Author: desk

  • তানোরের কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টুর চমক

    তানোরের কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টুর চমক

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) উপ-নির্বাচনে বিনা প্রতিদন্দীতায় নির্বাচিত হয়েছেন ইউপি আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবায়ী সুফি কামাল মিন্টু। এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই
    ইউপির ৬টি বির্তকিত ও বিরোধপুর্ণ গভীর নলকুপ পরিচালনায় সমিতি গঠন করে চমক দেখালেন চেয়ারম্যান মিন্টু। স্থানীয় সাংসদের নির্দেশনায়, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার( ইউএনও) সার্বিক সহযোগীতায় এসব গভীর নলকুপের সমিতি গঠন করে সর্ব মহলে প্রশংসায় ভাসছেন চেয়ারম্যান মিন্টু।অথচ দীর্ঘদিন যাবত অনেকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও এসব গভীর নলকুপের সমিতি গঠন করতে পারেনি। কারণ গভীর নলকুপগুলো ছিল সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁস। তবে মিন্টু সে পথে হাঁটেনি, তিনি কৃষকের কথা বিবেচনা করে কৃষকের দীর্ঘদিনের দাবী পুরুন করেছেন।
    জানা গেছে, গত ১ আগষ্ট বৃহস্পতিবার উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) ধানোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্ত্বরে ৬টি গভীর নলকুপ স্কীমের কৃষকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়। এদিন মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ প্রতিনিধি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান,তানোর বিএমডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী জামিনুর রহমান ও কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান সুফি কামাল মিন্টুপ্রমুখ। এদিকে দীর্ঘদিন পর গভীর নলকুপ পরিচালনায় সমিতি গঠন ও অবৈধ দখলমুক্ত হবার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টির পাশাপাশি পরম স্বত্তি বিরাজ করছে। এতে এলাকার কৃষকেরা স্থানীয় সাংসদের প্রতি চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
    স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবত এসব গভীর নলকুপের অপারেটরদের বিতাড়িত করে রাজনৈতিক পরিচয়ের হোমরা-চোমরাগণ সাধারণ কৃষকদের জিম্মি করে সেচ চার্জ আদায়ের নামে রিতিমতো চাঁদাবাজি ও কৃষকদের শোষণ করেছেন।তাদের দমন-নিপিড়নে কৃষক সমাজ রিতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।
    এদিকে গভীর নলকুপ নিয়ে কৃষকদের হয়রানি-শোষণের ঘটনা স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর দৃষ্টিগোচর হলে, তিনি প্রতিটি গভীর নলকুপ পরিচালনায় স্কীমভুক্ত কৃষকের মতামতের ভিত্তিত্বে সমিতি গঠনের নির্দেশ দেন। সাংসদের সেই নির্দেশনার আলোকেই গভীর নলকুল পরিচালনায় সমিতি গঠন করা শুরু হয়েছে। কৃষক সজিব রহমান, রেজাউল ইসলাম ও বুলবুল বলেন, তাদের দীর্ঘদিনের দাবী পুরুণ হয়েছে, এই জন্য তারা সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। এবিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ প্রতিনিধি ও উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, কৃষকদের জন্যই গভীর নলকুপ, কাজেই স্কীমভুক্ত কৃষকেরা যেভাবে চাইবে, গভীর নলকুপ সেই ভাবে পরিচালিত হবে,তারা কৃষকের পক্ষে।তিনি বলেন, উপজেলার সকল গভীর নলকুপে সমিতি গঠন করা হবে।#

  • নলছিটিতে হতদরিদ্র পরিবারের  মাঝে ছাগল বিতরন

    নলছিটিতে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরন

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ

    মিতু সেতু এডুকেশন এন্ড চ্যারিট্যাবল সোসাইটি’র উদ্যোগে আজ ১ আগস্ট -২০২৪ নোজঃ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় ছাগল বিতরন করা হয়। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অথার্য়নে মোল্লারহাট ইউনিয়নের ১৮ জন হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ৩৬ টি ছাগল প্রদান করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন মিতু সেতু এডুকেশন এন্ড চ্যারিট্যাবল সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মোঃ নুরুজ্জামান আকন। অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এইচএম আখতারুজ্জামান, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোঃ মোফাজ্জল হোসেন, সুবিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান সিকদার, সাংবাদিক মোঃ আমির হোসেন, এইচএম সিজার, ইউনিয়ন সমাজ কর্মী মোঃ জাকির হোসেন প্রমুখ।
    ছাগল বিতরন শেষে সুবিধাভোগীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

