Category: দেশজুড়ে

  • অ-ণ্ডকোষে লা-থি মেরে স্বামীকে হ-ত্যা,স্ত্রী আ-টক

    অ-ণ্ডকোষে লা-থি মেরে স্বামীকে হ-ত্যা,স্ত্রী আ-টক

    সুজানগর(পাবনা) প্রতিনিধিঃ পাবনার সুজানগরে স্বামীর অণ্ডকোষে স্ত্রীর লাথির আঘাতে স্বামী মো.সবুজ হোসেন(২৬) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় রবিবার(২২জুন) স্ত্রী আমেনা খাতুন আন্না(২০) কে গ্রেফতার করে তার সাথে ১৫ মাসের দুগ্ধ শিশুসহ পাবনা আদালতে প্রেরণ করেছে সুজানগর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আমানে খাতুন আন্না সুজানগর উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের জোড়পুকুরিয়া গ্রামের আমিন সরদারের কন্যা। নিহত সবুজ হোসেনের বাড়ী উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের বোনকোলা গ্রামে। এ ব্যাপারে নিহতের চাচাতো ভাই রিফাতুল ইসলাম শনিবার(২১জুন) রাতে বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
    মামলা সূত্রে জানাযায়,গত প্রায় তিন বছর পূর্বে সবুজ হোসেনের সাথে আমেনা খাতুন আন্নার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাঝের মধ্যে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার ঘটনা ঘটতো। দাম্পত্য জীবনে তাদের মোছা.আছিয়া খাতুন নামে ১৫ মাস বয়সের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। গত ১৫ দিন পূর্বে স্ত্রী আমেনা খাতুন আন্না তার বাবার বাড়ী বেড়াতে যায়। পরে গত ১৮ জুন রাতে বুধবার স্ত্রী ও কন্যাকে দেখতে শশুর বাড়ী জোড়পুকুরিয়া যান সবুজ। এ সময় গভীর রাতে তাদের মধ্যে আবারো ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্ত্রী আমেনা খাতুন স্বামী সবুজের অণ্ডকোষে লাথি মারেন। এ সময় স্বামী সবুজ হোসেন বিছানাতেই প্রাণ হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন। পরে ১৯ জুন(বৃহস্পতিবার) পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমেনা খাতুন আন্না জানান, তার স্বামী সবুজ মাদকের নেশায় আসক্ত ছিলেন। এবং নেশা করে ঘরে ফিরে প্রায়ই দিনই আমার উপর অমানুষিক নির্যাতন করতো। ঘটনার দিনেও নেশা করে আমার বাবার বাড়ী গিয়েছিলো।
    এ বিষয়ে সুজানগর থানা অফিসার ইনচার্জ মজিবর রহমান রবিবার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বামী সবুজ হোসেনের অণ্ডকোষে লাথি মেরে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন স্ত্রী আমেনা খাতুন আন্না। স্বামী নেশাগ্রস্থ হয়ে তার কাছে যায় এবং তাকে নির্যাতন করায় তিনি এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন আমেনা খাতুন আন্না। পরে অভিযুক্ত স্ত্রী আমেনা খাতুন আন্নাকে গ্রেফতার করে রবিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর মাতৃদুগ্ধ পান শিশুর অধিকার তাই আমেনা খাতুনের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার ১৫ মাসের দুগ্ধ শিশুকেও তার সাথে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • নড়াইলে ই-য়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফ-তার ৪

    নড়াইলে ই-য়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফ-তার ৪

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
    নড়াইলে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার চারজন

