Author: desk

  • সুজানগরে স্মার্টফোন টেকনো এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড শপের উদ্বোধন

    সুজানগরে স্মার্টফোন টেকনো এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড শপের উদ্বোধন

    এম এ আলিম রিপনঃ জনপ্রিয় বিশ্বখ্যাত মোবাইল ব্যান্ড টেকনো স্মার্টফোন এর এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড শপের উদ্বোধন করা হয়েছে। সুজানগর পৌর বাজারের অগ্রণী ব্যাংকের নিচতলায় সোমবার বেলা ১১টায় এ এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড শপের উদ্বোধন করা হয়। সুজানগর টেকনো এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড শপের কর্ণধার মতিউর রহমান মধুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা লাটু প্রামানিক, সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী মন্ডল, সহকারী অধ্যাপক ও দৈনিক জীবনকথার সুজানগর উপজেলা প্রতিনিধি এটিএম শামছুজ্জামান ডন, সহকারী অধ্যাপক শফিউল আলম, শফিউল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু, টেকনোর এএসএম জাবেদ হোসেন,আরএসই মাকছুদুল শেখ হিমেল,পাবনা ডিলার জুয়েল, টিএমই শাহেদ ইবনে সাজ্জাদ, সাবেক যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী টুকু, দৈনিক যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি এম এ আলম রিপন,সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইকরাম হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রওশন ট্রেডার্সের কর্ণধার ফিরোজ রানা ও আব্দুস সোবাহান, ব্যবসায়ী তুহিন খান ও অন্তুসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনকালে জনপ্রিয় বিশ্বখ্যাত মোবাইল ব্যান্ড টেকনোর কর্মকর্তাবৃন্দ বলেন, দেশের বাজারে, নিজেদের প্রসার বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহে মানসম্পন্ন পণ্য, ব্যবহার অভিজ্ঞতা ‌ও বিক্রয়োত্তর সেবা, প্রতিটি বিষয়ের উপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফোন কেনার পর ১০০ দিন পর্যন্ত রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টির পাশাপাশি টেকনো মোবাইলে ১৩ মাস পর্যন্ত সার্ভিসিং ওয়ারেন্টি দিচ্ছে ।দেশের যে কটি মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার মধ্যে টেকনো এগিয়ে আছে জানিয়ে তারা বলেন, চাইনিজ ব্র্যান্ড হলেও বিশ্বব্যাপী টেকনোর সুনাম রয়েছে। বাংলাদেশে টেকনো মোবাইল আধুনিক ডিজাইন ও আকর্ষণীয় ফিচারের কারণে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আগামীতে এ ধারা অব্যাহত রাখতে নতুন নতুন মডেলের সেট বাজারে আনা হবে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • সুজানগরে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান,৩ ব্যবসায়ীর জরিমানা

    সুজানগরে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান,৩ ব্যবসায়ীর জরিমানা

    এম এ আলিম রিপনঃ পাবনার সুজানগরে কাঁচাবাজারে সরকার ঘোষিত নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের আওতায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ও নিত্যপণ্যে দ্রব্যমূল্যের তালিকা না টাঙানোর দায়ে সুজানগর পৌর কাঁচা বাজারের ঝন্টু,রিপন প্রামানিক ও জাকির হোসেন নামে ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করে নির্বাহী ম্যাজিেেস্ট্রট। সোমবার দুপুর ৩টায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ।এ সময় সুজানগর থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, বর্তমান সরকার সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে খুবই জোরালো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই আলোকে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের আওতায় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল এবং স্বাভাবিক রাখতে সুজানগর পৌরশহরের কাঁচা বাজারে এ ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন দোকানে দ্রব্যমূল্যের তালিকা না টাঙানোর দায়ে ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যের চড়া দাম নেয়ার অপরাধে ৩ দোকানদারকে ১৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।তিনি আরো জানান, যেসব দোকানে এখনো পর্যন্ত পণ্যের মূল্য তালিকা টাঙানো হয়নি তাদেরকে নির্দেশনা ও সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

