Category: জাতীয়

  • নলছিটি লঞ্চঘাটের শ-হীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি’র নামে উদ্বোধন করেন নৌ উপদেষ্টা সাখাওয়াত

    নলছিটি লঞ্চঘাটের শ-হীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি’র নামে উদ্বোধন করেন নৌ উপদেষ্টা সাখাওয়াত

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক সদ্য প্রায়ত শরিফ ওসমান হাদির শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার লঞ্চঘাটের নামকরণ করা হয়েছে তারই নামে। জন্মস্থানের মাটি ও মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এই লঞ্চঘাটের নামফলকে ‘শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি’র নাম লেখা হয়েছে।

    শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন ঘাটের নতুন নাম উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি শহিদ শরিফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদিসহ পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে সার্বিক খোঁজখবর নেন। এতে উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রফিকুল করিম,জেলা প্রশাসক মো.মমিন উদ্দিন,পুলিশ সুপার মো.মিজানুর রহমান ও ইউএনও মো.জোবায়ের হাবিব প্রমুখ।

    পরে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, শহিদ ওসমান হাদির জন্মস্থান নলছিটি। তার শৈশব, বেড়ে ওঠা ও জীবনসংগ্রামের সঙ্গে এই লঞ্চঘাট এলাকার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সে কারণে নলছিটি লঞ্চ টার্মিনালের নাম পরিবর্তন করে তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। এসময় তিনি আরও বলেন হাদি এখন শুধু বাংলাদেশের সন্তান না,হাদির নাম দেশের বাহিরে চলে গেছে। এ নাম যুগে যুগে অক্ষুন্ন থাকবে।হাদি দেশে একটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাজনীতি চেয়েছিল,সে জন্য তাকে জীবন দিতে হয়েছে। হাদিসহ জুলাই আন্দোলনে নিহত সকল শহিদদের হত্যার বিচার না হলে তাদের আত্মা মাফ করবেনা।

    হাদির খুনিদের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,সরকার খুনীদের আটকের ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস,দ্রুতই খুনী ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

    নলছিটি লঞ্চঘাট এলাকা ওসমান হাদির জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ঘাট এলাকাতেই তার জন্ম, এখানেই কেটেছে শৈশব ও কৈশোরের বহু স্মৃতিময় দিন। লঞ্চঘাট থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে তার পৈতৃক বাড়ি। নদীর ধারে দাঁড়িয়ে মানুষের আসা–যাওয়া দেখা, লঞ্চের ভিড়ে সময় কাটানো-এই ঘাট ছিল তার বেড়ে ওঠার নীরব সাক্ষী। আজ সেই ঘাটেই স্থায়ীভাবে যুক্ত হলো শহিদ হাদির নাম।

    স্থানীয়রা জানান, আমরা চাইছিলাম হাদির স্মরণে এমন কিছু হোক, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মনে রাখবে। তার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত লঞ্চঘাটের নাম তার নামে হওয়া নিঃসন্দেহে স্মরণীয় সিদ্ধান্ত। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।

    লঞ্চঘাট এলাকার ব্যবসায়ী শাহাদাত আলম জানান, এই ঘাটে আমরা হাদিকে ছোটবেলা থেকে দেখেছি। সে এখানকারই ছেলে ছিল। আজ তার নামে ঘাটের নামকরণ হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ।

    এদিকে অন্তর্বতী সরকারের নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের কাছে স্থানীয় সেচ্ছাসেবীদের সমন্বিত সংগঠন ভলানটিয়ার্স অব নলছিটির পক্ষ থেকে হাদির খুনীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখির দাবি জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে হত্যার উদ্দেশ্যে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

    পরে তার মরদেহ দেশে এনে লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে জানাজা নামাজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।

  • খালেদা জিয়ার মৃ-ত্যুর পর বাংলাদেশে মুসলিম বিশ্বের স্মরণকালের বৃহৎ জানাজা অনুষ্ঠিত

