হেলাল শেখঃ ঢাকা জেলার আশুলিয়ায় শত বছরেও নয়নজুলি খালসহ ৮টি খাল উদ্ধার করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। প্রভাবশালীদের দখলে থাকলেও খালগুলো উদ্ধার না হওয়ার কারণে বিভিন্ন রাস্তার বেহাল অবস্থা, বর্ষাকালে বৃষ্টি হলে পূর্বের চেয়ে আরো বেশি জলাবদ্ধতায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা জেলার আশুলিয়ায় অবস্থিত সরকারি নয়নজুলি খালসহ বিভিন্ন খালগুলোর অবকাঠামোগত সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিকবার এলাকাবাসী মানববন্ধন করলেও কোনো ফায়দা হয়নি, এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সরকারি খাল উদ্ধারসহ জনগণের চলাচলের রাস্তা-ঘাট সংস্কার করার জন্য। এর আগে “চির তারণ্য সমাজকল্যাণ সংগঠন” এবং জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধন করার পরও নয়নজুলি খালসহ সরকারি ৮টি খাল শত বছরেও উদ্ধার হয়নি।
জনগণের অভিযোগ-সামান্য বৃষ্টি হলে ময়লা পানিতে রাস্তা দেখা যায় না, পুরো এলাকার ড্রেনের বেহাল অবস্থা, রাস্তার পানিতে জলাবদ্ধতা চোখে পড়ার মতো। এর কারণে এলাকায় বসবাসরত লাখ লাখ মানুষের চরম দূর্ভোগ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া থেকে নয়নজুলি খালটি জিরাবো পুকুরপাড় দিয়ে গেছে আর আমান স্প্রিনিং মিলের রাসায়নিক পানি, বর্জ্যগুলোর কারণে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এলাকায় বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানা ও স্থাপনার মালিক কর্তৃক নয়নজুলি খালটি অবৈধ ভাবে দখল করার কারণে বৃষ্টির পানি ও ময়লা আটকে গিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এর কারণে উক্ত এলাকায় বসবাসকারী গার্মেন্টেসের লাখ লাখ শ্রমিক ও জনসাধারণের চরম ভোগান্তি হলেও কেউ কোনো ভাবে এ সমস্যার সমাধান করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
উক্ত এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য জিরাবো পুকুরপাড় বাজার সংলগ্ন ব্রিজের উপরে নয়নজুলি খালের পানি নিস্কাশনের দাবিতে এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন একাধিকবার কিন্তু এতে কোনো সুফল হয়নি। স্থানীয় আব্দুল রশিদ কাজী জানান, এলাকাবাসীর এই সমস্যাটি নিয়ে বেশ কয়েকবার সাবেক ঢাকা-১৯ আসনের এমপি, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমানের কাছে স্বারকলিপি পেশ করেছি কিন্তু তা আমলে নেননি। আমরা মানববন্ধনের মাধ্যমে এমপি মন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করতে চাই। তিনি বলেন, আশা করি খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে। বর্ষাকালে বৃষ্টির সময় এলাকাবাসীর দূর্ভোগ দেখে জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী সাথে সম্মিলিতভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে এসে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন চির তারণ্য সমাজকল্যাণের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক বলেছিলেন, এর আগে এমন দূর্ভোগ চোখে পড়েনি। তিনি আরও বলেন, এই এলাকার শিল্পকারখানা “লোসাকা গ্রুপ ও আমান স্প্রিনিং মিলের মালিক অবৈধভাবে দখল করে তাদের রাসায়নিক ক্ষতিকর বর্জ্য ফেলছেন। ৬ফিট পাইপ লাইনের মাধ্যমে তাদের রাসায়নিক পানি নিস্কাশনের ধারণ ক্ষমতা না থাকায় উল্টো পানি পেছনের দিকে চলে যায়। এর কারণে বৃষ্টিপাত হলেই এলাকার শত শত বাড়ি ঘর ও রাস্তা প্লাবিত হয়ে যায়।এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লোসাকা গ্রুপের “এমডি” শফিক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, এলাকার কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে আমরা পানি নিস্কাশনের কাজ করেছি। তাদের মধ্যে এলাকার স্থানীয় মোঃ আফজাল মেম্বারকে সাথে নিয়েই আমরা কাজ করেছি। অবৈধভাবে দখলের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রশাসন ও ভূমি অফিস থেকে পাস এনেছি। নয়নজুলি খালের লিজিং দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও তার দাবির প্রেক্ষিতে কোনো লিখিত কাগজপত্র প্রমাণ দেখাতে পারেননি। অথচ কাদের দেওয়ান মোল্লা বাজার এলাকায় নয়নজুলি খাল দখল করে রেখেছেন।
