পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলা মোটর শ্রমিক রেজিঃ নং- রাজ-৮৮ স্ট্যান্ড কমিটি পীরগঞ্জ উপজেলা শাখা মৃত তসলিম উদ্দীনের পরিবারের মাঝে এককালীন অনুদান মৃত্যুর অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার উপজেলা শাখার মোটর শ্রমিক এর আয়োজনে পৌরশহরে মৃত তসলিম উদ্দীনের মুত্যু অনুদানের অর্থ তাঁর সহধর্মনীর হাতে তুলে দেয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পীরগঞ্জ উপজেলা শাখার মোটর শ্রমিক স্ট্যান্ড কমিটির সহ সভাপতি দবিরুল ইসলাম, কোষাধক্ষ্য ফরিদুল ইসলাম ও কার্য্যনির্বাহী সদস্য মহিদুল ইসলাম, সাদেকুল ইসলাম, সদস্য হিরোল, সাংবাদিক নুরুন নবী রানা, সাইদুর রহমান মানিক ও মাহফুজুল হক হিরা দেশ প্রমুখ।
Author: desk
-

পীরগঞ্জে মোটর শ্রমিকের মৃত্যুর অনুদান বিতরন
-

রাজধানী মিরপুর শাহ আলী থানার চেকপোস্টের উদ্ধার হল তিনটি হনুমান গ্রেফতার এক
সুমন খান:
রাজধানীর মিরপুর মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে নিয়মিত পুলিশ চেকপোস্ট চলাকালে তিনটি বন্যপ্রাণী হনুমান উদ্ধারসহ ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির শাহ আলী থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতের নাম-মোঃ নজরুল (৩৫)। তার বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলায়।
শাহ আলী থানা সূত্রে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৪ খ্রি.) থানার একটি টহলটিম মিরপুরের মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে পাকা রাস্তার উপর নিয়মিত চেকপোস্ট করছিলো। চেকপোস্ট চলাকালে রাত সাড়ে তিনটার দিকে একটি সিলভার রঙের প্রবক্স গাড়ির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে গাড়িটি থামিয়ে চেক করলে সেই গাড়ির পেছনের ডালায় দুটি বস্তায় ও একটি লোহার খাঁচায় তিনটি বন্যপ্রাণী হনুমান দেখতে পায় টহল পুলিশ। তখন ওই গাড়ির চালক মোঃ নজরুলকে হনুমান তিনটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নজরুল এ সম্পর্কে পুলিশকে কোন সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি এবং কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এ ঘটনায় পুলিশ নজরুলকে গ্রেফতার করে এবং হনুমান তিনটি উদ্ধার করে। সেই সাথে হনুমান বহনে ব্যবহৃত প্রবক্স গাড়িটিও জব্দ করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত নজরুল মিরপুর-১১ এর মাহিম এ্যাকুরিয়াম বার্ড প্যালেসের মোঃ হাদিছ ওরফে নিরব (৩২) এর নিকট থেকে চুয়াডাঙ্গার অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য এ হনুমান তিনটি নিয়ে যাচ্ছিলো। এক্ষেত্রে গ্রেফতারকৃত নজরুল এবং পলাতক মো: হাদিছ ওরফে নিরব ও অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি পরষ্পর যোগসাজসে বাংলাদেশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা/শর্ত অমান্য করে বন্যপ্রাণী তিনটি কালোবাজারীর মাধ্যমে পাচারের উদ্দেশে নিজ হেফাজতে রাখা ও সহায়তা করার অপরাধ করেছে। এ সংক্রান্তে তাদের বিরুদ্ধে শাহ আলী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত হনুমান তিনটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট এর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত নজরুলকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনায় জড়িত পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
-

শীতের আগমনী বার্তায় সুজানগরে লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
এম এ আলিম রিপনঃ শীতের আগমনী বার্তায় উত্তরের জেলা পাবনার সুজানগর উপজেলায় লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কারিগররা। শীত নিবারণের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে লেপ তোষক বানাতে ক্রেতারাও ভিড় করছে দোকানগুলোতে।অনেকেই আবার ব্যস্ত নিজের পুরোনো লেপ-তোষক মেরামতে।এ উপজেলায় ভোরে ও রাতে বর্তমানে কিছুটা শীত অনুভ‚ত হচ্ছে। ফলে যে যার সাধ্যমতো শীত মোকাবেলার প্রস্ততি নিচ্ছেন। এলাকার লোকজন রাতের বিছানায় টেনে নিতে হচ্ছে কাঁথা বা কম্বল।