    খালেদা জিয়ার মৃ-ত্যুর পর বাংলাদেশে মুসলিম বিশ্বের স্মরণকালের বৃহৎ জানাজা অনুষ্ঠিত

    হেলাল শেখঃ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, মুসলিম বিশ্বের স্মরণকালের বৃহৎ এই জানাজায় অংশ নেয় লাখ লাখ মানুষ।

    বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ইং) বিকাল ৩টা ৩মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা এবং লাখ লাখ নেতাকর্মী জানাজায় অংশ নেন। এছাড়া বিদেশি কূটনৈতিকরাও এই জানাজায় অংশ নেন।

    জানা গেছে, দুপুর ৩টার পরপরই জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের খতিব। তার আগে শুধু মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ নয়, আশ পাশের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মানুষ অবস্থান নেয় জানাজায় অংশ নিতে। দেখা যায় তিল ধারণের জায়গা নেই।

    কারওয়ান বাজার-বিজয় সরণি হয়ে ছাড়িয়েছে আগারগাঁও
    বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের ঢল জাতীয় সংসদ এলাকা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকায় জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

    জানাজার লাইন সংসদ সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে একদিকে বিজয় সরণি হয়ে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে ছাড়িয়েছে আগারগাঁও পর্যন্ত।

    বেলা পৌনে ১২টায় গুলশান থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী গাড়িবহর সংসদ ভবনে পৌঁছায়।

    জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, বিভিন্ন দেশের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি, কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, বিএনপির নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এই জানাজায় অংশ নেন। এটি ঐতিহাসিক এক জানাজা।

  • তারেক রহমান মায়ের জানাজায় সবার কাছে ক্ষ-মা ও দোয়া চাইলেন

    তারেক রহমান মায়ের জানাজায় সবার কাছে ক্ষ-মা ও দোয়া চাইলেন

    হেলাল শেখঃ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, এসময় তার বড় ছেলে তারেক রহমান মায়ের বিষয়ে সবার কাছে দোয়া ও ক্ষমা চাইলেন। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় কয়েক লাখ এই জানাজায় শরিক হন।

    এই জানাজা নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মো. আব্দুল মালেক।

    এদিকে, জানাজা শুরুর আগে তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য দেন। গতকাল থেকেই দেখা মিলছিল তার বেদনাতুর অভিব্যক্তির। আজ জানাজায় সে অভিব্যক্তি আরও ভারিই হয়েছেন কেবল।

    তারেক রহমান তার বক্তব্যে রাজনৈতিক কোনো প্রসঙ্গই আনেননি। সাধারণ সন্তান যেমন করে নিজের বাবা-মায়ের জানাজায় কথা বলেন, তিনিও কথা বললেন ঠিক তেমন করেই।

    তিনি বলেন, আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। আজকে এখানে উপস্থিত সকল ভাই ও বোনেরা, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকা অবস্থায় যদি আপনাদের কারো কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, তাহলে দয়া করে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন, আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।

    তিনি আরও যোগ করেন, একই সাথে, তিনি জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় ওনার কোনো ব্যবহারে, ওনার কোনো কথায় কেউ যদি কষ্ট বা আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। দোয়া করবেন, আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে বেহেশত দান করেন।

  • তারেক রহমান তার মাকে নিয়ে যা লিখলেন

    তারেক রহমান তার মাকে নিয়ে যা লিখলেন

    আমার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

    অনেকের কাছে তিনি ছিলেন দেশনেত্রী, আপোষহীন নেত্রী; অনেকের কাছে গণতন্ত্রের মা, বাংলাদেশের মা। আজ দেশ গভীরভাবে শোকাহত এমন একজন পথপ্রদর্শককে হারিয়ে, যিনি দেশের গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় অনিঃশেষ ভূমিকা রেখেছেন।

    আমার কাছে খালেদা জিয়া একজন মমতাময়ী মা, যিনি নিজের সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশ ও মানুষের জন্য। আজীবন লড়েছেন স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে; নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে।