আশুলিয়ায় নয়নজুলি খালসহ সরকারি ৮টি খাল প্রভাবশালীদের দখলে-এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব ভুমিকায় থাকার কারণে এসব খাল উদ্ধার করা যায়নি বলে স্থানীয়দের দাবি। একদিন বৃষ্টি হলে রাস্তায় হাটু পানি হয়, সেই পানি ৭-১০দিনের বেশি জলাবদ্ধতা থাকে। সেই সাথে পোশাক কারখানার ময়লা আবর্জনা বর্জ্যরে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা থাকলেও এ ব্যাপারে কারো কোনো মাথা ব্যথা নাই। এর কারণে জনসাধারণের চরম দূর্ভোগ ও ভোগান্তি হয়। অপরিকল্পিত বাসা বাড়ি ও ঘর নির্মাণ করায় রাস্তা নিচু হয়ে গেছে। বাসা বাড়িসহ শিল্পকারখানার নোংরা পানি ও বর্জ্যে পরিবেশ দূর্ষণ করছে। বিভিন্ন রাস্তা গর্তের সৃষ্টি হয়ে এখন তা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। মাঝে মধ্যে ভাঙ্গা রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হয় অনেক মানুষ। সূত্রমতে, আশুলিয়ার জামগড়া হইতে পুরাতন আশুলিয়া তুরাগ নদী পর্যন্ত নয়নজুলি খাল ৭কি. মি.। নলীর খাল, ক্যান্টনমেন্ট হইতে বংশাই নদী পর্যন্ত ৬ কি. মি.। ডগরতলীর খাল, ডগরতলী হইতে বারল খাল পর্যন্ত ৪ কি. মি.। বারল খাল, চক্রবর্তী হইতে বংশাই নদী পর্যন্ত ৬ কি. মি.। কন্ডার খাল, কন্ডা হইতে সুগন্ধী পর্যন্ত ৩ কি. মি.। গাজীবাড়ি খাল, নন্দনপার্ক হইতে সুবেদী পর্যন্ত ৫ কি. মি.। ভারারিয়ার খাল, শিমুলিয়া হইতে নলাম পর্যন্ত ৪ কি. মি. গাজারিয়ার খাল, ইয়ারপুর হইতে মনসস্তোষ তুরাগ পর্যন্ত ৫ কি. মি.। সর্বমোট প্রায় ৪০ কিলোমিটার খালগুলো প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে এসব খালের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। বাসা বাড়ির ময়লা পানি রাস্তায় ছেড়ে দেওয়াসহ বর্জ্যরে দুর্গন্ধে মানুষ নাক ধরে রাস্তায় চলাচল করেন। দূষিত পানিতে এলাকায় বসবাসকারী মানুষগুলো চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। শিল্পা ল আশুলিয়ায় হাইওয়ে রোড থেকে শুরু করে শাখা রোডগুলোর বিভিন্ন রাস্তার বেহাল অবস্থা-সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় হাটু পানি হয়। সেই সাথে উচু বাসা বাড়ির পানি রাস্তায় ফেলার কারণে তা মানুষের শরীরে লেগে চর্মরোগসহ নানারকম রোগ হয়। এতে পোশাক শ্রমিকসহ লাখ লাখ মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই।
ঢাকা জেলার ৮বার শ্রেষ্ঠ করদাতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তানভীর আহমেদ রোমান ভুঁইয়া বলেন, রাতে রাস্তা ভালো থাকে সকালে বাসা থেকে বের হয়ে দেখি রাস্তায় হাটুপানি, একদিন বৃষ্টি হলে হেয়ন গার্মেন্টস রোডসহ আশপাশের রাস্তায় ময়লা পানিতে জলাবদ্ধতা দেখা যায়। আমি ব্যবসায়ী তাই কাউকে কিছু বলতে পারিনা, তবে এলাকার উন্নয়নমূলক যেকোনো কাজে আমি সহযোগিতা করতে চাই, নয়নজুলি খাল উদ্ধার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ সবার সাথে আছি থাকবো ইনশাল্লাহ।
ঢাকা আশুলিয়ার জামগড়া ভুঁইয়া বাড়ির কৃতিসন্তান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোর্শেদ ভুঁইয়া বলেন, সরকারি নয়নজুলি খালটি উদ্ধার করতে আমাদের ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ সুমন ভুঁইয়া ও ঢাকা-১৯ আসনের এমপি জনাব মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে জানানো হয়, তারা এ ব্যাপারে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন। তবে সরকারি কাজে সহযোগিতা করবেন এবং এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ সবার সাথে থেকে উন্নয়নমূলক কাজ করবেন বলে জানান।
আশুলিয়া থানা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমানে ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ সুমন ভুঁইয়া জানিয়েছেন যে, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ঘোষবাগ, নরসিংহপুর, তেঁতুলতলা রোড, জামগড়া হেয়ন মোড় থেকে মোল্লাবাড়ি মসজিদ সড়কটির কাজ করেছি, পর্যায়ক্রমে আমাদের ইউনিয়নের রাস্তার কাজসহ ড্রেনের কাজ করা হবে। সেই সাথে আমাদের ঢাকা-১৯ আসনের এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মহোদয়ের সাথে নয়নজুলি খালটি উদ্ধারের ব্যাপারে কথা হয়েছে, আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সবাইকে নিয়ে খালটি উদ্ধার করে জনগণের সমস্যা সমাধান করার জন্য।
