Author: desk

  • বেনাপোলে সাংগঠনিক সফরে  কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না

    বেনাপোলে সাংগঠনিক সফরে  কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না

    আজিজুল ইসলাম,  বেনাপোল প্রতিনিধি: জাতীয়তাবাদি যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না  সাংগঠনিক কাজে  বেনাপোলে বন্দর এলাকা  সফর করেছেন। এসময় তিনি  শার্শা উপজেলা  যুবদলের নেতৃবেন্দের সাথে কয়েকটি স্থানে মত বিনিময় সভা করেন। 

    সোমবার বিকাল ৩ টায় বেনাপোল পৌছে প্রথমে তিনি বেনাপোল বলফিল্ডের সামনে পথ সভায়  দলীয় নেতা,কর্মীদের উদ্দেশ্য সাংগঠনিক বক্তব্যে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন। 

    পরে বিকাল ৪ টায় তিনি বেনাপোল সীমান্তে যান। এসময়  শার্শা উপজেলা যুবদলের আহবাহক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিমকে সাথে নিয়ে সেখানে  অবস্থানরত উপজেলা  যুবদলের নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এসময় সেখানে উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের নেতৃবিন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

    পথসভায় বক্তব্যে যুবদল কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে বাংলার ছাত্র,জনতা নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। আজ নতুন করে দেশ স্বাধীনতা পেয়েছে। এ স্বাধীনতা আমাদের যে কোন মুল্যে রক্ষা করতে হবে। কোন নেতা কর্মী অনৈতিক কর্মকান্ড কিংবা অপকর্মে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমান্ত এলাকায় অনেক অনৈতিক কাজের সুযোগ রয়েছে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে যেন কেউ দলের সুনাম ক্ষুন্ন না করে সেদিকে সকল নেতা কর্মীকে সজাগ থাকতে আহবান জানান। এসময় তিনি আরো বলেন,  জিয়া পরিবার কখনো অন্যায়ের সাথে আপস করেনি। আমরা কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাইনি। ছাত্র জনতার অভ্যত্থানে ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগ সরকার ও তাদের দোসররা  এত পরিমান অপরাধ করেছে গ্রেফতার আতঙ্কে তারা আগেই দেশ থেকে পালিয়েছে।  তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী শক্তি কিংবা ভয় দেখিয়ে নয়, ইনসাফ উদারতা দিয়ে মানুষের মন জয় করুন এবং তাদের ভালবাসা অর্জন করুন।

    পথসভায় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা যুবদলের সভাপতি এস এম তমাল,সাধারন সম্পাদক আনসারুল হক রানা, পৌর যুবদলের আহবাহক মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, সদস্য সচিব রায়হানুজ্জামান দিপু প্রমুখ।

  • মধুপুরে সালাম পিন্টুুর মুক্তির দাবিতে  বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

    মধুপুরে সালাম পিন্টুুর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

    আঃ হামিদ মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী এড. আব্দুস সালাম পিন্টুর মুক্তির দাবিতে টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    মধুপুরের আব্দুস সালাম পিন্টু মুক্তি পরিষদের আয়োজনে সোমবার ২১ অক্টোবর বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ আলী’র মধুপুর দলীয় কার্যালয় হতে তার সমর্থিত নেতা কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারও দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়ে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন সাবেক উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আঃ মান্নান, সাবেক উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মাসুম, সাবেক উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোশাররফ হোসেন মনি সরকার, সাবেক পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আঃ রহমান, সাবেক পৌর মহিলা দলের সভাপতি সোনিয়া আকন্দ। এসময় বিএনপি, যুবদল,মহিলা দল,ছাত্রদল সহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • রংপুর এর পরীক্ষাগার আন্তর্জাতিক মানে    উন্নীতকল্পে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা

    রংপুর এর পরীক্ষাগার আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকল্পে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা

    বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর এর কনফারেন্স রুমে ১৯.১০.২০২৪ ও ২০.১০.২০২৪ দুইদিন ব্যাপী ওঝঙ/ওঊঈ ১৭০২৫ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন জনাব গাজী মোঃ নুরুল ইসলাম, পরিচালক (রসায়ন) ও কোয়ালিটি ম্যানেজার, বিএসটিআই, ঢাকা। প্রশিক্ষণে আরো রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীফ মোহাম্মদ সৈয়দুজ্জামান, উপপরিচালক (রসায়ন) ও ডেপুটি কোয়ালিটি ম্যানেজার এবং ডঃ শাহেদ রেজা, সহকারী পরিচালক (রসায়ন)। এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ২০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করে। প্রশিক্ষণের সাথে সাথে বর্তমান খধনড়ৎধঃড়ৎু’র ওহঃবৎহধষ অঁফরঃ সম্পন্ন করে আন্তর্জাতিক মানে উন্নতী করণে প্রয়োজনীয় সকল পরামর্শ প্রদান করেন।
    প্রকৌঃ মুবিন-উল-ইসলাম, উপপরিচালক (পদার্থ) ও অফিস প্রধান, বিএসটিআই, রংপুর খধনড়ৎধঃড়ৎু’র অপপৎবফরঃধঃরড়হ সনদ অর্জনে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন এবং পরিচালক (রসায়ন) মহোদয়কে বিএসটিআই, রংপুর এর পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

  • যশোরের শার্শা উপজেলার  মৌতা বাওড়ের ওপর ব্রীজ নির্মানের দাবী

    যশোরের শার্শা উপজেলার  মৌতা বাওড়ের ওপর ব্রীজ নির্মানের দাবী

    আজিজুল ইসলামঃ যশোরের  শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের মৌতা বাওড়ের ওপর নির্মিত কাঠ ও বাঁশের তৈরী  স্যাকোটি অতি বৃষ্টির কারণে ভেঙ্গে গেছে। ফলে শত শত লোকের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। 

    মৌতা বাওড়ের এপারে বেলতা ও ওপারে পন্ডিত পুর। এই মৌতা বাওড়ের ওপর দিয়ে শার্শা, চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলার শত শত মানুষ যাতায়াত করে থাকে।

    বেলতা ঘাট এখন জনশুন্য।  এখানে কাঠ-ঁবাশ দিয়ে  নির্মিত ঁশাকোর উপর দিয়ে প্রতি দিন  চলাচল করত শত শত মোটর সাইকেল, বাই সাইকেল , রিক্সা-ভ্যান, অজস্র নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর  এবং  স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা। –   আজ সেখানে জনশুন্য। চলতি বর্ষা মৌসুমে অধিক বৃষ্টি পাত হওয়ার কারনে পানির স্রোতে শাকোটি ভেঙে গেছে। ফলে স্থানটি সম্পূর্ণ যাতায়াতের অনুপোযুক্ত হয়ে পড়েছে। তার পর ও অতি বিশেষ প্রয়োজনের তাগিদে  একমাত্র কলা গাছের ভেলা দিয়েই মানুষ জন পারাপার হচ্ছে। ইতিপূর্বে  অনেক বারই বেলতা ঘাটের ব্রিজ নির্মাণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু অদ্যাবধি ব্রিজটি নির্মিত হইনি। জন গুরুত্বপূর্ণ বেলতা ঘাটে স্থায়ী ভাবে ব্রিজ নির্মাণ  একান্তই  জরুরী। সে মর্ম্মে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এলাকাবাসী। 

    উল্লেখ্য – স্থানীয় উদ্যোগে নির্মিত ঁশাকোটি দীর্ঘদিন বজায় ছিল। এখন ওটি নষ্ট  হয়ে যাওয়াতে স্থানীয় ওকজন নিরাশ হয়ে পড়েছেন। অনেক পথ ঘুরে মানুষজন যাতায়াত করছেন।

    এখানে ব্রীজ নির্মান সময়ের দাবী।

    এলাকাবাসী জরুরী ভিত্তিতে মৌতাত বাওড়ের ওপর ব্রীজ নির্মানের জন্য শার্শা উপজেলা প্রশাসন সহ উর্ধতন  কর্তৃ পক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

  • গৌরনদীর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে ডাক্তার না থাকায় ভোগান্তিতে মা ও শিশুরা

    গৌরনদীর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে ডাক্তার না থাকায় ভোগান্তিতে মা ও শিশুরা

    কে এম সোহেব জুয়েল ঃ বরিশালে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে ডাক্তার না থাকায় ভোগান্তিতে পরছেন এলাকার গর্ভজনিত রুগি ও শিশুরা।