    ত্যাগ ও সংগ্রামে ভাস্বর হয়েও, তিনি ছিলেন পরিবারের সত্যিকারের অভিভাবক; এমন একজন আলোকবর্তিকা যাঁর অপরিসীম ভালোবাসা আমাদের সবচেয়ে কঠিন সময়েও শক্তি ও প্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি বারবার গ্রেফতার হয়েছেন, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, সর্বোচ্চ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তবুও যন্ত্রণা, একাকিত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকেও তিনি অদম্য সাহস, সহানুভূতি ও দেশপ্রেম সঞ্চার করেছিলেন পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মাঝে।

    দেশের জন্য তিনি হারিয়েছেন স্বামী, হারিয়েছেন সন্তান। তাই এই দেশ, এই দেশের মানুষই ছিল তাঁর পরিবার, তাঁর সত্তা, তাঁর অস্তিত্ব। তিনি রেখে গেছেন জনসেবা, ত্যাগ ও সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিক্রমায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    আপনারা সবাই আমার মা’র জন্য দোয়া করবেন। তাঁর প্রতি দেশবাসীর আবেগ, ভালোবাসা ও বৈশ্বিক শ্রদ্ধায় আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।

  • পাইকগাছার পল্লীতে তীব্র শীতে আ-গুন জ্বা-লিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা

    পাইকগাছার পল্লীতে তীব্র শীতে আ-গুন জ্বা-লিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
    পাইকগাছার গ্রামাঞ্চলে তীব্র শীতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে মানুষেরা।শীতের সকালে খড়-কুটো দিয়ে আগুন পোহানো গ্রামের প্রাকৃতিক দৃশ্য। পৌষের শীতে সবাই গরমের পোশাকে জবুথবু।অনেকের পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় শীতে কস্ট পায়। তাদের সূর্য ওঠার সঙ্গে-সঙ্গে বাড়ির আঙিনায় সকাল সন্ধ্যায় আগুন পোহানোর দৃশ্য দেখা যায়। প্রচণ্ড শীতে আগুন পোহানোর দৃশ্যটি সবার কাছে পরিচিত, সেটা হলো শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে আগুন পোহানো। এটা নতুন কিছু নয় পূর্বে থেকেই। এমন চিত্র শুধু গ্রামেই দৃশ্যমান।খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের পাশে মেইন সড়ক তার ধারে গ্রামে বৃদ্ধরা খড়-কুটো দিয়ে আগুন ধরিয়ে চারপাশে ৪-৫ জন মিলে আগুন পোহাতে দেখতে পাওয়া যায়। কেউ দাঁড়িয়ে কেউ বসে, যে, যেভাবে পারছেন আগুনের তাপ পোহাচ্ছেন। শৈত্যপ্রবাহে নাজেহাল অবস্থা সবার। হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় সবাই জবুথবু- শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার একই হাল। শীত থেকে যেন কারও বাঁচার সাধ্য নেই।
    এবারে হঠাৎ করেই শীত বেশি পড়তে শুরু করেছে। তার সাথে যোগ হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। শীতের সময় শীত পড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একনাগাড়ে এতদিন ধরে সাধারণত শৈত্যপ্রবাহ থাকে না। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম হচ্ছে। ফলে তাপমাত্রা দ্রুত নিচে নেমেছে। প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাওয়ায় জনসাধারণের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা। শীতবস্ত্র ও খাবারের সংকটে হাজার-হাজার দরিদ্র মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জেলাজুড়ে এক সপ্তাহ শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন তারা।আগুন পোয়াতে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, আগুন তাপানোর আয়োজনটা সাধারণত করে থাকে বাচ্চারাই। যদিও সে আয়োজন উপভোগ করে সবাই। তবে আগুন পোহাতে গিয়ে গাঁয়ের মানুষের দুর্ভোগও কম না। তারপরও শীতের প্রকোপ সহ্য করতে না পেরে মানুষ আগুন পোহায়। শীতের সকাল সন্ধ্যায় আগুন পোহাতে আমরা অনেক আনন্দ পাই। এটা নতুন কিছু নয়, আগুন পোহানো এটা পুরাতন প্রথা। অন্য বছরের তোলনায় এ বছর শীত একটু বেশি। তাই এমনিভাবে প্রতিদিনই গ্রামের ছেলেরা একত্রিত হয়ে আগুন পোহাই। কলেজ শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই- তিন দিন ধরে সূর্যের চোখ দেখা যাচ্ছে না। প্রচণ্ড শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গ্রামের মানুষ।প্রতিদিন বেড়েই চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীদের ভিড়। কোথাও কোথাও সরকারি উদ্যোগে কম্বল বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. সুজন কুমার সরকার বলেন, তীব্র শীতে শিশু-বৃদ্ধরা নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কাইটিস, জ্বর, সর্দি কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ ঠান্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শীতে আগুন পোহাতে বেশি দেখা যায় গ্রামাঞ্চলে। তবে আগুন পোহানো থেকে বিরত থাকাই ভালো। শীতে হাতে পায়ে মোজা ও ৪-৫ টি পাতলা গরম কাপড় পরলে শরীরের জন্য ভালো। প্রায়ই সংবাদপত্রে সে খবর উঠে আসে। পুড়ে দগ্ধ, পুড়ে মৃত্যু পর্যন্ত হয় মানুষের।