  • কম্পিউটার চালাতে পারেন না কম্পিউটার শিক্ষক

    কম্পিউটার চালাতে পারেন না কম্পিউটার শিক্ষক

    আলিফ হোসেন,
    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়নের(ইউপি)শ্রীখন্ডা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষক তৌহিদুর রহমান নিজেই কম্পিউটার চালাতে পারেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তৌহিদুর স্যার
    কম্পিউটার চালাতে না পারায় তারা দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার শিক্ষা (হাতে-কলমে) অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা বলেন, সরেজমিন তদন্ত করলেই এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে। এছাড়াও স্কুুুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেয়া হয় না।এঘটনায় এলাকার অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
    স্থানীয়রা জানান,বিগত ১৯৯৪ সালে রাজনৈতিক নেতার ইচ্ছে পুরুণে রাজনৈতিক বিবেচনায় শ্রীখন্ডা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন এবং ২০০২ সালে এমপিওভুক্ত করা হয়। বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী রয়েছে।
    এদিকে অদক্ষ শিক্ষককে অপসারণ করে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দক্ষ কম্পিউটার
    শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গত ৩ নভেম্বর রোববার এলাকাবাসি ডাকযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও আঞ্চলিক শিক্ষা কর্মকর্তার (ডিডি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়রা বলছে, শিক্ষক
    তৌহিদুর কম্পিউটার পরিচালনা করতে না পারলেও প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে বসে বসে সরকারি বেতন-ভাতাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন যেটা নীতিমালা পরিপন্থী।
    সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, নীতিমালায় বলা আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
    কম্পিউটার শিক্ষককে ওয়েবসাইট তৈরীসহ (অনলাইন)-এর যাবতীয় কাজ করতে হবে।এছাড়াও কম্পিউটার শিক্ষক
    নিয়োগের নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে সরকার অনুমোদিত চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি {নেকটার}, জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি {নেকটার বগুড়া}, ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি মেহেরপুর, যুবউন্নয়ন অধিদপ্তর {মশরপুর নওগাঁ} এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট অর্জনকারীদের এমপিওভুক্ত করা যাবে বলে জানান ডিআইএ কর্মকর্তা।
    অথচ তৌহিদুর তেমন কম্পিউটার
    পরিচালনা করতে না পারায় স্কুলের সিংহভাগ কাজ বাইরের কম্পিউটার
    দোকান থেকে করতে হয়। এতে একদিকে প্রতিষ্ঠানের যেমন অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি প্রতিষ্ঠানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরের মানুষের কাছে চলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থী পারভিন, সুফিনা ও পপি বলেন, তাদের স্কুলে কখনই হাতে কলমে
    কম্পিউটার বিষয়ে পড়ানো হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী
    শিক্ষক বলেন, কয়েকটি পদে জনবল নিয়োগ দিয়ে স্কুলের উন্নয়নে ৫ লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল। কিন্ত্ত একটি টাকারও উন্নয়ন কাজ না করে প্রধান শিক্ষক এসব টাকা নয়ছয় করেছে।
    এবিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
    কম্পিউটার শিক্ষক সব কাজ পারে না বাইরের দোকান থেকে কাজ করতে হয়, যেটা অনেক স্কুল করে থাকে। আর কিভাবে নিয়োগ হয় কারা দেয় সেটা সবাই জানে স্কুলের ফান্ডে কোনো টাকা দেয়া হয়নি।এবিষয়ে কম্পিউটার শিক্ষক তৌহিদুর রহমান, সরকার স্কুলে কম্পিউটার দেয়নি তাই কম্পিউটার ক্লাস নেয়া হয় না। কম্পিউটার যখন দিবে তখন ক্লাস নেয়া হবে। এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#

  • বিগত ২৫৪ বছরে রাজশাহীর প্রথম নারী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার

    বিগত ২৫৪ বছরে রাজশাহীর প্রথম নারী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার

    হায়দার আলী রাজশাহী থেকে।। রাজশাহী জেলায় প্রথমবারের মতো নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আফিয়া আখতার। রোববার (৩ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রাজশাহীর (ভারপ্রাপ্ত) জেলা প্রশাসক সরকার অসীম কুমারের নিকট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। পরে তিনি তার নিজ কার্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা করেন। এসময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটালেন রাজশাহীর নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফিয়া আখতার।

    এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহা. যোবায়ের হোসেন, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) টুকটুক তালুকদার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা ইমাম উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. মহিনুল হাসানসহ জেলার সকল উপজেলার ইউএনও, এসিল্যান্ড এবং জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
    উল্লেখ্য, গত বুধবার (৩০ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রামের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার আফিয়া আখতারকে রাজশাহী জেলার ডিসি পদে পদায়ন করা হয়েছে। রাজশাহী জেলা গঠিত হওয়ার পর ২৫৪ বছরের মধ্যে তিনিই হলেন এই জেলার প্রথম নারী ডিসি। রাজশাহী জেলা গঠিত হওয়ার সময় ১৭৬৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই জেলার প্রথম ডিসি নিয়োগ পান মিস্টার সি. ডাব্লিউ বাউটন রাউস। এরপর দীর্ঘ ২৫৪ বছরের মধ্যে বিদায়ীসহ রাজশাহীর ১২৬জন ডিসির মধ্যে কোনো নারী নিয়োগ পাননি। এই তথ্যানুসারে এ জেলায় প্রথম নারী ডিসি হিসেবে যোগদান করেছেন আফিয়া আখতার। এর ফলে তিনি রাজশাহীর ১২৭তম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করলেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আফিয়া আখতার যশোর জেলার কোতয়ালী থানায় জন্ম গ্ৰহণ করেন। তিনি যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে ভর্তি হন। সেখানে ১৯৯৮ সালে স্নাতক ও ১৯৯৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
    এরপর ২৫তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদানের পর তার প্রথম কর্মস্থল ছিল রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। ২০০৬ সালের জুলাই মাসে সহকারী কমিশনার পদে যোগদান করেন তিনি।

    আফিয়া আখতার ২০১১ সালের মে মাস থেকে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে তিনি নওগাঁর বদলগাছী ও নওগাঁ সদর উপজেলায় সততা, নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের জুলাই মাস থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত উপজেলার নির্বাহী অফিসার হিসেবে রাঙামাটির কাউখালী ও চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তিনি সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিভাগের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেদের সুমদ্র যাত্রা

    ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেদের সুমদ্র যাত্রা

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
    ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সুন্দরবনের দুবলার চরে শুঁটকি মৌসুম।জীবনের ঝুঁকি ও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মৎস্য আহরণে সমুদ্রে যাত্রা করছে উপকুলের জেলেরা। সমুদ্রগামী শুটকী পল্লী জেলেরা জীবনের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে মৎস্য আহরণ করলেও নানা প্রতিকূলতায় ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারেনি। ক্রমবর্ধমান ক্ষতির মুখে পড়ে পুজি, জাল ও নৌকা হারিয়ে অনেকেই পেশা বদলেছেন। আবার অনেকে চড়া হারে মহাজনদের কাছ থেকে টাকা সুধে নিয়ে এ পেশায় টিকে থাকার জন্য কঠোর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
    জেলেরা সমুদ্রে মৎস্য আহরণকে ঘিরে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় জীবনের ঝুকি নিয়ে চলেছে উপকূলের জেলেরা। সাগরে যেতে যে যার মত প্রস্তুত করছেন জাল, দড়ি, নৌকা-ট্রলার। কেউ কেউ গড়ছেন নতুন ট্রলার, আবার কেউ পুরাতন নৌকা মেরামত করে নিয়েছেন। প্রস্তুতি অনুযায়ী অনেকেই আগেভাগে রওনা দিয়েছেন।
    জানা গেছে, বৃটিশ আমল থেকে শুটকী পল্লীর কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে মগ বা সন্দীপ ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় জেলেরা সুন্দরবনের চরে অস্থায়ী বাসা তৈরী করে মৎস্য আহরণ করত। আশির দশক থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালীর জেলেরা সুন্দরবন এলাকায় শুটকীর জন্য বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকায় মৎস্য আহরণ শুরু করেন। নানান প্রতিকূলতার মধ্য থেকে জেলেরা মৎস্য আহরণ করে আসছে। জেলেরা ডাঙ্গায় বাঘ, জলে কুমির-হাঙ্গর, বনদস্যু-জলদস্যুর উৎপাত ও বনরক্ষীদের হয়রানীর মধ্যেও তাদের পেশা টিকিয়ে রেখেছে।
    দুবলার চর বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের দক্ষিণে, কটকার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং হিরণ পয়েন্টের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত একটি দ্বীপ যা চর নামে হিন্দুধর্মের পূণ্যস্নান, রাসমেলা এবং হরিণের জন্য বহুল পরিচিত। কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝে এটি একটি বিচ্ছিন্ন চর। এই চরের মোট আয়তন প্রায় ৮১ বর্গমাইল। দুবলার চরে তৈরি হয় জেলে গ্রাম। মাছ ধরার সঙ্গে চলে শুঁটকি শোকানোর কাজ। বর্ষা মৌসুমের ইলিশ শিকারের পর বহু জেলে পাচ মাসের জন্য সুদূর কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ, বাগেরহাট, পিরোজপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা থেকে ডেরা বেঁধে সাময়িক বসতি গড়ে সেখানে। মেহেরআলীর খাল, আলোরকোল, মাঝেরচর, অফিসকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া, মানিকখালী, ছাফরাখালী ও শ্যালারচর ইত্যাদি এলাকায় জেলে পল্লী স্থাপিত হয়। এই পাচ মাস তারা মাছকে শুঁটকি বানাতে ব্যস্ত থাকেন। এখান থেকে শুঁটকি চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জের পাইকারী বাজারে মজুদ ও বিক্রয় করা হয়।
    সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগ থেকে মাছ সংগ্রহের অনুমতি সাপেক্ষে বহরদার ও জেলেরা দুবলার চরে প্রবেশ করে থাকেন। দুবলার চর থেকে সরকার নিয়মিত হারে রাজস্ব পেয়ে থাকে। প্রতি বছর বিএলসি বা বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট, ডিএফসি বা ডেইলি ফুয়েল (জ্বালানি কাঠ) ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় বন বিভাগকে রাজস্ব প্রদান করে মৎস্য ব্যবসায়ীগণ সুন্দরবনে ঢোকার অনুমতি পান। এছাড়া আহরিত শুঁটকি মাছ পরিমাপ করে নিয়ে ফিরে আসার সময় মাছ প্রকার ভেদে প্রদান করেন নির্ধারিত রাজস্ব।
    খুলনা জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে পলি জমে ভরাট হওয়ায় শুধুমাত্র সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে ও নানা প্রতিকূলতায় ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারেনি জেলে পরিবারগুলো। তফশীলি ব্যাংক থেকে জেলেদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করার কথা থাকলেও বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দেওয়ায় তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়।
    পাইকগাছা উপজেলার বোয়ালিয়া জেলে পল্লীর বাসিন্দা শিতেনাথ বিশ্বাস বলেন, প্রতি বছর আমরা মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ করে সমুদ্রে যাই। সরকারিভাবে আমরা তেমন কোন সাহায্য সহযোগীতা পাইনা। সুন্দরবনে জলদস্যু-বনদস্যুর উৎপাত ও মুক্তিপণ আদায়সহ আসাধু বনরক্ষীদের দৌরাত্ম্য কিছুটা বন্ধ হলেও এখনও সীমাহীন সমস্যায় মধ্যে থাকতে হয় আমাদের।
    বোয়ালিয়ার জেলে দিপঙ্কর বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রতিবছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র থেকে মাছ ধরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব সরকারকে দেই। কিন্তু আমরা সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য কোন ঋণ পাই না। জেলেদের সকল সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণসহ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