    ২০ অক্টোবর রবিবার বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মিয়ারচর গ্রামে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মানাধীন ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার ও প্রয়োজন মাফিক অফিস স্টাফ না থাকায় ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে এলাকার গর্ভ জনিত মা ও শিশুদের। সরজমিনে ঘুরে এমনটিই লক্ষ করা গেছে।

    স্হানীয় গর্ভজনিত অনেকের মধ্যে খাদিজা বেগম বলেন, সেবা কেন্দ্রটিতে মেডিকেল অফিসার ও পর্যাপ্ত পরিমান লোকবল না থাকায় স্হানীয় গর্ভজনিত মা ও শিশুদের শহর এলাকায় চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে গিয়ে যোগাযোগের দুরাবস্থার কারনে কাউকে আবার মৃত্যুর কোলে ঢলে পরতেও দেখা গেছে। সেকমো মোঃ আবির হোসেন (অতিরিক্ত) কে দিয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার দায়সারা কাজ করানো হচ্ছে বলে এমন মন্তব্য করেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

    অপরদিকে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের একাধিক কর্মরতদের মধ্যে পরিবার কল্যান কেন্দ্রের পরিদর্শক এফ ডব্লিউ ভি ঝুমকা বলেন, গর্ভ জনিত রুগিদের সঠিক সেবা ও চিকিৎসা দেয়ার ইচ্ছে থাকলেও মেডিকেল অফিসার নিয়োগ না থাকার কারনে সঠিক ভাবে চিকিৎসা দিতে পারছেননা তিনি। তাই অতি দ্রুত মেডিকেল অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে সঠিক চিকিৎসা ফিরে দিতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনাও করছেন তিনি। অপর দিকে জমি দাতা বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও দানবীর মোঃ শাহালম হাওলাদার বলেন, বর্তমান বাজার দরে অর্ধ র্কোটি টাকার জমি দান করেও আশানুরূপ সুফল দেখতে পাচ্ছেননা তিনি, মেডিকেল অফিসার না থাকার করনে রুগিদের সমাগম শুন্যতায়। ভিন্ন দিকে ভবন গুলিও জরাজীর্ণতায় ধংশের দার প্রান্তে পৌছেছে প্রায়। তাই এই মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে অতি দ্রুত মেডিকেল অফিসার নিয়োগ করে কেন্দ্রের জৌলুস ফিরে আনতে কর্তৃ পক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জমি দাতা মোঃ শাহালম হাওলাদার।

    অপর দিকে, ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ওয়ার্ড বয় মোঃ সাইফুল ইসলাম, এম এল এস এস রবিন, আয়া হসিনা আক্তার, ক্লিনার নিরাঞ্জন ঘোষ, সহকারী নার্স তানজিলা আক্তার বলেন, ৫/৬ মাসের বেতন ভাতা না পাওয়ায় স্ত্রী পরিজন নিয়ে নিদারুন দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। এবং আউট সোর্সসিং থেকে মুখ ঘুরিয়ে সরকারী করন করে যথা নিয়মে বেতন ভাতা পেতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সহ সরকারের সর্ব মহলে হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ওই কেন্দ্রের ভুক্তভোগী ৪ র্থ শ্রেনীির কর্মচারিরা।

  • রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমীতে অনিবার্য কারনে এএসপিদের কুচকাওয়াজ স্থগিত

    রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমীতে অনিবার্য কারনে এএসপিদের কুচকাওয়াজ স্থগিত

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর সারদায় ৪০তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষ মুহূর্তে এসে স্থগিত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই রাজশাহীতে পৌঁছান অর্ন্তবতীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তবে শেষ পর্যন্ত কুচকাওয়াজ হয়নি। এ বিষয়ে কোনো কথাও বলেননি উপদেষ্টা।

