Category: দেশজুড়ে

  • ময়মনসিংহ সদরে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মেধা অ-ন্বেষণ ও অব-কাঠামো উন্নয়নে মতবিনিময় সভা

    ময়মনসিংহ সদরে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মেধা অ-ন্বেষণ ও অব-কাঠামো উন্নয়নে মতবিনিময় সভা

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।

    ময়মনসিংহে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলা পর্যায়ে মেধা অন্বেষণ (ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব এবং যুক্তি ও গণিত মঞ্চ) প্রতিযোগিতা অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ আয়োজন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৮আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদের ব্রহ্মপুত্র হলরুমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম প্রিন্স। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেছেন-ময়মনসিংহ সদরে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার মানোন্নয়নে মেধা অন্বেষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের উপর জোর দিতে হলে শিক্ষক-অভিভাবক-প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারিভাবে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার প্রয়োজন হলে তাই করা হবে, এসময় তিনি মেধা অন্বেষণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং শিক্ষক-অভিভাবক কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করারও আহবান জানান। তিনি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে, মেধা অন্বেষণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকা মেধা খুঁজে বের করে এবং তাদের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন এবং একই সাথে অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ভৌত অবকাঠামোগত মান উন্নয়ন করা, যেমন নতুন ভবন নির্মাণ, পুরোনো ভবন সংস্কার, এবং শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আহবান জানান। বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন এবং উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন এর সভাপতিত্বে ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাহিদা পারভীন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য- সহকারী শিক্ষা অফিসার মোজাহিদুল ইসলাম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম প্রিন্স আরো বলেন- মানসম্মত শিক্ষা সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমাদের লক্ষ্য শিশুদের সক্ষম করে তোলা। শিক্ষকরা শিশুদেরকে মুখস্ত না করিয়ে তারা যেন মাতৃভাষায় বলতে, পড়তে, লিখতে ও গণিত করতে সে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। যদি শিশুরা পারে তাহলে বুঝবেন আপনি সর্বোচ্চ করে দিয়েছেন। এরপর সে নিজে নিজেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে লেখাপড়া করতে পারবে। প্রধান শিক্ষক তার স্কুলের শিক্ষার মানোন্নয়নে টার্গেট ঠিক করবেন। শিশুদের টার্গেট সে যেন মাতৃভাষায় লিখতে পড়তে বলতে পারে, গণিত করতে পারে, কিছুটা ইংরেজি পারে। আমরা সহায়তা করব।মাতৃভাষায় দক্ষ হলে সহজেই ইংরেজিসহ বিদেশি ভাষা শিখতে পারবে। শিক্ষকের দায়িত্ব পড়াশোনার মান বৃদ্ধি করা, তাহলে অনেক সমস্যা কেটে যাবে। সকলে নিজ নিজ ক্ষেত্রে উদ্যোগী হলে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে পারব।

    সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন বলেন-আগামী দিনে মেধাবী জাতি তৈরী করতে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানকে বৃদ্ধি করার লক্ষে ময়মনসিংহ সদরে যেখানে যা কিছু প্রয়োজন তাই করা হচ্ছে। যে স্কুলের ভবন নাই সেখানে ভবন করা হচ্ছে, যে স্কুলের রাস্তা নাই সেখানে রাস্তা করা হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাছাই করা হবে। যে কারণে ক্লাব করা হয়েছে। ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব এবং যুক্তি ও গণিত মঞ্চ নামে দুটি ক্লাব করা হয়েছে। যেখানে ইংরেজীতে ৩ জন অংকে ৩ জন মোট ৬ জন করে মেধাবীরা তালিকাভূক্ত হবেন। এভাবে উপজেলা পর্যায়ে মেধা অন্বেষণ করা হবে।

    এসময় তিনি বলেন-প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সমস্যা কোথায়? কিভাবে উন্নয়ন করা যায় -সে বিষয়ে তিনি প্রধান শিক্ষকদের সুনির্দিষ্ট মতামত দেওয়ার আহবান জানান। এসময় তিনি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনে শিক্ষককে তালিকা পাঠানোর আহবান জানান।

    সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হুসনে আরা, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ইন্সপেক্টর হায়দার জাহান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার প্রতিনিধি ডাঃ তাজরিন আক্তার, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম,হার্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম,খাগডহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিন্নাত মহল,নামা কাতলাসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম,

    এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মাকসুদা আক্তার,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল হক ফারুক রেজা,উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মেরিনা সুলতানা,মো: হারুন সিকদার,রুবি খান,আশীষ কুমার তরফদার,মিতালী বণিক,মো: সাদ্দাম হোসেনসহ উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • চারঘাটে হুইল চেয়ার ও এককালীন অ-নুদান বি-তরণ

    চারঘাটে হুইল চেয়ার ও এককালীন অ-নুদান বি-তরণ

    চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

    রাজশাহীর চারঘাটে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রাপ্ত প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার ও আদিবাসী বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের এককালীন অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১ টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ২৩ টি হুইল চেয়ার ও আদিবাসী বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের মাঝে এককালীন অনুদান বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান, নিমপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, শলুয়া ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান লালন আলী, ইউসুফপুর ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মাখন সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রধান গন।

    মোঃ মোজাম্মেল হক
    চারঘাট, রাজশাহী

  • পানছড়িতে আ-ত্মসামাজিক উন্নয়নে সহা-য়তায় প্রদান করলো  ৩ বিজিবি

    পানছড়িতে আ-ত্মসামাজিক উন্নয়নে সহা-য়তায় প্রদান করলো ৩ বিজিবি

    বিশেষ প্রতিনিধি ।।

    আত্মসামাজিক উন্নয়ন ও সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে লোগাং জোন (৩ বিজিবি) কর্তৃক পাহাড়ী, বাঙ্গালি, দুঃস্থ নারী পুরুষেও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাঝে বিশেষ মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

    বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল এগারোটার দিকে লোগাং জোনের সদর দপ্তর কার্যালয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের মাঝে এসব সহায়তা প্রদান করা হয়।
    ৩ বিজিবি দায়িত্বপূর্ণ এলাকার দরিদ্র পরিবারকে নগদ আর্থিক সহায়তা , এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে দেওয়া হয়েছে সেলাই মেশিন, ও অসহায় ব্যক্তিকে ঘর তৈরি করতে দেওয়া হয়েছে ঢেউটিন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে চেয়ার এবং টেবিল।

    এসব সামগ্রী বিতরণে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) ও লোগাং জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম পিপিএম। আর্থিক অনুদান প্রদান শেষে এলাকার শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি সকলকে আশ্বস্থ করেন।