    প্রেরকঃ
    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • রাজশাহীতে ছাত্র আন্দোলনে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের খোঁজ নিলেন- ডিসি আফিয়া আখতার

    রাজশাহীতে ছাত্র আন্দোলনে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের খোঁজ নিলেন- ডিসি আফিয়া আখতার

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী : রাজশাহীতে ছাত্র আন্দোলনে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফিয়া আখতার। রোববার (৩ নভেম্বর) দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিনই তিনি রাজশাহীতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত দুই শিক্ষার্থীর বাড়িতে যান।

    দায়িত্ব গ্ৰহণের প্রথম দিনই রোববার দুপুরের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সাকিব আনজুম ও মিনারুলের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন নবাগত জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার। এর মধ্য ছাত্র আন্দোলনে নিহত সাকিব আনজুম রাজশাহী মহানগরীর রানীনগর এলাকার মাইনুল হকের ছেলে এবং মিনারুল ইসলাম মহানগরীর গোলজারবাগ এলাকার মৃত. এনামুল হকের ছেলে।

    রাজশাহীতে ছাত্র আন্দোলনের সময় নিহত ৩ জনের মধ্যে রয়েছেন এই দুজন। এর মধ্যে সাকিব আনজুম রাজশাহী বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং মিনারুল ইসলাম ইপিজেড এর বেঙ্গল কোম্পানির সিনিয়র অপারেটর ছিলেন। অপরজন হলেন- ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা আলী রায়হান।

    রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. মহিনুল হাসান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে রাজশাহীর নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফিয়া আখতার বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতরা দেশের সম্পদ ও গর্ব, তারা শহীদের মর্যাদা পাবেন।

    রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হলো বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন। এই আন্দোলনে আহত-নিহতরা দেশের সম্পদ ও গর্ব, তারা শহীদের মর্যাদা পাবেন। তাদের রক্তের বিনিময়েই নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সার্বিক প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন সর্বদা পাশে আছে ও সব সময় যে কোন প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াবে। সেই জন্যই দায়িত্ব গ্রহণের পরই আমি এই শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কাজকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। আজকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সাকিব আনজুম ও মিনারুল ইসলামের পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছি। ভবিষ্যতে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই জেলার ছাত্র আন্দোলনে আহত-নিহতদের খোঁজ-খবর নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি সকল ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হবে।

    সাক্ষাৎকালে নিহত সাকিব আনজুমের বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি জানান, আজকে নবাগত জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব গ্ৰহণের পরেই তিনি সর্বপ্রথম কাজ হিসেবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। এর ফলে তিনি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। আমরা এই রকম একটা জেলা প্রশাসক রাজশাহীর জন্য আশা করেছিলাম। তিনি নবাগত জেলা প্রশাসকের কাছে ভবিষ্যতে সকল আহত ও নিহত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় করারও আহ্বান জানান।

    সাকিব আনজুম’র স্ত্রী নিশাত তাবাসসুম জানান, এতো অল্প বয়সে স্বামীকে হারাতে হবে তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। তার স্বামীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। এ সময় তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। আর জেলা প্রশাসক তাদের খোঁজ-খবর নিতে আসায় তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    এছাড়া সাক্ষাৎকালে ছাত্র-আন্দোলনে নিহত মিনারুলের মা ডলি খাতুন অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, তিন ছেলে এক মেয়ের মধ্যে মিনারুলউ ছিল সবার ছোট। ইউসেফ স্কুল থেকে চাকরি পেয়ে, ১২ বছর ঢাকার নারায়ণগঞ্জ এলাকার ইপিজেডের বেঙ্গল কোম্পানির সিনিয়র অপারেটর হিসেবে কাজও করেছে। তার কলিজার টুকরো সন্তান মিনারুল গুলিবিদ্ধ হয়ে গত ২০ জুলাই প্রাণ হারিয়েছ। সন্তান হারানোর এই শোক সইবার মত নয়। তিনি পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে তার সন্তানকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করার জন্য দোয়া করেন।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • মাল্টার চাষ করে সফল নাচোলের আপেল, সবাইকে ফরমালিনমুক্ত দেশী মাল্টা কেনার অনুরোধ

