Author: desk

  • নলছিটিতে মাদরাসার নাম করে জমি জ-বর দখ-লের অভিযোগে ভুমি দ-স্যুর বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন

    নলছিটিতে মাদরাসার নাম করে জমি জ-বর দখ-লের অভিযোগে ভুমি দ-স্যুর বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন

    মো.নাঈম মল্লিক।।
    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ

    ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভাধীন সূর্যপাশা গ্রামে কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠার নাম করে ব্যাক্তি মালিকানাধীন রেকর্ডীয় সম্পত্তি জবর দখল করার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল ইসলাম ইমাম নামের জনৈক এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে বুধবার (২৪শে ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় নলছিটি প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের অয়োজন করে নলছিটি পৌর এলাকার সূর্যপাশা গ্রামের ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠী। সাংবাদিক সম্মেলনে এলাকাবাসির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান মো: অনোয়ার হোসেন চুন্নু।
    তিনি জানান, কয়েক বছর আগে নলছিটি-বরিশাল আঞ্চলিক সড়কের পাশে নলছিটি পৌরসভাধীন সূর্যপাশা গ্রামে সম্মিলিতভাবে একটি কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠার লক্ষে এলাকাবাসির নিকট প্রস্তাব করেন উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম ইমাম। আলাপ আলোচনায় একমত পোষন করেন তার। এরপর মাদরাসার জন্য ওই এলাকার দু’একজনের কাছ থেকে কিছু জমি কিনে এলাকাবাসিদের না জানিয়ে এবং তার ক্রয়কৃত জমির পাশ^বর্তী জমির মালিকদের সাথে জমির সীমানা নির্ধারণ না করে মাদরাসার ভবন তৈরীর জন্য জমিতে বালু ভরাটের কাজ শুরু করেন অভিযুক্ত ইমাম। বালু দিয়ে তার ক্রয়কৃত জমির সঙ্গে পাশর্^বতী অন্য মালিকানাধীন জমিও ভরাট করে মাদরাসা ভবনের কাজ শুরু করেন তিনি। তার এই অবৈধ কাজে বাধা দেন ভ’ক্তভোগীরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তৎকালীন আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তার জবর দখল করা জমির মালিক আনোয়ার চুন্নু, নূরে আলম, শাহ আলম মাহবুবুর রহমান, রশিদ খলিফা প্রমুখ ব্যাক্তিকে হুমকি ধমকি দিতে থাকেন বলে সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
    সাংবাদিক সম্মেলনে মো: আনোয়ার হোসেন চুন্নু আরও জানান, অভিযুক্ত সাইফুল ইল ইসলাম ঢাকার সরকারি গ্যাস চোর সিন্ডিকেটের একজন সক্রিয় সদস্য। তার এই গ্যাস চুরি করে অর্থ উপার্জনের বিষয়ে জনপ্রিয় প্রাইভেট টিভি চ্যানেল ডিবিসি সহ বেশ কয়েকটি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিবেদন প্রচার করা হয়েছে। এ নিয়ে তদন্ত শুরু হলেও আওয়ামী প্রভাব ও মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে চাপা পড়ে যায় তার গ্যার চোরাকারবারির ঘটনা। ওই সময় আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এলাকাবাসিকে আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে ওই জমিতে গড়ে তোলেন জামিয়া মোহাম্মাদিয়া জয়নাল আবেদিন কওমী মাদরাসা। ওই সময় সাইফুল ইসলাম ইমাম তার অবৈধ অর্থের জোড়ে কিছু মাদকসেবি অওয়ামী ক্যাডার দিয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দমিয়ে রাখতেন। আনোয়ার হোসেন চুন্নু আরও জানান, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ই আগষ্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরে এলাকাবাসি তাদের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করতে পারলেও এলাকার ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা বিবেচনা করে তার সেটা করেন নি। তারা বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের লক্ষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ উপস্থিত হলে শালিসগণ উভয়পক্ষকে তাদের কাগজপত্র জমা দিতে বলেন। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসি তাদের কাগজপত্র জমা দিলেও সাইফুল ইসলাম এ পর্যন্ত কোন কাগজপত্র জমা না দিয়ে শালিসগণতে অবজ্ঞা করে বালি ভরাটকৃত অন্যে জমিতে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এলাকাবাসি সেই বন্ধ করে দিলে অর্থের বিনিময়ে কিছু পথভ্রষ্ট সাংবাদিককে দিয়ে জমির প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে বরিশালের স্থানীয ১টি পত্রিকা সহ কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয় বলে সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করেন আনোয়ার হোসেন চুন্নু।
    তিনি আরও জানান, গাজিপুরের শাহ আলমবাড়ি এলাকায় সাইফুল ইসলাম ইমামের সিএনজি ও তিতাস গ্যাস চুরির ব্যাবসা চলমান আছে। সেখানে তিনি আশেপাশের লোকজনকে নানা হয়রানি করে আসছেন বলে গত এক বছর আগে টিভি চ্যানেল ডিবিসি সহ কয়েকটি চ্যানেলে প্রচার করা করা হয়েছে। সাইফুল ইসলাম ইমামের এ অবৈধ চোরা কার বন্ধে দুদক ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আনোয়ার হোসেন চুন্নু।
    সাংবাদিক সম্মেলনে নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো:আনিচুর রহমান (হেলাল) খান, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তৌহিদ আলম মান্না, পৌর এিনপির সাধারণ সম্পাদক মো: সরওয়া হোসেন তালুকদার সহ ভুক্তভোগী এলাকাসি উপস্থিত ছিলেন।

