হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং, জুয়ারি ও মাদক সন্ত্রাসীদের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে, এসবের টাকা জোগাড় করতে এলাকায় বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি ডাকাতি ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে এসবের সাথে জড়িতরা।
রবিবার (১৩ জুলাই ২০২৫ইং) জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া মোল্লা বাড়ি মোড়ে মোবাইলের ব্যবসায়ী সোহেল এর দোকান থেকে লক্ষাধিক টাকা চুরি হয়েছে। সোহেল বলেন, কিছুদিন আগে আমার দোকানের তালা ভেঙে নগদ প্রায় লক্ষাধিক টাকাসহ মালামাল চুরি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাড় করতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে জুয়ারিরা ও মাদক সেবনকারী মাদক সন্ত্রাসীরা। মাদক সন্ত্রাসীরা শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নানারকম মাদকদ্রব্য অবাধে বিক্রি করছে আর এদের সহায়তা করে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য। মাদক সেবন করে অনেকেরই অকালে মৃত্যু হয়েছে।
অনেকেই জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা শক্তিশালী তাই তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে চায়না। অনুসন্ধান করে জানা যায়, আশুলিয়ার জামগড়ার মাদক কারবারি ফিরোজা বেগমকে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দড়িসয়া গ্রামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে হাতে নাতে গাঁজাসহ আটকের পর দুই বছরের সাজা প্রদান করেন। গাঁজা সেবন ও নিজ হেফাজতে গাঁজা সংরক্ষণ যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ সালের ৩৬ (১) এর ২১ ধারা লঙ্ঘন ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধারা মতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ২ (দই) বৎসর বিনাশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয়। এদিকে আশুলিয়ার জামগড়া উত্তরপাড়ার শরিফুল ইসলাম শরিফকে ডিবি পুলিশ কতর্ৃক আটক করে তার হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। তিনি ওই মামলায় জামিনে এসে আবারও সক্রিয় মাদক ব্যবসা করছে এবং বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। সেই সাথে জমি ক্রয়-বিক্রয় করা নিয়ে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে জামগড়ার মাদক কারবারি শীর্ষ সন্ত্রাসী শরীফ মোল্লার বিরুদ্ধে। সে স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় তার সাথে আরও ৬-৭ জনের গ্রুপ রয়েছে, এর ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না বলে এলাকাবাসী জানায়।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরের দড়িসয়া গ্রামের আলী আকবরের স্ত্রী মোছাঃ নুর জাহান ওরফে ফিরোজা বেগমের বিরুদ্ধে ঢাকার আশুলিয়া থানাসহ বিভিন্ন থানায় মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। এবারের গল্পটাই যেন ভিন্ন: স্বামী একজন রিক্সা চালক আর স্ত্রী বাসা বাড়িতে কাজের বোয়া থেকে এখন বিশাল প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেটের পরিচালনাকারী নারী ফিরোজা বেগম। তিনি এখন টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরের দড়িসয়া গ্রামে ইটের দালানকোঠা তৈরি করে বাড়িতে চারসাইড দিয়ে লাগিয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এলাকাবাসীর দাবি-সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দেখে তার বাড়িতে কারা কখন আসছে, প্রতিবেশি কেউ তার বাড়িতে প্রবেশ করলে তাকে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করাসহ মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। অনেকেরই প্রশ্ন: কি তার উপার্জন আর কি বা তার ব্যবসা? দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে উঠে আসে কে এই নুর জাহান ওরফে ফিরোজা বেগম। জানা গেছে, একজন দিনমজুর আলী আকবরের অপ্রতিরোধ্য স্ত্রী ফিরোজা বেগম মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করেন, এরপর এখন ক্ষমতাধরের খাতায় নাম লিখেছে মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকান্ডকে পুঁজি করে। বেশিরভাগ মাদক কারবারির বাড়িতে সিসিটিভি রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইলের দড়িসয়া পাড়া গ্রামের একবেলা খেয়ে আর অন্যবেলা না খেয়ে অনাহরে অর্ধাহারে থাকা সেই দিনমজুর স্বামী আলী আকববসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে ফিরোজা বেগম কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার মোশারফ ম্যানশন নামের একটি বাড়ির কক্ষ ভাড়া নিয়ে ওই বাড়ির মালিকের বিশাল ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে প্রায় ১০বছর ধরে বিভিন্ন মাদক ব্যবসা করে আসছিলো। সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি এই মাদকের কারবার করে লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছেন। এলাকাবাসী জানায়, ফিরোজা বেগমের মাদকের বিশাল শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে, দেশের সীমান্ত দিয়ে আসা বিদেশী মদ, ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক তার মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় চালান পাঠানো হয়। ২০১২ সালে সিরাজগঞ্জ, ২০১৭ সালে আশুলিয়া, ২০২১ইং সালে টাঙ্গাইলে মাদকসহ হাতে নাতে আটক হয় ফিরোজা বেগম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অনেকবার গ্রেফতার হলেও আইনের ফাঁকফোকড় দিয়ে তিনি ও তার দুই ছেলে কৌশলে বেড়িয়ে এসে ক্ষমতা ও টাকার দাপটে অবাধে চালাচ্ছে তাদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড।
এলাকাবাসী-মাদককে না বলে পৃথক ভাবে একাধিকবার মাদক বিরোধী মিছিল ও মানববন্ধনসহ সাংবাদিক সম্মেলন করেন। মাদক নিমর্ূলের দাবিতে সামাজিক ভাবে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। মাদক ব্যবসায়ীদের দ্বারা ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা বন্ধের জন্য সামাজিক প্রতিরোধে এলাকার যুবসমাজকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে দড়িসয়া গ্রামের ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুস সামাদ বলেন, পূর্বের ইতিহাস তারা আগে জামগড়ায় থাইকা কাম কাজ করছে। ১৫-১৬ বছর যাবতসেখানেই থাকতো তারা। তার দুই ছেলে বিভিন্ন মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে একাধিকবার, ফিরোজা বেগমও গাঁজাসহ আটক হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে দুই বছরের সাজা দেন। তিনি আরও বলেন, এই ফিরোজা বেগমের পরিবারের লোকজন সবাই এখন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছেন।
উক্ত বিষয়ে জানতে সরেজমিনে গিয়ে আশুলিয়ার জামগড়া ও টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরের দড়িসয়া গ্রামে মোছাঃ নুর জাহান ওরফে ফিরোজা বেগমের বাড়িতে তাকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও র্যাব জানায়, অপরাধী সে যেই হোক না কেন তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও কিছু কথিত সাংবাদিক মাদকের সাথে জড়িত থাকার কারণে মাদক সন্ত্রাসীরা অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। আশুলিয়ায় জুয়া কারবারি শাহিন, সাবু, নাঈমসহ অনেকেই জানায়, পুলিশকে ম্যানেজ করেই তারা জুয়া চালায়।
আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হান্নান বলেন, আমি আশুলিয়ায় নতুন আসছি, দেহব্যবসা, জুয়া ও মাদক কারবারি যেইহোক না কেন ছাড় দেয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, অপরাধ করলে অপরাধীকে গ্রেফতার করা হবে। আমাদের অভিযান চলমান আছে।##
Category: দেশজুড়ে
-

আশুলিয়ায় কিশোর গ-্যাং জু-য়ারি ও মা-দক কারবা-রিদের কাছে সাধারণ মানুষ জি-ম্মি
-

সংবাদপত্র চালানো ও সংবাদ তৈরি করে সাংবাদিকতা করা এতটা সহজ নয়
সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ): সংবাদপত্র চালানো ও সংবাদ তৈরি করে সেই সংবাদ পরিবেশনসহ সাংবাদিকতা করা এতোটা সহজ নয় এমনই অভিমত প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জয়। তিনি বলেন, সাংবাদিক মানে সমাজের দর্পণ আর সাংবাদিক হলো দেশ ও জাতির বিবেক। দেশে বর্তমানে কাগজপত্রসহ সকল জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও সংবাদপত্রের দাম বাড়েনি এবং সাংবাদিকদের সম্মান বাড়েনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও অনলাইন পোর্টালে ২৪ ঘন্টা প্রচারণা চলমান থাকায় বর্তমানে প্রিন্ট পত্রিকা পড়তে আগ্রহী না বেশিরভাগ পাঠক। অনেকেই সময় বাঁচাতে অনলাইনে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করছেন। সংবাদপত্রের সাংবাদিক কতটুকুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকতা করছেন তা লিখতে গেলে ইতিহাস হবে। বিবেক ও আবেকময় মন দিয়ে বিচার হয় না। সাংবাদিকরা সবার খবর রাখেন কিন্তু তারা কেমন আছেন এই খবর কে রাখেন?