  • সুজানগরে আ-শ্রয়ণ প্রকল্পের জ-রাজীর্ণ ঘরে হ-তদরিদ্র মানুষদের ক-ষ্টের জীবন

    সুজানগরে আ-শ্রয়ণ প্রকল্পের জ-রাজীর্ণ ঘরে হ-তদরিদ্র মানুষদের ক-ষ্টের জীবন

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিমন্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও। বাড়ি তো নয় পাখির বাসা-ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি। একটুখানি হওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে, তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে। পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের এই বিখ্যাত আসমানী কবিতার সাথে তাল মিলিয়ে বলা যেতেই পারে অসহায় দরিদ্র মানুষদের দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, সুজানগরের ভঁায়নার আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাও। বাড়ি তো নয় পাখির বাসা-ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি। একটুখানি হওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে, তারি তলে অসহায় মানুষগুলো থাকে বছর ভরে।
    বুধবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পাবনার সুজানগর উপজেলার ভঁায়না সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো এখন পলিথিন ও পাটখড়ির আদলে আবদ্ধ। ইট-বালু খুঁটির ওপর লোহার সঙ্গে থাকা টিন মরিচা ধরে খসে পড়ায় ঘর থেকেই আকাশ দেখা যায়। কোনো মতে পাটখড়ি ও পলিথিনের জোড়াতালি দিয়ে থাকছেন বসবাসকারীর। মেঝের পলেস্তারা উঠে মাটি বের হয়ে গেছে। ছাউনির টিন ক্ষয়ে আকাশ দেখা যায়। ভেঙে গেছে চারপাশের বেড়া ও সিমেন্টের খুঁটি। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে পলিথিনের ছাউনি। এমনই জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী আশ্রয়ণ (ব্যারাক) প্রকল্পের ঘর।
    প্রকল্পের বাসিন্দা ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ভঁায়না আশ্রয়ণ প্রকল্পটি (ব্যারাক) তৈরি করা হয়। উপজেলার ভঁায়না ইউনিয়নে রাস্তার পাশে নির্মিত সরকারি এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে মাথা গেঁাজার ঠঁাই মেলে দরিদ্র কিছু পরিবারের। নির্মাণের পর আর কোনো মেরামত করা হয়নি। ফলে দিনে দিনে নষ্ট হতে থাকে ঘরগুলো। মরিচা পড়ে ক্ষয়ে যায় টিন। ভাঙতে থাকে সিমেন্টের খুঁটিগুলো। বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও বিকল্প কোনো আশ্রয় না থাকায় দরিদ্র পরিবারগুলো বাধ্য হয়েই এখানে বসবাস করছেন।
    বর্তমানে একটু বৃষ্টি হলেই ফুটো চাল দিয়ে পানি পড়ে। তাই বৃষ্টির দিনে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় তাদের।
    এমন কোন ঘর নেই যে, বৃষ্টি হলে ঘরে পানি না পড়ে। তাই কেউ কেউ ঘরের চালার সাথে পলিথিন দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও করেছে।
    সংস্কারের অভাবে এ ঘরগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নানা সমস্যায় জর্জরিত হলেও এসব ঘর মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে আতঙ্কে দিন কাটছে বসবাসকারী দরিদ্র অসহায় পরিবারগুলোর। তাদের দাবি, ভাঙাচোরা ঘরের চালায় পলিথিন দিয়ে ফুটো বন্ধ করে কোনো রকম বসবাস করে আসছেন। অন্যত্র সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়েই পরিত্যক্ত ভাঙাচোরা ও অস্বাস্থ্যকর এ ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস করছে এসব পরিবার।
    তৎকালীন সুজানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আজম আলী বিশ্বাস জানান, আমি সে সময় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ঘরগুলো নির্মাণ করা হলেও বিগত প্রায় ২৬ বছরেও এখানকার কোনো ঘর সংস্কার করা হয়নি। যদি সংস্কার করে না দেয়া হয়, তাহলে সরকার যে উদ্দেশ্য নিয়ে গরিব মানুষদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
    এ বিষয়ে আর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ জানান, অর্থ বরাদ্দ পেলে সংস্কার করা হবে জরাজীর্ণ ঘরগুলো।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • ঝিনাইদহ হিরা বেকারিকে ৪০ হাজার টাকা জ-রিমানা

    ঝিনাইদহ হিরা বেকারিকে ৪০ হাজার টাকা জ-রিমানা

    ঝিনাইদহ জেলা সংবাদদাতাঃ
    বাজার তদারকিমূলক অভিযান ২৭-০৮-২০২৫, তারিখ বুধবার চানপাড়া, আরাপপুর, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা, ঝিনাইদহ জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, ঝিনাইদহ এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জেলা কার্যালয়, ঝিনাইদহ এর যৌথ অভিযান।
    এসময় খাদ্য পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্নের তারিখ, বিক্রয়মূল্য ও অন্যান্য তথ্য উল্লেখ না করা, বিভিন্ন টেক্সটাইল রং ও কেমিক্যাল ব্যবহার করে খাদ্য পণ্য প্রস্তুত, বিক্রয় ও সংরক্ষণ ও অন্যান্য অপরাধে ০১টি প্রতিষ্ঠানকে (হিরা বেকারী) ২টি ধারায় প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার) টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব নিশাত মেহের এর নেতৃত্বে পরিচালিত বাজার তদারকিমূলক অভিযানে সহযোগিতায় ছিলেন জনাব সাধন সরকার, নিরাপদ খাদ্য অফিসার, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জেলা কার্যালয়, ঝিনাইদহ এবং অন্যান্য সহায়ক সদস্যবৃন্দ। এই অভিযানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের একটি টিম। জনস্বার্থে এই তদারকি চলমান থাকবে।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।

  • ঢাকায় আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ানের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ-যাপিত

    ঢাকায় আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ানের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ-যাপিত

