Category: দেশজুড়ে

  • শার্শার কায়বা ইউনিয়নের ঠেঙামারী বিলের করুন দশা, হাজার হাজার চাষী এখন নিঃস্ব

    শার্শার কায়বা ইউনিয়নের ঠেঙামারী বিলের করুন দশা, হাজার হাজার চাষী এখন নিঃস্ব

    আজিজুল ইসলাম,যশোরঃ যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের ঠেঙামারী বিল একটি অভিশপ্ত নাম। ১৯ ৭১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ঠেঙামারী বিলের ৫শ একর আমন ধানের জমি ৬ মাস ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকে। ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারনে শত শত চাষি আজ পথের ফকির। টানা ৫৩ বছর ধরে এই বিলে কোনো আমন ফসল হয়না। যে কারনে কৃষকরা তাদের জায়গা জমি হারিয়ে এখন দিশে হারা। এক কালে যারা ধনী চাষি পরিবার ছিলো আজ তারা অসহায় পড়েছে। ঠেঙামারী বিলসহ আসপাশের আওয়ালী বিল ও গোমর বিল সহ বেশ কয়েকটি বিল আষাঢ়মাস থেকে পানির নীচে ডুবে থাকে। যার দরুন রুদ্রপুর, দাউদখালী, ভবানীপুর, কায়বা, পাঁচকায়বা, গাজীর কায়বা,পাড়ের কায়বা ও বাইকোলাসহ কায়বা ইউনিয়নের ৮ গ্রামের হাজার হাজার চাষী আমন ধানের চাষ করতে না পেরে পথের ফকির বনে গেছেন। তারা এখন শুধু ইরিচাষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। অনেক সময় বিলের পানি সময়মতো নিষ্কাসিত না হওয়ায় ইরি বোরো চাষেও মার খেয়ে যায় চাষীরা।

    জলাবদ্ধতার আজও কোনো সমাধান করেনি কোনো সরকার। জানা গেছে ভারত বাংলাদেশ সীমানা নির্ধারণী নদীর সাথে সংযোগ খাল রয়েছে ঠেঙামারী বিলের মাঝ দিয়ে। যেটা চলে গেছে শার্শার উত্তর অঞ্চলে। বর্ষা মৌসুমে ঐ অঞ্চলের সমুদয় বিলের পানি জমা হয় ঠেঙামারী বিলে। এবং এই পানি নামতে নামতে ইরি মৌসুমে শেষ হয়ে যায়। চাষীরা আমন ধান তো লাগাতেই পারেনা। এমনকি ইরি বোরো ধানও লাগাতে পারেনা চাষীরা। ৮০ ও ৯০ দশকের শেষ দিকে রুদ্রপুর ও দাউদখালী গ্রামের জিরো পয়েন্টে দুটি স্লুইসগেট নির্মান করা হয়েছিলো। নির্মানে ত্রুটি থাকায় তা কোনো কাজে আসছে না। গত বছর পরীক্ষা মুলক ভাবে খালের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। এবং বিলের পানি সেচে ইরিধান রোপন করা হয়। খালের মুখ বন্ধ করার ফলে নদীর জোয়ারের পানি এবার প্রবেশ করতে পারেনি। যেকারণে পানির চাপ এবছর একটু কম ছিলো। তার পরেও বিলে জমে থাকা এপানি বেরুনোর কোনো রাস্তা না থাকায় জলাবদ্ধতার কোনো নিরসন হয়নি। এলাকাবাসীর দাবী গোমর বিলের ভেতর দিয়ে নতুন খাল কেটে কলারোয়া উপজেলার সোনাই নদীর সাথে সংযোগ ঘটালে ও ইছামতী নদীর সংযোগস্থলে বাঁধ দিয়ে মোটর গেট চালু করতে পারলে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতার নিরসন হতে পারে।

  • উজিরপুরে সুদের টাকার বিনিময়ে জমি লিখে নিয়ে বৃদ্ধাকে ঘড় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ।

    উজিরপুরে সুদের টাকার বিনিময়ে জমি লিখে নিয়ে বৃদ্ধাকে ঘড় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ।

