মোঃ তরিকুল ইসলাম তরুন | কুমিল্লা
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন হায়দরাবাদ গ্রামে জমিতে মাটি ভরাটকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির জেরে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলা, মারধর ও নগদ অর্থ ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত দুইজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং হত্যার পর লাশ গুম করার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার শিকার মৃত জব্বর মিয়ার ছেলে সহিদ মিয়া (৪২), হায়দরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা, এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হায়দরাবাদ সামছুল হক কলেজের দক্ষিণ পাশে হারুন মিয়ার বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সহিদ মিয়ার খালাতো ভাই আলমগীর হোসেন মনির তার ক্রয়কৃত জমিতে মাটি ভরাটের উদ্দেশ্যে শ্রমিকসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় একই গ্রামের হারুন মিয়া, ময়নাল, হান্নান, দেলোয়ার, রুবেল ও আবু কালামসহ আরও ৪–৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সেখানে এসে কাজ চালিয়ে নিতে হলে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হান্নান মিয়ার হাতে থাকা ধারালো ছেনি দিয়ে আলমগীর হোসেনের মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আত্মরক্ষার সময় তিনি মাটিতে পড়ে গেলে ওই কোপ ভুক্তভোগী মো. বাবুর পায়ে লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই সময় ময়নালের হাতে থাকা লোহার রড এবং অন্য বিবাদীদের হাতে থাকা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার একপর্যায়ে বিবাদীরা মো. বাবুর পকেট থেকে ড্রেজার মেশিনে মাটি কাটার কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা নগদ ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় তারা ভবিষ্যতে চাঁদা না দিলে হত্যা এবং এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার হুমকি দেয়।
পরে আহতদের উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাজনিত ব্যস্ততার কারণে অভিযোগ দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদী সহিদ মিয়া।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনাস্থলের আশপাশের বাজার এলাকায় স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলে পুরো ঘটনার দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যাবে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হারুন মিয়ার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকের পরিচয় জানতে পেরেই চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগালি, কটু মন্তব্য করেন এবং একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। ঘটনার বিষয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়ে সাংবাদিকের প্রতি এমন আগ্রাসী আচরণ পেশাদার সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ প্রসঙ্গে বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কাদের বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়বস্তু গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Author: desk
-

চাঁদা প্র-ত্যাখান করায় স-ন্ত্রাস তা-ন্ডবে আহত সহিদ হাসপাতালে
-

মায়ানমারে পাচারের সময় ১,৫০০ পিস মশারী ও ১০৮টি নৌকার প্রপেলার জ-ব্দ এবং ৫ জন আ-টক
বান্দরবান থানচি প্রতিনিধি :মথি ত্রিপুরা।
বান্দরবানের থানচি উপজেলা বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ থানচি বাজার পোস্টের বিপরীত পাশে অবস্থিত জিনয়ং পাড়া এলাকায় একটি ট্রাক থেকে সাদা বস্তাবন্দী মালামাল সীমান্ত দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে দুটি নৌকায় তোলা হচ্ছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ৩৮ বিজিবি কর্তৃক দায়িত্বপূর্ণ সকল নৌ চেকপোস্টকে তৎপরতা জোরদারের নির্দেশনা প্রদান করে।
পরবর্তীতে আনুমানিক ১৫:৩০ ঘটিকায় বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের টেন্ডমুখ নৌ চেকপোস্টে সন্দেহভাজন নৌকা দুটিকে থামিয়ে তল্লাশি করা হলে ১৯টি বস্তায় মোট ১,৫০০ পিস মশারী এবং ১টি বস্তায় ১০৮টি নৌকার প্রপেলার ও চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত দুটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা জব্দ করা হয়। এ সময় নৌকায় থাকা ০৫ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানান যে, উদ্ধারকৃত মালামাল মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল। পরবর্তীতে বিজিবি কর্তৃক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ০৫ জন আসামী ও জব্দকৃত মালামাল থানচি থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পাচার রোধ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত রয়েছে। -