  • মুন্সিগঞ্জে নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একই স্টেশনে  দীর্ঘ ২৭ বছর : নেপথ্যে ‘অ-দৃশ্য শক্তি’

    মুন্সিগঞ্জে নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একই স্টেশনে দীর্ঘ ২৭ বছর : নেপথ্যে ‘অ-দৃশ্য শক্তি’

    লিটন মাহমুদ,
    মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

    সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী সাধারণত এক স্টেশনে তিন বছরের বেশি থাকার নিয়ম নেই। অথচ এই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে একই উপজেলায় শিকড় গেড়ে বসে আছেন এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে বদলি করলেও অদৃশ্য এক শক্তির ইশারায় রহস্যজনকভাবে সেই আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।

    দীর্ঘ সময় একই স্থানে কর্মরত থাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন অনিয়ম ও দুর্নীতির নিজস্ব সিন্ডিকেট। এমন পরিস্থিতিতে অফিসের অন্য কর্মচারী ও সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায়। অভিযুক্ত ওই প্রশাসনিক কর্মকর্তার নাম মোহাম্মদ বশির আহমেদ লস্কর।

    জানা যায়, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ২৭ বছর মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন মোঃ বশির আহমেদ লস্কর। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ থেকে তাকে নতুন কর্মস্থলে একাধিকবার বদলি করা হয়। দীর্ঘ আড়াই যুগের জঞ্জাল সরবে এমন আশায় স্থানীয়রা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন। কিন্তু বদলি আদেশের কয়েক দিনের মাথাতেই তা স্থগিত করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের অর্থের লেনদেন এবং ওপর মহলের শক্তিশালী লবিং ব্যবহার করে তিনি বদলি আদেশ স্থগিত করাতে সক্ষম হয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ২৭ বছর একই চেয়ারে থাকার সুবাদে তিনি অফিসটিকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যেকোনো ফাইলের ছাড়পত্র বা স্বাক্ষর নিতে হলে তাকে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ দিতে হয়। টাকা ছাড়া তিনি কোনো ফাইলের কাজ করেন না।

    স্থানীয় দালাল চক্রের সাথে তার গভীর সখ্যতা রয়েছে। সাধারণ মানুষ সরাসরি সেবা নিতে গেলে হয়রানির শিকার হন, অথচ দালালদের মাধ্যমে গেলে দ্রুত কাজ হয়।

    দীর্ঘদিনের দাপটে তিনি অধস্তন কর্মচারীদের সাথে অসিদাচরণ করেন। তার ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পান না।
    অফিসের বিভিন্ন কেনাকাটা ও সংস্কার কাজের ভুয়া ভাউচার বানিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সরকারি দিবসে এ উপজেলায় সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা তোলার প্রমাণ রয়েছে। কুরবানীর ঈদে হাট-বাজার থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা তোলার প্রমাণ রয়েছে। অবৈধ ড্রেজার এবং মাটি কাটা কাটা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার কথা অনেকেই বলেছেন। সরকারি জমি নিজের নামে লিজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছেসহ বহু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই অফিসের এক কর্মচারী বলেন, “বদলির খবর শুনে আমরা মিষ্টি খেয়েছিলাম। কিন্তু স্যার আবারও আদেশ স্থগিত করে ফিরে এসেছেন। এখন তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার খুঁটির জোর কোথায়, আমরা জানি না।”

