সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি : পাবনার সুজানগরে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে ।সুজানগর পৌরসভার কাচারীপাড়া স্টেডিয়াম মাঠে শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় ভবানীপুর ব্যাডমিন্টন দলকে পরাজিত করে কাচারীপাড়া ব্যাডমিন্টন দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। পরে খেলা শেষে ছাত্রদল নেতা আব্দুস সবুর জয়ের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও নাজিরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাদের হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুজানগর উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক জনপ্রিয় কাউন্সিলর আনিসুর রহমান খোকন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক শহিদুল ইসলাম দায়েন, এটিভি সুজানগরের পরিচালক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফিরোজ রানা, ক্রিড়া সংগঠক ও জাতীয় যুব শক্তির নেতা মানিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম আলম, সাইফুল ইসলাম, মিন্টু, মাখন, নাবিল, আয়োজক কমিটির সদস্য সদস্য রিমন, চঞ্চল, সাহাব,আমির হামজা, প্রিয় দাস, ইরফান ও সেজান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ নাদের হোসেন তার বক্তব্যে খেলাধুলা যুবসমাজকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিকভাবে দৃঢ় ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে বলে উল্লেখ করেন।
Author: desk
-

সুজানগরে কোকো স্মৃতি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণী
-

পাবনা-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী শিমুল বিশ্বাসের বিশাল নির্বাচনী জনসভা
এম এ আলিম রিপনঃ পাবনা-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে চরতারাপুর ইউনিয়নের তারাবাড়িয়া মাদরাসা মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাবনা-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন জীবনের প্রথম থেকেই অসহায় সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করছি এবং মানুষের সুখে-দুখে পাশে থাকছি তাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্তও মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যেতে চাই। অবহেলিত স্থানীয় চরবাসী,চরতারাপুর ইউনিয়ন ও পাবনা সদর আসনের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে শিমুল বিশ্বাস বলেন, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে নিরাপদ সুখী দেশ গড়তে হবে।ভিন্ন ভিন্ন দলমত থাকতে পারে। কিন্তু সবার বড় পরিচয় মানুষ। আমরা মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সবাইকে ভালো রাখতে চাই। এক্ষেত্রে ধানের শীষের বিজয় প্রয়োজন। তাই ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি।চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রহমত আলী শেখের সভাপতিত্বে ও সুজানগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক আলহাজ্ব মোসাব্বের হোসেন সঞ্জু, বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পাবনা সদর উপজেলা বিএনপির সবেক সভাপতি এ.কে.এম মুসা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেহানুল ইসলাম বুলাল, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুন্নবী স্বপন, বিএনপি নেতা আনিছুল হক বাবু,সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ ও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি মির্জা আব্দুল বারেক। চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে এবং নায়েব আলী শেখ,খোকন জোয়ার্দ্দার ও খোকন খানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জনসভায় অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট আজিজুল হক,অ্যাডভোকেট আরশেদ আলম, অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ , বীর মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জু, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, ছাত্রদল নেতা পাপ্পু,তারেক বিশ্বাস ও রাসেল শেখ প্রমুখ।
