Author: desk

  • স্বরূপকাঠিতে ফেলে দেওয়া কলাগাছ  থেকে ব্যাপক কর্মসংস্থান  বৈদেশিক মুদ্র অর্জনের পথ সুগম

    স্বরূপকাঠিতে ফেলে দেওয়া কলাগাছ থেকে ব্যাপক কর্মসংস্থান বৈদেশিক মুদ্র অর্জনের পথ সুগম

    স্বরূপকাঠি উপজেলা প্রতিনিধি //

    সোনালী আঁশ পাট বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের পরিচিতি ঘটালেও প্লাষ্টিক সামগ্রির কারনে তার ঐতিহ্য কিছুটা মৃয়মান হয়ে যায়। সম্প্রতি সোনালী আঁশের কদর পূনরায় বৃদ্ধিপেতে শুরু করেছে। অতি সম্প্রতি পাটের সাথে যুক্ত হয়েছে আর একটি আশ যা তৈরী হয় কলাগাছের উচ্ছিষ্ট অংশ খেকে। বাগান থেকে কলা কেটে নেওয়ায় পরে গাছটিকে এতদিন হেলাফালা করে ডোবা নালা বা খাল-নদীতে বাসিয়ে দেওয়া হত। এতে বিপর্যয় ঘটত পরিবেশের। সেই পরিবেশ বিনষ্ট কারী কলাগাছ এখন একাট অর্থকরি সাম্রগীতে পরিনত হয়েছে। কলাগাছ থেকে এখন তৈরী হচ্ছে সুতা, ফাইবার কারু শিল্পের কাচামাল। রপ্তানি হয় বিদেশে। আর এর বিপ্লব ঘটিয়েছে স্বরূপকাঠী উপজেলার অশ্বথকাঠী গ্রামের জনার্দ্ধন দেবনাথের নেতৃত্বে দুই শতাধিক নারী-পুরূষ।

    স্বরূপকাঠী উপজেলার দক্ষিন পূর্ব সিমান্তর একটি গ্রামের নাম অশ্বত্থকাঠী। এলাকাটি কৃষি প্রধান হলেও শিক্ষদীক্ষা ও উদ্ভাবনী দিক থেকে অনেক এগিয়ে। ওই এলাকায় ধান থেকে শুরু করে হেন চাষাবাদ নেই যা তারা করেন না। এতদিন তারা একটি কলাবাগান থেকে কেবলা মাত্র কলা ছাড়া কিছুই পেতেন না। এক বছর পূর্বে কলাগাছের উচ্ছিষ্টংশ থেকে অর্থ আয় করাযায় তা শিখিয়েছেন উপজেলার রাহুতকাঠী গ্রামের বাসিন্দা দেশের সনামধন্য ইংরেজি অধ্যাপক মো.নজরুল ইসলামের ছেলে মামুন নেছার্স। যিনি এক জন কারু উদ্দোক্তা। ‘কারু বরিশাল’ নামে তার একটি সংস্থা রয়েছে। তিনি অশ্বথকাঠী গ্রামের জনার্দ্ধন দেবনাথকে প্রথমিক অবস্থায় কলাগাছের ফেলে দেওয়া অংশ থেকে অর্থকারি সামগ্রী উপাদন করা সম্ভব এ মন্ত্রে দীক্ষিত করেন ।

    গত পৌষ মাসে এলাকার ৫০ জন নারী পুরুষকে জনার্দ্ধন দেবনাথের বাড়ীতে একত্রিত করে মামুন ও তার বন্ধুরা প্রশিক্ষন দেন কিভাবে কলাগাছ থেকে আয় করা সম্ভব। এর পরে ওই এলাকার প্রশিক্ষন প্রাপ্ত নারী পুরুষ ফেলে দেওয়া কলাগাছ সংগ্রহ করে কারু সামগ্রী তৈরীর কাঁচামাল প্রস্তুত শুরু করেন। বর্তমানে এ সংখ্যা দুইশতাধিক অতিক্রম করেছে। ওই কাঁচা মাল তৈরী করে অনেকে নিজের পরিবারকে সাজিয়ে তুলেছেন। আয় করেছেন কেউ কেউ এক-দেড় লাক্ষ টাকা পর্ষন্ত। এমন সব তথ্য পাওয়ায় অশ্বথকাঠী গ্রামের বাড়ী বাড়ী ঘুরে।