    প্রেরকঃ
    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা খুলনা।

  • সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা – ২০২৫ এর চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী

    সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা – ২০২৫ এর চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী

    মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ২য় জাতীয় সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা – ২০২৫ এর চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে।আয়োজনে ছিলেন বাংলাদেশ জেনারেল নলেজ ক্লাব।মাইলস্টোন কলেজ স্থায়ী ক্যাম্পাস, ডিয়াবাড়ি,উত্তরা,ঢাকায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    সহযোগিতায় ছিলো আমান সিমেন্ট ও লেকচার পাবলিকেশন্স লিমিটেড।অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেছেন জনাব আবু সায়েম, সহকারী অধ্যাপক,রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আলহাজ্ব এম এ ওয়াহাব বাগচী
    বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ,সমাজসেবক, শিল্পপতি ও চেয়ারম্যান ডে গ্রুপ)।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এস এম ওয়াহিদুজ্জামান (সাবেক অধ্যক্ষ,জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ)।সভাপতি: প্রকৌশলী মোঃ মোবারক হোসেন (পরিচালক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ)।

    বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের মোট ৯১ টি স্কুলের ৩৪৩৫ জন শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। মোট দুটি ধাপে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ ৪৫০ জন শিক্ষার্থী ফাইনাল রাউন্ডে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

    মোট চারটি গ্রুপে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজয়ীরা হচ্ছে-

    গ্রুপ এ-(তৃতীয়-পঞ্চম শ্রেণি):
    প্রথম স্থান: তানজিল রহমান শাবিব, Bangladesh International School and College, Nirjhor, Dhaka Bangladesh cantonment.
    দ্বিতীয় স্থান: নুসাইবা ইসলাম জিনিয়া, সিভিল এভিয়েশন স্কুল এন্ড কলেজ তেজগাঁও, ঢাকা।
    তৃতীয় স্থান: এস এম সাইফ আল দ্বীন, মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ।

    গ্রুপ বি-(ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণি):
    প্রথম স্থান: আব্দুল্লাহ আইয়ান সাদ, মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ
    দ্বিতীয়: আবরার হাসান মাহির ,মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ
    তৃতীয়: সাওদা বিনতে মাসুম, মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ

    গ্রুপ সি-(নবম-দ্বাদশ): প্রথম স্থান: ইসরাত জাহান খুশবু, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ
    দ্বিতীয়: জান্নাতুল ফেরদৌস, সিভিল এভিয়েশন স্কুল এন্ড কলেজ
    তৃতীয়: রোকাইয়া হক ইয়ানূর, মাইলস্টোন কলেজ