শুভ বড়দিন উপলক্ষে খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিজিবি বান্দরবান সেক্টর কমান্ডারের শুভেচ্ছা বিনিময়
বান্দরবান থানচি প্রতিনিধি : মথি ত্রিপুরা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি বহু জাতি-গোষ্ঠী ও বহু ধর্মের মানুষের আবাসভূমি। এই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার, বলিপাড়া জোন (৩৮ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত শান্তিরাজ মিশন, থানচি-তে শুভ বড়দিন–২০২৫ উপলক্ষ্যে এক আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিজিবি বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল, বিএসপি, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন। তিনি বড়দিনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, যিশু খ্রিস্টের শিক্ষা মানবপ্রেম, ত্যাগ ও শান্তির প্রতীক, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক ঐক্য এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে সেক্টর কমান্ডার মহোদয় শান্তিরাজ মিশন চার্চসহ পার্শ্ববর্তী চার্চসমূহের জন্য শুভেচ্ছা উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এতে স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি বলিপাড়া জোন (৩৮ বিজিবি) কর্তৃক দায়িত্বপূর্ণ এলাকার অন্যান্য খ্রিস্টান উপাসনালয়সমূহেও শুভ বড়দিন উপলক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ও ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিবির নিয়মিত মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সেক্টর কমান্ডার বান্দরবান তাঁর বক্তব্যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং বলেন, বিজিবি ভবিষ্যতেও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় মানবিক ও পেশাদার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বলিপাড়া জোন (৩৮ বিজিবি)-এর জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস (পদাতিক), জোনের অন্যান্য অফিসারবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ। সার্বিকভাবে, এই শুভেচ্ছা বিনিময় ও সহায়তা কার্যক্রম পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক ঐক্য ও পারস্পরিক বিশ্বাস সুদৃঢ় করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট সকলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। -

চিকিৎসার অ-ভাবে চোখের বাম পাশে বি-রল টিউমার, মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন রিকশাচালক মোতালেব
মিঠুন সাহা, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব পেশায় একজন রিকশাচালক। শৈশবকাল থেকে তার চোখের বাম পাশে একটি টিউমার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিউমারটি ভয়াবহ আকার ধারণ করে ডান চোখটি প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলেছে।
গত ২৫ ডিসেম্বর সকাল ১১টার দিকে কাজীর দেউরি এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক মিঠুন সাহার নজরে পড়েন মোতালেব । স্বউদ্যোগে তার শারীরিক অবস্থার কথা জানতে চাইলে তিনি নিজের জীবনের এই করুণ বাস্তবতার কথা জানান।
আবদুল মোতালেব জানান, ছোটবেলায় টিউমারটি ধরা পড়লেও পরিবারের চরম আর্থিক অনটনের কারণে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিউমারটি বড় হলেও টাকার অভাবে কোনো উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেননি তিনি।
বর্তমানে শারীরিক কষ্ট, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা ও সামাজিক অবহেলার মাঝেও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন রিকশা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন শাহাদাত। তার এই অবস্থা যে কোনো মানবিক হৃদয়কে নাড়া দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, সঠিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এখনো তার অবস্থার উন্নতি সম্ভব হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ, যা তার পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব।
এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেছেন শাহাদাত ও তার পরিবার, যাতে তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
-

বগুড়া শাজাহানপুরে জেএসডি নেতা মামুনের মায়ের ই-ন্তেকাল
মিজানুর রহমান মিলন,
শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি :বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া বাজার এলাকার রহিমাবাদ গ্রামের কৃতি সন্তান জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মামুনুর রশীদ মামুনের মমতাময়ী মা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ৯ ডিসেম্বর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলছিল। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৩টায় তিনি নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তিনি ২ ছেলে, ২ মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় রহিমাবাদ গ্রামে তার নিজ বাড়িতে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। -

স্বরূপকাঠিতে পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর গ্রে-ফতার
নেছারাবাদ সংবাদদাতা, পিরোজপুর।।
স্বরূপকাঠি পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মিঠুন আর্চায্য অনুজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গতকাল রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত মিঠুন আর্চায্য অনুজ স্বরূপকাঠি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এবং স্বরূপকাঠি পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি স্বরূপকাঠি পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং নারায়ণ চন্দ্রের ছেলে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, কিছু দিন যাবত তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মেহেদি হাসান জানান, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।নেছারাবাদ সংবাদদাতা,
মোঃ আনোয়ার হোসেন। -