    জনার্দ্ধন দেবনাথ জানান, মামুন আমার পূব পরিচিত তিনি এক বছর পূবে এ কাজে আত্বনিয়োগে পরামর্শ দেন। এখানে একটি গুদাম ঘর ভাড়া করে উৎপাদিত মালামাল খরিদ করে মজুদ করার ব্যবস্থা করে দেন। গ্রামের উদ্যোগতারা ওই কাঁচামাল তৈরী করে শুকিয়ে ওইখানে নিয়ে আসলে তা মেপে প্রতি কেজি ৭০ টাকা হিসাবে মূল্য দেওয়া হয়। এই মাল পাঠাবার মত মজুত হলে ট্রাকভাড়া করে রংপুরে পাঠিয়ে দেই। ইতি মধ্যে ৬ ট্রাক মাল পাঠানো হয়েছে।

    সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে দেখা যায় গোটা এলাকা জুড়ে সাড়িসাড়ি কলাগাছ। রাস্তারওপর ব্রিজ সাঁকোর ধরনীতে ছেড়া কলাগাছের বাকল(খোসা) শোভা পাচ্ছে। প্রতিটি কলাগাছের দুই দিকের অংশ কেটে ওপর থেকে সবুজ খোলগুলো ফেলে সাদা বাকল(ছাল) ছাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন বাড়ীতে নারী-পুরুষ অনেকেই কলাগাছের ছেড়া বাকল শুকাতে ব্যাস্ত। শশীদ বাজারের নারী দোকানী মনিকা বলেন,জনার্দ্ধন দেবনাথের মাধ্যমে জানতে পেরে এ কাজ করছি। শুনেছি এ সুতা দিয়ে কলাবতী শাড়ী উৎপন্ন হয়। আমার দোকানের কাজের ফাঁকে এ কাজ করে ১৫ হাজার টাকা আয় করেছি। যা আমার সংসারের জন্য একটি বারতি আয়।

    সীমা বেগম বলেন, আমরা ভাল করে শুকিয়ে জনার্দ্ধন কাকার আড়তে নিয়ে গেলে সাথে সাথে মেপে ৭০ টাকা কেজি হিসেবে টাকা দিয়ে দেন। মো. ছায়েম, প্রান মন্ডল, মদন দেবনাথ বলেন, এ কাজ করে অনেকে সংসারের জন্য ফ্রিজ, ওভেনসহ নানা সামগ্রি কিনতে পেরেছে। কেউকেউ এক-দেড় লাখ টাকাও আয় করেছেন।

    মূল উদ্যোক্তা মো.মামুন নেসার্স মুঠো ফোনে বলেন, কলণাগাছ দিয়ে সুতা হয় যা দিয়ে ছেয়া, ব্যাগ এক কথায় পাট দারা যেসব কারুপন্য হয় তার সব কিছুই কলাগাছের বাকল দিয়ে হয়। আমি কারু শিল্পের সাথে জড়িত। আমার “কারু বরিশাল” নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে। সে সুবাদে আমার এক বড়ভাইয়ের সহায়তায় পাটের পাশাপাশি কলাগাছের সুতা দিয়ে অনেক কারু পন্য তৈরি করছি। কাঁচামাল সংগ্রহে অশ্বত্থকাঠি এলাকা থেকে বেশ সাড়া পাচ্ছি। ৬ ট্রাক মাল ইতোমধ্যে নিয়েছি। এখনো আমার ভাড়া করা গুদামে দুই ট্রাক মাল রয়েছে। জানুয়ারী মাসের দিকে এগুলো নেওয়া হবে। আমরা বিদেশী বায়ারদের সাথে চুক্তির চেষ্টা করছি। ইনশাল্লাহ জানুয়ারী ফেব্রæয়ারী মাস থেকে এর কার্যক্রম আরো বেগবান হবে।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে আমি সরেজমিনে ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। স্বরূপকাঠি উপজেলার মানুষ নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরিতে উৎসাহী। এখানের মানুষ কাঠ, নার্সারী, ক্রিকেট ব্যাট, ঝুড়–, পাপোষ, রশি, ম্যাড তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কলাগাছের ফেলে দেওয়া অংশ দিয়ে অর্থ উপার্জনের যে উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখ। এর মূল উদ্যোক্তাকেও ধন্যবাদ জানাই। এ কাজের বিকাশে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বপ্রকার সহযোগীতা করা হবে।###