    রোববার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন উপদেষ্টা। ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি বাজারদর ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। এএসপিদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ স্থগিতের বিষয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে বলেন, ‘ওটা ক্লিয়ার করা হইছে। অনিবার্য কারনে স্থগিত করা হয়েছে। ভাল থাকেন। এই বলেই ব্রিফিং শেষ করে চলে যান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ময়নুল ইসলামসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
    বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে এএসপিদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণসহ কয়েকটি সফরসূচি নিয়ে রাজশাহী এসেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। গতকাল শনিবার রাতেই তিনি পুলিশ একাডেমি পৌঁছান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন। হঠাৎ রাতেই রোববার সকালের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ স্থগিত করার কথা জানানো হয়। ‘অনিবার্য কারণবশত’ কুচকাওয়াজ স্থগিত করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। অনিবার্য কারণ কী তা স্পষ্ট করা হয়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নও এড়িয়ে গেলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

    সাধারণত বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তারা সারদায় পুলিশ একাডেমিতে এক বছরের মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তাঁদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়। এরপর তাঁরা মাঠপর্যায়ে কাজের সুযোগ পান।
    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৪০ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ব্যাচে অন্তত ৬২ জন ছাত্রলীগ নেতা নিয়োগ পান বলে অভিযোগ উঠেছে।
    তাঁদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অতিথি হতে পুলিশ একাডেমির পক্ষ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। গতকাল শনিবার রাতে সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে ফেসবুকে পোস্ট দেন তিনি।

    আমন্ত্রণপত্রের ছবিতে লাল ক্রস এঁকে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘দাওয়াতটা স্বজ্ঞানে প্রত্যাখ্যান করছি! কারণ, এক. এই ৬২ জন এএসপি হাসিনার আমলে নির্বাচিত হইছে। আর কত চুলচেরা বিশ্রেষণ করে বিসিএস (পুলিশ)এ নিয়োগ হতো তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ব্যক্তি আমার জায়গা থেকে তাই উক্ত প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার পক্ষপাতী নই। তাদের ব্যাপারে তদন্ত হয়েছে কি না!’
    তিনি লেখেন, ‘কোনোরকম তদন্ত ছাড়াই আওয়ামী লীগের দোসরদের এএসপি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের ভাইদের মৃত্যুর মিছিল এখনো চলছেই। এমতাবস্থায় এই দোসরদের নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া মানে শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানী করা। তাই আমি উক্ত অনুষ্ঠানের একজন আমন্ত্রিত অতিথি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক হিসেবে এই অনুষ্ঠান প্রত্যাখ্যান করলাম।

    আমন্ত্রণপত্র বিতরণের পরও রাতেই কুচকাওয়াজ স্থগিতের বিষয়টি জানতে পেরে ফেসবুকে আরেকটি স্ট্যাটাস দেন সালাউদ্দিন আম্মার। তিনি লেখেন, ‘প্রোগ্রাম ক্যান্সেল করেছে পুলিশ একাডেমি সারদা। গত কিছুদিন ধরে চলা অনুষ্ঠান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা গতকাল থেকেই রাজশাহীতে থাকার পরও মাত্র জানালো ক্যান্সেল করা হয়েছে। কিছু বুঝলেন? আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের আমরা কখনো গ্রহণ করবো না। তদন্ত হোক পরে যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগ পাক।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • পলাশবাড়ীতে শ্রমিক ইউনিয়নের নবগঠিত কমিটির প্রথম সভা

    পলাশবাড়ীতে শ্রমিক ইউনিয়নের নবগঠিত কমিটির প্রথম সভা

    আমিরুল ইসলাম কবির,
    স্টাফ রিপোর্টারঃ

    গাইবান্ধা জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নবগঠিত কমিটি ( রেজিষ্ট্রেশন নং ৪৯৪) এর প্রথম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রোববার সন্ধ্যায় পলাশবাড়ী পৌর শহরের তিনমাথা মোড়স্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোশফেকুর রহমান রিপনের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোত্তালিব সরকার বকুলের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন,সাবেক সভাপতি আব্দুস সোবহান বিচ্ছু,সহ সভাপতি আজাহার আলী,সহ-সাধারণ সম্পাদক সাজু মিয়া,সিনিয়র সড়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম,সড়ক সম্পাদক মিন্টু মিয়া,কার্যকরী সভাপতি খাজা মিয়া,প্রচার সম্পাদক রাজা মিয়া,ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল জলিল,ধর্মীয় সম্পাদক হাফেজ মুহা. নুরুল ইসলাম,কার্যকরী সদস্য লুৎফর রহমান ও দপ্তর সম্পাদক আরিফ মিয়া প্রমুখ।

