সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ)ঃ ঢাকার আশুলিয়ার নবীনগরে দিনে দুপুরে নগদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনতাই, একই দিন গাজিরচট এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের সাথে গুলাগুলি ও চিত্রশাইল, জামগড়ায় পৃথক স্পটে কিশোর গ্যাং মাদক মাদক সন্ত্রাসীসহ ছাত্র-জনতা হত্যাকারীরা শক্তিশালী হওয়ায় কঠোর অবস্থানে পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রায়ই সন্ত্রাসী হামলায় আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটছে বলে এলাকাবাসী জানায়। এর আগে একদিনেই পৃথক স্থানে সন্ত্রাসী হামলা আহত হয়েছেন ৫ জন, আহতদের মধ্যে ৩ জনকে চিকিৎসার জন্য সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসব ঘটনায় পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রবিবার (৬ জুলাই ২০২৫ইং) দুপুরে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, একটি মহল আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে, আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হান্নান সাহেবসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান, কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীসহ হত্যাকারী অপরাধীদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। সূত্র জানায়, ঢাকার আশুলিয়ায় মামলা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কারণে ১০ মাসে ৫জন ওসি ক্লোজ বা বদলির ঘটনার পর এবার আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হান্নান নবনিযুক্ত হয়েই তার নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান চলমান রেখেছেন।
দেশে বর্তমানে মামলার সংখ্যা ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ১৬৮টির মধ্যে ঢাকার আশুলিয়ায় সবচেয়ে বেশি মামলা বাণিজ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মামলা নিষ্পত্তির তুলনায় দায়ের বেশি। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই বেড়েছে ৫৪ হাজার মামলা, এসব মামলার মধ্যে আশুলিয়ায় সবচেয়ে বেশি মামলা বাণিজ্য করেছে দালাল চক্র। গত বছর শেষে এ সংখ্যা ৪৫ লাখ ১৭ হাজার ২০১। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলা নিষ্পত্তির তুলনায় দায়েরের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মামলার জট বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি মামলার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা কম থাকায় নিষ্পত্তিও বাড়ছে না। তাই এখনই মহাপরিকল্পনা করে পাহাড়সম এ মামলার জট নিরসন করতে হবে। বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে মামলাজট নিরসনে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, তথ্যগুলো সংরক্ষিত।
অন্যদিকে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে একটি চক্র বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল, ব্যবসা দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সাংবাদিকদের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করছে তারা। ভুয়া বাদী হয়ে মিথ্যা মামলায় সাধারণ মানুষের নাম দিয়ে মামলা বাণিজ্য করছে মামলাবাজরা, গত ৫ আগষ্টে ছাত্র-জনতা হত্যাকারীরাই অনেকেই মামলা বাণিজ্য করছে, ওরা জাতীয় মামলাবাজ। অপরাধীদের নাম প্রকাশসহ থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসছে। কোনকিছুতে সুবিদা না পেয়ে “সৈরাচারমুক্ত সুবিদাবাদ বিরোধী এক্সপ্রেস” নামে ফেসবুক ফেইক আইডিসহ একাধিক আইডি থেকে সম্মানিত থানার ওসি অফিসার, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন ছবি পোস্ট করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহল জানায়, এসব ফেইক আইডিসহ যেসকল আইডি থেকে ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে যারা, তাদেরকে আটক করে আইনের আওতায় এনে কঠিন সাজা দিলে আর কেউ এমন সাহস করবে না। সূত্র জানায়, সৈরাচারমুক্ত সুবিদাবাদ বিরোধী এক্সপ্রেস ফেসবুক আইডি আশুলিয়া থেকে চালানো হচ্ছে অপপ্রচার।
রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন থানা ও পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্রগুলো পুরোপুরি ভাবে উদ্ধার কেন হচ্ছে না, সেই সাথে বাংলাদেশ পুলিশসহ ছাত্র-জনতা হত্যাকারীরাও কেন গ্রেফতার হচ্ছে না তা জাতি জানতে চায়। ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইলে ৫ আগষ্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনার আড়ালে কি ঘটনা ঘটছে তা জাতি জানতে চায়। কারা করছে হত্যাকাণ্ড আর কারা হলেন এসব মামলার আসামী, কারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন আর কারা আটক হলেন? এবং এসব মামলার বিষয়ে পুলিশ ও প্রকৃত সাংবাদিকের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করছে কারা?। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়া থানার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের শরীফ মার্কেট এলাকার মোঃ ওয়াহেদ মোল্লার ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম ওরফে শরীফ মোল্লার বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার উপর হামলায় হত্যা চেষ্টা এবং হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা থাকলেও পুলিশ কেন তাকে গ্রেফতার করছেন না তা জাতি জানতে চায়। আশুলিয়া থানার স্বারক নং ৫২৯০(৪)১ তারিখ: ২২/০৯/২০২৪ইং ধারাসহ অপরাধ এবং লুণ্ঠিত দ্রব্যাদি সংক্ষিপ্ত বিবরণ, ১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩০২/ ১১৪/৩৪ প্যানাল কোর্ট, ১৮৬০পরস্পর যোগসাজসে অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া দাঙ্গা হাঙ্গামা করতঃ মারপিট ও গুলিবর্ষণ করিয়া হত্যা করাসহ হুকুম প্রদানের অপরাধ,আশুলিয়া থানায় এই হত্যা মামলার ২০ নং আসামী মোঃ শরিফুল ইসলাম মোল্লা। তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একাধিক জিডি, অভিযোগ ও হত্যা মামলা থাকলেও পুলিশ কেন তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না তা জাতি জানতে চায়। অনেকেই জানায়, শরিফুল ইসলাম মোল্লার বাড়িতে আশুলিয়া থানা পুলিশ ও (পিবিআই) পরিদর্শন করেছেন, মনে হয় পুলিশ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে শরিফুল ইসলাম মোল্লাকে গ্রেফতার করছে না। অনেকেই বলেন, এই শরীফ মোল্লা তার মা ও বোনের জমির বিষয়ে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগও রয়েছে, সে এলাকার প্রভাবশালী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।
আশুলিয়া থানার (এ এসআই) নাজমুল ইসলাম বলেন, গত ৫ আগষ্টে হত্যা চেষ্টা ও হত্যা মামলার তদন্ত করতে গেলে পুলিশ ও প্রকৃত সাংবাদিকদের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে একটি মহল। কিছু দালাল ও সুবিধাবাদী লোকজন তাদের মামলা বাণিজ্য করে মোটা অংকের অর্থ কামাচ্ছে, তারা দেশ ও জাতির শক্র, এদের আটকের চেষ্টা চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান। জানা গেছে, ৫ আগষ্ট: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় প্রথম আশুলিয়া প্রেসক্লাবে হামলা ভাংচুর শুরু করা হয়, এরপর দুইজন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ প্রকাশ্যে ওভার ব্রীজের উপর ঝুঁলিয়ে রাখা হয়। যা ১৯৭১ সালেও এই এলাকায় ঘটেনি তা ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইলে ঘটিয়েছে মানুষ হত্যাকারী ওরা কারা? সূত্র জানায়, ভাড়া করা সন্ত্রাসী যারা প্রথমে প্রেসক্লাব দখল করেছে তারাই দুই পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করে সেই লাশ ঝুঁলিয়ে রাখে ওভার ব্রীজের সাথে। তারাই ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে পুলিশের ভ্যানে থাকা ৬ লাশ পুড়িয়ে গুম করার চেষ্টা করে, এমনকি থানায় ডুকে সরকারি অস্ত্রসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গত ৯-১০ মাসেও পুরোপুরি ভাবে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র উদ্ধার ও হত্যাকারিদের গ্রেফতার করতে পারেননি।
পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্র জানায়, আশুলিয়া প্রেসক্লাব ভাংচুর করে আগুন দেওয়ার পর আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তার বাইপাইল মার্কেটের উপর থেকে গুলিবর্ষণ করে, সেই সাথে আশুলিয়া থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মইনুল ইসলাম ভুঁইয়া’র নেতৃত্বে করিম সুপার মার্কেট থেকে ৪০-৫০ জনের একটি সন্ত্রাস বাহিনী ছাত্র-জনতার উপর নৃশংস হামলা ও গুলি করে, এরপর পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ভ্যানে রাখেন আর সেই লাশগুলো গুম করতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে হত্যাকারীরা এদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম মোল্লাসহ তার বাহিনীর লোকজন ছিলো। ওইদিন আশুলিয়ার বাইপাইলে ঘটে যায় নতুন ইতিহাস। সেই গণহত্যার ঘটনা আড়াল করতে এসব হত্যাকারীরা নতুন কৌশলে জানা অজানা ও অচেনা লোকজন দিয়ে শুরু করে নিহত ও আহতদের নিয়ে মামলা বাণিজ্য। এখন তদন্তে গিয়ে বেড়িয়ে আসছে থলের বিড়াল। এই মামলা বাণিজ্যের সাথে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু নেতা সরাসরি জড়িত, তাদের মধ্যে রয়েছে আশুলিয়া ইউনিয়নে আনারস মার্কায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা রাজু গ্রুপের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ, তার বাহিনীর সদস্য সায়েব আলী জলিল। আশুলিয়ার বাইপাইলে ১০ থেকে ১২জন ব্যক্তি।
জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আশুলিয়া প্রেসক্লাবে হামলা, ভাংচুর ও গুলি করে ছাত্র-জনতাকে হত্যার পর ৬ লাশ পোড়ানো ঘটনাঃ দেশ টিভি ও যমুনা টিভিসহ বিভিন্ন টিভিতে নিউজ প্রকাশ হয়েছে এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসহ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ- বেসরকারি হিসেবে এই এলাকায় শহীদের সংখ্যা ৫৩ হলেও গ্রেজেটে সবার নাম আসেনি এবং মামলায় এসেছে ভুল ঠিকানাও। কিভাবে ঠিকানা পাল্টে গেলো, কিভাবে আপন মামা বাবা হয়ে গেলেন? আর কিভাবে জীবিত স্বামীকে মৃত বানিয়ে হত্যা মামলা করা হলো? কিভাবে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ভুয়া বাদিরা একাধিক মামলায় নাম দিয়ে নির্দোষী মানুষদেরকে হয়রানি করেছে? এসব ভুয়া বাদী সায়েব আলী জলিলসহ এই চক্রের সবাই দেশ ও জাতির শক্র, এসব মামলায় মোটা অংকের অর্ধ যাচ্ছে ভুক্তভোগীদের পকেট থেকে। একাধিক মামলার আসামী সায়েব আলী জলিলরা ভুয়া বাদী হয়ে নির্দোষী মানুষকে হয়রানি করছে, এবার “বেড়িয়ে আসছে থলের বিড়াল”।
জানা যায়, ঢাকার আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫৩ জনকে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর সেই লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ, কয়েকজন সাবেক এমপি মন্ত্রী, পুলিশ সদস্য ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত সংস্থায় গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ও মামলা দায়ের করাসহ আশুলিয়া থানায় অসংখ্যক মামলা করা হয়েছে। জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর আশুলিয়া থানায় ৭১টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে, ৪১টি হত্যা মামলা, ৮টি ডাকাতি মামলা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কিছু ব্যক্তিকে আটক করলেও অন্যদেরকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। উক্ত অপরাধের ধরণে বলা হয়েছে, এক থেকে পাঁচ ও সাত থেকে ১০ নং আসামিদের নির্দেশ পরিকল্পনায় অন্যান্য আসামিরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র জনতাদের হত্যা করে তাদের সমূলে বা আংশিক নিমুর্ল করার উদ্দেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘঠনের অপরাধ করে। (যাদেরকে আসামি করা হয়েছে), তারা হলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুহাম্মাদ আলী আরাফাত, ঢাকা-১৯, সাভার-আশুলিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, তৎকালীন সরকারের কতিপয় মন্ত্রী, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি হারুন অর রশিদ, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, সাবেক আইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত এসপি মোবাশ্বিরা জাহান, সাবেক অতিরিক্ত এসপি আব্দুল্লাহহিল কাফি, ঢাকা জেলা উত্তরের সাবেক ডিবি পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার (ওসি) এএফএম সায়েদ, (ওসি তদন্ত) নির্মল চন্দ্র, এসআই আফজালুল, এসআই জলিল, এসআই রাকিবুল, এসআই আবুল হাসান, এসআই হামিদুর রহমান, এসআই নাসির উদ্দিন, এসআই আব্দুল মালেক, এএসআই সুমন চন্দ্র গাইন, এএসআই বিশ্বজিৎ রায়, কনস্টেবল মুকুল, কনস্টেবল রেজাউল করিমসহ কতিপয় পুলিশ সদস্য। এছাড়াও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হাসান তুহিন, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী সহযোগী সংগঠনের সদস্যরাও আসামী হয়েছে এসব মামলায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট আশুলিয়ার বাইপাইলে ছাত্র-জনতার মিছিলে ১ থেকে ১২ নম্বর আসামির নির্দেশে ১৩ থেকে ৩৬ নং আসামিরা নির্বিচারে গুলি চালালে আহনাফসহ ৫৩জন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। গুলিবিদ্ধ লাশগুলো ১৩ থেকে ১৬ নং আসামীসহ অজ্ঞাতনামা পুলিশ সদস্যরা ময়লার বস্তার মতো করে ভ্যানে তোলেন। থানার পাশে পুলিশের একটি গাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে নিহতদের লাশ পুড়িয়ে দিয়ে গণহত্যার নির্মম ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর আগে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় অনেক হত্যা মামলা করা হয়, আশুলিয়া থানায় একটি মামলা নং ২৬। তারিখ: ২২/০৮/২০২৪ইং। ছাত্র-জনতা সূত্র জানায়, আশুলিয়ার বাইপাইলে গত ৫ আগস্ট ২০২৪ইং আশুলিয়া প্রেসক্লাব ভাংচুর ও লুট করা থেকে শুরু করে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর, ছাত্র-জনতা ও পুলিশ সদস্যসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একাধিক হত্যা মামলা হয়েছে কিন্তু ভুয়া বাদী মামলাকারীরা মামলা বাণিজ্য করেছে। এসব মামলার আসামি কিছু পুলিশ সদস্য, এমপি, মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাংবাদিকসহ নির্দোষ অনেক মানুষও রয়েছেন।
