Category: দেশজুড়ে

  • গৌরনদীতে হাতুড়ি পিটা ঘটনার সমাধানে শতাধিক মানুষের সমাগম

    গৌরনদীতে হাতুড়ি পিটা ঘটনার সমাধানে শতাধিক মানুষের সমাগম

    কেএম সোহেব জুয়েল ঃ গৌরনদীতে যুবদল নেতাকে হাতুড়ি পিটা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ঘটনার সমাধান নিয়ে বিএনপির দুই ইউনিয়নের শতাধিক নেতা কর্মিরা সরিকলের বিএনপির পার্টি অফিসে গতকাল ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জমায়েত হওয়ার দৃশ্য লক্ষ করা গেছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে ৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ইং গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন মৃধার পুত্র বিএনপির গৌরনদী উপজেলা যুবদলের সদস্য মোঃ রুহুল মৃধার বেলায়।

    এ ঘটনা নিরসনে বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আবদুল মালেক শিকদারের নেতৃত্বে পাশ্ববর্তী সরিকল ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি রুহুল মৃধার পিতা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন মৃধার সমন্বয়ে কয়েক শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভায় থানা যুবদল নেতা মোঃ রুহুল মৃধা দলিয় স্বার্থে সকল ব্যাথা কষ্টকে ভুলে গিয়ে শিপন ও নাইম উপর চাঁদা দাবি সহ টাকা ছিনিয়ে নেয়া সম্পর্কিত সকল বক্তব্যকে উড্ড করে গতকাল ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরিকল ইউনিয়ন বিএনপির পার্টি অফিসে মিস্টি মুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নিজদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে ব্যাপক উদারতার পরিচয় দেন যুবদল নেতা মোঃ রুহুল মৃধা।

    এ সময় উপস্থিতিতিদের মধ্যে বিএন পির নেতা আবদুল মালেক শিকদার বলেন, নিজদের মধ্যে নিজেরা আত্মকোন্দল করা যাবেনা, কারন আওয়ামীলীগ শত্রুরা এখোনো দেশের ভিতর থেকে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছে দেশের ভিতর নৈরাজ্য ও অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সে দিকে সকলকে সজাগ থেকে কাজ করতে হবে। আর দলিয় কোন লোক যদি দলের ভিতর বিশৃঙ্খলা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চান তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এবং মাদক সেবিদের উদ্দেশ্য বলেন, যার মাদকে আসক্ত তারা ভাল হয়ে চলেন অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধেও কঠর ব্যাবস্তা নেয়া হবে।

  • গৌরনদীতে ভূমি কর্মকর্তার উপর হাম-লা গ্রেফতার -১

    গৌরনদীতে ভূমি কর্মকর্তার উপর হাম-লা গ্রেফতার -১

    কে এমসোহেব জুয়েলঃ গৌরনদীতে ভূমি কর্মকর্তার উপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় থানায় মামলার দায়েরের পর গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন পুলিশ এক বখাটে যুবককে।

    ঘটনাটি ঘটেছে গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের সরিকল ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মজিবর রহমানের বেলায়।

    স্হানীয়রা জানায় গতকাল ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কুড়িরচর গ্রামের গনি হাওলাদারের পুত্র মোঃ কাওছার হাওলাদার ৪৫ সরিকল ভূমি অফিসে তার জমির পর্চা নিতে এসে বাকবিতন্ডায় জরিয়ে দিয় এক পর্যায় ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মজিবর রহমানের উপর অতুর্কিত হামলা চালায়।

    এ ঘটনায গৌরনদী উপজেলা ভূমি সহকারী কমিশনার মোঃ রাজিব হোসেন গৌরনদী থানা পুলিশের সহায়তায় কাওছার হোসেন মিঠুকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছেন।

  • কাপছে বৃহত্তর কুমিল্লার পটভূমি

    কাপছে বৃহত্তর কুমিল্লার পটভূমি

    কুমিল্লা থেকে তরিকুল ইসলাম তরুন,

    তীব্র শীতে কাঁপছে বৃহত্তর কুমিল্লার দঃ উপর অঞ্চল। মাঝারি কুয়াশা আর কনকনে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও দেখা মেলেনি সূর্যের। মাঝারি কুয়াশা ও কনকন হাওয়া বাড়িয়ে তুলেছে শীতের তীব্রতা। এ মৌসুমে বৃহত্তর জেলায় আজকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

    তীব্র শীতের কারণে জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। এমন আবহাওয়া আরও দুই থেকে তিনদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগন

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের চকবাজার আমির দিঘির দক্ষিণ পাড় হতে শহরের পুলিশ লাইন, কোট বাড়ি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা প্রেসক্লাব, কালিয়াজুরী পাক্কার মাথা সংলগ্ন কোড়েরপাড় এলাকার ও চাদপুর,বি বাড়ীয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ও কল করে জানাযায় , বৃহত্তর জেলাজুড়ে বইছে হিমেল হাওয়া। কুয়াশার চাদরে ঢাকা জনপদ। বিভিন্নস্থানে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে নদী তীরবর্তী মানুষেরা। এরপরও জীবিকার তাগিদে হাড় কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে খুব সকালে কাজের সন্ধানে রাস্তায় বের হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ। এদিকে তীব্র শীত আর গরম কাপড়ের অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ছিন্নমূল, গরীব ও খেটে খাওয়া মানুষেরা। নগরীর কান্দিড়পাড় শ্রমিকদের ভির থাকলেও কাজ নেই।

  • সুজানগর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা প্রদান

    সুজানগর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা প্রদান

    এম এ আলিম রিপনঃ পাবনার সুজানগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাজমুল হুদাকে বদলি জনিত বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুজানগর অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ও অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেনের সঞ্চালায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মেহেদী হাসান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জিল্লুর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) আবুল কালাম আজাদসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার বছর বিদায়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা  অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে  দায়িত্ব  পালন করেন এবং  ইউনিয়ন পর্যায়ে  প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উদ্যোগে বাস্তবায়নকৃত সকল প্রকার উন্নয়নমূলক  কর্মকান্ড বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন। তার মতো  একজন  সরকারি কর্মকর্তাকে  সবাই  সবসময় স্মরণ  রাখবেন।  তিনি সকলের সাথে অত্যন্ত  সু-সম্পর্ক  বজায় রেখে  জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে টেকসই উন্নয়ন কর্মকান্ড সাধিত করেছিলেন বলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এ সময়  বিদায়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা  তার প্রথম কর্মস্থল হিসেবে সুজানগর উপজেলায় চাকুরী জীবন শুরু করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে ২০২০ সালে যোগদানের পর দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালনকালে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক মহল, সাংবাদিক ও  সুধিজন সকলের সহযোগিতা পেয়েছিলাম।  সুজানগর উপজেলাবাসীর  কথা সবসময় তিনি স্মরণ রাখবেন। কখনও তিনি এই জনপদের মানুষের কথা ভুলতে পারবেন না বলেও জানান তিনি।  দায়িত্ব পালনকালে  কারো প্রতি কষ্ট দিয়ে থাকলে  তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান। শেষে বিদায়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাজমুল হুদাকে অফিসার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, নাজমুল হুদা বদলি হয়ে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করবেন এবং সুজানগর উপজেলার নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করবেন শামীম হোসেন। 

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর (পাবনা)প্রতিনিধি।

  • কেক কেটে সুজানগরে কৃষকদলের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

