হেলাল শেখ,
স্টাফ রিপোর্টার-হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইলে ৫ আগষ্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনার আড়ালে কি ঘটনা ঘটছে তা জাতি জানতে চায়। কারা করছে হত্যাকাণ্ড আর কারা হলেন এসব মামলার আসামী, কোরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন আর কারা আটক হলেন? এবং এসব মামলার বিষয়ে পুলিশ ও প্রকৃত সাংবাদিকের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করছে কারা?।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়া থানার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের শরীফ মার্কেট এলাকার মোঃ ওয়াহেদ মোল্লার ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম ওরফে শরীফ মোল্লার বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার উপর হামলায় হত্যা চেষ্টা এবং হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা থাকলেও পুলিশ কেন তাকে গ্রেফতার করছেন না তা জাতি জানতে চায়। আশুলিয়া থানার স্বারক নং ৫২৯০(৪)১ তারিখ: ২২/০৯/২০২৪ইং ধারাসহ অপরাধ এবং লুণ্ঠিত দ্রব্যাদি সংক্ষিপ্ত বিবরণ, ১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩০২/ ১১৪/৩৪ প্যানাল কোর্ট, ১৮৬০পরস্পর যোগসাজসে অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া দাঙ্গা হাঙ্গামা করতঃ মারপিট ও গুলি বর্ষণ করিয়া হত্যা করাসহ হুকুম প্রদানের অপরাধ,আশুলিয়া থানায় এই হত্যা মামলার ২০ নং আসামী মোঃ শরিফুল ইসলাম মোল্লা। তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একাধিক জিডি, অভিযোগ ও হত্যা মামলা থাকলেও পুলিশ কেন তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না তা জাতি জানতে চায়। অনেকেই জানায়, শরিফুল ইসলাম মোল্লার বাড়িতে আশুলিয়া থানা পুলিশ ও (পিবিআই) পরিদর্শন করেছেন, মনে হয় পুলিশ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে শরিফুল ইসলাম মোল্লাকে গ্রেফতার করছে না। অনেকেই বলেন, এই শরীফ মোল্লা তার মা ও বোনের জমির বিষয়ে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগও রয়েছে, সে এলাকার প্রভাবশালী শীর্ষ সন্ত্রাসী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।
আশুলিয়া থানার (এ এসআই) নাজমুল ইসলাম বলেন, ৫ আগষ্টে হত্যা চেষ্টা ও হত্যা মামলার তদন্ত করতে গেলে পুলিশ ও প্রকৃত সাংবাদিকদের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে একটি মহল। কিছু দালাল ও সুবিধাবাদী লোকজন তাদের মামলা বাণিজ্য করে মোটা অংকের অর্থ কামাচ্ছে, তারা দেশ ও জাতির শক্র, এদের আটকের চেষ্টা চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
জানা গেছে, ৫ আগষ্ট: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় প্রথম আশুলিয়া প্রেসক্লাবে হামলা ভাংচুর শুরু করা হয়, এরপর দুইজন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ প্রকাশ্যে ওভার ব্রীজের উপর ঝুঁলিয়ে রাখা হয়। যা ১৯৭১ সালেও এই এলাকায় ঘটেনি তা ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইলে ঘটিয়েছে মানুষ হত্যাকারী ওরা কারা? সূত্র জানায়, ভাড়া করা সন্ত্রাসী যারা প্রথমে প্রেসক্লাব দখল করেছে তারাই দুই পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করে সেই লাশ ঝুঁলিয়ে রাখে ওভার ব্রীজের সাথে। তারাই ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে পুলিশের ভ্যানে ৬ লাশ পুড়িয়ে গুম করার চেষ্টা করে, এমনকি থানায় ডুকে সরকারি অস্ত্রসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে।
পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্র জানায়, আশুলিয়া প্রেসক্লাব ভাংচুর করে আগুন দেওয়ার পর আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তার বাইপাইল মার্কেটের উপর থেকে গুলিবর্ষণ করে, সেই সাথে আশুলিয়া থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মইনুল ইসলাম ভুঁইয়া’র নেতৃত্বে করিম সুপার মার্কেট থেকে ৪০-৫০ জনের একটি সন্ত্রাস বাহিনী ছাত্র-জনতার উপর নৃশংস হামলা ও গুলি করে, এরপর পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ভ্যানে সেই লাশ রাখেন আর সেই লাশগুলো গুম করতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে হত্যাকারী শরিফুল ইসলাম মোল্লাসহ তার বাহিনীর লোকজন। ওইদিন আশুলিয়ার বাইপাইলে ঘটে যায় নতুন ইতিহাস। সেই গণহত্যার ঘটনা আড়াল করতে এসব হত্যাকারীরা নতুন কৌশলে জানা অজানা ও অচেনা লোকজন দিয়ে শুরু করে নিহত ও আহতদের নিয়ে মামলা বাণিজ্য শুরু করে এখন তদন্তে গিয়ে বেড়িয়ে আসছে থলের বিড়াল। এই মামলা বাণিজ্যের সাথে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু নেতা সরাসরি জড়িত, তাদের মধ্যে রয়েছে আশুলিয়া ইউনিয়নে আনারস মার্কায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা রাজু গ্রুপের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ, তার বাহিনীর সদস্য সায়েব আলী জলিল। আশুলিয়ার বাইপাইলে ১০ থেকে ১২জন ব্যক্তি। এসব ব্যক্তিসহ ভয়ংকর লোকজন ৫ আগষ্টের পর আশুলিয়া প্রেসক্লাব দখল করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। এরপর অনেক ঘটনা ঘটে যায়, আবার সাবেক কমিটির সভাপতি মোজাফফর হোসেন জয় আহ্বায়ক ও যুগ্ম-আহ্বায়ক করা হয় যমুনা টিভির সাংবাদিক নিপুকে। এরপর একটি কারণ দেখিয়ে সভাপতির দায়িত্ব কিছু দিনের জন্য ছেড়ে দেন সময় টিভি’র সাংবাদিক জয়, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয় লাইজুকে, এরপর পাল্টি খেয়ে আবার লাইজু ও মিতু সরকার নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। আশুলিয়া প্রেসক্লাবে যারা হামলা ও ভাংচুর করেছে তারাই পরে দখল করে অবৈধভাবে কমিটি করেন এবং অন্য পৃথক জায়গা দখল করে ক্লাব তৈরি করার চেষ্টা করেন। সময় ও পরিস্থিতি পরিবর্তণ, সঠিকভাবে তদন্ত করলে কেঁচো খুঁজতে সাপের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আশুলিয়া প্রেসক্লাবে হামলা, ভাংচুর ও গুলি করে ছাত্র-জনতাকে হত্যার পর ৬ লাশ পোড়ানো ঘটনাঃ দেশ টিভি ও যমুনা টিভিসহ বিভিন্ন টিভিতে নিউজ প্রকাশ হয়েছে এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসহ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ- বেসরকারি হিসেবে এই এলাকায় শহীদের সংখ্যা ৫৩ হলেও গ্রেজেটে সবার নাম আসেনি এবং মামলায় এসেছে ভুল ঠিকানাও। কিভাবে ঠিকানা পাল্টে গেলো, কিভাবে আপন মামা বাবা হয়ে গেলেন? আর কিভাবে জীবিত স্বামীকে মৃত বানিয়ে হত্যা মামলা করা হলো? কিভাবে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ভুয়া বাদিরা একাধিক মামলায় নাম দিয়ে নির্দোষী মানুষদেরকে হয়রানি করেছে? এসব ভুয়া বাদী সায়েব আলী জলিলসহ এই চক্রের সবাই দেশ ও জাতির শক্র, এসব মামলায় মোটা অংকের অর্ধ যাচ্ছে ভুক্তভোগীদের পকেট থেকে। একাধিক মামলার আসামী সায়েব আলী জলিলরা ভুয়া বাদী হয়ে নির্দোষী মানুষকে হয়রানি করছে, এবার “বেড়িয়ে আসছে থলের বিড়াল”।
জানা যায়, ঢাকার আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫৩ জনকে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর সেই লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ, কয়েকজন সাবেক এমপি মন্ত্রী, পুলিশ সদস্য ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত সংস্থায় গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ও মামলা দায়ের করাসহ আশুলিয়া থানায় অসংখ্যক মামলা করা হয়েছে। জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর আশুলিয়া থানায় ৭১টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে, ৪১টি হত্যা মামলা, ৮টি ডাকাতি মামলা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কিছু ব্যক্তিকে আটক করলেও অন্যদেরকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। উক্ত অপরাধের ধরণে বলা হয়েছে, এক থেকে পাঁচ ও সাত থেকে ১০ নং আসামিদের নির্দেশ পরিকল্পনায় অন্যান্য আসামিরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র জনতাদের হত্যা করে তাদের সমূলে বা আংশিক নিমুর্ল করার উদ্দেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘঠনের অপরাধ করে। (যাদেরকে আসামি করা হয়েছে), তারা হলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুহাম্মাদ আলী আরাফাত, ঢাকা-১৯, সাভার-আশুলিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, তৎকালীন সরকারের কতিপয় মন্ত্রী, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি হারুন অর রশিদ, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, সাবেক আইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত এসপি মোবাশ্বিরা জাহান, সাবেক অতিরিক্ত এসপি আব্দুল্লাহহিল কাফি, ঢাকা জেলা উত্তরের সাবেক ডিবি পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার (ওসি) এএফএম সায়েদ, (ওসি তদন্ত) নির্মল চন্দ্র, এসআই আফজালুল, এসআই জলিল, এসআই রাকিবুল, এসআই আবুল হাসান, এসআই হামিদুর রহমান, এসআই নাসির উদ্দিন, এসআই আব্দুল মালেক, এএসআই সুমন চন্দ্র গাইন, এএসআই বিশ্বজিৎ রায়, কনস্টেবল মুকুল, কনস্টেবল রেজাউল করিমসহ কতিপয় পুলিশ সদস্য। এছাড়াও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হাসান তুহিন, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী সহযোগী সংগঠনের সদস্যরাও আসামী হয়েছে এসব মামলায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট আশুলিয়ার বাইপাইলে ছাত্র-জনতার মিছিলে ১ থেকে ১২ নম্বর আসামির নির্দেশে ১৩ থেকে ৩৬ নং আসামিরা নির্বিচারে গুলি চালালে আহনাফসহ ৫৩জন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। গুলিবিদ্ধ লাশগুলো ১৩ থেকে ১৬ নং আসামীসহ অজ্ঞাতনামা পুলিশ সদস্যরা ময়লার বস্তার মতো করে ভ্যানে তোলেন। থানার পাশে পুলিশের একটি গাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে নিহতদের লাশ পুড়িয়ে দিয়ে গণহত্যার নির্মম ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর আগে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় অনেক হত্যা মামলা করা হয়, আশুলিয়া থানায় একটি মামলা নং ২৬। তারিখ: ২২/০৮/২০২৪ইং। ছাত্র-জনতা সূত্র জানায়, আশুলিয়ার বাইপাইলে গত ৫ আগস্ট ২০২৪ইং আশুলিয়া প্রেসক্লাব ভাংচুর ও লুট করা থেকে শুরু করে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর, ছাত্র-জনতা ও পুলিশ সদস্যসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একাধিক হত্যা মামলা হয়েছে কিন্তু ভুয়া বাদীর মামলাকারীরা মামলা বাণিজ্য করেছে। এসব মামলার আসামি কিছু পুলিশ সদস্য, এমপি, মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাংবাদিকসহ নির্দোষ অনেক মানুষও রয়েছেন।