এ ব্যাপারে অনেকেই ধারণা করছেন যে, আশুলিয়া প্রেসক্লাব ভাংচুর দখল, আশুলিয়া থানা ভাংচুর ও সরকারি অস্ত্র লুট অগ্নিসংযোগকারীরা এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এসব ঘটনায় অনেকেই অপপ্রচার চালায় ওমুকের গুলি লাগছে, ওমুকে আহত হয়েছেন, এসব লোকজনের গুলিবিদ্ধ কোনো চিত্র পাওয়া যায়নি, তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে কোথায় কি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন? পুরো বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন শহীদ হওয়া ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন মহল। সূত্র জানায়, আশুলিয়ার বাইপাইলে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে, তাদের কাছে পুরো আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার মানুষ জিম্মি। কিছু অপরাধী আছে যারা নিজের অপরাধ আড়াল করতে অপহরণ, হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করে, তারা আবার থানায় গিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সরকারি কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে এমন তথ্য রয়েছে। আশুলিয়ার বাইপাইলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে যারা এই গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা জরুরী বলে মনে করেন সচেতন মহল। এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন সেই শহীদদের পরিবার সঠিক বিচার পাবেতো?। প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলো, কিছু অপরাধীদেরকে গ্রেফতার করা হলেও যারা নির্দোষী মানুষকে হয়রানি করছে তাদেরকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। যেমন: তাদের মধ্যে সায়েব আলী ওরফে আব্দুল জলিল পৃথক ব্যক্তি নাকি সায়েব আলীই জলিল? আর সায়েব আলী জলিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে, এর আগে র্যাব-৪ ও আশুলিয়া থানা পুলিশ জলিলকে গ্রেফতার করেন এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়, এরপর জামিনে এসে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে গত ১৩ মার্চ২০২৫ইং আদালতে অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে গেলে আব্দুল জলিলকে কারাগারে পাঠায় আদালত। এর আগে হত্যা মামলার ভুয়া বাদী আব্দুল জলিল এর বিরুদ্ধে দেশ টিভি’র ৫ মিনিট ৩ সেকেন্ডের নিউজ প্রকাশ হয় এবং এরপর যমুনা টিভি’র ৩৮ মিনিট ২ সেকেন্ডের বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সেই সাথে একাধিক জাতীয় সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তার ভুয়া মামলার একটি সূত্রঃ সি, আর মামলা নং ১১৪৬/২০২৪ ধারাঃ ৩০২/১০৯/১১৪/১২০(খ)/৩৪ দণ্ডবিধি। আশুলিয়া থানার মামলা নং ১৫। তারিখ ০৮/০৯/২০২৪। এখানে মোঃ সাহেব আলী (৪৪) পিতা মোঃ আনজুর প্রামানিক, মাতা-মোছাঃ রাবেয়া খাতুন, সাং সাভার ফরিদপুর, পোঃ বওয়ারী পার, থানা ফরিদপুর, জেলা পাবনা। বর্তমান- খেজুরবাগান, থানা আশুলিয়া, জেলা-ঢাকা। জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৩২৮১৩৮২৭৩৩। মোবাইল নং-০১৬৪১১৪৮৬০১। আশুলিয়া থানা পুলিশ ও র্যাব জানায়, অপরাধীদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এইসব প্রতারকদের গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন মহল। আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জামগড়া এলাকার বাসিন্দা মাহি নামের এক ভুক্তভোগী জানান, আমি কোনো রাজনীতি করিনা, আমার কোনো পদ পদবী নেই, একটি মামলায় ২০ নং আসামী করেছে দালাল চক্র। এই মামলার বাদীকে মোবাইল ফোনে কল করলে রিসিভ করেন না, অনেকেই বলছে এটা ভুয়া বাদী তাই ফোন রিসিভ করেন না। পিবিআই ও আশুলিয়া থানা পুলিশ এ ব্যাপারে তদন্ত করেছেন, তারা মানবিক পুলিশ তাই আমাকে বলেছেন যে, আপনার কোনো চিন্তা নাই, আমরা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আটক করে আইনের আওতায় আনবো আর যারা দোষী না তাদেরকে হয়রানি করা হবে না।
আশুলিয়ার বাইপাইলে গত ৫ আগস্ট শহীদ হন আশুলিয়ার সিটি ইউনিভাসিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএসসি) প্রথম বর্ষের ছাত্র- সাজ্জাদ হোসেন সজল। সজলের মা মোছাঃ শাহিনা বেগম এর কাছে তার ছেলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার একমাত্র ছেলে সজলকে যারা হত্যা করেছে তাদের কঠিন শাস্তি দাবী করছি। সেই সাথে আমার ছেলেসহ যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে সেই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই। উক্ত ব্যাপারে (পিবিআই), ডিবি, পুলিশ ও র্যাব জানায়, তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আশুলিয়া থানায় ৫ আগষ্টের পর ৪-৫ জন ওসি রদবদল হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুইজন ওসি ক্লোজ, একজন হত্যা মামলার আসামী হলেও চট্রগ্রামে চাকরি করছে, চলমান ওসি মনিরুল হক ডাবলু ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ থেকে পুলিশে আসছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে জটিলতা সৃষ্টি হয়, এরপর তার পরিবর্তে সোহরাব আল হোসাইন ওসি আশুলিয়া থানায় আসার দেড় মাসের মাথায় চলে যেতে হয়েছে। সচেতন মহলের দাবী-ভুয়া বাদীর মামলা বাতিল করাসহ অপপ্রচারকারী ও ভুয়া বাদী প্রতারক চক্রকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হোক। বিশেষ করে যারা ছাত্র আন্দোলন করেছেন তারা এখন রাজনৈতিক নেতা হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে সমন্বয়ক থেকে পদত্যাগ করেছেন, অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেন, দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তিন হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন, ছাত্র-জনতা প্রায় ৬ শতাধিক শহীদ বা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ, যাদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তারা কি এই ক্ষতিপুরুণ পাবেন? যারা সাধারণ মানুষ মামলায় হয়রানি হয়েছেন এবং মোটা অংকের টাকা খরচ করেছেন, তাদের জন্য সরকার কি কোনো সহযোগিতা করবেন?। বর্তমানে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন না থাকায় (ওসি তদন্ত ভারপ্রাপ্ত) কামাল দায়িত্ব পালন করছেন, অপরাধী সে যেইহোক না কেন তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে পুলিশ জানায়।