-

শিক্ষক ও সাংবাদিক পলাশের ই-ন্তেকাল, দাফ-ন সম্পন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার হরিণ বিকসা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি গোদাগাড়ী উপজেলা শাখার সদস্য, দৈনিক দিনকালের গোদাগাড়ী সংবাদদাতা, সেলিম সানোয়ার পলাশ (৫২) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত শুক্রবার রাত ৭ টা ৩০ মিনিটের অসুস্থ হয়ে মারা যান।
সেলিম সানোয়ার পলাশ গোদাগাড়ী উপজেলার পিরিজপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত্য আব্দুর সাত্তার।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারে থাকার সময় সন্ধ্যায় তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর দ্রুতই তাকে উপজেলা (প্রেমতলী) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের সময় মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ বাড়ি নেওয়া হয়।মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্নীয়স্বজন রেখে গেছেন। শনিবার সকল সাড়ে ১০ সময় পিরিজপুর ফুটবল মাঠে নামাজের জানাজা শেষে পিরিজপুর কবর স্থানে দাফন করা হয়।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহী। -

নড়াইলে কাভার্ড ভ্যান ও মোটরসাইকেল মুখোমুখি সং-ঘর্ষে যুবক নিহ-ত
উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
নড়াইলে কাভার্ড ভ্যান ও মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত। নড়াইল সদর উপজেলায় যশোর-কালনা মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক অন্তু শেখ (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার যশোর-কালনা মহাসড়কের বুড়িখালি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নড়াইলের তুলরামপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত অন্তু শেখ গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার বেলতলা বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শহিদ শেখের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে থাকা নিহতের ছোট ভাই জানান, অন্তু শেখ নামে ওই যুবক নিজ বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলার বেলতলা বালিয়াডাঙ্গা থেকে শুক্রবার সকালে নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া পশুর হাটে গরু কেনা-বেচা করতে যান। গরু কেনা-বেচা শেষে এদিন বিকেলে মোটরসাইকেল যোগে মাইজপাড়া থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রতিমধ্যে যশোর-কালনা মহাসড়কের বুড়িখালি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা কাভার্ডভ্যান এর সাথে অন্তুর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় মোটরসাইকেলটি কাভার্ড ভ্যানের নিচে চলে যায়। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
নড়াইলের তুলরামপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী ঢাকা মেইলকে বলেন, কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি হেফাজতে নেয়া হয়। কাভার্ডভ্যানটি জব্দ হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।
-

পাইকগাছায় হ-তদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
পাইকগাছা ( খুলনা ) প্রতিনিধি।।
পাইকগাছায় হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
কানাডা প্রবাসী মমতাজ শরীফ এবং কাশিয়ানীর শরীফ পরিবারের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে মানিকতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হতদরিদ্র শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয় ।