মহান পেশা সাংবাদিকতা অথচ নিজেদের ভেতরে বাইরে শক্রতা সৃষ্টি করায় অন্যরা নিচ্ছে সুযোগ সুবিধা আর হয়রানির শিকার হচ্ছেন প্রকৃত সাংবাদিক। সাংবাদিক ও পুলিশ একে অপরের বন্ধু উল্লেখ করে সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো বাঁধা সৃষ্টিকারীদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে একমত হয়ে সাংবাদিক নেতারা অনেকেই বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলা মামলা বন্ধ করতে হবে কিন্তু কিছু কথিত সাংবাদিক পরিচয়পত্র নিয়ে ফিটিংবাজি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে, এদের সাথে থাকে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য, তারা তিলকে তাল বানিয়ে অবৈধভাবে ফায়দা লুটছে। দেশের যেসকল সম্পাদক ও সাংবাদিকদের উপর হামলা মামলা ও নির্যাতন করা হয়েছে, সেইসকল ঘটনা ও অপরাধের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা’র ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক (হেলাল শেখ), তিনি বলেন, সাংবাদিকদেরকে ঘাঁয়েল করতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় একটি মহল। সাংবাদিকদের মহান পেশাকে অসম্মান করার অধিকার কারো নেই। তবে কিছু সম্পাদক সাংবাদিকদের বেতন দেন না, উল্টো প্রতি মাসে প্রতিনিধিদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এরকম সত্য কেউ প্রকাশ করতে চায় না কারণ, তাদের স্বার্থে আঘাত লাগবে তাই। এর কারণে অনেক সাংবাদিক এই মহান পেশা সাংবাদিকতা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রিন্ট প্রত্রিকা-সংবাদপত্র নিয়মিত ছাপানো অনেক কঠিন, প্লেট ও কাগজপত্রের দাম বেড়েছে। সাংবাদিকতায় চরম বাঁধা সৃষ্টি করছে যারা তাদের অপকর্ম, অনিয়ম, দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। অনলাইন পোর্টাল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার ও সাংবাদিকতায় এক পর্যায়ে কাজ করছে কিছু অসাধু লোকজন, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরী, এতে প্রকৃত সাংবাদিক ও সম্পাদক মহোদয়ের সম্মান রক্ষা হবে। অন্যদিকে কাগজপত্র ও প্লেটের দাম বৃদ্ধি হওয়ার কারণে প্রিন্ট পত্রিকা ছাপানো অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। মাদক সন্ত্রাস, চোর বাটপার ও খারাপ প্রকৃতির ব্যক্তির কারণে প্রকৃত সাংবাদিকতায় চরম বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে, যা প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য লজ্জাজনক। কিছু অসাধু ব্যক্তির অত্যাচারের কারণে অনেকেই মহান পেশা সাংবাদিকতা ছেড়ে অন্য পেশায় যাচ্ছেন।
প্রকৃত সাংবাদিক ও লেখক কখনো কোনো হামলা মামলার ভয় করে না। নেতা বা মেম্বার চেয়ারম্যান, এমপি মন্ত্রী আপনারা যে পেশা থেকেই আসেন না কেন, দয়া করে কেউ সাংবাদিকদের অপমান করবেন না, এমনকি যেকোনো পুলিশ অফিসার সাংবাদিকদের অপমান করার অধিকার রাখেন না। আপনাদের ইতিহাস প্রকৃত সাংবাদিকই প্রকাশ করতে পারে। দেশের গণমাধমের প্রকাশক ও সম্পাদকসহ প্রকৃত সাংবাদিকরা আপনাদের অনেকের প্রকৃত চরিত্র ও ইতিহাস জানেন। আপনারা কে কেমন প্রকৃতির মানুষ বা কেমন অপরাধ করেছেন? কে কেমন অপরাধী ? কে কেমন চরিত্রবান তা সাংবাদিকরা জানেন। রাজধানী ঢাকা, ধামরাই ও সাভার আশুলিয়াসহ সারাদেশেই একের পর এক প্রকৃত সাংবাদিকদের উপর নৃশংস হামলা-মামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতাসহ সচেতন মহল। সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না থাকার কারণেই বিভিন্ন হামলা মামলার শিকার হয়ে থাকেন। প্রকৃত সাংবাদিকদেরকে কেউ ভয় দেখাবেন না, কলমের শক্তি দিয়েই তার জবাব দেয়া হবে। আমরা সাংবাদিকরা কোনো কচু পাতার পানি নয় যে, বাতাসে পড়ে যাবো। অনেকেই ষড়যন্ত্রের কারণে হামলা-মামলায় শিকার হয়ে থাকেন। ভয় করবেন না “বৃহত্তর ঐক্যই আমাদের লক্ষ্য”। সাংবাদিককে অপমান করার অধিকার কারো নেই। সাংবাদিকদের উপর নৃশংস হামলা-মামলা, হত্যার হুমকি’র বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা। বিশেষ করে নিউজ লেখতে হবে সকল সাংবাদিকদেরকে সবার সংশ্লিষ্ট মিডিয়ায় তা নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। ভয় করলে সাংবাদিকতা করা যায় না। বিশেষ করে নতুন সাংবাদিকদের অবশ্যই সাংবাদিকতার আদর্শলিপি বইসহ বেশি বেশি বই পড়া জরুরি, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকতার মূলধারায় এগিয়ে যেতে হবে। নিজে সচেতন হতে হবে এবং অন্যদেরকেও সচেতন করতে প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে। কলম সৈনিক কখনো কারো মিথ্যা সংবাদ লিখে প্রকাশ করে না। যারা কলম হাতে নিয়ে মিথ্যা কোনকিছু লিখে তা প্রচার করে, এটাকে অপপ্রচার বলা হয়, অপপ্রচারকারীরা দেশ ও জাতির শক্র। দেশের ভেতরে যারা দেশ ও জাতিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে তাদেরকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হোক বলে দাবী জানান সাংবাদিক নেতারা।