বাংলাদেশে মোট মামলার সংখ্যা ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ১৬৮টি এর মধ্যে আশুলিয়ায় সবচেয়ে বেশি মামলা বাণিজ্য হয়েছে, এখানে ভুয়া বাদির ভুয়া মামলায় সাধারণ মানুষের নাম দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহলের দাবী। এবার দেখা যাবে আশুলিা থানার নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হান্নান সাহেব কতদিন এই আশুলিয়া থানায় দায়িত্ব পালন করতে পারেন, আশুলিয়াবাসী তার কাছে ভালো কিছু প্রত্যাশা করছেন। ##
Category: দেশজুড়ে
-

আশুলিয়ায় মা-দক সন্ত্রা-সীসহ ছাত্র-জনতা হ-ত্যাকারীরা শ-ক্তিশালী ক-ঠোর অবস্থানে পুলিশ প্রশাসন
-

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে ইসলামি দলগুলো
সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ)ঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নতুন কৌশলে দেশে প্রায় তিন লক্ষাধিক মসজিদে শুক্রবারে একযোগে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করছেন ইসলামি দলগুলো আর বিএনপিও থেমে নেই তাদের প্রচারণায়, তবে একাধিক প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপির ব্যানারে এটা দলের জন্য ক্ষতি হতে পারে বলে অনেকেরই অভিমত।
জানা গেছে, এর আগে লন্ডনে জাতীয় গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাদের এই সংলাপ জাতীয় ঐক্যের পথে হাটছে কি বাংলাদেশ। এদিকে আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ তারা নির্বাচন করতে পারবে না আর সারা দেশে জামাত ও বিএনপির নেতা কর্মীরা পোস্টার দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছন। অন্যদিকে সংসদ নির্বাচনে আচরণ বিধিমালা খসরা চূরান্তঃ প্রচারণায় থাকছে না পোস্টার: লঙ্ঘন করলে ৬ মাসের জেল। এসব নিয়ে গণমাধ্যমসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বাঁধার মুখোমুখি হতে পারেন, বাকীটা-ইতিহাস।
বাংলাদেশের পতাকা সবুজের মধ্যে লাল সেই পতাকা বুকে নিয়ে কোটি কোটি মানুষ ঐক্য থাকায় স্বাধীনতা অর্জন আর এই নতুন বাংলাদেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা কতটুকুও তা জাতি জানতে চায়। যেখানে পুলিশকে মেরে হত্যা করলেও কিছুই হচ্ছে না, সাংবাদিকের উপর হামলা বা নির্যাতন করলেও ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার পাচ্ছেন না, মানুষকে যেখানে সেখানে মারছে, কেউ প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
অনেকেই বলেন, ভোট দেয়ার স্বাধীনতা আমরা সকলেই চাই কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা পাওয়া এতো সহজ নয়, আমাদের স্বাধীনতা কলংকিত নয় যদিও মা-বোন কলংকিত হয়। ১৭৭১ সালে স্বাধীনতার পতাকা বুকে নিয়ে কোটি কোটি মানুষ ঐক্য থাকায় যুদ্ধে শক্র পক্ষকে হারিয়ে আজকের এই স্বাধীনতা অর্জন, এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর বাংলাদেশে ৫ আগষ্ট ২০২৪ইং আরো একটি স্বাধীনতা অর্জন করেছেন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে, নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে।
বাংলাদেশের নতুন স্বাধীনতার পর এখন দেশে নির্বাচন জরুরী দরকার বলে মনে করছেন জাতি আর বাংলাদেশের জনগণের ভোটার তালিকাভুক্ত হতে হলে কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন হবে? কম্পিউটার বিসিএস প্রিলিমিনারী গাইড-১৫২ পাতার (ক) বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। (খ) বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। (ঘ) নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা হতে হবে। বাংলাদেশের নাগরিক সমস্যার শেষ নাই, অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্রে নানারকম ভুল হওয়ায় জটিলতা রয়েছে। সেই ভুলগুলো ঠিক করতে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদেরকে, অনেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
১৯৭১ সালের পর আবারও দেশে যুদ্ধ হয়েছে এই যুদ্ধে ছাত্র-জনতাসহ অনেক মানুষ শহীদ হয়েছেন, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। তবে আহত এবং নিহতদের ঘটনায় মামলা করা হলেও বেশিরভাগ মামলায় সাধারণ মানুষের নাম দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ভুয়া বাদী কতর্ৃক সাংবাদিকসহ অনেকের নাম দিয়ে মামলা করা হয়েছে, তা একজন আহত বা নিহতের ঘটনায় একাধিক মামলা করা হয়েছে, তার মধ্যে কিছু ভিকটিমের পরিবার আর প্রতারক চক্র মামলা বাণিজ্য করার জন্য ভুয়া বাদী সেজে মামলা করেছে অনেক, যেমন: সাভার আশুলিয়ায় সাহেব আলী জলিল ভুয়া বাদী সেজে একাধিক মামলা করেছে তার তথ্য প্রমান রয়েছে। স্বাধীন দেশে এ কেমন প্রতারণা তা জাতি জানতে চায়। এখন আসি বাংলাদেশের নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনার বিষয় নিয়ে।
সূত্রমতে, বাংলাদেশের প্রথম-প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন, বিচারপতি এম. ইদ্রিস। নির্বাচন কমিশনার এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক কর্মাবসানের পর প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন পদে নিযুক্ত হবার যোগ্য হবেন না। নির্বাচন কমিশনার এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক কর্মাবসানের পর প্রজাতন্ত্রের কর্মে অন্য কোন পদে নিযুক্ত হবার যোগ্য হবেন না। অবশ্য কেবল নির্বাচন কমিশনারগণ কর্মাবসানের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনাররুপে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন। “জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন” জাতীয় সংসদ কি? তা জানা দরকার। বাংলাদেশের আইনসভা হল জাতীয় সংসদ, এটি এক কক্ষবিশিষ্ট এবং প্রজাতন্ত্রের সকল প্রকার আইন প্রণয়নের কেন্দ্র। জাতীয় সংসদের মেয়াদ কত বছর তা আমাদের জানা দরকার, মাত্র পাঁচ বছর। রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙ্গে না দিলে প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হলে সংসদ আপনা-আপনি ভেঙ্গে যাবে। জাতীয় সংসদের গঠন কিরুপ?: সমগ্র দেশ থেকে নির্বাচিত ৩০০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়। তবে সংবিধানে মেয়াদী ৩০জন মহিলা সংসদ সদস্য রাখার বিধান রাখা হয়েছে। সংরক্ষিত আসন ব্যতীত মহিলা সদস্যগণ অন্যান্য সাধারণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। সূত্রমতে, জাতীয় সংসদের মোট সদস্য ৩৩০ জন। তা সংবিধান পরিবর্তন করা হলে এই সংখ্যা বাড়তে পারে বা কমানো যাবে। জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার জন্য কি যোগ্যতার প্রয়োজন? প্রথমত বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। দ্বিতীয়ত কমপক্ষে ২৫ বছর বয়স হতে হবে।
বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদ গঠিত হয় তা সবার জানা দরকার, মহামান্য রাষ্ট্রপতি অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি। এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ রাষ্ট্রপতি গণপরিষদ আদেশ জারি করেন। মোটামুটিভাবে (১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ থেকে কার্যকরী বলে গন্য হয়)। এ আদেশ অনুযায়ী ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অংশ থেকে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সব সদস্য (৪৬৯জন – ১৬৯ জন = ৩০০জন) নিয়ে এই পরিষদ গঠিত হয়। শেষ পর্যন্ত গণপরিষদের সদস্য সংখ্যা ৪০৪ জনে দাঁড়ায়। গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন-১০ এপ্রিল ১৯৭২। সেসময় গণপরিষদের প্রথম স্পীকার ছিলেন শাহ আব্দুল হামিদ, দ্বিতীয় স্পীকার মোহাম্মদ উল্লাহ, গণপরিষদের প্রথম ডেপুটি স্পীকার মোঃ রায়তুল্লাহ, গণপরিষদের নেতা ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রে কতজন সদস্য স্বাক্ষর করেন তা জানা প্রয়োজন, ১৪ ডিসেম্বর ৩৫০জন এবং ১৫ ডিসেম্বর ৪৭জন-৩৯৭ জন। বাংলাদেশের চলমান প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সাহেব, বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযুদ্ধা সাহাবুদ্দিন মহোদয়, এবার আসি বাকি ইতিহাস কি বলে?
শক্রমুক্ত হোক দেশ, স্বাধীনতা সে আমার-স্বজন হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন, স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রিয় মানুষগুলোর রক্তে কেনা অমূল্য ফসল লাল সবুজের পতাকা। একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতা। শক্রমুক্ত হোক বাংলাদেশ, এই কথাগুলো আমরা ভুলতে পারি না কারণ,এখন বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের মানুষ জানেন, তা এখন ইতিহাস। বিশেষ করে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পতাকা বুকে নিয়ে মানুষ ঐক্যে সেদিন গোটা দেশ, একটি কথা একটি আশা শক্রমুক্ত হবে বাংলাদেশ। লাখো মায়ের আহাজারি, স্বাধীনতা তোমার লাগি ঝড়ছে পাহাড় পরিমাণ রক্ত, কত অশ্রুবারি হয়েছে বাংলার বুকে। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে গড়লো যারা নতুন দেশ, তারা জাতির শ্রেষ্ঠ বীর সন্তান, তাদের রক্তে আজ এই বাংলাদেশ স্বাধীন। আমরা পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা। দেশ ও জাতির স্বার্থে যারা কাজ করেছেন, যারা স্বাধীনতার জন্য হাসি মুখে জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। ভাষা শহীদসহ সকল বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের মধ্যদিয়ে জাতীয় দিবসগুলো পালন করে আসছেন বাঙ্গালি জাতি। সবাইকে বাংলাদেশের ইতিহাস জানা দরকার, সেই সাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচন জরুরী। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে একযোগে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামসহ বিভিন্ন দল। ভোটের পর কে হবেন প্রধানমন্ত্রী? এই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল, বাকিটা-ইতিহাস।## -

মাদ-কব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার মাদ-কসহ ধরা পড়লেও বন্ধ হচ্ছে না মাদ-ক
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পথগুলি দিয়ে ব্যাপকভাবে পাচার হয়ে আসছে হেরোইন, ফেনসিডিল, দামীমদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক। কোনভাবেই যেন রোধ করা যাচ্ছে না। আন্তজাতিক মাদক চোরাকারবারের গডফাদার, মাদকসম্রাট, নারী মাদক চোরাকারবারি গ্রেফতার হলেও মাদকের বিস্তার বন্ধ হচ্ছে না।
এবছর ২২ এপ্রিল কামলা থেকে শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া কুখ্যাত মাদকের ডিলার মাদকব্যবসায়ী তারেককে সাড়ে ৬ কেজি হেরোইন নগদ ১৩ লাখ টাকাসহ গ্রেফতারের পর থেকে কিছু দিন মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে গিয়েছিল। তারা কিছুদিন আত্নগোপনে থেকে মাদক কারবার পরিচালনা করলেও এখন তারা প্রকাশ্যে বীরদাপটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পরিচালনা করছেন মাদক সিন্ডিকেট।
এছাড়া উপজেলার দিয়াড়মানিকচক গ্রামের মোঃ নাজিমুল হোসেন (৩৭), কে ৫০ লাখ টাকার ৫০০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেফতার করেছে গোদাগাড়ী মডেল থানার পুলিশ। তার পিতার নাম মোঃ আতাউর রহমান।১৫ মার্চ গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গোদাগাড়ী মডেল থানার পুলিশ ৫ কেজি হেরোইন উদ্ধার করে এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মোসাঃ নাজমা (৫৩) ও মোসাঃ তাহমিনা বেগম মিনু (৫৫) কে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। মোসাঃ নাজমা রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার সুলতানগঞ্জ গাঙ্গোবাড়ি গ্রামের মোঃ আবুল কাশেমের স্ত্রী এবং মোসাঃ তাহমিনা বেগম মিনু মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার পৃথিমপাশা গ্রামের মৃত আলমের স্ত্রী। উদ্ধারকৃত হেরোইনের মূল্য ৫ কোটি টাকা।
২০২৪ ইং সনের ২৭ জানুয়ারি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার পৌর এলাকার মাদারপুর এলাকার একটি খামারবাড়িতে বাজারের ব্যাগ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম হেরোইন জব্দ করে গোদাগাড়ী থানা মডেল থানার পুলিশ। ফরিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির খামারবাড়ি থেকে জব্দ করা ওই হেরোইনের আনুমানিক মূল্য আট কোটি ৪০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছিল পুলিশ। এই ফরিদুল এখনো ধোরা-ছোঁয়ার বাইরে। এমনকি তার বিরুদ্ধে মামলাও করেনি পুলিশ। একাধিক সূত্র জানায়, এই ফরিদুল ইসলাম এখনো আড়ালে থেকে হেরোইনের বড় বড় চালান নিয়ন্ত্রণ করেন।
২০২৩ সালের ১২ মার্চ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ৬ কেজি ৭০০ গ্রাম হেরোইনসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আশিককে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
“মাদক নির্মূল শুধু প্রশাসনের কাজ নয়—এটি সামাজিক আন্দোলন হওয়া প্রয়োজন। তাই জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা জরুর।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার জামাদানী, হাটগোবিন্দপুর, রামনগর এলাকায় মাদক বিরোধী টাস্ক ফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর, গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ সার্বিক সহযৌগিতায়
১ কেজি গাঁজা জব্দ ও সেবনের উদ্দেশ্য রাখা গাজা ধ্বংস সহ প্রায় ২০০০ (দুই হাজার) লিটার চোলাই মদ জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।গাঁজা ব্যবসায়ী ও চোলাই মদ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার প্রক্রিয়া করা হয়েছে। এসময় মাদক সংরক্ষণ ও সেবনের দায়ে নিন্মোক্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রয় আইন ২০১৮ সালের ৯(১) এর গ ধারা লংঘনের অপরাধে উক্ত আইনে ৩৬ (১) এর ২১ ধারা অনুসারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ।
মোঃ শরিফুল ইসলাম (৩৩), পিতা-মোঃ বাবলু হোসেন, সাং- জামাদানী, গোদাগাড়ী, রাজশাহীকে ০২ (দুই) বছর বিনাশ্রশ কারাদন্ড ও ৫০০/- (পাঁচশত) টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হয়েছে। অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো অতিরিক্ত ০১ (এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