    সেবা নিতে আসা এক ভুক্তভোগী বলেন, “সামান্য একটি কাজের জন্য তিনি আমাকে মাসের পর মাস ঘুরিয়েছেন। শেষে দাবিকৃত টাকা দেওয়ার পর কাজ হয়েছে। ২৭ বছর এক লোক কীভাবে এক জায়গায় থাকে, এটা আমার বোধগম্য নয়।”

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ বশির আহমেদ লস্কর এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়ার পরেও তিনি কল রিসিভ করে নাই।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষ বলেন, আমি এ উপজেলায় যোগদান করেছি কিছুদিন হয়। এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করা হবে ওনি অভিযুক্ত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    প্রশাসনিক কারণে বদলি আদেশ স্থগিত হতে পারে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    একই স্থানে দীর্ঘকাল থাকার ফলে প্রশাসনিক স্থবিরতা ও দুর্নীতির যে পাহাড় জমেছে, তা নিরসনে অবিলম্বে এই কর্মকর্তার বদলি কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল##

  • তানোরে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বি-তরণ

    তানোরে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বি-তরণ

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    হারবে শীত,জিতবে মানবতা’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীর তানোরে সমাজের অবহেলিত,অসহায় দুঃস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
    জানা গেছে,সোমবার (২২ ডিসেম্বর)
    তানোর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক মন্ডল পৌরসভার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হতদরিদ্র শীতার্তদের মাঝে এসব শীতবস্ত্র(কম্বল) বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন তানোর পৌর সভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কারানির্যাতিত রাজপথের লড়াকু সৈনিক ওবাইদুর রহমান মোল্লা,তানোর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি কারানির্যাতিত নেতা মাহাবুব মোল্লা,আনারুল ইসলাম মাস্টার,আবুল হাশেম, আরশেদ আলী ও মোস্তাফিজুর রহমানপ্রমুখ।
    এদিন সোমবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এবং বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তারা দরিদ্র ও ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেন। তারা বলেন, হঠাৎ করেই গত কয়েকদিন থেকে প্রচন্ড শীত ও ঘন কুঁয়াশায় অসহায় দরিদ্র ও ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষ চরম কষ্টে রয়েছেন।এসব মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য তাদের পক্ষ থেকে তাদের সাধ্যমত তারা সহায়তার চেষ্টা করছেন মাত্র। এ সময় তারা এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।#

  • পাবনা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক কে এম  হেসাব উদ্দিনের মনোনয়ন ফরম উ-ত্তোলন

    পাবনা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিনের মনোনয়ন ফরম উ-ত্তোলন

    এমএ আলিম রিপন,সুজানগর : পাবনা-২ (সুজানগর উপজেলা ও বেড়া আংশিক) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।
    মঙ্গলবার দুপুরে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ এর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে মনোনয়ন ফরম গ্রহন করেন। এ সময় পাবনা ২ আসনের জামায়াতের নির্বাচন পরিচালক অধ্যাপক রেজাউল করিম, বেড়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হক, সুজানগর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক ফারুক- ই আজম ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক উপস্থিত ছিলেন।
    মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপ কালে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা ২ আসন থেকে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনই জামায়াতের অন্যতম উদ্দেশ্য । তিনি পাবনা দুই নির্বাচনী এলাকার সকল ভোটারের ভোট প্রার্থনা সহ এ আসনের সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় সুজানগর পৌর জামায়াতের আমীর রফিকুল ইসলাম খান, জামায়াত নেতা আসাদ, ওয়ালিউল্লাহ বিশ্বাস, শহীদুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর উপজেলা প্রতিনিধি।।