সাংবাদিকরা না খেয়ে থাকলেও লজ্জায় কারো কাছে বলতে পারেন না, হাত পেতে সাহায্য নিতে পারেন না আর অভাবি ব্যক্তিরা সাংবাদিকতায় আসা ঠিক না। ৩৬৫ দিনে এক বছর, জীবনে কোনদিন ছুটি নেই সাংবাদিকদের। ৩৬৪ দিন ভালো কাজ করেন আর একদিন একজনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করবেন এতে একটু ভুল হলেই সেই সাংবাদিক খারাপ হয়ে যাবে তাদের কাছে। অপরাধীরা অপরাধ করবে তাদের বিরুদ্ধে কোনকিছু লেখা যাবেনা, ১দিন যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ করছেনতো সাংঘাতিক হবেন। সাংবাদিক জাতির বিবেক, সেই বিবেককে গালি দিয়ে বলা হয় সাংবাদিকরা খারাপ ও সাংঘাতিক, এটা কোন ধর্ম আর কোন বিচার ?। অনেকেই নিজেদেরকে বড় মনে করেন, নিজেদের স্বার্থের জন্য শক্রতা সৃষ্টি করেন আর একজন অন্যজনের ক্ষয়ক্ষতি করার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন এটা আমাদের ভুল হচ্ছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বয় করে কাজ করার মধ্যে আনন্দ আছে, “বৃহত্তর ঐক্যই আমাদের লক্ষ্য”। আমাদের লেখার মধ্যেও অনেক ভুল হয়। এই জন্য সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার আদর্শলিপি পড়া দরকার। বিশেষ করে “কলম সৈনিক অর্থাৎ সাংবাদিক দেশ ও জাতির বিবেক, ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, বিশেষ সম্মান অর্জন করার লক্ষ্যে কাজ করতে গিয়ে সম্মান অর্জন না হয়ে উল্টো বদনাম হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকদের। সাংবাদিকতা করতে শুধুমাত্র মানুষের সুখ, দুঃখ, আনন্দ বেদনা, দুর্ঘটনাসহ সকল বিষয়ে জাতির কাছে তুলে ধরতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের অবশ্যই চোখ কান খোলা রেখে কাজ করতে হবে।
জনগণের কল্যাণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে থাকেন সাংবাদিকরা, এর বিনিময়ে কি পাচ্ছেন তারা? নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অনেক সাংবাদিক, হয়রানিমূলক মামলার শিকার হচ্ছেন অনেকেই তার কোনো হিসাব নেই। দেশে প্রায় ১৮ কোটি জনগণ, সেই তুলনায় আইনশৃঙ্খা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকের সংখ্যা অনেক কম, তবুও আমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছি। ধন্যবাদ জানাই তাদেরকে যারা মানুষের কল্যাণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। অনেকেই জানেন না যে, ১/ সাংবাদিক মানে জাতির বিবেক। ২/ সাংবাদিক মানে দেশ প্রেমিক। ৩/ সাংবাদিক মানে কলম সৈনিক। ৪/ সাংবাদিক মানে জাতির দর্পণ। ৫/সাংবাদিক মানে জাতির সেবক। ৬/সাংবাদিক মানে শিক্ষিত জাতি। ৭/সাংবাদিক মানে স্বাধীনভাবে কাজ করা। ৮/সাংবাদিক মানে সম্মানিত জাতি। ৯/ সাংবাদিক মানে তদন্তকারী। ১০/ সাংবাদিক মানে আইন বিষয়ে জানা। ১১/ সাংবাদিক মানে সিস্টেম পরিবর্তন করা। ১২/ সাংবাদিক মানে সকল তথ্য বিষয়ে জানা। -

গৌরনদীতে বর্ষাবরণ ও কবি-সাহিত্যিকদের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত
গৌরনদী প্রতিনিধি
বরিশালের গৌরনদীতে বর্ষাবরন ও কবি সাহিত্যিকদের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৪টায় বিএমএসএফ গৌরনদী উপজেলা কার্যালয়ে চন্দ্রদ্বীপ সাহিত্য সমাজ ও বাংলা ভাষা ও বাঙালী সংস্কৃতি সমাজের যৌথ আয়োজনে এ মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উপজেলার কবি সাহিত্যিক ও লেখক সাংবাদিকরা অংশ গ্রগহন করেন।