    নড়াইলের নড়াগাতী থানার ওসি আশিকুর রহমানের সফল অভিযানে পঞ্চাশ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন গ্রেফতার। মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত মোঃ হাসিবুর শেখ (৩০) ও মোঃ ইলিয়াস ভূঁইয়া (৫০) নামের দুইজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মোঃ হাসিবুর শেখ (৩০) নড়াগাতী থানাধীন পহড়ডাঙ্গা গ্রামের মৃত সায়েম উদ্দিন শেখের ছেলে ও মোঃ ইলিয়াস ভূঁইয়া (৫০) একই থানার চাপাইল গ্রামের মৃত সোহরাব হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, শনিবার (২১ জুন) সন্ধ্যার সময় নড়াগাতী থনাধীন পহড়ডাঙ্গা ইউনিয়নের চাপাইল গ্রামের আসামী ইলিয়াস ভূঁইয়ার বসত ঘর হতে তাদের আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নড়াইল নড়াগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশিকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) এফ. এম. তারেক ও এএসআই (নিঃ) মোঃ মাহমুদ করিম সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে মোঃ হাসিবুর শেখ (৩০) ও মোঃ ইলিয়াস ভূঁইয়া (৫০) কে গ্রেফতার করে। এ সময় ধৃত আসামির নিকট থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য পঞ্চাশ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ সংক্রান্তে নড়াগাতী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপদিকে
    নড়াইল ডিবি কর্তৃক ছাব্বিশ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন গ্রেফতার।
    মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত মোঃ মেজবাহ উদ্দিন কায়েস(২০) ও মোঃ শান্ত মোল্ল্যা(২০) নামের ০২ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে নড়াইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মোঃ মেজবাহ উদ্দিন কায়েস(২০) নড়াইল সদর থানাধীন মাছিমদিয়া গ্রামের মোঃ আজমল হোসেনের ছেলে ও মোঃ শান্ত মোল্ল্যা(২০) বেতবাড়ীয়া গ্রামের মোঃ নাজিম উদ্দিনের ছেলে। (জুন’২৫) সন্ধ্যার দিকে নড়াইল জেলার সদর থানাধীন ধোপাখোলা টু সুলতান ব্রিজের মধ্যবর্তী সরদার ফিলিং স্টেশন এর সামনে পাঁকা রাস্তার উপর হতে তাকে আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহাদারা খান (পিপিএম) এর তত্ত্বাবধানে এসআই(নিঃ) জাহাঙ্গীর আলম, ও এএসআই (নিঃ) আখতারুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে মোঃ মেজবাহ উদ্দিন কায়েস (২০) ও মোঃ শান্ত মোল্ল্যা (২০) কে গ্রেফতার করে। এ সময় ধৃত আসামির নিকট থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য ছাব্বিশ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ সংক্রান্তে নড়াইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
    নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীর’র নির্দেশনায় মাদকমুক্ত নড়াইল গড়ার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

  • দলীয় প্র-ভাব খাটিয়ে জমি দখ-লের অভিযোগ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির উপর

    দলীয় প্র-ভাব খাটিয়ে জমি দখ-লের অভিযোগ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির উপর

    আমিরুল ইসলাম কবির,
    স্টাফ রিপোর্টারঃ

    গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার ১১নং খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ দুদু গং-রা অবৈধভাবে জমি দাবী করে দখলের চেষ্টা। বাঁধা দিলে নারী শিশুদের মারধর। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন,ইউপি সদস্য এনামুল সালিশ বৈঠকে উপস্থিত হলে তাকেও লাঞ্চিত করা হয়। ভুক্তভোগীদের থানায় ও সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ।

    রোববার (২১ জুন) দুপুরে উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের গাছুর বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    ভুক্তভোগী রিপন মিয়া সাংবাদিকদের জানায়,আব্দুর রশিদ দুদু গং-রা দাঙ্গাবাজ আইন অমান্যকারী,জনবলীয়ান,অন্যের জমি দখলকারী,অহেতুকভাবে ঝগড়া বিবাদে লিপ্তকারী বটে । তফসিল বর্নিত জমি (মৌজা-খোর্দ্দকোমরপুর জে এল নং ৮২) আমি ক্রয় সূত্রে প্রাপ্ত হইয়া ভোগ করিয়া আসিতেছি এবং তফসিল বর্নিত জমিতে আমাদের বিল্ডিং বসতবাড়ি আছে। আর আমাদের ক্রয়-কৃত জমির পাশেই সাবু গং জমি ক্রয় করিয়াছে। আমার জমি সংলগ্ন তার জমি হওয়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পেশী শক্তির বলে শনিবার দুপুরে আমার বসতবাড়ির ক্ষতি করার জন্য আমার বিল্ডিং ঘরের পাশে মাটি খনন করে গর্তের সৃষ্টি করে। এমন ঘটনায় আমি ও আমার পরিবারসহ নিষেধ করতে গেলে পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দুদু গং-রা দলবদ্ধ হইয়া হাতে বাঁশের লাঠি,লোহার রড, কোদাল,দা সহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বসত বাড়ির উঠানে অনধিকার প্রবেশ করিয়া আমি ও আমার পরিবারের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলে আমি সহ আমার পরিবারের নারী ও শিশু সহ ১০-১১ জন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে আহতরা সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী জানায়, আব্দুর রশিদ দুদু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা অপকর্ম করে থাকে।

    এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিপন মিয়ার স্ত্রী তাজনুরী বেগম (৪২) বাদী হয়ে, সোহান (২৬,) আতিক (২০),সেতু (২০), দুদু (৫৫),ভোলা (৫৮),সাবু (৫২), ফারুক (৪৫),পারভিন (৪৮) সহ ১৫ জনকে আসামি করে সাদুল্লাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

    তবে অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

    উক্ত ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি সহায়তা কামনা করেছেন।।

  • বানারীপাড়ায় শের-এ-বাংলা স্পোর্টস একাডেমির আয়োজনে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

    বানারীপাড়ায় শের-এ-বাংলা স্পোর্টস একাডেমির আয়োজনে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

    “মাদককে না বলো, মাদক ছেড়ে মাঠে চলো”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বানারীপাড়া হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হলো মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট। শের-এ-বাংলা স্পোর্টস একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় মুখোমুখি হয় এসএসসি ব্যাচ ২০২০ বনাম এসএসসি ব্যাচ ২০২৪।

    তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র হলে খেলা গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। সেখানে ১-০ গোলে এসএসসি ব্যাচ ২০২৪ বিজয়ী হয়।
    বায়েজিদুর রহমান।

    শের-এ-বাংলা স্পোর্টস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ বায়েজিদুর রহমান, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সৌরভ, যুবদল নেতা সোহাগ মুন্সি, রাব্বি সরদার, আকিব হাওলাদার এবং উপজেলা শ্রমিক দলের প্রচার সম্পাদক মোঃ আব্দুস সালাম।

    খেলাধুলার মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে থেকে তরুণ সমাজকে গঠনমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করার এই প্রচেষ্টাকে অতিথিরা সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

  • ‎মধুপুরে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীর কর্মীসভা অনুষ্ঠিত 

    ‎মধুপুরে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীর কর্মীসভা অনুষ্ঠিত 

    মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

    ‎টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র একাংশের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

    ‎শনিবার (২১ জুন) বিকেলে জেলা পরিষদের মধুপুর অডিটোরিয়ামে এ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

    ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন কর্মীদের  এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।  মধুপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ পান্না এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন 

    ‎বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জিয়া ফাউন্ডেশনের পরিচালক টাঙ্গাইল -১ (মধুপুর ও ধনবাড়ী)  আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী। কর্মী সভায়   প্রধান বক্তা ছিলেন মধুপুর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য ও বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন। 

    ‎বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি  অধ্যাপক মো. গোলাম মোস্তফা, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন খান বাবলু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন কবির তালুকদার, পৌর বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি ফজলুল হক মনি,  উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক এম এ মান্নান, পৌর যুবদলের সাবেক আহবায়ক মো. মিনজুর রহমান তালুকদার (নান্নু), মেহেদী হাসান মিনজু, সোহেল রানা মাছুম, মারফত আলী, আ: হামিদ সরকার, মো. শামছুল হক বাবলু, সরকার মনি, খন্দকার মারুফ আহমেদ, হামিদা খাতুন, আব্দুর রহমান, রানা চৌধুরী, জায়েদ হাসান জনী, শ্রাবণ হাবীব রুবেল প্রমূখ। 

    ‎উক্ত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সরকার আসাদুজ্জামান আসাদ। কর্মী সভার  মিডিয়া সহযোগিতায় ছিলেন সাবেক  যুবনেতা মনিরুজ্জামান আসিফ।

    ‎পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত দিয়ে শুরু করা কর্মীসভায় প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল মালেক ও গত আগস্টের হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে দোয়া করা হয়। তাঁদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

    ‎কর্মীসভায় মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী সহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতা কর্মীগন উপস্থিত ছিলেন।

  • রায়গঞ্জে বিএনপি জামায়াতের পা-ল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

    রায়গঞ্জে বিএনপি জামায়াতের পা-ল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বিএনপি’র ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদে জামায়াতের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ রবিবার (২২ জুন) বিকেল ৩ টায় রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে ধানগড়া পল্লী বিদ্যুৎ মোড় দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, “উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. আলী মর্তুজা।
    তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নওগাঁ শাহ শরীফ জিন্দানী মাজার মসজিদে আমরা জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে পৌঁছাই। সেখানে বিএনপির কয়েকজন এমপি প্রার্থী নেতা-কর্মীসহ মোটরসাইকেল শোডাউন নিয়ে পৌঁছালে আমরা অভ্যর্থনা জানাই। 
    ইমাম সাহেবের অনুরোধে খুতবা প্রদান ও ইমামতি করেন, জামায়াতের এমপি প্রার্থী ড. আব্দুস সামাদ। নামাজে সর্বস্তরের মানুষ একসঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। শেষে আগত বিএনপির নেতাকর্মীরা স্লোগানের মাধ্যমে পরিবেশ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। যা সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে অস্বস্তির সৃষ্টি করে। আমরা জানতে পারি কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যের নামে একটি বিশেষ মহল দাড়িপাল্লা মার্কা স্লোগান ব্যবহার করে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে।” সেখানে জামায়াতে ইসলামীর কোন নেতা কর্মীরা কোন স্লোগান ও মিছিল করে নাই।
    আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, জামায়াত জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের কোনো আওয়ামী পুনর্বাসন প্রকল্প নেই। আমরা মনে করি, রায়গঞ্জে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে একটি স্বাভাবিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। আমরা বিএনপি নেতৃবৃন্দকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্য পরিহারের আহ্বান জানাই।”

    এ সময় রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মো. আবুল কালাম বিশ্বাস, সেক্রেটারি ডা: মো. মুনছুর আলী, রায়গঞ্জ পৌর সভার সাবেক মেয়র মোশাররফ হোসেন আকন্দ, পৌর আমির হোসেন আলী, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ডা: কামরুল ইসলাম, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য খোরশেদ আলম, নজরুল ইসলাম,সুমন আহমেদসহ পৌর এবং ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • তরুণ প্রজন্মদের এআই প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই- ইউএনও আরিফুল ইসলাম প্রিন্স

    তরুণ প্রজন্মদের এআই প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই- ইউএনও আরিফুল ইসলাম প্রিন্স

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ 
    ময়মনসিংহের সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম প্রিন্স বলেছেন, ‘আগামীর বিশ্ব হবে এআই প্রযুক্তিনির্ভর। দিন দিন প্রযুক্তি আরো উন্নত হবে। আমরা এরই মধ্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে পদার্পণ করেছি। তাই এখন এআই প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। তিনি বলেন-দেশের তরুণ সমাজের ৮৪ শতাংশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি পরিচালনার দক্ষতা নেই। তরুণদের অনেকেই জানেন না, এআই কী এবং কীভাবে কাজ করে। অথচ তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে এআই দক্ষতা থাকা অতি জরুরি। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এ বিষয়ে দক্ষতার বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।
    রবিবার(২২ জুন) ময়মনসিংহ সদর উপজেলা হল রুমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ সদর এর আয়োজনে তারুণ্যের দক্ষতা উন্নয়নে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ( এআই) ভূমিকা বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
    উপজেলা আইসিটি অফিসার হাবিবুল্লাহ এর সভাপতিত্বে উক্ত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক  শিক্ষা অফিসার বেলায়েত হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ময়মনসিংহ জেলার শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, মাজহারুল ইসলাম।
    এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরুণ প্রজন্ম কে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও বর্তমান বিশ্বের সাথে নিজেদের কে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এআই এর বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর বিষয় কে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি আরো বলেন আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো বেশি প্রযুক্তি নির্ভর ও আধুনিক করতে এআই এর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে তরুণ প্রজন্ম কে আরো বেশি চিন্তাশীল হওয়ার আহবান জানান তিনি।
    সেমিনারে মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত সেমিনারে উপজেলা আইসিটি অফিসার এআই এর উপর একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এর পর অংশগ্রহণকারীরা তাদের মতামত প্রকাশ করেন এবং এই ধরনের সেমিনার বেশি করে আয়োজন করার জন্য কতৃপক্ষের নিটক অনুরোধ জানান।

  • পঞ্চগড়ে সর্বজনীন পেনশন মেলা : ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় সচেতনতা বৃদ্ধির আয়োজন

    পঞ্চগড়ে সর্বজনীন পেনশন মেলা : ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় সচেতনতা বৃদ্ধির আয়োজন

    পঞ্চগড় প্রতিনিধি :

    “সার্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন”—এই প্রতিপাদ্যে পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সর্বজনীন পেনশন মেলা-২০২৫। রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের যৌথ আয়োজনে জেলা সদরস্থ সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়।

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব আ ফ ম ফজলে রাব্বি বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন। এসময় জেলা প্রশাসক সাবেত আলী, সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুমন চন্দ্র দাশসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিরা মেলায় স্থাপিত ২৭টি স্টল পরিদর্শন করেন। এসব স্টলে ব্যাংক, বীমা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কিত তথ্য ও সেবা প্রদর্শন করে।

    এরপর সরকারি অডিটোরিয়াম হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও কর্মশালা। জেলা প্রশাসক সাবেত আলীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুগ্মসচিব আ ফ ম ফজলে রাব্বি। বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, ছাত্র প্রতিনিধি ফজলে রাব্বি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইন প্রমুখ। 

    সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (উপসচিব) সিরাজুম মনিরা। তিনি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন দিক ও সুবিধা তুলে ধরেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ ফ ম ফজলে রাব্বি বলেন, “এই মেলার উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে পেনশন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং অংশগ্রহণ বাড়ানো। সরকার পরিচালন ব্যয় বহন করলেও পেনশন স্কিমের সমস্ত মুনাফা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়, যা একে আরও লাভজনক করে তুলেছে।”

    তিনি আরও জানান, চলমান চারটি স্কিম—প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—তে গ্রাহকরা আগ্রহের ভিত্তিতে অংশ নিতে পারেন। এবারের বাজেটে গ্রাহক জমা ও কর্তৃপক্ষের বিনিয়োগের ওপর কর অব্যাহতি এবং জমার ৩০ শতাংশ এককালীন উত্তোলনের সুযোগ সংযোজন—এ স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

    আলোচনা ও কর্মশালায় অংশ নেন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণ।

    মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড়

  • খা-নাখন্দে ভরা ফুলবাড়িয়ার পলাশতলীর সেই রাস্তা

    খা-নাখন্দে ভরা ফুলবাড়িয়ার পলাশতলীর সেই রাস্তা

    মো. সেলিম মিয়া ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : দিন, মাস, বছর, যুগ পেরিয়ে গেলেও আশ্বাসের কোনদৃশ্যমান সাড়া না পাওয়া যায় হতাশ স্থানীয়রা। বলছিলাম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ১১ নং রাধাকানাই ইউনিয়নের বয়ারমারা টু আছিম সড়কের কথা। জনপ্রতিনিধিরা কথা না রাখলেই বা ভোক্তভোগিদের কী করার আছে? তবে বৈষম্যহীন বাংলাদেশে কী ঐ এলাকার মানুষ কোন আলোর দেখা পাবে?
    জানা যায়, রাধাকানাই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রামের নাম পলাশতলী। পলাশতলীর সুনাম জাতীয় পর্যায় ছাড়িয়ে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অপেক্ষায়। খ্যাতির উন্নয়ন যদি এমন হয়, তাহলে বিষয়টা কেমন হয়ে গেল নাহ! এ গ্রামের লাল চিনি জিআই পন্য হিসাবে শুধু প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায়। কৃষকের কাছে মওজুত চিনি সারা বছর বিক্রি হয়। কৃষকেরা ভালো দামের আশায় প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় এটি বিক্রি করে থাকে। আর পাইকাররা তা গ্রাম হতে সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে। রাস্তা খারাপ হওয়ায় চিনির দাম প্রান্তিক পর্যায় থেকে ভোক্ত পর্যায়ে অনেক পার্থক্য হয়। কারণ সংগ্রহ খরচ অনেক বেশি হয়।
    স্থানীয়রা বলছেন, গ্রামে-গঞ্জে অহরহ গাড়ী চলাচলের কারণে আমাদের রাস্তাগুলো এত খারাপ হয়ে যায়। এ রাস্তা গিয়ে আমাদের এলাকার প্রাচীনতমবাজার পলাশতলী বাজারে যেতে হয় হাজার হাজার মানুষকে। পলাশতলী বাজারে ২টি হাই স্কুল, ১টি মাদ্রাসা, ১ টি প্রাইমারি স্কুল সহ বেশ কয়েকটি কিন্ডার গার্ডেন রয়েছে। প্রতিদিন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার ছেলে মেয়েরা আসা যাওয়া করে। চলাচল অনুপযোগি রাস্তায় অনেক মেয়েরা ইভটিজিং এর শিকার হয়। কারণ কাঁদা মাড়িয়ে যাওয়ার সময় পড়নের ড্রেস অনেক সময় এলোমেলো হয়। এতে এক শ্রেণির ছেলেরা মেয়েদের সাথে কথা বলার সুযোগ পায়। প্রায় ৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটি পলাশতলী বয়ারমারা মোড় থেকে শুরু করে
    পলাশতলী বাজার পর্যন্ত অন্যদিকে বয়ারমারা মোড় থেকে ফুলবাড়ীয়া টু আছিম রাস্তায় মেইন সড়কে সংযোগ। যা বর্তমানে খানাখন্দে ভরা। বর্ষার সময় কাদা-পানিতে রাস্তাটি এতটাই নাজুক হয়ে পড়ে, স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে ওঠে। লাল মাটি অধ্যুষিত রাস্তায় বর্ষা মৌসুমে, এই রাস্তার ছোট বড় গর্তে পানি জমে যায়। তখন গাড়ি চলাচল তো দ‚রের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালিতেও চলাচল করা কঠিন। তা ছাড়া রাস্তার ছোট-বড় গর্তে ঘটছে দুর্ঘটনা। অসুস্থ রোগিকে জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে নিতে গেলে কোন প্রকার যানবাহন পাওয়া যায় না। এ রাস্তার পাশেই পলাশতলী পুর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
    স্থানীয় নাজমুল হোসেন জানান, রাস্তায় অনেক খানাখন্দ থাকায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুঘর্টনা ঘটছে। দোকানের মালামাল আনতে অটোরিকশা পাওয়া গেলেও গুনতে হয় অতিরিক্তি ভাড়া। এ রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে সুস্থ-সবল মানুষেরও নাভিশ্বাস ওঠে যায়।
    স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল এহেসান উজ্জল বলেন, রাস্তাটি চলাচলে মানুষের দুর্ভোগের স্বীকার। রাস্তাটি হেরিংবোন বন্ড (ইটের সোলিং) করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান।
    পলাশতলী আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.কে.এম সায়ফুল ইসলাম কাজল বলেন, বহু বছর ধরে এই রাস্তাটি উন্নয়ন কর্মকা- থেকে বঞ্চিত। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন কাঁদা-পানিতে ভিজে স্কুলে আসে, অনেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়, আবার অনেক সময় স্কুলে পৌঁছানোই সম্ভব হয় না। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ হাতে জুতা নিয়ে পায়ে হেঁটে স্কুলে আসে ।

  • তানোরে মৃৎশিল্প বিলু-প্তপ্রায়

    তানোরে মৃৎশিল্প বিলু-প্তপ্রায়

    তানোর প্রতিনিধি।।
    রাজশাহীর তানোরে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প বিলুপ্তপ্রায়।কালের বিবর্তন,আধুনিকতার ছোঁয়া ও মানুষের রুচির পরিবর্তনের ফলে মাটির তৈরি সামগ্রীর স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক, মেলামাইন, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি নানা রকম আধুনিক সামগ্রী। এ কারণে চাহিদা কম, কাঁচামালের দুস্প্রাপ্যতা, শ্রমিক সংকট ও চড়ামূল্য, সর্বোপরি পুঁজির অভাবে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তানোরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প।
    জানা গেছে, ইতিহাস ঐতিহ্যের পাতায় চোখ রাখলেই দেখা যাবে, মৃৎশিল্পের জন্য তানোর একসময় ছিল খুবই পরিচিত। কিন্তু কালের আবর্তে আজ তা বিলীন হতে চলেছে। ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে এ পেশার আকাল। হয়তো বা এমন দিন আসবে, যেদিন বাস্তবে এ পেশার অস্তিত্ব মিলবে না। শুধুমাত্র খাতা-কলমেই থাকবে সীমাবদ্ধ।
    এদিকে তানোর পৌরসদরের পালপাড়া মহল্লায় গিয়ে দেখা যায়, এ পেশার অনেকেই এখন পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিয়ে কেউ মুদিদোকান, চা স্টল, ফার্ম্মেসী আবার কেউ দিনমজুরের কাজ করছেন। উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) কামারগাঁ পালপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে,একইচিত্র।স্থানীয়রা জানান, যারা বংশপরম্পরায় এখানো এ পেশা ছাড়তে পারেননি, তাদের অনেকেই শিক্ষা, চিকিৎসাসহ আধুনিক জীবনযাত্রার সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
    মৃৎশিল্পীরা জানান, বর্তমানে মানুষের ব্যবহারিক জীবনে মৃৎশিল্পের আর বিশেষ ভুমিকা নাই।অথচ একটা সময় ছিল যখন মাটির তৈরি হাঁড়ি- পাতিল, থালা-বাসন, সানকি, ঘটি, মটকা, সরা, চারি, কলস, সাজ, ব্যাংক, প্রদীপ, পুতুল, কলকি, দেবদেবীর মূর্তি, টাইল ও ঝাঝরের বিকল্প ছিল না। ঋণ প্রদানে অনীহা ও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা আর প্রযুক্তি বিকাশের এ যুগে এ শিল্পের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধিত না হওয়ায় তা আজ আর প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। ফলে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অনেকে অন্য পেশার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। আগেকার দিনে মৃৎশিল্পের প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন এঁটেল মাটি, রঙ, যন্ত্রপাতি ও জ্বালানি ছিল সহজলভ্য। কিন্তু বর্তমানে এসব প্রয়োজনীয় উপকরণের দুমূর্ল্যের কারণে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। পূর্বে যেখানে বিনামূল্যে মাটি সংগ্রহ করা যেত, বর্তমানে এ মাটিও অগ্রিম টাকায় কিনতে হচ্ছে।
    সাধারণত মৃৎপাত্রগুলো কুমার পরিবারের নারী- পুরুষ উভয়ে মিলেমিশে তৈরি করে থাকেন। তৈরিকৃত সামগ্রী বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে কিনে নেন। অনেকে আবার বাড়ি বাড়ি ফেরি করে বিক্রি করেন। বর্ষা মৌসুমে কাজ বন্ধ থাকায় মৃৎশিল্পীদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ যায়। এ সময় কুমাররা সারা বছর কাজ করার জন্য এঁটেল মাটিসহ প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহে নেমে পড়েন। তবে যাদের নৌকা আছে তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মাটির তৈরী তৈজসপত্র বিক্রি করেন।অন্যদিকে
    পুঁজির অভাবে অনেকে মহাজনের কাছ থেকে চড়াসুদে টাকা ঋণ নেন। শুষ্ক মৌসুমে কাজ করে যা উপার্জন হয় তার বেশির ভাগই চলে যায় মহাজনের ঋণ পরিশোধ করতে। এভাবে মৃৎশিল্পীরা যুগযুগ ধরে থেকে যাচ্ছেন সহায় সম্বলহীন হয়ে।
    এদিকে কালের বিবর্তনে মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য আজ বহুলাংশে বিলুপ্ত হচ্ছে। শুধু তানোর নয়, গোটা বরেন্দ্র অঞ্চলে এ পেশায় নেমে এসেছে নেমে এসেছে এক চরম বিপর্যয়। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার ব্যাপারে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। অথচ এ শিল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবো, তেমনিভাবে প্রাচীন সভ্যতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে এ পেশাটি। এর মাঝেই জাতির ইতিহাস খুঁজে পাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।#