আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরের তালন্দ ইউনিয়ন (ইউপি) বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি ও
বিএনপির ঘোষিত সংবিধান এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফার পক্ষে জনমত গড়তে ইউপি বিএনপির কর্মীসভা আয়োজন করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার তালন্দ ইউনিয়ন (ইউপি) বিএনপির সভাপতি শামসুদ্দিন মন্ডলের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক জিল্লুর রহমান নান্নুর সঞ্চালনায় লালপুর স্কুল মাঠে আয়োজিত বিএনপির কর্মী সভায়
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন।অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান, তানোর পৌর বিএনপির আহবায়ক একরাম আলী মোল্লা,মুন্ডুমালা পৌর বিএনপির আহবায়ক মোজাম্মেল হক, চাঁন্দুড়িয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন,বাধাইড় ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান হেনা, পাঁচন্দর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম মমিন, উপজেলা
বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী মাষ্টার, ফিরোজ কবির, সুলতান আহম্মেদ, প্রভাষক মুজিবুর রহমান, আব্দুল মালেক মন্ডল, আবুল কালাম আজাদ, সাজ্জাদ আলী,সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান মুনসুর রহমান,মুঞ্জুর রহমান ও আবু সাইদ বাবু, ওবাইদুর মোল্লা, তোফাজ্জুল হোসেন তোফা, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল গাফফার, প্রভাষক নুরুল ইসলাম ও মফিজ উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শরিফ উদ্দিন মুন্সী, তানোর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব নুর হোসেন মাহমুদ রাজা,ওবাইদুর মোল্লা ও মাহাবুব
মোল্লাপ্রমুখ।এছাড়াও বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি বলেন, দেশ পরিচালনায় বিএনপি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যেমন কোনো বিকল্প নাই, তেমনি রাজনৈতিক লক্ষ্যে পৌচ্ছাতে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ
বিএনপির কোনো বিকল্প নাই। তিনি বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিজেদের অস্থিত্ব রক্ষায় যেমন ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রয়োজন: তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক গণতন্ত্রের ধারক-বাহক বিএনপিকেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, অন্যথায় বিএনপির পক্ষে তার রাজনৈতিক লক্ষ্যে পৌচ্ছা ও শহীদ জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। তিনি বলেন, বিএনপি’র রাজনৈতিক দর্শন কি, অর্থনৈতিক কর্মসূচী তথা উৎপাদন, উন্নয়ন, বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান আধিপত্যবাদ-সামরাজ্যবাদ কি ও তার ক্ষতির দিকগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য থাকতে হবে। তিনি বিএনপির জনসমর্থন বৃদ্ধি সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ও কাঁধেকাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহবান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল, সেই রাষ্ট্রের মালিকানা দীর্ঘ প্রায় এক দশকের বেশী সময় তাদের হাতে ছিলো না।বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ রাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। এই রাষ্ট্র মেরামত ও পুনর্গঠন করতে হবে। দেশের জনগণের হাতেই দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জয়লাভের পর ফ্যাসিস্ট সরকার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে একটি ‘জনকল্যাণমূলক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।তিনি বলেন, গত এক দশকের অধিককালব্যাপী আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করে অনেক অযৌক্তিক মৌলিক সাংবিধানিক সংশোধনী এনেছে। একটি ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করে বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সাংবিধানিক সংশোধনী ও পরিবর্তন পর্যালোচনা করে রহিত/সংশোধন করা হবে এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সাংবিধানিক সংস্কার করা হবে। সংবিধানে গণভোট ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন, মানবসম্পন্ন উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করা হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফায় বলা হয়েছে,
১. প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে সব মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হ এ জন্য অব্যাহত আলোচনা, মতবিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।
২. বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এবং স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি ‘নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।