    ।।এ কে খান ও গোলাম মোস্তফা রাঙ্গা।।

    বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিট, আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন (এজিবি), তাদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সম্প্রতি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করেছে। রাজধানীর ভাটারা এলাকায় অবস্থিত এই ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, এসজিপি, বিএএম, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি চৌকস দল মহাপরিচালককে “গার্ড অব অনার” প্রদান করে। এরপর মহাপরিচালক কেক কেটে এবং বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভ উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দরবারে মহাপরিচালক এজিবি’র সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এজিবি’র সদস্যদের আরও দক্ষ, পেশাদার এবং শারীরিক ভাবে সক্ষম করতে প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এজিবি’র সদস্যরা ইতোমধ্যেই সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে প্রশংসিত হয়েছে। মহাপরিচালক শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সকল সদস্যকে কঠোর নির্দেশনা দেন। বাহিনীর সদস্যদের মৌলিক চাহিদা পূরণের প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মহাপরিচালক বলেন, তিনি সবসময় সদস্যদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিতে কাজ করে যাবেন। তিনি সকল সদস্যকে পেশাগত দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত জীবনে সচেতনতা, সততা ও শৃঙ্খলার সাথে পথ চলার নির্দেশ দেন। অনুষ্ঠানে সদর দপ্তরের উপমহাপরিচালক (অপারেশন্স) মোঃ সাইফুল্লাহ রাসেল, বিএএম, পিএএমএস, বিভিএমএস, এজিবি’র অধিনায়ক ও পরিচালক রাসেল আহমেদ, বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মচারী বিভিন্ন পদবির সদস্য এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে অধিনায়ক মহাপরিচালক-কে একটি বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রীতি ভোজেরও আয়োজন করা হয়

  • বুড়িচংয়ে গ্রামের নাম পরি-বর্তন করে ভু-য়া শিক্ষক নি-য়োগের অ-ভিযোগ

    বুড়িচংয়ে গ্রামের নাম পরি-বর্তন করে ভু-য়া শিক্ষক নি-য়োগের অ-ভিযোগ

    তরিকুল ইসলাম তরুন,
    কুমিল্লা প্রতিনিধি:
    কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কালিকাপুর গ্রামে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ দেখিয়ে সরকারি রাজস্ব খাত থেকে বেতন ভোগের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ—একটি কুচক্রী মহল সু-কৌশলে গ্রামের নাম পরিবর্তন করে “উত্তর কালিকাপুর” দেখিয়ে হাফিজিয়া মাদ্রাসাকে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা হিসেবে চালানোর পাঁয়তারা করছে।

    সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা প্রথম প্রকাশ পায়। বিষয়টি প্রকাশিত হয় জাতীয় দৈনিক রূপসী বাংলা (১৯ আগস্ট ২০১৯) এবং দৈনিক যুগান্তর (২৩ আগস্ট ২০১৯)-এ। একই বছর জেলা প্রশাসক কার্যালয়, কুমিল্লা থেকে স্মারক নং-১৯৮০১ (শিক্ষা), তারিখ ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে প্রাপ্ত ডকেটের ভিত্তিতে ঘটনাটি অনুসন্ধানে নেয়া হয়। তখন অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়, গ্রামের কবরস্থানের জমিকে মাদ্রাসার নামে দেখিয়ে এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মাত্র ৫টি পরিবার থেকে ৫ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেখানো হয়েছিল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি তদন্তে ভুয়া কাগজপত্র ধরা পড়ার পর গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক গণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রতারণায় জড়িতরা ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং মুরব্বি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জামশেদুল আলমের নিকট ভুয়া কাগজপত্র জমা রাখে। তখন সিদ্ধান্ত হয়—ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নিলে তা গ্রামবাসীর মতামত ও সরকারি নিয়মনীতি মেনে করা হবে।

    তবে অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি পুনরায় ওই চক্রটি মাদ্রাসার নামে শিক্ষক নিয়োগ দেখিয়ে সরকারি বেতন ভোগের চেষ্টা করছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুয়া শিক্ষক হিসেবে যাদের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে তারা হলেন—
    ১) মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ (কথিত প্রধান শিক্ষক)
    ২) আফজাল হোসেন (সহকারী প্রধান শিক্ষক)
    ৩) নুরে তামজিদ (সহকারী জুনিয়র শিক্ষিকা)
    ৪) কানিজ ফাতেমা (সহকারী জুনিয়র শিক্ষিকা)
    ৫) নাজমা আক্তার (সহকারী জুনিয়র শিক্ষিকা)

    গ্রামবাসীর দাবি, “উত্তর কালিকাপুর” নামে কোনো গ্রামের অস্তিত্ব নেই। অথচ আদি গ্রাম কালিকাপুরের নাম পরিবর্তন করে প্রতারণামূলকভাবে কাগজপত্র জমা দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে হাজার বছরের কবরস্থানের জায়গার পবিত্রতা নষ্ট করা হচ্ছে এবং অযোগ্য লোকদেরকে ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার চেষ্টা চলছে।