রাজনপুর আদর্শ গ্রাম তৈরি করে এলাকাবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত রোটারিয়ান ইকবাল হোসেন
হারুন অর রশিদ দোয়ারাবাজার থেকেঃ
সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্নে বিভোর একজন তরুণ সমাজকর্মী ও সংগঠক সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের রাজনপুর গ্রামের ক্লিন ভিলেজ গ্রীণ ভিলেজ এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কানাডা প্রবাসী রোটারিয়ান মো. ইকবাল হোসেন। তিনি ইতিমধ্যে তার মরহুম বাবার নামে “আবুল হোসেন ফাউন্ডেশন” গঠন করেছেন যা মুলত শিক্ষা, স্বাস্থ্য,সমাজ উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবে।গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও একটি আদর্শ গ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রযুক্তি ও নৈতিকতা—এই পাঁচটি স্তম্ভকে ভিত্তি করে তিনি গড়ে তুলতে চান একটি টেকসই ও মানবিক সমাজ।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ) সরেজমিনে রাজনপুর গ্রামে উপস্থিত হয়ে দেখা যায় কানাডা প্রবাসী রোটারিয়ান ইকবাল হোসেন এর নিজস্ব অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় রাজনপুর আদর্শ গ্রামের কাজ শেষের পথে।
আদর্শ গ্রামে যা নির্মান করা হয়েছে, গ্রামের প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে প্রতিটা বাড়ির ঘরের সৌন্দর্য বর্ধন। পরিষ্কার পরিছন্ন রাস্তাঘাট, নবীন প্রবীণদের বসার স্থান। যাত্রী ছাউনি, বাথরুম, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ওয়াশরুম। প্রতি বাড়ীর সামনে ডাস্টবিন। শিশুদের খেলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা।কর্মসংস্থানের লক্ষে সেলাই প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করা। ফ্রি কোচিং এর ব্যবস্থা করা। গরীব অসহায়দের ঘর নির্মাণ,সাকো, কালভার্ট,নৌকা ইত্যাদির ব্যবস্থা, খাদ্য সহায়তা করার ব্যবস্থা, লাইব্রেরী ও বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র, গ্রামকে শতভাগ শিক্ষিত করা।
ইকবাল হোসেনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা একটি প্রত্যন্ত গ্রামে হলেও, তার চিন্তা ও কর্মে ফুটে উঠেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তিনি সুদূর কানাডায় বসেও নিজের গ্রামকে আদর্শ গ্রামে রূপ দিয়েছেন।
ইতিমধ্যে তিনি তার ছোট ভাই মো. সাখাওয়াত হোসেন এর সার্বিক সহযোগিতায় রাজনপুর আদর্শ গ্রামের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শেষ করেছেন।
রাজনপুর গ্রামের হবিবুর রহমান বলেন, ইকবাল হোসেন আমাকে বসবাসের জন্য একটি ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। আমার মতো বহু মানুষকে ঘরবাড়ি তৈরি করে দিছে। আমি তার সুন্দর জীবন কামনা করি।
সাংবাদিক আলাউদ্দিন বলেন, কানাডা প্রবাসী রোটারিয়ান ইকবাল হোসেন একজন পরোপকারী মানুষ। করোনা, বন্যায় হাজার হাজার মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা ও ঘরবাড়ি বানিয়ে দিয়েছেন।
আদর্শ গ্রাম নিয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে ইকবাল হোসেন বলেন, “আমি চাই এমন একটি গ্রাম গড়ে তুলতে, যেখানে মানুষ হবে স্বাবলম্বী, শিক্ষিত ও নৈতিকতাসম্পন্ন। শুধু আমার বাড়ী বাগান বাড়ি নয়, আমার পুরো গ্রামই হবে আলোকিত। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই আমার মূল লক্ষ্য।”
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, আসা যাওয়ার সময় দেখা রাজনপুর একটি দৃষ্টিনন্দন গ্রাম।
স্থানীয়দের ধারনা ইকবাল হোসেনের স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া। একদিন রাজনপুর নয়, এই আদর্শ গ্রামের মধ্য দিয়ে সারা উপজেলার দৃষ্টি পরিবর্তন হবে।
-

