Author: desk

  • নড়াইলে নাশকতা মামলায় ইউপির চেয়ারম্যান  সাইফুল ইসলাম সুমন গ্রে-ফতার

    নড়াইলে নাশকতা মামলায় ইউপির চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সুমন গ্রে-ফতার

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইলে নাশকতা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় নাশকতা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান ও সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মো. সাইফুল ইসলাম সুমনকে (৪২) গ্রেফতার করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, সোমবার (১১ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার জয়পুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মো. সাইফুল ইসলাম সুমন উপজেলার চাচই গ্রামের মো.শরিফুল ইসলামের ছেলে ও ৬ নম্বর জয়পুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। তিনি উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি। লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, লোহাগড়া থানায় দায়ের করা একটি নাশকতা মামলায় জয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম সুমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান থানা পুলিশের এ কর্মকর্তা।

  • তানোরে শিক্ষকদের মতবিনিময় সভা

    তানোরে শিক্ষকদের মতবিনিময় সভা

    আলিফ হোসেন,
    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর তানোরে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য শিক্ষার উন্নয়নে শিক্ষকবৃন্দ স্বাধীনভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত হবে এটা আমাদের প্রত্যাশা,এই শ্লোগান সামনে রেখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যান সমিতির মতবিনিময় আয়োজন করা হয়েছে।
    জানা গেছে,গত ১১ নভেম্বর সোমবার উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যান সমিতির উদ্যোগে এবং উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যান সমিতির আহবায়ক ও তানোর পৌরসভা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম মন্টুর সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক আব্দুল বারির সঞ্চালনায় পৌরসভা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে প্রধান শিক্ষকগণের ভুমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কলমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক মন্ডল। অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক, মোহর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমজান আলী, চুনিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম,মোহাম্মপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবাইদুল্লাহ, প্রকাশনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান, বহরইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান, শিক্ষক আনারুল ইসলাম ও আবুল কালাম আজাদপ্রমুখ। সভায় বক্তাগণ বলেন, তারা সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে সমিতি করতে চান।কিন্ত্ত একটি পক্ষ কমিটি ছিনতাই করে আহবায়ককে ছাড়াই কথিত সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে পকেট কমিটি করেছে। যা শিষ্ঠাচার বর্হিভুত ও নীতিমালা পরিপন্থী। তারা আগামিতে উপজেলার সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ পরিচ্ছন্ন ও শক্তিশালী কমিটি গঠন করতে চাই। যারা সর্বদা শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যানে কাজ করবেন।
    প্রসঙ্গত,গত ৯ নভেম্বর শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আইয়ুব আলীর সভাপতিত্বে ও মিজানুর রহমান পারভেজের সঞ্চালনায় উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যান পরিষদের ব্যানারে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
    এদিন সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে নারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলীকে সভাপতি ও কালীগঞ্জ হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম মিজানুর রহমান পারভেজকে সহসভাপতি, চাঁদপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমান হবিবকে সম্পাদক এবং জুমারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আল আমিনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।#

  • বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারি ইউনিয়ন মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার কমিটি গঠন সভাপতি বাদশা-সম্পাদক মোঃ ফারুক

    বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারি ইউনিয়ন মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার কমিটি গঠন সভাপতি বাদশা-সম্পাদক মোঃ ফারুক

    লিটন মাহমুদ, মুন্সীগঞ্জ ঃ

    বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারি ইউনিয়ন মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ তাইজুল ইসলাম বাদশা ও সম্পাদক মোঃ ফারুক ইসলাম।
    সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জ শহরের ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধ এলাকায় অবস্থিত সংগঠনটির জেলা কার্যালয়ে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারিদের নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গিকার করে কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত কমিটি ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সবুজ শিকদার৷ এতে মুন্সীগঞ্জ জেলায় মোঃ তাইজুল ইসলাম বাদশাকে সভাপতি ও মোঃ ফারুক ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। এসময় অন্যান্য ওদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির মুন্সীগঞ্জ শাখার সাবেক সভাপতি মোঃ ইউনুস মিয়া,সংগঠনটির নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি মোঃ বাদশা মিয়া সহ নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রমিক ও নেতাকর্মীরা । পরে বেড়িবাঁধ এলাকায় লাইটারেজ জাহাজ সহ সকল শ্রমিকদের গেজেট অনুয়ায়ী বকেয়া বেতন ও এরিয়া পরিশোধ, নৌ পথের চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস, নৌ-শ্রমিকদের বেকারত্ব দূর করণ, চট্টগ্রামগামী লাইটারেজ জাহাজের সিরিয়ালের নামে কথিত ভলান্টিয়ার নামক চাঁদাবাজদের হাত থেকে শ্রমিক হয়রানি বন্ধের দাবিতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।

    এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারি ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সবুজ শিকদার। এ সময়ে নবনির্বাচিত সভাপতি বাদশা বলেন, আমরা নদীতে চাঁদা বাজী করতে দিবো না যেখানে চাঁদাবাজী, শ্রমিকদের মারধর করা হবে আপনার তাৎক্ষণিক ইস্তানীয় নৌ পুলিশ ফাঁড়ী থানা পুলিশকে , কোষ্টগার্ডের সহযোগিতা নিবেন আমরা নদীতে নিরাপদ ভাবে চলাচল করতে চাই ।

  • ত্রিশালে এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে কসমেটিকস কোম্পানিতে অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা

    ত্রিশালে এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে কসমেটিকস কোম্পানিতে অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    ময়মনসিংহে’র ত্রিশালে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই)’র অনুমোদনহীন পিউ কসমেটিকস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে অনুমোদনহীন কসমেটিকস কোম্পানিকে একলক্ষ টাকা জরিমানা সহ অনুমোদনহীন কোম্পানী’র মালামাল জব্দ করে ডাম্পিং জোনে ধ্বংস করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুয়েল আহমেদ এর নির্দেশনায় রবিবার(১০ই নভেম্বর) দুপুর ২টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত উপজেলা’র সাখুয়া ইউনিয়নে’র নওপাড়ায় সহ বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাহবুবুর রহমান।

    সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, বিএসটিআইয়ে’র অনুমোদন ছাড়াই পিউ কসমেটিকস নামে একটি প্রতিষ্ঠান বেশ কিছুদিন ধরে টয়লেট সোপ, স্ক্রীন ক্রিম ইত্যাদি পণ্য তৈরী ও প্যাকেজিং করে আসছে। বিএসটিআই টিমে’র ফিল্ড অফিসার শাওন কুমার ধর (আবীর) বিএসটিআই আইন, ২০১৮ এর ১৫ (১) ধারা লংঘনে’র অভিযোগ দায়ের করে এবং অভিযোগ আমলে নিয়ে বিএসটিআই আইনের ১৫(১) ধারা লঙ্ঘনে’র জন্য একই আইনের ২৭ ধারায় এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। এবং জব্দকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক ধ্বংসের জন্য বিএসটিআইয়ে’র ফিল্ড অফিসারকে নির্দেশনা প্রদান করে। পরবর্তীতে পৌরসভা’র ডাম্পিং জোনে জনসম্মুখে জব্দকৃত মালামাল ধ্বংস করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুয়েল আহমেদ জানান, বিএসটিআইয়ে’র অনুমোদনহীন পিউ কসমেটিকস নামে’র প্রতিষ্ঠানে পণ্য তৈরী ও প্যাকেজিং করে বাজারজাত করা হয় এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের নির্দেশ প্রদান করা হয়। অভিযান চালিয়ে অর্থদন্ড করা হয়েছে। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনে’র এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে ত্রিশাল থানা পুলিশের একটি টিম সহযোগিতা প্রদান করে। তিনি আরো জানান-ত্রিশালের সর্বসাধারণকে ভেজালমুক্ত করতে ও তাদের সুরক্ষিত রাখতে সকল সেক্টরকে ভেজালমুক্ত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভেজাল মুক্ত উপজেলা প্রশাসন উপহার দিতে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করতে তিনি সকলের সার্বিক সহযোগীতা প্রত্যাশা করেন।