    গ্রুপ ডি-(দ্বাদশ শ্রেণীর ঊর্ধ্বে):
    প্রথম: নাফিসা বিনতে শওকত, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি।
    দ্বিতীয়: নুরিসা মনি, ইসলামপুর সরকারি কলেজ, জামালপুর।
    তৃতীয়: মোঃ রাশিদুল হক, ইসলামপুর সরকারি কলেজ, জামালপুর।

  • জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

    জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

    হেলাল শেখঃ দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে (২৬ ডিসেম্বর-২০২৫) শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে সকল বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    তিনি বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছান, দেশে ফেরার পর গতকাল ৩০০ ফিটে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

    বিশেষ করে তার আগমনের পরই শুক্রবার প্রথম কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে যদিও সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন করার কথা ছিলো কিন্তু তিনি রাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসেন। এর আগে তিনি তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে তিনি গুলশানের বাসভবন থেকে শেরেবাংলা নগরে তাঁর পিতার কবর জিয়ারত করেন। এরপর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্মৃতিসৌধ এলাকায় এ উপলক্ষে ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবুসহ দলীয় নেতাকর্মীরা সরাসরি তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর থেকে স্মৃতিসৌধে অপেক্ষা করে। সেখানে নিরাপত্তায় রয়েছেন বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

    সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জুমার নামাজের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করার কথা ছিলো কিন্তু তিনি রাতে এসেছেন, সেই অনুযায়ী গণপূর্ত অধিদফতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করা হয়েছিলো।

    তারেক রহমানের আগমনে সাভারে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হতে শুরু করেন, গভীর রাত জেগে স্মৃতিসৌধে থাকেন তারা।

    নিরাপত্তার কারণে স্মৃতিসৌধেট আশপাশে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানান, নিরাপত্তায় কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য বিশেষ নজরদারি চালানো হয়।

    স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের সমবগম হয়েছে।

  • আলোচিত জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী কোটি টাকা মা-মলা বাণিজ্য করায় গ্রে-ফতার

    আলোচিত জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী কোটি টাকা মা-মলা বাণিজ্য করায় গ্রে-ফতার

    হেলাল শেখঃ মানুষের সাথে ব্ল্যাকমেইল, গণহত্যাকে পুঁজি করে রাজধানী ঢাকা ও সাভার আশুলিয়ায় কোটি কোটি টাকা মামলা বাণিজ্য করছে নারী ও পুরুষ প্রতারক সিন্ডিকেট সৈরাচারমুক্ত সুবিধাবাদ বিরোধী এক্সপ্রেস ব্যবহারকারীরা। কোটি টাকা মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

    বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) গভীর রাতে গাজীপুরের টঙ্গীর নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জুলাই আন্দোলন- সংক্রান্ত মামলার ভয় দেখিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল পরিচিতি পাওয়া তাহরিমা জান্নাত সুরভী। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটি বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে মোট প্রায় ৫০ কোটি টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যা মামলায় নাম জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে অর্থ আদায় করা হয়। মামলার আসামি বানানো, পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতারের আশঙ্কা দেখিয়ে এবং পরে ‘মীমাংসা’ করে দেওয়ার প্রলোভনে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।

    তাহরিমা জান্নাত সুরভী গাজীপুর ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও টার্গেট করা লাইভের মাধ্যমে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

    প্রেমের টানে চাঁদপুরে এসে কিশোরীকে নিয়ে হোটেলে চীনা নাগরিক, অতঃপর টাকা আদায় করে। পুলিশ আরও জানায়, নিজের ভাইরাল পরিচিতি ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতেন এবং পরবর্তীতে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জানায়। এ দিকে সাভার ও আশুলিয়ায় গণহত্যার সাথে জড়িত ৫-৬টি মামলার আসামি সায়েব আলী জলিল, রবিউলসহ ভুয়া বাদী সেজে একাধিক ভুয়া মামলা করে মামলা বাণিজ্য জমজমাট ভাবে করছে। ভুয়া মামলার ভুয়া বাদীদেরকে পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার করলে শত শত সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে রেহাই পাবে বলে দাবি করেন সচেতন মহল।