  • টমেটোর ফলন বিপ-র্যয় কৃষকের মাথায় হাত

    টমেটোর ফলন বিপ-র্যয় কৃষকের মাথায় হাত

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    ​রাজশাহীর তানোর ও গোদাগাড়ীতে চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজি টমেটো চাষে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন টমেটো চাষিরা।তানোরে তেমন টমেটো চাষ না হলেও গোদাগাড়ী টমেটোর ভাণ্ডার’ হিসেবে পরিচিত।তবে এই উপজেলায় এবার টমেটোর কাঙ্ক্ষিত ফলন না হওয়ায় কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। টমেটো চাষিদের অভিযোগ, নিম্নমানের বীজের কারণেই এবার আশানুরূপ ফলন আসেনি। ফলে বিনিয়োগ করা মোটা অঙ্কের টাকা ঘরে তোলা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ফলন কম হওয়ায় বিপাকে টমেটো চাষিরা।
    ​সরেজমিন গোদাগাড়ীর রামনগর, হেলিপ্যাড,সাধুর মোড়, নবগ্রাম ও
    আমতলাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা জমি থেকে টমেটো তুলছেন ঠিকই, কিন্তু বিগত বছরের তুলনায় এবার প্রতি বিঘা জমিতে টমেটোর ফলন অনেক কম। রামনগরের কৃষকরা জানান, বীজের সমস্যার কারণে গাছগুলো সঠিকভাবে বাড়তে পারেনি এবং ফলের আকারও ছোট হয়েছে। জমিতে যে পরিমাণ শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে সেই খরচ উঠবে কি না, তা নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত। হতাশ এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “সব খরচ বাদে এবার হাতে কিছু থাকবে বলে মনে হচ্ছে না। মাঠের ফলন নিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় থাকলেও ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। রামনগর গ্রামের হ্যালিপ্যাড মাঠসহ অন্তত ৩০টি স্থানে চলছে টমেটো প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রোদে শুকানো হচ্ছে হাজার হাজার মণ কাঁচা টমেটো। কোনোটি হালকা লাল, কোনোটি হালকা হলুদ। আবার কোনো কোনো স্থানে টমেটোর বড় বড় স্তূপ খড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। তবে কদিন ধরে তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে টমেটো পাঁকাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
    স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মাঠ থেকে ৪টি (৪৫ কেজি) হিসেবে ৭০০-৮০০ টাকা দরে কাঁচা টমেটো কেনা হচ্ছে। এরপর তাতে ‘ইথিফন’ ও ‘ডায়াথিন এম’ জাতীয় ওষুধ স্প্রে করে প্রায় ১০ দিন রোদে শুকিয়ে লাল করা হয়। সম্পূর্ণ লাল রঙ ধারণ করলেই এগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বড় বড় আড়তগুলোতে ট্রাকযোগে পাঠানো হয়।
    সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে,গোদাগাড়ী উপজেলাতে টমেটো চাষ হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে। উপজেলায় চলতি বছরে আয় হবে ১১২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। টমেটো
    কেনা-বেচায় অস্থায়ীভাবে ৮ থেকে ৯ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।
    জানা গেছে, প্রায় শত কোটি টাকার বাণিজ্য ঝুকি গোদাগাড়ীর টমেটোর এই ভরা মৌসুম, চলবে আরো প্রায় দুই মাস। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়ে শুধু গোদাগাড়ী থেকেই প্রায় শোয়াশ’ কোটি টাকার টমেটো কেনাবেচা হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এখানে অস্থায়ী বাড়ি ভাড়া নিয়ে আস্তানা গেঁড়েছেন। তবে ব্যবসায়ীদের মনেও রয়েছে ভয়। ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী আজহার ও স্থানীয় আব্দুল জাব্বার জানান, মৌসুমের শুরুতেই টমেটোর দাম অনেক চড়া। সেই চড়া দামে কেনা এই টমেটো বাজারে নিয়ে সঠিক দাম না পাওয়া গেলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে তাদের।#

  • ভেজাল সার বিক্রির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে জ-রিমানা

    ভেজাল সার বিক্রির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে জ-রিমানা

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী মোহনপুরের কেশরহাট বাজারে ভেজাল ও নিম্নমানের দস্তা সার বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর ) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানার নেতৃত্বে কেশরহাট বাজারের বালাইনাশক ও বীজ দোকানগুলোতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১৭ ও ১৫ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে মেসার্স তামিম এন্ড তাসনিমের স্বত্বাধিকারী আবু তাহেরকে ৫ হাজার টাকা এবং মেসার্স বিসমিল্লাহ কৃষি বিপণীর স্বত্বাধিকারী আব্দুর রউফকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করে তাৎক্ষণিক জরিমানার টাকা আদায় করা হয়েছে।
    জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভেজাল সার ও কীটনাশক বিক্রির অভিযোগ বেড়েছে। এতে কৃষকরা ফসল ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং উৎপাদন খরচ বাড়ছে। কেশরহাটের এই অভিযান কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
    এবিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা বলেন, “ভেজাল সার কৃষকদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। কৃষকদের সচেতন থাকতে এবং সন্দেহজনক সার কিনলে প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করছি।”
    এদিন অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মতিন, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান এবং মোহনপুর থানা পুলিশের একটি টিম।
    স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এমন অভিযান তাদের আস্থা বাড়িয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিয়মিত অভিযান ও তদারকির দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান আগামিতেও নিয়মিতভাবে চলবে।#