উপজেলার লস্কর গ্রামের ডা. মুনছুর আলী গাজীর ছেলে প্রযুক্তিবিদ ডক্টর মেহেদী মাসুদ এর সহযোগিতায় তার শাশুড়িরা এই মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালেদা খাতুন এর সভাপতিত্বে বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার এর ইন্সট্রাক্টর মকবুল হোসেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস,এম,আলাউদ্দিন সোহাগ,সহকারী শিক্ষক টুকুজ্জামান,আব্দুর রাজ্জাক সরদার,রমা রানী রায়,তাপসী সরকার, প্রীতিশ সরকার সহ অভিভাবক বৃন্দ।
-

ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লব ব্য-র্থ করতে ষড়/যন্ত্র চলছে-মামুনুল হক
নেছারাবাদ সংবাদদাতা,পিরোজপুর।
ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে সংঘটিত জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ করে দিতে একটি পক্ষের গভীর ষড়যন্ত্র দানা বাঁধতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন খেলাফত মজলিশের আমীর মামুনুল হক। তিনি সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার জন্য শামীম সাঈদীকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার সরকারি স্বরূপকাঠী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জামায়াত মনোনীত পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব শামীম সাঈদীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, রক্তের বিনিময়ে দেড় সহস্রাধিক প্রাণের ত্যাগে অর্জিত এই জুলাই বিপ্লবকে নস্যাৎ করতে একটি দল ও পরাজিত শক্তি এখন একত্রিত হয়েছে। তাদের অনেকের প্রকাশ্যে জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার সৎ সাহস নেই। তাই তারা প্রকাশ্যে মানুষকে গণভোটের পক্ষে ভোট দিতে বললেও গোপনে ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। জাতীয় রাজনীতিতে এ ধরনের মোনাফিকি তিনি দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি দুই ভাইকে জনতার সামনে হাত উচিয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহবান জানান।
জনসভায় নেছারাবাদ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর উত্তর আদাবর থানা জামাতের আমির আল আমিন সবুজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আলহাজ্ব শামীম সাঈদী বলেন, “এলাকার মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। ইনশাআল্লাহ, জনগণের সমর্থন নিয়ে আমরা একটি সুন্দর ও কল্যাণকর বাংলাদেশ গড়ে তুলব।”
“চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ”—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে শামীম সাঈদীর নেতৃত্বে পিরোজপুর-২ আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ব্যাপক গণসমর্থনের প্রত্যাশা করছে। জনসভা থেকে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ শামীম সাঈদী, পিরোজপুর-১ সংসদীয় আসনের ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী,
এবং পিরোজপুর-৩ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. শামীম হামিদী।
এছাড়াও অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা জামাতের আমির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, বরিশাল মহানগর জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মো আব্দুর রবি, খেলাফত মজলিসের অন্যতম নেতা মো নুরুল হক, এন সি পি পিরোজপুর জেলার যুগ্ন আহবায়ক খান মো বাকি বিল্লাহ, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সাবেক এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোঃ শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পিরোজপুর শাখার সভাপতি ইমরান খান, নেছারাবাদ উপজেলা শাখার সভাপতি মো ফেরদৌস, সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আদাবর থানা জামায়াতের আমির আল আমিন সবুজ।আনোয়ার হোসেন ।।
-

নাটোর-২ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের শ-ক্ত লড়াই
এ,কে,এম,খোরশেদ আলম