৩. সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীসভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচারবিভাগের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের সুসমন্বয় করা হবে।
৪. পরপর দুই টার্মের অতিরিক্ত কেউ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।
৫. বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সংসদে ‘উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা’ প্রবর্তন করা হবে।
৬. আস্থাভোট, অর্থবিল, সংবিধান সংশোধনী বিল এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত এমন সব বিষয় ব্যতীত অন্যসব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে (দেখা হবে) বিবেচনা করা হবে।
৭. রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত এবং বিশিষ্টজনের অভিমতের ভিত্তিতে স্বাধীন, দক্ষ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন করার লক্ষ্যে বর্তমান ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ সংশোধন করা হবে। ইভিএম নয়, সব কেন্দ্রে পেপার-ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান নিশ্চিত করা হবে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন সংস্কার করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিল করা হবে।
৮. সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠিয়া সকল রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠান আইনি সংস্কারের মাধ্যমে পুনর্গঠন করা হবে। শুনানির মাধ্যমে সংসদীয় কমিটির ভেটিং সাপেক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
৯. বাংলাদেশের সংবিধান ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান বিচারব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি ‘জুডিশিয়াল কমিশন’ গঠন করা হবে। অধঃস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যাস্ত হবে (সংবিধানের ভাষা)। বিচারবিভাগের জন্য সুপ্রিমকোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পৃথক সচিবালয় থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অভিশংসন প্রশ্নে সংবিধানে বর্ণিত ইতোপূর্বেকার ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হবে। এজন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে কেবল জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নীতিবোধ, বিচারবোধ ও সুনামের কঠোর মানদণ্ডে যাচাই করিয়া বিচারক নিয়োগ করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানের ৯৫(গ) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও মানদণ্ড সম্বলিত ‘বিচারপতি নিয়োগ আইন’ প্রণয়ন করা হবে।
১০. দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ পরিষেবা, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি “প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন” গঠন করে প্রশাসন সংস্কার ও পুনঃগঠন করা হবে। মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করা হবে।
১১. গণমাধ্যমের পুর্নস্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান ও সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি, মিডিয়া সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীএবং বিজ্ঞ, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য মিডিয়া ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি ‘মিডিয়া কমিশন’ গঠন করা হবে। সৎ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই লক্ষ্যে সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ মৌলিক মানবাধিকার হরণকারী সকল কালাকানুন বাতিল করা হবে। চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি হত্যাসহ সকল সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
১২. দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। গত দেড় দশকব্যাপী সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা এবং শ্বেতপত্রে চিহ্নিত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের বাইরে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও দুর্নীতি দমন আইন সংস্কারের পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে ‘দুদকের’ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ করা হবে।
১৩. সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অমানবিক নিষ্ঠুর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হবে। মানবাধিকার বাস্তবায়ন করা হবে। সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ প্রদান করা হবে। গত দেড় দশক যাবত সংগঠিত সকল বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্রসফায়ারের নামে নির্বিচারে হত্যা, গুম, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্মম শারীরিক নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর ও অমানবিক অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল ব্যক্তিকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সুবিচার নিশ্চিত করা হবে।