আলোচিত জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী কোটি টাকা মা-মলা বাণিজ্য করায় গ্রে-ফতার
হেলাল শেখঃ মানুষের সাথে ব্ল্যাকমেইল, গণহত্যাকে পুঁজি করে রাজধানী ঢাকা ও সাভার আশুলিয়ায় কোটি কোটি টাকা মামলা বাণিজ্য করছে নারী ও পুরুষ প্রতারক সিন্ডিকেট সৈরাচারমুক্ত সুবিধাবাদ বিরোধী এক্সপ্রেস ব্যবহারকারীরা। কোটি টাকা মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) গভীর রাতে গাজীপুরের টঙ্গীর নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জুলাই আন্দোলন- সংক্রান্ত মামলার ভয় দেখিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল পরিচিতি পাওয়া তাহরিমা জান্নাত সুরভী। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটি বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে মোট প্রায় ৫০ কোটি টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যা মামলায় নাম জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে অর্থ আদায় করা হয়। মামলার আসামি বানানো, পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতারের আশঙ্কা দেখিয়ে এবং পরে ‘মীমাংসা’ করে দেওয়ার প্রলোভনে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।
তাহরিমা জান্নাত সুরভী গাজীপুর ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও টার্গেট করা লাইভের মাধ্যমে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
প্রেমের টানে চাঁদপুরে এসে কিশোরীকে নিয়ে হোটেলে চীনা নাগরিক, অতঃপর টাকা আদায় করে। পুলিশ আরও জানায়, নিজের ভাইরাল পরিচিতি ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতেন এবং পরবর্তীতে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জানায়। এ দিকে সাভার ও আশুলিয়ায় গণহত্যার সাথে জড়িত ৫-৬টি মামলার আসামি সায়েব আলী জলিল, রবিউলসহ ভুয়া বাদী সেজে একাধিক ভুয়া মামলা করে মামলা বাণিজ্য জমজমাট ভাবে করছে। ভুয়া মামলার ভুয়া বাদীদেরকে পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার করলে শত শত সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে রেহাই পাবে বলে দাবি করেন সচেতন মহল।
-

দীর্ঘ দেড় যুগ পরে তারেক রহমান ঐতিহাসিক ভাবে দেশের মাটিতে পা রেখেছেন
হেলাল শেখঃ দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঐতিহাসিক ভাবে মাতৃভূমির মাটিতে পা রেখেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে এসেছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।
তাদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫) বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা। এ সময় ছিলেন তারেক রহমানের পরিবারের সদস্যরাও।
বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান সরাসরি রাজধানীর কুড়িল সংলগ্ন পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন।
সংবর্ধনা শেষে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে গুলশান-২ এর ১৯৬ নম্বর বাড়িতে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।
বিতর্কিত ‘ওয়ান-ইলেভেন’ সরকারের সময় গ্রেফতার করা হয় তারেক রহমানকে। পরে ২০০৮ সালে কারামুক্ত হয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান একাধিকবার দেশে এলেও তারেক রহমানের ফেরা হয়নি।
আজকের এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ নির্বাসনের অধ্যায়ের অবসান ঘটলো।
-

দেশে যেকোনো মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে-তারেক রহমান
হেলাল শেখঃ দেশে যেকোনো মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর পূর্বাচলে ৩০০ ফিটে গণসংবর্ধনার মঞ্চে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, যে কোনো মূল্যে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে, আমরা শান্তি চাই। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। কারো উস্কানিতে পা দেওয়া যাবে না।
তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৭১’এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে তেমন সর্বস্তরের মানুষ, সবাই মিলে এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিলো। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়।
তিনি বলেন, আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে পাহাড়ের, সমতলের, মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই আছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, পুরুষ, শিশু যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে, যেন নিরাপদে ফিরতে পারে। তিনি বলেন, আমি আপনাদের সামনে বলতে চাই আই হ্যাভ এ প্ল্যান। আমি এই প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে চাই।
এর আগে দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের দেওয়া সংবর্ধনা গ্রহণ শেষে তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাসে ওঠার আগে তারেক রহমান জুতা খুলে মাটিতে পা রাখেন এবং হাতে একমুঠো মাটি নেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
এরআগে তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে বিমানবন্দরে বরণ করে নেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বিমানবন্দর ত্যাগের পর লাল ও সবুজ রঙের বিশেষ বাসে করে তারেক রহমান পূর্বাচলের উদ্দেশে রওনা হোন।