    কালিকাপুর গ্রামের সচেতন মহল বলছে—এটি একটি শিক্ষানুরাগী গ্রাম, যেখানে ইতোমধ্যে সরকারি ডিগ্রি কলেজ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, হাফিজিয়া মাদ্রাসা, ইউপি অফিস ও ভূমি অফিস রয়েছে। সমাজের মানুষ পরস্পরের সহযোগিতায় উন্নয়নের পথে গ্রামকে এগিয়ে নিয়েছে। তাই গ্রামের নাম পরিবর্তন ও ভুয়া শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব খাত থেকে অর্থ আত্মসাৎ করার ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।

    উপরোক্ত বিষয়ে মাদ্রাসার কথিত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ অভিযোগগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে অভিযোগকারীদের পূর্বে বিরোধ ছিল। সম্ভবত সেই বিরোধের কারণেই তারা এমন অভিযোগ করছে। মাদ্রাসার নামকরণ করেছেন প্রতিষ্ঠাতা, যিনি ইতোমধ্যে মৃত। নামকরণ নিয়ে আমি কিছু জানি না, আমি এখানে কেবল শিক্ষাদান করি। শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও মাদ্রাসা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আপনারা সরেজমিনে আসুন, গ্রামের আরও অনেক মানুষ আছেন। তাদের কাছ থেকেও বিস্তারিত জেনে তারপর সংবাদ প্রচার করুন।”

    গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক কুমিল্লার নিকট আবেদন জানানো হয়েছে—বিষয়টি পুনরায় সুষ্ঠু অনুসন্ধানপূর্বক প্রতারণা ও জালিয়াতির হাত থেকে গ্রামকে রক্ষা করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

  • পাইকগাছায় ভাসমান বীজতলায় সফ-লতা পেয়েছে কৃষক

    পাইকগাছায় ভাসমান বীজতলায় সফ-লতা পেয়েছে কৃষক

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা (খুলনা)।।
    খুলনার পাইকগাছায় অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় কলাগাছের ভেলায় ভাসমান ধানের বীজতলা তৈরি করে সফলতা পেয়েছে কৃষক পরিবার। অতিবৃষ্টি, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতায় নাকাল উপকূলের পাইকগাছার কৃষক। সর্বশেষ টানা বর্ষণে শুধু খুলনায়ই ফসল,সবজি ও আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৩ সহস্রাধিক কৃষক। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভাসমান ধানের বীজতলা তৈরি করে সফলতা পেয়েছে খুলনার এক কৃষক পরিবার।চলতি বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে কয়েক দফা বীজতলা নষ্ট হওয়ায় এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন পাইকগাছা উপজেলার নোয়াকাটি গ্রামের কৃষক রোকেয়া পারভীন। দেবর আব্দুল কুদ্দুসকে নিয়ে ফেলে দেওয়া কলাগাছ, বাঁশ ও মাটি ব্যবহার করে তৈরি বীজতলা এখন দুর্যোগকবলিত কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে।কৃষাণী রোকেয়া পারভীন বলেন, বৃষ্টির জন্য কয়েক দফায় প্রায় ১০০ কেজি বীজ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছিলাম না। অ্যাওসেডের কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কলাগাছের ভেলা বানিয়ে কাদামাটি তুলে ব্রি-৭৫ আমন ধানের বীজ ফেলছি। একটি বীজও নষ্ট হয়নি, মাত্র ১৫ দিনে চারা রোপণের মতো হয়েছে। এখন আশপাশের কৃষকরা ভাসমান বীজতলায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন।রোকেয়ার দেবর আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রথমে আমাদের কাজ দেখে সবাই পাগল বলত। বলত কলাগাছের ভেলায় ধান হলে তো কারো জমির দরকার ছিল না। কিন্তু এখন সবাই অবাক। এখানে কোনো সার-কীটনাশকও লাগেনি। জমিতেও এমন ধানের চারা আর কখনো হয়নি।শুধু আমরা না, গ্রামের সবাই খুশি।নোয়াকাটি গ্রামের কৃষক কবির মোড়ল বলেন, মাত্র ১০ দিনে তিন-চার ইঞ্চি ধানের চারা। যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না। অথচ আমার বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষক আবদুল্লাহ মোড়ল জানান, চলতি আমন মৌসুম বৃষ্টির কারণে এক মাস দেরি হয়েছে। সামনে আর সমস্যা হবে না। কলার ভেলা, কচুরিপানা ও প্লাস্টিকের ড্রামের মাধ্যমে মাচা তৈরি করে ধানের বীজতলা করা যাবে।বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অটোক্রোপ কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, কলাগাছের ভেলায় ধানের বীজতলা কৃষকদের স্বপ্ন দেখাবে। ভাসমান ভেলায় ধানের বীজতলা তৈরিতে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছেন অ্যাওসেডের কমিউনিটি মোবালাইজার শুভঙ্কর বিশ্বাস। তিনি বলেন, এবার পাইকগাছাসহ খুলনা অঞ্চলে আমনের বীজতলা কয়েকবার নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থা থেকেই ভাসমান বীজতলা তৈরির ভাবনা, কৃষকরা যার সফল বাস্তবায়ন করেছেন।পাইকগাছা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, ইতিপূর্বে পাইকগাছায় ভাসমান বীজতলা তৈরির প্রয়োজন পড়েনি। চলতি বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে কৃষকের বীজ তলা একাধিকবার নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যেও কৃষকরা উচু জায়গায় বীজ তলা তৈরি করেছে। বিগত ২০ বছরে এমন বৃস্টি হয়নি। এনজিও অ্যাওসেডের উদ্যেগে উপজেলার নোয়াকাটিতে কলাগাছের ভেলায় একটি বীজতলা করা হয়েছে।খুলনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, এটি ভালো উদ্যোগ। কৃষকের ঝুঁকি কমাতে উঁচু স্থানে বা ভেলা বিকল্পভাবে বীজতলার ব্যবস্থা করতে হবে।