  • এমআরইউ’র নতুন নেতৃত্বে শাহরিয়ার নাঈম সভাপতি, মিসবাহ উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক

    এমআরইউ’র নতুন নেতৃত্বে শাহরিয়ার নাঈম সভাপতি, মিসবাহ উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক

    সুমন খান:

    মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ)-এর কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে শাহরিয়ার নাঈম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ মিসবাহ উদ্দিন বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়। পরে রাত ৮টার দিকে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে। ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণাকে ঘিরে সাংবাদিকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও প্রাণচাঞ্চল্য।সভাপতি পদে দৈনিক যায়যায়দিন-এর প্রধান প্রতিবেদক শাহরিয়ার নাঈম মোট ১৫৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলমগীর হোসেন পেয়েছেন ১৭ ভোট। নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় শাহরিয়ার নাঈম বলেন, “মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটিকে আরও সক্রিয়, ঐক্যবদ্ধ ও পেশাদার সংগঠনে পরিণত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক নিরপেক্ষ-এর প্রতিবেদক মোঃ মিসবাহ উদ্দিন ১৩৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তিনি বলেন,মাল্টিমিডিয়াসাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে ১নং সহ-সভাপতি হিসেবে জাকির ইসলাম এবং ২নং সহ-সভাপতি হিসেবে ইসলাম উদ্দিন তালুকদার নির্বাচিত হন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে জহিরুল ইসলাম রাতুল এবং অর্থ সম্পাদক পদে জান্নাতুর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ খোকা, দপ্তর সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত, প্রচার সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে সৈয়দ মাহবুব নির্বাচিত হয়েছেন।ক্রীড়া সম্পাদক পদে শাহিনুল নুর এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আরাফাত হোসেন হিমেল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সমাজসেবা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিজয় আহমেদ এবং স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও আপ্যায়ন সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সোলায়মান সুমন।
    কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইসমাইল হোসেন, শাহীন আলম জয়, স্বাধীন রহমান, আবুল খায়ের ও আল আমিন খান।
    নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃত্বে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ) আরও গতিশীল, ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।

  • ধামইরহাটে ম্যারাথন সাইকেল র‌্যালি ও পুরস্কার বি-তরণ অনুষ্ঠিত

    ধামইরহাটে ম্যারাথন সাইকেল র‌্যালি ও পুরস্কার বি-তরণ অনুষ্ঠিত

    ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি-
    নওগাঁর ধামইরহাটে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, ম্যারাথন ও সাইকেল র‌্যালি অনুষ্ঠিত। ২৩ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১১ টায় জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজ মাঠে জাকস ফাউন্ডেশন, সবুজ নগর, জয়পুরহাটের আয়োজনে এবং পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহযোগিতায় সমৃদ্ধি কর্মসূচি তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উপজেলা দিবস ও উন্নয়ন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    ফ্লোলিনা দিতি হাসদার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১নং ধামইরহাট ইউপি চেয়ারম্যান এ টি এম বদিউল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ইলিয়াস আলম, জাকস ফাউন্ডেশন প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (কার্যক্রম) মোঃ রফিকুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মোঃ শামসুল আলম, মোঃ ইসমাইল হোসেন, ধামইরহাট মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক (অব:) এসসি আলবার্ট সরেন, জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল বয়ান, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর মোঃ সাইদুল ইসলাম, সমৃদ্ধি কর্মসূচি উপজেলা কর্মসূচি সমন্বয়কারী মোঃ মারজানুল ইসলাম, সহকারি উপজেলা কর্মসূচি সমন্বয়কারী মোঃ বোরহান উদ্দীন ও সমৃদ্ধি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন খন্দকারসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
    এ সময় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান এবং বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। সবশেষে আকর্ষণীয় ছিল উন্নয়ন মেলা ও মেলার স্টল পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ। মেলায় জাকস ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সচেতনতামূলক কার্যক্রম বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হয়।

