Author: desk

  • অপশক্তি যদি ছোবল মারে, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত নষ্ট হয়ে যেতে পারে- এ্যানি

    অপশক্তি যদি ছোবল মারে, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত নষ্ট হয়ে যেতে পারে- এ্যানি

    নাজিম উদ্দিন রানা:বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, জনগণের চেতনা এবং অনুভূতিকে ধারণ করতে হবে। জনগণ মনে করছে এখনই দেশে নির্বাচন প্রয়োজন। খুব অল্প ও যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হলে ফ্যাসিস্ট ষড়যন্ত্র আমাদের ওপর আবার আঘাত করতে পারে। এটি দেশের মানুষের জন্য কঠিন বিপদ হতে পারে। অপশক্তি যদি ছোবল মারে, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন সংস্কারে নভেম্বর-ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এ তিন মাসের বেশি লাগার কথা নয়। সংস্কার শেষে অবিলম্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।

    তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা ও গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হবে। আমরা যদি এ মুহূর্তে একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা না করতে পারি, তাহলে পাশের দেশে বসে এখনো হাসিনা-ফ্যাসিস্টরা যে চক্রান্ত যে ষড়যন্ত্র করছে, সে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

    শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে লক্ষ্মীপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালি উদ্বোধনকালে এ্যানি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপি এ র‌্যালির আয়োজন করে। র‌্যালিটি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পুরাতন গোহাটার বাসভবন থেকে শুরু হয়ে চকবাজার-উত্তর তেমুহনী হয়ে ঝুমুর এলাকায় গিয়ে মিলিত হয়।

    এ্যানি আরও বলেন, ১৭ বছর অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। দেশকে গড়ার জন্য যদি আরও ২-৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়, দেশের ভিতকে শক্তিশালী করার জন্য, গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী করার জন্য, সেই ত্যাগ স্বীকার করতেও আমাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে।সন্ত্রাস আমাদের চাওয়া পাওয়া নয়। লুটপাট আমাদের চাওয়া পাওয়া হতে পারে না।কারণ আমরা জনগণের প্রত্যাশাকে, জনগণের চেতনাকে ধারণ করি।তারেক রহমান এ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চান,ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে গড়তে চান। সেজন্য আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আছি এবং থাকব।

    তিনি বলেন, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এ দেশে যদি সেই ক্রান্তিলগ্নে তিনি নিউক্লিয়াসের ভূমিকা পালন না করতেন, তিনি যদি ঐক্য সৃষ্টি করতে না পারতেন, ওই দুঃশাসন, ওই ক্রান্তিলগ্ন থেকে এদেশ সেসময় রক্ষা হতো না। তার দেখানো পথেই জাতি দুঃশাসন ও ক্রান্তিলগ্ন থেকে মুক্তি পেয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বেগম খালেদা জিয়া এ দেশ পরিচালনা করেছেন। দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

  • কাল‌কি‌নি‌তে স্বল্পমূ‌ল্যে কৃ‌ষিপণ‌্য ক্রয়-‌বিক্রয়ের জন‌্য কৃষ‌কের বাজার উ‌দ্বোধন

    কাল‌কি‌নি‌তে স্বল্পমূ‌ল্যে কৃ‌ষিপণ‌্য ক্রয়-‌বিক্রয়ের জন‌্য কৃষ‌কের বাজার উ‌দ্বোধন

    মো: মিজানুর রহমান কাল‌কি‌নি প্রতিনিধি

    মাদারীপু‌র ‌জেলার কাল‌কি‌নি‌তে মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য পৌঁছাতে চালু করা হ‌য়ে‌ছে ব্যতিক্রমী কৃষক বাজার। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য পেতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং কালকিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কালকিনি পৌরসভার সহযোগিতায় চালু হওয়া এ বাজার। বাজা‌রের নামকরন করা হয়েছে “চাষীর বাজার”।
    শনিবার ৭টায়`(৯ নভেম্বর) সকালে জেলা পরিষদ ডাক বাংলো মাঠে এ বাজারের উদ্বোধন করেন কালকিনি উপজেলা ইউএনও উত্তম কুমার দাশ।