উপজেলার চরপাড়া এলাকার ৭৮ বছরের বৃদ্ধ নাছিমা খাতুন ও তার ছেলের বউ মর্জিনা খাতুন নিজেদের পুরোনো ব্যবহারি কাঁথা সেলাই করে ব্যবহার উপযোগী করছেন তারা। তারা জানান, আমরা গরিব মানুষ বাবা, নুন আনতে পান্তা ফুরায়আমরা খেটে খাওয়া মানুষ আমাদের ঠাÐা কম লাগে।জানা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি শিমুল তুলা প্রায় ৫০০ টাকা ও বিচি ছাড়া শিমুল তুলার কেজি ৬৮০ থেকে ৭৫০ টাকা। এসব তুলায় বালিশ তৈরি করেন সমাজের ধনী লোকেরা। আর গার্মেন্টস তুলায় বালিশ, লেপ ও তোষক বানিয়ে নেন মধ্যবিত্ত ও গ্রামের গরিব মানুষেরা। তবুও বর্তমান বাজারে ৫ হাত বাই ৫ হাত লেপ তৈরি করতে ১১০০ টাকার মতো খরচ হচ্ছে। যা গতবারের চেয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি।বাজারে কার্পাস তুলা প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, প্রতি কেজি কালো হুল ৯০ থেকে ১১০টাকা, কালো রাবিশ তুলা ৫০ থেকে ৭০ টাকা, সাদা তুলা ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা করে দাম চলছে।সুজানগরের চর ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান জানান, বাজারে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবার লেপ-তোষক তৈরির খরচও বেড়েছে। তাই পুরোনো লেপ খুলে নতুন করে তৈরি করার জন্য দোকানে নিয়ে এসেছি। তুলার খরচ বাদ দিয়ে কাপড় ও মজুরি বাবদ ৯০০ টাকায় বানাতে দিয়েছি। পৌর সদরের ফিরোজ রানা জানান, এবারে বেশি শীত হতে পারে। তাই আগে ভাগে লেপ তৈরির জন্য দোকানে এসে অর্ডার দিচ্ছি। পৌর শহরের এক দোকান মালিক জানান, শীতের শুরুতেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। ক্রেতাদের এ আনাগোনা চলবে পুরো শীতজুড়ে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় লেপ-তোষকের সব দোকানে ছিল কারিগরদের ব্যস্ততা। দোকানিরাও অর্ডার নিচ্ছেন। ক্রেতাদের বিভিন্ন মানের কাপড় ও তুলা দেখাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।ব্যবসায়ী আলতাব হোসেন জানান, শীতের তীব্রতা বাড়লে লেপ-তোষকের চাহিদা আরও বাড়বে। অনেকে আগেভাগে পুরোনো লেপ-তোষক, বালিশ ঠিকঠাক ও নতুনভাবে তৈরি করার অর্ডার দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আকার অনুযায়ী লেপ-তোষক তৈরিতে ২৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত মজুরি নেওয়া হচ্ছে।লেপ-তোষকের কারিগর মোতালেব হোসেন বলেন, একটি লেপ তৈরি করতে এখন মজুরি ২৫০ টাকা। এছাড়া তোষক ২২০ টাকা, বালিশ প্রতিটি ৫০ টাকা এবং জাজিম তৈরিতে ৪৫০ টাকা হারে মজুরি নেওয়া হচ্ছে। এই মজুরির হার অন্য সময়ের চাইতে কিছুটা বেশি।কারিগররা জানান শীত মৌসুমে এ ব্যবসা করে তাদের পরিবারের খরচ যোগায়।
সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।
-

তেঁতুলিয়ায় চেয়ারম্যানকে ফাঁসানোর অভিযোগ বিজিবির বিরুদ্ধে অতঃপর অবরুদ্ধের ঘটনা
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মসলিম উদ্দিনকে ফেনসিডিল দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে বিজিবি’র বিরুদ্ধে। জল্পনা কল্পনায় ১০৭ বোতল ফেনসিডিল চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে উদ্ধারের পর তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় পঞ্চগড় ১৮ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র ভুতিপুকুর বিওপি’র সদস্য, তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ সদস্য ও তাদের গাড়িগুলো স্থানীয় হাজারো মানুষ অবরুদ্ধ করে রাখেন। গত শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ভজনপুর ইউনিয়নের ভুতিপুকুর সীমান্তের ভাঙ্গীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজন ও ইউপি চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য মতে জানা যায়, ‘শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বাড়িতে বসে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মসলিম উদ্দিন। এ সময় প্রথমে বিজিবি দুজন সদস্য এসে ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেন, আপনার সঙ্গে কথা আছে, লোকজনকে চলে যেতে বলেন। স্থানীয় লোকজন চলে যাওয়ার পরপরই অন্তত পাঁচটি গাড়িতে ৩০ থেকে ৪০ জন বিজিবি সদস্য বাড়িতে আসেন। এরপর তাঁরা পরিবারের সবার মুঠোফোনগুলো নিয়ে নেন। পরে চেয়ারম্যানসহ সবাইকে ঘর থেকে সরে যেতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর বিজিবি সদস্যরা আবারও সবাইকে ডেকে ঘরে তল্লাশি চালানোর কথা বলেন। পরে মসলিম উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ঘর তল্লাশি করেন বিজিবির সদস্যরা। শেষে মসলিম উদ্দিনের ঘরে গিয়ে বিজিবি সদস্যরা দুটি সাদা রঙের মোড়ানো বস্তা দেখিয়ে কী রয়েছে জানতে চান। পরে বস্তা দুটি খুলে দেখা যায় সেখানে ১০৭ বোতল ফেনসিডিল। তখন ফেনসিডিলসহ চেয়ারম্যান মসলিম উদ্দিনকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যান বিজিবির সদস্যরা। এরই মধ্যে চেয়ারম্যানকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে এলাকাবাসি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চেয়ারম্যানকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে স্থানীয় লোকজন বিজিবি ও পুলিশের গাড়ির গতিরোধ করে আটকে দেন। ধীরে ধীরে ওই এলাকায় লোকজন বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে হাজারো মানুষ বিজিবি, পুলিশ সদস্যদের গাড়িসহ অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ ছাড়া এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা দুইটার দিকে ভজনপুর বাজারেও পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ লোকজন।
খবর পেয়ে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল জিয়াউল হক, তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রবীর চন্দ্র সরকার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদৎ হোসেন রঞ্জু, সদস্য সচিব রেজাউল করিম শাহীন সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সেখানে যান। স্থানীয়দের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তদন্ত পূর্বক এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বিজিবি সদস্যরা পরে ইউপি চেয়ারম্যানকে ছেড়ে দিয়ে জব্দ করা ফেনসিডিল নিয়ে যান।
চেয়ারম্যানের প্রতিবেশীগণ জানান, ইউপি চেয়ারম্যানকে মাদকের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের চেয়ারম্যান মাদক তো দূরের কথা ধূমপানও করেন না। ইউপি চেয়ারম্যানের মানহানিকর এমন ঘটনায় আমরা মর্মাহত। আমরা দোষীদের বিচার চাই।
চেয়ারম্যান মসলিম উদ্দিন বলেন, তিন দিন আগে আমার পরিষদের কয়েকজন সদস্য তিনটি ভারতীয় গরু আটক করেন। ভুতিপুকুর বিজিবির সদস্যরা গরু তিনটিকে চাইলে আমরা সেগুলো খোয়াড়ে দিই। যেহেতু সেগুলো জনপ্রতিধিরা আটক করেছেন, তাই গরুগুলোর মালিক বের হয় কিনা জানার জন্য কয়েকদিন খোয়াড়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ নিয়ে ১৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক জামাল উদ্দিনের সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয়। শুক্রবার বেলা ১১টার পর হঠাৎ বিজিবি আমার বাড়ি ঘেরাও করে। ঘরে প্রবেশ করে আমাকে বলে আপনার ঘরে ফেনসিডিল আছে। একটি বস্তা দেখিয়ে বলে এই বস্তায় ফেনসিডিল আছে। পরে আমাকে বিজিবির গাড়িতে উঠতে বলে তারা। গাড়িতে উঠতে শুরু করলে শত শত গ্রামবাসী আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবি করছি। যাতে আর কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা না করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক জামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, অস্ত্র ও ফেনসিডিল আছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে ১৮ বিজিবির টুআইসি মেজর রিয়াদ মোর্শেদসহ বিজিবির সদস্যরা চেয়ারম্যানের বাড়িতে অভিযানে যান। আমার সঙ্গে চেয়ারম্যানের কোনও বিরোধ নেই। গরু নিয়ে বিজিবির সঙ্গে কোনও ঘটনা ঘটেনি। চেয়ারম্যানের বাড়িতে ১০৭ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া গেছে। তাকে আটক করলে স্থানীয়রা ব্যারিকেড দেয়। যেহেতু গ্রামবাসী তার পক্ষে তাই আমরা মামলা করছি না। জব্দকৃত ফেনসিডিল থানায় জমা দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী বলেন, মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন, ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ফেনসিডিল উদ্ধার ও তাঁকে আটকের ঘটনায় এমন পরিস্থিতির সুষ্টি হয়েছে। পরে ১৮ বিজিবির সিও এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদন্ত করা হবে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা একটা মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং (ভুল–বোঝাবুঝি) হতে পারে। তবে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নিয়মিত চোরাচালান দমন অভিযানের অংশ হিসেবে ওই বাড়িতে তল্লাশী করা হয়েছে। এটা হয়তো যারা আমাদের তথ্য দিয়েছে, সেটাতে তাঁকে ফাঁসানোর জন্য বা তাঁর সঙ্গে কারও শত্রুতা আছে, এমনটাও ঘটতে পারে। তবে এটা সত্য যে সেখানে ফেনিসিডিলি পাওয়া গেছে।’ জিয়াউল হক আরও বলেন, উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতে বিক্ষুব্ধ জনতাকে থামাতে চেয়ারম্যানকে আটক করা হয়নি। এমনকি এ ঘটনায় কোনো মামলাও হয়নি। তবে উদ্ধার করা ফেনসিডিলগুলো থানায় জমা দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।
-

তানোরে ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে আমণখেতে ব্যাপক ক্ষতি
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
দেশে ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে সৃষ্ট বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে রাজশাহীর তানোরে আমনের পাকা ধানগাছ নুয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়েছে শীতকালীন আগাম শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের রবিশস্য। ঘরে তোলার সময় ধানগাছ নুয়ে পড়ায় কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে অনেক আমণখেতের পাকা ও আধা পাকা ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। খেত থেকে পানি সরে না গেলে যেসব ধান কেটে রাখা আছে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও শীতকালীন আগাম শাক-সবজির খেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে ঝড়ো-বৃষ্টির পর অনেক এলাকায় আমণখেতে পচন ও পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টি-ঝড়ো হাওয়ায় কি পরিমাণ আমণখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই তথ্য কৃষি বিভাগ দিতে পারেনি।উপজেলার কামারগাঁ ইউপির কৃষক সুমন আলী বলেন, আকাশ ভালো থাকায় দুবিঘা জমির পাকা ধান কেটে রেখেছিলাম শুকানোর জন্য। কিন্তু গত দুই দিন ঝড় হাওয়া ও বৃষ্টি হওয়ায় এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছি। অন্যদিকে কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, “গত বছর ধানের ভালো দাম পাননি। এ নিয়ে হতাশায় ছিলেন। আগামি
সপ্তাহ থেকে তার ১০ বিঘা জমির ধান কাটা শুরু হবে। কিন্তু হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে বেশিরভাগ ধান গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে।
এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’।” কৃষক আয়ুব আলী ও আব্দুল আলী বলেন, “বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে ইতিমধ্যে চরম ক্ষতি হয়ে গেছে। এক একর জমিতে আগে প্রায় ৫০ মণ ধান পাওয়া যেত, এখন সেখানে ৩০ মণ আসতে পারে। এছাড়াও শিব নদীর পাড় ও নিচু এলাকায় আমণখেতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর। এর মধ্য হাইব্রিড ২৮ হেক্টর, উফশী জাত ২২ হাজার ১১৭ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের চাষ হয়েছে ৫৫০ হেক্টর। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ২৯৮ মেট্রিক টন। উপজেলার স্বর্ণপদক প্রাপ্ত স্বশিক্ষিত কৃষি বিজ্ঞানী নুর মোহাম্মাদ জানান, রোপা-আমণ রোপণের শুরুর দিকে কৃষকদের প্রচুর বেগ পেতে হয়েছে। বৃষ্টির পানি সময় মত পায়নি। সার নিয়ে ছিল অসহীয় সিন্ডিকেট। আর শেষ মুহুর্তে বৃষ্টি-ঝড়ো হাওয়ায় নুয়ে পড়া আমণের উৎপাদন কিছু হ্রাস পাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি কল গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। -

র্যাব-১২ এবং র্যাব-২ এর যৌথ অভিযানে হোসেন কমিশনার গ্রেফতার
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