এ ব্যাপারে অনেকেই ধারণা করছেন যে, আশুলিয়া প্রেসক্লাব ভাংচুর দখল, আশুলিয়া থানা ভাংচুর ও সরকারি অস্ত্র লুট অগ্নিসংযোগকারীরা এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এসব ঘটনায় অনেকেই অপপ্রচার চালায় ওমুকের গুলি লাগছে, ওমুকে আহত হয়েছেন, এসব লোকজনের গুলিবিদ্ধ কোনো চিত্র পাওয়া যায়নি, তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে কোথায় কি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন? পুরো বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন শহীদ হওয়া ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন মহল। সূত্র জানায়, আশুলিয়ার বাইপাইলে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে, তাদের কাছে পুরো আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার মানুষ জিম্মি। কিছু অপরাধী আছে যারা নিজের অপরাধ আড়াল করতে অপহরণ, হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করে, তারা আবার থানায় গিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সরকারি কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে এমন তথ্য রয়েছে। আশুলিয়ার বাইপাইলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে যারা এই গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা জরুরী বলে মনে করেন সচেতন মহল। এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন সেই শহীদদের পরিবার সঠিক বিচার পাবেতো?। প্রায় ৭ মাস অতিবাহিত হলো, কিছু অপরাধীদেরকে গ্রেফতার করা হলেও যারা নির্দোষী মানুষকে হয়রানি করছে তাদেরকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। যেমন: তাদের মধ্যে সায়েব আলী ওরফে আব্দুল জলিল পৃথক ব্যক্তি নাকি সায়েব আলীই জলিল? আর এই ও সায়েব আলী জলিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে, এর আগে র্যাব-৪ ও আশুলিয়া থানা পুলিশ জলিলকে গ্রেফতার করেন এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়, এরপর জামিনে এসে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে গত ১৩ মার্চ২০২৫ইং আদালতে অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে আব্দুল জলিলকে কারাগারে পাঠায় আদালত। এর আগে হত্যা মামলার ভুয়া বাদী আব্দুল জলিল এর বিরুদ্ধে দেশ টিভি’র ৫ মিনিট ৩ সেকেন্ডের নিউজ প্রকাশ হয় এবং এরপর যমুনা টিভি’র ৩৮ মিনিট ২ সেকেন্ডের বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সেই সাথে একাধিক জাতীয় সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তার ভুয়া মামলার একটি সূত্রঃ সি, আর মামলা নং ১১৪৬/২০২৪ ধারাঃ ৩০২/১০৯/১১৪/১২০(খ)/৩৪ দণ্ডবিধি। আশুলিয়া থানার মামলা নং ১৫। তারিখ ০৮/০৯/২০২৪। এখানে মোঃ সাহেব আলী (৪৪) পিতা মোঃ আনজুর প্রামানিক, মাতা-মোছাঃ রাবেয়া খাতুন, সাং সাভার ফরিদপুর, পোঃ বওয়ারী পার, থানা ফরিদপুর, জেলা পাবনা। বর্তমান- খেজুরবাগান, থানা আশুলিয়া, জেলা-ঢাকা। জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৩২৮১৩৮২৭৩৩। মোবাইল নং-০১৬৪১১৪৮৬০১। আশুলিয়া থানা পুলিশ ও র্যাব জানায়, অপরাধীদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এইসব প্রতারকদের গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন মহল। আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জামগড়া এলাকার বাসিন্দা মাহি নামের এক ভুক্তভোগী জানান, আমি কোনো রাজনীতি করিনা, আমার কোনো পদ পদবী নেই, একটি মামলায় ২০ নং আসামী করেছে দালাল চক্র। এই মামলার বাদীকে মোবাইল ফোনে কল করলে রিসিভ করেন না, অনেকেই বলছে এটা ভুয়া বাদী তাই ফোন রিসিভ করেন না। পিবিআই ও আশুলিয়া থানা পুলিশ এ ব্যাপারে তদন্ত করেছেন, তারা মানবিক পুলিশ তাই আমাকে বলেছেন যে, আপনার কোনো চিন্তা নাই, আমরা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আটক করে আইনের আওতায় আনবো আর যারা দোষী না তাদেরকে হয়রানি করা হবে না।
আশুলিয়ার বাইপাইলে গত ৫ আগস্ট শহীদ হন আশুলিয়ার সিটি ইউনিভাসিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএসসি) প্রথম বর্ষের ছাত্র- সাজ্জাদ হোসেন সজল। সজলের মা মোছাঃ শাহিনা বেগম এর কাছে তার ছেলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার একমাত্র ছেলে সজলকে যারা হত্যা করেছে তাদের কঠিন শাস্তি দাবী করছি। সেই সাথে আমার ছেলেসহ যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে সেই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই। উক্ত ব্যাপারে (পিবিআই), ডিবি, পুলিশ ও র্যাব জানায়, তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আশুলিয়া থানায় ৫ আগষ্টের পর ৪-৫ জন ওসি রদবদল হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুইজন ওসি ক্লোজ, একজন হত্যা মামলার আসামী হলেও চট্রগ্রামে চাকরি করছে, চলমান ওসি মনিরুল হক ডাবলু ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ থেকে পুলিশে আসছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে জটিলতা সৃষ্টি হয়, এরপর তার পরিবর্তে সোহরাব আল হোসাইন ওসি আশুলিয়া থানায় আসার দেড় মাসের মাথায় চলে যেতে হয়েছে। সচেতন মহলের দাবী-ভুয়া বাদীর মামলা বাতিল করাসহ অপপ্রচারকারী ও ভুয়া বাদী প্রতারক