নাটোর জেলা সংবাদদাতা :আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে শক্ত লড়াই হবে বলে জানা গেছে। প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করার পরের দিন থেকে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন তারা। নাটোর জেলার ৪ টি আসনের মধ্যে নাটোর-২ আসনে বিএনপি ও জামায়াত সহ মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচারের দিনক্ষণ ও কৌশল তারা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। তারা বলছেন, এই আসনে ৬ জন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।
স্থানীয় ভোটার ও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপি ও জামায়াত দুই দলই শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
বিএনপি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তিনবারের নির্বাচিত এমপি সাবেক মন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকায় অন্য কোন দলের প্রার্থী পাত্তা পাবে না।
জামায়াত সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আওয়ামীলীগের প্রার্থী বাবু শংকর গোবিন্দ চৌধুরীর নিকট সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কার্যকলাপে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ইউনুস আলী বাড়তি সুবিধা নিয়ে বিজয়ী হবে, ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাহমিদা ইসলাম তানিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. মোঃ নূরন্নবী মৃধা, জাতীয় পার্টির প্রার্থী রকিব উদ্দিন (কমল) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী।
সাধারণ ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনে জয় পরাজয়ে ভূমিকা রাখবে সন্ত্রাস,দুর্নীতি, উন্নয়ন ও দখলদারিত্ব। তবে নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রার্থীর অতীত বর্তমানের ব্যবহারও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এ,কে,এম,খোরশেদ আলম
নাটোর জেলা সংবাদদাতা। -

পাইকগাছায় তুচ্ছ ঘটনায় একই পরিবারের ৩ নারীকে মা-রপিট
পাইকগাছা ( খুলনা) প্রতিনিধি।।
পাইকগাছায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের ৩ নারীকে মারপিট করে আহত করেছে প্রতিবেশী প্রতিপক্ষরা। আহত ৩ নারীর মধ্যে দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মারপিটের এ ঘটনা ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার উপজেলার কাশিমনগর ঘটেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কাশিমনগর এলাকার বাসিন্দা দিনমজুর আব্দুল মান্নান শেখের স্ত্রী হামিদা বেগম (৩৫) অভিযোগ করেন দিনমজুর পরিবার হিসেবে কাশিমনগর এলাকায় বসবাস করছি। ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বামী আব্দুল মান্নান রাগারাগি করে বাড়ি থেকে চলে যায়। বিকাল ৫ টার দিকে এ নিয়ে আমাদের মা-মেয়ের মধ্যে কথা হচ্ছিল। এসময় প্রতিবেশী নজু বিশ্বাসের স্ত্রী আমাদের বাড়িতে আসলে বিষয়টি নিয়ে আমার মেয়ে ও তার মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ আমাদের মারপিট করে। এর কিছুক্ষণ পর বাড়ি থেকে দুই ছেলে এনামুল ও সিরাজুল এবং তাদের স্ত্রীদের ডেকে এনে আমাদের বেদম মারপিট ও বসতঘরের টালি ভাংচুর করে চলে যায়। এতে আমি, আমার মা ফরিদা বেগম ও মেয়ে মারুফা(১৫) গুরুতর আহত হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার সময় কাশিমনগর বাজারে ফেলে আবারো মারপিট করে এবং জীবন নাশের হুমকি দেয়। আব্দুল মান্নান শেখ বলেন প্রতিপক্ষরা আমার শাশুড়ী, স্ত্রী ও মেয়ে কে ৩ দফা মারপিট করে গুরুতর আহত করলে ওই রাতেই স্ত্রী ও মেয়ে কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এছাড়া রাতে আমার বাড়িতে গিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
প্রেরকঃ
ইমদাদুল হক
পাইকগাছা,খুলনা -

অ-ভ্যুত্থানের পরে এক শ্রেণীর ক্ষমতালোভীরা এককভাবে ক্ষ-মতায় যাওয়ার রঙীন স্বপ্ন দেখা শুরু করলো- রেজাউল করীম