  • মুন্সীগঞ্জে টঙ্গীবাড়ীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশ

    মুন্সীগঞ্জে টঙ্গীবাড়ীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশ

    লিটন মাহমুদ,
    মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধঃ

    মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার টঙ্গবাড়ীতে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলা ও উপজেলা ছাত্রদল।

    রবিবার বিকাল সাড়ে (৩ টায়) টঙ্গীবাড়ী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদল এবং টঙ্গীবাড়ী উপজেলা ছাত্রদল এর উদ্যোগে মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদল এর সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মল্লিক এর নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়।

    উক্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সোনারং-টঙ্গীবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সজীব আহমেদ ইমন দেওয়ান, বিক্রমপুর টঙ্গীবাড়ী ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদল শাখার আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম তানভীর মল্লিকসহ প্রায় তিন শতাধিক ছাত্রদল কর্মী উপস্থিত হয় এ বিক্ষোভ সমাবেশ। 

    উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ সমাবেশটি থানা, ভুমি অফিস হয়ে বড়লিয়া এবং সোনারং মোড় হয়ে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।

    সোনারং-টঙ্গীবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সজীব আহমেদ ইমন দেওয়ান বলেন, ফ্যাসীবাদী আওয়ামীলীগের পেতাত্মারা যাতে টঙ্গীবাড়ীতে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যে সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মুন্সীগঞ্জ জেলা ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলা ছাত্রদল অতন্দ্র প্রহর হয়ে পাহারা দিবো। এ দেশে খুনি হাসিনার ঠাই নাই, কোনো ষড়যন্ত্র বর্দাস্ত করা হবে না।

  • ২০ বছরেও শুরু হয়নি ভরাট হওয়া শিবসা নদী খননের কাজ ; অ-বৈধ দ-খল ও গোচারণ ভুমিতে পরিণত

    ২০ বছরেও শুরু হয়নি ভরাট হওয়া শিবসা নদী খননের কাজ ; অ-বৈধ দ-খল ও গোচারণ ভুমিতে পরিণত