  • জানা গেল সেই ‘ভারতীয় তরুণীর’ পরিচয়

    জানা গেল সেই ‘ভারতীয় তরুণীর’ পরিচয়

    মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি :
    গত ৩০ জুলাই (মঙ্গলবার) ‘পঞ্চগড় বাংলাদেশের অংশ জানেন না সীমান্ত পার হয়ে আসা ‘ভারতীয়’ এই তরুণী’ শিরোনামে ‘সময় সংবাদে’ সংবাদ প্রকাশের পর সানজিদা রুনা (২৩) নামে সেই তরুণীর পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিজেকে ভারতীয় নাগরিক পরিচয় দিলেও তিনি বাংলাদেশের নাগরিক বলে

    সংবাদ দেখে বৃহস্পতিবার (১ আগষ্ট) সকালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ছবিসহ প্রমাণ নিয়ে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় আদালতে আসেন তার বাবা আলমগীর হোসেন হাওলাদার। তার দাবি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে রোগে ভুগছেন তার মেয়ে।

    মেয়েকে নিজ জিম্মায় জামিন দেয়ার আবেদন করেন আলমগীর। পরে কাগজপত্র ও প্রমাণাদি বিচার বিশ্লেষণ করে রুনাকে ১০ হাজার টাকা বন্ডে আইনজীবী ও তার বাবার জিম্মায় জামিন দেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তিসহ আসামী হাজিরের জন্য দিন ধার্য করেন।

    বাবা আলমগীর হোসেন হাওলাদার জানান, তাদের বাড়ি ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার গাওয়াইর এলাকায়। ভালোবেসে লালমনিরহাট এলাকার এক তরুণকে বিয়ে করেন ২০১৬ সালে। বিয়ের পর ৫ বছর পরে ২০২১ সালে তাদের সংসারে আসে একটি কন্যা সন্তান। নাম রাখা হয় সিনথিয়া স্মৃতি। ওই সন্তান প্রসবের পরেই তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। তাকে মানসিক হাসপাতালেও রাখা হয়। চলে চিকিৎসা সেবা। তবে বারবার পালিয়ে যাওয়ায় পূর্ণ চিকিৎসা করাতে পারেনি।

    সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হিন্দি সিনেমা সিরিয়াল দেখার পাশাপাশি ভারতীয় বন্ধুদের সঙ্গে ও কথা বলেন এই তরুণী। তাদের কাছ থেকেই হিন্দি আয়ত্ব করেন।

    গত সোমবার (২৯ জুলাই) রাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে কালো বোরখা পরে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকালে পঞ্চগড়ে আসেন রুনা। খোঁজাখুজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    তরুণীর বাবা বলেন, ‘ সংবাদে আত্মীয় স্বজনরা তার সংবাদ দেখে আমাকে অবগত করলে আমিও তা দেখে নিশ্চিত হই। পঞ্চগড়ে এসে সব ডকুমেন্ট জমা করে আমার মেয়েকে ঢাকায় বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি।’

    এর আগে গত মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) তরুণী দুপুরে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের বামন পাড়া এলাকায় আটক হওয়ার পর হিন্দি ভাষার কথার পাশাপাশি নিজেকে ভারতীয় পরিচয় দেন। তবে বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) আদালতে বাবার সঙ্গে অর্নগল বাংলা ও ঢাকার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন রুনা।

    মঙ্গলবার ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের দায়ে মেয়েটির বিরুদ্ধে মামাল হয় তেঁতুলিয়া মডেল থানায়। বৃহস্পতিবার আদালতে বাংলাদেশি হিসেবে তার বাবা সব তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করলে আদালত তাকে তার বাবার জিম্মায় জামিন দেন।

  • কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলিতে আহত সেলিমের মৃত্যুতে  নলছিটিতে শোকের ছায়া

    কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলিতে আহত সেলিমের মৃত্যুতে নলছিটিতে শোকের ছায়া