লিটন মাহমুদ।।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলছেন,জুলাই অভ্যুত্থানের পরে এক শ্রেণীর ক্ষমতালোভীরা এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার রঙীন স্বপ্ন দেখা শুরু করলো। আমরা সরল মনে পথ চলতে ছিলাম। তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেখানে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের জাল তৈরি করে আমাদেরকে কেচকাকলে ফালাবার জন্য বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র তৈরি করলো। এমনভাবে ষড়যন্ত্র করা হলো,হয় কেচকাকলে পড়তে হবে না হয় তোমাদেরকে একা হতে হবে।শনিবার (২৪ শে জানুয়ারি) বিকালে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সোনারং আমতলি মাদ্রাসা মাঠে মুন্সিীগঞ্জ-২ আসনের ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী কে এম বিল্লাল হোসাইনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দ্যেশ করে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমাদের সাথে আরও যে ইসলামি দলগুলো ছিলো তাদের উল্লেখযোগ্য নেতাদের আসনে তারা প্রার্থী রাখে নাই। কিন্তু ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিটি আসনে তারা প্রার্থী দিয়েছেন।
আমীর বলেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এখন একা নয়। ওরা একা হয়ে গেছে।
যারা ইসলামের সাইনবোর্ড লাগিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিলো, শরিয়া আইনে তারা দেশ পরিচালনা করবে না। তারা ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ইসলাম প্রিয় মানুষ ওদেরকে ছেড়ে আমাদের সাথে চলে এসেছে। ওরা একা হয়ে গেছে।
এ সময় তিনি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনিত প্রার্থী কে এম বিল্লাল হোসাইনের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন।
-

গরুর গাড়ির ইতিহাস সুপ্রাচীন- এখন বিলুপ্ত প্রায়।
মো: হায়দার আলী | কি বিষয়ে লিখব, তা চিন্তা করছিলাম, শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম এবার কি কৃষির প্রাণ কৃষক কী সরকারী খাদ্য গুদামগুলিতে তাদের কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে পারছেন, না তৃতীয় প্রভাবশালী অসৎ পক্ষ কৃষক সেঁজে খাদ্য গুদাম গুলি ভর্তি করেছেন। ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকদের মাথায়। কেন না বাংলার কৃষকেরা ধান চাষ করে ধান উৎপাদন করতে সার, বীজ, কীটনাশক, নিড়ানী, কৃষি শ্রমিক ইত্যাদিতে যে পরিমান ব্যয় করেন এবং বর্তমানে ধানের বাজার মূল্যেতে কি কৃষক লাভবান হবেন না ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধান চাষে অগ্রহ হারাবেন সেটা একটি মুখ্য বিষয়। এ সম্পর্কে লিখার জন্য চিন্তা ভাবনা করলাম। অটো রাইস মিল মালিক, ধানের পাইকারি ব্যবসায়ীদের কথা বলার জন্য, গত শুক্রবার দুজন শালক নূরনসুলতান ও দীপের সাথে গিয়েছিলাম চাঁপাই জেলার পালশা গ্রামের বরেন্দ্রভূমিতে।
হঠাৎ রাস্তায় দেখলাম ২ টি গরুর গাড়ির একটিতে খড় বোঝায় অন্যটিতে ধান ভর্তি বস্তা করে নিয়ে যাচ্ছিল, তাই কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া গরুর গাড়ির দৃশ্য দেখে লিখার থিম পরিবর্তন করে গরুর গাড়ি সম্পর্কে লিখার চিন্তা ভাবনা করলাম।
গরুর গাড়ির ইতিহাস সুপ্রাচীন। নব্যপ্রস্তর যুগের সময় থেকেই মানুষ এই যানটি ব্যবহার করে আসছে। ফ্রান্সের ফঁতান অঞ্চলে আল্পস পর্বতের উপত্যকায় একটি গুহায় গরুর গাড়ির যে ছবি পাওয়া যায়, তার থেকে জানতে পারা যায় খ্রিস্টের জন্মের ৩১০০ বছর আগে ব্রোঞ্জ যুগেও গরুর গাড়ির অস্তিত্ব ছিল। হরপ্পা সভ্যতাতেও যে গরুর গাড়ির অস্তিত্ব ছিল তার সপক্ষে প্রতœতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানেও নানা অঞ্চল থেকে এক অক্ষ বিশিষ্ট চাকাওলা নানা খেলনা পাওয়া গেছে। এগুলি থেকে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, খ্রিস্টজন্মের ১৬০০ থেকে ১৫০০ বছর আগেই সিন্ধু অববাহিকা ও ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে গরুর গাড়ির প্রচলন ছিল, যা সেখান থেকে ক্রমে ক্রমে দক্ষিণেও ছড়িয়ে পড়ে।