    মাল্টার চাষ করে সফল নাচোলের আপেল, সবাইকে ফরমালিনমুক্ত দেশী মাল্টা কেনার অনুরোধ

    মোঃ হায়দার আলী চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে ফিরে : মানুষ যাই তা ঠিকই পায় শুধু চেষ্টা আর পরিশ্রম, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখা। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল সফল উদ্যোক্তা হওয়ার। তাই এসএসসির গোন্ডি পেরিয়ে নেমে পড়েন কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার লড়াইয়ে। প্রথমদিকে আম ও পেয়ারার ব্যাবসা দিয়ে শুরু করলেও পরবর্তীতে মাল্টা চাষে সফল হয়েছেন আতিউজ্জামান আপেল।

    তিনি ২০ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন মাল্টার বাগান। এ ছাড়া মাল্টা গাছের সঙ্গে মিশ্র ফলন হিসেবে লাগানো হয়েছে কমলা, বানানা ম্যাংগো, বারি-৪ ও কাজি পেয়ারা। সারি সারি মাল্টা গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ ও হলুদ রঙের মাল্টা। মাল্টার ভারে গাছগুলো মাটিতে নুয়ে পড়েছে।

    দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে উঁচু জমিতে এই মাল্টা বাগান করা হয়েছে। প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় সবুজ ও হলুদ রঙের মাল্টা ঝুলে আছে। এলাকার লোকজন মাল্টা বাগান দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। বাগানে আসা লোকজন বলছেন, মাল্টা খেতে অনেক সুস্বাদু ও মিষ্টি।

    মাল্টা চাষি আতিউজ্জামান আপেল বলেন, আমি ২০০৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিই। তারপরে সর্বপ্রথম পেয়ার ও বারি-৪ বাগান নিয়ে কাজ শুরু করি। ২০১২-১৩ সালের দিকে বারি-৪ এ আমি সফলতা পাই। তারপর ২০২০ সালে আমি ৩৫ বিঘা জমি লিজ নিই। এই প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করি এবং ২০ বিঘা জমিতে মাল্টার গাছ রোপণ করি। তারপর ২০২১ সালে অল্প পরিমাণে ২৫ থেকে ৩০ ক্যারেটের মতো মাল্টা পাই।

    তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এই প্রজেক্টে ৪০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে এবং আশা করছি ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা পাবো। অর্থাৎ এ বছরে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মতো আয় হবে। এ ছাড়া গত ২০২২ সালেও ২০ লাখ টাকা মতো লাভ হয়েছিল।

    যারা মাল্টা চাষ করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা মাল্টা চাষ করতে চান তাদেরকে সর্বপ্রথম জমি নির্বাচন করতে হবে। জমিটা যেন ভালো হয় এবং মাটিটি যেন বেলে-দোঁআশ হয়। দ্বিতীয়ত চারা ভালো হওয়া লাগবে। এছাড়া নিয়মিত পরিচর্যা করা লাগবে। সার-বিষ নিয়মিত দিতে হবে।

    ক্রেতাদের দেশি জাতীয় ফল মাল্টা কেনার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, দেশি মাল্টা বাইরের মাল্টার চেয়ে অনেক সুস্বাদু। আমরা এই মালটাকে গুরুত্ব দিচ্ছি না, বাইরের মাল্টার প্রতি ঝুঁকে পড়েছি। আমাদের এই মাল্টায় কোনো ফরমালিন জাতীয় কিছু নাই। আপনারা নিশ্চিন্তভাবে এই ফল খেতে পারবেন। তাছাড়া আমরা এই ফলের ঠিকভাবে বাজার মূল্য পাচ্ছি না অথচ বাইরের মাল্টা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। তাই আপনারা দেশি ফল খান এবং আমাদের পাশে থাকুন।