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।

    খুলনার পাইকগাছার ভরাট হওয়া শিবসা নদী খননের কাজ।উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের মধ্যে ১৫-২০ বছর যাবৎ সীমাবদ্ধ রয়েছে।কর্তৃপক্ষের নিরাবতার কারণে নদী ভরাটের বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছে ভুমিদস্যুরা।
    উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত এক সময়ের খরস্রোত প্রমত্তা শিবসা নদী। যার একুল থেকে ওকুল দেখা যেত কুয়াশায় মতো। এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে যেতে হলে নদী পারাপারের কোন বিকল্প ছিলনা। এজন্য ছিলো খেয়াঘাট ও লঞ্চঘাট। ঘাটে থাকতো সারি সারি নৌকা। থাকতো খেয়ার নৌকা, আবার থাকতো জলদি নৌকা। প্রচন্ড ভীড়ে ঠেলাঠেলি করে নৌকা চড়তে হতো সেসময়। এমনকি পালতোলা নৌকাও চলতো এনদীতে। এছাড়াও দিনরাত চলতো লঞ্চ, স্টিমারসহ বিভিন্ন নৌযান। কয়রা- পাইকগাছা ও বড়দল এলাকার লোকজন এ নদী পথেই খলনা ও মোংলা বন্দরে যাতায়ত করতো। এখন সব কিছুই শুধু স্মৃতি মনে হয়। রুপ কথার গল্পের মত। বর্তমানে নদীতে সাধারণ জনগণ পায়ে হেটে চলাচল করছে। বিশাল অংশ চলে গেছে অবৈধ দখলদারদের দখলে। পরিনত হয়েছে গোচারণ ভুমিতে।
    এদিকে পৌরসভায় শহর রক্ষা বাঁধের নামে নদীর মাঝখান দিয়ে রাস্তা তৈরী করে অনেকেই শত শত বিঘা দখল করে নিয়ে চিংড়ী চাষ করছে। তৈরী করেছে বাড়ী ঘর ও স্থাপনা। শিববাটী ব্রীজ থেকে হাড়িয়া পর্যন্ত শিবসা নদীর ১৫ কিলোমিটারের সম্পুর্ন ভরাট হয়ে যাওয়ায় সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে অনেক লেখা লেখি, আন্দোলন সংগ্রাম ও হয়েছে। বিভিন্ন সময় তৎকালীন সংসদ সংসদ্যরা আশ্বাস দিয়েছেন,এইতো টাকা বরাদ্দ হয়েছে, খুব শীঘ্রই খনন শুরু হবে। এই শুনতে শুনতে ১৫ থেকে ২০ বছর চলে গেছে। সবকিছুই তাদের আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।
    নৌকার মাঝি হাজু দাশ জানান, বাবার হাত ধরে নৌকার মাঝি হয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। মানুষ পার করে সংসার চলতো। এখন নদী নেই সেকারনে আমাদের পেশা বদল করতে হয়েছে। আয়-রোজগার কমেছে।
    শামসুর মাঝি জানান, দেশ স্বাধিনের পর থেকে খুলনা থেকে পাইকগাছা বাজারের ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা-নেয়া করছি। এখন নদী ভরাট হওয়ার কারনে অনন্ত ২০কিঃ মিটার বেশি ঘুরে মালামাল শিববাটী ব্রিজের নিচে নামাতে হয়। ফলে মালামাল পরিবহনে খরচ বাড়ছে। নদী খনন হলে পাইকগাছার ব্যবসা-বানিজ্য বাড়বে।
    পাইকগাছার সিনিয়র সাংবাদিক জিএম মিজানুর রহমান জানান, শিবসা নদীটি এ অঞ্চলের মানুষের এখন গলার কাটা হয়েছে। ভূমিদস্যুরা চর ভরাটী জমি দখল করে নিচ্ছে। অচিরেই নদীটি খনন করা প্রয়োজন।
    পাইকগাছা নাগরিক কমিটির সভাপতি মোস্থফা কামাল জাহাঙ্গীর জানান, আমরা শিবসা নদী খননের। জন্য প্রায় ১৫বছর আন্দোলন করছি। বিগত সকল সংসদ সংসদরা আমাদের খননের জন্য আস্বাস দিয়ে পাইকগাছাবাসীকে আশাহত করেছে। অচিরেই এনদী খনন করতে না পারলে শিবসা নদী মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। পৌরবাসী বন্যায় আক্রান্ত হবে।
    উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী রাজু আহম্মেদ জানান, নদী খনন না হওয়া পর্যন্ত এ সমাস্যা সমাধানের কোন উপায় নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারকে বার বার অবহিত করা হয়েছে।
    পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন জানান,আমি নিজেও দেখেছি শিবসা নদী পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে।খনন করা জরুরী। শিবসা নদী খননের বিষয়ে উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবো।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • মুন্সীগঞ্জে চরাঞ্চলে দুইগ্রুপে সংঘ-র্ষ ,ক-কটেল বি-স্ফোরণ ও গু-লি, আহত- ৪

    মুন্সীগঞ্জে চরাঞ্চলে দুইগ্রুপে সংঘ-র্ষ ,ক-কটেল বি-স্ফোরণ ও গু-লি, আহত- ৪

    লিটন মাহমুদ,
    মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

    মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের শোলারচর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন উভয় পক্ষের ৪ জন। ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

    রোববার (১০ নভেম্বর) বিকেল ৫ টার দিকে জেলা শহরে বিএনপির সমাবেশ আসা’ কে কেন্দ্র করে আধারার সোলারচর গ্রামে আধারা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ড সদস্য মজিবুর ভূইয়া গ্রুপের সাথে একই গ্রামের আহাদুল বেপারী গ্রুপের লোকজনের সংঘর্ষ হয়।

    ককটেল ও ছোঁড়া গুলির আঘাতে আহতরা হলেন আহাদুল বেপারী গ্রুপের শোলারচর গ্রামের জহির মিজির ছেলে বাবু (২৭), মহি মিয়ার ছেলে পলাশ (২২), মজিবুর ভূইয়া গ্রুপের সোলারচর গ্রামের আসলাম গাজির ছেলে জিহাদ (২২), বকুলতলা গ্রামের আসাদ সরকারের ছেলে সুজন।