    এসময় বাজারে আসা কৃষকদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে একটি করে ছাতা প্রদান করা হয়।
    কালকিনি উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উদ্বোধনী দিনে এ বাজারে সবজি কিনতে আসা অনুকুল বলেন, “বর্তমান বাজারে নিত্যপণ্যের যে দাম, তাতে আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের বেঁচে থাকা খু‌বেই কষ্টকর। দৈনিক যা আয় হয় তা দিয়ে কোনমতে সংসার চালাই। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের মহৎ উ‌দ্দ‌্যগ কে আমরা অ‌ভিনন্দন জানাই। এখন এ বাজার হতে আমরা অন্তত স্বল্পমূল্যে সবজিটা কিনে খেতে পারবো।”

    সবজি বিক্রি করতে আসা এক কৃষক বলেন, “আমরা কষ্টকরে সবজি চাষ করি, কিন্তু ভাল দাম পাইনা। আড়ৎদার, পাইকার, দোকানদাররা আমাদের থেকে কম দামে সবজি কিনে আর সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করে। এখন এই বাজার মিলা‌তে আমরা কৃষকরা কিছুটা হলেও দাম বেশি পাবো আশা করি। তাই আমরা এই বাজার বসানতে আমরা ভীষণ খুশি।”

    প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ বাজার চলবে।

    উদ্বোধনকালে ইউএনও উত্তম কুমার দাশ বলেন, “ভোক্তা পর্যায়ে শাক সবজির দাম কমানো এবং তাজা সবজি সরবরাহের লক্ষ্যে এ চাষীর বাজার চালু করা হয়েছে। এই বাজারে কৃষকরা সরাসরি তাদের উৎপাদিত পণ্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সহায়তা ছাড়াই বিক্রি করতে পারবেন। এতে করে কৃষকরাও লাভবান হবেন এবং ক্রেতারাও কম দামে সবজি কিনতে পারবেন।।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি)মাহবুবা ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাসসহ কালকিনি উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন স্ত‌রের সাধারণ কৃষক ও ক্রয়-‌বি‌ক্রেতারা।

  • সুজানগর উপজেলা জামায়াতের নতুন আমীর হিসেবে শপথ নিলেন অধ্যাপক হেসাব উদ্দিন

    সুজানগর উপজেলা জামায়াতের নতুন আমীর হিসেবে শপথ নিলেন অধ্যাপক হেসাব উদ্দিন

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুজানগর উপজেলা শাখার নব নির্বাচিত আমীর অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫- ২৬ কার্যকালের জন্য উপজেলা আমীর হিসেবে নির্বাচিত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী সাবেক এ ছাত্রশিবির নেতা ।নবনির্বাচিত উপজেলা আমীর কে এম হেসাব উদ্দিনকে শপথ বাক্য পাঠ করান পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান। নবনির্বাচিত সুজানগর উপজেলা আমীর কে এম হেসাব উদ্দিন এর আগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগর শাখার সেক্রেটারি, জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসরের পরিচালক, বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামী সুজানগর পৌর শাখার আমীর ও সুজানগর উপজেলা শাখার সেক্রেটারী হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।শুক্রবার উপজেলা অডিটরিয়ামে উপজেলা আমীর অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী টুটুল হোসাইন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সুজানগর উপজেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলন ও নবনির্বাচিত উপজেলা আমিরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মো. জহুরুল ইসলাম খান।বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যন্ট সেক্রেটারী অধ্যাপক আবু সালেহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন জামায়াতের পাবনা পৌরসভার শূরা সদস্য হাবিবুল্লাহ বাহার, জেলা সহকারী অফিস সেক্রেটারী আসাদুজ্জামান। সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুজানগর পৌর শাখার নায়েবে আমীর রফিকুল ইসলাম ও আমীর ফারুক-ই আযমসহ জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।শপথ গ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত আমীর অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিন নবী রাসুলের পথ অনুসরণে ইসলাম ও সাংগঠনিক কাজ সততা এবং নিষ্ঠার সাথে পালনের জন্য উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • গোদাগাড়ীতে পরীক্ষামূলকভাবে  পতিত জমিতে জয়েন্টকিউ জাতের আনারস চাষ