    বাগানে মাল্টা কিনতে আসা ব্যাপারী ইব্রাহিম আলী বলেন, আমি এই বাগান থেকে মাল্টা কিনে ঢাকা-লক্ষিপুর-সিলেট-চট্রগ্রামে পাঠাই। প্রতি দিন ৪০ থেকে ৫০ ক্যারেটের মতো মাল্টা কিনি। এই বাগানের মাল্টা রঙে ভালো ও সুস্বাদু এবং মিষ্টি।

    মাল্টার বাগানে কাজ করা শ্রমিক আজিজুর রহমান বলেন, আমরা ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক মাল্টার বাগানে কাজ করি। বিষ, প্যাকেটিং ও কাটিংসহ বিভিন্ন কাজ করি। দেশি মাল্টা খেতে অনেক সুস্বাদু।

    নাচোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সলেহ আকরাম বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চল তথা নাচোল উপজেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর মাল্টার বাগান রয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই বাগানগুলো বারি-১ জাতের মাল্টার বাগান। কিছু ভিয়েতনামি ও হলুদ মাল্টা চাষ হয়। চাষীদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তারা মাল্টার বাগান করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। এছাড়া মাল্টা ফলটি আগে বিদেশ থেকে ব্যাপক পরিমাণে আমদানি করতে হতো। এখন এই দেশীয় মাল্টা চাষ করায় আমদানির চাহিদা পূরণ করছে।

    তিনি আরও বলেন, নাচোল উপজেলার চাষিদেরকে বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে উন্নত জাতের চারা, রাসায়নিক সার, জৈব সার ও বিভিন্ন প্রকার যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছি। এছাড়া চাষিদেরকে পরামর্শ দিচ্ছি, বারি-১ মাল্টা যেটি রয়েছে সেটি যেন অক্টোবর মাসে হারভেস্ট করে। অনেক চাষি জুলাই ও আগস্ট মাসে হারভেস্ট করে তখন কিন্তু পূর্ণ মিষ্টতা আসে না। তাই চাষিদেরকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার ফলে অনেকেই এখন অক্টোবর মাসে মাল্টা হারভেস্ট করছে।

    আশার কথা হচ্ছে, আমাদের নাচোলে একটি ফল বাজার গড়ে উঠেছে যার ফলে সারা দেশেই সহজে ফলগুলো পাঠানো সহজ হচ্ছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা বাগান পরিদর্শন করে ফল কিনতেও পারছেন। এতে এই উপজেলার অর্থনীতিতে ব্যাপকহারে ভূমিকা রাখছে।

    মোঃ হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী,
    রাজশাহী।

  • রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ হারুন এর  দাফন সম্পন্ন

    রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ হারুন এর দাফন সম্পন্ন

    আরিফ রব্বানী।।
    মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অসাধারণ কিংবদন্তি যোদ্ধা, ঢাকা- উত্তর পুর্ব অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সমর নায়ক,
    ৩ নং সেক্টরের এরিয়া কমান্ডার,বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধা পুনর্বাসন সংস্থার চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা
    ময়মনসিংহ সদরের ভাবখালী ইউনিয়নের সন্তান
    বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ হারুন অর রশিদকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাত ৩ টায় ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    সোমবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ২.৩০ মিনিটে ভাবখালী ইউনিয়নের তার নিজ বাড়ীর নিকটস্থ স্থানীয় মুক্তি ঈদগাহ মাঠ প্রাঙ্গণে গার্ড অব অনার দেওয়ার পর তার জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিম রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় জাতীয় পতাকা দিয়ে আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। বিউগলে করুন সুর বাজানো হয়।

    এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে একই স্থানে জানাজা এবং পরে তার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

    গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামাল পাশা,নরসিংদী জেলা কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী রজব আলী,মোটরযান কর্মচারী ইউনিয়ন নেতা মেজাম্মেল হক,স্থানীয় মকবুল হোসেন,সহ ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জে,নরসিংদী জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন পেশাশ্রেণীর ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