১৪. অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও গবেষক, অভিজ্ঞ ব্যাংকার, কর্পোরেট নেতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি সমন্বয়ে একটি ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নিরিখে প্রবৃদ্ধির সুফল সুষম বণ্টনের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দুর করা হবে। উপরোক্ত সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন, জুডিশিয়াল কমিশন, মিডিয়া কমিশন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশনগুলি সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্ব-স্ব প্রতিবেদন দাখিল করিবে যেন সংশ্লিষ্ট সুপারিসসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
১৫. ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এই মূলনীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করিবেন। দলমত ও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র-বৃহৎ সকল জাতি-গোষ্ঠীর সংবিধান প্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্ম-কর্মের অধিকার, নাগরিক অধিকার এবং জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা হইবে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ভাঙচুর এবং তাদের সম্পত্তি দখলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৬. মুদ্রাস্ফীতির আলোকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হবে। শিশু-শ্রম বন্ধ করে তাদের জীবন বিকাশের উপযোগী পরিবেশ ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা হবে। পাটকল, বস্ত্রকল, চিনিকলসহ বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন, মর্যাদা ও কর্মের নিরাপত্তা এবং দেশে বিমানবন্দরসহ সকল ক্ষেত্রে হয়রানিমুক্ত সেবা প্রাপ্তি ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে। চা-বাগান, বস্তি, চরাঞ্চল, হাওড়-বাওর ও মঙ্গাপীড়িত ও উপকূলীয় অঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণ ও সুষম উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।
১৭. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল করা হবে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে রক্তক্ষরণ রোধ করার লক্ষ্যে জনস্বার্থবিরোধী কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কেনায় চলমান সীমাহীন দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। আমদানিনির্ভরতা বাদ দিয়ে নবায়নযোগ্য ও মিশ্র এনার্জি-নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং উপেক্ষিত গ্যাস ও খনিজ সম্পদ আবিষ্কার ও আহরণে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিল্পখাতের বিকাশে বিনিয়োগ বান্ধব নীতি গ্রহণ করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে উৎসাহ, সুযোগ ও প্রনোদনা দেওয়া হবে। পরিকল্পিতভাবে দেশব্যাপী সমন্বিত শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
১৮. বৈদেশিক সম্পর্কের সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। সমতা, ন্যায্যতা, পারপরিক স্বার্থের স্বীকৃতি ও স্বীকৃত আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান অনুযায়ী দ্বি-পাক্ষিক ও বহু-পাক্ষিক সমস্যার সমাধান করা হবে। বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডের মধ্যে কোনো প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতা বরদাশত করা হবে না এবং কোন সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা আশ্রয়-প্রশ্রয় পাবে না। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক ঢাল বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসবাদের তকমা লাগিয়ে ভিন্নমতের বিরোধী শক্তি এবং রাজনৈতিক বিরোধীদল দমনের অপতৎপরতা বন্ধ করা হলে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হবে।
১৯. দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সুসংগঠিত, যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে গড়ে তোলা হবে। স্বকীয় মর্যাদা বহাল রেখে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা হবে।
২০. ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিকতর স্বাধীন, শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান করা হবে। এই সব প্রতিষ্ঠানকে এমনভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে যেন তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান ও উন্নয়ন কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও অন্য কোনো জনপ্রতিনিধির খবরদারী মুক্ত স্বাধীন স্থানীয় সরকার নিশ্চিত করা হইবে। মৃত্যুজনিত কারণ কিংবা আদালতের আদেশে পদশূন্য না হইলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ করা হবে না। আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বাহী আদেশবলে সাসপেন্ড/বরখাস্ত/অপসারণ করা হবে না।