    জুনায়েদ খান সিয়াম,
    উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুরে সুদের টাকার বিনিময়ে জমি লিখে নিয়ে ৭৫ বছরের বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগমকে ঘড় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃদ্ধা এখন বিভিন্ন বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় ও থানার অভিযোগ সুত্রে যানাজায় উপজেলার ওটরা গ্রামের মৃত চেরাগ আলী ঘরামীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৭৫) তার ছেলে শাহিন ঘরামীকে নিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি আধাপাকা ঘড় নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। এ ব্যাপারে বৃদ্ধার ছেলে শাহিন ঘরামী জানান সংসারে অভাব অনটনের কারনে চাচাতো ভাই চুন্নু ঘরামীর কাছ থেকে কয়েক বছর পূর্বে সুদ বাবদ ১০ হাজার কখোনো ৫ হাজার করে মোট ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা গ্রহন করি। পরবর্তীতে ৫ শতাংশ জমি লিখে নেওয়ার কথা বলে জোর পূর্বক সব জমি লিখে নিয়েছেন বলে প্রচার করছেন। এমন কি আমার বৃদ্ধ মাকে তার বসবাসকৃত ঘড় থেকে বের করে দেয়। মনোয়ারার সৎ ছেলে লাল মিয়া ঘরামী জানান তার মা বাদি হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। অভিযুক্ত জুয়েল ঘরামী জানান তারা শাহিন ঘরামীর কাছ থেকে ৪ বছর পূর্বে ঘড় সহ ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। তবে দলিলে কোথায়ও ঘর বিক্রির কথা উল্লেখ নেই। স্থানীয় নুরে আলম চৌকিদার জানান বৃদ্ধ মনোয়ারাকে ঘড় থেকে বের করে দেওয়া চরম অন্যায়। ঘড় বিক্রির কথা আমি শুনিনায়। উজিরপুর মডেল থানার ওসি তদন্ত মোঃ মিজানুর রহমান জানান অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • পুত্রবধূঁর সঙ্গে শ্বশুরের পরকীয়ার জেরে ছেলের হাতে পিতা খু*ন

    পুত্রবধূঁর সঙ্গে শ্বশুরের পরকীয়ার জেরে ছেলের হাতে পিতা খু*ন

    এটিএম সেলিম,
    ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ পুত্রবধূর সঙ্গে শ্বশুরের পরকীয়ার জেরে নির্মম ভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের পলাশতলী নিজপাড়া গ্রামের আঃ রহমান (গেন্দার) ছেলে আসাদুল ইসলাম (৪৫) ।
    পুত্রবধূর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক শ্বশুরের পরকীয়ায় বাধা দেয় শাশুড়ি নাজমা আক্তার। পরকীয়া বাধা দেয়ায় শাশুড়ি নাজমাকে এক বছর আগে ডির্ভোস দেন স্বামী আসাদুল ইসলাম । নিহত আসাদুলের তিন ছেলে, মামুন হোসেন (৩০), সুজন মিয়া (২৬) শামীম মিয়া (২০) কে নিয়ে ঢাকা থাকেন নাজমা আক্তার। স্ত্রীর সঙ্গে বাবার এই সম্পর্কের কথা জানতে পেরে মামুনের তার স্ত্রী কে বাবা বাড়িতে রেখে আসার সিদ্ধান্ত নেন । পরে মামুন তার স্ত্রী সুন্দরীকে ডিভোর্স দেয় । কিন্তু বাবা এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। পুত্রবধূর সঙ্গে পরকীয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়ানো  নাজমা আক্তার ও তার ছেলে মামুন । স্ত্রী ডির্ভোস হওয়ার পর  মামুনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন তার স্ত্রী সুন্দরী বেগম ও মামুনের পিতা আসাদুল ইসলাম।
    নিহত আসাদুলের মা বলেন, আমার ছেলে  আসাদুল ঢাকা গাড়ি চালায় গত সোমবার বাড়িতে আইলে, আসাদুলের সুমুন্দির বউ লাইলী আক্তার আসাদুল স্ত্রী নাজমা তিন ছেলেকে খবর দিয়ে আনে। গত মঙ্গলবার রাত ৮ টায় সময় আসাদুল মিলের বাজার থেকে বাড়ি আসার সময় রাস্তায় আসাদুলের স্ত্রী ও তিন ছেলে রাস্তায় গতিরোধ করে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি দিয়ে শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। নিহতের মা বলেন আমার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পনা করে মারধর করা হয় ।  
    নিহত চাচাতো বোন সাজেদা ও স্থানীয়রা বলেন, আসাদুল আমার জেষ্ঠাত ভাই  সন্ধ্যায় ৮টায় সময় চিৎকারের শব্দ শুনে দৌড়িয়ে গিয়ে দেখে তার স্ত্রী ও তিন ছেলে মামুন, সুজন ও শামীম  লোহার রড়, লাঠি, দা দিয়ে আমার ভাইকে ধান ক্ষেতে ফেলে এলোপাথারি মারধোর করতে দেখে, আমাদের ডাক চিৎকারে বাড়ি আশাপাশে লোকজন এসে আমার ভাইকে ঘটনা স্থল থেকে উদ্বার করেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক  অবস্থায় অবনতি দেখে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রের্ফাড করলে ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে  দাপুনিয়া নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন।  
    এ ঘটনায় ফুলবাড়ীয়া থানা অফিসার ইনর্চাজ মোহাম্মদ রুকনজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় শুনতে পেয়েছি, কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • কুড়িগ্রামে পুজা মন্ডপের আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত আনসার ও ভিডিপি সদস্য-সদস্যাদের ব্রিফিং অনুষ্ঠিত

