কে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে,অতীতেও সে এরকম করে মানুষ কে হয়রানি করে।তার আপন চাচা হরিদন দেবনাথ বলেন আমরা তার সাথে পারি না,প্রশসনের কাছে বিচার চাই, জয়নাল মোল্লা নির্দোষ,তাকে রাজনৈতিক ভাবে হ্যায় পতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা মামলা সাজিয়ে হয়রানি করছে।

  • নলছিটিতে ১৮-২৪ সালের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    নলছিটিতে ১৮-২৪ সালের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ২০১৮ থেকে ২০২৪ সন পর্যন্ত অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক বৃন্দের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ ঘটিকার সময় নলছিটি ডিগ্রি কলেজ অডিটোরিয়ামে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর, নলছিটি।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। নলছিটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব শিরিন আক্তার।

    অনুষ্ঠানে উপজেলা শিক্ষা অফিসার শিরিন আক্তার ও বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক / শিক্ষিকা এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বক্তব্য রাখেন।

    এসময়ে উপস্থিত ছিলেন নলছিটি উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অবসারপ্রাপ্ত শিক্ষকগন।

    অনুষ্ঠান শেষে সকল বিদায়ী শিক্ষক ও শিক্ষিকার হাতে বিদায়ী সম্মাননা স্মারক তুলে দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব শিরিন আক্তার।

  • সুজানগর থানায় নতুন ওসির যোগদান

    সুজানগর থানায় নতুন ওসির যোগদান

    এম এ আলিম রিপন : সুজানগর থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে সাকিউল আযম যোগদান করেছেন। পাবনার পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খাঁন কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক আদেশে সুজানগর থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে সাকিউল আযমকে পদায়ন করা হলে তিনি সাবেক ওসি জালাল উদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে গত সোমবার সুজানগর থানার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।থানায় যোগদানের পর নবাগত ওসি সাকিউল আযম সুজানগর কে একটি আদর্শ ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জানান, আমার সর্বপ্রথম কাজ হবে সাধারণ জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করা।এছাড়া পুলিশি সেবা ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি মাদক, জুয়া, বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং প্রতিরোধে সকলের সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • ধামইরহাটে নার্সিং কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনিক পদে উচ্চ শিক্ষিত ও দক্ষ নার্সদের পদায়নের দাবিতে র‍্যালী ও মানববন্ধন

    ধামইরহাটে নার্সিং কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনিক পদে উচ্চ শিক্ষিত ও দক্ষ নার্সদের পদায়নের দাবিতে র‍্যালী ও মানববন্ধন

    ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং সংস্কার পরিষদের আয়োজনে নার্সদের র‍্যালী ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক এবং বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও রেজিস্টার পদ হতে প্রশাসনের ক্যাডারদের অপসারণ-পূর্বক উক্ত পদগুলোতে উচ্চ শিক্ষিত, দক্ষ ও অভিজ্ঞ নার্সদের পদায়নের দাবিতে “Stay for One Point Demand” বিষয়ে র‍্যালী ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুর ১২ টায় র‍্যালী শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে নওগাঁ জেলা নার্সিং সংস্কার পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স বিউটি বেগম নার্সদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন। এবং তিনি বলেন “আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাব। ”

    আবুল বয়ান
    ধামইরহাট, নওগাঁ প্রতিনিধি

  • পরিবেশের বিপর্যয় রোধে পলিথিন নিষিদ্ধ বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ

    পরিবেশের বিপর্যয় রোধে পলিথিন নিষিদ্ধ বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ

    মোঃ হায়দার আলীঃ ব্যাপক হারে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত বিপর্যয় সম্পর্কে এখন আর কারো দ্বিমত নেই। দেশের পরিবেশ বিজ্ঞানী ও পরিবেশ আন্দোলন কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবী এবং ঢাকা শহরের চারপাশের নদ-নদী দূষণ, সামান্য বৃষ্টিতে পানিবদ্ধতা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার মত বাস্তব সংকটের প্রেক্ষাপটে বিগত সরকার আইন করে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও আইনের বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার কারণে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বেড়ে চলেছে। বর্তমান সরকার আগামী ১ অক্টোবর থেকে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেতে যাচ্ছে। এটা একটি সময় উপযোগী, বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ। এর জন্য প্রশাংসা পাচ্ছেন বর্তমান সরকার।

    আমাদের নাগরিক জীবনে পলিথিন ব্যাগ যেমন একটি অনিবার্য বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, পাশাপাশি পলিথিন ব্যাগের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ ও প্রতিবেশগত প্রতিক্রিয়া আমাদের নগরব্যবস্থাকে একটি অনিবার্য বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আশির দশক থেকেই দেশের পরিবেশবাদীরা অপচনশীল এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সৃষ্টিকারী পণ্য হিসেবে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কাছে জোর দাবী জানিয়ে আসছিল। বিশেষত ১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর ঢাকা শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার জন্য কোটি কোটি পরিত্যক্ত পলিথিন ব্যাগের জমাটবদ্ধতাকে দায়ী করা হয়। সেই থেকে ঢাকার পানিবদ্ধতা, নদীদূষণসহ পরিবেশগত সংকট মোকাবেলায় পলিথিন ব্যাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে গণ্য হতে শুরু করে। শুধু ঢাকা শহরেই নয়, দেশের প্রতিটি বিভাগীয়, জেলাশহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পর্যন্ত পলিথিন ব্যাগের ব্যাপক ব্যবহার পানিদূষণ, মাটিদূষণসহ নানা ধরনের পরিবেশগত হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    বিগত চারদলীয় জোট সরকার ২০০২ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অবৈধভাবে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, আমদানী ও বিপণনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দন্ডে বিধান রেখে আইন পাস করা হয়। আর নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রদর্শন, সংরক্ষণ ও গুদামজাত করার অপরাধে ৬ মাসের কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ডের বিধান রাখা হয়। কঠোর আইন প্রণয়নের সাথে সাথে সে সময়ের পরিবেশমন্ত্রী নিজেও পলিথিন বিরোধী অভিযানে মাঠে নেমেছিলেন। একই সাথে পাটের ব্যাগ বাজারজাতকরণ এবং পলিথিন শিল্পের সাথে জড়িতদের পুনর্বাসনের ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি পলিথিনের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনার ফলে বেশ কয়েক বছর ধরে ঢাকা শহরে পলিথিনের ব্যবহার অনেকটা কমে এসেছিল। তবে এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে শুরু করে এবং ২০০৯ সালের মহাজোট সরকারের সময় থেকে পলিথিন বিরোধী পদক্ষেপ অকার্যকর হয়ে পড়তে শুরু করায় পতিত শেখ হাসিনা সরকার আমূলে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকার কারণে অব্যাহতভাবে এর ব্যবহার বাড়তে থাকে।

    নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব রাজধানীসহ পুরোদেশ। যত্রতত্র ব্যবহারের কারণে চাহিদা বেড়েছে, বেড়েছে উৎপাদনও। ঢাকার উৎপাদিত পলিথিন দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভারতেও পাচার হচ্ছে। পলিথিন ব্যাগ নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট এন্ড সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের তথ্য মতে, দেশে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ টন পলিথিন ব্যাগ উৎপাদিত হচ্ছে। বাস্তবে এর পরিমাণ আরও বেশি হবে। বিগত ১৫ বছরে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে, প্রশাসনের নাকের ডগায় দেদারছে পলিথিন উৎপাদন ও সরবরাহ করা হয়েছে।

    বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১ অক্টোবর থেকে শপিং মলগুলোতে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। প্রাথমিকভাবে সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে ধীরে ধীরে পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে আনলে চাহিদা কমে যাবে। তাতে উৎপাদনও হ্রাস পেতে বাধ্য। উল্লেখ্য, এর আগে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধের পর ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাজারে পলিথিন ব্যাগ ছিল না। তখন পলিথিনের পরিবর্তে পাটের ব্যাগের প্রচলন শুরু হয়। তাতে পাট শিল্পের অনেক উন্নতি হয়েছিল।
    উৎপাদন, বিপনন, ব্যবহার নিষিদ্ধ; অথচ সবার হাতে হাতে পলিথিন। নিত্যদিনের বাজার সদাই মানেই পলিথিনের ব্যবহার। নিষিদ্ধ পলিথিনে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটেছে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের পরিবেশের। ঢাকা শহর এখন বিশ্বের এক নম্বর বায়ূ দুষণের শহর। দোকানে আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখের সামনে পলিথিনের স্তুপ, আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতেও শোভা পায় পলিথিনের ব্যাগ: অথচ আইন করে সর্বনাশা পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক পলিথিন উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরও অবাধে চলছে পলিথিনের উৎপাদন ও বিপনন প্রক্রিয়া। দৈনন্দিন জীবনের সব কাছে চলছে পলিথিনের ব্যবহার। নিত্যদিনের বাজার সদাই থেকে শুরু করে এক টাকা দামের চকলেট হোক বা লাখ টাকার ফ্রিজ সব কিছুর সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে পলিথিন। এসব পলিথিন ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হচ্ছে। অপচনশীল পলিথিনে ভরাট হচ্ছে পয়োনিষ্কাশনের নালা-নর্দমা। আর তাতে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ধূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এ পলিথিন অপচনশীল হওয়ায় ফসলের জমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় কারণে আবাদী জমির হিউমাস নষ্ট করে উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপকহারে হ্রাস পাচ্ছে। পলিথিন নষ্ট করছে মাটির গুণাগুণ। পলিথিন বা প্লাস্টিক বর্জ্যে পুকুর বিল, নদী থেকে সাগরের পানি পর্যন্ত দূষিত হচ্ছে। ঢাকা এবং ঢাকার আশপাশে নিষিদ্ধ এই পলিথিনের উৎপাদন চলছে অনেকটা নির্বিঘ্নে। পুরান ঢাকার ইসলামবাগ, যাত্রাবাড়ি, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পলিথিন কারখানা আছে ভুরি ভুরি। মাঝে মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর বা বিভিন্ন সংস্থার ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালালেও ক’দিন যেতে না যেতেই আবার স্বাভাবিকভাবেই সেসব কারখানা আবার চালু হয়।

    সর্বনাশা এই পলিথিন বা প্লাস্টিক (একবার ব্যবহার যোগ্য) সামগ্রী এক বছরের মধ্যে বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি সম্প্রতি সর্বনাশা পলিথিনের ব্যবপক ব্যাবহারের ফলে পরিবেশের যে মারাত্মক দূষন হচ্ছে তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরিবেশের বিষ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধের লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের কার্যক্রম আরও জোরদার এবং প্লাস্টিক বর্জ্য আমদানি করে রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন করে রপ্তানির ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর সে আলোকে কাজ করছে। পলিথিন উৎপাদন ও বিপননের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান সারা দেশে অব্যাহত রয়েছে। অভিযানের পাশাপাশি এ বিষয়ে জনসচেতনা বৃদ্ধির কার্যক্রমও শুরু হচ্ছে।

    সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী আরো অবাক করা বিষয় হচ্ছে যে, রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৩৪৭টি কারখানায় এ নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরি হচ্ছে। এগুলোর সিংহভাগই পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দেশে প্রতিদিন যে পরিমাণ পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, অনেক দেশে তা ১০ মাসেও হয় না। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার দ্বিতীয় বারের মতো ১৭টি পণ্যের মোড়কে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন। এর পরেও বিভিন্ন সময় ধাপে ধাপে পলিথিনবিরোধী অভিযান ও নিষিদ্ধ পলিথিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিপুল পরিমাণ পলিথিন জব্দ করেন। পরিবেশ বিপন্নকারী সর্বনাশা পলিথিন ব্যবহার নিরসনকল্পে পলিথিনের ব্যবহার সীমিতকরণ, বিকল্প পাটজাত দ্রব্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি পলিথিনের ক্ষতিকর দিক থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এলাকার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কারখানার মেশিন প্রতি পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে মাসে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করছে তারা। অভিযোগ রয়েছে, মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পলিথিনবিরোধী যে অভিযান চালায় তাতে চাঁদা না দেয়ার বিষয়টি জড়িয়ে আছে। যেসব কারখানা চাঁদা দেয় না শুধু তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়। দেখা যাচ্ছে, পলিথিনের রমরমা কারবার চলছে পরিবেশ অধিদফতর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের যোগসাজসে।

    উন্নত বিশ্বের কোথাও এভাবে পলিথিন ব্যবহার করা হয় না। পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এ উপকরণ অনেক দেশেই নিষিদ্ধ। আমাদের দেশে আইন করে নিষিদ্ধ হলেও তা মানা হচ্ছে না। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই পলিথিনের শত শত কারখানা বহাল তবিয়তে রয়েছে। আইন অমান্যের এমন নজির কোথাও আছে কিনা তা আমাদের জানা নেই। পলিথিন এমনই এক উপকরণ যে, তা পচে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিথিনের তৈরি একটি ব্যাগ পচতে বা নিঃশেষ হতে ৪০০ বছর লাগবে। এই পলিথিন যেখানে পড়ে থাকে সেখানের মাটির উর্বরতা থাকে না। কোনো গাছপালা ও ফসল উৎপাদিত হয় না।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন এক রাজধানীতেই দেড় কোটি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করেই ফেলে দেয়া হয়। বড় বড় শপিং সেন্টার, মার্কেট, কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে পাড়ামহল্লার মুদি দোকান ও রেস্টুরেন্টে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ব্যাগ যত্রতত্র ফেলার ফলে তা নর্দমা ও ড্রেনে পড়ে পুরো ড্রেনেজ সিস্টেম অকেজো করে দিচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে, ভয়াবহ পানিবদ্ধতা। পলিথিন গিয়ে পড়ছে নদী-নালা, খাল-বিলে। এতে নদীদূষণের পাশাপাশি সাগরের পরিবেশ ও প্রতিবেশ দূষিত করছে। রাজধানীর প্রাণ হিসেবে খ্যাত বুড়িগঙ্গার দূষণ ও নাব্য হারানোর অন্যতম মূল কারণ এই পলিথিন। কয়েক বছর আগে নাব্য ফেরাতে ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নিয়েও তা সফল হয়নি শুধু পলিথিনের কারণে। তখন বলা হয়েছিল, বুড়িগঙ্গার তলদেশে প্রায় ছয় ফুট পলিথিনের স্তর রয়েছে। এই স্তর সরিয়ে ড্রেজিং করা সম্ভব নয়। ফলে ড্রেজিং অসমাপ্ত রয়ে যায়।

    শুধু বুড়িগঙ্গাই নয়, রাজধানীর চারপাশের নদী-নালা এবং জেলা শহরের আশপাশের নদ-নদী অচল হয়ে পড়ছে পলিথিনের কারণে। অক্ষয় এই উপকরণটি পুরো পরিবেশকে এক বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। হাটে-মাঠে, ঘাটে, পর্যটন কেন্দ্রসহ এমন কোনো স্থান নেই যেখানে পলিথিন পরিবেশ দূষণ করছে না। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, পরিবেশ অধিদফতরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জ্ঞাতসারে শত শত পলিথিন কারখানা গড়ে উঠলেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বরং এসব অবৈধ কারখানাকে কেন্দ্র করে একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বাণিজ্য এবং উদাসীনতার কারণে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে পলিথিন কারখানা। পলিথিন যে পরিবেশ দূষণ করছে তা নয়, ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের জ্বালানিও হয়ে রয়েছে। পুরনো ঢাকায় যেসব ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটেছে সেগুলোর আগুন ছড়িয়ে দিতে পলিথিনের ভূমিকাও রয়েছে।