২১. ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে যার যার অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান করা হইবে। এই তালিকার ভিত্তিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণার্থে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করিয়া একটি সঠিক তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
২২. যুবসমাজের ভিশন, চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব-উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান করা হইবে। বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে নানামুখী বাস্তবসম্মত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। যুব সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ আদায়ের লক্ষ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়া মানবসম্পন্ন উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করা হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি বিবেচনা করা হবে।
২৩. জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারীর ক্ষমতায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। নারী ও শিশুদের জীবনমান বিকাশের নিমিত্তে যুপোপযোগী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হইবে। জাতীয় সংসদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
২৪. বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য দূর করে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ে চাহিদা-ভিত্তিক শিক্ষা এবং উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হইবে। গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হইবে। একই মানের শিক্ষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্র সংসদে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হইবে। যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার লক্ষ্যেজাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫% অর্থ বরাদ্দ করা হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে ক্রমান্বয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্টখাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে। দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট সকল খাতকে ঢেলে সাজানো হবে। শিক্ষা, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উৎপাদানখাতে গবেষণা ও উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ক্রীড়া উন্নয়ন ও জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনৈতিক আকাশ সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা হবে।
২৫. স্বাস্থ্যকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ ও ‘বিনা চিকিৎসায় কোনো মৃত্যু নয়’ এই নীতির ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের আদলে সর্বজনীন করা হবে।
২৬. স্বাস্থ্যসেবা প্রবর্তন করে সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে। জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% অর্থ বরাদ্দ করা হবে। দারিদ্র্য বিমোচন না হওয়া পর্যন্ত সুবিধা বঞ্চিত হত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরো সম্প্রসারিত করা হবে।
২৭. কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হইবে। পর্যায়ক্রমে সকল ইউনিয়নে কৃষিপণ্যের জন্য সরকারি ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হইবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও শস্য বীমা, পশু বীমা, মৎস্য বীমা এবং পোল্ট্রি বীমা চালু করা হবে। কৃষি জমির অকৃষি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হবে। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং গবেষণার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্ম-কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এতদসংশ্লিষ্ট রফতানিমুখী কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প খাতকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
২৮. দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সড়ক, রেল ও নৌপথের প্রয়োজনীয় সংস্কার করে সারা দেশে সমন্বিত বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। দেশের সমুদ্র বন্দর ও নৌবন্দর সমূহের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হইবে।
২৯. জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট ও ক্ষতি মোকাবিলায় টেকসই ও কার্যকর কর্মকৌশল গ্রহণ করা হবে। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাধুনিক ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। নদী ও জলাশয় দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বন্যা ও খরা প্রতিরোধে খাল-নদী খনন পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সামুদ্রিক সম্পদের বিজ্ঞান সম্মত জরিপ ও মজুদের ভিত্তিতে তা আহরণ এবং অর্থনৈতিক ব্যবহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩০. তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সর্বক্ষেত্রে এর প্রয়োগকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। মহাকাশ গবেষণা এবং আনবিক শক্তি কমিশনের কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক সুযোগ সমৃদ্ধ করা হবে।