    কুড়িগ্রামে পুজা মন্ডপের আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত আনসার ও ভিডিপি সদস্য-সদস্যাদের ব্রিফিং অনুষ্ঠিত

    ।।গোলাম মোস্তফা রাঙ্গা।।

    ০৮ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুর ১২ টা শারদীয় দূর্গাপূজা/২৪ উদ্্যাপন উপলক্ষে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বিভিন্ন পুজা মন্ডপের আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত আনসার ও ভিডিপি সদস্য-সদস্যাদের মোতায়েনের পূর্বে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনামূলক ব্রিফিং কুড়িগ্রাম জেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম আনসার ও ভিডিপি’র জেলা কমান্ড্যান্ট এ.এস. এম. সাখাওয়াৎ হোসাইন, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রাম সদরের উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা প্রশিক্ষক মাসুদুর রহমান।

    এ বছর জেলার নয় উপজেলা ও তিনটি পৌরসভায় ৪৮৫ পুজামন্ডপে মোট ৩১০২ জন সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ১৫৫১ জন ও মহিলা ৯৭০ জন। কুড়িগ্রাম সদরে ৪৬৪ জন, নাগেশ্বরীতে ৫০০জন, ফুলবাড়ীতে ৪৩০জন, ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ১২৬ জন, উলিপুরে ৬৩২ জন চিলমারীতে ১৪৮জন, রৌমারীতে ৪৪ এবং চর রাজিবপুর উপজেলায় ৬ জন। তবে জেলার সবচেয়ে রাজারহাট উপজেলায় সর্বাধিক ৭৫২জন আনসার ও ভিডিপি পূজামন্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দূর্গোৎসব মন্ডপে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

    উল্লেখ্য এ বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি পূজামন্ডপে সিসি ক্যামেরা লাগানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজামন্ডপ কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক টিমেরও দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা রয়েছে। এসব ব্যবস্থাপনা সুনিশ্চিত করতে হবে।

    পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১০ অক্টোবর মহাসপ্তমী ও ১১ অক্টোবর মহাষ্টমী পালিত হবে। মহানবমী পালিত হবে ১২ অক্টোবর এবং ১৩ অক্টোবর পালিত হবে বিজয়া দশমী। ওই দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গাৎসবের সকল আনুষ্ঠানিকতা।

  • র‌্যাব-১২ কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

    র‌্যাব-১২ কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    র‌্যাব-১২ কর্তৃক সিরাজগঞ্জের চাঞ্চল্যকর অপহরণের পর হত্যা ও অর্থ লুটের অপরাধে আমৃত্যু কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার।