ঢাকা-১৯ আসনের এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী লক্ষ লক্ষ শ্রমিকসহ এলাকাবাসী। উক্ত নয়নজুলি খালসহ নদী ও খালের বিষয়ে ধামসোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সফল সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এমপি বলেছেন, সরকারি নদী, খাল উদ্ধারসহ এলাকায় মাদক সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ, জমি দখলকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, অপরাধীর সংখ্যা কম, আমরা সবাই মিলে অপরাধ দমন করবো ইনশাআল্লাহ।
Author: desk
-

আশুলিয়ায় সরকারি নয়নজুলি’ খালসহ ৮টি খাল প্রভাবশালীদের দখলে-জলাবদ্ধতায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ
-

অবশেষে নাজিরগঞ্জে সংখ্যালঘুর জমি থেকে সরিয়ে ফেলানো হলো অবৈধভাবে নির্মাণ করা স্পিডবোটের অফিস ঘর
সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধিঃ পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় এক হিন্দু পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখল করে অবৈধভাবে নির্মাণ করা স্পিডবোর্টের অফিস ঘর সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জানাযায়, উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের নাজিরগঞ্জ ফেরীঘাট এলাকায় স্বর্গীয় শংকর দত্ত ও শুধাংশ দত্তদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল হিন্দু এ পরিবারের সম্পত্তিতে অবৈধভাবে স্পিডবোর্টের একটি টিনের অফিস ঘর নির্মাণ করে সেখানে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার একটি ছবি টানিয়ে প্রায় এক বছর ধরে দখল করে রেখেছিল। এ বিষয়ে স্বর্গীয় শংকর দত্তের স্ত্রী মুক্তা দত্ত জানান, অনুমতি না নিয়েই সম্পুর্ণ অবৈধভাবে আমাদের সম্পত্তিতে টিনের ঘর নির্মাণ করে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল স্পিডবোর্টের অফিস করে। আমরা সংখ্যালঘু পরিবারের লোক হওয়ায় ঘর নির্মাণকরা দখলকারীদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে পারছিলাম না। তাই আমাদের এ সম্পত্তি থেকে অবৈধভাবে নির্মাণ করা স্পিডবোর্টের অফিস ঘর সরিয়ে নেবার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। পরে অভিযোগ পেয়ে গত বুধবার সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ ও সুজানগর থানার ওসি জালাল উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ঘটনার সত্যতা পেয়ে অবৈধভাবে স্পিডবোর্টের অফিস ঘর নির্মাণকারীদের ওই ঘর ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়। প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক সোমবার ভোরে হিন্দু পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখল করে অবৈধভাবে নির্মাণ করা এ স্পিডবোর্টের অফিস ঘর সরিয়ে নিয়ে যায় ঘর নির্মাণকারী স্থানীয় প্রভাবশালী মহল । এদিকে হিন্দু পরিবারের ওই সম্পত্তি থেকে অবৈধভাবে নির্মাণ করা স্পিডবোর্টের অফিস ঘর দ্রুত সরিয়ে ফেলা ও জায়গাটি দখলমুক্ত করায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন ওই জমির মালিক শুধাংশ দত্ত ও মুক্তা দত্ত ।উল্লেখ্য গত সপ্তাহে সুজানগরের নাজিরগঞ্জে সংখ্যালঘুর জমি দখল করে অবৈধভাবে স্পিডবোটের অফিস ঘর নির্মাণ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরপরই প্রশাসন সংখ্যালঘুর জমি থেকে অবৈধভাবে স্পিডবোটের অফিস ঘর সরানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এম এ আলিম রিপন
সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি -

আনন্দ চেয়ারম্যান, বাবলু ভাইস চেয়ারম্যান ও অনিতা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত
ইমদাদুল হক, পাইকগাছা ( খুলনা)।।
