Category: দেশজুড়ে

  • ঝিনাইদহে জুলাই গণঅ-ভ্যুত্থান স্মরনে ড্যাবের র-ক্তদান কর্মসুচি

    ঝিনাইদহে জুলাই গণঅ-ভ্যুত্থান স্মরনে ড্যাবের র-ক্তদান কর্মসুচি

    ঝিনাইদহ জেলা সংবাদদাতাঃ
    ঝিনাইদহে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শোক, বর্ষপূর্তি ও শহিদদের স্মরণে রক্তদান ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির উদ্যোগে কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা সেচ্ছায় রক্তদান করেন। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ডক্টর’স এসোসিয়েশনের (ড্যাব) আয়োজিত এ রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপির সভাপতি এ্যাড এম এ মজিদ।

    ডক্টর’স এসোসিয়েশনের (ড্যাব) ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি ডা. হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন ডা কামরুজ্জামান, ড্যাবের জেলা সহ সভাপতি ডা. আব্দুল খালেক, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, আক্তারুজ্জামান, এনামুল হক মুকুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম শাহজাহান, আসিফ ইকবাল মাখন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পাপ্পু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম, মহিলা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ কামরুন্নাহার লিজি, সাধরণ সম্পাদক তহুরা খাতুন ও জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মানিকসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    বিএনপির সভাপতি এ্যাড এম এ মজিদ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের লড়াই করতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। এই মাস একদিকে যেমন শোকের অন্যদিকে আনন্দেরও।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।।

  • গোদাগাড়ীতে বিজিবির হাতে গুপ্তচ-র সন্দেহে আট-ক আশা কারাগার থেকে ফিরে গেলেন বাবার বুকে

    গোদাগাড়ীতে বিজিবির হাতে গুপ্তচ-র সন্দেহে আট-ক আশা কারাগার থেকে ফিরে গেলেন বাবার বুকে

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ সন্তানকে কেড়ে নেওয়া, স্বামীর তালাক আর শৈশবে মায়ের মৃত্যু-সব মিলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন নওগাঁর মেয়ে আশা বানু (২৩)। দেড় মাস আগে ভারতীয় নাগরিক সন্দেহে সীমান্ত থেকে আটক হয়ে কারাগারে যাওয়ার পরও কিছু বলতে পারছিলেন না।

    অবশেষে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের কর্মকর্তাদের আন্তরিক চেষ্টায় ধীরে ধীরে মুখ খুললেন তিনি। জানালেন নিজের নাম-ঠিকানা, বাবার নাম। শেষ পর্যন্ত বাবার কাছে ফিরে গেলেন কান্নাজড়িত আবেগঘন পরিবেশে।

    উল্লেখ্য গত ১৬ মে রাত সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর গহোমাবোনা সীমান্তে পদ্মা নদীর ধারে তাঁকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে আটক করে বিজিবি। কোনো কথা না বলায় ও সঠিক পরিচয় না জানানোয় তাঁকে ভারতীয় নাগরিক ও গুপ্তচর সন্দেহে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর দেহে কোনো সমস্যা নেই। এরপর ১৭ মে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

    কারাগার সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের মীর মোস্তাফিজুর রহমান ও ফরিদা বেগমের মেয়ে আশা বানু। স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন তিনি। তাঁদের ১০ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। ২০২২ সালে সন্তানকে কেড়ে নিয়ে স্বামী তালাক দিয়ে তাঁকে তাড়িয়ে দেন। এরপর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন আশা।

    কারাগারে আসার পরও দীর্ঘদিন কিছু বলেননি আশা। কারা কর্তৃপক্ষ বারবার কথা বলার চেষ্টা চালিয়ে যান। একদিন অবশেষে মুখ খোলেন তিনি। বলেন, তিনি ভারতীয় নন, নওগাঁর হাকিমপুর গ্রামের মীর মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে। তখনই তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

    সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান জানান, প্রথমে বাবার ছবি তুলে আশাকে দেখানো হয়। তিনি চিনে ফেলেন। এরপর বাবাকে কারাগারে এনে আরও কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে দাঁড় করানো হয়। ভেতর থেকে মেয়েকে চিনে নেন বাবা।