    এ ব্যাপারে আহাদুল বেপারী গ্রুপের শাহেক মিজি বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় ওরা আমাদের লোকজনের উপর হামলা করে। গুলিতে আমাদের দুইজন আহত হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    অভিযোগের কথা অস্বীকার করে মজিবুর ভূইয়া বলেন, আমরা লোকজনের উপর ওরা হামলা চালায় বিকেলে। পরে সন্ধ্যায় দুই পক্ষের পাল্টা পাল্টি সংঘর্ষে ঘটনা শুনেছি। জিহাদ নামে আমাদের পক্ষের এক ছেলে গুরতর আহত হয়েছে শুনেছি। আমি গ্রামে বসবাস করি না। আমাদের মিথ্যা অভিযোগ করছে।

    এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার (ওসি) মো. খলিলুর রহমান রোববার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহতে খবর পাওয়া যায়নি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

  • গু-ম-খু-নের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বিএনপি রাঙ্গাবালীতে মোশারফ হোসেন

    গু-ম-খু-নের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বিএনপি রাঙ্গাবালীতে মোশারফ হোসেন

    রফিকুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী),
    গুম-খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বিএনপি। গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হওয়া অত্যাচার ও জুলুমের জবাব এখন আমরা চাইলেই দিতে পাড়ি। কিন্তু আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগের মতো একই কাজ যদি বিএনপি করে তাহলে ওদের সাথে আমাদের পার্থক্য কোথায়। আমি স্পষ্টভাবে বলছি বিএনপি গুম-খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বিএনপি গণমানুষের রাজনৈতিক দল। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপি আয়োজনে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। শনিবার বিকাল ৪টার সময় রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এক জনসভা করা হয়। এতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান ফরাজী এর সভাপতিত্বে, উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো: হাসান মামুন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংসু সরকার কুট্টি, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হারুন হাওলাদার। সভায় রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থত ছিলেন।

  • নূর হোসেন দিবস ও কিছু কথা

    নূর হোসেন দিবস ও কিছু কথা

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ মহান ও নিবেদিত পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সর্বজন স্বীকৃত। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই মনে করা হয় শিক্ষকদের। পাঠদানে আত্ম-নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহিত থাকা সুপ্ত মেধা জাগ্রত করা, দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের অর্থ ব্যয়ে দেশ সেরা হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষকও দেশে বিরল নয়। এ জন্যই সমাজে শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, শিক্ষার্থীরাও যুগে যুগে স্মরণ রাখেন। পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সর্বজন স্বীকৃত। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই মনে করা হয় শিক্ষকদের। পাঠদানে আত্ম-নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহিত থাকা সুপ্ত মেধা জাগ্রত করা, দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের অর্থ ব্যয়ে দেশ সেরা হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষকও দেশে বিরল নয়। আজ কেন? বেসরকারী শিক্ষক সমাজ অবহেলিত, লাঞ্চিত হচ্ছে, পুলিশ কর্মকর্তা ও শিক্ষা উপদেষ্টার পায়ে ধরে কাঁদতে হচ্ছে কেন ? বেসরকারী শিক্ষক সমাজ কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকায় ২২ দিন লাখ লাখ শিক্ষক কর্মচারীগণ আন্দোলন করেছেন। দিন দিন যেন শিক্ষক সমাজের সম্মান তলানীতে নেমে যাচ্ছে, সরকার আসে সরকার যায় বেসরকরী শিক্ষক, কর্মচারীদের ভাগ্যের পরিবর্তন নাহি হয়। সাবার বেলায় ১৬ আনা আর বেসরকারী শিক্ষকদের বেলায় আনা। অবহেলিত বেসরকারী শিক্ষক সমাজের এব্যপারে লিখার জন্য বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত নিয়ে বসলাম, লেখাটি শেষ না হতেই চলে ১০ নভেম্বর নূর হোসেন দিবস। টেলিভিশন, স্থানীয়, জাতীয়, অনলাইন পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নূর হোসেন কথা ও ছবি ভেসে আসছে, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তাই লিখার থিম পরিবর্তন করে এ বিষয়ে আল্লাহ নাম নিয়ে লিখা শুরু করলাম।