  • দেশে যেকোনো মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে-তারেক রহমান

    দেশে যেকোনো মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে-তারেক রহমান

    হেলাল শেখঃ দেশে যেকোনো মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর পূর্বাচলে ৩০০ ফিটে গণসংবর্ধনার মঞ্চে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, যে কোনো মূল্যে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে, আমরা শান্তি চাই। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। কারো উস্কানিতে পা দেওয়া যাবে না।

    তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৭১‍‍’এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে তেমন সর্বস্তরের মানুষ, সবাই মিলে এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিলো। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়।

    তিনি বলেন, আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে পাহাড়ের, সমতলের, মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই আছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, পুরুষ, শিশু যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে, যেন নিরাপদে ফিরতে পারে। তিনি বলেন, আমি আপনাদের সামনে বলতে চাই আই হ্যাভ এ প্ল্যান। আমি এই প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে চাই।

    এর আগে দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের দেওয়া সংবর্ধনা গ্রহণ শেষে তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

    বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাসে ওঠার আগে তারেক রহমান জুতা খুলে মাটিতে পা রাখেন এবং হাতে একমুঠো মাটি নেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

    এরআগে তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে বিমানবন্দরে বরণ করে নেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

    বিমানবন্দর ত্যাগের পর লাল ও সবুজ রঙের বিশেষ বাসে করে তারেক রহমান পূর্বাচলের উদ্দেশে রওনা হোন।

  • বড়দিন: বিশ্বজুড়ে মানবতা ও শান্তি বার্তা-র উৎসব – লরেন্স ডি. বিশ্বাস

    বড়দিন: বিশ্বজুড়ে মানবতা ও শান্তি বার্তা-র উৎসব – লরেন্স ডি. বিশ্বাস

    যিশুখ্রিস্টের জন্ম স্মরণে খ্রিস্টানদের সর্ববৃহৎ উৎসব: বিশ্বের নানা দেশে আজ (২৫ শে ডিসেম্বর) পালিত হচ্ছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন বা ক্রিসমাস। যিশুখ্রিস্টের জন্ম উপলক্ষে পালিত এ উৎসবকে ঘিরে সাজানো হয়েছে গির্জা, বাড়িঘর ও নানা জনপদ। উৎসবের আবহে মুখরিত হয়ে উঠেছে খ্রিস্টান সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

    স্বর্গদূতের বার্তায় শুরু যিশুর আগমনের ইতিহাস: খ্রিস্টীয় সূত্র মতে, যিশুর জন্মের বহু আগেই স্বর্গদূত গাব্রিয়েল মাতা মরিয়মকে এক অলৌকিক সংবাদ জানান। তিনি বলেন মরিয়ম ঈশ্বরের পবিত্র শক্তিতে গর্ভবতী হবেন এবং পৃথিবীতে জন্ম নেবেন এক ত্রাণকর্তা, যাঁর আগমন মানবজাতিকে দেবে মুক্তির বার্তা। বিবাহ না হওয়ায় মরিয়ম বিস্মিত হলেও স্বর্গদূত তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি ঈশ্বরের বেছে নেওয়া ধন্য নারী।

    মরিয়মকে নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার জন্য স্বর্গদূত জোসেফকেও দেখা দেন। এর কিছুদিন পর মরিয়ম ও জোসেফের বিয়ে সম্পন্ন হয় যাতে সমাজের চোখে মরিয়ম নিন্দনীয় না হন। স¤্রাটের আদেশে জন্ম-নিবন্ধনের জন্য তাঁদের বেথলেহেমে যেতে হয়েছে। সেখানে যাত্রাপথে কোনো সরাইখানায় জায়গা না পেয়ে তাদের আশ্রয় নিতে হয় একটি গোয়াল ঘরে। সেই রাতেই জন্ম নেন মানবজাতির ত্রাণকর্তা যিশুখ্রিস্ট।