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।

    ১। গত ইং ২৫ জুন ২০১৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার পৌর এলাকার আলাউদ্দিন স্টোরের কর্মচারী ভিকটিম শামিম শেখ দোকানের বকেয়া টাকা উত্তোলনের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ায় যায়। পরে রাত ১০টা পর্যন্ত তার সঙ্গে দোকান মালিক ও পরিবারের যোগাযোগ হলেও তারপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরের দিন উল্লাপাড়া উপজেলার বরহর দক্ষিণপাড়া থেকে ভিকটিম শামিম শেখের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের বাবা শামসুল হক বাদী হয়ে উল্লাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৩৭, তারিখ-২৭ জুন ২০১৬, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ দন্ড বিধি ১৮৬০। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত সাজাপ্রাপ্তদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মাহমুদপুর মহল্লার ফরিদ শেখের ছেলে নাহিদ শেখসহ আরো তিন জনকে আমৃত্যু কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের সাজা প্রদান করেন।

    ২। এরই ধারাবাহিকতায় মোঃ কামরুজ্জামান পিপিএম, অধিনায়ক র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর দিকনির্দেশনায় গত ০৭ অক্টোবর ২০২৪ খ্রি. রাত ২২.০০ ঘটিকার সময় র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানি এবং র‌্যাব-১, সিপিএসসি, গাজীপুর এর একটি চৌকস অভিযানিক দল “গাজীপুর মেট্রোপলিটন এর সদর থানাধীন রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা সাকিনস্থ পূর্ণিমা স্টোর চায়ের দোকানের সামনে ময়মনসিংহ-ঢাকাগামী মহাসড়কের উপর’’ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার চাঞ্চল্যকর অপহরণকরতঃ হত্যা ও অর্থ লুটের অপরাধে আমৃত্যু কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নাহিদ শেখকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তার সাথে থাকা ০১ টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

    ৩। গ্রেফতারকৃত আসামি ১। মোঃ নাহিদ শেখ (২৭), পিতা- মোঃ ফরিদ শেখ, সাং-মাহমুদপুর ২নং গলি, থানা- সিরাজগঞ্জ সদর, জেলা- সিরাজগঞ্জ।

    ৪। গ্রেফতারকৃত আসামিকে সিরাজগঞ্জ জেলার সংশ্লিষ্ট থানায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • ঘুঘু পাখি বিলুপ্তি প্রায়

    ঘুঘু পাখি বিলুপ্তি প্রায়

    মোঃ হায়দার আলী।। মরণ বাঁধ ফারাক্কার কারণে বর্ষার সময় দেশের মানুষকে পানিতে ডুবিয়ে মারছে ভারত, কোটি কোটি টাকার আবাসস্থল, ঘরবাড়ি, গরুছাগল, হাঁস মুরগি, রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভাট ভেঙে যাচ্ছে নদী গর্ভে। আর খরা মৌসুমে পদ্মায় পানি কমে যাচ্ছে, ধুধু বালু চর, নদীতে ডুব চরের সংখ্যাও কম নয়। পদ্মার কোল ঘেষে উঠা চরে কৃষক সমাজ আম, পেয়েরা, পটল, চিনা, করলা, পুট্টাসহ নানা সবজির আবদ করেছেন এ নিয়ে লিখার জন্য খাতা কলম, তথ্য – উপাত্ত, নিয়ে ল্যাপটপের সামনে বসলাম, এমন সময় এক জোড়া ঘুঘু পাখি ঘরের বারান্নায় অসলো, সুন্দরভাবে খেলা করা শুরু করলো। বাইরে রিমঝিম করে বৃষ্টি হচ্ছে, খুব সুন্দর লাগছিল ঘুঘু পাখির ডাক। তাই তো লেখার থিম পরিবর্তন করে আল্লাহর নাম নিয়ে লেখা শুরু করলাম।

    দেশের রাজশাহীরসহ উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঘুঘু পাখি বিলুপ্ত প্রায়। দেশের অন্য স্থানের চিত্র প্রায় একই। এর প্রধান কারণ অবাধে ঘুঘু শিকার ও আবাস স্থলের দারুণ অভাব।
    এক সময় উত্তরাঞ্চলসহ দেশে প্রচুর ঘুঘু পাখি দেখা যেত। আবার অনেকে খাঁচায় করে বাসাতেও পুষত। গ্রাম বাংলার একসময়ের চির পরিচিত ঘুঘু পাখি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। এ পাখি সংরক্ষণে কোন কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করা হয় না।

    অর মাঠের ধান, গম, মুসরী, সরিসা, কলাই প্রভূতি ফসল ঘরে উঠছে এই আনন্দে ঘুঘুর ডাকে মুখরিত হয়ে উঠত পরিববেশ। ঝোপ-জঙ্গল, খোলা মাঠ, গ্রাম বা আশপাশে বড় বড় গাছ আছে এমন কৃষি জমিতে, বাড়ী ছাঁদ, চালে এদের দেখা মিলত।