    শেষে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন,ধর্মীয় সম্পাদক হাফেজ মুহা নুরুল ইসলাম।।

  • পঞ্চগড়ে জালিয়াতি মামলায় মাদ্রাসা সুপার ও শারিরীক শিক্ষক কারাগারে

    পঞ্চগড়ে জালিয়াতি মামলায় মাদ্রাসা সুপার ও শারিরীক শিক্ষক কারাগারে

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় জাল-জালিয়াতির মামলায় ভুটুজোত পাঠানপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল আজিজ ও শারীরিক শিক্ষক তরিকুলসহ ১৯জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

    গত সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ পঞ্চগড়ে জামিনের জন্য হাজিরা দিতে গেলে ২৩ জনের মধ্যে ১৯ জনকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং ৪ জনের জামিন মঞ্ছুর করেন আদালত।

    জানা যায়, উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের মানিকডোবা গ্রামের মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে ফারুক হোসেন গত ২০২২ সালের জুলাই মাসে দুটি ঘটনাস্থলে সিআর ৬২৭/২২পি (সদর) নং জাল জালিয়াতির মামলা আনায়ন করেন। এরপর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১, (সদর) তদন্তের জন্য পঞ্চগড় সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

    আরও জানা যায়, সিআর ৬২৭/২২পি (সদর) নং মামলার ঘটনার পর গত ২০০৮ সালের দিকে বিজ্ঞ তেঁতুলিয়া সহকারী জজ আদালত পঞ্চগড়ে ১৮৩/২০০৮ নং স্বত্ত্বের মামলা হলে পরবর্তীতে তাহা আপোষ মীমাংসার জন্য দুটি পৃথক সোলেনামা দাখিল করা হয়। ১ম সোলেনামাটি গত ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৩তারিখ সকল বাদীপক্ষ ও স্বত্ত্বের ওই মামলার ২২ থেকে ৪০নং বিবাদীপক্ষ আদালতে সোলেনামা দাখিল করেন। ২য় সোলেনামাটি গত ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২৯তারিখ ১ থেকে ২২ নং বাদীপক্ষ ও স্বত্ত্বের ওই মামলার ১ থেকে ২১ নং বিবাদীপক্ষ সোলেনামা আদালতে দাখিল করেন। সোলেনামা দাখিলের ভিত্তিতে গত ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২৯তারিখে রায় ও ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসের ২তারিখে মামলাটির ডিক্রী হয়। এরপর বাদী ১৮৩/২০০৮ (স্বত্ত্ব) মোকদ্দমার জবেদা নকল প্রাপ্ত হয়ে জানতে পারেন যে, ২২জন বাদী হয়ে উক্ত মোকদ্দমা আনায়ন করেছিলেন। মামলার মূল আরজী ও সোলেনামায় থাকা বাদী পক্ষের ১ হতে ২২ জনের মধ্যে ১নং ক্রমিক শামসুদ্দিন গত ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসের ৬তারিখ মৃত্যুবরণ করেন, ১১নং ক্রমিক মোছা. জামিলা খাতুন গত ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসের ১৭তারিখ মৃত্যুবরণ করেন, ১৭নং ক্রমিক মোছা. মশিরন বেগম ওরফে নান্দুরী বেওয়া গত ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসের ৩তারিখ মৃত্যুবরণ করেন। শামসুদ্দিন মারা যাওয়ার ১বছর ৪মাস ২৩দিন হলেও বাদীর পিতা ও তার ওয়ারিশ গণের স্বাক্ষর জাল করে দুটি সোলেনামা প্রস্তুত করে তাহা খাঁটি হিসেবে ব্যবহার করায় এবং হস্তলিপি/হস্তরেখা বিশারদ দ্বারা পরীক্ষা করে মতামতের প্রেরণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ রাজশাহী সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ফরেনসিক) বরাবরে প্রেরণ করা হলে বিভাগীয় ফরেনসিক ল্যাবরেটরি রাজশাহী ৪জনের বিষয়টি নিশ্চিত করায় ও সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ার আদালত আসামীদের কারাগারে প্রেরণ করেন।

    কারাগারে যাওয়া মাদ্রাসা সুপারের পরিবারের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ষড়যন্ত্র মূলকভাবে আব্দুল আজিজকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে কোনো জাল স্বাক্ষর করেন নাই। ২০০৮ সালের মামলায় বাদীর পিতা ও তার চাচার সঙ্গে ২০১৩ সালে ১০ হাজার টাকা দিয়ে আপোষ মীমাংসা করেছি। তার পরেও তারা আজ অন্যায়ভাবে একজন সম্মানি ব্যক্তিকে সমাজে অপমানিত করছে।

    এদিকে বাদীর পরিবার বলেন, আব্দুল আজিজের পরিবারকে আপোষ করার জন্য বলা হলে তারা মামলাকে হেয় পতিপন্ন ভেবেছিল।

    ভুটুজোত পাঠানপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার জিয়াউর রহমান বলেন, তিনি যতটুকু জানতে পেরেছেন জমাজমি সংক্রান্ত বিষয়ে সুপারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সুপার একজন খুবই ভালো মানুষ। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবগত রয়েছেন কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ইউএনও মহোদয়কে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানের দিন জানিয়েছি।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফজলে রাব্বি বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত আছেন। ওই মাদ্রাসার সুপারের প্রত্যয়নপত্র নিতে কয়েকজন শিক্ষক এলে তাদের প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হয়েছে। তবে যতটুকু জানতে পেরেছি ওই সুপারকে জমাজমি সংক্রান্ত বিষয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • তানোরে ওয়ার্ড বিএনপির মতবিনিময়

    তানোরে ওয়ার্ড বিএনপির মতবিনিময়

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরের কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দিন-এর হাত শক্তিশালী করতে ওয়ার্ল্ড বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়েছে।
    জানা গেছে,গত অক্টোবর রোববার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হজরত আলী।অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন কলমা ইউপি বিএনপির সম্পাদক মানিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজ উদ্দিন, ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি আলমগীর হোসেন,৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি মোজাম্মেল হক,৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি সেলিম রেজা, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য রনজু আহমেদ ও উপজেলা জিয়া মঞ্চ আহ্বায়ক রাসেল রানাপ্রমুখ।

  • দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক হাজার কোটি টাকার সুপারি যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় বাড়ছে বাণিজ্যিক চাষাবাদ

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক হাজার কোটি টাকার সুপারি যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় বাড়ছে বাণিজ্যিক চাষাবাদ

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির বিশেষ প্রতিনিধি:বিশ্ব ঐতিহ্য বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের উপকূলীয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার নামে খ্যাত উর্বর ভূমি বাগেরহাটের দিন দিন বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে সুপারির চাষ। ইতোমধ্যে নয় উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সুপারির হাট জমে উঠেছে। মোরেলগঞ্জের স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সুপারি যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় আড়ৎ সৈয়দপুরে। ওখান থেকেই স্থানীয় পাইকাররা সুপারি কিনে সরবরাহ করছে উত্তরের ১৬ জেলায়। জানিয়েছেন স্থানীয় সুপারি ব্যবসায়ীরা।

    বাগেরহাটের নয় উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলায় সুপারির ফলন ভাল হয়। তার মধ্যে মোরেলগঞ্জ উপজেলা অন্যতম। তাই এ উপজেলার ছোট বড় বিভিন্ন হাটকে সামনে রেখে উপজেলার প্রায় ১ হাজার মৌসুম ব্যবসায়ীরা ব্যস্তসময় পার করছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছরে সুপারির দাম বেশি তাই বেশ খুশি স্থানীয় সুপারি চাষিরা। সুপারির ফলন ভালো হওয়ায় ও বাজাওে সুপারির দাম ভালো থাকায় জেলার চাষিরা দিনে দিনে সুপারি চাষে আগ্রহী হচ্ছে।বাগেরহাট নারকেল, সুপারি ও চিংড়ি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। এবার এ জেলায় সুপারির ফলনও হয়েছে ভালো। গেল কয়েক বছরের মধ্যে এবারই সব থেকে বেশি সুপারি হয়েছে। তবে সুপারির বাম্পার ফলন হলেও, হাসি নেই কৃষকের মুখে।