    গোদাগাড়ীতে পরীক্ষামূলকভাবে পতিত জমিতে জয়েন্টকিউ জাতের আনারস চাষ

    রাজশাহী থেকে মো. হায়দার আলীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ২ জন কৃষক আশার আলো দেখছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের আম বাগানের পতিত জমিতে জয়েন্টকিউ জাতের আনারস চাষ করেছে।

    আনারস মূলত টাংগাইলে হয়। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন ওই এলাকার মাটি ও গোদাগাড়ীর মাটির সাথে অনেক গুনাগুনের মিল থাকায় আনারস চাষের উজ্জল সম্ভারনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস বিনা মূল্য আনারসের চারা উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়ন ব্লকের ঈশ্বরীপুর ধামিলা গ্রামের কৃষকের নাম মো : মনিরুল ইসলাম, ১ বিঘা আম বাগানের পতিত জমিতে আনারসের চারা লাগিয়েছেন। এ পর্যন্ত শ্রমিক, চাষ, সার বাবদ খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। অন্য একজন উপজেলার কদমশহর এলাকার কৃষক মো : আমিন ১৫ কাঠা পতিত জমিতে আনারসের চাষা রোপন করেছেন। তার ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার টাকা।

    গোদাগাড়ীতে বেশী বেশী ডিপটিউবলের মাধ্যমে সেচের জন্য পানি উত্তোলন করায় পানির স্তর দিনে দিনে নীচে নেমে যাচ্ছে। বৃষ্টপাত কম হওয়ায় পানি রিচার্জ কম হচ্ছে। তাই অঞ্চলে আনারস চাষ করলে প্রধান সুবিধা এতে পানিসেচ তেমন লাগেনা।
    সাধারণত আম বাগানের পতিত জমি কোন কাজে আসে না তাই এ পতিত জমির ব্যবহার ও কৃষকের বাড়তি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকার মানুষের ফলের ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা। এধরনে আনারসের গড় ওজন প্রায় ১ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

    ঈশ্বরীপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার অতনু সরকার বলেন, আনারস মূলত টাঙ্গাইল জেলায় চাষ হয় টাঙ্গাইলের মাটি আর রাজশাহীর মাটি প্রায় একই ধরনের। তাই আশাকরছি আনারসের ফলন ভালো হবে। আমি এর আগে ২০১০ সালে আনারস এর চারা টাংগাইল থেকে এনে চাষ করিয়েছিলাম অল্প জায়গায় । তখন ফলন ভালো হয়েছিল, আশা করি এবারও ভালো হবে। আগামী জৈষ্ঠ্যমাসে আনারস ধরবে। এর আগে একজন কৃষককে ১০০ টি চারা টাংগাইল থেকে এনে চাষ করিয়ে ছিলাম তখন ভালো ফলন হয়েছিল, স্বাদ ছিল অসাধারণ, সে চাষি মারা যাওয়াও আর চাষ সম্প্রসারণ করতে পারিনি।

    কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান ১ বিঘা আম বাগানের পতিত জমিতে আনারসের চারা লাগিয়েছেন। বিনামূল্য কৃষি অফিস থেকে চারা পেয়েছি, পানি সেচ লাগবে না, পরিচর্যা, অন্যান্য খরচ কম, ফলন ভাল হবে ইনসাল্লাহ লাভবান হব।

    উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ মরিয়ম আহম্মেদ বলেন, এখন আমাদের নির্দেশা এক ইঞ্চি জায়গা ফাঁকা রাখা যাবে না। কোন না কোন জিনিস লাগাতে হবে। নিজ পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য। বেশী হলে বাজার জাত করবেন। তাই আম বাঁগানের ফাঁকা (পতিত) জমিগুলি কোন কাজে আসে না তাই ওই সব স্থানে কৃষকদের বিনা মূল্যে চারা দিয়ে জয়েন্টকিউ জাতের আনারস চাষ করার ব্যবস্থা করচ্ছি। ভাল হলে আগামীতে ব্যাপক ভাবে করা হবে।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী

  • বীর মুক্তিযোদ্ধা  আব্দুর রাজ্জাকের বীরত্বের গল্প

    বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের বীরত্বের গল্প

    আলিফ হোসেন,তানোর
    রাজশাহীর তানোরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের বীরত্বের গল্প এখানো বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে মুখে শোনা যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের বীরত্বগাথা অবদান আজও চোখে ভাসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। তরুণ-যুবকদের উদ্বুদ্ধ করে রনাঙ্গণে পাঠাতে তার নানামুখী পদক্ষেপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুক্তিযোদ্ধারা। পেশায় শিক্ষক এই বীর মুক্তিযোদ্ধা এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে সমাজের জনসাধারণের মাঝেও ছড়িয়েছেন দ্যুতি। ফলশ্রুতিতে জেলার বাইরেও ছড়িয়েছে তার পরিচিতি। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি রাজশাহীর তানোর পৌরসভার তালন্দ মহল্লায়। ১৯৪৪ সালের ১১ নভেম্বর তৎকালীন মালদহ জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমার (বর্তমান সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের শিবিরের হাট এলাকা) পিরোজপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। দেরাশতুল্লাহ মন্ডল ও সাহেরা বিবি দম্পতির ৫ সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তার ভাই জালাল উদ্দিনও বীর মুক্তিযোদ্ধা। শিক্ষক হওয়ায় তিনি ‘রাজ্জাক মাস্টার’ নামে সুপরিচিত। তার এফএফ নম্বর ০১৮১০০০১৫৩৩ এবং লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ০৩০২০৮০০০৫।
    জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে ছাত্রজীবন শেষে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে আব্দুর রাজ্জাক রাজশাহীর তানোরে এসে বসবাস শুরু করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজ সংস্কারক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এলাকায় তার পরিচিতি ছড়ায় অল্পদিনেই। ছাত্রজীবনের ধারাবাহিকতায় চাকুরী জীবনে এসে দেশের মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখতেন, ‘৬৬-এর ছয় দফা, ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ‘৭০-এর নির্বাচন- প্রতিটি ঘটনায় অতপ্রতভাবে জড়িত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছুদিন পর ১৯৭১ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তানোর থেকে রাজশাহী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ গিয়ে নিজ জন্মস্থান সুন্দরপুর এলাকা থেকে ৫-৬ জনকে সাথে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য মালদহের জঙ্গিপুরের স্যাকারিপুরে যান। সেখানে ছাত্র ইউনিয়নের নেতা সন্তোষ মৈত্রের পরামর্শে পনুরায় দেশে ফিরে আসেন আরও বেশি মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহের উদ্দেশ্য। এই দফায় তিনি আরো ২০-২২ জনকে সঙ্গে নিয়ে গৌড়বাগান ইয়্যুথ ক্যাম্পে ভর্তি করিয়ে মুল ট্রেনিংয়ে পাঠানো হয়। গৌড়বাগান ক্যাম্পে অবস্থাকলীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যাওয়া তরুণ-যুবকদের উদ্বুদ্ধকরণে বক্তব্য ও প্রাথমিক ট্রেনিং প্রদান করতে থাকেন।
    ওই সময়কার স্মৃতিচারণ করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মে মাসে ১ম সপ্তাহে তানোর থেকে রাজশাহীতে গেলে গণি দারোগার সঙ্গে দেখা হয়। গনি দারোগা আমাকে বলেন, ‘আপনি লিস্টেড, আপনি তিন নম্বরে আছেন। এক নম্বরে আছে মুন্ডুমালার মতিউর রহমান, তিনে আপনিসহ ১৭ জনা মোট।’ সেদিনই রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে যাই। সেখানেও আমার নাম কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার খবর পাই। সেদিন রাতেই গ্রামের বাড়ি গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করে নিজ ছোট ভাইসহ ৫-৬ জনকে নিয়ে ভারতে চলে যাই।’
    আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মে মাসের ৮/৯ তারিখ ভারত গেছি। শামসুল হুদা, হেলাল এরা সঙ্গে গেছিল, লালগোলায় উঠলাম। রাতে না খায়্যা, দিনে না খায়্যা জোহরপুর বর্ডার দিয়্যা নৌকা চালায়ে গেলাম। আসরের সময় উঠলাম সেকারিপুরে। তার পরদিন গৌড়বাগান ক্যাম্পে গেলাম। বাচ্চু ডাক্তার ছিল, মইনুদ্দিন, মজিবুর এরা ছিল। সেখানে নাম লিখে নিল, আমার আন্ডারে ২০-২২ জন। আমাকে বলল, আপনি এডজুটেন্ট হয়ে থাকবেন। প্রায় ১৯০০ ছাইল্যা (ছেলে); ৩টা ভাগ করে। আমি একটাতে বক্তব্য রাখি, মইনুদ্দিন একটাতে বক্তব্য রাখে, ইংরেজির প্রফেসর ইবরাহিম আরেকটাতে। আবার মালদাহ ফিরে আসলাম। রাজশাহী থেকে যারা পালিয়ে আসলো তাদের আশ্রয় ও মোটামুটি ৪২ জনকে খাবার একসঙ্গে দিই। জানতে পারি, আদমপুর ক্যাম্পে আমাদের ১৮ জনকে শত্রুপক্ষ ভেবে আটকানো আছে, অরা গেছে, কিন্ত অরাকে খাইতে দেইনি আটকে রেখেছে। তারা এমএনএ‘র নাম বলতে পারছে না। তদের গিয়ে বাঁচাই।’
    এলাকাবাসী জানান, তৎকালীন তরুণ যুবকদের সংগ্রহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল আব্দুর রাজ্জাকের। তাদেরই একজন তালন্দ এ.এম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, উনি আমাকে বলেন- ‘তুমি চলো; অসুবিধা নাই, ইয়াং ছেলে। ম্যালা (অনেক) বুঝনোর পর আমি রাজি হলাম। আমাকেসহ আরো অনেককে রিক্রুট করার জন্য মালদাহতে একটা হল রুম নিয়ে যায়। সেখানে রাজ্জাক সাহেব ছিলেন। উনি অর্গানাইজেশন করছেন, এটা আমি বুঝতে পারলাম। ছেলেদেরকে কালেকশন করছিলেন বিভিন্ন ক্যাম্পে, মুক্তিযুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বুঝাচ্ছে, অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।’