    এ দেশের প্রায় সর্বত্রই লাল ঘুঘুর বিচরণ। সাধারণত জোড়ায় বা ছোট দলে বিচরণ করে। কৃষিজমি, খামার, ঘাসপূর্ণ মাঠ, ঝোপ, বনের প্রান্ত বা গ্রামে হেঁটে হেঁটে খাবার সংগ্রহ করে এরা। ঘাস ও আগাছার বিচি, শস্যদানা, গাছের কুঁড়ি ও কচি পাতা খায়। মূলত সরিষা, গম, মুসরী, ধানই ছিল ঘুঘুর প্রধান খাদ্য।

    বেগুন, সরিষা, মসুরী,ধানসহ বিভন্ন ফসলে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে যেমন ঘুঘুর প্রজনন কমে গেছে। খাস পুকুরগুলি মাছ চাষ করায় সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করায় খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে এখন প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে ঘুঘু পাখি। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গ্রামাঞ্চলে সর্বত্র একসময় মেঠে ঘুঘু, তিলি ঘুঘু, রাম ঘুঘুর দেখা মিলত। এখন সেই ঘুঘু দেখা তো দূরের কথা ঘুঘু পাখির ঘু.. ঘু.. শব্দের পরিচিত ডাকও শোনা যায় না। ফলে একালের শিশু কিশোরা ঘুঘু পাখির ডাক শুনে না, এ পাখিও চিনতে পারে না।

    পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট বড় দেশী গাছ অবাধে নিধন, ঝোপ, জঙ্গল নষ্ট হয়ে যাওয়া, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক যুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে পাখির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া ও ডিম পাড়ার হার কমে যাওয়াসহ নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির পাখি বলে পরিচিত ঘুঘু পাখি। তাছাড়া পাখি শিকার ও বিক্রির কারণেও প্রতিদিন নিধন হচ্ছে এই পাখি। ঘুঘু অত্যন্ত ভিতু ও লাজুক প্রকৃতির পাখি।

    সাধারণত বছরে এক জোড়া ডিম পাড়ে। সেই ডিমে তা দিয়ে নিজেই বাচ্চার জন্ম দেয়। বিস্তীর্ণ জমির গাছের ডালে, আড়ালে আবডালে এরা বাসা করে ডিম থেকে বাচ্চা দিত। এখন এই পাখিটি বিলুপ্ত প্রায়। এক সময় প্রচুর সংখ্যায় দেখা গেলেও শিকারিদের কবলে পড়ে ও ঝোপ-জঙ্গল কমে যাওয়ায় বর্তমানে এদের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। বিপন্ন হয়ে পড়েছে এই সুন্দর পাখিটি।
    তবে গোলাপি-মেরুন ডানার পুরুষটি দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। লাল ঘুঘু ছোট আকারের পাখি। লম্বায় ২৩ সেন্টিমিটার, যার মধ্যে লেজই নয় সেন্টিমিটার। স্ত্রী পাখিটি পুরুষটির চেয়ে কিছুটা ছোট। পুরুষটির মাথা নীলচে-ধূসর। পিঠ ও ডানার পালক গোলাপি-মেরুন। ডানার পেছনের অংশ কালচে। লেজের পালক ধূসর। লেজের নীচটা সাদা। বুক ও পেট হালকা গোলাপি। স্ত্রীটির রং পুরোপুরি আলাদা। দেহের ওপরের অংশ গাঢ় হলদে বাদামি ও নীচের অংশ হালকা হলদে-ধূসর। উভয়েরই গলার পেছনে একটি কালো চিকন কলার আছে। উভয়ের চোখ বাদামি, ঠোঁট কালো, পা বেগুনি-লাল বা বেগুনি-কালো। এরা ‘গুউ-গুউ-গুউ’ স্বরে ডাকে।
    লাল ঘুঘু সারাবছর প্রজনন করতে পারে। সাধারণত গাছের পাতাওয়ালা শাখায় ঘাস ও কাঠিকুঠি দিয়ে বাসা বানায় এবং তাতে স্ত্রী পাখিটি দুটি সাদা রঙের ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় মাত্র ১৮দিনে। বাসা বানানো থেকে শুরু করে ডিমে তা দেয়া ও বাচ্চাদের খাওয়ানো সবকিছুই স্ত্রী-পুরুষ একত্রে মিলেমিশে করে।
    সচেতন মহল ঘুঘু পাখিটিকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিৎ বলে মনে করেন, সে সাথে পরিবেশের ভাল হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এ পাখিটির সাথে পরিচিতি থাকবে।