দু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়াই পাইকগাছা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তি পূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী চিংড়ি মাছ প্রতীকে ৩৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল হাসান টিপু মোটরসাইকেল প্রতীকে পান ৩১ হাজার ২৭৮ ভোট। অপরদিকে পালকি প্রতীকে ১৮ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে প্রভাষক আব্দুল ওয়াহাব বাবলু উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম যুবলীগ নেতা সুকুমার ঢালী উড়োজাহাজ প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮২০ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শিক্ষক অনিতা রাণী মন্ডল ফুটবল প্রতীকে ৩৬ হাজার ২৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম উপজেলা যুব মহিলা লীগের ময়না বেগম হাঁস প্রতীকে পেয়েছেন ২১ হাজার ৯৬৪ ভোট। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৯৭ টি কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে রাড়ুলী ভূবন মোহিনী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে মোটরসাইকেল প্রতীকের কর্মী সমর্থকরা চিংড়ি মাছ প্রতীকের শাহীন গাজী সহ কয়েকজন সমর্থক কে মারপিট করে বলে অভিযোগ করেন। এছাড়া উপজেলার সবখানে শান্তি পূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্বাচনে তুলনামূলক ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে জানান সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৯ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন।
ইমদাদুল হক,
পাইকগাছা,খুলনা
-

রাজশাহীর চারঘাটে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর চারঘাটে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদা খানম এর সভাপতিত্বে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, চারঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন, চারঘাট মডেল থানার (ওসি) এ এস এম সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান আলমাছ, উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্মকর্তা সারোয়ার দীন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম, চারঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোজাম্মেল হক সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
সভায় মাদক প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্য বদ্ধ হয়ে সামাজিক আন্দলোন গড়ে তোলার আহবান জানান।
মোঃ মোজাম্মেল হক
চারঘাট, রাজশাহী। -

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন গৌরনদীতে মনির হোসেন কাপ পিরিচ’ ও আগৈলঝারায় যতিন্দ্রনাথ দোয়াত- কলম
কে এম সোহেব জুয়েল ঃ প্রতিনিধি
বরিশালের গৌরনদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কাপ পিরিচ প্রতীকের মনির হোসেন মিয়া ৩ হাজার ৫১৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ৪০ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে কাপ পিরিচ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও পৌর আ’লীগের সভাপতি মো. মনির হোসেন বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটর সাইকেল প্রতীকের প্রার্থী ও উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র মো. হারিছুর রহামন ৩৬ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়েছেন। টিউবওয়েল প্রতীকের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ফরহাদ হোসেন মুন্সী ৪৮ হাাজর ৪০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক প্রতীকের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জামাল গোমস্তা ২৮ হাাজর ৩১৪ ভোট পেয়েছেন। হাঁস প্রতীকের নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাহিদা আক্তার ৩০ হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল প্রতীকের নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শিপ্রা রানী বিশ্বাস ২৩ হাাজর ৭৮৭ ভোট পেয়েছেন। অপদিকে একই দিনে পাশ্ববর্তী আগৈলঝারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস মার্কার প্রতীক মোঃ রইচ সেরনিয়াবা ভোট পেয়েছেন ২৫ হাজার ৮ শত ৬৯ তার প্রতিদ্বন্ধী প্রাথী জতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রি ২৬ হাজার ৭ শত ৫৮ ভোট পেয় দোয়াত কলম মার্কা বেসরকারি ভাবে বিজয় হয়েছেন। -