মোঃ একরামুল হক (৫৮) পিতা-মৃত জমসেদ আলী, সাং- রামনগর, গোদাগাড়ী, রাজশাহীকে ০২ (দুই) বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০০/- (পাঁচশত) টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হয়েছে। অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো অতিরিক্ত ০১ (এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।মোঃ হান্নান আলী (৪০), পিতা-মোঃ নজরুল ইসলাম, সাং-হাটগোবিন্দপুর, গোদাগাড়ী, রাজশাহীকে ০২ (দুই) বছর বিনাশ্রশ কারাদন্ড ও ৮০০/- (আটশত) টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হয়েছে। অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো অতিরিক্ত ০১ (এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
মোঃ রুবেল (৩৫), পিতা-মোঃ হাসেন, সাং-হাটগোবিন্দপুর, গোদাগাড়ী, রাজশাহীকে ০২ (দুই) বছর বিনাশ্রশ কারাদন্ড ও ৫০০/- (পাঁচশত) টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হয়েছে। অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো অতিরিক্ত ০১ (এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহমেদ বলেন, “মাদক সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযান কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।” “প্রশাসনের কাজ শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাও একটি বড় দায়িত্ব। গোদাগাড়ীতে মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে কাউকে ফিরিয়ে আনা গেলে সেটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।” আগামীতে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনসহ এধরনের কাজ অব্যাহত থাকবে ইনসাল্লাহ।
গোদাগাড়ী মডেল থানা ওসি মোহম্মদ রুহুল আমিন বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা যতই শক্তিশালী হউন না কেন তাদেরকে কোনভাবে ছাড় দেয়া হবে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহতভাবে চলবে। পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মুল করা সম্ভাব নয়। মাদক ব্যবসায়ীদর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন করে তুলতে হবে। সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে তা হলেই মাদক কমে আসবে।
মোঃ হায়দার আলী
গোদাগাড়ী,
রাজশাহী। -

নেছারাবাদে বসতঘরের পাশে বিএনপি নেতার করাতকল উঠাবার অভি-যোগ
নেছারাবাদ উপজেলা সংবাদদাতা।।
বসতবাড়ির ২০০মিটারের মধ্যে কোন কল কারখানা উঠাবার সরকারি নীতিমালা না থাকলেও সেই নীতিমালা অমান্য করে নেছারাবাদ উপজেলার ৪নং আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের মাহমুদকাঠি এলাকায় জহির মেম্বারের বসতবাড়ী ঘেঁষে একটি করাতকল (স’মিল) স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে বিএনপি নেতা, সাবেক মেম্বার শাহাদাত হোসেন এর বিরুদ্ধে ।
এ বিষয়ে জহির মেম্বার এর ছোটভাই জুয়েল কাজ বন্ধের নোটিশ চেয়ে পিরোজপুর বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ধারা-১৪৪/১৪৫ ফৌজদারি মামলা করেন। সেই ৪৪/৪৫ আমান্য করে শাহাদাত গংরা স’মিল নির্মানের কাজ দ্রুত চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে ঘরের পাশে শাহাদাত মেম্বার গংরা স’মিল উঠাবার পায়তারা করায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
৬জুলাই রবিবার নেছারাবাদ উপজেলা মাহামুদকাঠি গেলে কাজ করতে দেখা গেছে। করাতকল(স’মিল)র পাশেই রয়েছে একাধিক বসতঘর, রয়েছে, একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী জহির মেম্বার বলেন, আমাদের যায়গায় জোর করে শাহাদাত হোসেন ও তার ভাইয়েরা স’মিল উঠাইতেছে আমি বাঁধা দিলেও তারা কর্নপাত করে নায়। পরে আমি আদালতে ৪৪/৪৫ করি। পরে পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে দিয়ে গেছে। কিন্তু শাহাদাত মেম্বার সেই আদালতে নিষেধাজ্ঞ অমান্য করে কাজ চলমান রেখেছে আমি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে শাহাদাত মেম্বার বলেন, আমি ১৩বছরের মেম্বার ছিলাম, বড় একটি রাজনৈতিক দলের সদস, ৪নং আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব। জহির মেম্বারের সাথে আমাদের জমিজমা নিয়ে একটা বিরোধ চলমান আছে। আদালতের ৪৪/৪৫ অগ্রাহ্য করে কাজ চালু রাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, না না ওখানে কাজ বন্ধ রয়েছে, সেখানে বালু আগেই ভরাট ছিলো। ঘরের পাশে স’মিল উঠাবার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, জহির মেম্বার সেও তার যায়গায় স’মিল উঠাইতে চাচ্ছে। স্কুল কলেজ মাদ্রাসার পাশে করাতকাল উঠানো যায় কিনা জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা সালাউদ্দিন বলেন,পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিঘ্ন সৃষ্টি করে এরূপ কোনো স্থানের ন্যূনতম ২০০ (দুইশত) মিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু এ নিয়ম অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ বনি আমিন জানান, আমি মহামান্য আদালতের দেয়া ৪৪/৪৫ এর নোটিশ অনুযায়ী উভয় পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য বলে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। এর পরেও যদি কাজ চালু রাখে বিষয়টি আদালতে জনাতে হব।
আনোয়ার হোসেন
নেছারাবাদ উপজেলা সংবাদদাতা।। -

দোয়ারাবাজারে যুব জমিয়ত বাংলাদেশ’র কমিটি গঠন সভাপতি রায়হান সেক্রেটারী জিয়াউর
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা
যুব জমিয়ত বাংলাদেশ এর ২১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে।রবিবার (৬ জুলাই) দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সভায় যুব জমিয়ত বাংলাদেশ এর উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। সভায় সকলের সম্মতিক্রমে সভাপতি হাফিজ মাওলনা আব্দুল গফফার (রায়হান),
সেক্রেটারী নির্বাচিত হয়েছেন, মুফতি জিয়াউর রহমান। সহসভাপতি মাওলানা উসমান আলী, সহসভাপতি মাওলানা তোফায়েল আহমদ, যুগ্ন সম্পাদক মুফতি শাহ তাহমিদুস সালাম, সহ সম্পাদক মাওলানা কাওসার আহমদ। সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি রশিদ সিরাজি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জুবায়ের বিন আরিফ,
প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান কামাল,
সহ প্রচার সম্পাদক মাওলানা জুনাইদ আহমদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নূর হুসাইন, অফিস সম্পাদক মুহাম্মদ আলমগীর
সাহিত্য সম্পাদক শামসুল হক নুমানি, ক্রীড়া সম্পাদক হাফিয রেজাউল করিম,
সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মাওলানা জিল্লুর রাহমান, সদস্য হাফিজ আমিনুর রাহমান
রেজাউল করিম, শুয়াইব আহমদ,
মাওলানা ইখলাছুর রাহমান, মুফতি মাসউদ আহমদ, মাওলানা শিব্বির আহমদ প্রমুখ। -