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে চলমান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করতে গিয়ে গুলিতে গত ১৮ জুলাই আহত হয়েছিলেন নলছিটি উপজেলার ৫ নং ওয়ার্ড নিবাসী সেলিম তালুকদার। দীর্ঘ ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ,৩১ জুলাই রাতে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

    সেলিম তালুকদার ছিলেন BGMEA University of Fashion & Technology এর ১৮১ ব্যাচের Apparel Manufacture & Merchandising (AMM) বিভাগের ছাত্র। মাত্র ২৬ বছর বয়সী এই তরুণের মৃত্যুতে তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন সেলিম। পরে তাকে তড়িৎ চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ৩১ জুলাই রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    মৃত্যুকালে সেলিম তার নববিবাহিত স্ত্রীকে রেখে গেছেন, যাদের বিয়ের এক বছরও পূর্ণ হয়নি। তার মৃত্যুর সংবাদে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা শোকে বিহ্বল। সেলিমের বন্ধুবান্ধব ও সহপাঠীরা তাকে একজন সৎ, পরিশ্রমী এবং উদ্যমী যুবক হিসেবে স্মরণ করছে।

    মোহাম্মদ সেলিম তালুকদারের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০ ঘটিকায় তার নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে। পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের আহ্বান, সকলেই তার জন্য দোয়া করবেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করবেন। আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে স্থান দিন।

    নিহতের ভাই, সহপাঠী ও নলছিটির সাধারণ শিক্ষার্থীরা এটিকে রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ড আখ্যায়িত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

  • তানোরে প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব কৃষক পরিবার

    তানোরে প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব কৃষক পরিবার

    আলিফ হোসেন,তানোর
    রাজশাহীর তানোরে এক আদিবাসির প্রতারনায় ভুমিহীন এক কৃষক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে। এঘটনায় গ্রামবাসির মাঝে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের (ইউপি) মোহনপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।
    এ ঘটনায় গত ২৯ জুলাই সোমবার ভুক্তভোগী উপজেলার মোহনপুর গ্রামের এলাহী বক্সের পুত্র রইস
    উদ্দিন বাদি হয়ে কচুয়া গ্রামের কমলা কর্মকারের পুত্র দুলাল কর্মকারের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
    উপজেলার জেল নম্বর ৮০ মৌজা কচুয়া, আরএস খতিয়ান নম্বর ০৭, আরএস দাগ নম্বর ১৮১, শ্রেণী ধানী,পরিমাণ ০.৩৬০০ একর জমি রয়েছে। বাদী রইস উদ্দিনের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছ, উক্ত তফশীল বর্ণিত ভিপি সম্পত্তি তিনি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী লীজ গ্রহণ করেছেন। যাহার ভিপি কেস নম্বর ৩১/৮৮ ইং। সরকারি বিধি মোতাবেক তিনি নিয়মিত খাজনা-খারিজ পরিশোধ ও শান্তিপুর্ণ ভাবে ভোগদখল করে আসছেন। রইস উদ্দিন জানান, তার বাড়ি থেকে জমির দুরুত্ব বেশী হওয়ায় তিনি আদিবাসি দুলাল কর্মকারকে জমি দেখভাল করার দায়িত্বে রাখেন। দুলাল সেখানে টিনের চালা তুলে জমি দেখভাল করার পাশাপাশি চোলাই মদ বিক্রি ও সেবন করে।
    এদিকে ওই জমি হাতিয়ে নিতে মোহনপুর গ্রামের এক সার ও দাদন ব্যবসায়ী প্রভাবশালী নানা তৎপরতা শুরু করে। দাদন ব্যবসায়ীর নেপথ্যে মদদে দুলাল তার স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে উঠে বসবাস শুরু করে। এখন দুলাল ওই জায়গা থেকে না নেমে জোরপুর্বক দখল ও কোনো কাগজপত্র ছাড়াই নিজের বলে দাবি করছে। আর তাকে সাহস দিচ্ছেন সুদখোর সার ব্যবসায়ী।
    এ ঘটনায় পাঁচন্দর ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রাম আদালত রইস উদ্দিনের পক্ষে রায় দেন।কিন্ত্ত অবৈধ দখলদার দুলাল সম্পত্তির দখল না ছেড়ে উল্টে রইস উদ্দিনকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন।। এমনকি সম্পত্তিতে গেলে রইস উদ্দিনকে জানে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেয়া হচ্ছে।এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এবিষয়ে পাঁচন্দর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, উক্ত সম্পত্তি রইস উদ্দিনের, কিন্তু দুলাল কর্মকার জোরপুর্বক দখল করেছে।এবিষয়ে জানতে চাইলে দুলাল কর্মকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,রইস উদ্দিনের কাছে থেকে ৫৫ হাজার টাকায় তিনি এসব জমি কিনে নিয়েছেন।#