৩১. এক জাতীয় মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে শহরে ও গ্রামে কৃষি জমি নষ্ট না করে এবং নগরে জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপ হ্রাস করে পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়নের নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হইবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসন নিশ্চিত করা হবে।#
Category: দেশজুড়ে
-

তানোরে ইউপি বিএনপির কর্মীসভা
-

বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখার পক্ষ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
মো: তৈয়ব আলী,খুলনা।
১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস ২০২৪ উপলক্ষে খুলনা গল্লামারি বৌদ্ধ ভূমি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গনে,সোমবার রাত ১২:০১ মিনিটে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখার পক্ষ থেকে,৩০ লক্ষ্য শহীদদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উপস্থিত ছিলেন,খুলনা মহানগর শাখার সভাপতিঃ রুহুল আমিন,সাধারণ সম্পাদকঃ মোঃ রবিউল ইসলাম রবিন,সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকঃ রিপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকঃ বাবু গাজী সোনাডাঙ্গা থানার সভাপতিঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম,সিনিয়র সহ সভাপতিঃ রফিকুল ইসলাম রফিক,সাধারণ সম্পাদকঃ ইয়ার খান ইটু,সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকঃ জসিম সরদার,সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক জসিম ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সভাপতি, মোঃ রুহুল আমিন তিনি শহীদদের চেতনাকে স্মরণ করে, জাতির উদ্দেশ্যে বলেন,দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পরে ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে দেশটি পেয়েছি, এই দেশকে ভালোবেসে, নিজেদের জীবনে প্রাণের মায়া ছেড়ে দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন,আমরা বাঙালি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব,এবং নতুন প্রজন্মকে সেই শহীদের চেতনাকে জানানো,এই দেশটি উদযাপন করা পালন করা ও এটা আমাদের গর্বের বিষয়,আজ আমরা সেই ৩০ লক্ষ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে আজ আমরা একটি স্বাধীন মুক্ত বাংলাদেশের পেয়েছি।
-

হরিপুরে কৃষকদের মাঝে প্রশিক্ষণ ও জিংক ধানের বীজ বিতরণ
আনোয়ার হোসেন হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
মানবদেহে পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও জিংক ধানের চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার প্রান্তিক ২২০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিনামূল্যে জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ ব্রি ১০০ জাতের ধানের বীজ প্রদান করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশ এর আয়োজনে “আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (IFPRI) হারভেস্ট প্লাস প্রোগ্রাম” রিঅ্যাক্ট-ইন প্রকল্পের আওয়তায় উপজেলার গেদুরা ও আমগাও ইউনিয়ন ফেডারেশন কার্যালয় মাঠে অগ্রণী কৃষক প্রশিক্ষণ ও বীজ বিতরণ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মানস কুমার রায়।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন “আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (IFPRI) হারভেস্ট প্লাস প্রোগ্রাম” এর রিঅ্যাক্ট- ইন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আরডিআরএস বাংলাদেশ ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি টেকনিক্যাল কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মামুনুর রশিদ মামুন, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সুপারভাইজার শসিউল ইসলাম, সহ স্থানীয় কৃষক-কৃষাণিরা।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা, মানব দেহে জিংকের উপকারিতা, অভাবজনিত লক্ষণ ও জিংকের ঘাটতি পূরণের উপায়সহ জিংক এবং আয়রন সমৃদ্ধ ধানের বিভিন্ন জাত, উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ে আলোচনা করেন। সুস্থ, সবল ও মেধাবী সমাজ গড়তে দিনে একবার হলেও জিংক সমৃদ্ধ চালের ভাত খাওয়ার ও জিংক ধানের চাষ বৃদ্ধি করার পরামর্শ প্রদান করেন। আর এসব জাতের ধান মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছাতে ও সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করার এবং পরবর্তীতে প্রত্যেক কৃষককে তাদের উৎপাদিত ৪ কেজি করে ধানের বীজ ৩ জন কৃষককে প্রদান করার নির্দেশ দেন তারা।
পরে কৃষক-কৃষাণীদের ৪ কেজি করে জিংক ধানের বীজ প্রদান করা হয়।
-

শার্শায় বিলের পানি নিষ্কাশনের দাবিতে মানববন্ধন