চন্দ্রদ্বীপ সাহিত্য সমাজ ও গৌরনদী পৌর নাগরিক কমিটির সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেনবাবুগঞ্জ আগরপুর উত্তর সংস্কৃতি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল হাকিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গৌরনদী চন্দ্রদ্বীপ সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবি সিকদার রেজাউল করিম, প্রভাষক মোঃ মাসুদ করিম, সরকারি গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোঃ বাদশা সিকদার, হোসেনাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মনতোষ দাস, কবি প্রকাশ রায়, শেখ খলিলুর রহমান, কবি শাহ আলম, আব্দুল মতিন, কবি মুশফুক শুভো, প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ, সাহিত্য আড্ডা, কথামালা, সংগীত ও পুঁথিপাঠ পরিবেশিত হয়। এতে বরিশালের বিভিন্ন উপজেলার কবি, লেখক, সাহিত্যিক ও উপন্যাসিকরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলা ভাষা ও বাঙালী সংস্কৃতি সমাজের সাধারণ সম্পাদক ডা. মণীষ চন্দ্র বিশ্বাস। -

আমজনতার দল চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ হোটেল অতিথীতে আজ শনিবার (১২ জুলাই ২০২৫) সন্ধ্যা ৭টায় আমজনতার দল চট্টগ্রাম জেলা শাখার এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলের জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা শাখার সদস্য সচিব মোঃ সালাউদ্দীন মজুমদার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আহ্বায়ক মুহাম্মদ আজগর হোসেন জিহাদ।
এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্তর্গত ১০টি থানার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবগণ, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক তৃণমূল কর্মী-সমর্থক সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভাটি সঞ্চালনা করেন চকবাজার থানা সদস্য সচিব মেহেদী হাসান সাগর।
সভায় দলের জেলা পর্যায়ের আসন্ন কর্মসূচি নির্ধারণ, বার্ষিক আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত পর্যালোচনা, এবং বহুল প্রত্যাশিত জেলা কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় নেতারা বলেন, জনগণের চাওয়া ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হলে দলকে তৃণমূল পর্যায় থেকে সুসংগঠিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে স্থানীয় ওয়ার্ড, ইউনিয়ন এবং থানা পর্যায়ে দলীয় কাঠামো শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম জেলা আহ্বায়ক মুহাম্মদ আজগর হোসেন জিহাদ তার বক্তব্যে বলেন, “দলকে আন্দোলন ও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রাখতে হলে সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। জেলা কাউন্সিল হবে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ এবং দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”
সভায় আগামী তিন মাসের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণসহ কয়েকটি সাংগঠনিক কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজনীতির মূল শক্তি হলো জনগণ, আর জনগণের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করতে হলে নীতি, আদর্শ ও কাজের মাধ্যমে মাঠে থাকতে হবে।
সভা শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশের শান্তি, অগ্রগতি এবং সংগঠনের সফলতা কামনা করা হয়।
-

মিডফোর্ডে ব্যবসায়ীকে হ-ত্যার প্র-তিবাদে ময়মনসিংহে ছাত্র-জনতার মানব-বন্ধন ও বিক্ষো-ভ সমাবেশ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
সারাদেশে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন, জুয়া, মাদক কারবারি ও যুবদল নেতা কর্তৃক পুরান ঢাকার ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (১২ জুলাই) বিকালে শহরের ফিরোজ জাহাঙ্গীর চত্ত্বর এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামি ছাত্র শিবির, আপ বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ ছাত্র ও জনতাসহ সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন ,মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, এটা দেখে আমরা আসলে মর্মাহত, লজ্জিত এবং শঙ্কিতও বটে। আমরা বারবার বলে এসেছি, বাংলাদেশে যে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে, সে যদি দলের হয়, তাহলে সে দলীয় সন্ত্রাসী, সে যদি কোনো ব্যক্তিগত অন্যায় করে তাহলে ব্যক্তিগত অন্যায়। পরে সেখান থেকে প্রতিবাদকারীরা সোহাগ ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব দে” “আমার সোনার বাংলায় চাঁদাবাজদের ঠাই নাই” এমন নানা ধরনের স্লোগানে
একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহরের শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউনহল মোড়ে গিয়ে সমাপ্ত হয়।বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে যে পরিমাণ চাঁদাবাজী হত্যা ধর্ষণ হচ্ছে এমন স্বাধীনতা তো আমরা চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম সুন্দর একটা রাষ্ট্র। অপরাধীর শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তায় থাকবো। দেশের প্রতিটি হত্যার বিচার দ্রুত করতে হবে এই সরকারকে। মিছিলকারীরা বলেন সোহাগ হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকবো।
উল্লেখ্য, গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিডফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে পাকা রাস্তার ওপর সোহাগকে পাথর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
-

সলঙ্গায় স্কুল ছাত্র নিহ-ত
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় অটো ও নসিমনের ধাক্কায় এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছে। নিহত স্কুল ছাত্র সিয়াম (১২) নাইমুড়ি কিষান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র ও সলঙ্গা থানার নাইমুড়ি-চকপাড়া গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে।ঘটনাটি ঘটেছে, রবিবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯ টায় হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের নাইমুড়ি ‘স্বপ্ন বিলাস’ কফি হাউস এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,আম কেনার জন্য দাদার সাথে অটো গাড়িতে করে সলঙ্গা বাজারে যাচ্ছিল।এমন সময় উল্লেখিত স্থানে একটি নছিমন ধাক্কা দিলে গুরুতর অবস্থায় সিয়ামকে হাসপাতালে নেয়ার পথে রাস্তায় মারা যায়। তার এ অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। -

গৌরনদীতে কবি-সাহিত্যিকদের বর্ষাবরণ ও মিলন মেলা অনুষ্ঠিত
গৌরনদী (বরিশাল):
বরিশালের গৌরনদীতে অনুষ্ঠিত হলো কবি ও সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে বর্ষা বরণ ও মিলন মেলা। শনিবার (১২ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিএমএসএফ গৌরনদী উপজেলা কার্যালয়ে চন্দ্রদ্বীপ সাহিত্য সমাজ ও বাংলা ভাষা ও বাঙালী সংস্কৃতি সমাজের যৌথ আয়োজনে এ মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ, সাহিত্য আড্ডা, কথামালা, সংগীত ও পুঁথিপাঠ পরিবেশিত হয়। এতে বরিশালের বিভিন্ন উপজেলার কবি, লেখক, সাহিত্যিক ও উপন্যাসিকরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চন্দ্রদ্বীপ সাহিত্য সমাজ ও গৌরনদী পৌর নাগরিক কমিটির সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জহির।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ আগরপুর উত্তর সংস্কৃতি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল হাকিম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গৌরনদী চন্দ্রদ্বীপ সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবি সিকদার রেজাউল করিম, প্রভাষক মোঃ মাসুদ করিম, সরকারি গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোঃ বাদশা সিকদার, হোসেনাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মনতোষ দাস, কবি প্রকাশ রায়, শেখ খলিলুর রহমান, কবি শাহ আলম, আব্দুল মতিন, কবি মুশফুক শুভো, প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলা ভাষা ও বাঙালী সংস্কৃতি সমাজের সাধারণ সম্পাদক ডা. মণীষ চন্দ্র বিশ্বাস। -

সুজানগরে বিএনপির দুই গ্রুপের সং-ঘর্ষের ঘটনায় মা-মলা, গ্রেফ-তার-১
এম এ আলিম রিপন,সুজানগরঃ পাবনার সুজানগরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় শুক্রবার রাতে একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় পৌর এলাকার আলতাফ খানের ছেলে নয়ন খান কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব(বহিষ্কৃত) শেখ আব্দুর রউফের ছেলে রুদ্র বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ২৩ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৫০জনকে। এছাড়াও অপরপক্ষে পৌরসভার চর সুজানগর এলাকার রশিদ খানের স্ত্রী কাজলী খাতুন ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০জন অজ্ঞাত করে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে শুক্রবার রাতে রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিম বাদী হয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে সংঘর্ষের এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মামলা ও অভিযোগের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সুজানগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান শনিবার জানান, মামলার ভিত্তিতে আসামীদের ধরতে অভিযান শুরু করছে পুলিশ এবং অপর অভিযোগগুলো তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এ ঘটনা তদন্ত করতে শুক্রবার ঘটনাস্থলে আসেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা তিন সদস্যের প্রতিনিধিরা হলেনÑরাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিম ও ওবায়দুর রহমান চন্দন এবং বিএনপির তথ্য সেলের সদস্য মাহবুবুর রহমান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা ছাড়াও এ সময় তারা সাধারণ জনগণের কাছ থেকে তথ্য সরবরাহ করেন পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের কাছে থাকা গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করেন। অস্ত্র হাতে কয়েকটি ছবি ভাইরাল হয়েছে ওসব ছবিও সংগ্রহ করেন তারা। এরপর সুজানগর থানা ও সার্কেল অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুজানগর ডাক বাংলোর অডিটোরিয়ামে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত ব্রিফ করেন।
পরিদর্শন ও তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত ব্রিফকালে রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিম বলেন, পত্রপত্রিকার মাধ্যমে আপনারা জানতে পেরেছেন গত বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে সুজানগর পৌর শহরের নন্দিতা সিনেমা হল রোড এলাকায় বিএনপির নামধারী কতিপয় সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি দিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায়। যা বিএনপির দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি তাৎক্ষণিক তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা কার্যকর করেছেন এবং ভালোভাবে তদন্ত করতে ও শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে ঘটনাস্থলে তিন সদস্যের টিম পাঠিয়েছেন। আমরা এলাকায় এসে জনগণের মতামত গ্রহণ করেছি। প্রশাসনের নিকট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জোর দাবি জানিয়েছি। অপরাধীদের কোনো ক্ষমা নেই। অপরাধী যেই হোক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে বলেছি। শাস্তি কার্যকর করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা যদি আদালতের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হন তাহলে বহিষ্কার তুলে নেওয়ার বিষয়ে দল বিবেচনা করবে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য সেলের সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা তারেক রহমানের নির্দেশনায় এখানে আসছিলাম। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে কার্পণ্য না করেন। কারও ভয়ে প্রকৃত দোষী যেন ছাড় পেয়ে না যায়। সেই বিষয়ে ওসি সাহেবকে বলেছি। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে লিখিতভাবে অভিযোগ থানায় দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে সুজানগর বাজারের নন্দিতা সিনেমা হলের সামনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফসহ উভয় পক্ষের প্রায় ২৫ নেতাকর্মী আহত হন।
এর পরপরই এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে উপজেলা বিএনপির বিএনপির সদস্য সচিবসহ ১০ জনকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন- সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব রউফ শেখ, ছাত্রদল নেতা শেখ কাউছার, যুবদল নেতা মনজেদ শেখ , সুজানগর পৌর বিএনপির ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবর খা , সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য কামাল শেখ , পৌর যুবদল সদস্য মানিক খা , সুজানগর এনএ কলেজ শাখার সভাপতি শাকিল খা , সুজানগর পৌর ৬নং ওয়ার্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি রুহুল খা , বিএনপি কর্মী লেবু খা , ও যুবদল কর্মী হালিম শেখ ।এম এ আলিম রিপন
সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।। -

পঞ্চগড়ে বিসিক নগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ দেলদার রহমান কারা-গারে