  • নড়াইলে সলিল ঘোষ ১ম বিভাগ ফুটবল লীগ-ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান

    নড়াইলে সলিল ঘোষ ১ম বিভাগ ফুটবল লীগ-ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে বসুন্ধরা কিংস সলিল ঘোষ ১ম বিভাগ ফুটবল লীগ-২০২৪ এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত।
    নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্টেডিয়ামে নড়াইল জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এবং বসুন্ধরা গ্রুপ, ঢাকার পৃষ্ঠপোষকতায় বসুন্ধরা কিংস সলিল ঘোষ ১ম বিভাগ ফুটবল লীগ-২০২৪ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
    বুধবার (৩১ জুলাই) উক্ত খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী, জেলা প্রশাসক ও সভাপতি, নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থা।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাঃ মেহেদী হাসান, পুলিশ সুপার, নড়াইল ও সহ-সভাপতি, নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থা। গত ১৪ জুলাই উক্ত লীগের উদ্বোধনী হয় এবং আজ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ সুপার মোহাঃ মেহেদী হাসান অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে আজকের ফাইনাল খেলা উপভোগ করেন। খেলা শেষে অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে পুরস্কার বিতরণ করেন। খেলায় চ্যাম্পিয়ন দল “এগিয়ে চল ফুটবল একাডেমি” এবং রানার্সআপ হয় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের খেলোয়াড় চিন্ময় পাঁচ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতে নেন। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ১০ নম্বর খেলোয়াড় অবুঝ। ম্যান অব দ্যা সিরিজ নির্বাচিত হয় এগিয়ে চল ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড় তীর্থ। সেরা গোলরক্ষক হিসেবে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের তন্ময় পুরস্কার জিতে নেন। পুলিশ সুপার আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
    এ সময় মোঃ ইমরুল হাসান, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, বসুন্ধরা গ্রুপ, ঢাকা ও সভাপতি বসুন্ধরা কিংস; আশিকুর রহমান মিকু, সভাপতি, নড়াইল জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনসহ জেলার অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • এক কিলোমিটার রাস্তা এখন গলার কাটা,সংস্কার হয়নি ১২ বছরেও

    এক কিলোমিটার রাস্তা এখন গলার কাটা,সংস্কার হয়নি ১২ বছরেও

    রফিকুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী পটুয়াখালী :
    চরমোন্তাজের দারভাঙ্গা, বাইলাবুনিয়া, নয়ারচর ও পশ্চিম চরমোন্তাজ কে একত্রিত করেছে একটি সড়ক। বর্তমানে সড়কটিতে ইটের সলিং (এইচবিবি) নষ্ট হয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে চার গ্রামের প্রায় আট হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুমে এই ভোগান্তি বেড়ে যায় আরও দ্বিগুণ। ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণের পর ১২ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সড়কটিতে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া।

    হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ইটের রাস্তা থেকে পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) রাস্তায় উন্নতিকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে আবহাওয়া ভালো হলেই সড়কটি ইটের সলিং (এইচবিবি) থেকে পিচ ঢালাইয়ের রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
    জানা গেছে, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের একপাশে দারভাঙ্গা, বাইলাবুনিয়া ও নয়ারচর গ্রাম, আর অন্য প্রান্তে রয়েছে পশ্চিম চরমোন্তাজ গ্রাম। এই চার গ্রামকে একত্রিত করেছে ১ কিলোমিটারের এই চরমোন্তাজ লঞ্চ ঘাট -বাইলাবুনিয়া সড়কটি। প্রায় ১২ বছর আগে চার গ্রামের সাধারণ মানুষের চলাচলে সুবিধার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কতৃক নির্মাণ করা হয় ১০ ফুট প্রশস্তের ইটের সলিং সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্নস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সেই সড়ক দিয়েই চলাচল করছে শত শত ভ্যান, ইজিবাইক, মাল বোঝাই পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন। অতিরিক্ত সময় লাগছে যাতায়াতে, যেকোনো মুহূর্তে থাকে গাড়ি উল্টে যাওয়ার ভয়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ গর্ভবতী নারী ও রোগীদের।