    বীরমুক্তিযোদ্ধা শেখ হারুন অর রশিদ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী,ঢাকা (দঃ)ডেমরা,কসবা মোহনপুর,ময়মনসিংহ ইপিআর ক্যাম্পে ১২১ জন পাক হানাদারকে হত্যা করে ময়মনসিংহ কে মুক্তাঞ্চল ঘোষনা করেছিলেন। ২৬,২৭,২৮ মার্চের সূচনা লগ্নে বিজয় ছিনিয়ে আনা এই রণবীর ৪/১১/২৪ ইং ভোর ৩.৩০ মিনিটে বারডেমে কিডনি ও লিভারের সমস্যায় অসুস্হ জনিত কারণে শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেছেন, তার মৃত্যুতে একজন বীরের মহাপ্রয়ান ঘটলো,একটি ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটলো। মৃত্যুকালে মরহুম শেখ হারুন অর রশিদ এর দুই ছেলে ও এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রয়েছেন।

  • ময়মনসিংহ  ট্যাক্সেস বারের এডহক কমিটির আহবায়ক এড সাজ্জাদ, যুগ্ম আহবায়ক আজিজুল

    ময়মনসিংহ ট্যাক্সেস বারের এডহক কমিটির আহবায়ক এড সাজ্জাদ, যুগ্ম আহবায়ক আজিজুল

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    দি ময়মনসিংহ ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে এডভোকেট মোঃ সাজ্জাদুর রহমান আকন্দ (নয়ন) কে আহবায়ক ও আয়কর আইনজীবি এডভোকেট আজিজুল হাই সোহাগকে যুগ্ম আহবায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন এডভোকেট মোঃ আব্দুস সালাম ভূইয়া, এডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম ও আয়কর আইনজীবি মোঃ মনোয়ার হোসেন খান সুমন।

    পুর্বের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় আগামীতে একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ কমিটি উপহার দিয়ে দি ময়মনসিংহ ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করে আগামীতে আরো এগিয়ে নিতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে বাছাই করে এই এডহক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশন ময়মনসিংহের নেতৃবৃন্দরা। বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদককে তার কর্তৃত্বে থাকা সমিতির প্রয়োজনীয় খাতাপত্র অন্যান্য দায় দায়িত্ব নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

  • টাঙ্গাইলের মধুপুরে পুলিশ চেকপোস্ট উদ্বোধন 

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে পুলিশ চেকপোস্ট উদ্বোধন 

    আঃ হামিদ মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে বহুল আলোচিত রুপা ধর্ষণের পর হত্যা ও পরবর্তীতে আবার একই কায়দায় বাস ডাকাতি ও নারী ধর্ষণের ঘটনা এবং পরপর আরও কয়েকটি ডাকাতির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-জামালপুর- ময়মনসিংহ  আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার নরকোনা নামক স্থানে নতুন ভাবে আশুরা পুলিশ চেকপোস্ট এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

    রবিবার (৩ নভেম্বর) রাতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু (বিপিএম-সেবা) প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই পুলিশ চেকপোস্টের উদ্বোধন করেন।
    চেকপোস্ট উদ্বোধন কালে মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন,  চেকপোস্টের দায়িত্বে থাকা পুলিশ, সড়ক পথের যানবাহনের যাত্রী ও এলাকার জনগণের নিরাপত্তা বিধানে কাজ করবে। পুলিশের এ নিরাপত্তা বিধানের কাজে সকলকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য তিনি আহবান জানান।
    উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম) মো.শরফুদ্দীন, মধুপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফারহানা আফরোজ জেমি, মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এমরানুল কবীর সহ তদন্ত ওসি রাসেল আহমেদ, লাউফুলা ফাঁড়ি ইনচার্জ, অরনখোলা ফাঁড়ি ইনচার্জ ও মধুপুর থানার সকল পুলিশ অফিসার ও পুলিশ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।