র্যাব-১২ এবং র্যাব-২ এর যৌথ অভিযানে গত ০৪ই আগস্ট সরকার পতনের এক দফা দাবিতে সিরাজগঞ্জ সদরে আন্দোলনরত ছাত্র জনতার উপর প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে সাধারণ ও গুরুতর জখম, ক্ষতি সাধন এবং ককটেল বিস্ফোরণ সংক্রান্তে দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি ও সিরাজগঞ্জ ০২ আসনের সাবেক এমপি জান্নাত আরা হেনরি’র প্রধান সন্ত্রাসী ক্যাডার হোসেন কমিশনার গ্রেফতার।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেফতারে র্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।
১। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রি. বিকাল অনুমান ০৫.৩০ ঘটিকায় এজাহারনামীয় ১। হোসেন আলী ও অন্যান্য ০৮ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সিরাজগঞ্জ সদর থানাধীন চক কোবদাসপাড়া গ্রামে ০১নং এজাহারনামীয় আসামি হোসেন আলীর অফিস সংলগ্ন স্থানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে ভিকটিম মোঃ মেরাজ (১৮), পিতা- মোঃ আমির হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতারীভাবে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ভিকটিমের মা শিল্পি খাতুন তার ছেলের ডাক চিৎকারে এগিয়ে আসিয়া আসামিদের বাঁধা দিলে আসামিরা তাকেও মারপিট করে তার শ্লিলতাহানী করে এবং তার পরনের স্বর্নের চেন ছিনিয়ে নেয়। এরপর আসামিরা ভিকটিমদের বাড়িতে হামলা করে তাদের ২,০০,০০০/- টাকার আসবাবপত্রের ক্ষতি সাধন করে। তারপর তাদের ওয়্যারড্রপে থাকা নগদ ৩,০০,০০০/- টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামি বিগত সময়ে সাবেক এমপি’র প্রধান ক্যাডার হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় অস্ত্র ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোরপূর্বক ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিল। এছাড়াও গত ০৪ই আগস্ট সরকার পতনের এক দফা দাবিতে সিরাজগঞ্জ সদরে আন্দোলনরত ছাত্র জনতার উপর প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে হামলা চালানোর কথাও স্বীকার করে, যার ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি আরও জানায় যে, বর্ণিত মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেফতার এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়ায়। এই নেক্কার জনক ঘটনার প্রেক্ষিতে সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন সর্ব স্তরের লোকজন আসামিকে গ্রেফতারের জন্য লিফলেট বিতরণসহ পোস্টারিং করে। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে মোছাঃ শিল্পি খাতুন বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০২, তারিখ-০২/১০/ ২০২৪ খ্রি. ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৪২৭/৩৭৯/৩৮০/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড রুজু করেন।
২। এরই ধারাবাহিকতায় মোহাম্মদ কামরুজ্জামান পিপিএম, অধিনায়ক, র্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর দিকনির্দেশনায় গত ২৫ অক্টোবর ২০২৪ খ্রি. রাত ০৮.৩০ ঘটিকার সময় র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় র্যাব-১২, সদর কোম্পানি ও র্যাব-২, সিপিসি-১, মোহাম্মদপুর এর একটি চৌকস অভিযানিক দল ‘‘ঢাকা জেলার শেরে বাংলা নগর থানাধীন রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায়’’ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে হত্যা চেষ্টা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি সদর উপজেলার ৭নং ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাবেক কমিশনার হোসেন আলীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তার সাথে থাকা ০২ টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
৩। গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ হোসেন আলী (৪০), পিতা-মোঃ শিল্পী কুদ্দুস, সাং-চক কোবদাসপাড়া, থানা ও জেলা-সিরাজগঞ্জ।
৪। গ্রেফতারকৃত আসামিকে সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।
-

মুন্সীগঞ্জে হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার কার্যালয় পরিদর্শনে মহিলা পরিষদ
লিটন মাহমুদ,
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃমুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয় পরিদর্শন করেছে মহিলা পরিষদ মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় শহরের পৌর মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় রেজিস্ট্রারের প্রধান কার্যালয়টিতে পরিদর্শনে আসেন মহিলা পরিষদের সদস্যরা।