দোয়ারাবাজারে শ্যামলবাজার ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার শ্যামলবাজার (বান্দেরবাজার) ব্যবসায়ী কমিটির পকেট কমিটি বাতিল এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।রোববার (৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের শ্যামলবাজারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাবেক একাধিকবারের সভাপতি মো. নুরউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘বাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি কারচুপির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের মতামত উপেক্ষা করে একটি পকেট কমিটি গঠন করেছেন। এটি অগণতান্ত্রিক এবং গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও স্বচ্ছ নেতৃত্বের স্বার্থে ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাজারের ব্যবসায়ী আনসার মিয়া, আব্দুল মান্নান, রুবেল বাবু, রিওন মিয়া, মিজানুর রহমান, জায়েদ মিয়াসহ অনেকে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, অবিলম্বে নির্বাচন অনুষ্ঠানে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।
-

বিচার, সংস্কার তারপরেই নির্বাচন: গোদাগাড়ীতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ জুলাই যোদ্ধা নাহিদুল ইসলাম নাহিদ, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ সহ আরও এনসিপির যোদ্ধাগন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সদরের পাঁচ মাথার মোড় গোলচত্বরে রবিবার বিকালে এসে উপস্থিত হন। নেতারা উপস্থিত হলে হাজার হাজার নেতাকর্মী করতালি, ফুলের শুভেচ্ছা জানান।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবং নাহিদ ইসলাম
বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের এক বছরপূর্তিতে মানুষের কাছে যাচ্ছি, শহীদদের যে স্বপ্ন ছিল তা জানাচ্ছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে গোদাগাড়ীতে এসেছি। শহীদ পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কটা রাজনৈতিক নয়, দলমত নির্বিশেষে শহীদ পরিবারের সাথে সম্পর্কটা আত্মার। শহীদ পরিবারের ক্ষতি অপূরণীয়। যে কারণে ছাত্র জনতা জীবন দিয়েছেন, সেই দেশ গড়তে আমাদের আরও সংগ্রাম করতে হবে। শহীদ পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কটা সারাজীবনের।” নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী সমাবেশ করবো, যেখানে জুলাই আন্দোলনের সনদ বাস্তবায়নের ডাক দেওয়া হবে। বিচার, সংস্কার এবং নতুন সনদের বাস্তবায়নে জনগণকেই আমাদের একমাত্র শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছি।’‘আমরা ক্ষমতার রাজনীতি করি না, জনগণের স্বার্থে রাজপথে আছি এবং থাকবো। এই পদযাত্রা বিচারের দাবিতে, শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ে।’
সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘রাজশাহী অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শ্রম—সবক্ষেত্রেই এখানে উপেক্ষা চলছে। কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পায় না, শ্রমিকরা পায় না তাদের ন্যায্য মজুরি। বাজেট বরাদ্দেও রাজশাহী উপেক্ষা করা হয়।’
তিনি সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে ‘কালনাগিনী’ আখ্যায়িত করে বলেন, ‘এই কালনাগিনী দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, হাজার হাজার মানুষকে হত্যা ও পঙ্গু করেছে। যতদিন না তার বিচার হয়, আমাদের আন্দোলন চলবে। রংপুরবাসীর দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’
এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে তরুণ সমাজ যে আশা জাগিয়েছিল, তা গত এক বছরে বাস্তব রূপ পায়নি। বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধান প্রণয়নের মতো মৌলিক দাবিগুলো এখনো অধরা। তাই আমরা ৬৪ জেলায় যাব, জনগণের মত শুনে একটি গণতান্ত্রিক ইশতেহার তৈরি করবো।’
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন,
এনসিপি নেতা রফিকুল ইসলাম কনক, ডা. তাসনিম জারা, আব্দুল মুনীম, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আসাদুল্লাহ গালিব, শ্রমিক উইং নেতা আকিব উদ্দিন ও যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দিনাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী। -

ডিএমপির ক-ঠোর নি-রাপত্তা সুষ্ঠুভাবে পালিত হল তাজিয়া মিছিল
সুমন খান:
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ঢাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল রবিবার (৬ জুলাই ২০২৫ খ্রি.) সকাল ১০টা সময় পুরান ঢাকার হোসাইনী দালান থেকে প্রধান শোক মিছিলটি শুরু হয়। শিয়া সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ খালি পায়ে, বুক চাপড়ে, ’হায় হোসেন হায় হোসেন’ মাতম তুলে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি বকশি বাজার লেন, লালবাগ, শহীদ মাজার রোড, আজিমপুর, নীলক্ষেত, মিরপুর রোড, ঢাকা কলেজ, সায়েন্স ল্যাব, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, বিজিবির ৪নং গেইট এবং সাত মসজিদ রোড হয়ে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে প্রতীকী ‘কারবালা’ প্রান্তে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সুষ্ঠুভাবে শোক মিছিল সম্পন্ন করতে, ডিএমপি মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
প্রসঙ্গত, ১০ মুহররম তথা পবিত্র আশুরা সারা পৃথিবীতে মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ এক দিন। শিয়া সম্প্রদায় এই দিনটি নানাবিধ আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ব্যাপকভাবে পালন করে। এর মধ্যে তাজিয়া মিছিল উল্লেখযোগ্য। পুরান ঢাকার লালবাগের ঐতিহাসিক হোসাইনী দালান ইমামবাড়া, বড় কাটারা ইমামবাড়া ও ঢাকা মহানগরীর শিয়া সম্প্রদায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী শোক মিছিল আয়োজন করে থাকে।
-

খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) নির্বাচনী এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনা দুইএকজন ছাড়া দেখা যাচ্ছে না
ইমদাদুল হক,পাইকগাছা (খুলনা )।
আসন্ন জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষনার পর খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) নির্বাচনী এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনা নেই বললে চলে।জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দুই একজনকে ছাড়া তেমন কাউকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। তবে এই ৮জন প্রার্থীদের মধ্যে ১ জন বাংলাদেশ জামায়াতের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি।আর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী ৭ জনের ভিতরে কাকে খুলনা-৬ (পাইকগাছা কয়রা) দিবেন সেটা দলীয় ভাবে এখনো ঘোষণা করা হয়নি।কে পাবেন দলীয় মনোনয়ন সেটা এখনো অনিশ্চিত রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর দলটি নিষিদ্ধ হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থীরা মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামী প্রথমেই তাদের দলীয় একক প্রার্থী হিসেবে খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এরপর থেকে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে জাতীয় ও দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহনের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে মতবিনিময় করে নিজের অবস্থান সম্পর্কে জানান দিচ্ছেন।