চক্রকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হোক। বিশেষ করে যারা ছাত্র আন্দোলন করেছেন তারা এখন রাজনৈতিক নেতা হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে সমন্বয়ক থেকে পদত্যাগ করেছেন, অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেন, দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তিন হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন, ছাত্র-জনতা প্রায় ৬ শতাধিক শহীদ বা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ, যাদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তারা কি এই ক্ষতিপুরুণ পাবেন? যারা সাধারণ মানুষ মামলায় হয়রানি হয়েছেন এবং মোটা অংকের টাকা খরচ করেছেন, তাদের জন্য সরকার কি কোনো সহযোগিতা করবেন?। বর্তমানে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন না থাকায় (ওসি তদন্ত ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, অপরাধী সে যেইহোক না কেন তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে পুলিশ জানায়।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার সিনিয়র (এসআই) মাসুদ আল মামুন বলেন, ঈদুল আযহার ডিউটি ও ওসি স্যার হঠাৎ চলে যাওয়ায় একটু সমস্যা হয়েছে, ঈদের ছুটি শেষ এখন আশুলিয়া থানায় যেকোনো অভিযোগ ও মামলার ব্যাপারে তদন্ত করে দোষীদের আটকের পর আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, অপরাধী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।##
Category: দেশজুড়ে
-

থানায় দশ মাসে ৫ ওসি বদলি হ-ত্যাসহ একাধিক মামলার আসা-মী শরিফুল গ্রেফ-তার হয়নি
-

গৌরনদীর ( টরকি) বন্দরের ব্যাবসায়ি মালিক সমিত গঠন নিয়ে আলোচনা সভা
গৌরনদীপ্রতিনিধিঃ দক্ষিণ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ ব্যবসায়ী বন্দর টরকি বন্দর মালিক সমিতি গঠনের লক্ষ্যে বার্থী ভবনে ঘর মালিকদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন টরকী বন্দরের ঘর মালিক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বার্থী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া।
সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মশিউর রহমান সান্টু মুন্সি, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব জাকির হোসেন শরীফ, টরকি বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল মাঝি ,টরকি বণিক সমিতির কোষাধাক্ষ অলিউল ইসলাম, গৌরনদী প্রেস ক্লাবের প্যানেল আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন মিয়া, টরকি ব্যবসায়িক রিপন সরদার, ব্যবসায়ী ভজন কুন্ডু রাশেদ মিয়া, আলহাজ্ব মামুন শিকদার, আলহাজ্ব রুহুল আমিন সিকদার, আলহাজ্ব আবু হানিফ মাস্টার, মন্টু সর্দার, শেখর বণিক, মোহাম্মদ আলিম, মোল্লা আব্দুর রশিদ খান, মোঃ শাহ আলম খান, আনোয়ার শরীফ, টুকু মাঝি ,আলী মাঝি আলহাজ্ব মজিবর হাওলাদার, হাজী আঃ হালিম, লিটন খান, কাজী জামান টিটু কাজী সজল ও ব্যবসায়ী কাজী নজরুল ইসলাম।
সভায় বিস্তারিত আলোচনান্তে আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবুল হোসেন মিয়াকে সভাপতি ও টরকি বন্দরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মশিউর রহমান সান্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট টরকি বন্দর মালিক সমিতির কমিটি গঠন করা হয়। বক্তারা টরকি বন্দরের উন্নয়ন, হোল্ডিং ট্যাক্স কমানোসহ বন্দরের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।
-

শাহজাদপুর রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে বিক্ষো-ভ মিছিল ও মানবন্ধন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে দর্শনার্থী স্বামী স্ত্রীকে লাঞ্ছিত ও তাদের উপর হামলায় জড়িত কর্মকর্তা কর্মচারীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভ শেষে উশৃঙ্খল কিছু বিক্ষোভকারী রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়।
আজ মঙ্গলবার (১০ই জুন) বেলা ১১টায় শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সামনে শাহজাদপুরের সর্বস্তরের জনতার ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে শতাধিক মানুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
পরে বিক্ষোভ কারীরা রবীন্দ্র কাছারি বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু উশৃঙ্খল ব্যক্তি রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এসময় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারীকেও মারধর করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণ কারীরা অভিযোগ করে বলেন, গত ৮ই জুন রোববার পৌর শহরের রুপপুর নতুন পাড়ার আমজাদ হোসেনের ছেলে দুবাই প্রবাসী শাহনেওয়াজ সোহান (৩০) তার স্ত্রী সুইটি আক্তার (২২) ও ভাতিজা রোহান (৪) রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে বেড়াতে যান। ফেরার পথে রবীন্দ্র কাছারি বাড়ির এক কর্মচারীর সাথে সোহানের বাকবিতন্ডা হলে স্ত্রী ও ভাতিজা সহ সোহানের উপরে দায়িত্বরত কয়েকজন কর্মচারী হামলা চালায়।
পরে রবীন্দ্র কাছারি বাড়ির কাস্টোডিয়ান হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে সোবহানকে অডিটোরিয়ামে ভেতরে নিয়ে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