    মো. হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী,রাজশাহী।

  • মহেশপুর থেকে হত্যা মামলার তিন আসামী গ্রেফতার

    মহেশপুর থেকে হত্যা মামলার তিন আসামী গ্রেফতার

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভালাইপুর গ্রাম থেকে হত্যা মামলার তিন আসামেিক গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ভালাইপুর গ্রামের মাহাতাব বিশ^াসের ছেলে জেন্টু (৫০), একই গ্রামের কেসমত খাঁর ছেলে আবদার খাঁ (৫২) ও ইবাদত খাঁর ছেলে আলী হোসেন (৫৪)। মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ১২ সেপ্টম্বর গরু চোর সন্দেহে মিঠু শেখের ছেলে রাশেদ শেখকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত’র স্ত্রী চুমকি খাতুন বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় ২১ জনের নামে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীরা পলাতক ছিলেন। গ্রেফতারকৃত আসামীদের মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।।

  • সুজানগর পৌর শহরের যানজট নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান

    সুজানগর পৌর শহরের যানজট নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান

    এম এ আলিম রিপন ঃ যানজটের অসহনীয় ভোগান্তিতে নাকাল সুজানগর পৌরবাসী। এই অবস্থা থেকে পৌরবাসীকে স্বস্তি দিনে এবং পৌর শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন, সুজানগর পৌরসভা ও থানা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ফুটপাতে অবৈধভাবে বসানো এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিককে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনার নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ। এ সময় পাবনা সহকারী পুলিশ সুপার(সুজানগর সার্কেল) রবিউল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মেহেদী হাসান, থানার ওসি গোলাম মোস্তফা ও পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম নবী উপস্থিত ছিলেন। অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, অবৈধ স্থাপনা,ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা এবং রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং করতে দেওয়া হবেনা । ফুটপাত দখলের কারণে মানুষ চলাচল করতে পারছেন না, সড়কে যানজট লেগেই আছে এবাবে চলতে দেওয়া যাবে না। উচ্ছেদের পর পুনরায় ফুটপাতের জায়গা দখল করলে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে জরিমানাসহ মামলা করা হবে। পাবনা সহকারী পুলিশ সুপার(সুজানগর সার্কেল) রবিউল ইসলাম,জানান, উপজেলা প্রশাসন, সুজানগর পৌরসভা ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সুজানগর থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, সুজানগর পৌর শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • সুজানগরে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

    সুজানগরে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগরঃ পাবনার সুজানগরে বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল,মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সোলায়মান হোসেনের সভাপতিত্বে ও শিক্ষক আখতারুজ্জামান জর্জ এর স ালনায় সুজানগর শহীদ দুলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন একাডেমিক সুপারভাইজার মনোয়ার হোসেন। অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন নাজিরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাদের হোসেন ও শহীদ দুলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনসুর আলী। এ সময় সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) শ্রী দিলীপ কুমার, মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের, উদয়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, মোহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মাহতাব উদ্দিন, সাতবাড়ীয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলাল, তাঁতীবন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হক, সাতবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) শরিফুল ইসলাম ও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ সহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • বরেন্দ্রের প্রাণপুরুষ ড,এম আসাদুজ্জামান