আজিজুল ইসলামঃ যশোরের শার্শা উপজেলার ঠেঙামারি, মাখলা ও গোমর বিল সহ ছোট বড়ো ৫২ টি বিলের পানি নিষ্কাশনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় কৃষকেরা। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে বাগআঁচড়া বাজারে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে কায়বা, গোগা ও বাগআঁচড়া ইউনিয়নের ৫শতাধিক কৃষক অংশ নেন ।
মানববন্ধনে বিভিন্ন প্লেকার্ড ও ব্যানার নিয়ে কয়বা, রুদ্রপুর, ভবানীপুর, মহিষা, বসতপুর ও গোগা গ্রামের শত শত কৃষক বিলের পানি দ্রুত নিস্কাসনের দাবি জানান। এছাড়াও বিলের পানি নিস্কাসনের টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবী তোলেন কৃষকরা। শার্শা উপজেলা বিএনপির সদস্য শহিদুল ইসলাম ও কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস কৃষকদের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষনা করে বক্তব্য রাখেন, চলতি মৌসুমে ইরিধান সময় মত রোপন করতে না পারলে এই অঞ্চলের কয়েক হাজার পরিবার খাদ্য সংকটে থাকবেন বলে বক্তারা মন্তব্য করেন। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ আজাহারুল ইসলাম, ও শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. কাজী নাজিব হাসানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক মাসের মধ্যে বিলের পানি নিষ্কাশন করে ইরি ধানের বীজতলা তৈরি ও ইরিধান রোপনের সুব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য ঠেঙামারি, মাখলা, ও গোমর বিলে এখনো ৬ থেকে ৮ ফুট পানি রয়েছে। ঠেঙামারি বিলে ৫০০ একর, মাখলা বিলে ৪০০ একর ও গোমর বিলে ২০০ একর জমিতে ইরিধানের চাষ করা হয়। বিলে জলাবদ্ধতার কারণে চলতি মৌসুমী ঠেঙামারি ২৫০ একর, মাখলা বিলে ২০০ একর ও গোমর বিলে ১০০ একর জমি পতিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
-

পটিয়ায় রাতের আঁধারে মাটি লুট
মহিউদ্দিন চৌধুরী।।
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:- চট্টগ্রামের পটিয়ায় রাতের আঁধারে স্ক্যাভেটর দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি মহল।সরেজমীনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের গৈড়লা ধর পাড়া এলাকা থেকে রাতের আঁধারে ১০ থেকে ১৫টি ট্রাক দিয়ে টপসয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছে অসাধু মহল। জানতে চাইলে সাইফুল নামে একজন জানান, আমার কাছে অনুমোদন আছে মাটি বিক্রি করার। পুলিশও এই বিষয়ে অবগত আছেন।
এছাড়াও উপজেলার হাঈদগাও ইউনিয়নে প্রায় প্রতিদিন রাতের আঁধারে রাজঘাটা ব্রীজ এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী মহল।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী সরকার আমলে নেতাকর্মীরা যেমন ভাবে মাটি ও বালু বিক্রি করেছে। তার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে এখন একটি মহল। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কার্যকরি ভূমিকা চান তারা।
এই বিষয়ে পটিয়া উপজেলা প্রশাসক ফারহানুর রহমান জানান, আমি সদ্য যোগদান করেছি। ইতিপূর্বে কয়েকটি স্পটে মাটি কাটার খবর শুনেছি। যারা অবৈধভাবে এই মাটি কাটার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।#
-

আগৈলঝাড়ার বাশাইল উদয়ন সংঘের নতুন কমিটি গঠন
বি এম মনির হোসেন সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ-
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠন বাশাইল উদয়ন সংঘ-এর আগামী এক বছরের জন্য নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বাশাইল স্কুল রোডের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংগঠনের বিশেষ সভায় এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সভায় উপদেষ্টা মণ্ডলী ও সাধারণ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে মোঃ সামি ইসলাম রোকন-কে সভাপতি এবং তাকবীর রহমান শাওন-কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন—যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চয়ন হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন রনি, প্রচার সম্পাদক আলভী হাওলাদার এবং সদস্য পদে নিজারুল ইসলাম, ইকরামুল হাচান আকাশ, মাসুদ সরদার ও রাজিব মোল্লা।সভায় সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মোঃ ইমরান হোসেন, রুবেল ফকির, মিন্টু সরদার, মাসুদ হোসেন এবং রানা হাওলাদার তাদের বক্তব্যে বলেন, বাশাইল উদয়ন সংঘ একটি অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ এবং ইভটিজিং ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি।সভায় নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ সামি ইসলাম রোকন বলেন, “সমাজের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা তরুণদের নিয়ে একসাথে কাজ করে সমাজকে এগিয়ে নিতে চাই।”
সাধারণ সম্পাদক তাকবীর রহমান শাওন বলেন, “সংগঠনের চলমান সেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। সকলের সহযোগিতাই আমাদের মূল শক্তি।নতুন কমিটি সমাজের কল্যাণে নিজেদের সম্পৃক্ত করে বাশাইল উদয়ন সংঘকে আরও গতিশীল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। -