এ সময় হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রম প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ জেলার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষদের নেতৃবৃন্দকে অবগত করেন হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার জিতু রায়।
পরিদর্শন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন মহিলা পরিষদের মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এড. নাছিমা আক্তার, সহ-সভাপতি হামিদা খাতুন, সহ-সভাপতি শাহানারা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক সালমা আক্তার, প্রশিক্ষণ সম্পাদক রাজকুমারী মুখার্জী, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাসুদা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক ফরিদা পারভীন, কার্যকরী সদস্য লুবনা তালুকদার।
পরিদর্শন কার্যক্রম শেষে মহিলা পরিষদের মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এড. নাছিমা আক্তার জানান, ‘বিবাহ’ জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সনাতন বিশ্বাস মতে, বিবাহ হচ্ছে স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে একটি শক্তিশালী ও পবিত্র বন্ধন।
হিন্দু বিবাহ কোনো চুক্তি নয়; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে আদিকাল থেকেই শাস্ত্র মোতাবেক প্রচলিত প্রথা ও রীতি অনুযায়ী বিবাহ সুসম্পন্ন হয়ে আসছে। ফলে অতীতে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনেরও কোন বিধান ছিল না। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে ও সমাজের চাহিদার তাগিদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের, বিশেষ করে নারীদের শাস্ত্রীয় বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার লক্ষ্যে ২০১২ সালে বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ প্রণীত হয়।
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ৪ ধারা অনুসারে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে, সরকার হিন্দু বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে সিটি কর্পোরেশন এবং সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলায় সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের নিকট বিবাহ নিবন্ধন করা যাবে। আইনে বলা আছে, উক্ত হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিবাহ সনদ (Marriage Certificate) প্রদান করতে পারবেন।
ভিসা, পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন ইত্যাদি করতে গেলে বিবাহের আইনি প্রমাণের জন্য ম্যারেজ সার্টিফিকেটের প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই ম্যারেজ নিবন্ধিত হোক কিংবা না হোক, হিন্দু ম্যারেজ সার্টিফিকেট পেতে কোনো আইনি বাধা নেই। বাংলাদেশে বসবাসরত একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের নিকট থেকে ম্যারেজ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারেন। ম্যারেজ
সার্টিফিকেট হিন্দু বিবাহের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করে।সহ-সভাপতি হামিদা খাতুন জানান, নারীদের অধিকার সংরক্ষণে জন্য হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার জন্য দীর্ঘদিন যাবত মহিলা পরিষদ আন্দোলন করে যাচ্ছে। হিন্দু বিবাহের আইনগত বৈধতা না থাকার কারণে বিভিন্ন সময়ে নারীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি তাদেরকে সামাজিক বিভিন্ন নিপীড়ন সহ্য করতে হচ্ছে। তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই আমরা মুন্সীগঞ্জ জেলায় হিন্দু বিবাহের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করতে রেজিস্ট্রার জিতু রায়ের কার্যালয় পরিদর্শন করলাম। নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আমরা একত্রিতভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করব।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার জিতু রায় জানান, পূর্বের তুলনায় বর্তমানে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই সচেতনতা লক্ষ্য করছি। হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন সম্পর্কে সচেতনতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বিবাহ নিবন্ধনের জন্য অভিভাবকদের পাশাপাশি তরুণদের সচেতন হতে হবে। বিবাহ নিবন্ধনের সেবা প্রদানের জন্য আমার কার্যালয় সপ্তাহের সাত দিন খোলা থাকে। নিবন্ধন করাতে ইচ্ছুক যে কেউ যোগাযোগ করতে পারে নিম্নের ঠিকানায়