১৯০৪ সালে অঙ্কিত ওলন্দাজ শিল্পী আডলফ ফান ড্যের ভেনা’র চিত্র রাইখে এরনটে (পাকা ফসল)
সভ্যতার প্রায় উন্মেষকাল থেকেই গরুর গাড়ি এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার প্রায় সর্বত্রই ছিল যাতায়াত ও পরিবহনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যান। কিন্তু পশ্চিম ইউরোপে পরে দ্রুতগামী ঘোড়ায় টানা গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন ও যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে গরুর গাড়ির ব্যবহার কমে আসে।
পরবর্তীকালে যন্ত্রচালিত লাঙল বা পাওয়ার টিলার এবং নানাবিধ যন্ত্রযানের উদ্ভবের ফলে এখন ঐ অঞ্চলে গরুর গাড়ির ঐতিহ্য কেবলমাত্র টিকে রয়েছে নানারকম লোকসংস্কৃতি ও তাকে ভিত্তি করে নানা মেলা-অনুষ্ঠানে।
আবার আফ্রিকার বহু জায়গায় প্রবল জঙ্গলাকীর্ণ ভূমিরূপের কারণে সেখানে পথঘাট যেকোনও রকম গাড়ি চালনারই অনুপযুক্ত ছিল। তাই এইসব জায়গার মানুষদের মধ্যে গরুর গাড়ি সংক্রান্ত কোনও ধারণার প্রচলনই ছিল না। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন ওলন্দাজ ঔপনিবেশিকরা প্রবেশ করতে থাকে, বহুক্ষেত্রেই তারা বাহন হিসেবে গরুর গাড়িকে ব্যবহার করে। ঊনবিংশ শতাব্দীর বিভিন্ন জনপ্রিয় উপন্যাসেও তাই আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় যাতায়াত ও মালবহনের উপায় হিসেবে গরুর গাড়ির উল্লেখ দেখতে পাই। উদাহরণস্বরূপ আমরা এ ক্ষেত্রে এইচ. রাইডার হ্যাগার্ড’এর বিখ্যাত উপন্যাস কিং সলোমনস মাইনস ‘এর উল্লেখ করতে পারি। এ ক্ষেত্রে তারা গরুর গাড়ির আরেকটি ব্যবহার জনপ্রিয় করে তোলে। রাত্রিতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় বা বিপদে পড়লে তারা প্রায়শই গরুর গাড়িগুলোকে গোল করে সাজিয়ে একধরনের দুর্গ গড়ে তুলে তার মধ্যে আশ্রয় নিত।
গরুর বা ঘোড়ার গাড়িকে ব্যবহার করে এইধরনের দুর্গ গড়ে তোলার রেওয়াজ অবশ্য আমরা এর অনেক আগে থেকেই দেখতে পাই। চেঙ্গিজ খানের নাতি বাতু খানের নেতৃত্বে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপে যে মোঙ্গল আক্রমণ চলে সেখানে তার প্রতিরোধে স্থানীয় অধিবাসীদের দ্বারা গরুর গাড়ির এই ধরনের ব্যবহারের কথা আমরা জানতে পারি। বিশেষ করে কালকার যুদ্ধে কিয়েভ রুশেরা এই ধরনের গাড়িনির্মিত চলমান দুর্গ তৈরি করে মঙ্গোল আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
পূর্ব ইউরোপ ও এশিয়ার বহু অংশে গ্রামীণ অঞ্চলে মূলত মাল পরিবহনের কাজে গরুর গাড়ির ব্যবহার এখনও প্রচলিত আছে। একসময় গ্রামে গরুর গাড়িই ছিল প্রধান বাহন।
গরুর গাড়ি হল দুই চাকাবিশিষ্ট গরু বা বলদে টানা একপ্রকার যান বিশেষ। এই যানে সাধারণত একটি মাত্র অক্ষের সাথে চাকা দুটি যুক্ত থাকে। সামনের দিকে একটি জোয়ালের সাথে দুটি গরু বা বলদ জুতে এই গাড়ি টানা হয়।
সাধারণত চালক বসেন গাড়ির সামনের দিকে। তাঁর পিছনে বসেন যাত্রীরা। বিভিন্ন মালপত্র বহন করা হয় তারও পিছনের দিকে। বিভিন্ন কৃষিজাত দ্রব্য ও ফসল বহনের কাজে গরুর গাড়ির প্রচলন যথেষ্টই ব্যাপক। গ্রাম বাংলায় ঐতিহ্যগতভাবে গরুর গাড়ি কিছুদিন আগে পর্যন্তও যাতায়াত ও মালবহনের কাজে প্রভূত পরিমানে ব্যবহৃত হত। তবে বর্তমানে নানাধরনের মোটরচালিত যানের আধিক্যর কারণে অপেক্ষাকৃত ধীর গতির এই যানটির ব্যবহার অনেক কমে এসেছে।
এককালে যা কল্পনা করেনি তাই এখন পেয়ে যাচ্ছে হাতের নাগালে। ইট পাথরের মত মানুষও হয়ে পড়ছে যান্ত্রিক। মানুষ তার নিজস্ব ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে তারই ধারাবাহিকতায় হারিয়ে যাওয়ার পথে এক সময়ের যোগাযোগের প্রধান অবলম্বন গরুর গাড়ি। পায়ে হাঁটার যুগের অবসান হওয়ার পর মানুষ যখন পশুকে যোগাযোগের মাধ্যমে হিসাবে ব্যবহার করতে শিখলো তখন গরুর গাড়িই হয়ে উঠেছিল সকল পথের যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম। পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি বিবাহের বর-কনে বহনের ক্ষেত্রেও গরুর গাড়ি কোন বিকল্প ছিলনা।