    বাবা-মেয়ের মিলনের মুহূর্তে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন দুজনেই। এরপর জেল সুপার ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করে জামিন প্রক্রিয়া শুরু করেন। গতকাল বুধবার বিকেলে মুক্তি পান আশা বানু।
    কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আশা বানুর বাবা বলেন,‘এবারও মেয়েকে হারিয়ে থানায় জিডি করেছিলাম। অনেক খুঁজেও পাইনি। আল্লাহর রহমতে মেয়েকে ফিরে পেলাম।’
    কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে আশা বানু শুধু বলেন,
    ‘হামি মনে করেছিলাম ঢাকায় যামু, চাকরি করমু। পরে কই গেছি মনে করতে পারিনি। বিজিবি বা পুলিশের প্রশ্নেরও উত্তর মনে পড়ছিল না।’

    সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান বলেন, ‘মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগবে। হাজিরা দিতে হবে তাঁকে।’দীর্ঘ দেড় মাসের নিস্তব্ধতার পর নিজের পরিচয় ফিরে পাওয়া আর বাবার বুকে ফিরে যাওয়ার আনন্দেই আজ উজ্জ্বল আশা বানু।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী

  • স্বরূপকাঠী পৌর বিএনপি’র ওয়ার্ডের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে

    স্বরূপকাঠী পৌর বিএনপি’র ওয়ার্ডের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে

    আনোয়ার হোসেন,

    নেছারাবাদ উপজেলা সংবাদদাতা।।

    নেছারাবাদ উপজেলার স্বরূপকাঠী পৌর বিএনপি’র ওয়ার্ডের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) উপজেলার মুক্তিযোদ্ধ সংসদের হলরুমে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
    দুপুর বারটার দিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকা উদ্ধোধন করেন আগত অতিথি সহ পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। পরে পবিত্র কুরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে সম্মেলন শুরু হয়। স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির আহবায়ক মো: শফিকুল ইসলাম ফরিদের সভাপতিত্বে, ও সদস্য সচিব আলহাজ্ব মোঃ কাজী কামাল হোসেন এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, প্রধান অতিথি পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্য মো: আলমগীর হোসেন। পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো: গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামান, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য মো: নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।
    স্বরূপকাঠি পৌরসভার ওয়ার্ড পর্যায়ের কাউন্সিলে প্রধান অতিথির উদ্বোধনি বক্তব্যে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে। তাই আমরা তারেক রহমানের দেয়া ৩১ দফার আলোকে সুন্দর একটি বাংলাদেশ বির্নিমান করব। বাংলার ঘরে ঘরে ৩১ দফা পৌছে দেব।
    স্বরূপকাঠী পৌর বিএনপি’র কাউন্সিল নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি, সাধারন সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাকক নির্বাচিত করেন। দুপুর দেড়টায় গোপন ব্যালোটের মাধ্যমে ভোট শুরু হয়ে চারটায় শেষ হয়। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড থেকে ১০০ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করে সভাপতি, সাধারন সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাকক নির্বাচিত করেন। এতে ১নং ওয়ার্ড থেকে সভাপতি মোঃ নছির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন, ২নং ওয়ার্ডে সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাওসার আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান নান্টু, ৩নং ওয়ার্ডে সভাপতি মোঃ মহসিন মিলু, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম বিল্লাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রিপন হোসেন, ৪নং ওয়ার্ডে সভাপতি আঃ সোবহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক, মোঃ হুমায়ুন কবির স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ৫নং ওয়ার্ডে সভাপতি কাজী ফয়সাল শুভ্র, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাকির রায়হান, ৬নং ওয়ার্ডে সভাপতি মোঃ চাঁন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাজী মনিরুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ লিটন মিয়া, ৭নং ওয়ার্ডে সভাপতি মোঃ আনিছুর রহমান বাদল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মন্টু মিয়া, ৮নং ওয়ার্ডে সভাপতি মোঃ মনিরুল ইসলাম মামুন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ লোকমান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রাসেল বিশ্বাস, ৯নং ওয়ার্ডে সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন।

  • ‘আমি পা-চারকারী নই, একজন প্রবাসীর সন্তান’ — সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন

    ‘আমি পা-চারকারী নই, একজন প্রবাসীর সন্তান’ — সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন

    হারুন অর রশিদ,

    দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ
    ‘চোরাকারবারি ও মানব পাচারকারী’ হিসেবে সংবাদমাধ্যমে নিজের নাম উঠে আসায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ইদুকোনা গ্রামের প্রবাসী আনোয়ার হোসেন’র পুত্র মো. এমরান হোসেন।
    বুধবার (৩ জুলাই ২০২৫)দুপুরে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধে জড়িত নই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমাকে ও আমার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।’
    সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকায় ‘মানব পাচারকারী এমরান হোসেন বিজিবির হাতে আটক’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এমরান বলেন, ‘আমার বাবা আনোয়ার হোসেন ৩৫ বছর ধরে সৌদি আরবে পরিশ্রম করে আমাদের পরিবারকে গড়ে তুলেছেন। আমি নিজেও সৎভাবে মোটরসাইকেলে পরিবহন কাজ করে জীবিকা চালাই। অথচ এখন আমাদের বিরুদ্ধে চোরাচালান, ইয়াবা পাচার, এমনকি ‘মহিষের পেটে ইয়াবা পাচার’—এই রকম হাস্যকর অভিযোগও তোলা হচ্ছে।’
    তিনি দাবি করেন, যাদের বিজিবি আটক করেছে তারা কেউই তাঁর পরিচিত নন। সংবাদে যেসব আত্মীয়ের নাম এসেছে, তারাও এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত নন।
    এমরান হোসেন বলেন, ‘কোনো ধরনের সত্য প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ বা লেনদেনের তথ্য থাকলে প্রশাসন যেন তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়। আমি তদন্তে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত, তবে গুজবের ভিত্তিতে আমার ও আমার পরিবারের সম্মান নষ্ট না হয়।’
    তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানান—তথ্য যাচাই ছাড়া এমন মানহানিকর সংবাদ যেন আর প্রকাশ না হয়। একই সঙ্গে অপপ্রচার চালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান।
    শেষে তিনি বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ নাগরিক, প্রবাসীর সন্তান—সেই সম্মান নিয়েই বাঁচতে চাই।’
    সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজ মিয়া, আজিম মিয়া, ইয়াকুব আলী, আব্দুছ সালাম, মহসিন প্রমুখ। এ সময় উপজেলায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মহেশপুরে ফতেপুর ইউনিয়নে তারেক রহমান কর্তৃক রাষ্ট কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার উপর আলোচনা সভা

    মহেশপুরে ফতেপুর ইউনিয়নে তারেক রহমান কর্তৃক রাষ্ট কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার উপর আলোচনা সভা

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতাঃ-
    ৩ জুলাই বিকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ২নং ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে ইউপির ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্দ্যোগে কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান কতৃক ১৩ই জুলাই ২০২৩ ইং তারিখে জাতির সামনে উপস্থাপিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার উপর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ শরিফুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ লাল মিয়ার নেতৃত্বে উক্ত ৩১ দফা রাষ্ট কাঠামো মেরামত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি মোঃ ওমেদুল ইসলাম (মাষ্টার) বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ২ নং ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ গোলাম ফারুক খাঁন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ উমর আলী ভুইয়া, সিনিয়র যু্গ্ন সাধারণ সম্পাদক মীর মোঃ কবীর হোসেন, যুগ্ন সম্পাদক মোঃ সজল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সেচ্চাসেবক দল যুগ্ন সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডের পুরুষ ও মহিলা দল সংগঠনের নেতৃৃবৃন্দ প্রমুখ৷ প্রধান অতিথি সহ সকল বক্তারা তাহাদের বক্তব্যে তারকে রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো ৩১ দফা বাস্তবায়ন মেরামতের কথা তুলে ধরেন।
    এসময় উপজেলা বিএনপির সদস্য মোঃ শেরআলী বিশ্ব্যাস, উপজেলা তাঁতীদল সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা, ইউনিযন বিএনপির সাবেক সাধারণ ও সম্পাদক দলীল লেখক মোঃ আসাদুর রহমান, সাবেক কৃষকদল সভাপতি মোঃ মুজিবর রহমান, যুবদল নেতা মিজানুর রহমান, মকলেচুর রহমান, সাদ্দাম হোসেন, আয়নাল হক, রসুল মিয়া, লিটন হোসেন ও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • বানারীপাড়া পৌরশহরের সড়কগুলো এখন জনগনের জন্য ম-রন ফাঁ-দ

    বানারীপাড়া পৌরশহরের সড়কগুলো এখন জনগনের জন্য ম-রন ফাঁ-দ

    বিশেষ প্রতিনিধি।।

    বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার সড়কগুলোর কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দে পরিনত হয়েছে। সড়কগুলোতে ছোট বড় অসংখ্য পুকুরের মতো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যার কারনে সড়কে চলাচলরত যানবাহন প্রায় দিনই বিপদের সম্মূখিন হচ্ছে।এ থেকে ঘটতে পারে বড় কোনো দূর্ঘটনা।পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড থেকে ৯ নং ওয়ার্ড পর্যন্ত কোনো সড়কই মানুষের চলাচলের উপযুক্ত নেই।ফেরিঘাট থেকে বাসস্ট্যান্ড হয়ে হাসপাতালে প্রসূতি রোগী,বৃদ্ধ ও অন্যান্য অসুস্থ মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। কিন্তু সড়কের বেহাল দশা হওয়ার কারনে এসব মানুষ খরার উপরে মরার ঘা পরিস্থিতির শিকার হন।এছাড়াও ১ নং ওয়ার্ডের সকল সড়ক,২নং ওয়ার্ডের বন্দর বাজার হয়ে নাজিরপুর যাওয়ার বাইপাস ,কলেজ মোড় হয়ে নাজিরপুর যাওয়ার সড়ক,ডাকবাংলো হয়ে ৪,৫ ও ৭নং ওয়ার্ডে যাওয়ার সড়ক, বানারীপাড়া হাইস্কুলের সামনের ও পিছনের দুইটি বাইপাস,বানারীপাড়া কলেজ হয়ে হাইস্কুলে যাওয়ার সড়কসহ পৌরসভার সকল সড়কেরই এ বেহাল দশা।তাছাড়াও পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নিম্নমানের হওয়ার কারনে বিভিন্ন সড়ক,মাঠ ও জলাশয়ে পানিবদ্ধতার সৃস্টি হয়।পৌরসভায় রয়েছে একটি কলেজ,একটি আলিম মাদ্রাসা, একটি ফাজিল মাদ্রাসা,তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়,দুইটি প্রাইমারি স্কুল, দুইটি কিন্ডারগার্টেন, কয়েকটি নূরাণী ও হাফেজি মাদ্রাসা।সড়কগুলোর অবস্থা খারাপ হওয়ায় এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

    পৌরবাসী অভিযোগ করে বলেন নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করেও তারা পৌরসভা থেকে তেমন কোনো উন্নত সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না।তারা এর কারণ হিসেবে জানান বিগত সরকারের সময়ে অনেক ঠিকাদার আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন।তারা পৌরসভা থেকে বিভিন্ন কাজের কন্টাক্ট নিয়ে নিম্নমানের কাজ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।যার ভুক্তভোগী হয়েছেন পৌরসভায় বসবাসরত কয়েক হাজার জনগণ।

    সড়ক,ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অন্যান্য সমস্যা সম্পর্কে পৌর প্রশাসক মোঃ আহসান হাফিজের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান যে সকল সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে তা মেরামত করা,ড্রেনগুলো পানি চলাচলের উপযুক্ত করাসহ অন্যান্য যে সকল সমস্যা আছে তা দ্রুত সমাধানের জন্য তিনি তার পৌর কর্তৃপক্ষ জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

  • মোংলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

    মোংলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

    বায়জিদ হোসেন,
    মোংলা প্রতিনিধি।
    মোংলায় আলোচনা সভা, কেক কাটা, র‍্যালী ও গাছের চারা বিতরণের মধ্যদিয়ে এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এনটিভি ২২ বছর থেকে ২৩ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে ৩ জুন (বৃহস্পতিবার) সকালে স্থানীয় একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি। আর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম, মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শাহীন, মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন, মোংলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, মোংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুল হায়দার ইকবাল ও মোংলা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক নুর আলম শেখ।
    এ সময় বক্তারা বলেন, এনটিভি আস্থা, বিশ্বাস ও ভালবাসার প্রতীক। এনটিভি তাদের অর্জিত সুনাম ধরে রেখেছে। আশা করছি আগামীতে এনটিভি আরো বেশি সমৃদ্ধ হবে। এনটিভির সংবাদ নিরপেক্ষতার কারণে দিনকে দিন জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।

    আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা কেক কেটে এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন। এরপর এনটিভির পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। আর অনুষ্ঠান শেষে বের হয় এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‍্যালী।র‍্যালীতে আমন্ত্রিত অতিথিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের লোকজন অংশ নেন। এছাড়া অনুষ্ঠানের শুরুতেই জুলাই শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

  • সাভারে আলোচিত চাঞ্চল্যকর হ-ত্যাকান্ডের প্রধান আসা-মীকে গ্রেফ-তার করেছে র‍্যাব

    সাভারে আলোচিত চাঞ্চল্যকর হ-ত্যাকান্ডের প্রধান আসা-মীকে গ্রেফ-তার করেছে র‍্যাব

    হেলাল শেখঃ ঢাকার সাভারের কাটপট্টিতে চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত রুহুল আমিন হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী শামীম (২৪) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪।

    বৃহস্পতি বার (০৩জুলাই ২০২৫ইং) দুপুরে র‍্যাব ৪ এর পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতর মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে গতকাল বুধবার (০২জুলাই) সন্ধ্যায় রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার গোয়ালন্দ মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    র‍্যাব-৪ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিহত রুহুল আমিন (২৫) এর সাথে আসামী শামীম (২৪) এর তুচ্ছ ঘটনায় কথা কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। পরে উক্ত বিষয়ের জের ধরে গত ২৭ জুন ২০২৫ তারিখ দুপুরে সাভার থানার কামাল রোড সংলগ্ন কাটপট্টি নামক স্থানে গ্রেফতারকৃত আসামী নিহত মোঃ রুহুল আমিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে পিঠের মাঝ বরাবর আঘাত করাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাথাড়ি আঘাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে পথচারীরা নিহত মোঃ রুহুল আমিনকে মূমুর্ষ অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করে,পরে ঔদিনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুহুল আমিন মৃত্যুবরণ করেন। এরপরে সাভার মডেল থানায় মামলা রেকর্ড হয়। র‍্যাব-৪ এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীকে আটকের জন্য ছায়া তদন্ত শুরু করে।

    পরবর্তীতে সাভার থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচন পত্রের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৪, সিপিসি-২ এবং র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ২জুলাই রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যা মামলার প্রধান আসামী শামীমকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা যায়।

  • ঢাকার আশুলিয়ায় লা-শ পো-ড়ানোর মামলায় ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফ-তারি পরো-য়ানা

    ঢাকার আশুলিয়ায় লা-শ পো-ড়ানোর মামলায় ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফ-তারি পরো-য়ানা

    হেলাল শেখঃ জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর মামলার সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় মামলার পলাতক সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    বুধবার (২ জুলাই ২০২৫ইং) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

    এর আগে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ৬জনকে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর মামলার ট্রাইব্যুনালে ১৭৩ পৃষ্টার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

    বুধবার সকালে ছয় মরদেহ পোড়ানোর এ মামলায় সাত আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ, ডিবি পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক ও কনস্টেবল মুকুল।

    ২৪ জুন জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয় জনকে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের জন্য ২ জুলাই নির্ধারণ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    এর আগে গত ১৯ জুন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পায় প্রসিকিউশন। এদিন, সকালে এই মামলায় গ্রেফতার পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ হিল কাফি, শাহিদুল ইসলামসহ ৭ জনকে হাজির করা হয় ট্রাইব্যুনালে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ, ডিবি পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক ও কনস্টেবল মুকুল।

    গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ৫ জন। একজন গুরুতর আহত হন। পরে ৫ জনের মরদেহ এবং আহত একজনকে পুলিশ ভ্যানে তুলে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

    প্রসিকিউশন জানায়, এ ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। এদিকে সারা দেশের চেয়ে সবচেয়ে বেশি মামলা বাণিজ্য করা হয়েছে আশুলিয়ায়, মামলার ভুয়া বাদী সায়েব আলী জলিলসহ ভুয়া মামলায় সাধারণ মানুষ অনেকেই হয়রানি ও মামলা বাণিজ্যের শিকার হয়েছেন।

  • হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন: ধর্মীয় বন্ধন থেকে আইনি স্বীকৃতির পথে

    হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন: ধর্মীয় বন্ধন থেকে আইনি স্বীকৃতির পথে

    লিটন মাহমুদ, মুন্সীগঞ্জঃ
    বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিবাহ শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, একটি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় আচার অনুসারে সম্পন্ন হওয়া বিবাহকে যথেষ্ট বলে বিবেচনা করা হলেও সময়ের পরিবর্তনে এখন এই সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নারীর অধিকার রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আজ এই সম্পর্কের শুধু ধর্মীয় নয়, আইনি ভিত্তিও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন একটি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।হিন্দু বিবাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে যে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে, তা এখন কেবল নথিভুক্তির বিষয় নয়—বরং নারী-পুরুষের সম্মান, অধিকার ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার অন্যতম নিয়ামক।
    হিন্দুশাস্ত্র মতে বিবাহ: হিন্দুশাস্ত্র মতে, বিবাহ হলো সমগ্র জীবনে যে দশটি সংস্কার বা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান রয়েছে তার মধ্যে পবিত্র ও শ্রেষ্ঠ সংস্কার। এটি মানবজীবনের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় দায়িত্ব, যেখানে নারী ও পুরুষ সংসার ধর্ম পালন ও চারটি পুরুষার্থ—ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষ অর্জনের উদ্দেশ্যে একসঙ্গে পথচলা শুরু করে। বিবাহ নারী-পুরুষের মধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধন স্থাপন করে এবং গৃহস্থ্য জীবনের সূচনা করে। এটি কেবল পারস্পরিক সম্পর্ক নয়, দুইটি পরিবারের মধ্যে আত্মিক বন্ধনও গড়ে তোলে।
    বাংলাদেশের হিন্দু বিবাহের প্রচলিত রীতি: বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহ সাধারণত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অনুসরণ করেই অনুষ্ঠিত হয়। পুরোহিতের উপস্থিতিতে মন্ত্র পাঠ, মালাবদল, অগ্নিসাক্ষী, সাত পাক ঘোরা, সিঁথিতে সিঁদুরদান ইত্যাদি ধাপে বিবাহ সম্পন্ন হয়। এই আচারগুলো বিবাহের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং হিন্দু ধর্ম মতে পরিহার্য অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। তবে এসব বিবাহে ধর্মীয় রীতিতে সমাজে বৈধ বিবেচিত হলেও রাষ্ট্রের কাছে এর কোনো লিখিত স্বীকৃতি থাকত না।ফলে আইনি দলিল ছাড়া এই বিবাহ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায় না।
    কেন প্রয়োজন হলো বিবাহ নিবন্ধন আইন: দেশের প্রচলিত আইনে মুসলিম, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের বিবাহ নিবন্ধনের বিধান থাকলেও হিন্দুদের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা ছিল না। নিবন্ধন ছাড়া বিবাহের আইনি স্বীকৃতি না থাকায় বহু হিন্দু নারী ও সন্তান নানা সময়ে ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার বা বৈধতার প্রশ্নে বঞ্চিত হন। স্বামী যদি সম্পর্ক অস্বীকার করেন বা হঠাৎ মারা যান, তবে নারীর হাতে কোনো লিখিত প্রমাণ না থাকায় আইনগত অধিকার হারিয়ে ফেলেন। এসব সমস্যার প্রতিকার ও নারীর অধিকার নিশ্চিত করতেই হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন প্রণয়নের দাবি ওঠে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে ২০১২ সালে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ প্রণয়ন করা হয়, যা ২০১৫ সালে জাতীয় সংসদে পাশ হয়।