জিতু রায়
হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার
২১৩, পৌর মার্কেটের ২য় তলা
(দর্পনা কমিউনিটি সেন্টার এর বিপরীত পাশে)
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা, মুন্সীগঞ্জ
মোবাইল: ০১৯১২৩৮৪৮৪৭, ০১৭৫৫৫৩৩৫৬৫ -

মাদক (গাঁজা) ব্যবসা করতে নিষেধ করায় ৩ জনকে জ*খম
আমিরুল ইসলাম কবির,
স্টাফ রিপোর্টারঃগাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মাদক (গাঁজা) ব্যবসা বন্ধ করতে বলায় মাদক ব্যবসায়ী কর্তৃক ৩ জনকে কুপিয়ে জখম। ঘটনাটি ঘটেছে,উপজেলার ১নং কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের হাসানখোর গ্রামের পল্লীতে। এ ব্যাপারে থানায় এজাহার দাখিল।
বর্ণিত এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে প্রকাশ,হাসানখোর গ্রামের মৃত জয়দেল মন্ডলের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা সহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসা ও তা সেবন করে আসছিলো। এতে এলাকার যুব সমাজ সহ বিভিন্ন বয়সী লোকজন নেশায় আসক্ত হয়ে এলাকার পরিবেশ নষ্ট সহ নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। আর এসব মাদক ব্যবসা বন্ধে এলাকাবাসী ও প্রতিবেশীরা তাকে নিষেধ করলেও সে কোনো কর্ণপাত না করে বীরদর্পে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪শে অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসানখোর মৌজার মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার তার মুদি দোকানের সামনে পূর্ব শত্রুতার জেরে মামলার বাদী আশরাফ আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (৩০), মেহেদী হাসান (২২) ও নিকটাত্মীয় সোহান মিয়া (১৯)’র সাথে মাদক ব্যবসা নিষেধ করা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করলে তারা বাধা দিলে মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার গং-রা ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাতাড়ি মার ডাং ও ধারালো ছুরি দিয়ে বাধা প্রদানকারীদের মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এতে গুরুতর আহত হয় মিজানুর রহমান (৩০),মেহেদী হাসান (২২) ও নিকটাত্মীয় সোহান মিয়া (১৯)। তাদের আত্মচিতকারে লোকজন ছুটে এলে সশস্ত্ররা দ্রুত ঘটনাস্থল হতে সটকে পড়ে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। আহত মেহেদীর মাথায় ৭টি সেলাই ও নিকটাত্মীয় সোহান মিয়ার মাথায় ৪টি সেলাই দেয়া হয়েছে।
মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার গং-রা সন্ত্রাসী প্রকৃতির হওয়ায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের পুনরায় মারধর সহ জানে প্রাণে শেষ করার ভয় ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই তারা আতংকবোধ করায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের দেখা না পাওয়ায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে গুরুতর জখমি মিজানুর রহমান ও মেহেদী হাসানের পিতা আশরাফ আলী ২৫শে অক্টোবর রাতে পলাশবাড়ী থানায় একখানা এজাহার দাখিল করেছেন।।
-

নলছিটিতে কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত
ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক
বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি (বিসিডিএস)’র নলছিটি উপজেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নাজমুল হায়দার খান বাদল সভাপতি ও এমএইচ প্রিন্সকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় পুরাতন পোষ্ট অফিস রোডস্থ উপজেলা কেমিষ্ট আ্যান্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির অস্থায়ী কার্যালয়ে বিসিডিএস`র সকল সদস্যদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নাজমুল হায়দার খান বাদল সকল সদস্যদের পূর্ববর্তী আলোচনা পাঠ করে শোনান এবং পূর্বের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ও