    কেক কেটে সুজানগরে কৃষকদলের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

    সুজানগর প্রতিনিধিঃ  পাবনার সুজানগরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আলোচনাসভা ও কেক কাটা হয়।  উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক শাহজাহান শেখের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আব্দুল মজিদ মন্ডলের সঞ্চালনায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর  আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কামাল হোসেন বিশ্বাস । অনুষ্ঠানে বিএনপি ও সহযোগীঅঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মির্জা রাজা, জাহিদ বিশ্বাস, রইজ বিশ্বাস, রবিউল ইসলাম, রবিউল ইসলাম,দুলাল প্রাং, লতিফ সরকার, জিলাল শেখ, বাবু মোল্লা, ছালাম খান, রজব আলী, শাকিল,বাবু খান, রাশেদ,শফি বিশ্বাস সৌরভ শেখ ,আব্দুল বাছেত বাশিঁ, নজরুল, আলহাজ্ব তুষার, সেলিম, শেখ রুবেল, মেহেদী, রিদয়সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন অতিথিবৃন্দ।আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এদেশের কৃষকের মুখে হাসি ফেঁাটাতেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেন। কৃষকদের সাথে মাঠে ময়দানের খাল খনন কর্মসূচিতে নিজ হাতে কোদাল নিয়ে খনন কাজ করেছেন।কৃষকদলের নেতাকর্মীদের কাজ হবে, কৃষকদের জন্য ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশকের ব্যবস্থা করা। বর্তমানে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। কৃষি ঋণ, কৃষি প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ, ফসল বীমাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা দিতে হবে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর (পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • ঝিনাইদহে দাফনের ৬১ দিন পর কিশোর  স্কুল ছাত্রের লাশ উত্তোলন

    ঝিনাইদহে দাফনের ৬১ দিন পর কিশোর স্কুল ছাত্রের লাশ উত্তোলন

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    লাশ দাফনের ৬১ দিন পর আদালতের নির্দেশে ঝিনাইদহে সোহান (১৪) নামে এক কিশোর স্কুলছাত্রর লাশ উত্তোলন করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মেফতাহুল হাসানের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ সদর উপজেলার নগরবাথান গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে সোহানের লাশ উত্তোলন করে। সোহান ওই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। গত ১৮ সেপ্টম্বর ঢাকায় রহস্যজনক মৃত্যু হয় সোহানের। ২১ সেপ্টম্বর ময়না তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে তার লাশ একটি মহল ঝিনাইদহের নগরবাথান গ্রামে সোহানের লাশ দাফন করে। লাশ দাফনের পর সোহানকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রচার হলে ঝিনাইদহের একটি আদালতে তার পিতা শহিদুল ইসলাম ৮জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশকে দায়িত্ব দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শরীফ লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য আবেদন করলে ঝিনাইদহ সদর আমলি আদালতের বিচারক তা মঞ্জুর করেন। সোহানের মা সুন্দরী খঅতুন অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে নগরবাথান গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে সাকিব (২৭)। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটনানো হয়। মামলার বাদী শহিদুল ইসলঅম জানান, চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সাকিব ও তার অজ্ঞাত বন্ধুরা সোহানকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ঢাকার ৩শ’ ফিটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ঘটনার দিন বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে শহিদুল ইসলাম ছেলেকে বাড়িতে ফেরার জন্য ফোন করলে সোহান জানায়, সে খুব ঝামেলায় আছে। এরপর সোহানের পিতা সাকিবকে ফোন করে। এ সময় ফোন ধরে সাকিব গালিগালাজ করে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। ঘটনার কিছুক্ষণ পর রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে সোহানের পিতাকে ফোন করে জানানো হয় সোহান হাসপাতালে। খবর পেয়ে সোহানের পিতা হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান সাকিবের দুই ফুফু ডায়রি খাতুন ও আরজিনা খাতুন সেখানে উপস্থিত। সোহানের পিতা আরো অভিযোগ করেন হাসপাতালে থাকতেই সাকিবের পিতা আব্দুল আজিজ তাকে ফোন করে কোন ঝামেলা না করার জন্য হুমকি দেন। এছাড়া সাকিবের ফুফা আরব আলী তাকে শিখিয়ে দেন পুলিশ গেলে আমি যেন তাদের বলি সোহান দুর্ঘটনায় মারা গেছে। গ্রামবাসি জানায়, আসামী সাকিবের ফুফু ডায়রি খাতুন ও আরজিনা ঢাকায় মানুষের দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রির ব্যবসা করে। এই অপকর্ম করে তারা ইতিমধ্যে ঢাকা ও ঝিনাইদহ শহরের একাধিক স্থানে বহুতল ভবন তৈরী ও জায়গা জমি কিনেছেন। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঝিনাইদহ গোয়েন্দা বিভাগের এসআই শরীফ জানান, আদালতে এ নিয়ে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। ফলে আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্ত করা হচ্ছে। ময়না তদন্তে বোঝা যাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।।

  • পুঠিয়ার বেলপুকুরে গলায় ফাঁ-স দিয়ে এক শিক্ষার্থীর আত্নহ-ত্যা

    পুঠিয়ার বেলপুকুরে গলায় ফাঁ-স দিয়ে এক শিক্ষার্থীর আত্নহ-ত্যা

    পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি: পুঠিয়ার বেলপুকুরে গলায় ফাঁস দিয়ে ইসরাত জাহান ইশা (১৮) নামের এক শিক্ষার্থী আত্নহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র জামিরা গ্রামে এ আত্নহত্যার ঘটনাটি ঘটে। আত্নহত্যার শিকার ইশা বানেশ্বর সরকারি ডিগ্রী কলেজের বিএ ১ম বর্ষে ছাত্রী। ইশার আত্নহত্যার সঠিক কারণ জানাজায়নি। এলাকাবাসী সুত্রে জানাগেছে, সকালে ইশা তার বড় ভাইয়ের ছেলেকে নিয়ে বাড়ির বাহিরে ঘুরাঘুরি করছিলো। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাড়ির কাজে ব্যস্ত ছিলো। এসময় বড় ভাইয়ের ছেলেকে একটি টুলে রেখে সবার অজান্তে তার সয়ন কক্ষের তীরের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করে। ছেলেকে একা টুলে বসে থাকতে দেখে তার মা ইসাকে দেখতে না পেয়ে ইসার খোঁজ করে। এসময় ইশার শয়ন কক্ষে গিয়ে তীরের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছুটে এসে ইশাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে বেলপুকুর থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বেলপুকুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ইশার লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে বেলপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রির্পোট তৈরী করা হয়েছে। পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় লাশের ময়না তদন্তে ছাড়াই দফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে এ কর্মকর্তা জানান।

    মোঃ মাজিদুর রহমান মাজদার
    পুঠিয়া, রাজশাহী।

  • যথাযোগ্য মর্যাদায় ১১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক তানোর দিবস উদযাপন

    যথাযোগ্য মর্যাদায় ১১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক তানোর দিবস উদযাপন

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে নানা আয়োজনে যথাযথ মর্যাদায় ১১ ডিসেম্বর-২০২৪ ঐতিহাসিক তানোর দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
    জানা গেছে, এদিন ১১ ডিসেম্বর বুধবার দিবসের শুরুতে তানোর গোল্লাপাড়া বাজার সংলগ্ন বধ্যভুমি শহীদ বেদিতে
    পুষ্পস্তবক অর্পণ ও গোল্লাপাড়া বাজার ফুটবল মাঠে শহীদদের স্বরণে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।
    শহীর পরিবার ও শহীদদের সহযোদ্ধাদের উদ্যোগে শহীদ কমরেড এরাদ আলীর ছোট ভাই এরশাদ আলীর সভাপতিত্বে ও এ্যাডভোকেট হাসিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ কমরেড ওয়ারেজ উদ্দিনের ছোট ভাই লুৎফার রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্নৃতি চারণ করে বক্তব্য রাখেন শহীদদের সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখক ও সাংবাদিক মাহমুদ জামাল কাদেরী।
    শহীদদের সহযোদ্ধা পাঁচন্দর ইউনিয়নের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান জামাল উদ্দীন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতেখার মাসুদ, গণ-অধিকার রাজশাহী মহানগর আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার ইকবাল বাদল,পুলিশ কর্মকর্তা (অবঃ) লেখক ও গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, রাবির অধ্যাপক সারোয়ার জাহান সুজন, শহীদদের সহযোদ্ধা আরিফুর রহমান বাচ্চু,রাবির ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম। রাবির ছাত্র সম্মন্নয়ক মোহাম্মাদ আলী তোহা, গনসংহতি নেতা এ্যাডভোকেট মুরাদ মুর্শেদ ও বাসদের নেতা আলফাজ উদ্দীন প্রমুখ। উক্ত স্বরণ সভায় শহীদ পরিবারের সদস্য বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
    প্রসঙ্গত,মহান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে যখন কৃষক জনতা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছিলেন এবং দেশে খাদ্যে সমস্যা সৃষ্টি হলে শহীদরা কৃষক জনতার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে লড়াই সংগ্রাম শুরু করছিলেন। এসময় ১৯৭৩ সালের ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকারের রক্ষীবাহিনী দ্বারা ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করার পর গোল্লাপাড়া ফুটবল মাঠ সংলগ্ন গণখবর দেয়া হয়। সেই থেকে সাম্যবাদী দল ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন সংগঠন ১১ডিসেম্বর ঐতিহাসিক তানোর দিবস পালন করে আসছেন।#

  • তেঁতুলিয়ায় অন্যের জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

    তেঁতুলিয়ায় অন্যের জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অন্যের জমি জবর দখল করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আব্বাস আলী ও মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের সর্দারপাড়া নামক এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের বামনপাড়া গ্রামের মৃত সহিদুল হকের ছেলে খতিজার রহমান একই ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের মৃত ছালামত আলীর ছেলে আব্বাস আলী ও তার ছেলে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন।
    সরে জমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার সর্দারপাড়া মৌজার জে.এল নং-২৪ এর এস.এ ৬৩২ নং খতিয়ানের এস.এ ৫৫৭৮ ও ৫৫৭৯ নং দাগের ১ একর ১০ শতক জমির রেকর্ডীয় মালিক ছারামদ্দিন আট আনা হিস্যায়, জুমুরদ্দিন, জহিরদ্দিন ও জয়নাল প্রত্যেকে এক আনা এগারো গন্ডা দুই কড়া তের তিল হিস্যায়, আকবর এক আনা এগারো গন্ডা দুই কড়া চৌদ্দ তিল হিস্যায় এবং সাহেরা খাতুন পনেরো গন্ডা তিন কড়া সাত তিল হিস্যায় মালিক ছিলেন। রেকর্ডীয় মালিক জহিরদ্দিন, জয়নাল, আকবর আলী পক্ষে অভিভাবক মাতা ও স্বয়ং জুমারন বেওয়া এবং জুমুরদ্দিন গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৩ সালে ১১৮২ নং দলিলে মোবারক আলী ও ছারামদ্দিন এর নিকট ৩৩শতক জমি বিক্রয় করেন। পরবর্তীতে ক্রেতা মালিক মোবারক গত ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে ২০০৬২ নং দলিলে খতিজার রহমানের মাতা খতিরন নেছা ১৫শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর গত ৫ জুলাই ২০০৪ সালে ২২৭৩ নং দলিলে ও রেকর্ডীয় ছারামদ্দিনের কন্যা হিসেবে গত ১৩ আগস্ট ১৯৮৭ সালে ১১৮৭৯ নং দলিলে খতিজার রহমানের নিকট ৩৭শতক জমি বিক্রয় করেন। এরপর রেকর্ডীয় মালিক জুমুরদ্দিন, জহিরদ্দিন, জয়নাল ও আকবর গত ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৭ সালে ২৩৭৫ নং দলিলে খতিজার রহমানের পিতা সইজুল হকের নিকট ২৫শতক জমি বিক্রয় করেন। এরপর সাহেরা খাতুনের ওয়ারিশ গত ২১ আগস্ট ২০২৩ সালে ২৩০৩ নং দলিলে ২.৭৮ শতক জমি এবং গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালে ৩৩৩ নং দলিলে ৩.৩৩ শতক জমি খতিজার রহমান বরাবরে বিক্রয় করেন। অপরদিকে রেকর্ডীয় মালিক ছারামদ্দিনের ওয়ারিশ মকবুল হোসেন গত ১ জানুয়ারি ২০১০ সালে ২১৭ নং দলিলে ৬শতক, গত ৭ অক্টোবর ১৯৮২ সালে ২৫৮৯ নং দলিলে ০৫ শতক, গত ২৭ মে ১৯৭৮ সালে ১২৮০৯ নং দলিলে ১২.৫০ শতক, গত ২৭ জুন ১৯৮৪ সালে ২৪৯১ নং দলিলে ১০ শতক ও গত ১১ জুন ১৯৮০ সালে ১৯৮৮ নং দলিলে ৭.৫০শতক এবং ছারামদ্দিনের স্ত্রী মশিরন নেছা গত ৫ নভেম্বর ১৯৮৪ সালে ৩.৭৫শতক জমি খতিজার রহমান বরাবরে বিক্রয় করেন। জানা যায়, খতিজার রহমান তার মাতার অংশসহ দলিল মূলে সমুদ্বয় জমি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে ১৩৩৪ নং খতিয়ানে ৮৯ শতক, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে ১৮০৮ নং খতিয়ানে ৬শতক ও চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ১৮৩১নং খতিয়ানে ১৫শতক জমি নামজারি করেন।
    এদিকে ওই তফসিলে পূর্বেই জমি কেনাবেচা শেষ হয়ে গেলেও অভিযুক্ত আব্বাস আলী ও তার ছেলে মিজানুর রহমান রেকর্ডীয় মালিক জয়নাল, জহিরদ্দিন ও ছারামদ্দিন এর ওয়ারিশগণের কাছ থেকে গত ১৪ নভেম্বর ২০২৩ সালে ৩০৪৭ নং দলিলে ৬.২৫শতক, গত ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে ৩২৮৭ নং দলিলে ২.৩৬ শতক ও গত ৩১ জুলাই ২০২৩ সালে ২১০১নং বায়নানামা দলিলে ২০শতক জমি ক্রয় করেন বলে জানা গেছে।

    খতিজার রহমান বলেন, ৬৩২ নং খতিয়ানে তিনি তার পিতা-মাতা ও নিজের নামে ক্রয়কৃত ষোল আনা জমি ভোগদখল করাকালীন নামজারি করেছেন। নামজারি খতিয়ানের সংবাদ জেনে স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগের দোসর আব্বাস আলী ক্ষমতায় থাকতে তার ভোগদখলীয় আংশিক জমিতে জবরদখল করে রাতারাতি ভাড়াটে লোকজন নিয়ে এসে টিনের চাপড়া ঘর উত্তোলন করে জমি ঘেরাও করে নেন। এ নিয়ে একাধিক বিচার-সালিশ হলে কোনো উপযুক্ত কাগজপত্র দেখাতে পারছেন না আব্বাস আলী। কেবল লোকবল আর পেশী শক্তির জেরে জবর দখলের পাঁয়তারা করছেন। অবৈধভাবে জমি জবরদখল করে আত্মসাতের বিচারের দাবী জানিয়েছেন খতিজার রহমান।

    এদিকে আব্বাস আলী বলেন, রেকর্ডধারী মানুষদের ওয়ারিশের কাছ থেকে তার ছেলের নামে ৯শতক, তার নিজ নামে বায়নানামা দলিল মূলে ২০শতক জমি ক্রয় করেছেন। আবার তার ছেলের নামে ২৮শতক জমি বায়নানামা করেছেন। তিনি বলেন, আদালত তাকে ২৮.৬১ শতক জমির রায় দিয়েছেন। রায় ও দলিল মূলে তিনি জমি দখল করেছেন।

    ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মসলিম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি নিয়ে বিচার-সালিশ হয়েছে। খতিজার রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা করার পর বিবাদী আব্বাস আলী ও তার ছেলে মিজানুর রহমানের দাবী ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ায় বিবাদীদ্বয় ওই জমিতে কোনো স্বত্ত্ব দাবী করতে পারেননা। অভিযোগকারী খতিজার রহমান ৬৩২ নং খতিয়ানের ১.১০ একর জমির সঠিক মালিক।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম ।।

  • প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের সেবা দিচ্ছেন  মাত্র ৪ জন চিকিৎসক

    প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের সেবা দিচ্ছেন মাত্র ৪ জন চিকিৎসক

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা ( খুলনা )।।

    খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন মাত্র ৪ জন চিকিৎসক। যাহা ইনডোর, আউটডোর, নাইট ডিউটি, জরুরী বিভাগ সহ সকল ক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা খুবই দুষ্কর।

    এই হাসপাতালটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও এখানে ৮০ থেকে ১১০ জন রোগী সব সময় ভর্তি থাকে। কখনো কখনো রোগীর সংখ্যা এতটাই বৃদ্ধি পায় বেড সংকুলানে বারান্দা ছাপিয়ে সিঁড়িতে থাকতে বাধ্য হয় রোগীরা। জনবল বলতে গেলে ১০ শয্যা বিশিষ্ট। বেড অ্যাকুপাংসি ১৫০% থেকে ১৬০%। আউটডোরে সেবা প্রার্থী থাকে কমছে কম ৪ শত থেকে সাড়ে ৪ শত জন।

    প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ এই উপজেলায় বসবাস করে। পাইকগাছার পার্শ্ববর্তী জেলা সাতক্ষীরার আশাশুনি ও তালা উপজেলা, খুলনার দাকোপ, চালনা থেকেও এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। এত বিপুল সংখ্যক জনগণের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। চিকিৎসকদের কোন রেস্ট বা বিশ্রাম নেয়ার অবকাশ নাই। এই হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), পেডিয়াট্রিক্স, ইএনটি, অর্থো, সার্জারী, কার্ডিওলজি, অফথালমোলজি, স্ক্রীন এন্ড ভিডি সহ গুরুত্বপূর্ণ ৯টি চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ২৪ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও শূণ্য আছে ১৭ জন। ৭ জন চিকিৎসক এর মধ্যে অন্য হাসপাতালে সংযুক্তিতে ৩ জন কর্মরত। ইতোমধ্যে নতুন আরেকজনের আবার সংযুক্তিতে অর্ডার হয়েছে। বলতে গেলে মরার উপর খাঁড়ার ঘা।

    এছাড়া, স্বাস্থ্য সহকারীর বেশির ভাগ পদ দীর্ঘদিন শূন্য সহ আল্ট্রাসনোলজিস্ট, মালী ও ড্রাইভার না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবাও পাচ্ছে না জনগণ। অত্র কমপ্লেক্সের যেখানে মোট কর্মকর্তা কর্মচারীর সংখ্যা ১৯৪ জন, সেখানে রয়েছে ১০১ জন। দীর্ঘদিন শূণ্য পদ রয়েছে ৯৩টি। এছাড়াও সার্জারি যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা, অপরিচ্ছন্নতা, ওয়ার্ডে পানি ও বিদ্যুতের সমস্যা, ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত বাথরুম, খাবারে অনিয়ম সহ নানা সমস্যা রয়েছে হাসপাতালটিতে। দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে এক্সরে, আল্টাসোনোগ্রাম কার্য্যক্রম। তেলের অভাবে ঠিকমত চলেনা জেনারেটর। গত ৫ মাস যাবৎ বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের অ্যাম্বুুলেন্স। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও পাইকগাছা উপজেলায় অন্তত পাঁচ লাক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল এটি। ২০১৫ সালের ৩ মার্চ ৩১ শয্যার হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সেবার মান বাড়েনি। দেওয়া হয়নি চাহিদামতো জনবল।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদ একজন, যাহা রয়েছে। জুনিয়ার কনসালটেন্টের পদ ১১টি, রয়েছে ২টি, আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পদ ১টি, যাহা শূন্য, মেডিকেল অফিসার এর পদ ৭টি, রয়েছে ৩ টি, ডেন্টাল সার্জন এর পদ ২টি, রয়েছে একটি, নার্সিং সুপার ভাইজারের পদ ১ এটি, যাহা শূন্য , সিনিয়র স্টাফ নার্স এর পদ ৩২ টি, রয়েছে ২১ টি। মিডওয়াইফ এর পদ ৪ টি, রয়েছে ৩ টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদ ৭টি, রয়েছে ৩টি, ফার্মাসিস্টের পদ রয়েছে ২ টি, রয়েছে ২টি, স্যাকমো পদ ২টি, রয়েছে ২টি, স্বাস্থ্য পরিদর্শক এর পদ ৪ টি, রয়েছে ১টি, সহঃ স্বাস্থ্যঃ পরিদর্শক পদ ১৩ টি, রয়েছে ৮ টি, কার্ডিওগ্রাফার পদ ১টি, রয়েছে ১টি, ড্রাইভার এর পদ ১টি, রয়েছে ১ টি, স্বাস্থ্য সহকারীর পদ সংখ্যা ৬৫ টি, রয়েছে ৪৫টি, হারবাল এ্যাসিসটেন্ট এর পদের সংখ্যা একটি, রয়েছে ১টি, সহঃ কাম কম্পিউটার অপারেটর এর পদের সংখ্যা ৪ টি, রয়েছে ২ টি, টিএলসি এ এর পদের সংখ্যা ১টি, রয়েছে ১টি, কুক/মশালটি এর পদের সংখ্যা ২ টি, রয়েছে ১টি, অফিস সহায়ক পদের সংখ্যা ৮টি, রয়েছে ১টি। এছাড়া কম্পিউটার অপারেটর ১টি, প্রধান সহকারীর পদ একটি, হেলথ এডুকেটরের পদ ১টি, ক্যাশিয়ারের পদ ২টি, প্রধান সহঃ কাম কম্পিউটার অপারেটর পদ ১টি, পরিসংখ্যানবিদ ১ টি, স্টোর কিপারের পদ ২টি, সহঃ নার্স এর পদে ১টি, কম্পাউন্ডার পদ ১টি, নিরাপত্তা প্রহরীর পদ ২টি, জুনিয়র মেকানিকের পদের সংখ্যা ১টি, মালী এর পদের সংখ্যা ১টি, আয়া পদের সংখ্যা ২ টি, পরিচ্ছন্নতা কর্মী এর পদের সংখ্যা ৫টি, ওয়ার্ডবয় এর পদের সংখ্যা ৩টি, যাহা সব পদ গুলো শূণ্য।