অপর দিকে,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আসনটিতে এখন পর্যন্ত কাউকে চুড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা না করায় সেখানকার অন্তত ৭জন সম্ভাব্য প্রার্থী দলীয় ও জাতীয় বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নিচ্ছেন। আবার দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে দুইএকজন প্রার্থী প্রাচার-প্রচারনার অংশ হিসেবে
গোটা নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন।
বর্তমানে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, জিয়া ফাউন্ডেশনের ডাইরেক্টর (প্রেগ্রাম) আমিরুল ইসলাম কাগজী, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক ডাঃ মো. আব্দুল মজিদ, জেলা বিএনপির যুগ্মআহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম রফিকুল ইসলাম, এম জুবায়ের আহমেদ ও এস রহমান।
রাজনৈতিক দল বিএনপি দীর্ঘ দিন জোটবদ্ধ নির্বাচনে অংশগ্রহন করায় শরীক দল জামায়াতকে ছাড় দেওয়ায় আসনটিতে প্রার্থী দিতে পারেনি। ১৯৯৬ সালে প্রার্থী দিলেও আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি মনে করায় সাধারণ ভোটাররা জামায়াতের দিকেই ঝুঁকে পড়ে। বিশেষ করে আওয়ামী এন্ট্রি ভোটাররা জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুসকেই ম্যান্ডেট দেয়। ঐ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জি,এ সবুর ১৬,৮৩৫ ভোট পান। আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ্যাডভোকেট শেখ মো. নূরুল হক ৬৬,০৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেও জামায়াতের প্রার্থী শাহ্ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস ৪৯,০২৩ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দি থাকেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মঈন উদ্দিন সরকার ৬,৬০২ ভোট পেয়ে চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন। ঐ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস ৫৮,৩৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ নূরুল হক ৫৭,৬৬৯ ভোট পান। এরপর আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন প্রার্থী হতে। বিএনপির দাবি, সময়ের পরিক্রমায় আসনটিতে বিএনপির অবস্থান যেকোন সময়ের চেয়ে অনেক শক্ত। তাছাড়া আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বাইরে থাকলে তাদের তৃণমূলের বুথমূখী ভোটারদের সমর্থন যে কারো বিজয়ের পথে টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে বিএনপিই এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন তারা। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা ও সাদা ইমেজের জনবান্ধব হতে হবে।
নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী, এ আসনটিতে ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৮টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যথাক্রমে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স.ম বাবর আলী, ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে মুসলিম লীগের খান এ সবুর নির্বাচিত হন। এরপর সীমানা পরিবর্তনের পর ১৯৮৬ সালের ৭ মে নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মোমিন উদ্দিন, ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জহুরুল হক, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে আসনটি শূণ্য থাকে। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ মো. নূরুল হক, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জামায়াতের শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের প্রার্থী সোহরাব আলী সানা নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ও ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারী বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা যথাক্রমে শেখ মো. নূরুল হক, আক্তারুজ্জামান বাবু ও মো. রশীদুজ্জামান নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর মধ্যে অধিকাংশ সময় আওয়ামীলীগ কখনো জামায়াত ইসলামী বিজয়ী হলেও ২০২৪ এর ৫ আগস্ট অভ্যুত্থান পরবর্তী সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদের গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে নতুন উদ্যমে বেড়ে ওঠা বিএনপি ঠিক কি ধরনের প্রভাব ফেলবে তার বহুলাংশে নির্দ্ধারণ করছে প্রার্থীতার উপর। তাই আপাতত ভোটের আগে মাঠের লড়াইয়ে জামায়াতের একক ও বিএনপির অর্ধ ডজন প্রার্থী রাজনীতির মাঠ গরম করছেন।
ইমদাদুল হক,
পাইকগাছা,খুলনা। -

মহেশপুরে ব্যবসায়ীকে মা-রধর করে মোটরসাইকেল ছি-নতাই, আ-টক ৪
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতাঃ-
ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক মুদি ব্যবসায়ীকে মারধর করে মোটরসাইকেল ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন, যিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য বলে জানা গেছে।পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর উপজেলার নিমতলা (ফতেপুর) গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সামাদ প্রতিদিনের মতো গত ৩ জুলাই রাত ১১টার দিকে মহেশপুর ডিগ্রি কলেজ মোড়ে নিজের মুদি দোকান বন্ধ করে কালো রঙের ১২৫ সিসি ডিসকভার মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ফতেপুর ইউনিয়নের কদমতলা কাজলাবাড়ীর মোড়ে পৌঁছালে ওঁত পেতে থাকা দুইজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার পথরোধ মারপিট করে।
এঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুস সামাদ জানান, তারা তার চলন্ত মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তিনি রাস্তার পাশে পড়ে যায়। পরে তারা এলোপাতাড়ি মারধর করে তার মোটরসাইকেল, নগদ ১৫ হাজার টাকা, একটি স্মার্টফোন, একটি বাটন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
ঘটনার পরদিন রাতে আব্দুস ছামাদ বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মহেশপুর থানার এসআই (নি.) মো. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মহেশপুর শহরের গুলশানপাড়া এলাকা থেকে চারজনকে আটক করে।আটককৃতরা হলেন—কদমতলা গ্রামের মো. সুমন মিয়া (২৬), বগুড়ার নুনগুলা ইউনিয়নের লুৎফর রহমান (২৩), নাটিমা ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. সালমা খাতুন (৪৫) এবং কদমতলার সাকিল খান (২৬)।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সাইফুল ইসলাম জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।