    মানব জাতি মানব সভ্যতার ধারাবাহিক ইতিহাসের ধারায় এমন কিছু দুঃখজনক, বেদনাদায়ক, হৃদয় গ্রাহী ঘটনা সংযোজিত হয়েছে যা অধ্যায়ন করলে মন শুধু ব্যথিত ও মর্মহত হয় । আর এ সব ঘটনা সংঘটনের নায়কদের উদ্দেশ্যে মন থেকে বেরিয়ে আসে নানা ধিক্কারজনক উক্তি। ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায় এমন কিছু মহাস্থানের জীবন এই পূথিবীতে অকালে ঝরে গেছে, যাদের এই অপমৃত্য বিবেকই কোন অবস্থাতেই মেনে নিতে পারে না । মানব জাতি ও মানব সভ্যতার চিরকল্যানকামী এ রকম এক তরুণ নক্ষত্রের নাম “নূর হোসেন”।

    গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে নূর হোসেন একটি অবিস্মরণীয় নাম। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর এদিনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের এক লড়াকু সৈনিক হিসেবে তিনি রাজপথে নেমে এসেছিলেন বুকে পিঠে ’গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান লিখে। গণতন্ত্রের দাবিতে সোচ্চার এই যুবকের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল স্বৈরাচারের বন্দুক। স্বৈরাচারের বুলেট বুকে বরণ করে নিয়েছিলেন নূর হোসেন, তাই তো বেঁছে আছে সবার মাঝে, নূর হোসেনেরা মরে না তারা বেঁছে থাকে কোটি কোটি মানুষের মাঝে।”

    আজ ১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস। গণতন্ত্রের জন্য নূর হোসেনের প্রাণ দেওয়ার তিন যুগ পরও গণতন্ত্রকামী মানুষকে রাস্তায় নামতে হয়েছে। সহস্র প্রাণের বিনিময়ে আরেক স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে হয়েছে। এখনও গনতন্ত্র ফিরে আসেনি।
    ঢাকার নারিন্দায় এক অটোরিকশাচালকের ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন এই নূর হোসেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষে নূর হোসেন গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন।
    জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন ১৯৮৭ সালের এই দিনে নূর হোসেন বুকে ও পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান লিখে রাজপথে বের হয়েছিলেন। সেদিন পল্টন এলাকার ‘জিরো পয়েন্ট’ অতিক্রম করার সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়ে মিছিলটিকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখন নূর হোসেনসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

    নূর হোসেনের সেদিনের আত্মত্যাগ মানুষের মনকে নাড়া দিয়েছিল। বুকে-পিঠের স্লোগান সংবলিত তার শরীর হয়ে উঠেছিল আন্দোলনের প্রতীক। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আরও রক্তপাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। নূর হোসেন শহীদ হওয়ার পর মাস না পেরোতেই ৬ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন এরশাদ। এর তিন মাস পর তিনি জাতীয় সংসদের আরেকটি নির্বাচনের আয়োজন করেন। ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে বড় দলগুলো অংশ না নেওয়ায় ওই সংসদ রাজনৈতিক বৈধতা পায়নি।

    এরশাদ এরপরও ক্ষমতায় টিকে ছিলেন পৌনে তিন বছর। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ঘটনাবহুল একটি দশক শেষ হয়। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ নেয়। বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। যে জায়গাটিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন নূর হোসেন, সেই জিরো পয়েন্ট এখন শহীদ নূর হোসেন চত্বর।
    বিএনপি দিনটি পালন করে ‘ঐতিহাসিক ১০ নভেম্বর দিবস’ হিসেবে।

    এক শ্রমজীবী নিম্নবিত্ত পরিবারের এই তরুণ কী ভেবে সেদিন নিজের শরীরকে জীবন্ত পোস্টার করে তুলেছিলেন? কে তার শরীরে লিখে দিয়েছিল এই শ্লোগান? গুলিবিদ্ধ নূর হোসেনকে সেদিন ঢাকার শাহবাগের পুলিশ কন্ট্রোলরুমের যে সেলে ফেলে রাখা হয়েছিল, সেখানে তখন রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে আটক ছিলেন আরও অনেকে। তাদের মধ্যে ছিলেন লেখক, বিবিসির মোয়াজ্জেম হোসেনও।