কিন্তু কালের বিবর্তনে এই গরুর গাড়ি আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। অনুসন্ধানভেদে কিছুকিছু জায়গায় পণ্য পরিবহনের জন্য গরুর গাড়ি ব্যবহার করা হলেও বিবাহের বর-কনের পরিবহনের জন্য গরুর গাড়ির কথা যেন আর চিন্তাই করা যায় না। অনেকের কাছেই একটি যেন অসম্মানজনক হয়ে পড়েছে। একসময় গ্রামবাংলায় কৃষকের ঘরে ঘরে শোভা পেত নানা ডিজাইনের গরুর গাড়ি। গরুর গাড়িতে টোপর দিয়ে মানুষ এক স্থান থেকে অন্যস্থানে চলাচল করতো। টোপর বিহীন গরুর গাড়ি ব্যবহার হতো মালামাল পরিবহন, ব্যবসা, ফসল ঘরে তোলা বা বাজারজাতকরণের জন্য।
যান্ত্রিক আবিষ্কার ও কৃষকদের মাঝে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগার কারণে গরুর গাড়ির স্থান দখল করে নিয়েছে ভ্যান, অটোরিকশা, নছিমন-করিমন, ভটভটি, বাস, ট্রাক ইত্যাদি।
ওকি গাড়িয়াল ভাই, হাঁকাও গাড়ী তুই
বিখ্যাত এ গান এখনো কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শোনা গেলে হৃদয়ে ভেসে উঠে গরু-মহিষের গাড়ী হাঁকিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। কিন্তু গান থাকলেও, নেই সেই আগের গরু মহিষের গাড়ী, নেই গাড়িয়াল। নেই হৈ হৈ রৈ রৈ হাঁক ডাক, নেই গাড়ির চাকার ক্যাচ ক্যাচ শব্দ। গরুর হাম্বা অথবা গলা ঝোলানো ঘন্টার টুং টাং আওয়াজ। গরুর গাড়ির পরিবর্তে যান্ত্রিক নছিমন, করিমন, আগলামন, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যন্ত্র যানের কারণে আজ জাদুঘরে স্থান হতে চলেছে গরুর গাড়ী। বংশ পরম্পরায় গাড়িয়ালরা জীবন জীবিকার তাগিদে পরিবর্তন করেছে পেশা। এদের কেউ শহরে মজুর খাটছে, আবার কেউবা রিক্সার হেন্ডেল ধরেছে, কেউ অন্যকোন পেশায় নিয়োজিত।
রাজশাহী, রগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, নওগাঁ, কুষ্টিয়াসহ উত্তরাঞ্চলে গরু গাড়ির প্রচলন আদিকাল থেকেই। গরুর গাড়িতে বিয়ে, বরযাত্রী, মালামাল পরিবহন, নাইয়রি আনা নেয়া ইত্যাদি একসময় হতো খুব জাঁকজমকের মধ্য দিয়ে। এ ছাড়া প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় শোভা পেতো এই দু’ চাকার গাড়িটি।
এক সময় ওইসব জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে কোন গ্রামে অবশ্যই চোখে পড়তো গরু কিংবা মহিষের গাড়ী। সেই দৃশ্য খুব একটা এখন চোখে পড়ে না।
প্রতœতাত্বিক গবেষণা গ্রন্থ ও বাংলা বিশ্বকোষ সূত্রে জানা গেছে, ব্রোঞ্জ যুগের পূর্ব গোলার্ধে কুমারের চাকা এবং গাড়ির শঠিন কাষ্ঠ নির্মিত চাকাটির মতো চাকা সর্বপ্রথম মানুষ ব্যবহার শুরু করে।
মিশরীয় ব্যবিলন এবং ভারতের সভ্যতায় চাকাওয়ালা গাড়ি ছিল। এ থেকে ধারণা করা যায় চাকার প্রাথমিক আবিষ্কার ৬ হাজার বছর আগে। ৬ হাজার বছর আগে কাঠ, পাথর, মালপত্র এবং অন্যান্য জিনিসপত্র বয়ে নিয়ে যাওয়া হতো ঢালু পথে গোলাকৃতি কাঠের গুঁড়ির ওপর দিয়ে। এই কাঠের গুঁড়ি থেকে মানুষের মাথায় চাকার ধারণা আসে। একটি বসবার জায়গা তৈরি করে তার দুদিকে দুটো চাকা জুড়ে দিয়ে তৈরি করা হয় গাড়ির প্রচলন।
এক সময় গাড়ি টানার জন্য ব্যবহৃত হতো গরু, মহিষ, ঘোড়া, কুকুর ও মানুষ। এ সময় গরুর গাড়ির চাকায় লৌহ আবরণ ছিল না কেবল কাঠ দ্বারা নির্মিত হতো। দ্রারিড় যুগে যখন এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে তখন থেকে লোহার ব্যবহার চালু হয়। ১৬৪৬ সালে বাই সাইকেলের আবিষ্কার, ১৮২৬ সালে রেল ইঞ্জিন আবিষ্কার, এর পরে মটর গাড়ি বাস, ট্রাক, মটরসাইকেল শ্যালো চালিত যান ইত্যাদি আবিষ্কার হলে পুরনো যানবাহনের যায়গা দখল করে নেয়। কিছুদিন আগেও এ অঞ্চলে গরুর গাড়ির ক্যাচ ক্যাচ শব্দে মুখরিত ছিল চার পাশ। গরুর খুড়ার ধুলি গৃহস্থলের হাক ডাক ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।
কালের বিবর্তনে কত কিছু পাল্টায়Ñপাল্টায় সংস্কৃতি, সভ্যতা সেই সঙ্গে পাল্টে যায় মানুষের জীবনধারা। এ পরিবর্তনের রেশ ধরেই হারিয়ে যায় সংস্কৃতির সুপরিচিত অনেক পুরনো ঐতিহ্য। এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের মধ্যে পালকি অন্যতম। গরুরগাড়িতে পালকি সাজিয়ে