  • পঞ্চগড়ে পুলিশের ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত

    পঞ্চগড়ে পুলিশের ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত

     

    মোহাম্মদ বাবুল হোসেন. পঞ্চগড় ;

    জেলায় কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করার পঞ্চগড়ে পুলিশের ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে সদর থানা পুলিশের আয়োজনে জগদল বাজারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস,পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম মাসুদ পারভেজ,পঞ্চগড় ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক চন্দন কুমার রায়,জেলা জামায়াতের সাধারন সম্পাদক মাওলানা দেলোয়ার হোসেন,উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আনোয়ার হোসেন,জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বাবু, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পঞ্চগড়ের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী প্রমুখ।

    পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে সঠিক সেবা গ্রহণ করুন। পুলিশ জনগণের সেবক হয়ে সবসময় পাশে থেকে কাজ করছে এবং করবে। মাদকের সঙ্গে কোনো আপোস নেই। মাদক,নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, চাঁদাবাজি,দূষ্কৃতিকারী বিরোধী সমাজ গড়তে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহবান জানান তিনি।

  • উজিরপুরে মিথ্যা মামলা দিয়ে মাছের ঘের দখ-লের পায়তারা। প্রতিবাদে মানব বন্ধন, বিক্ষো-ভ মিছিল

    উজিরপুরে মিথ্যা মামলা দিয়ে মাছের ঘের দখ-লের পায়তারা। প্রতিবাদে মানব বন্ধন, বিক্ষো-ভ মিছিল

    জুনায়েদ খান সিয়াম,

    উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের সাতলা সমন্বিত মৎস ঘেরের জমি মালিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার নেপথ্যে এলাকার চিন্থিত মামলাবাজ ও বহু মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে আরমি মিজান। এই ঘটনায় ২১ নভেম্বর সকাল ১০ টায় সাতলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত সাতলা সমন্বিত মৎস ঘেরের পারে হয়রানি,মিথ্যা মামলা ও ঘের দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন,বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।ঘের সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যার শিকার  চাঞ্চল্যকর ইদ্রিস হাওলাদার ও তার ভাই সাগর হাওলাদার জোড়া খুনের মামলার এজহারভুক্ত ভুক্ত ২২ নম্বর আসামী ইউনিয়ন  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহিন হালাদের অন্যতম সহযোগী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিয়ার বিরুদ্ধে মানববন্ধন, বিক্ষোভ  মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

    মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে ঘের কমিটির সভাপতি ফয়জুল হক বালি ফারাহীন জানান, চলতি বছর ২৪ আগস্ট মৎস্য ঘের সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শনিবার রাত সাড়ে নটার দিকে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হন সাতলা বাজার ব্যবসায়ী ও ঘের মালিক ইদ্রিস হাওলাদার  ও তার চাচাতো ভাই সাগর হাওলাদার। এ মামলায় আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার সহ ২৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার জেল হাজতে রয়েছেন। তারই প্রতিশোধ নিতে ও ঘের দখল করে মাছ লুটপাট করার উদ্দেশ্যে হত্যার শিকার ইদ্রিস হাওলাদারের কলেজ পড়ুয়া ছেলে নায়েব হাওলাদার কে(১৯) প্রধান আসামি করে ১৫ জন জমির মালিকের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা সহ বিভিন্ন ধারায় বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে  মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ইদ্রিস ও সাগর হত্যা মামলার ২২ নং এজাহার ভুক্ত আসামি মোঃ মিজান মিয়ার ছোট বোন মমতাজ খানমকে বাদী করা হয়। তিনি আরো বলেন ১৫ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ১১ টায় মিজানুর রহমানের ভাই মনিরুজ্জামান মিয়াকে ভিকটিম বানিয়ে উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি না করে আগৈলঝারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে সাজানো মামলা দায়ের করেন। মিজানুর রহমান মিয়া তিনি এক সময় সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।এরপর থেকে এলাকায় কারো সাথে বিরোধ বাধলে তিনি নিকটতম স্বজনদের মাথার বিভিন্ন অংশে যখম তৈরি করে হাসপাতালে ভর্তি করে মামলা আদায় করেন বলে অভিযোগ করেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নারী কেলেংকারী, হত্যা মামলাসহ অগনিত মামলাবাজের অভিযোগ।
    প্রতিবাদ সভায় আব্দুস সাত্তার মিয়া সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সাবেক ইউপি সদস্য মোনাফসের হাওলাদার, জাকির মিয়া, সালাম বিশ্বাস, বনি আমিন বালি, মোস্তফা মিয়া, মিলন বিশ্বাস,ঘের সভাপতি ফয়জুল হক বালী ফারাহীন এর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন সেলিম মিয়া, আমজেদ মিয়া, ফরহাদ মীয়া,কামাল হোসেন, হান্নান হাওলাদার।  মামলার বাদী মমতাজ বেগম মুক্তা জানান,তার ভাই মিজানুর রহমানকে মিথ্যা হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে এবং ১৫ নভেম্বর সকাল ১১ টায় তার ভাই মনিরুজ্জামান মিয়াকে প্রতিপক্ষরা মাথায় কুপিয়ে জখম করায় তিনি বাদী হয়ে মামলা আদায় করেন। অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মিয়া তিনি জানান, বিরোধী ও ঘেরে তিনি মাছ ছেড়েছেন কিন্তু তাকে ঘের দখল দিচ্ছে না, এবং তার ভাই খাবার দিতে গেলে তিনি হামলা শিকার হন।এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন।

  • সুজানগরে দুদকের উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

    সুজানগরে দুদকের উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধিঃপাবনার সুজানগর উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতি বিরোধী স্লোগান সম্বলিত শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম এ আলিম রিপনের সঞ্চালনায় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মনোয়ার হোসেন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মেহেদী হাসান। অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক ইশতিয়াক আহমেদ ও সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) দিলীপ কুমার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ। তোমাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব লুকিয়ে আছে। এজন্য সততা ও আদর্শপূর্ণ জীবন গঠন করার এখনই উপযুক্ত সময়। দুর্নীতিমুক্ত জীবন গঠনের শিক্ষা নিতে পারলে আগামীর বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মনোয়ার হোসেন দুদক কর্তৃক শিক্ষা উপকরণ বিরতণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ আগামী প্রজন্মকে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।সহকারী পরিদর্শক ইশতিয়াক আহমেদ জানান,শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে পরিবেশবান্ধব স্কুল ব্যাগ, দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান সম্বলিত ছাতা, টিফিন বক্স, জ্যামিতি বক্স, ওয়াটার বোটল, খাতা ও স্কেল বিতরণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও এসব সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর (পাবনা)প্রতিনিধি।

  • নড়াইলে অতিরিক্ত মদ্যপানে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীর মৃ-ত্যু

    নড়াইলে অতিরিক্ত মদ্যপানে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীর মৃ-ত্যু