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ে বিসিক নগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেজ ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ দেলদার রহমান দিলুকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টায় অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোর্পদ করলে বিচারক তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।
জানা যায়, অর্থঋণ আদালতের সিআর ৩৭১/২৩ নম্বর মামলায় দেলদার রহমান গ্রেফতারী পরোয়ানাকৃত আসামী ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় পুলিশ তাকে আটক করে পঞ্চগড়ে নিয়ে আসেন।
পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে জেলা জজ কোর্টের অর্থঋণ আদালতের মামলার ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে ঢাকার ডিবি (ডিএমপি) জয়েন কমিশনার এলাকা থেকে পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আশিষ কুমার শীল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অর্থঋন আদালতের চেক ডিজওনার মামলায় একটি ওয়ারেন্ট (এন.আই.এ্যাক্ট) ইস্যু ছিল এবং তিনি র্দীঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। পরে তার অবস্থান নির্ণয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।
-

নেছারাবাদে পনের বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত সহকারি শিক্ষক এস এস সি পরীক্ষায় পাশ মাত্র দুইজন
আনোয়ার হোসেন
নেছারাবাদ উপজেলা সংবাদদাতা।।পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের সেহাংগল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় চরম ফল বিপর্যয় হয়েছে। ১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে মাত্র দুজন।বিদ্যালয়টিতে নয়জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ১৫বছর দরে অনুপস্থিত রয়েছে শাহানা বেগম, কিন্তু সরকার থেকে বেতন ঠিক মতো তুলে নিচ্ছেন মাসে একবার এসে হাজিরা দিয়ে যায় তিনি। এবছর বার শিক্ষার্থীর মধ্য মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী পাশ করায় ক্ষুদ্ধ ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও শুভাকাঙ্খিরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবহেলার কারনে শিক্ষার্থীদের ফল বিপর্যয় হয়েছে বলে মনে করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ফলাফলে বিষয়টি জানা যায়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়টির পড়াশোনার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মানিক লাল সরকার বলেন, আমরাও মর্মাহত গতবছর ১৫ জনে ১৪জন পাশ করেছে। এবছর মূলত দেশের পট পরিবর্তন হওয়ার কারনে আমরা ঠিক মতো ক্লাস নিতে পারিনায় ছাত্রীরাও ক্লাসে অনিয়মিত ছিলো।মুলত আমাদের শিক্ষকদের অবহেলার কারনে ফল বিপর্যয় হয়েছে। বিদ্যালয়ে সাহানা বেগম নামে এক সহকারি শিক্ষকের দীর্ঘ পনের বছর অনুপস্থিত রয়েছে।
এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো: মনির হোসেন বলেন, ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কোন জবাবদিহিতা নেই। বিদ্যালয়ের সাহানা বেগম নামে এক সহকারি শিক্ষক পনের বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তিনি অসুস্থতার কথা বলে স্বামী সন্তান নিয়ে ঢাকায় থাকেন। প্রধান শিক্ষক মানিক লাল যখন খুশি তখন বিদ্যালয়ে আসেন। যে কারনে প্রতিষ্ঠানটি কোন নিয়মের ভিতরে নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: নজরুল ইসলাম বলেন, একসময় বিদ্যালয়টি খুব সুনামের সাথে চলত। ফলাফলে উপজেলায় ছিল একটি প্রতিযোগী স্কুল। প্রধান শিক্ষক মানিক লালের অদক্ষতায় বিদ্যালয়টির এমন ফল বিপর্যয়।ছাত্রীরা মোবাইল নিয়ে ব্যাস্তথাকে পড়ালেখায় অনীহা। শিক্ষকদের গাফিলতি আছে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার চাপ দিতে পারেন না সবমিলিয়ে এমন ফল বিপর্যয় হয়েছে।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো: জাহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ে কিভাবে এমন ফল বিপর্যয় হয়েছে তা জানতে চাব। বিদ্যালয়ে যে শিক্ষক পনের বছর ধরে অনুপস্থিত তা আমার জানা ছিলনা। আমরা শিক্ষক অভিভাবকদের নিয়ে একটা সভা করব। অনুপস্থিত ওই শিক্ষকের বিষয়ে খোজ নিয়ে জানব।
আনোয়ার হোসেন
নেছারাবাদ উপজেলা সংবাদদাতা।