    বীর মুক্তিযোদ্ধা কার্তিক চন্দ্র দাস বলেন, ‘উনি আমার শিক্ষাগুরু, একদিন দেখি আমাদের শরণার্থী ক্যাম্পে উনি এসেছেন আমাদের মত তরুণ ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করানোর জন্য, স্যারের অনুপ্রেরণায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫ জন রাজি হলেও শেষ পর্যন্ত আমরা ৫-৬ জন ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করি।’
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের সুন্দরপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘উনার জন্মস্থান এখানে। এখান থেকে মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেছেন। কিন্তু কাগজকলম তানোরে। ৩০ বছর থেকে আমি ইউনিয়ন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছি, আগে ১৫ বছর করেছি। উনি (রাজ্জাক মাস্টার) আমাদের সিনিয়র। উনি ‘৭১-এ যুদ্ধ করেছে। মুক্তিযোদ্ধাতে লিয়্যা (নিয়ে) যাওয়ার এলাকাতে তিনটা লোক। একটা রাজ্জাক মাস্টার, একটা মুনসুর ডাক্তার আর একটা শামসুল। আমি বাড়ি থাইক্যা গেছি মাত্র ৭টা টাকা লিয়্যা, বাপের পকেট থাইক্যা চুরি করে, তাও যাইতে যাইতে ঘাটাতে (রাস্তায়) কুনঠে (কোথায়) পইড়্যা (পড়ে) গেছে বুঝতে পারিনি। হামরাকে (আমাদের) লিয়্যা (নিয়ে) যাওয়া, ইন্ডিয়া পৌঁছা পর্যন্ত, খরচা-খরচ সব উনাদের।’
    বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন বলেন, ‘রাজ্জাক মাস্টার মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি একজন সফল সংগঠক। তিনি আমিসহ আমাদের এলকার প্রায় ৩০ জনকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে সহয়তা করেছেন এবং সেখানে শিক্ষা দিয়েছেন।’ বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘রাজ্জাক মাস্টার আমাকে সাথে করে ভারতে নিয়ে গেছে, নিয়ে গিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিয়েছে। উনি সংগঠক।’
    তানোর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে উনি লোক পাঠিয়েছেন ট্রেনিং নেওয়ার জন্য। উনি আমার অনেক অনেক সিনিয়র ব্যক্তি। রাজ্জাক ভাই সম্মানীয় ব্যক্তি, এলাকার সব মানুষই তাকে সম্মান করে।’
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার নামে তাকে চিনি। উনি শুধু মুক্তিযোদ্ধা নয়, পাশাপাশি তাকে সংগঠকও বলা যায়। তার ভাই জালাল উদ্দিনও একজন মুক্তিযোদ্ধা, তারা দুই ভাই মুক্তিযোদ্ধা। আমি জানি, আব্দুর রাজ্জাক সাহেব গৌড় বাগান ক্যাম্পে অনেককে নিয়ে গেছেন। উনি গৌড় বাগান ক্যাম্পে গেছেন, ক্যাম্পে সুশৃঙ্খলভাবে রেখে এসেছেন। গুছিয়ে দিয়ে এসেছেন, সাহস-শক্তি জুগিয়েছেন। আবার উনি বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন, আবারও লোক নিয়ে গেছেন। এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যেয়ে নিয়ে যেয়ে ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।’ খাইরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য অনেক তার অবদান আছে। শুধু মুক্তিযোদ্ধা নয়, দেশের জন্য বুঝিয়েছেন, স্বাধীনতা কী, স্বাধীনতা হলে কী সুবিধা আছে, আমরা কী অবস্থায় আছি। আমি মনে করি, তিনি বড় মাপের একজন সংগঠক এবং মুক্তিযোদ্ধা। উনি সম্মানিত শ্রদ্ধার ব্যক্তি।#