সুন্দরগঞ্জে সরকারি কলেজে বিজয় দিবস উদযাপন
মোঃ আনিসুর রহমান আগুন, গাইবান্ধা থেকেঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ডিড রাইটার সরকারি কলেজ বিজয় দিবস পালন করেছেন।
সোমবার সকালে সুন্দরগঞ্জ ডিড রাইটার সরকারি কলেজের আয়োজনে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ কলেজ সম্মেলন কক্ষে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিরুল ইসলাম সরকারের সভাপতিতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র প্রভাষক আবু সোলায়মান সাজা, হাজী মশিউর রহমান,সাইফুজ্জামান পাভেল, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুর রউফ, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। এসময় কলেজের সকল শিক্ষক কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। পরে মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মোখতারুল আলম।
-

নাগেশ্বরীতে বিকাশ সাধন প্রকল্পে বেকার নারীদের কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষন
এম এস সাগর,
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:নাগেশ্বরীতে তৃর্ণমুল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্পের আওতায় চাঁর ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকার নারীদের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক জাতীয় মহিলা সংস্থা- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় কুড়িগ্রাম জেলায় একটি মাত্র প্রকল্প নাগেশ্বরী উপজেলার হেলিপ্যাড সংলগ্ন কার্যালয়ে তৃর্ণমুল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধনে মধ্যবিত্ত দরিদ্র পরিবারসহ অনগ্রসর, অবহেলিত, বেকার মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিউটিফিকেশন ফ্যাশন ডিজাইন, আন্টেরিয়র ডিজাইন এন্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট চাঁর ধরনের বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে পরিচালনা হয়ে আসছে।
উল্লেখ, ২০২১সাল থেকে নাগেশ্বরী উপজেলা পয়ার্য়ে ফ্যাশন ডিজাইন, ক্যাটারিং ,ইন্টেরিয়র ডিজাইন এন্ড ইভেন্ট ম্যাজেমেন্ট ও বিজনেস ম্যানেজন্টে এ্যান্ড ই-কমার্স, ৫টি ট্রেডে প্রায় ২হাজারের অধিক অসহায়, বেকার নারী প্রশিক্ষণার্থী বিকাশ সাধন প্রকল্পে প্রশিক্ষন নিয়ে আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী হয়েছে। জাতীয় মহিলা সংস্থার তৃর্ণমুল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্পের নাগেশ্বরী শাখার প্রশিক্ষন কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেনের পরিচালনা ও নিরলস পরিশ্রমে বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে বিকাশ সাধন প্রকল্পে সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হচ্ছে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।
সম্প্রতি, চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে অনলাইনে আবেদনের প্রেক্ষিতে সচ্ছতার মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই বাচাই করে ২শত জন নারী প্রশিক্ষণার্থী নিয়েছেন। গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ থেকে ২শত জন নারী প্রশিক্ষণার্থীর ৮০দিনের বিউটিফিকেশন ফ্যাশন ডিজাইন, আন্টেরিয়র ডিজাইন এন্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট চাঁর ধরনের প্রশিক্ষণ দুই সিপ্টে শুরু হয়েছে। ৭ ডিসেম্বর ২৪ তারিখে নতুন করে বিজনেস প্রশিক্ষণের জন্য ৪০জন নারী শিক্ষার্থীদের অনলাইনের আবেদন যাচাই বাচাই শেষ পর্যায়ে এবং প্রশিক্ষণের কার্যক্রম চলছে। প্রশিক্ষন কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেনের নিরলস পরিশ্রমে বিকাশ সাধন প্রকল্প সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং নারী উদ্যোক্তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী করে নিজের পায়ে দাড়াচ্ছেন।
প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তা রহিমা বেগম, রাবেয়া খাতুন, আনিছা বেগম ও অনেকে বলেন, জাতীয় মহিলা সংস্থার আওতায় নাগেশ্বরীর হেলিপ্যাড সংলগ্ন কার্যালয়ে বিকাশ সাধনে প্রকল্পে অনলাইনে আবেদন করে যাচাই বাচাই এ যোগ্যতা ও সচ্ছতার মাধ্যমে প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করতে পেরেছি। প্রশিক্ষন কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেনের নিরলস পরিশ্রম আর বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে বিকাশ সাধন প্রকল্পে সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হচ্ছে প্রশিক্ষণ। বিউটিফিকেশন ফ্যাশন ডিজাইন, আন্টেরিয়র ডিজাইন এন্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ করে আত্ম-কর্মসংস্থান ও সাবলম্বি হতে পারবো।