  • বড়দিন: বিশ্বজুড়ে মানবতা ও শান্তি বার্তা-র উৎসব – লরেন্স ডি. বিশ্বাস

    বড়দিন: বিশ্বজুড়ে মানবতা ও শান্তি বার্তা-র উৎসব – লরেন্স ডি. বিশ্বাস

    যিশুখ্রিস্টের জন্ম স্মরণে খ্রিস্টানদের সর্ববৃহৎ উৎসব: বিশ্বের নানা দেশে আজ (২৫ শে ডিসেম্বর) পালিত হচ্ছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন বা ক্রিসমাস। যিশুখ্রিস্টের জন্ম উপলক্ষে পালিত এ উৎসবকে ঘিরে সাজানো হয়েছে গির্জা, বাড়িঘর ও নানা জনপদ। উৎসবের আবহে মুখরিত হয়ে উঠেছে খ্রিস্টান সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

    স্বর্গদূতের বার্তায় শুরু যিশুর আগমনের ইতিহাস: খ্রিস্টীয় সূত্র মতে, যিশুর জন্মের বহু আগেই স্বর্গদূত গাব্রিয়েল মাতা মরিয়মকে এক অলৌকিক সংবাদ জানান। তিনি বলেন মরিয়ম ঈশ্বরের পবিত্র শক্তিতে গর্ভবতী হবেন এবং পৃথিবীতে জন্ম নেবেন এক ত্রাণকর্তা, যাঁর আগমন মানবজাতিকে দেবে মুক্তির বার্তা। বিবাহ না হওয়ায় মরিয়ম বিস্মিত হলেও স্বর্গদূত তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি ঈশ্বরের বেছে নেওয়া ধন্য নারী।

    মরিয়মকে নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার জন্য স্বর্গদূত জোসেফকেও দেখা দেন। এর কিছুদিন পর মরিয়ম ও জোসেফের বিয়ে সম্পন্ন হয় যাতে সমাজের চোখে মরিয়ম নিন্দনীয় না হন। স¤্রাটের আদেশে জন্ম-নিবন্ধনের জন্য তাঁদের বেথলেহেমে যেতে হয়েছে। সেখানে যাত্রাপথে কোনো সরাইখানায় জায়গা না পেয়ে তাদের আশ্রয় নিতে হয় একটি গোয়াল ঘরে। সেই রাতেই জন্ম নেন মানবজাতির ত্রাণকর্তা যিশুখ্রিস্ট।

    মেষপালক থেকে রাজা সবাই ছুটে যান নবজাতকের কাছে: যিশুর জন্মের সংবাদ প্রথম পৌঁছে যায় বেথলেহেমের নিকটবর্তী মেষপালকদের কাছে। আকাশমন্ডলে স্বর্গদূতেরা আবির্ভূত হয়ে এই বার্তা জানান: আজ জন্ম নিয়েছেন শান্তির আগমনী বার্তাবাহক। এই অলৌকিক সংবাদে মেষপালকেরা আলো অনুসরণ করে গোয়াাল ঘরে উপস্থিত হন। তাঁরা নবজাতক যিশুকে উপহার ও আশীর্বাদ প্রদান করেন।

    পরে পূর্বদেশ থেকে তিন জ্ঞানী তাঁকে দেখতে আসেন। যিশুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁরা উপহার দেন স্বর্ণ, কুন্দ্র (ধূপ) ও গন্ধরস যা প্রতীকীভাবে রাজত্ব, পবিত্রতা ও আত্মত্যাগকে নির্দেশ করে। এর পর থেকেই তাৎপর্যের দিকে থেকে যিশুর জন্মদিন বিশ্বব্যাপী বড়দিন উৎসব হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

    আনন্দ, ভালোবাসা ও সাম্যের বার্তা ছড়ায় বড়দিন: আজকের বড়দিন শুধু ধর্মীয় উৎসবের পরিসরেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানবতার এক সার্বজনীন বার্তা। ঘর সাজানো, ক্রিসমাস ট্রি, প্রার্থনা, কেক, উপহার বিনিময়, ক্যারোল গান সব মিলিয়ে বড়দিন পরিণত হয়েছে শান্তি, ভালোবাসা ও মিলনের এক উৎসবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অনেকেই এ দিনটিকে আনন্দ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ হিসেবে দেখে থাকেন।

    বাংলাদেশে বিভিন্ন গির্জায় ২৪ শে ডিসেম্বর গভীর রাতে শুরু হয় বড়দিনের মূল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। এই একই পর্ব অনুষ্ঠিত হয় পরের দিন ভোর বেলায়। মূল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পর শুরু হয় অন্যান্য সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা যা সারাদিনব্যাপী চলে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই নতুন পোশাক পরে, বড়দিনের কেক কাটা সহ পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করেন উৎসবের বিশেষ মুহূর্ত।

    শেষ কথা: যিশুখ্রিস্টের জন্মদিবস স্মরণে পালিত বড়দিন মানুষের মধ্যে শান্তি, ভালোবাসা, ক্ষমা ও সমতার শিক্ষা দেয়। অশান্ত বিশ্বে বড়দিনের এই বার্তা আরো বেশি প্রাসঙ্গিক যেখানে মানুষ খুঁজছে শান্তি ও সস্প্রীতির পথ। সবার জীবনে বড়দিন এনে দিক আলোর নতুন প্রত্যাশা।

    সংক্ষিপ্ত কবিতা
    গোয়াল ঘরে জন্ম নিলেন আমাদের ত্রাণকর্তা,
    চলো সবাই দেখি তাঁকে, জানাই গভীর সম্মান।
    অন্ধকারে আলো এনে দিলেন যিশু পৃথিবীজোড়া,
    বড়দিন তাই ভরে ওঠে প্রেমে নতুন জীবনের গান।

    (লরেন্স ডি. বিশ্বাস গ্লোরী স্কুল এ্যাণ্ড কলেজ -এর ৭ম শ্রেণীর ছাত্র এবং একজন ক্ষুদে শিল্পী ও লেখক)

  • নড়াইলে হারিয়ে যাওয়া ২৬টি মোবাইল ও নগদ টাকা উদ্ধার মালিকদের নিকট হ-স্তান্তর

    নড়াইলে হারিয়ে যাওয়া ২৬টি মোবাইল ও নগদ টাকা উদ্ধার মালিকদের নিকট হ-স্তান্তর

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে সিসিআইসি কর্তৃক হারিয়ে যাওয়া ২৬টি মোবাইল ও নগদ টাকা উদ্ধার মালিকদের নিকট হস্তান্তর। নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার’র প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (CCIC) উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলে কর্মরত চৌকস অফিসার এসআই (নিঃ) মোঃ জয়নুল আবেদীন, এসআই (নিঃ) মোঃ রাকিবুল হাসান ও এসআই (নিঃ) আলী হোসেনসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নড়াইল জেলার ৪টি থানা এলাকায় হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ও অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধার করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় নভেম্বর মাসে ছাব্বিশ টি হারানো মোবাইল ও বিভিন্নভাবে অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে খোয়া যাওয়া ৯২,০০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়। অদ্য মন্গবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল দশটার সময় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল কর্তৃক উদ্ধারকৃত বিভিন্ন মডেলের ২৬(ছাব্বিশ) টি স্মার্ট ফোন ও অনলাইন প্রতারণা মাধ্যমে খোয়া যাওয়া ৯২,০০০/- টাকা জনাব নূর-ই আলম সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, (প্রশাসন ও অর্থ) নড়াইল আনুষ্ঠানিকভাবে ভুক্তভোগীদের নিকট হস্তান্তর করেন।
    এসময় হারানো মোবাইল ফোন ও খোয়া যাওয়া টাকা ফেরত পেয়ে মালিকরা আনন্দে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। মোবাইল ও টাকা ফেরত পেয়ে ভুক্তভোগীরা বলেন, তারা এগুলো পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন, পুলিশ তাদের মোবাইল ও টাকা উদ্ধার করে আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। তারা তাদের মোবাইল ও টাকা খোয়া গেলে নিকটস্থ থানায় ঘটনার বিষয়ে জিডি করে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল, নড়াইল টিমের সাথে যোগাযোগ করেন। যার প্রেক্ষিতে তাদের হারানো মোবাইল ফোন ও টাকা উদ্বার করা হয়। তারা পুলিশ সুপার মহোদয় ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল, নড়াইলে কর্মরত সদস্যদের কাজ ও আন্তরিকতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
    উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আব্দুল খালেক, অফিসার ইনচার্জ, সিসিআইসি সহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল, নড়াইলে কর্মরত পুলিশ সদস্যবৃন্দ।

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।