    দেশের পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও দেদারছে ব্যবহার করা হচ্ছে পলিথিনের ব্যাগ। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, মাছ, গোশত থেকে শুরু করে সবজি এমনকি তরল দুধ ও তেল বিক্রিতেও পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। শুধু বাজারই নয়, শপিংমলসহ অলিতে-গলিতে থাকা দোকানগুলোতে দেদারছে পণ্যের সাথে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যাগ। ২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকার। কমেছিল পলিথিনের ব্যবহারও। কিন্তু, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহারকে অলিখিতভাবে বৈধতা দেয়। পুরান ঢাকার যে সব ব্যবসায়ি আগে গোপনে প্লাস্টিকের আড়ালে পলিথিন উৎপাদন করতো তারা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে আঁতাত করে প্রকাশ্যেই উৎপাদন শুরু করে। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থেকে শুরু করে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সব ধরনের কর্মকর্তা এবং পুলিশকে মাসোহারা দিতে হতো বলে ব্যবসায়িরা জানায়। ব্যবসায়িদের ভাষ্য, দেশের চাহিদা পূরণ করে কয়েক বছর ধরে ভারতেও পাচার হচ্ছে পলিথিন। সেখানে পলিথিনের ব্যাপক চাহিদা থাকায় চোরাইপথে পাচার করে আওয়ামী লীগের নেতারা কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করেছেন।
    এদিকে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে কোনো পলিথিন শপিং ব্যাগ ও পলিপ্রপিলিনের ব্যাগ রাখা যাবে না এবং ক্রেতাদেরকে দেওয়া যাবে না। বিকল্প হিসেবে সব সুপারশপে বা এর সম্মুখে পাট ও কাপড়ের ব্যাগ ক্রেতাদের ক্রয়ের জন্য রাখা হবে। এখানে তরুণ বা শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে। তিনি বলেন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে ১ অক্টোবর থেকে শপিং ব্যাগ পরিহারের বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার হবে। পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পলিথিন শপিং ব্যাগের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে স্টেকহোল্ডারদের সাথে অনুষ্ঠিত সভায় তার বক্তব্যে পরিবেশ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এক সপ্তাহের মধ্যে সকল সুপারশপের সঙ্গে সভা করে পাটের শপিং ব্যাগের সরবরাহ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পরিবেশ অধিদপ্তর ইএসডিও›র সঙ্গে মিলে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিকল্প পরিবেশবান্ধব উপাদানে তৈরি পাট বা বস্ত্রের ব্যাগের উৎপাদনকারীদের নিয়ে একটি মেলার আয়োজন করবে। মেলায় সুপার শপের কর্তৃপক্ষ এবং উৎপাদনকারীরা নিজেদের চাহিদা এবং সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা করতে পারবে। তাই এখনই প্রয়োজন নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার কঠোরভাবে বন্ধ করা। এর উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবহারকারী পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। অবৈধ পলিথিন কারখানা সিলগালা করতে হবে। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে কাগজ বা পাটের ব্যবহার বাড়াতে হবে। পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা গেলে হয়তো পাটকলগুলোকে রক্ষা করা যাবে। পলিথিন ও প্লাস্টিকের কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদনের যথার্থতা নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও কঠোর হতে হবে। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে এর পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিংসহ সামগ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বিশ্বমানে উন্নীত করার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলেই হয়তো আমরা একটা নিরাপদ বাসস্থান রেখে যেতে পারব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। পরিবেশ বিপন্নকারী সর্বনাশা পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করে বিকল্প পাটজাত দ্রব্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি পলিথিনের ক্ষতিকর দিক থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে জনসচেতনতার বিকল্প নেই।

    লেখক: মোঃ হায়দার আলী,
    গোদাগাড়ী উপজেলা শাখা,
    রাজশাহী।