    ইমদাদুল হক
    পাইকগাছা খুলনা।

  • ভালুকায় ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অ-ভিযান ও বৃক্ষ মেলার উ-দ্বোধন

    ভালুকায় ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অ-ভিযান ও বৃক্ষ মেলার উ-দ্বোধন

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    বৃক্ষ দিয়ে সাজাই দেশ, সমৃদ্ধ করি বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ভালুকায় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও ৩দিনব্যাপী বৃক্ষ মেলা ২০২৫ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকাল ৩টায় ভালুকা উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ ভালুকা উপজেলার যৌথ আয়োজনে ভালুকা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত মেলার ফিতা কেটে এবং বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন- সহকারী কমিশনার ভূমি ইকবাল হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    এসময় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বনজ সম্পদ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ অপরিহার্য। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ বাংলাদেশ উপহার দিতে হলে প্রত্যেকেরই অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করা উচিত। তাঁরা আরও বলেন, বৃক্ষই মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু- যা আমাদের খাদ্য, আশ্রয়, জ্বালানি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে। তাই পরিকল্পিত বনায়ন ও নার্সারিগুলোকে সমৃদ্ধ করার আহবান জানান।

    বৃক্ষ রোপনে সকলকে উৎসাহী করার আহবান জানিয়ে প্রধান অতিথি কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, বৃক্ষ হচ্ছে শস্য ভান্ডার। খাদ্যশস্যের প্রধান উৎস হচ্ছে এই গাছ। গাছ স্বজীবী আমরা পরজীবী। এটি আমাদের অক্সিজেন ও খাবার দিচ্ছে। গাছ লাগানো সওয়াবের কাজ। আপনারা মেলা থেকে অন্তত একটি করে গাছ কিনবেন। বৃক্ষমেলা প্রকৃতপক্ষে গাছ লাগানোর একটি সামাজিক আন্দোলন, একটি ক্যাম্পেইন। সবাইকে সারাবছর গাছ লাগানোর আহবান জানান প্রধান অতিথি।

    মেলায় প্রায় শতাধিক স্টল স্থান পেয়েছে। ভালুকা অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গার নির্ধারিত নার্সারি মালিকরা এ স্টলগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ নিয়ে এসেছেন।

    বৃক্ষ ও বৃক্ষমেলার গুরুত্ব তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, আমরা মানবজাতি কতোটা নির্বোধ। নির্বিচারে গাছ কাটছি, বন ধ্বংস করছি। যে গাছ কিনা মানবজাতির জন্য খাবার তৈরি করছে। বিপরীতে আমরা কিছু তৈরি করতে পারিনা। ঔষধি গাছগুলো মানুষের ঔষধ তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে। আমরা যে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত করছি সেটা গাছ শোষণ করে নিচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে গাছ লাগানোর ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া দরকার। বায়ু দূষণ রোধ করার একমাত্র উত্তম উপায় হচ্ছে বেশি করে গাছ লাগানো। তিনি সকলকে বেশী করে গাছ লাগানোর আহবান জানান।

  • জলাশয় অ-বৈধভাবে বন্দোবস্ত দেওয়ায় রেল কর্মকর্তা রাশেদের বি-রুদ্ধে ত-দন্ত শুরু

    জলাশয় অ-বৈধভাবে বন্দোবস্ত দেওয়ায় রেল কর্মকর্তা রাশেদের বি-রুদ্ধে ত-দন্ত শুরু

    এম এ সালাম,
    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
    বাংলাদেশ সরকারের রেল আইন ভঙ্গ করে রেল কর্মকর্তার পিতার নামে রেলের জলাশয় বন্দোবস্ত দেওয়ায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে পাকশী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পাকশী রেল অঞ্চলের সহকারী ভু সম্পত্তি কর্মকর্তা মামুন অর রশীদের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি লাহিড়ী মোহনপুর টু দিলপাশার স্টেশনের মধ্যবর্তী উল্লাপাড়া উপজেলার পশ্চিম বংকিরাট মৌজার দিলপাশার রেলসেতুর নিচের বিবাদমান জলাশয় পরিদর্শন করেন তদন্ত কমিটি। এ সময় কমিটির অপর দুই সদস্য উল্লাপাড়া রেলস্টেশনের কর্মরত কাকন গো শরিফুল ইসলাম এবং পাকশী হেড কোয়াটারের অফিস সহকারী আহসান হাবীব উপস্থিত ছিলেন।
    অভিযোগকারী তুহিনের অভিযোগে জানা গেছে, ১৯৭০ সাল থেকে উল্লাপাড়া উপজেলার পশ্চিম বংকিরাট মৌজার সীমান্তে দিলপাশার রেলসেতুর নিচে সি এস-২৫ (টিপি নং-১৫৪/৫ থেকে ১৫৪/৬) দাগে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ জলাশয় মৎস্য আহরণের জন্য রেল আইন মেনে খাজনা পরিশোধ করে উল্লাপাড়া উপজেলার বংকিরাট গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মির্জা ও তার ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লায়েক মির্জা উভয়ে এই জলাশয়ের পাশ্ববর্তী জমির মালিক হওয়ায় ৫৫ বছর ধরে জলাশয়টি বন্দোবস্ত নিয়ে ভোগ দখল করেন। তাদের অবর্তমানে লায়েক মির্জার সন্তান মির্জা কে. ই তুহিন ভোগ দখলে রয়েছেন। কিন্তু চলতি বছরে খাজনা পরিশোধ করতে গিয়ে তুহিন দেখতে পান তাদের ভোগ- দখলী জলাশয়টি কোন রকম নোটিশ ব্যতীত অবৈধ উপায়ে কতৃপক্ষ জনৈক আলী আকবর নামের এক ব্যক্তিকে নতুন করে গত ২৮ জুলাই- ২০২৫ ইং তারিখে বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল) রাজশাহীতে কর্মরত সংস্থাপন কর্মকর্তা তার পিতার নামে বন্দোবস্ত দিয়েছেন। এই সুচতুর, দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী এস. এম রাশেদ ইবনে আকবর তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে স্বজনপ্রীতি করে তার পিতা আলী আকবর (বাসা ১০/৫, মোল্লাপাড়া রোড, খালিশপুর, খুলনার নামে অবৈধভাবে খাস আদায় করেছেন। এটা রেলওয়ে আইনের নিয়ম ও বিধিবর্হিভুত। মির্জা কে. ই তুহিন ব্যবস্থা চেয়ে বাংলাদেশ রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মহাপরিচালক এবং পাকশী মহাব্যবস্থাপক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন কতৃপক্ষ।

    মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের দাবি অবৈধ ইজারা বাতিল পুর্বক পুনরায় প্রকৃত ইজারদাদের নিকট হস্তান্তর করে শান্তি স্থাপন করার অনুরোধ জানান তারা।

    তদন্ত কমিটির প্রধান পাকশী সহকারী ভু- সম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ মামুন অর রশিদ গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি আরও অধিক তদন্ত সাপেক্ষে রির্পোট প্রদান করা হবে।

    এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহা- পরিচালক মোঃ আফজাল হোসেন মুঠোফোনে জানান, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।