সভাপতি ডাঃ মো. ইউসুফ আলী তালুকদারের শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সভাপতি পদ থেকে আপোষে পদত্যাগ করেন। সভাপতি পদ শূন্য হওয়ায় পূর্বের সম্পাদক নাজমুল হায়দার খান বাদল উপস্থিত সদস্যদের কন্ঠভোটে বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় এককভাবে সভাপতি নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে সম্পাদক পদ শূন্য হওয়ায় ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করেন মো. সফিকুল খান ফরিদ, মো. নাসিম সর্দার, মো. রুহুল আমিন ও এমএইচ প্রিন্স। গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে এমএইচ প্রিন্স সম্পাদক পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় হন।
বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি ২০২৪-২০২৫ ইং মেয়াদের জন্য এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি আগামী ২ নভেম্বর গঠন করা হবে।
নব নির্বাচিত কমিটি ও সকল সদস্যদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন নলছিটি উপজেলা সহকারি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা লেলিন ও উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্পাদক রিয়াজ মোর্শেদ তালুকদার। তাৎক্ষনিক তারা সকল সদস্যদের মিষ্টি মুখ করান।
কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি নাজমুল হায়দার খান বাদল ও সম্পাদক এমএইচ প্রিন্স দায়িত্ব পালনকালে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এছাড়া কমিটির আওতাভুক্ত সকল সদস্য ও ঔষধ ব্যবসায়ীদের সরকারি নীতিমালা মেনে ঔষধ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
-

নেছারাবাদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টিএইচও ডা: মামুন হাসানের পদায়নের কথা শুনেই সর্বসাধারনের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা
আনোয়ার হোসেন,
নেছারারাদ(পিরোজপুর)প্রতিনিধি//নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে নবপদায়নকৃত ডাক্তার মামুন হাসান-কে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচী করা হয়েছে।
২৬ অক্টোবর (শনিবার) নেছারাবাদ হাসপাতালের সামনে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, আওয়ামিলীগের দোসর কোন দূর্নীতিবাজ ডাক্তার স্বরূপকাঠি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টিএইচও হিসাবে যোগদান করতে পারবে না।
সকালে বিক্ষোভকারিরা নেছারাবাদ জগন্নাথকাঠি বন্দর থেকে বের হয়ে স্বরূপকাঠি পৌর শহরের প্রধান কয়েকটি সড়কে মিছিল করেন। মিছিলে ডাক্তার মামুন হাসানের দুর্নীতি সহ তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে শ্লোগান করেন।পুনরায় মিছিলটি হাসপাতালের সামনে এসে শেষ করে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে বক্তব্য প্রদান করেন, সাবেক পৌর মেয়র মো: শফিকুল ইসলাম ফরিদ, সমাজ সেবক মো: নাসির উদ্দীন তালুকদার সহ স্থানীয় ছাত্রজনতার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। এ সময় বক্তারা আরও বলেন, ডা: মামুন হাসান এর পরেও যদি নেছারাবাদ হাসপাতালে যোগদান করে, তাতে যদি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে এখানকার বিএনপি সহ ছাত্রজনতা এর দায়ভার নিবেনা। এই বিতর্কীত ডা মামুন হাসান ছাড়া যে কোন ডাক্তার নেছারাবাদে আসুক আমরা মেনে নিবো।
উল্লেখ্য ইতিপূর্বে ডা: মামুন হাসান বাগেরহাট জেলার চিতলমারি সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে কর্মরত ছিলেন। সেখানে সিমাহীন দুর্নীতি ও গত গত ৫ আগষ্ট পর্যন্ত ছাত্র জনতার বিপরীতে অবস্থানে ছিলেন। ৫ আগষ্টের পর তার বিরুদ্ধে বাগােরহাটের চিতলমারির ছাত্রজনতা তার পদত্যাগের দাবিতে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়েছিলো। এতে তিনি ছাত্রজনতার তোপের মুখে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহাতায় বের হয়ে কিছু দিন আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি এখন নেছারাবাদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টিএইচও হিসাবে পদায়নের কথা শুনেই সর্বস্তরের লোকজন বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন।