Author: desk

  • রাজশাহীতে সাবেক কমিশনার-ডিআইজিসহ ২২১ জনের নামে মামলা

    রাজশাহীতে সাবেক কমিশনার-ডিআইজিসহ ২২১ জনের নামে মামলা

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার-ডিআইজিসহ ২২১ জনের নামে বিস্ফোরক আইনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মামলাটি দায়ের করেছেন জেলার পবা উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মারুফ মর্তুজা।

    রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফয়সল তারেক মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

    মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) তৎকালীন কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, রেঞ্জ ডিআইজি আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি বিজয় বশাক, বোয়ালিয়া জোনের ডিসি বিভূতি ভূষণ ব্যানার্জি, আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এডিসি উৎপল কুমার চৌধুরী, ডিবির তৎকালীন ওসি মশিয়ার রহমান, বোয়ালিয়া থানার ওসি হুমায়ুন কবির, ওসি তদন্ত আমিরুল ইসলাম, কর্ণহার থানার ওসি কমল কুমার দেব, কাটাখালীর ওসি তৌহিদুর রহমান, বোয়ালিয়া থানার এসআই কিংকর, এয়ারপোর্ট থানার এসআই আবদুর রহিম, রাজপাড়া থানার এসআই কাজল নন্দি, বোয়ালিয়া থানার এসআই ইফতেখায়ের আলম, কাটাখালী থানার কনস্টেবল ফুলবাস, বোয়ালিয়ার কনস্টেবল আশরাফুল, রাজপাড়ার এসআই মানিক, মানিক এএসআই রাজপাড়া থানা, রাজপাড়া থানার এএসআই প্রণব, কর্ণহারের এএসআই তসলিম ও এএসআই সিরাজ নাম রয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
    মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তালাইমারি মোড় থেকে মারুফ মুর্তজা প্রায় দুই হাজার ছাত্র-জনতার সঙ্গে পশ্চিমে শহরের দিকে রওনা দেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে বোয়ালিয়া থানা এলাকার পৌঁছালে আরএমপির কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদারের নির্দেশে অন্যান্য আসামিরা গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এতে করে মারুফ মুর্তজাসহ আরও অনেকে আহত হন। এ সময় দুটি গুলি তার পায়ে এসে লাগে।
    পরে উপস্থিত ছাত্র-জনতা মারুফ মুর্তজাসহ অন্যান্য আহতদের নওদাপাড়ায় অবস্থিত ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। মারুফ চিকিৎসা শেষে আসামিদের নাম সংগ্রহ করে থানায় মামলা করতে গেলে ডিউটি অফিসার আদালতে মামলার পরামর্শ দেন। মামলার বাদী অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করেন।

    হায়দার আলী,
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • দামও কমতে শুরু করেছে। রাজশাহী অঞ্চলে শীতের আগাম সবজিতে চাষির মুখে হাসির ঝলক

    দামও কমতে শুরু করেছে। রাজশাহী অঞ্চলে শীতের আগাম সবজিতে চাষির মুখে হাসির ঝলক

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ
    সকাল-সন্ধ্যার কুয়াশায় রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। বরেন্দ্রর মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে সবুজ সবজির সমারোহ। সবজির বাম্পার ফলনে চাষিদের মুখে যেন হাসির ঝলক।

    শীতকালীন আগাম সবজি বাজারে তুলতে শুরু করেছেন তারা। মাঠে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে চাষিদের। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা লাভবান হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

    রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ মৌসুমে জেলার ৯ উপজেলায় ৫ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে ৩৪ রকমের শাকসবজি। গত ২০২২-২৩ মৌসুমে ৩০ রকমের শাকসবজি চাষ হয় ৩ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ গতবারের তুলনায় এবার ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর বেশি জমিতে চাষ করেছেন কৃষকরা। শীতের আগাম এসব সবজির মধ্যে বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, টমেটো, মূলা, পটল, করলা, ঝিঙ্গা ও বরবটি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া পালংশাক, পুইশাক, লালশাক এবং ধনিয়াপাতাও রয়েছে এ তালিকায়।

    সূত্র জানায়, জেলায় এবার সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে বেগুন। মোট ৯০৮ হেক্টর জমিতে এ সবজি আবাদ করেছেন চাষিরা। আর ফুলকপি ৩৮৭ হেক্টর, বাঁধাকপি ৩২৩ হেক্টর, শিম ২৪১ হেক্টর, মূলা ৪৩৫ হেক্টর ও টমেটো চাষ হয়েছে ৬৪ হেক্টর জমিতে। এছাড়া লালশাক ৫৩৮ হেক্টর ও পুইশাক ৩০২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। গত ২০২২-২৩ মৌসুমেও সর্বোচ্চ ৬৬৯ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ হয়। ওই বছর ফুলকপি ২৭৫ হেক্টর, বাঁধাকপি ২৩৯ হেক্টর ও মূলা চাষ হয় ৩২৮ হেক্টর জমিতে।

    কৃষি অফিস থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শীতের আগাম সবজি চাষে গতবারের মতো এবারও শীর্ষে রয়েছে পবা উপজেলা। এ বছর উপজেলাটিতে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে চাষ হয় ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। গোদাগাড়ী উপজেলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে শাকসবজি।

    কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীতের সময় অনেক বেশি সবজি বাজারে ওঠে। ফলে তুলনামূলক চড়া দাম পাওয়া যায়। যে কারণে আগাম সবজিতে বিশেষ নজর থাকে তাদের। আগাম সবজি বাজারে তুলতে পেরে দামও বেশি পাচ্ছেন চাষিরা। শিম, টমেটো ও বেগুনের দাম তুলনামূলক বেশি। আর ১০/১৫ পর থেকে পুরোদমে সবজি উঠতে শুরু করবে। আলুর দাম বাড়তে থাকলেও ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে বেগুন, লাউ, পটল, কচুর ও শশার দাম। তবে এবার বেশ লাভবান হওয়ার আশাবাদ চাষিদের।

    জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল এলাকায় এ মৌসুমে দুলাল ফকির কয়েক প্রকার সবজি ও তিন রকম শাক চাষ করেছেন। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, বাসায় খাওয়ার জন্য প্রতিবছরই সবজি চাষ করি। তবে এবার সবজির আইটেম বাড়িয়েছি। এবার আমার চাষ করা সবজির তালিকায় রয়েছে- শিম, করলা, লাউ, চাল কুমড়া, বেগুন, টমেটো, কলা, পেপে। তিনি আরও বলেন, সবজি চাষের মতই আবহাওয়া রয়েছে।

    গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকার কৃষক আব্দুল মাতিন বলেন, এবার টমেটো,বেগুন, কপি কয়েক ধরনের শাক চাষ করেছি। সবজির ফলন ভালো হয়েছে। ঠিকভাবে পরিচর্যা করার কারণে আমার জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়নি। এগুলো উত্তোলনের পর সবসময় পেঁয়াজ, রসুন, দেশি আলু আলুর দাম বেশী থাকায় জমি প্রস্তুত রেখেছি। শ্রমিক পেলে এ সপ্তাহেই এসব লাগানো শুরু করব।

    গোদাগাড়ী উপজেলার চাষি ও ব্যবসায়ী রজব আলী বলেন, শীতের এসব সবজি অসময়ে বাজারজাত করতে পারায় দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব সবজি আকারে ছোট সাইজের এবং ওজনে কম। একই মন্তব্য করেন সবজি চাষী মোফাজ্জুল হোসেন।

    সচেতন কৃষকদের অভিযোগ, যদিও অভিযোগ রয়েছে, বরেন্দ্র অঞ্চলে গভীর নলকূপ থেকে জমিতে পানি নিতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয় চাষিদের। সময়মত পানি দিতে না পেরে ফসলের ক্ষতির ঘটনাও নতুন নয়। তবে ফলন ভালো হওয়ায় লক্ষমাত্রা অর্জন হবে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

    এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার বলেন, ফলন যাতে ভালো হয় সেজন্য কৃষকদের পরামার্শ দেয়া হচ্ছে পতিত বা অব্যবহৃত জায়গায় আমরা পুষ্টি বাগান করে দিচ্ছি। এটা খুব সাড়া ফেলছে। এ প্রকল্পে বিষমুক্ত পিওর সবজি পাওয়া যাচ্ছে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারজাত করা যাচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এ উপজেলাতে সবজি চাষ হয় ভাল হয়েছে। দিনে দিনে এসব সবজি পরিবহণের ব্যবস্থা থাকায় চাষিদের দামে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা নেই। চাষিদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই আমরা খুশি। তাদের প্রণোদনা ও পরামর্শ যথাযথভাবে দেয়া হয়েছে আমাদের তরফ থেকে। চাষিরা লাভবান হবে বলে আমরা আশাবাদি। আগামীতে সবজি চাষ বৃদ্ধি পাবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • ঈদগাঁও রেঞ্জে’র তিনটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

    ঈদগাঁও রেঞ্জে’র তিনটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

    মো.কাওসার উদ্দিন শরীফ,
    ঈদগাঁও প্রতিনিধিঃ

    কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার দুই ইউনিয়নে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের খবর পেয়ে
    নির্মাণধীন ৩টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

    বুধবার ৬ নভেম্বর সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ পর্যন্ত উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের শাহ ফকির বাজার, ঈদগাঁও ইউনিয়নের শিয়াপাড়া নামক এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন ঈদগাঁও রেঞ্জের ভোমরিয়াঘোনা বিট।

    বন বিভাগের সূত্রে জানা যায়,সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের খবর পেয়ে ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন খাঁন এর নির্দেশনায় ভোমরিয়াঘোনা বিট কর্মকর্তা, সঙ্গীয় স্টাফ ভিলেজার অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়। ০.১০ একর বনের জমি অবৈধ দখলদার থেকে দখল মুক্ত করা হয়।একই এলাকায় অবৈধ জবরদখলকৃত স্থানে নির্মিত পিলার এর উপর ছাদ ঢালাই এর জন্য সেন্টারিং এর প্রস্তুুতি কালে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ০.১৫ একর জায়গা দখলমুক্ত করা হয়।একই দিন ঈদগাঁও ইউনিয়নের শিয়া পাড়া নামক এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা কালে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে ঘটনাস্থলে বসবাসকারী আনুমানিক ১০০/১২০ জন মানুষ অতর্কিত হামলা চালায়। উক্ত ঘটনায় বন বিভাগের ৩ জন ভিলেজার আহত হয় এবং ১ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ার জরুরী ভিত্তিতে আহতদের রামু উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স এ চিকিংসা দেয়া হয়। ০.৫ একর জায়গা দখলমুক্ত করা হয়।

    দৈনিক কক্সবাজার সংবাদ কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অভিযান পরিচালনা কারী ভোমরিয়াঘোনা বিট কর্মকর্তা মোঃ মমিননুর রহমান।

    এসব বিষয় জানতে চাইলে ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন খাঁন দৈনিক কক্সবাজার সংবাদ কে বলেন,অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারী ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • ঝিনাইদহে বিএনপির জাতীয় বিপ্লব  ও সংহতি দিবস পালন

    ঝিনাইদহে বিএনপির জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    যথাযথ মর্যাদা ও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষ্যে ঝিনাইদহ শহরে বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে বর্নাঢ্য র‌্যালি বের হয়। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া ও মহল্লা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে শহরের উজির আলী স্কুল মাঠে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়। দুপুর নাগাদ বিশাল মাঠটি নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মহাসমাবেশে পরণিত হয়। র‌্যালি বের হওয়ার আগে সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড এম এ মজিদ, কে এম ওয়াজেদ, জাহিদুজ্জামান মনা, মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, আলমগীর হোসেন, সাজেদুর রহমান পাপপু, যুবদল নেতা আহসান হাবিব রণক, আশরাফুল ইসলাম পিন্টু, ছাত্রদল নেতা সোমেনুজ্জামান সমেন, মুশফিকুর রহমান মানিক ও মহিলাদল নেত্রী কামরুন্নাহার লিজি। সমাবেশে প্রধান অতিথি এ্যাড এম এ মজিদ বলেন, ৫ আগস্ট দেশের ছাত্র-জনতা অনেক তাজা প্রাণ ও রক্তের বিনিময় দেশকে সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত করেছে এবং দেশের সামরিকবাহিনী ছাত্র-জনতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা এমনি এক সময় ৭ নভেম্বর পালন করতে যাচ্ছি যখন জাতি নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত মোকাবিলায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সকল মুক্তিকামী জনতা রাজপথে নেমেছিল। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মেজর জে. খালেদ মোশাররফ পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করেছিল। তখন আমাদের দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে ৭ নভেম্বর রাজপথে নেমে খালেদ মোশাররফের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত প্রতিহত করে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে হেফাজত করেছিল। তিনি বলেন, জাতিকে আবার ফ্যাসিবাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নানামুখি চক্রান্ত শুরু হয়েছে। জাতি আবার ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছে। ফ্যাসিবাদীরা পুনরায় ফিরে আসলে জাতি এক মহাসঙ্কটে নিপতিত হবে। এ অবস্থায় জাতিকে রক্ষা করার জন্য ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দল-মত-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সমাবেশ শেষে এক বর্নাঢ্য র‌্যালী ঝিনাইদহ শহর প্রদক্ষিন করে। র‌্যালিটি শহর ঘুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এদিকে দিবসটি পালনে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, শৈলকুপা, হরিণাকুন্ডু, মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলায় র‌্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলসহ বিস্তারিত কর্মসুচি গ্রহন করা হয়।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।।

  • রাজশাহীর তানোরের সেই স্বশিক্ষিত কৃষিবিদ নূর মোহাম্মদ এখন মালয়েশিয়ায়

    রাজশাহীর তানোরের সেই স্বশিক্ষিত কৃষিবিদ নূর মোহাম্মদ এখন মালয়েশিয়ায়

    মোঃ হায়দার আলী রাজশাহী থেকেঃ মালয়েশিয়ায় কৃষক-বিজ্ঞানী সম্মেলনে যোগ দিতে মালয়েশিয়া গেছেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার সেই কৃষিবিদ নূর মোহাম্মদ। গত সোমবার তিনি মালয়েশিয়ার উদ্যেশ্যো ঢাকা ত্যাগ করেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো সনদ নেই, তবে আছে ধান নিয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবন। সংকরায়ণ করে একের পর এক নতুন ধান উদ্ভাবন করছেন তিনি। স্বশিক্ষিত এই বিজ্ঞানীর কাজ আমলে নিয়েছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরাও। ধানগুলো জাত হিসেবে স্বীকৃতির অপেক্ষায় রয়েছে। তার নাম নূর মোহাম্মদ।

    তিনি যাচ্ছেন ‘মালয়েশিয়ায় কৃষক-বিজ্ঞানী সম্মেলনে’। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। মালয়েশিয়ার পেনাং শহরে পেস্টিসাইড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (প্যানাপ) তাঁকে এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। স্থানীয় একটি হোটেলে ৬ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর এই সম্মেলন অনুিষ্ঠত হচ্ছে। এজন্য তাঁকে ৫ নভেম্বর পেনাং শহরে পৌঁছাতে হবে এবং ১০ নভেম্বর পর্যন্ত তাকে সেখানে অবস্থান করতে হবে। আয়োজকেরা তাঁর যাতায়াত, থাকা-খাওয়াসহ সকল খরচ বহন করবে। বাংলাদেশ থেকে তিনিই একমাত্র কৃষক-বিজ্ঞানী হিসেবে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। নূর মোহাম্মদের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার গোল্লাপাড়া গ্রামে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। বরেন্দ্রভূমিতে প্রায় প্রতিবছরই খরায় নষ্ট হয়ে যায় ধান। সেই ধান রক্ষা করতেই কাজে লেগে যান তিনি। নিজের মাটির ঘরটাকে বানিয়ে ফেলেন গবেষণাগার। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান হেলাল উদ্দিনের সাহচর্য পান নূর মোহাম্মদ।

    সেখানে হাতে-কলমে শেখেন অনেক কিছু। এ পর্যন্ত সংকরায়ণের পর নূর মোহাম্মদের কৌলিক সারির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০০। সর্বশেষ তিনি একটি নতুন সারি উদ্ভাবন করেছেন। তাঁর দাবি, দেশে প্রচলিত বোরো ধান বপন থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত ১৪০ দিন লাগে। তাঁর উদ্ভাবিত এই ধান বোরো মৌসুমে বপন থেকে ১৩০ দিনের মধ্যে কাটা যাবে। তিনি খরাসহিষ্ণু এই ধানের সারির নাম দিয়েছিলেন এনএমকেপি-৫। এনএমকেপির অর্থ হচ্ছে ‘নূর মোহাম্মদ কৃষি পরিষেবা’। প্রথম দিকে তিনি এনএমটি অর্থাৎ নূর মোহাম্মদ তানোর নামে ধানের নামকরণ করতেন। এনএমকেপি-৫-এর বিঘাপ্রতি ফলন ২৫ মণ। এই ধানের বিশেষত্ব হচ্ছে, পাকার পরও পাতা সবুজ থাকে। গাছ মজবুত। খরাসহিষ্ণু। পোকামাকড় ও রোগবালাই অনেক কম। এটি রোপা আমন মৌসুমেও হয়। তখন জীবনকাল হয় ১১০ থেকে ১১৫ দিন। এ ধান বোরো মৌসুমে ২৫ মণ ও আমন মৌসুমে ১৮ মণ পর্যন্ত হয়। এই জাতের ধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরুর আগেই ঘরে তোলা যাবে। সাধারণত শেষের দিকে সেচের খরচ বেড়ে যায়।

    পাম্পেও পানি কম মেলে। প্রথম দিকের চেয়ে পানির পরিমাণও বেশি লাগে। ১০ দিন আগে ওঠার কারণে সেচের খরচ কম হবে। আগাম ওঠার কারণে ভালো বাজার মিলবে। চাল চিকন। ভাত খেতে ভালো। নূর মোহাম্মদ তাঁর যে পাঁচটি জাত স্বীকৃতি পাওয়ার মতো বলে মনে করেন, সেগুলো হচ্ছে এনএমকেপি-১ থেকে এনএমকেপি-৫ পর্যন্ত। তিনি দেশের প্রচলিত ধানের জাতকে উজ্জীবিত করে তার জীবনকাল কমিয়ে এনেছেন। কোনোটির ফলন বাড়িয়েছেন। খরাসহিষ্ণু জাতের উদ্ভাবন করেছেন। এ ছাড়া আমন মৌসুমের জন্যও তিনি খরাসহিষ্ণু ও স্বল্প জীবনকালের আরও দুই জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন। এর একটির নাম দিয়েছেন এনএমকেপি-৫ ও অপরটির নাম দিয়েছেন এনএমকেপি-১০১। বীজতলায় ফেলা থেকে শুরু করে আমন ১১০ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে কাটা যায়। তবে তিনি জানান, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটও এই জাতের আমন উদ্ভাবন করেছে, কিন্তু তাঁরটা সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্যের। তিনি বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য উপযোগী করে এই ধান উদ্ভাবন করেছেন। এই ধান ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত বৃষ্টি না পেলেও খরা মোকাবিলা করে ভালো ফলন দিতে সক্ষম। এর ফলন বিঘায় ২০ থেকে ২১ মণ। এরপর তিনি সবচেয়ে স্বল্প জীবনকালের খরাসহিষ্ণু বোরো ধান উদ্ভাবন করেছেন বলে দাবি করেছেন। এই ধানের নাম দিয়েছেন এনএমকেপি-১০৩। সুগন্ধি এ ধান আমন মৌসুমেও হয়। কৃষি উৎপাদনে সাফল্যের জন্য নূর মোহাম্মদ ২০০৫ সালে পান রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক। সেরা কৃষি উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে তীর-প্রথম আলো কৃষি পুরস্কার ২০১৮ পেয়েছেন এই কৃষিবিজ্ঞানী

    বাজারে এখন চিকন চাল বলতে পাওয়া যায় চিনি গুঁড়া, দাদখানী, রাঁধুনীপাগল, কালজিরা, বাঁশফুল ও কাটারী ভোগ। তবে এসবের চেয়েও একটি চিকন চালের ধান উদ্ভাবন করেছেন স্বশিক্ষিত কৃষিবিজ্ঞানী নূর মোহাম্মদ। অন্য ধানের চেয়ে এর ফলনও ভাল।

    আমন এবং বোরো -দুই মৌসুমেই চাষ করা যাবে এই ধান। নূর মোহাম্মদ তাঁর উদ্ভাবন করা জাতের নাম দিয়েছেন ‘নূর ধান’। নূরের দাবি, এটিই এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে চিকন চালের ধান। ছয় বছরের নিরলস চেষ্টায় তিনি এ জাত উদ্ভাবন করেছেন। আমন মৌসুমে তার উদ্ভাবিত এই ধানের গড় ফলন হবে বিঘাপ্রতি ১৭ মণ। আর বোরো মৌসুমে বিঘাপ্রতি ফলন হবে প্রায় ২১ মণ।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল ইসলাম বলেন, ‘নূর মোহাম্মদ ধান নিয়ে গবেষণা করেন। এর জন্য ২০০৫ সালেই তিনি রাষ্ট্রপতি কৃষিপদক পেয়েছেন। এবার তিনি যে চিকন ধানটার কথা বলছেন, সেটা জমিতে শীষ আসার আগে আমি একবার দেখেছিলাম।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • উজিরপুরে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির সময় জনতার হাতে আটক তিনজন – মামলা দায়ের

    উজিরপুরে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির সময় জনতার হাতে আটক তিনজন – মামলা দায়ের

    মোঃ জুনায়েদ খান সিয়াম, উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের ভরসাকাঠী গ্রামের কেজিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির সময় জনতার হাতে আটক হয়েছে আন্ত জেলা ট্রান্সফারমার চোর চক্রের তিন সদস্য। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উজিরপুর মডেল থানর এসআই ওসমান গনি।তিনি জানান ০৭ নভেম্বর রাত ১.৩০ মিনিটের সময় চোর চক্র বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে পালানোর সময় স্থানীয়রা টের পেয়ে হাতে নাতে আটক করে থানায় খবর দেয়। এ সময় বরিশাল বিমানবন্দর থানার মাধবপাশা ইউনিয়নের লাফাদি গ্রামের ফারুক হোসেন ভুটু এর পুত্র ফজলে রাব্বি (২৪) বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কাউনিয়া ০১নং ওয়ার্ডের মোঃ মনছুর হাওলাদার এর পুত্র সোহাগ হাওলাদার (৩১) , জানুকি সিংহ রোডের ৭ নং ওয়ার্ড মৃত ইউসুফ হাওলাদারের পুত্র মোঃ স্বপন হাওলাদার (২৮) কে আটক করে স্থানীয়রা। এ সময় চোর চক্রের আরেক সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। স্থানীয় কাজী মামুন (৪০) জানান ঘটনাস্থল থেকে তার বাড়ি কাছে থাকায় তিনি খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার নামানোর সময় শব্দ পেয়ে চিৎকার করেন এতে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এসে তাদেরকে(চোর সন্দেহে তিনজনকে) ঘিরে ফেলে আটক করে। থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানায় বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর উজিরপুর অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ নাঈম রেজা শাওন (২৮) চারজনের নাম উল্লেখ করে উজিরপুর মডেল থানা মামলা দায়ের করেন।
    উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুস সালাম জানান ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় একটি মামলা আদায়ের করা হয়েছে, আটক কৃতদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • বিএসকেপির জাতীয় কাউন্সিল ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ পুনর্গঠন করা হচ্ছে

    বিএসকেপির জাতীয় কাউন্সিল ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ পুনর্গঠন করা হচ্ছে

    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত জাতীয় সাংবাদিক সংগঠন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বিএসকেপির) জাতীয় কাউন্সিল ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ পুনর্গঠিত হচ্ছে শীঘ্রই… দক্ষ ও পেশাদার সাংবাদিকদের সমন্বয়ে বাংলদেশ প্রেস কাউন্সিল মিলনায়তনে চলতি মাসেই ঘোষণা করা হবে
    বিএসকেপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ।
    আগ্রহী পেশাদার সাংবাদিকদের যোগাযোগ করার জন্য আহবান জানানো হলো।

    আহবানে
    এম এ মমিন আনসারী
    জাতীয় সমন্বয়কারী
    বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বিএসকেপি)

  • সারজিস-হাসনাতের আকস্মিক সফর

    সারজিস-হাসনাতের আকস্মিক সফর

    মোঃ বাবুল হোসেন. পঞ্চগড় :

    শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। 

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও অন্যতক সমন্বয়ক সারজিস আলম আকস্মিক সফরে পঞ্চগড় গেছেন।  উপজেলার কাজী শাহাবুদ্দিন গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা।

    এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে হাসনাত বলেন, তরুণ আমাদের বিশ্বাস করতে হবে বৃদ্ধ মা-বাবারা অসামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে। এখন পরিস্থিতি তাদের আমাদের কাঁধে ভর দিয়ে চলতে হবে। এ জন্য আমাদে কাঁধকে শক্ত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্বের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমার মনে হয় ভোটের বয়স ১৫ বছরে দেওয়া উচিত।’

    ক্ষমতার জন্য দেশে গণহত্যা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘পুলিশ থেকে মুখোমুখি গুলি করা হয়েছে। ৩০০ থেকে ৩৫০ বুলেট লেগেছিল। সে মাত্র ১৮ বছরের ছেলে। তিন বছরের ছেলেমেয়েকে গুলি করে মারা হয়েছে। কয়েক মাসের বাচ্চাকে গুলি করে মারা হয়েছে। আমাদের কাছে অনেক বাবা কান্নাকাটি করে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলকানা হওয়া হওয়া যাবে না। যে আপনাদের জন্য কাজ করে, আপনাদের জবাবদিহির জন্য প্রস্তুত থাকে, সে যে-ই হোক না কেন, তাকে আপনার প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন। আমরা যদি এই জায়গায় সচেতন না হই, তাহলে আর কারা হবে।’

    ‘আমরা যারা নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি, তারা যেন আর দলকানা না হই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাহলে অভ্যুত্থানের যে স্পিরিট, কেউ এমন ফ্যাসিস্ট হয়ে যাবে, একনায়ক হয়ে যাবে একেবারে। যারা আমাদের জন্য কাজ করবে, আমরা তাদের জন্য কাজ করব। সবাইকে রাজনীতিবিদ হতে হবে এমন না, তবে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে হবে।’

    এর আগে তিনি ভজনপুর বেগম খালেদা জিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং পরে তেঁতুলিয়া সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় সমন্বয়কসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    তবে আকস্মিক সফরের উদ্দেশ্য জানতে চাইলে তারা রাতে তেঁতুলিয়ার তেঁতুলতলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।

  • সুন্দরগঞ্জে ডোমেরহাট ইনসাফ আলী স্কুলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

    সুন্দরগঞ্জে ডোমেরহাট ইনসাফ আলী স্কুলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

    গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ডোমেরহাট ইনসাফ আলী সরকার আর্দশ স্কুল ও মাদরাসার ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী-২০২৪ পালিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃক আয়োজিত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অত্র স্কুলের অধ্যক্ষ রওশন আলম সঞ্জুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সুন্দরগঞ্জ ডিড রাইটার সরকারি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবিএম সাইফুল ইসলাম মণ্ডল শাজাহান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সুন্দরগঞ্জ ডিড রাইটার সরকারি কলেজের প্রভাষক গোলাম সরওয়ার মওলা, সাংবাদিক মোঃ আনিসুর রহমান আগুন, ইংরেজী শিক্ষক মোঃ মাসুদ রানা, আলমগীর হোসেন খাঁন, মোঃ আমিনুল ইসলামসহ সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একটি রেলি  রামজীবন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। আলোচনা সভা শেষে স্কুলটির সার্বিক কল্যাণে দোয়া কামনা করা হয়।