    চিকিৎসা সেবা নিতে আসা জনগণ অনেক সময় চিকিৎসা সেবা না পেয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। অনেক সময় আউটডোরে টিকিট কেটে দুই তিন ঘন্টা অপেক্ষা করে ডাক্তার দেখাতে পারেন। আবার চিকিৎস্যা দিতে না পারায় উন্নত চিকিৎসার কথা বলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।এদিকে হাসপাতালের একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি থাকলেও আলোর মুখ দেখেনি। প্যাথলজি বিভাগে পর্যন্ত মেশিন সরঞ্জামাদি না থাকায় পরিক্ষা নিরীক্ষার জন্য রুগীদের যেতে হয় বাহিরের ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল ও উপকরণ সংকটে চরমভাবে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত সহ নানা সমস্যাম জর্জরিত এই হাসপাতালটি।

    হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার গড়ইখালী গ্রামের অঞ্জলী, আসমা বেগমরা জানান, জরুরি বিভাগ থেকে ডাক্তার কয়েকটি পরীক্ষা দিয়েছেন। সেগুলো বাইরে থেকে করিয়ে আনতে বলেন। আমরা গরিব মানুষ। টাকা দিয়ে বাইরে থেকে টেস্ট করানোর অবস্থা নেই। হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ও ডাক্তার থাকলে আমাদের খুবই উপকার হতো। গদাইপুর গ্রামের মর্জিনা বলেন অসুস্থ মাকে নিয়ে চিকিৎস্যার জন্য হাসপাতালে যান। তিনি বলেন, সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালে এসেছি। সাড়ে ১০টা বাজলো। এখনও ডাক্তার রা আমার মাকে দেখেনী। আউট ডোরে টিকিট নিয়ে বসে আছি। সেবা নিতে এসে সেবা পাচ্ছি না। মারামারি ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা জানান, হাসপাতালের দেওয়া খাবারের মান ভাল না। খাবারে অনিয়ম ও দূর্নীতি হচ্ছে কিনা কর্তৃক নজর দিবেন। খাবারে মান বাড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অর্থ বাড়াতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানান।

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহবুবর রহমান জানান, তিনি অল্প ক’দিন আগে এখানে যোগদান করেছেন। হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো হয়নি। হাসপাতালের চিকিৎসক, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল সংকট রয়েছে। অপ্রতুল সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। জরুরি ভিত্তিতে শূণ্য পদের জনবল পূরণ, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অনেক পদই শূন্য রয়েছে। যে কারণে আমরা প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি। হাসপাতালে যে পরিমান রোগীর চাপ তাতে ১০০ বেডে উন্নীত করা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আশাকরি, কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নিবেন।জনগণ তাদের যথাযথ চিকিৎসার সুবিধা সুনিশ্চিত করতে পারবে।

    জরুরী ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসক ,জনবল বৃদ্ধি,যন্ত্রপাতি সহ সরঞ্জামাদি সরবরাহ করে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা,খুলনা