নাগেশ্বরী শাখার প্রশিক্ষন কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক জাতীয় মহিলা সংস্থা- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় নাগেশ্বরী উপজেলার হেলিপ্যাড সংলগ্ন কার্যালয়ে তৃর্ণমুল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধনে মধ্যবিত্ত দরিদ্র পরিবারসহ অনগ্রসর, অবহেলিত, বেকার মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিউটিফিকেশন ফ্যাশন ডিজাইন, আন্টেরিয়র ডিজাইন এন্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট চাঁর ধরনের বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
-

তারাগঞ্জে দেয়াল ভাঙ্গে কাপড়ের দোকান চুরি
খলিলুর রহমান খলিল, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জে বাজার রোড সিঙ্গার শোরুমের পাশে রাতের আঁধারে আমতলী বস্ত্রালয়ের পিছনের দেওয়াল ভেঙে কাপড়ের দোকানে চুরি সংঘটিত হয়েছে। রোববার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে আমতলী বস্ত্রালয়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
আমতলী বস্ত্রালয়ের প্রোপাইটার হায়দার আলী জানান, তিনি রবিবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যান। সোমবার সকাল ১০ টায় শাটার তুলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন ঘরের পিছনের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কয়েকটি তাক (র্যাক) থেকে দামি বয়েল কাপড়ের শাড়ি ও থ্রি পিস নিয়ে গেছে চোর চক্র। চুরি হওয়া কাপড়ের মূল্য প্রায় এক লক্ষ টাকা। তাছাড়া ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ ১,১১,০০০/- হাজার টাকা নিয়ে যান চোরেরা। সবমিলিয়ে তার ২ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দোকান মালিক হায়দার আলী।
তারাগঞ্জ থানার এসআই আব্দুল লতিফ জানান, ‘প্রাথমিক তদন্তে বোঝা যাচ্ছে পরিকল্পিতভাবে এ দোকানে চুরি হয়েছে। খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
-

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিল সুজানগর উপজেলা প্রশাসন
এম এ আলিম রিপনঃ মহান বিজয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিয়েছে সুজানগর উপজেলা প্রশাসন । সোমবার(১৬ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাফিউল ইসলাম,উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আজম আলী বিশ্বাস,উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ,বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন,বীর মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান,বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফুর, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কামাল হোসেন বিশ্বাস,সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন বিশ্বাস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মোল্লা,উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক ফারুক-ই আযম,পৌর আমীর রফিকুল ইসলাম,নায়েবে আমীর আব্দুল মমিন,উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি জাকির হোসেন ও ছাত্র প্রতিনিধি দ্বীপ মাহবুব প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক জহুর আহম্মেদ নিক্সন। শেষে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের হাতে উপহার তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমাদের বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ একটি স্বপ্ন নিয়ে হয়েছিলÑ সমতা, মানবিক মর্যাদা, এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন।সেই চেতনা ধারণ করে সেদিন এদেশের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝঁাপিয়ে পড়েছিল। বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন,নতুন প্রজন্ম জানে না, সেদিন ২৫শে মার্চের কালরাতে কী হয়েছিল। সেদিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কীভাবে নেতৃত্ব্ব দিয়েছিলেনÑএমন অনেক প্রশ্ন এখনো ইতিহাসের পাতা থেকে স্পষ্ট হয়নি।আজকে আমরা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানাই প্রকৃত শহীদ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হোক। গত ১৬ বছরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করা হয়েছে মন্তব্য করে তারা বলেন,যারা মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্সি দাবি করে এসেছে, তাদের আসল অবদান কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন অনেকেই আছেন যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, অথচ আজ নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেন।এই মিথ্যা দাবির বিরুদ্ধে সত্যিকারের ইতিহাস সামনে আনতে হবে। আমরা নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে চাই। অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ যেখানে দুর্নীতি বৈষম্য, নির্যাতন থাকবে না। মানুষের ভোটাধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বাসস্থান, এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত হবে। এই চেতনা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব এবং প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সমুন্নত রাখব।