আনোয়ার হোসেন,
নেছারাবাদ সংবাদদাতা, পিরোজপুর।।
বিয়ের সম্পর্ক গোপন রেখে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করার অভিযোগ উঠেছে রাজধানী নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ফাল্গুনী রায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার।
স্বাধীন হালদার এর অনুযায়ী, বিয়ের প্রায় ছয় মাস পর ফাল্গুনী রায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে স্বাধীন হালদারকে প্রায় ৪৫ দিন কারাবাস করতে হয়। পরে মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই ও নিজের অবস্থান তুলে ধরতে বরিশালে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীন হালদার দাবি করেন, ফাল্গুনীর সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে স্বরূপকাঠি ফাজিলা রহমান কলেজে পড়াশোনাকালীন সময়ে। পরবর্তীতে ফাল্গুনীর বরিশালের রাজধানী নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি ও পড়াশোনার যাবতীয় খরচ তিনিই বহন করেন। পরে তারা হিন্দু আইনে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে আদালতে বিয়ে (কোর্ট ম্যারেজ) করেন। ফাল্গুনী নার্সিংয়ে অধ্যয়নরত থাকা এবং নার্সিং আইন এবং সামাজিক কারণে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
স্বাধীন হালদারের অভিযোগ, তিনি একাধিক মামলায় জড়িত হওয়া ও আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার পর ফাল্গুনী তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং পরে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। শুধু তাই নয়, মামলা দায়েরের পর ফাল্গুনী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন এবং এসবের প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি আরো জানান, ফাল্গুনী রায়ের পরিবার থেকে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে ওর কারনে আমার মা স্ট্রোক করেছে।
এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, খুলনার প্রান্ত নামে এক যুবক স্বীকার করেন—এক সময় ফাল্গুনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল, তবে বর্তমানে নেই। বরিশালের উৎসব নামের আরেকজন জানান, একসময় ফাল্গুনীর সাথে যোগাযোগ থাকলেও তা বন্ধুত্বের পর্যায়ে ছিল। নেছারাবাদের মনির নামে এক পোল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ী বলেন, ফাল্গুনীর পরিবারের সঙ্গে তার পারিবারিক পরিচয় রয়েছে, তবে কোনো অনৈতিক সম্পর্ক নেই এটা স্বাধীনের ভুল ধারনা।
অন্যদিকে, ফাল্গুনী রায় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার সঙ্গে স্বাধীন হালদারের কোনো বিয়ে হয়নি বলে দাবি করেন, তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। ফাল্গুনীর ভাষ্য অনুযায়ী, “আমাকে কয়েকজন ছেলে জোর করে নিয়ে গিয়ে গলায় ছুরি ধরে সাদা কাগজে সই করায়।” তবে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হলে ধর্ষণ মামলা কেন করেছেন—এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি তিনি।