বরিশালে শালিণ্য’র আয়জনে নিরাপদ পানি বিষয়ক ক্যাম্পেইন ও নানান কর্মসূচি পালিত
বিশেষ প্রতিনিধি ।
”ভূগর্ভের পানি করি সাশ্রয়, ভূপৃষ্ঠে নিরাপদ হবে আশ্রয়” এই শ্লোগানে শালিণ্য স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন এর আয়োজনে দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উন্নয়ন সংস্থা একশন এইড বাংলাদেশ ও পার্টিসিপিটরি এ্যাকশন নেটওয়ার্ক এর সহায়তায় কীর্তনখোলা নদীর বুকে গড়ে ওঠা রসূলপুর চরে পানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের দেখা পানি সংক্রান্ত সংকটসমূহ তুলে ধরে চিত্রাঙ্কন, পোস্টার লিখন, কুইজ ও ভূগর্ভের পানি ব্যবহার ও মুক্ত জলাশয় দূষণ রোধে সচেতনতামূলক মাইকিং ও সড়কে সচেতনতামূলক প্রচারণা হিসেবে অবস্থান করেছে বরিশালের শালিণ্য স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ।বিকেল ৩টায় নগরীর ভাটিখানা রোড নিরন্তর লাইব্রেরীতে পানি দূষণ রোধে আইনের প্রয়োগ, নগর ও গ্রামে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হার, পানি দূষণে ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর জন্য করনীয় , পানি অপচয় ও দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে আইন প্রনয়ন বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সামাজিক সংগঠনের কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে অংশীজনদের সাথে সংলাপ আয়োজন করা হয়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের জাতীয় যুব কাউন্সিলের বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি ও শালিণ্য সম্পাদক কিশোর চন্দ্র বালা’র সঞ্চালনায় সংলাপে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিসি প্যানেল মেয়র ও শালিণ্য সভাপতি কোহিনূর বেগম, প্রফেসর বিমল চক্রবর্তী, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক প্রিন্স বাহউদ্দিন তালুকদার, উন্নয়ন সংগঠন আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল , জাতীয় জয়িতা পুরস্কার বিজয়ী হাসিনা বেগম নীলা, শিক্ষক নেতা জহিরুল ইসলাম জাফর, শ্রমিক নেতা তুষার সেন ,শিশু সংগঠক আবুল খায়ের সবুজ, শিক্ষক বিজন বেপারি, একশন এইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার ওবায়েদুল আল ইমন, নারী নেত্রী তানিয়া আফরোজ লিপি, উদ্যোক্তা সংগঠক সুভাষ দাস, বিতার্কিক সংগঠক শেখ সুমন, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদিক মাহফুজ নুসরাত, রোভার স্কাউট সাজিদ ও ইব্রাহিম মুন্না, শালিণ্য কর্মী উল্লাস মালী, প্রিন্স, জিসান, সানজিদা সহ প্রায় ৭৫জন অংশগ্রহনকারীর মধ্যে বিভিন্ন যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার শিশু ও নারীরা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও রোভারস্কাউটবৃন্দ।
আলোচনায় সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা, নদীতে লবনাক্ততার প্রবেশ ও জলজ প্রানির জীবননাশের শঙ্কা, চরডুবি, নিচুভূমি ও নদীভাঙ্গনের ঝুঁকি, কৃষি ফসল উৎপাদন ও মাটির উর্বরতা হ্রাস, মানব শরীরে দূষিত পানির প্রভাবে চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগের প্রার্দুভাব বৃদ্ধি, উন্নয়ন অগ্রযাত্রার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যে সকল দেশের সাথে নদী অববাহিকা রয়েছে তাদের সাথে চুক্তি বাস্তবায়নের আবশ্যিকতা, দেশে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও যুগোপযোগী করণের তাগিদ, জলবায়ু পরিবর্তনের আসন্ন সংকট মোবাবেলায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৬, ১৩ এবং ব-দ্বীপ পরিকল্পনা২১০০ সহ জাতীয়-আর্ন্তজাতিক পানি নীতিমালা বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সাথে নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহন, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারে সর্তক করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ওয়াটার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে রিইউজ তথা মুক্ত জলাশয় পরিস্কার রেখে কমিউনিটির ব্যবহার উপযোগীতা বাড়ানোর জন্য উৎসাহিত করনের আবশ্যিকতা, শিশুমনে পানির অপচয় রোধে সতর্কতার বীজ বপন করা। পয়:নিস্কাশন ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে সচেতনবার্তা বিস্তার ও প্রশাসন সহ কমিউনিটি সুপারভিশন নিশ্চিতকরণ অংশগ্রহনকারীরা নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন এবং সকল আলোচনা শেষে বরিশালের খাল উদ্ধারে প্রশাসনের
দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে স্মারক লিপি দেয়ার সীদ্ধান্ত নেয়া হয়। -

মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান . লিয়াকত আলী খান. ভাইস চেয়ারম্যা রাসেল- .আজমিন নাহার
শেখ সাইফুল ইসলাম কবির. বিশেষ প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লিয়াকত আলী খান।আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৩৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মোজাম দোয়াতকলম প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৭২৯ ভোট।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. রাসেল হাওলাদার চশমা প্রতীকে ৪৫ হাজার ৭৮৭ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেনে।
তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী এনামুল হক রিপন তালা প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৯৭ ভোট।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আজমিন নাহার কলস প্রতীকে ৪১ হাজার ৫৩৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। রবিবার রাত ১১ টার দিকে জেলা রিটানিং কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এ ফলাফল ঘোষণা করেন।এবারের নির্বাচনে যে যার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারলেও কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিলো কম।
যারা কেন্দ্রে গেছেন তাদের কাউকেই লাইনে দাড়িয়ে ভোট দিতে হয়নি। উপস্থিতি কম থাকায় সরাসরি বুথে গিয়ে ভোট দিতে পেরেছেন ভোটাররা।
এ উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪১০ জন। ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মাত্র ৬৬ হাজার ৯৫৬ জন লোক ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।যা মোট ভোটারের শতকরা ২৬ ভাগ বলে সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা গণেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন।
###৳##
-

হবিগঞ্জে ভূমিসেবা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।।
শোগ্লান স্মার্ট ভূমিসেবা, স্মার্ট নাগরিক, ভূমিসেবা সাপ্তাহ ২০২৪ইং উদযাপন উপলক্ষে ৮-১৪ জুন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ১০ জুন ( সোমবার) এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হবিগঞ্জের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মোছা: জিলুফা সুলতানা, সভাপতিত্ব করেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) প্রিয়াংকা পাল, উপস্থাপনায় হবিগঞ্জ সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনুকা ভৌমিক, এছাড়া ও উপস্থিত ছিলেন, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর নিবিড় রঞ্জন তালুকদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাহবুব আলম চুনারুঘাট, মোঃ সাইফুল ইসলাম বানিয়াচং, মোঃ নাহিদ ভূইয়া শায়েস্তাগঞ্জ। জেলা ও উপজেলা রাজস্ব – প্রশাসনের কর্মকর্তা – কর্মচারী, সেবাগ্রহীতা-অংশীজনবৃন্দ। সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অনন্ত পুর এলাকার মোঃ আব্দুল কাদির ও কোর্টষ্টেশনের রুহুল আমিন, বক্তব্যের প্রথমেই সেবাগ্রহীতা মোঃ আব্দুল কাদির তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, জেলা প্রশাসকসহ ভূমি সংলিষ্ট সকলে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, স্মার্ট ভূমিসেবা জনগনকে উপহার দিয়ে দেশ ও জনকল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, আমি একজন ভুক্তভোগী, বলছি আগের কথা, আমার একই এলাকার প্রতিপক্ষ তাদের রয়েছে প্রভাব ও শক্তি, সেই লোক দলিল ১৯৮২ ইং সালে। দেখা যায় ১৯৮১ ইং সালেই ৯২৬/৮১ ইং একটি নামজারী করে, এসিল্যান্ড অফিসে বলিয়মে সংযুক্ত রেখেছে। দলিল করার এক বছর পূর্বে নামজারী হয় কি ভাবে। যা আজ ভূমিসেবা গ্রহীতার ভোগান্তির কারণ। এবং এক সময় একজনের ভূমি আরেক জনের নামে নামজারী এমনকি ভূয়া মালিক সাজিয়ে দলিল করে নিয়ে যেতে পারতো, এখন আর জালিয়াতিচক্র তা পারবে না। স্মার্ট ভূমি সেবা চালু হওয়ায় জন সাধারণ সুফল পায়াচ্ছে। ভূমি অফিসে গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর টি দিয়ে একবার এন্ট্রি করে আসলে, যে কোন লোক স্মার্ট মোবাইল বা কম্পিউটারের দোকান থেকে সরকারি খাজনা, নামজারীসহ বিভিন্ন সেবা পায়াচ্ছে। এ সময় প্রধান অতিথি হবিগঞ্জের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মোছা: জিলুফা সুলতানা বক্তব্যে উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। ৮ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত স্মার্ট ভূমিসেবা বিষয়ে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা, সরকারী উন্নয়নকর আদায়সহ বিভিন্ন বিষয়াদি উপস্থিতিদের মাঝে তুলে ধরেন। গত ৮ জুন ‘স্মার্ট ভূমিসেবা, স্মার্ট নাগরিক ‘ এই শ্লোগান কে সামনে রেখে হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নিমতলা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে ফেস্টুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে জেলা প্রশাসক ‘ভূমিসেবা সপ্তাহ- ২০২৪’ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়েছিল। ভুমিসেবা নিচ্ছেন জনসাধারণ।
-

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৪ এ জাতীয় পর্যায়ে যাচ্ছেন বেতাগীর রাব্বি,মুন্না ও সিফাত
বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্ভাবনেই সমৃদ্ধি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার ও বুধবার ( ১১ ও ১২ই জুন) জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স আগারগাঁও ৪৫ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৪ এর ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা, ৮ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ৮ম জাতীয় বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে ৬৪ জেলা থেকে তিন ক্যাটাগরিতে (জুনিয়র, সিনিয়র ও বিশেষ গ্রুপ) ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা আংশগ্রহন করবে ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে স্থানীয় বিজ্ঞানমনস্ক তরুণদের ক্লাব সাইন্স সোসাইটি বেতাগী বিশেষ গ্রুপে উপজেলা ও জেলা পর্যায় প্রথম হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করবে।
সাইন্স সোসাইটি বেতাগীর হয়ে জাতীয় পর্যায় আংশগ্রহন করবে সংগঠনের আহ্বায়ক মোঃ রাব্বি (২০), সদস্য সচিব মোঃ খাইরুল ইসলাম মুন্না (১৯),সদস্য মোঃ সিফাত (১৮)।
ক্ষুদে বিজ্ঞানী মোঃ রাব্বি ও মোঃ খাইরুল ইসলাম মুন্না তাদের উদ্ভাবিত প্রকল্প সম্পর্কে বলেন, স্মার্ট হাইওয়ে এন্ড কার ট্রাকিং ডিভাইস, হাইড্রোলিক পদ্ধতিতে হাইওয়ে আপ ডাউন করে জ্যাম নিরষন ও গাড়ি রং ও নাম্বার প্লেট স্কানিং করে বৈধতা নির্নয় এবং শেখ রাসেল তাপ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তাপ শক্তি ব্যবহার করে ৫ মেগা ওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
সাইন্স সোসাইটি বরগুনার সভাপতি আকিল আহমেদ জানান, আমাদের সংগঠন এর হয়ে জাতীয় পর্যায় প্রতিযোগীতা করছে বেতাগী শাখা। আমরা আনন্দিত এবং তাদের সফলতা কামনা করছি। এভাবেই এগিয়ে যাবে বিজ্ঞান এবং তৈরি করবে বিজ্ঞানমনস্ক তরুণ।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আহমেদ বলেন, এভাবেই বিজ্ঞান চর্চায় এগিয়ে থাকবে বেতাগী।আমাদের পক্ষ থেকে আর্থিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা করেছি। আমরা সব সময় এর সাথে আছি।