‘পালকি চলে, পালকি চলে, গগনতলে আগুন জ¦লে’… তাছাড়া আরো সুন্দর ছন্দবদ্ধ কথা ‘… তুমি যাচ্ছ পালকিতে মা চড়ে …।’ পালকি আমাদের দেশের জাতি, ধর্ম, বর্ণ সবার কাছে সমান পছন্দনীয় ছিলো। এটি আমাদের দেশের হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য। পালকি নিয়ে লেখা হয়েছে গান, ছড়াসহ কত শত কবিতা। ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেক কবি পালকি নিয়ে লিখেছেন।
এক কালে এদেশের জমিদার-নবাবসহ সমাজের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা কোথাও যাতায়াত করলে পালকি ছাড়া চলতোই না যেন। তাদের সামান্য পথটুকু চলতেও পালকি লাগতো। যেমনÑতাদের খাসমহল থেকে ঘোড়ার পিঠ পর্যন্ত বা পানসি ঘাট পর্যন্ত যেতেও পালকি ব্যবহার করা হতো। এ তো গেলো এক শ্রেণীর লোকদের কথা। এরা ছাড়াও সমাজের জ্ঞানী-গুণী মানুষদের বরণ করতে তৎকালে পালকির বিকল্প যেন পালকিই ছিলো। সে আমলে বিদেশি কোনো মেহমান এলেও তাকে পালকিতে চড়িয়ে বরণ করা হতো। যেমনটা করা হয় বর্তমান দিনে অতিথিদের সম্মানে মোটর শোভাযাত্রায়। সে যা হোক, পালকির কথা সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা তার এদেশে আসা ভ্রমণ কাহিনীতে। তার লেখার মধ্যে এ কথাও পাওয়া যায় যে, তিনি পালকি বহনের দৃশ্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন।
তখনকার দিনের বিয়ে এবং পালকি এ যেন ছিলো একই সুতোয় গাঁথা। আমাদের দেশে এমন একসময় গেছে যখন বিয়ের অনুষ্ঠান পালকি ছাড়া হতোই না, পালকি ছাড়া বিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলে যেন নিজেদের হতভাগা বলে মনে করা হতো। নতুন বউ তুলে দেয়া হতো বরের বাড়িতে পালকিতে করে। আবার এ বিয়ে উপলক্ষে পালকি সাজানো হতো মনোলোভা ও দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যে। সব পরিবারে আবার পালকি ছিলো না।
তখনকার দিনে বিত্তশালী ও উচ্চবংশীয় লোকদের প্রত্যেকের বাড়িতে পালকি ছিল বংশের মর্যাদার প্রতীক। সাধারণ পরিবারের লোকদের বাড়িতে পালকি ছিল না বললেই চলে। তাই বলে তাদের উৎসব পার্বণ পালকি ছাড়া হতো তা কিন্তু নয়। তাদের জন্য অন্য ব্যবস্থা ছিলো। সে সময়ে কিছুকিছু মানুষ এ পালকি নিয়ে বাণিজ্য করতো, মানে পালকি বানিয়ে অর্থের বিনিময়ে চুক্তিতে দিতো। এজন্য পালকি মালিকদের দিতে হতো মোটা অংকের কড়ি বা টাকা অথবা তার সমতুল্য অন্য কোনো জিনিস।
পালকিকে ঘিরে আরো কিছু লোক জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতো। এ লোকদের বলা হতো ‘কাহার’ বা ‘বেহারা’ যেদিন তাদের দরকার হতো তার আগে ‘বায়না’স্বরূপ মাইনে দিতে হতো। বিয়ের অনুষ্ঠানের দিন বিয়ে বাড়িতে তাদের খাওয়ানো হতো জামাই আদরে। এ ছাড়া তাদের সম্মানী দিতে হতো বরপক্ষ থেকে।
মেয়ে বাবার বাড়িতে নাইওর যেতেও ব্যবহার করতো পালকি। পালকিতে চারজন বেহারা বা কাহার প্রয়োজন হতো। গ্রামগঞ্জে অন্যান্য লোকালয়ে পালকিতে করে বউ নেয়া, দৃশ্য চোখে পড়তো। পালকির দরজার ফাঁক দিয়ে নতুন বউটি বাইরে দৃষ্টি দিতো কান্না ভেজা চোখে। যখন বেহারারা বউ নিয়ে যেত গ্রাম থেকে গ্রাম পেছনে ফেলে, তখন তাদের কণ্ঠে চলতো পালকি বহনের গানÑ‘হুন হুনা হুন হুনরে’ বা ‘চার বেহারার পালকি চড়ে যায় রে কন্যা পরের ঘরে।’ আরো এরকম হৃদয় ছোঁয়া গানে গ্রামগঞ্জ যেন জেগে উঠত নতুন প্রাণে। তাদের পালকি বহনের সময় পা ফেলার আলাদা তাল বা ছন্দ ছিলো। সেই ছন্দ আর তালের সঙ্গে নিজস্ব গানে গানে কাঁধে নিয়ে বইতো পালকি।
এখন আর গ্রামগঞ্জ, শহর, বন্দরে দেখা যায় না গরুর গাড়িতে সাজানো পালকি বহনের দৃশ্য। পালকি এখন স্থান পেয়েছে জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য। পালকির সেই ঐতিহ্যময় ব্যবহার ক্রমে গ্রাস করেছে যান্ত্রিক সভ্যতার বিদেশি নানান রংয়ের বাহারি গাড়ি। পালকি বহনের দৃশ্য এখন যেন স্বপ্ন। সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে ছন্দমাখা পালকি বহনের গান।লেখক: মোঃ হায়দার আলী,
গোদাগাড়ী উপজেলা,
রাজশাহী।