এসময় মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণ কারীরা রবীন্দ্র কাছারি বাড়ির কাস্টোডিয়াম মোঃ হাবিবুর রহমান ও হামলায় জড়িত কর্মচারীদের শাস্তি এবং অপসারণ দাবি করেন।
এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য রবীন্দ্র কাছারি বাড়ির কাস্টোডিয়ানের মোবাইলে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসলাম আলী বলেন, কাচারি বাড়িতে নৈরাজ্যের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ দেয়নি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
-

দেবীগঞ্জে সন্ত্রা-স বিরো-ধী মাম-লায় আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে ফেঁ-সে গেলেন জামায়াতের নেতারাও
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের ৭২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৭২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই মামলায় আরও ৩শ থেকে ৫শ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার ইসলামবাগ এলাকার জুয়েল রানা। সে একই এলাকার ফয়জুল ইসলামের ছেলে। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক ও দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম এমুকে। মামলায় পঞ্চগড় সদর, বোদা, দেবীগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ছাত্রলীগসহ অংগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দায়ের করা হয়।
গত ৫ জুন তিনি দেবীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বাদী এবং থানা কর্তৃপক্ষ মামলা দাখিলের বিষয়টি গোপন রাখলেও রবিবার সন্ধায় তা সাংবাদিকদের নজরে আসে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৬ মে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের ভার্চুয়াল বৈঠকে আসামিরা দেবীগঞ্জে বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনা করেন। বৈঠকের একটি আট মিনিটের অডিও ক্লিপ পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অডিও ক্লিপে উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম এমুর কণ্ঠে নাশকতার পরিকল্পনা শোনা যায়। তিনি ইসলামী ব্যাংকের কয়েকটি শাখায় আগুন লাগানোর এবং বিএনপি-জামায়াতের প্রথম সারির অন্তত ১০ জন নেতার বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার কথা বলেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সে সময় আশরাফুল আলমের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছিল।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দোসরদের নামে মামলা দায়ের হওয়ার পরে সে মামলায় জামায়াতের নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ৭২ জনের সন্ত্রাস বিরোধী ওই মামলায় আসামি করা হয় ব্যবসায়ী হেলাল শেখ ও জামায়াতের নেতা মকসেদুল ও বেলাল হোসেনকে।
স্থানীয়রা জানান, হেলাল শেখ চাকুরি করার পর সে ব্যবসা নিযে ব্যস্ত ছিল। রাজরীতি করতো না। মকসেদুল এবং বেলাল হোসেন জামায়াতের রাজনীতি করতো। অথচ তাদেরকে আসামি দেয়া হয়।
হেলাল শেখের স্বজনরা ওই কমিটির মূল কপি ও ভুয়া তালিকার কপি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে দিয়ে জানান, সৈয়দপুর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির তালিকায় হেলাল শেখের নাম ঢুকানো হয়। সে ভুয়া তালিকার নাম দেখিয়ে মামলা করা হয় হেলাল শেখের নামে কিন্তু যুবলীগের কমিটির প্রকৃত তালিকায় নাম রয়েছে সাজিদ আহমেদ। তাকে মিথ্যা মামলায় ফাসাঁনোর জন্যই তার নাম দেয়া হয়েছে।
পঞ্চগড় জেলা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সভাপতি আবুল বাশার বসুনিয়া জানান, ফ্যাসিস্টদের সাথে যারা জামায়াতের কর্মীদের মামলা জড়ানো জামায়াতের প্রতি জুলুম করেছে। যারা এ কাজ করেছে তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। মামলা হতে জামায়াতের দুই কর্মীর নাম প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
মামলার স্বাক্ষী শোভন, সৈকত ও হিরাকে ফোন দেয়া হলে তারা কেউ মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
মামলায় অন্য আসামীরা হলেন, দেবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসনাৎ জামান চৌধুরী জর্জ ও সাংগঠনিক সম্পাদক দীপঙ্কর রায় মিঠু, দেবীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ মিঠু ও সদস্য সাজ্জাদ হোসেন সুমন, দেবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিক আবু, বোদা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আলম টবি, সাবেক রেলপথ মন্ত্রীর ছেলে ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কৌশিক নাহিয়ান নাবিদ, পঞ্চগড় জেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক প্লাবন পাটোয়ারী, দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রিতু আক্তার, বোদা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক রাশেদুজ্জামান বাবু, পঞ্চগড়ের সাংবাদিক তোতা মিয়া ও সাংবাদিক আছমা আক্তার আখি, দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদীঘি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও কালীগঞ্জ এলাকার সাংবাদিক কামাল উদ্দীনসহ ৭২ জন।
দেবীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) প্রবীর কুমার সরকার জানান, ওসি স্যার ছুটিতে আছেন। এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। ওসি স্যারের সাথে কথা বলেন।
মোঃ বাবুল হোসেন