    নূর হোসেনের পৈতৃক বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তাঁর পরিবার স্থান পরিবর্তন করে ঢাকার ৭৯/১ বনগ্রাম রোডে আসে। পিতা মুজিবুর রহমান ছিলেন পেশায় রিকশা চালক। তাঁর মায়ের নাম মরিয়ম বিবি। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর নূর হোসেন পড়াশোনা বন্ধ করে গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। নূর হোসেন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঢাকা জেলা আওয়ামী মটর চালক লীগের বনগ্রাম শাখার প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

    নূর হোসেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করা হয়েছে। ১৯৯১ সালে তার চতুর্থ মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রথম দুই টাকা মূল্যের স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। প্রতি বছরের ১০ই নভেম্বর বাংলাদেশে ” নূর হোসেন দিবস ” হিসেবে পালন করা হয়। এছাড়া তিনি যে স্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত হন, তাঁর নামানুসারে সেই জিরো পয়েন্টের নামকরণ করা হয়েছে নূর হোসেন চত্বর। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ নূর হোসেনের একটি মুরাল রয়েছে। ১০ই নভেম্বর তাঁর মৃত্যুর কিছু সময় পূর্বে তোলা তাঁর গায়ে লেখাযুক্ত আন্দোলনরত অবস্থার ছবিটি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

    নতুন প্রজন্মের সংগ্রামী মানুষেরা :দেশ এবং কাল নির্বিশেষে বর্তমান মুহূর্তের পৃথিবীর সকল নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষ। মহৎ ঐতিহ্যের এমন প্রতীকের মৃত্যু নেই। মৃত্যু থাকে না। সেই মহৎ ঐতিহ্যকে আমাদের ক্রমাধিকভাবে অনুসন্ধান করতে হবে; আবিষ্কার করতে হবে এবং ঐতিহ্যের সেই সম্ভবের অপরাজেয় শক্তির বোধে আমাদের উদ্বুদ্ধ হতে হবে। আর কোন হত্যা, গুম, নির্যাতন নয়, প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে আসুক এপ্রত্যশায় দেশের কোটি মানুষ তীর্থের কাকের ন্যয় চেয়ে আছেন।

    লেখক : মোঃ হায়দার আলী।।

  • বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নেছারাবাদে বিএনপি’র গণ সমাবেশ

    বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নেছারাবাদে বিএনপি’র গণ সমাবেশ

    নেছারাবাদ (পিরোজপুর) সংবাদদাতা//

    ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্বরূপকাঠিতে গণ সমাবেশ করেছে বিএনপি। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ডুবি বাজার সংলগ্ন মাঠে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে গণ সমাবেশে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসেন, বিশেষ অতিথি, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপি’র আহবায়ক সাবেক পৌর মেয়র মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক এস কে আলো আমিন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. নাসির উদ্দিন তালুকদার, মো. সোহেল মৃধাসহ আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তরা পিরোজপুর – ২ সংসদীয় আসনে উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার আহবান জানান। সমাবেশে প্রধান অতিথি বলেন, ১৯৭৫ সনে এদিনে বাংলাদেশের দেশ প্রেমিক সৈনিক ও জনতার অভ্যুথানের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সামনে নিয়ে এসে নতুন রাজনীতি সুচনা করেছিলেন। সে রাজনীতি ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্রের রাজনীতি, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের রাজনীতি,গণতন্ত্রের শক্রদের পরাজিত করে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা রাজনীতি। বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার সেই বহুদলীয় গনতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। আওয়ামীলীগের আমলে বিএনপিকে কোন সভা সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তারা আমাদের সাত শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম খুন করেছে। ৬০ লাখের বেশি মানুষের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমুলক মামলা দিয়েছে। তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুথানের মাধ্যমে ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতন হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছে। আজকের এদিনে অন্তবর্তীকালিন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের ভোটে সরকার গঠনের জন্য অতি সত্বর নির্বাচনের তারিখ ও রোড় ম্যাপ ঘোষনা করার দাবি জানাচ্ছি।