    মেষপালক থেকে রাজা সবাই ছুটে যান নবজাতকের কাছে: যিশুর জন্মের সংবাদ প্রথম পৌঁছে যায় বেথলেহেমের নিকটবর্তী মেষপালকদের কাছে। আকাশমন্ডলে স্বর্গদূতেরা আবির্ভূত হয়ে এই বার্তা জানান: আজ জন্ম নিয়েছেন শান্তির আগমনী বার্তাবাহক। এই অলৌকিক সংবাদে মেষপালকেরা আলো অনুসরণ করে গোয়াাল ঘরে উপস্থিত হন। তাঁরা নবজাতক যিশুকে উপহার ও আশীর্বাদ প্রদান করেন।

    পরে পূর্বদেশ থেকে তিন জ্ঞানী তাঁকে দেখতে আসেন। যিশুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁরা উপহার দেন স্বর্ণ, কুন্দ্র (ধূপ) ও গন্ধরস যা প্রতীকীভাবে রাজত্ব, পবিত্রতা ও আত্মত্যাগকে নির্দেশ করে। এর পর থেকেই তাৎপর্যের দিকে থেকে যিশুর জন্মদিন বিশ্বব্যাপী বড়দিন উৎসব হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

    আনন্দ, ভালোবাসা ও সাম্যের বার্তা ছড়ায় বড়দিন: আজকের বড়দিন শুধু ধর্মীয় উৎসবের পরিসরেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানবতার এক সার্বজনীন বার্তা। ঘর সাজানো, ক্রিসমাস ট্রি, প্রার্থনা, কেক, উপহার বিনিময়, ক্যারোল গান সব মিলিয়ে বড়দিন পরিণত হয়েছে শান্তি, ভালোবাসা ও মিলনের এক উৎসবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অনেকেই এ দিনটিকে আনন্দ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ হিসেবে দেখে থাকেন।

    বাংলাদেশে বিভিন্ন গির্জায় ২৪ শে ডিসেম্বর গভীর রাতে শুরু হয় বড়দিনের মূল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। এই একই পর্ব অনুষ্ঠিত হয় পরের দিন ভোর বেলায়। মূল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পর শুরু হয় অন্যান্য সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা যা সারাদিনব্যাপী চলে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই নতুন পোশাক পরে, বড়দিনের কেক কাটা সহ পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করেন উৎসবের বিশেষ মুহূর্ত।

    শেষ কথা: যিশুখ্রিস্টের জন্মদিবস স্মরণে পালিত বড়দিন মানুষের মধ্যে শান্তি, ভালোবাসা, ক্ষমা ও সমতার শিক্ষা দেয়। অশান্ত বিশ্বে বড়দিনের এই বার্তা আরো বেশি প্রাসঙ্গিক যেখানে মানুষ খুঁজছে শান্তি ও সস্প্রীতির পথ। সবার জীবনে বড়দিন এনে দিক আলোর নতুন প্রত্যাশা।

    সংক্ষিপ্ত কবিতা
    গোয়াল ঘরে জন্ম নিলেন আমাদের ত্রাণকর্তা,
    চলো সবাই দেখি তাঁকে, জানাই গভীর সম্মান।
    অন্ধকারে আলো এনে দিলেন যিশু পৃথিবীজোড়া,
    বড়দিন তাই ভরে ওঠে প্রেমে নতুন জীবনের গান।

    (লরেন্স ডি. বিশ্বাস গ্লোরী স্কুল এ্যাণ্ড কলেজ -এর ৭ম শ্রেণীর ছাত্র এবং একজন ক্ষুদে শিল্পী ও লেখক)