বরগুনা জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা জাতীয় পর্যায়ে গিয়েছে এটা আমাদের জন্য গৌরবের। ভালো ফলাফল নিয়ে আমাদের মাঝে আসবে এই প্রত্যাশা করছি এবং বরগুনা জেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এটা আশা করছি। আমাদের পক্ষে থেকে সার্বিক সহযোগী অব্যাহত থাকবে।
-

এবতেদায়ি শাখায় শিক্ষক ৪ ও শিক্ষার্থী নেই
মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মুসলিমপুর দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ি শাখায় চার জন শিক্ষক থাকলেও শিক্ষার্থী উপস্থিতি একেবারে শূন্য। ফলে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তালাবদ্ধ থাকছে শ্রেণিকক্ষগুলোও। স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষার মান ভালো না হওয়ায় মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থী আসছে না।
ঘড়িতে রোববার (৯ জুন) দুপুর ১২ টা। মাদ্রাসার অফিসকক্ষে কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী বসে আছেন। ২-৩ জন ছিলেন দাখিল স্তরের পাঠদানে। তখনও বন্ধ এবতেদায়ি শাখার শ্রেণি কক্ষগুলো। সংবাদকর্মীদের দেখে তড়িঘড়ি করে কক্ষের তালা খোলা হয়। তবে কক্ষের ভেতরে বেঞ্চ ও টেবিল নেই। চোখে পড়েনি ব্লাক বোর্ড। কক্ষের ভেতরের অবস্থা একেবারে বেহাল।
বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের মুসলিমপুর দাখিল মাদ্রাসায় গেলে এমন চিত্র দেখা যায়। এ দিন পুরো মাদ্রাসার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২৫ জন শিক্ষার্থী। ২৫ জনই দাখিল স্তরের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির।
এবতেদায়ি শাখায় কোনো শিক্ষার্থী না এলেও হাজিরা খাতায় উপস্থিতি দেখানো হচ্ছে ঠিকই। শিক্ষার্থী শূণ্য মাদ্রাসার হাজিরা খাতায় গড় উপস্থিতি ৭০ শতাংশের বেশি।
জানতে চাইলে মাদ্রাসার এবতেদায়ি শাখার প্রধান আশরাফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান কৃষি কাজের মৌসুম এ জন্য শিক্ষার্থীরা আসছে না। আর আশপাশে অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, সেগুলোতে উপবৃত্তি সুবিধা থাকায় শিক্ষার্থীরা সেদিকে যাচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় আসে, কিছু দিন ধরে কম আসছে। তবে হাজিরা খাতায় উপস্থিতির বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার এবতেদায়ি শাখায় শিক্ষার্থী নেই। হাজিরা খাতায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের অনেকে অন্যত্র পড়াশোনা করছে। মাদ্রাসা থেকে এ বছর ২৪ জন দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র ১১ জন। মাদ্রাসায় শিক্ষার মান খারাপ হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থীরা এখানে আসতে অনাগ্রহী। শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসামুখী করতে কোনো উদ্যোগও নেই শিক্ষকদের। ফলে পাঠদান ছাড়াই এবতেদায়ি শাখার চার জন শিক্ষক বেতনভাতা তুলছেন। পাচ্ছেন সব সুযোগ সুবিধা।
মাদ্রাসার সহ-সুপার সামছুল আলম পাঠদান করছিলেন দাখিল স্তরের একটি শ্রেণিতে। এবতেদায়ি শাখার এমন বেহাল অবস্থা কেন জানতে চাইলে সবকিছু ঠিকঠাক আছে দাবি করেন। তিনি বলেন, তাদের ছুটি হয়ে গেছে, এজন্য কোনো শিক্ষার্থী নেই। পরে বলেন, মাদ্রাসার সুপার সাহেব ট্রেনিংয়ে আছেন। দুই দিন পরে আসবেন। উনার সঙ্গে কথা বলবেন।
মাদ্রাসার সুপার মকবুল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসামুখী করতে তাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
বোদা উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আবু ওয়ারেশ বলেন, মুসলিমপুর দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ি শাখায় শিক্ষার্থী না থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার নজির বলেন, শিক্ষার্থী ছাড়া প্রতিষ্ঠান তারা (শিক্ষকরা) কীভাবে চালাচ্ছেন। যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট করা হবে।