  • মিজান চৌধুরীর হাতকে শক্তিশালী করতে   আজমপুর গ্রামে বিএনপির মতবিনিময় সভা

    মিজান চৌধুরীর হাতকে শক্তিশালী করতে আজমপুর গ্রামে বিএনপির মতবিনিময় সভা

    দোয়ারাবাজার সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মান্নার গাও ইউনিয়ন শাখার ২নং ওয়ার্ড আজমপুর গ্রামে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শুক্রবার ৮ নভেম্বর রাতে আজমপুর গ্রামে ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরীর হাতকে শক্তিশালী করতে এক বিশাল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    আজমপুর গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বি মমশির আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মান্নার গাও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবু হেনা আজিজ বলেন, ২৪ এর স্বাধীনতার পূর্ণাঙ রূপ পেতে হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, খুনি হাসিনা আমাদের মামলা হামলা দিয়ে অনেক জুলুম করেছে। আজ কোথায় হাসিনা, তার বাবার চিহ্ন গুলো ও মুছে ফেলছে জনগণ এই কুলাঙ্গার হাসিনার কারণে।

    এডভোকেট সাইফুল ইসলাম জনি ও বিএনপি নেতা আব্দুল গফুর এর যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপি নেতা আব্দুল মালেক, মান্নার গাও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল আলিম, শ্রমিক দল নেতা জিয়াউর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ও ইউপি সদস্য আব্দুল মছব্বির আলম, রিয়াছদ আলী, আব্দুল গফুর,
    যুবদলের নেতা, জমির হোসেন, এশাদুল হক লাল, ইউপি যুবদল নেতা আশরাবুল হোসেন তালুকদার, বদরুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, গৌছ আলী,দেলোয়ার হোসেন, ছাত্রদল নেতা ফয়েজ আহমদ, আলমগীর হোসেন, আব্দুল্লা আল মামুন প্রমুখ।

  • কালীগঞ্জে আগাম আমন ধান কাটা শুরু

    কালীগঞ্জে আগাম আমন ধান কাটা শুরু

    মো.হাসমত উল্লাহ,লালমনিরহাট।।

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। এখন আমন মৌসুম চলছে। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে হলুুুদ লালচে সোনালী ধান খেত। যতো দূর চোখ যায়, কেবল হলুুুদ লালচে সোনালী আর হলুুুদ লালচে সোনালী। এমন অপরুপ দৃশ্য দেখে সবাই মুগ্ধ। আর কেয়েক দিনের মধ্যে পুরো পুরি ভাবে পাকা ধান কাটা শুরু হবে। গোলায় উঠাবে নতুন ফসল। এবার আমনের ধান রোপণে কিছুটা দেরি হলেও ফসল তোলা নিয়ে আশাবাদী কৃষকরা। সব কিছু ঠিক থাকলে আমনের বাম্পার ফলনে দেরির ক্ষতিটা পুষিয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

    গত(৯ই নভেম্বর)২০২৪ইং কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে,কয়েকদিনের মধ্যেই কৃষক ধান কাটা নিয়ে ব্যস্থ হয়ে যাবে মাঠের পর মাঠ এখন হলুুুদ লালচে সোনালী রংঙ্গে যা দেখে কৃষকের মন আনন্দে ভরে যাচ্ছে। এতোদিনের পরিশ্রমের ফসল তারা ঘরে তোলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। অপেক্ষার দিন শেষে তারা সোনালী ধানে গোলা ভরবেন এমনই স্বপ্নে বিভোর উপজেলার কৃষকদের।

    কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায়, জানান, উপজেলায় ১৭হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপন হয়চ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবং নিবিড় পরিচর্যাসহ যথা সময়ে জমিতে সার ও কীটনাশক দেওয়ায় এবার আমনের ধানের লক্ষ মাত্রা পূরন হবে বলে আশা করছেন।

    হাসমত উল্লাহ ।।

  • লক্ষ্মীপুরে দূ-র্বৃত্তের ছু-রিকাঘাতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিহ-ত

    লক্ষ্মীপুরে দূ-র্বৃত্তের ছু-রিকাঘাতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিহ-ত

    নাজিম উদ্দিন রানা:লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১নং উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও কাজীর দীঘির পাড়ের স্বর্ণ ব্যাবসায়ী হিরলাল দেবনাথ শুক্রবার ৯ টার পর দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পথে দূর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

    নিহত হিরালাল দেবনাথ সদর উপজেলার উত্তর হামছাদীর কাজিরদিঘীরপাড় এলাকার প্রপুল্ল কুমার দেবনাথের ছেলে। এ ঘটনার পর এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। তবে কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

    বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, হিরালাল দেবনাথ কাজিরদিঘীরপাড় বাজারে মাতৃশিল্পালয় নামে একটি জুয়েলারির ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করতেন তিনি। ব্যবসার কার্যক্রম শেষ করে প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাত ৯টার দিকে হিরলাল দেবনাথ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলযোগে ছেলেকে নিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। বাড়ির পাশে মোটরসাইকেল থেকে তাকে নামিয়ে দিয়ে সামনের দিকে যায় তার ছেলে। এ সময় দুর্বৃত্তরা হিরালাল দেবনাথকে আটকে তার বুকে দুইটি ছুরিকাঘাত করে। পরে তার তার ছেলে প্রীতম দেবনাথ এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক হিরালাল দেবনাথকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে, বাজারের প্রতিবেশী কাপড়ের দোকানের ব্যবসায়ী যতন দেবনাথ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত রয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের ছেলে প্রীতম দেবনাথ। তিনি জানান, তাদের দোকানের সামনে প্রায়ই ব্যবসায়ী যতন দেবনাথরা কাপড় ঝুলিয়ে রাখে। এতে দোকানের সামনে অন্ধকার থাকে। এ নিয়ে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে রাতের অন্ধকারে তার বাবাকে ছুরিকাঘাত হত্যা করে যতন দেবনাথ ও তার সহযোগীরা।

    এদিকে, ঘটনার পর থেকে যতন দেবনাথ পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

    সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. কমলাশীষ জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগে তার মৃত্যু হয়। তার বুকে দুটি ছুরিকাঘাত রয়েছে।

    সদর থানার ওসি মো. আবদুল মোন্নাফ বলেন,কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • সুজানগরে জামায়াতের রুকন সম্মেলন ও উপজেলা আমীর এর শপথ

    সুজানগরে জামায়াতের রুকন সম্মেলন ও উপজেলা আমীর এর শপথ

    এম এ আলিম রিপন ঃবাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুজানগর উপজেলা শাখার রুকন সম্মেলন ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নব নির্বাচিত আমীর অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার উপজেলা অডিটরিয়ামে উপজেলা আমীর অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী টুটুল হোসাইন বিশ^াসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মো. জহুরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যন্ট সেক্রেটারী অধ্যাপক আবু সালেহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন জামায়াতের পাবনা পৌরসভার শূরা সদস্য হাবিবুল্লাহ বাহার, জেলা সহকারী অফিস সেক্রেটারী আসাদুজ্জামান। সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুজানগর পৌর শাখার নায়েবে আমীর রফিকুল ইসলাম ও আমীর ফারুক-ই আযমসহ জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নব নির্বাচিত আমীর অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিনকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান অতিথি পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মো. জহুরুল ইসলাম খান।

    সুজানগর(পাবনা) প্রতিনিধি।।।

  • হত্যাসহ তিন মামলার আসামী ঝিনাইদহের  সাবেক এমপি ঢাকায় গ্রেফতার

    হত্যাসহ তিন মামলার আসামী ঝিনাইদহের সাবেক এমপি ঢাকায় গ্রেফতার

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    হত্যাসহ তিন মামলার পলাতক আসামী ঝিনাইদহ-২ আসনের সাবেক সাংসদ তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমিকে র‌্যাব গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাভারের নবীনগর এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতরার করা হয়। গ্রেফতারের বিষয়টি ঘটনার দিন মধ্যরাতে নিশ্চিত করেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস। র‌্যাব জানায়, ঝিনাইদহ-২ আসনের সাবেক এমপি তাহজীব আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে জামায়াত কর্মী আব্দুস সালাম হত্যা মামলা রয়েছে। ২০১৩ সালে হেফাজত ইসলামের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের হলে আ’লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশী অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মিছিলে হামলা চালায়। হামলায় নিহত হন ঝিনাইদহ আলীয়া সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুস সালাম। ১১ বছর পর গত ২৭ আগষ্ট নিহত ব্যক্তির শ্বশুর ও কৃষি ব্যাংকের সাবেক কর্মচারী আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম অপু ও সাবেক সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকীসহ আওয়ামী লীগের ২৭০ জনকে আসামি করা হয়। এদিকে গ্রেফতারকৃত সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমির বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড এম এ মজিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও বিএনপি অফিস ভাংচুরের আরো দুইটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি হুকুমের আসামী হয়েছেন। ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে তাহজীব আলম সমি ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকার প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার পিতানূরে আলম সিদ্দিকী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ছিলেন।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।।