    এছাড়া এসব এলাকার উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারে আনা, নেওয়ায় বেগ পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার কৃষকদের। সড়কের কারণে পরিবহন খরচ বেশিসহ ঠিক সময় মতো বাজার ধরতে পারছেন না কৃষকেরা। তাই দ্রুতই সড়কটি ইটের সলিং থেকে পিচ ঢালাই সড়কে উন্নতিকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
    ভ্যানচালক ইমন গাজী বলেন, এই সড়কের বিভিন্নস্থানে ইট ইঠে গিয়ে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন বলেন, সড়কের অধিকাংশ জায়গাই ভাঙা। বিগত কয়েক বছরে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। বিগত প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে। এ সড়ক দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা চাই এই সড়কটি মেরামত করা হোক।
    যাত্রী রুবেল মাহমুদ বলেন, এটি পিচের সড়ক করা উচিত। একটু উঁচু করে নির্মাণ করলে আরও ভালো হয়। তা না হলে বৃষ্টি বর্ষায় কাদা জমে যায়। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বড় কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পাড়ায় পণ্য আনা নেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

    ইজিবাইক চালক ইউসুফ মাতব্বর বলেন, দারভাঙ্গা, বাইলাবুনিয়া, নয়ারচর সহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থা থাকায় মাঝে মধ্যে যাত্রী নিয়ে আসতে পারি না। এই সড়কে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যায়। এতে লোকসান দিতে হয় আমাদের।

    স্থানীয় কৃষক খলিল কাজী বলেন, সড়কটিতে ইটের সলিং দিয়েছিল প্রায় একযুগ আগে। কিন্তু বর্তমানে সড়কের বিভিন্নস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলে অনেক সমস্যা হচ্ছে আমাদের। নিজেদের খেতের উৎপাদিত সবজি বাজারে নিতে বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। না হলে ভ্যান চালকেরা যেতে চায় না। দ্রুতই সড়কটি পিচ ঢালাইয়ের দাবি আমাদের।

    রাঙ্গাবালী উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, রাস্তাটির টেন্ডার প্রক্রিয়া কাজ শেষ হয়েছে, আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে কাজ করতে পারতেছে না আবহাওয়া ঠিক হলে রাস্তাটির কাজ শুরু হবে । আবহাওয়া অনুকুলে আসলে এই সড়কটিসহ উপজেলার আরো কয়েকটি সড়ক পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) কাজ শুরু হবে।

  • আজ ২আগষ্ট বিশ্ব বরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ১৬৩ তম জন্ম বার্ষিকী

    আজ ২আগষ্ট বিশ্ব বরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ১৬৩ তম জন্ম বার্ষিকী