  • ভূঞাপুরে জমি দখলের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

    ভূঞাপুরে জমি দখলের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

    আল আমিন শোভন
    বিশেষ প্রতিনিধি :-
    টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে জমি দখল চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। বুধবার (৬ নবেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সিরাজকন্দীতে বাজারের পাশে ওই জমিতে থাকা ঘর ভাংচুর করে ও জমিতে থাকা পিলার উঠিয়ে ফেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য দিলিপ ফকির ও তার বাহিনীরা।

    জানা যায়, ২০১৯ সালে মৃত কাসেম ফকিরের ওয়ারিশগণদের কাছ থেকে সিরাজকন্দীর পলশিয়া মৌজায় ২৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন মো. মোজাদ্দিদ আলম। জমির বিআরএস দাগ নাং- ২৯৪৩ ও বিআরএস খতিয়ান নং- ৩৭৯। নিজ জমিতে বসবাস করার জন্য কিছু গাছ লাগান মোজাদ্দিদ। পরে কাসেম ফকিরের বংশীয় দিলিপ ফকির দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে সেই জমির উপরে সকল গাছ কেটে ফেলেন এবং জমির মালিককে নানাভাবে হুমকি প্রদান করেন। ওই জমিতে হামলা চালিয়ে দখল নেওয়ার চেষ্টা চালালে ভুক্তভোগী মো. মোজাদ্দিদ আলম বাদী হয়ে টাঙ্গাইল দায়রা জজ আদালতে ১৪৪ ধারায় একটি ফৌজদারি মামলা করেন (সি, আর মামলা নং- ১০০/২০২১)। সে মামলার রায় তাদের পক্ষে আসে। মামলার উপর দিলিপ ফকির আপিল করেন। সেই আপিলের রায়ও ভুক্তভোগীর পক্ষে আসে। তারপরও দিলিপ ফকির জমির মালিককে নানা ভাবে হুমকি দেয়। আবারো মুজাদ্দিদ আলম একটি নিষেধাজ্ঞা মামলা করে। সে মামলা চলমান থাকাবস্থায় দীলিপ ফকির ও তার সহযোগীরা হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই জমির মালিক মোজাদ্দিদ আলম। কিন্তু দিলিপ ফকির সন্ধ্যায় তার লোকজন নিয়ে ভাঙচুর করেন।

    ভুক্তভোগী মোজাদ্দিদ আলম জানান,
    কাসেম ফকির মারা যাওয়ার পর তার ছেলে ও স্ত্রী কাছ থেকে ২৩ শতাংশ জমি ক্রয় করি। ক্রয় করার পরে সেখানে বসবাস করার জন্য একটি ঘর ও কিছু গাছ লাগাই। তারপর থেকে দিলিপ ফকির আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমার সকল কাগজপত্র ঠিক থাকায় আমি তাকে চাঁদা দিতে অস্বীকার জানাই। তারপর থেকেই সে আমাকে নানাভাবে হুমকি প্রদান করে আসছে। পরে সে একদিন আমার জমিতে থাকা সকল গাছ কেটে ফেলে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালায়। তারপরও সে আমার জমি দখল হুমকি এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তাসহ আবার জমি যেনো আমাকে

    এই বিষয়ে মোজাদ্দিদ ছেলে ওমর ফারুক জানায়, আমাদের সকল কাগজপত্র থাকা সত্বেও তারা আমাদের ভূমি দখলের চেষ্টা করছে। তারা আমাদেরকে নানাভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। মামলার রায় নিষ্পত্তি হবে আগামী রবিবার।

    ভূঞাপুর থানার ওসি একেএম রেজাউল করিম বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।