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
১০/০৬/২০২৫
-

ভারতে যাওয়ার সময় গোপালগঞ্জ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেফ-তার
আজিজুল ইসলাম, যশোরঃ ভারতে যাওয়ার সময় যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবউদ্দিন আজমকে গ্রেফতার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার স্ত্রী সঙ্গে থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। সাহাবউদ্দিন আজম গোপালগঞ্জ সদরের বিনাপানি গার্লস স্কুল রোডের মৃত মইনদ্দিনের ছেলে।
ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ভারতে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশনের ডেস্কে পাসপোর্ট জমা দেন সাহাবউদ্দিন আজম। তার পাসপোর্টে স্টপ লিস্ট থাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ থানায় মামলা থাকায় তাকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার দেখিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করে।
জানা যায়, তার বিরুদ্ধে সেনা সদস্যদের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সেনাবাহিনীর করা মামলাসহ গোপালগঞ্জ থানায় এবং ঢাকা যাত্রাবাড়ি থানায় দুটি হত্যা মামলা রয়েছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন মুন্সী জানান, পূর্ব থেকে ইমিগ্রেশনে খবর ছিল গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবউদ্দিন আজম ভারতে যেতে পারেন। সে মোতাবেক বহির্গমন বিভাগের সব অফিসারকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সকাল ১১দিকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন ভবনে প্রবেশে করে বহির্গমন সিল মারার জন্য ডেস্কে পাসপোর্ট জমা দিলে অনলাইনে তার স্টপ লিস্ট থাকায় সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাসেল মিয়া বলেন, ইমিগ্রেশনে আটক আওয়ামীলীগ নেতাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ থানায় তার নামে মামলা থাকায। তাকে গোপালগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
-

পাইকগাছায় সন্ত্রা-সী শফি ও তার সহযোগীদের গ্রেফ-তারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
পাইকগাছা ( খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছায় ঘের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান কে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় এবার এলাকাবাসী সন্ত্রাসী শফি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার কাটাখালী বাজারে ৩ ইউনিয়নের মানুষ এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মন্টু, মহিলা দলের নেত্রী রেহানা পারভীন, যুবদল নেতা মোস্তফা গাজী, আহত মিজানুরের ছেলে ইমরান সরদার, শেখ বজলুর রহমান, শাহরিয়ার বাবু, শেফালী বেগম, লুৎফর রহমান ও রহিমা খাতুন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন সন্ত্রাসী শফির কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে ডাকাতি, লুটপাট ও চাঁদাবাজি সহ সব ধরনের অপরাধ মূলক কাজ করছে শফি ও তার লোকজন। তার অত্যাচারে ব্যবসায়ী ও নারী সহ সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। শফি এ কাজে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতা সহযোগিতা করছে এমন অভিযোগ এনে বক্তারা অবিলম্বে ওইসব নেতাদের দল থেকে বহিষ্কারের দাবি করেন। এছাড়া বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে শফি, আনারুল, ভাই রফিক, ভাইপো শাকিল ও সহযোগী শহিদুল ইব্রাহিম কে গ্রেফতার করে এলাকা সন্ত্রাস মুক্ত করার দাবি করেন। উল্লেখ্য ঈদুল আযহার দিন শনিবার রাত ৯ টার দিকে উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের শ্রীকন্ঠপুর গ্রামের নিজ বসতবাড়িতে ঘের ব্যবসায়ী মিজানুর কে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা উত্তেজিত হয়ে ওই রাতেই শফির বসতবাড়ি ও তার সহযোগী এবং তাদের প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এসময় স্থানীয় জনতা শফির বসতবাড়ি ও তার সহযোগীর ঔষধের দোকান থেকে দা, ছুরি, চাইনিজ কুড়াল সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশের কাছে জমা দেয়। পরে রোববার সকালে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। এর মৎস্য ঘেরে শফি কে কে বা কারা ছুরিকাঘাত করে আহত করে। ধারাবাহিক এ-সব ঘটনায় এলাকায় একদিকে যেমন উত্তেজনা বিরাজ করছে, অপরদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ এবং উৎকন্ঠা কাজ করছে।
ইমদাদুল হক
পাইকগাছা,খুলনা -

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পানিহাটি চিড়াদধি মহোৎসব ২০২৫ অনুষ্ঠিত
গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি।।
স্টাফ রিপোর্টার।।