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
    আজ ২আগষ্ট বিশ্ব বরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ১৬৩ তম জন্ম বার্ষিকী। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে বিজ্ঞানীর জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানকে ঘিরে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয়ভাবে আয়োজন করা হয়েছে নানা কর্মসূচি। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ১৬৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শুক্রবার সকালে খুলনা জেলার পাইকগাছায় আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জন্মস্থান পরিদর্শন, তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা, পিসি রায়ের জীবন ও কর্মেরর ওপর তথ্যচিত্র প্রদর্শন, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ক উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ও উপজেলা প্রশাসন এবং রাড়ুলী ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে।
    বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ১৮৬১ সালের ২ আগষ্ট খুলনা জেলার পাইগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। পিতা হরিশচন্দ্র রায় চৌধুরী ও মাতা ভুবন মোহনী দেবী। প্রফুল চন্দ্র পিতার প্রতিষ্ঠিত স্কুলে বাল্য শিক্ষা লাভ করেন। প্রফুল চন্দ্রের পিতা মাতা স্থায়ীভাবে কলকাতায় বসবাস শুরু করলে তিনি ১৮৭১সালে হেয়ার স্কুলে ভর্তি হন ১৮৭৪ সালে এ্যালবার্ড স্কুলে ভর্তি হন এবং স্কুল থেকে এন্ট্রাস পাশ করেন। তিনি ১৮৯১ সালে মেট্রোপলিটন ইনিস্টিটিউট থেকে এফ, এ পাশ করেন। বিএ পড়ার জন্য প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। ১৮৮২ সালে গিলক্রাইস্ট বৃত্তি লাভ করে ইংল্যান্ডের এডিরবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ১৮৮৫ সালে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৮৮৭ সালে মৌলিক গবেষনামুলক প্রবন্ধে ডিএমসি উপাধি লাভ করেন এবং একই বছরে এডিসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামিক্যাল সোসাইটি সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রী নিয়ে ভর্তি হয়ে ১৮৮৫ সালে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ১৮৮৭ সালে মৌলিক গবেষনামুলক প্রবন্ধে ডিএমসি উপাধি লাভ করেন এবং এডিসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামিক্যাল সোসাইটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান জনক ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে ১৯৮৮ সালে ইউরোপ ঘুরে কলিকাতায় পৌছান। তিনি ১৮৮৯ সাল থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত ২৭ বছর প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত ২০ বছর বিজ্ঞান কলেজে পালিত অধ্যাপক হিসবে শিক্ষকতা করেন। ১৯১২ সালে লন্ডন ডারহার্ম বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মান জনক ডক্টরেট উপাধী প্রদান করেন। ১৮৯৫ সালে তিনি মার্ককিউরাস নাইট্রাইট আবিষ্কার করেন।
    ১৮৯২ সালে মাত্র ৮০০ টাকা মুলধন নিয়ে বেঙ্গল ক্যামিক্যাল প্রতিষ্ঠা করেন। কোম্পানিটির নাম কারণ করা হয় দি বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিটিক্যাল। ১৯৩৭ সালে মানিকতলায় স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রিসার্ট ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৩৪ সালে আচার্য্যদেব খুলনার সোনাডাঙ্গায় বেকার যুবকদের কর্মস্থানের জন্য প্রফুল্ল চন্দ্র কটন মিল লিঃ প্রতিষ্ঠা করেন। দেশভাগের পর এ, পি, সি কটন মিলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় খুলনা টেক্সটাইল মিল। ১৯০৮ সালে রাড়ুলীতে সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাগেরহাটের পি, সি কলেজ, খুলনা সিমেন্ট্ররি রোডে এ, পি, সি শিশু বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন স্থানে অসংখ্যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও অনুদান প্রদান করেন। পি, সি, রায়ের কর্মকান্ডে লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতবর্ষের মহীশুর, বেনারস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসচূক ডক্টরেট উপাধিতে ভুষিত করেন। ব্রিটিশ সরকার ১৯১২ সালে তাকে সি, আই, ই এবং ১৯২৯ সালে নাইট উ্পাধিতে ভুষিত করেন। ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন ৮২ বছর বয়সে আচার্য্যদেব শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল বরখাস্ত

    গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল বরখাস্ত

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন বরখাস্ত হয়েছেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ইউপি-১ শাখা বাংলাদেশ সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব গত ২৪ জুলাই পূরবী গোলদার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদ হতে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রদান করেন।

    বরখাস্ত আদেশের কপি রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে এসে পৌছেনে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলাধীন ৩ নং পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী মডেল থানায় দায়েরকৃত জি.আর মামলানং ৯৩/২২ (গোদাগাড়ী) এর অভিযোগপত্র চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, রাজশাহী কর্তৃক অভিযোগ গঠন করায় রাজশাহী জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছেন।

    ফলে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলাধীন পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক উল্লিখিত অভিযোগ গঠন করায় তার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করেন।

    রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলাধীন পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী উল্লিখিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে তার স্বীয় পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

    এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল হায়াত বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীনের সাময়িক বরখাস্তের একটি চিঠি পেয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী রাজশাহী জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার শাখা হতে আমার অফিসে একটি আদেশ আসবে। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
    এ ব্যপারে সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান মোঃ জালাল উদ্দীনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাময়িক বরখাস্তের কথা স্বীকার করেন বলে গত ২৪/০৭/২৪ ইং নির্দেশনা পেয়েছি। আমি হাইকোটে রিট করবো, ইনসাল্লাহ আমার পক্ষে রায় পাব। একটি মামলায় আমার বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী মডেল থানার এসআই সিরাজ চার্জসীট দেয়ায় এটা হয়েছে। সাথে একটি বিষয়ে তর্কবিতর্ক হওয়ায় তিনি বদলী হওয়ার পূর্বে একাজটি করেছেন।

    বরখাস্তকৃত এই চেয়ারম্যান গোদাগাড়ীতে জমি-জায়গা বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চার কৃষক হত্যায় ইন্ধনদাতাসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজে জড়িত থাকায় অভিযোগ উঠে। এই নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক সংবাদও প্রকাশিত হয়।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • কিংবদন্তি কমল দাশগুপ্ত শেষ জীবনে মুদির দোকান, অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু

    কিংবদন্তি কমল দাশগুপ্ত শেষ জীবনে মুদির দোকান, অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু

    উজ্জ্বল রায়:
    কিংবদন্তি কমল দাশগুপ্ত শেষ জীবনে মুদির দোকান, অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু। শেষ জীবনে মুদির দোকান, অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু অথচ কিংবদন্তি কমল দাশগুপ্ত ১৯৪৬ সালে ৩৭ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছেন, তিনি গাড়ি ছাড়া পা রাখেন নি কোলকাতার রাস্তায়! কাজী নজরুল ইসলামের প্রায় ৪০০ টি গানে সুর করেছেন এই অসাধারণ প্রতিভাধর সুরকার।
    উল্লেখ্য, কমল দাশগুপ্ত’র কথা মনে পড়লো কারণ তাঁর পুত্র সাফিন আহমেদ কয়েক দিন আগে মারা গেছেন। কমল দাশগুপ্ত মারা গিয়েছিলেন ৬২ বছর বয়সে, পুত্রও একই বয়সে মারা গেলেন। কমল দাশগুপ্ত আর ফিরোজা বেগমের তিন পুত্রের প্রতিভা কমল দাশগুপ্ত আর ফিরোজা বেগমের মিলিত প্রতিভার ধারে কাছে আসতে পারেনি, যদিও বলা হয় মিউজিশিয়ানদের সন্তানেরা ভাল মিউজিশিয়ান হন। দুই পুত্র গান গেয়েছেন, হয়তো ভাল মিউজিশিয়ান হয়েছেন কিন্তু পিতার মতো যাদুকর হতে পারেননি।
    প্রসঙ্গত, এমনি বরষা ছিল সেদিন, মেনেছি গো হার মেনেছি , ভালোবাসা মোরে ভিখারি করেছে তোমারে করেছে রানী, তুমি কি এখন দেখিছো স্বপন, এই কিগো শেষ দান বিরহ দিয়ে গেলে, আমি ভুলে গেছি তব পরিচয়, যেথা গান থেমে যায় , আমি দুরন্ত বৈশাখী ঝড় তুমি যে বহ্নি শিখা, জেগে আছি একা, আমি বনফুল গো, ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, সেদিন নিশীথে বরিষণ শেষে চাঁদ উঠেছিল বনে, শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে, যদি আপনার মনে মাধুরী মিশায়ে, চরণ ফেলিও ধীরে ধীরে প্রিয়, তুমি হাতখানি যবে রাখো মোর হাতের পরে, আমার যাবার সময় হলো, কতদিন দেখিনি তোমায়, হার মেনেছি গো হার মেনেছি, জানি জানি গো মোর শূন্য হৃদয় দেবে ভরি, বুলবুলি নীরব নার্গিস বনে, পথহারা পাখি কেঁদে মরে একা, আমি চাঁদ নহি অভিশাপ, গভীর নিশীথে ঘুম ভেঙে যায়…ছোটবেলায় এই গানগুলো শুনতাম আমাদের বাড়িতে। এগুলো এবং এরকম আরও হাজার রকম গান ছিল আমার দাদার সংগ্রহে। বাড়ির রেকর্ডপ্লেয়ারে বাজতো গান। সারা পাড়া শুনতো। দাদা বলতো গানগুলোর সুরকার কমল দাশগুপ্ত। তখনই প্রথম কমল দাশগুপ্তর নাম শুনি। ফিরোজা বেগম নজরুলগীতি গাইলে সবাই ভাবতো সুর বুঝি কাজী নজরুল ইসলামের।
    অবিশ্বাস্য প্রতিভা ছিল কমল দাশগুপ্ত’র। ১৯৩০ সালে তাঁর সুরারোপিত গানের প্রথম রেকর্ড বের হয়। এইচ.এম.ভি গ্রামোফোন কোম্পানিতে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি সঙ্গীত পরিচালনা ও গানের সুর করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। মোট ৮৫০০ গানে তিনি সুর করেছেন। খেয়াল, রাগ প্রধান গান, ভজন, কীর্তন, কাওয়ালি, ইসলামী সঙ্গীত, নজরুলসঙ্গীত, আধুনিক বাংলা গান, উর্দু ও হিন্দিগীত, গজল, লোকসঙ্গীত, মার্চ সঙ্গীত ও সিনেমার গানে রয়েছে তার অবিস্মরণীয় অবদান।
    ১৯৪৩ সালে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট অব মিউজিক ডিগ্রি লাভ করেন। কলকাতার জীবন্ত কিংবদন্তী ১৯৬৭ সালে স্ত্রী পুত্র সহ ঢাকায় স্থায়ী হন। কেন তাঁকে ঢাকায় অনিশ্চিত জীবনে আসতে হয়েছিল? তিনি তো কলকাতায় সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলেন! ১৯৫৫ সালে স্বনামধন্য নজরুল সংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগমকে বিয়ে করার জন্য কি একা হয়ে গিয়েছিলেন? ধন দৌলত, যশ খ্যাতি, সুনাম, জনপ্রিয়তা সব তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল? ঢাকাও কিন্তু এই আশ্চর্য প্রতিভার অধিকারীকে সম্মান করেনি। নিজের ধর্ম সম্পর্কে উদাসিন এক মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী সঙ্গীতসাধককে ঢাকা ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করেছিল! বাধ্য করেছে নিজের কমল দাশগুপ্ত নাম ত্যাগ করে মোহাম্মদ কামালউদ্দিন নামটিকে বরণ করতে। বাধ্য করেছে তাঁকে চরম দারিদ্রের মধ্যে জীবনযাপন করতে। বাধ্য করেছে তাঁকে হাতির পুলে মুদির দোকান দিয়ে মুদিগিরি করতে, লজেন্স বিস্কুট বিক্রি করতে। ঢাকা এই অসামান্য শিল্পীকে বাধ্য করেছে অবহেলা আর উপেক্ষায় জীবন কাটাতে। বাধ্য করেছে তাঁকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু বরণ করতে।
    বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের লোকেরা কি কখনও ক্ষমা চেয়েছেন কমল দাশগুপ্তের কাছে? বনানীতে তাঁর কবরে কখনও ফুল দিতে যান? আক্ষেপ করেন? লজ্জা পান? কখনও তাঁর গানের অনুষ্ঠান করেন? তাঁকে শ্রদ্ধা জানান? জানতে ইচ্ছে করে।
    পুনশ্চঃ কমল দাশগুপ্ত ছিলেন বাংলা হিন্দি তামিল চলচ্চিত্রের প্রচুর গানের সুরকার, আধুনিক বাংলা গানের সুরস্রষ্টা, গ্রামোফোন রেকর্ড কোম্পানির সঙ্গীত পরিচালক এবং সর্বাধিক নজরুল গীতির সুরকার। তাঁর সঙ্গীত পরিচালনায় ৮০টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘যোগাযোগ’, ‘শেষ উত্তর’, ‘চন্দ্রশেখর’ ও ‘শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য’ শ্রেষ্ঠ পুরস্কারে ভূষিত হয়। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর রণসঙ্গীত ‘কদম কদম বাড়ায়ে যা’ তাঁর অনন্য সৃষ্টি। প্রতিমাসে গড়ে ৫৩টি গানে সুর করার কৃতিত্ব ছিল তাঁর। ঢাকার হাতির পুলে এই তাঁর মুদি দোকান ‘পথিকার’। কমল দাশগুপ্ত দোকানদারি করেছেন। তেল নুন মুড়ি বিস্কুট বিক্রি করেছেন!