    গেল বছরের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে সুপারির দাম। যার কারণে লোকসানে পড়তে হচ্ছে ইজারা নেওয়া বাগান মালিকদের। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় গৃহস্থ কৃষকেরাও পড়েছেন বিপাকে। ব্যবসায়ীদের দাবি, শুকনো সুপারি আমদানি, হরতাল-অবরোধ ও নিম্নমুখী অর্থনীতির কারণে খুচরো বাজারে সুপারির দাম কমেছে।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলায় ৩ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে সুপারির চাষ হয়েছে। এতে প্রায় ২৬ হাজার ১২৩ টন সুপারি উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্য এক হাজার কোটি টাকার বেশি। দিনদিন সুপারির চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলায় উৎপাদিত এসব সুপারি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় বড় বাজারে বিক্রি হয়।

    ব্যবসায়ীরা এই সুপারি ক্রয় করে পাঠান দেশের বিভিন্ন বড় শহরে। রপ্তানিও হয়ে থাকে সামান্য কিছু। অবশিষ্ট সুপারি পানিতে ভিজিয়ে এবং শুকিয়ে অফসিজনে চড়া দামে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা।

    যে-সব বাজারে সব থেকে বেশি সুপারি বিক্রি হয়, তার মধ্যে কচুয়া উপজেলার বাধাল বাজার অন্যতম। বাধাল বাজারে হাটের দিনে কয়েক কোটি টাকার সুপারি বিক্রি হয়। সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার দুই দিন বসে এই হাট। ভোর ৬টা থেকে শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। এই হাটে সুপারি বিক্রি হয় কুড়িতে। এক কুড়ি সমান ২৩১টি সুপারি।

    বাধাল বাজারের সুপারির হাটে দেখা যায়, বড় সুপারি প্রতি কুড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, যা গেল বছর ছিল ৭৫০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকা। মাঝারি সুপারি কুড়ি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, ছোট ও কাঁচা সুপারি আকার ভেদে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। যা গেল বছরের থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কম।

    মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ভাইজোরা গ্রামের চাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, বছরের ছয় মাসের সংসার খরচ চলে সুপারি বিক্রির টাকায়। কিন্তু এবার দাম এত কম যে তিন মাসের খরচও উঠবে না।

    সুপারি বিক্রেতা আনিছ শেখ বলেন, এবার সুপারির দাম অনেক কম। তিন কুড়ি সুপারি নিয়ে এসেছিলাম। ১২০০ টাকায় বিক্রি করেছি। আগের বছরের মতো দাম হলে অন্তত ১৬০০ টাকা বিক্রি করতে পারতাম।

    মোরেলগঞ্জের গ্রামের জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি গাছের সুপারি পাড়াতে ১০ টাকা দিতে হয়। এর পরে ভ্যান ভাড়া-বাজারের খাজনা রয়েছে। এত দাম কম হলে আমাদের কি থাকে।

    সুপারি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, গেল বছরের যে সুপারির কুড়ি ৮০০ টাকা কিনেছি, এবার তার দাম ৪০০ টাকা। যার কারণে সুপারির ফলন বেশি হলেও, কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে অনেকটা হতাশ।

    মোরেলগঞ্জের কালিকাবাড়ি, দৈবজ্ঞহাটি, পোলেরহাট,বাধাল ছাড়াও, কচুয়া, বৈলপুর, মাজারমোড়, সিএন্ডবি বাজারসহ বেশ কিছু হাটে সুপারি বিক্রি হয়। সুপারির কেনাবেচার সঙ্গে বাগেরহাটের ৫ শতাধিক ব্যবসায়ীসহ দশ হাজারের বেশি শ্রমিক জড়িত। সুপারির নতুন বাজার সৃষ্টি হলে, সুপারি চাষি ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাগেরহাটের উপ-পরিচালক শঙ্কর কুমার মজুমদার বলেন, বাগেরহাট সুপারি চাষের প্রধান জেলা। এবার সুপারির ফলন অনেক ভালো হয়েছে। সুপারির ফল বৃদ্ধির জন্য চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলনের সঙ্গে সঙ্গে যাতে কৃষকরা ভালো দাম পেতে পারে এজন্য নতুন বাজার সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। জরুরি না হলে ও মৌসুমের সময় সুপারির আমদানি বন্ধ রাখলে কৃষকরা ভাল দাম পাবেন বলে মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।