    এই আইন কী এবং কাদের জন্য: আইন অনুযায়ী, হিন্দু রীতিতে সম্পন্ন বিবাহ নিবন্ধনের মাধ্যমে আইনি স্বীকৃতি পায়। এটি বাধ্যতামূলক না হলেও, যেকোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ এই আইনের আওতায় বিবাহ নিবন্ধন করতে পারেন। তবে শর্ত হলো—উভয় পক্ষকেই হিন্দু হতে হবে, এবং বিবাহ অবশ্যই ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হতে হবে।
    আধুনিক যুগে বিবাহ নিবন্ধনের সুবিধা: সমাজে নারীর অধিকার, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং দাম্পত্য জীবনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিবাহ নিবন্ধন এখন সময়ের দাবি। এটি নারীকে প্রতারণা ও অবহেলার হাত থেকে রক্ষা করে, আইনি সুরক্ষা দেয় এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করে।
    কী সুবিধা মেলে নিবন্ধনে: বিবাহের বৈধতা আইনত প্রতিষ্ঠা পায়। সন্তানের পরিচয় ও অধিকার নিশ্চিত হয়। স্বামী বা স্ত্রীর নামে সম্পত্তি দাবি করা সহজ হয়। পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামী-স্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্তি সহজ হয়। আদালতে বিবাহ প্রমাণ সহজ হয়। ভবিষ্যৎ বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ বা সন্তান অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে সুবিধা মেলে।
    নিবন্ধন না করলে কী অসুবিধা: আদালতে বিবাহ প্রমাণ করতে ব্যর্থতা। নারী দাম্পত্য সম্পর্কের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন ফলে সম্পত্তি বা ভরণপোষণ দাবি জটিল হতে পারে। সন্তানদের জন্মনিবন্ধনে সমস্যার সৃষ্টি। সন্তানদের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সম্পত্তির উত্তরাধিকার, ভরণপোষণ, পেনশন দাবিতে জটিলতা দেখা দেয়। পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রে ‘ম্যারেড’ হিসেবে প্রমাণ অসম্ভব। বিদেশগমন বা সরকারি কাজে বিবাহিত পরিচয় প্রমাণ করা কঠিন হয়। ভবিষ্যতে আইনি লড়াইয়ে দুর্বলতা।
    নিবন্ধনের পদ্ধতি: সিটি কর্পোরেশন, জেলা বা উপজেলার হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের কাছে আবেদন করতে হয়।বিয়ের মন্ডপে বা বিয়ের পর পাত্র-পাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, বিবাহের তারিখ, স্থান ও সাক্ষীদের তথ্যসহ নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়।
    শর্তাবলী: পাত্রের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর এবং পাত্রী ১৮ বছর। উভয় পক্ষ হিন্দু হতে হবে। বিবাহ ধর্মীয় রীতিতে সম্পন্ন হতে হবে। উভয় পক্ষের সম্মতি আবশ্যক। পূর্বে বিবাহিত হলে উপযুক্ত কাগজপত্র (মৃত্যু সনদ বা বিচ্ছেদ দলিল) থাকতে হবে।
    বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়: বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আলাদা বিধান না থাকলেও পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে এ বিষয়ে মামলা করা যায়। তবে এখনো কোনো পৃথক “হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ আইন” নেই, ফলে এ ক্ষেত্রে আদালতের ব্যাখ্যা ও পূর্বের রায় অনুসারে সিদ্ধান্ত হয়। বিচ্ছেদের পরে নারীরা স্বামীর নাম ব্যবহার বন্ধ করতে পারেন বা চালিয়ে যেতে পারেন, যা একান্তই তাঁদের পছন্দের ব্যাপার। বিচ্ছেদের পর স্বামী ভরণপোষণ দিতে বাধ্য, যদি স্ত্রী নিজে উপার্জনক্ষম না হন। সন্তানের দায়িত্ব—বিশেষ করে যদি সন্তান সাবালক না হয়—তা নির্ধারণ করে আদালত, যা সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করেই হয়। বিচ্ছেদের পর পুনরায় বিবাহ করতে আইনি বাধা না থাকলেও, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এখনো অনেক ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, বিশেষত নারীদের জন্য।
    হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত না দিয়ে, বরং সম্পর্ককে একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে নারী-পুরুষ উভয়ের অধিকার নিশ্চিত করে। এটি হিন্দু সমাজের জন্য এক ইতিবাচক অগ