ঠাকুরগায়ের পীরগঞ্জে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ ইসকনের আয়োজনে ৯ নং সেনগাও ইউনিয়নের কানারী গোসাইপুর রাধাগোবিন্দ মন্দিরে ৯জুন ২০২৫ সোমবার দিনব্যাপী পানিহাটি চিড়াদধি মহোৎসব ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি বাংলাদেশ ইসকন,সন্পাদক রংপুর ও রাজশাহী, অধ্যক্ষ ইসকন মন্দির গড়েয়া গোপালপুর,ঠাকুরগাঁও শ্রীমৎ ভক্তি বিনয় মহারাজ,বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার রায়,ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সাবেক প্রশাসক প্রফুল্ল কুমার রায় এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পীরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গড়েয়া গোপালপুর ইসকন মন্দিরের সহকারী অধ্যক্ষ শ্রীপাদ কংসহন্ত দাস ব্রহ্মচারী,গড়েয়া গোপালপুর ইসকন মন্দিরের বলিষ্ঠ ভক্ত শ্রীপাদ ব্রজনায়ক ব্রম্মচারী,পরিচালক মায়াপুর ইনস্টিটিউট গড়েয়া গোপালপুর ইসকন মন্দির,গড়য়া গোপালপুর ইসকন মন্দিরের গীতা একাডেমির পরিচালক,শ্রীপাদ সুধন্য গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী প্রমুখ।এছাড়াও বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে আগত ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণের গুনকীর্ত্তনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্তি শেষে চিড়াদধি,খিচুড়ি বিভিন্ন প্রকারের প্রশাদ বিতরণ করা হয়।উক্ত অনুষ্ঠানটি শান্তি ও শৃঙ্খলার মধ্যে সমাপ্তি ঘটে।
-

আশুলিয়ায় মা-দক সন্ত্রা-সী ও জু-য়ায় যুবসমাজ ধ্বং-সের পথে, থানায় ৯ মাসে ৫ ওসি বদলি
হেলাল শেখঃ ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার ইউসুফ মার্কেট, সরকার মার্কেট, কাঠগড়া এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তিন তাস জুয়া, অবৈধ মেলার আড়ালে রাজনৈতিক প্রতীকের ব্যবহার, বাসাবাড়িতে অসামাজিক কার্যকলাপসহ মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে যুবসমাজ দিনদিন বিপথে যাচ্ছে। বিশেষ করে মাদকের সহজলভ্যতা এবং জুয়ার আসরের কারণে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকছে অপরাধের দিকে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ মেলা বসিয়ে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে এসব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা প্রকৃতপক্ষে দলীয় ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ণ করছে। নৌকার উপরে লোকজন তুলে ব্যবসা করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে আশুলিয়া থানায় গত ৯ মাসে ৫ বার ওসি রদবদল হয়েছে। সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট ওসি পরিবর্তন করা হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—বারবার পুলিশ প্রশাসনের রদবদলেও কেন থামছে না অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড?
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।।
-

আকস্মিক বন্যায় চলনবিল প্লাবিত : ডুবে গেছে ধানক্ষেত
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
আকস্মিক বন্যায় চলনবিলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় সরিষা পরবর্তী নাবিজাতের বোরো ধান ডুবে যাওয়ায় এ এলাকার কৃষকের কোরবানি ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। ঈদ কে সামনে রেখে মৌসুমী শ্রমিকেরা বাড়ি চলে যাওয়ার পরপরই আকস্মিক বন্যায় চলনবিলের তাড়াশ, উল্লাপাড়া,শাহজাদপুর, সিংড়া ও গুরুদাসপুর উপজেলার বিস্তৃর্ণ্ অঞ্চল তলিয়ে যায়। ধান ডুবে যাওয়ায় দিশেহারা কৃষক ধান কাটার শ্রমিক না পেয়ে হারভেস্টার মেশিন এনে ধান কাটার চেষ্টা চালায়। কিন্তু পানি অব্যাহত বৃদ্ধি পাওয়ায় সে চেষ্টাও বিফলে যায়। নিরুপায় অনেককেই ঈদের আনন্দ ফেলেই নৌকা নিয়ে ডুবে যাওয়া ধান কাটতে দেখা গেছে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এ অঞ্চলে প্রায় ৯০ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। সরিষার জমিতে নাবি জাতের ব্রিধান-২৯ থাকায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানায়, উজানে ঢলগড়া পানি ও স্থানীয়ভাবে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে চলনবিল অঞ্চলে এ বন্যা দেখা দিয়েছে। চলনবিলে মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ১৬ টি নদনদীর মধ্যে আত্রাই ও ভদ্রাবতী নদী দিয়ে উজানের ঢলের পানি নিম্নধারা যমুনায় গিয়ে মিশে যায়। কিন্তু বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৫ দিন যমুনার পানি বিপৎসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হবে।
সরেজমিনে নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিয়াস , গুরুদাসপুর উপজেলার রুহাই, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুড়াবিনোদ, উল্লাপাড়া উপজেলার রহিমপর ও শাহজাদপুর এলাকার পোতাজিয়া পয়েন্টে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটতে নেয়া হচ্ছে বিঘা প্রতি ৬ হাজার টাকা। কিন্তু পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে মেশিন ডুবে যাওয়ায় তা দিয়েও আর ধান কাটা সম্ভব হচ্ছেনা।
সিংড়ার বিয়াস গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা আক্তার মিতু বলেন, অনেক কৃষক ধানকাটার শ্রমিক না পেয়ে ধানের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ অর্ধেক ভাগ দিয়ে ধান ঘরে তুলছেন। একই রকম কথা বলেন, শাহজাদপুরের পোতাজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বাচ্চু। রাউতারা বাঁধের কারণে কিছু রক্ষা হলেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। তাড়াশ উপজেলার মাগুড়া মুকন্দ গ্রামে গিয়ে দেখা যায় গলা পানিতে নেমে কৃষক ধান কাটার চেষ্টা চালচ্ছেন। সেই সঙ্গে বৃষ্টি পানি তাদের দুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি করেছে।
সিংড়া-তাড়াশ সংযোগস্থলের রানী ভবানী ব্রিজের উজানে গিয়ে দেখা যায়, ভদ্রাবতী নদীর উপর নির্মিত জলকপাট উপচে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এমরান হোসেন বলেন, ঈদের আগে ২৪ ঘণ্টায় আত্রাইয়ে ৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেলেও ঈদ পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। তবে স্থানীয় ভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় চলনবিলের নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সূত্র বলছে, আগামী ৫ দিন এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে।
-

সংস্কার শেষে এপ্রিলে নির্বাচন হলে দ্বিমত নেই: সারজিস
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি, :
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, যদি দৃশ্যমান বিচারিক প্রক্রিয়া, এই বিচারিক প্রক্রিয়া আমরা দেখতে পাই, মৌলিক সংস্কারগুলো আমাদের সামনে দৃশ্যমান হয় এবং নির্বাচনকালীন কিছু সংস্কার প্রয়োজন রয়েছে বিচার বিভাগের, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর, নির্বাচন কমিশনের এগুলো সম্পূর্ণ হলে এপ্রিলে নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু তার পূর্বে নির্বাচনকালীন এই সংস্কারগুলো নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (৯ জুন) দুপুরে পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গীতে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে চা চক্র শেষে সাংবাদিকের তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমরা সব সময় দেখে এসেছি নির্বাচনকালীন সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়। কালো টাকার পেশি শক্তির অপব্যবহার করা হয়। আমরা এই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের এই নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং একটি ফিল্ড দেখতে চাই। যেখানে ছোট দল হোক, বড় দল হোক, সবাই তাদের জায়গা থেকে স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু একটি নির্বাচন একদম স্বয়ংক্রিয় এবং স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে এই নির্বাচন গুলোতে তারা অংশগ্রহণ করতে পারবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক শক্তি আর সাংগঠনিক শক্তি সমান নয়। কেউ যেন কারো দ্বারা এখানে ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার না হয়। অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো আমরা বিগত নির্বাচন গুলোতে ভোট কেন্দ্র থেকে শুরু করে নির্বাচনী এলাকায় দেখেছি। ভোট কেন্দ্র দখল করা, ব্যালট চুরি করা, এই টাইপের ঘটনাগুলো যেন আমরা আগামীর বাংলাদেশে কোন নির্বাচনে না দেখি সেই ক্ষেত্রে এই অন্তর্বর্তী সরকারকে ততটুকু পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে এবং বিচার বিভাগের মাধ্যমে।
আব্দুল হামিদের দেশে ফিরে আসা নিয়ে সারজিস বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে এটাই বলব অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তারা অভুত্থান পরবর্তী সরকার, অভুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার। যারা এতদিন ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, ফ্যাসিস্ট হাসিনা ছিল, তাদের যারা এমন দোসর ছিল যারা তাদেরকে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে সহযোগিতা করেছে, তাদের সামগ্রিক বিষয়গুলোকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমরা কঠোর হস্তক্ষেপ চাই এবং এটা আইনগত প্রক্রিয়ায় যেন হয়। আমরা এই বিষয়টি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামগ্রিক যে স্টেপ এবং পদক্ষেপ কি নিচ্ছেন তারা আমরা এ বিষয়টি অবজারভ করছি। আমরা বিশ্বাস করি তারা অন্তত এ সকল প্রশ্নে তাদের জায়গা থেকে তাদের শক্ত অবস্থান সব সময় তাদের কাজের মাধ্যমে ব্যক্ত করবেন।
সারজিস বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে জাতীয় নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক আহ্বায়ক কমিটি থাকবে এবং সেটার মধ্য দিয়ে অটোমেটিক আমাদের যে নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রস্তুতি সেটি আমরা মনে করি যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনেকটাই সম্পূর্ণ হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য যে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন এই রেজিস্ট্রেশন এর আবেদন করার যে প্রক্রিয়া এই প্রক্রিয়াটি আমরা ১৬ তারিখের মধ্যেই আশা করছি সম্পূর্ণ করতে পারবো। এ জন্য ১০০ টি উপজেলা এবং ২২ টি জেলায় কমিটি প্রয়োজন হয়, যেগুলো আমাদের ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, আমাদের অফিস নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা মনে করছি যে এই মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আমাদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য যে আবেদন করা সেটা আমরা করব এবং যথা সময়ে যে প্রক্রিয়া রয়েছে সে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অন্যান্য রাজনীতির দলের মতো করে আমরা আমাদের নিবন্ধন এবং রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করব।
এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ বাবুল হোসেন পঞ্চগড়।।