    বরেন্দ্রের প্রাণপুরুষ ড,এম আসাদুজ্জামান

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নতুন চেয়ারম্যান ড. এম আসাদুজ্জামানকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর সোমবার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রধান কার্যালয়ে বিএমডিএ’র উদ্যোগে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমডিএ’র নতুন চেয়ারম্যান ড.এম আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক শফিকুল ইসলাম (অতিরিক্ত সচিব)। অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ, অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী শামসুল হোদা, অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী আবুল কাশেম, অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সমসের আলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফুল হক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এটিএম মাহফুজুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিবির আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুমন্ত কুমার বসাক, প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম ও বিএমডিএ’র সচিব এনামুল কাদিরপ্রমুখ। এছাড়াও বিএমডিএ’র বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।এদিন নতুন চেয়ারম্যান ড,এম আসাদুজ্জামানের আগমন উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আলোচনা শেষে বিএমডিএর সকল কর্মকর্তা- কর্মচারীদের পক্ষে থেকে তাকে
    ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রয়াত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
    জানা গেছে, বিগত ১৯৪৯ সালের পহেলা নভেম্বর রাজশাহীর
    বরেন্দ্রের গোদাগাড়ীতে জন্ম গ্রহণ করেন ড,এম আসাদুজ্জামান।রত্নগর্ভা মায়ের সন্তান আসাদুজ্জামান বড় হয়েছেন। প্রচন্ড খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রকৃতির রুক্ষতা আর বৈরীতা মোকাবেলা করে। ছোট বেলায় খুব কাছ থেকে দেখেছেন প্রচন্ড খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের খরাপীড়িত আর দারিদ্রের কষাঘাতে নিষ্পেষিত এ অঞ্চলের কৃষি নির্ভর মানুষগুলোকে জীবন জীবীকার তাগিদে সংগ্রাম করতে। ছেলে বেলায় কৃষকের সঙ্গে মাঠে কাজ করেছেন নিজেদের জমিতে। বিগত ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল
    পর্যন্ত ম্যাকডোনাল্ড এ্যান্ড পাটনার- এর কনসালটেন্ট হিসেবে বিএডিসিতে কর্মরত ছিলেন। প্রকল্পের চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৯৭৭ সালে বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে তার যাত্রা শুরু। শুরু হয় বাংলাদেশের ভূ-গর্ভস্থ ও ভূ- উপরিস্থ সেচ ব্যবস্থাপণা নীতিমালা গভীরভাবে পর্যবেক্ষনের। দেশী বিদেশী বিশেষজ্ঞরা যখন মতামত দিয়েছিল রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানি তুলে সেচ প্রদান সম্ভব নয়। তাদের মতামতের বিপক্ষে বিষয়টাকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নেন তিনি। পুরো বরেন্দ্র এলাকা ঘুরে কারিগরি তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছে উপস্থাপন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিগত ১৯৮২-৮৩ সালে কারিগরি তথ্য সমৃদ্ধ প্রতিবেদন তৈরি করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর পক্ষে-বিপক্ষে মত সুপারিশ আর তৎকালীন বিএডিসির কর্মকর্তাদের নিয়ে সিদ্ধান্ত হয় ডিপ-
    টিউবওয়েল গভীর নলকুপ বসানোর।
    বিগত ১৯৮৬ সালে প্রকল্পের উন্নয়নমূলক কাজে ভূমিকা রাখার জন্য তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়। শুরু হয় বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কর্মযজ্ঞ। আসে একের পর এক সফলতা। ঠাঁ-ঠাঁ ধুধু বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই
    এলাকায় বৃষ্টি নির্ভর এক ফসলের জায়গায় শুরু হয় তিন ফসল উৎপন্ন। সবুজে সবুজে ভরে যায় ঠাঁঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চলের চারিদিক। বৃহত্তর রাজশাহী থেকে রংপুর জেলা পর্যন্ত পুরো উত্তরাঞ্চল-জুড়ে চলে বরেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকান্ড ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়। বরেন্দ্রের অঞ্চলের
    প্রাণপুরুষ খ্যাত ড,এম আসাদুজ্জামানের বিএমডিএ’র চেয়ারম্যান হওয়ার খবরে উল্লাসীত হয়ে পড়েন বরেন্দ্র অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। ড,এম আসাদুজ্জামানের বড় ভাই
    বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, অপর ভাই সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা
    পরিষদের সদস্য ও সাবেক সামরিক সচিব। আরেক ভাই ড, এম এনামুল হক পুলিশের সাবেক আইজিপি, অপর ভাই দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক। তার পরিবারের সকলে উচ্চ শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত। তার মাতা রত্নগর্ভা খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। ড, এম আসাদুজ্জামানকে নিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকেরা নতুন স্বপ্ন দেখছেন।