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইলের কালিয়ায় পূজা উপলক্ষে মদপানে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু। নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় মদপানে পূজা কর (১৫) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এতে ত্রীনয়নী বিশ্বাস নামে আরও এক স্কুলছাত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকালে উপজেলার নড়াগাতি থানার মহাজন গ্রামের মালোপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পূজা করের মদপানে মৃত্যু হলেও বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
    বুধবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হয়।
    পূজা কর গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলার ভাটিয়াপাড়া গ্রামের ননী বিশ্বাসের মেয়ে। অপর স্কুলছাত্রী রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার আবাশপুর গ্রামের পলাশ বিশ্বাসের মেয়ে ত্রীনয়নী বিশ্বাস।
    জানা গেছে, পূজা উপলক্ষে পূজা কর ও তার খালাতো বোন ত্রীনয়নী মামাবাড়ি মহাজন গ্রামে বেড়াতে যায়। পূজা-পর্বনে তারা দু’জনে অতিরিক্ত মদ্যপান করে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পূজা কর কে মৃত ঘোষণা করেন। অপর ত্রীনয়নী হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় আছে।
    এদিকে পূজা কর ও ত্রীনয়নীর স্বজন ও পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা মদ্যপানের বিষয়টি গোপন রেখে এড়িয়ে যায়।
    লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক খালিদ সাইফুল্লাহ বেলাল জানান, পূজা করকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। তার পরিবার জানায়, সে অতিরিক্ত মদ্যপান করেছিল। তাদের লোকজনের চাপের কারণে বিষয়টি পুলিশকে আমরা জানাতে পারি নাই তারা লাশ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায়।
    এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, মদপানে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে কিনা সেটা আমি দেখিনি বলতে পারবো না। তবে অন্য একজন মদপানে অসুস্থ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনার ব্যাপারে আমাদের কেউ কিছু জানান নাই, খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • পাইকগাছায় তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের মারপিটে  নির্মাণ শ্রমিক আহত

    পাইকগাছায় তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের মারপিটে নির্মাণ শ্রমিক আহত

    পাইকগাছা ( খুলনা) প্রতিনিধি।। পাইকগাছায় তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের চায়ের কাঁপের আঘাতে শহিদুল ইসলাম মোড়ল (৪৩) নামে এক নির্মাণ শ্রমিক মাথায় রক্তাক্ত জখম হয়েছে। আহত শহিদুল’কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুমেক হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন।
    বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টার দিকে বাঁকা ঘোষপাড়া পলাশের চায়ের দোকানে এ ঘটনা অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে।
    নির্মান শ্রমিক শহিদুল উপজেলার রাড়ুলী ইউপি’র বাঁকার বাগ গ্রামের মৃতঃ ছমির মোড়লের ছেলে।
    শহিদুল জানান সকালে পলাশের চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলাম। এ সময় রাড়ুলী গ্রামের মুরাদ ঢালীর ছেলে রেজাউল ঢালী (৪২) এর সাথে নির্মান কাজ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে রেজাউল ক্ষিপ্ত হয়ে আমার উপর মারপিট শুরু করে চায়ের কাঁপ দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মাথা রক্তাক্ত জখম হয়।
    স্থানীয় জালাল উদ্দীন জোয়াদ্দার বলেন,শহিদুলের মাথা রক্তাক্ত জখম হলে দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
    মারপিটের ঘটনায় রেজাউল ঢালী বলেন, আমরা দু’জনেই নিকটাত্মীয়। কিন্তু শহিদুল মোড়ল একটি মসজিদের নির্মাণ কাজ নিয়ে প্রায় সময় আমাকে অবান্তর কথা বলে আসছিল। সর্বশেষ এ নিয়ে চায়ের দোকানে পুনরায় অবান্তর কথা বলে উঠলে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে আমি রাগের বশবতি হয়ে তাকে আঘাত করি।
    এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আইনী পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছিল।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • পাইকগাছার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিএনপির সভাপতি ডাঃ আব্দুল মজিদের মতবিনিময়

    পাইকগাছার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিএনপির সভাপতি ডাঃ আব্দুল মজিদের মতবিনিময়

    পাইকগাছা ( খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মতবিনিময় করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডাঃ মোঃ আব্দুল মজিদ। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় হরিঢালী, কপিলমুনি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সাড়ে ১১টায় হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুপুর ১২ টায় কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির ,১টায় কপিলমুনি মেহেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন ডাবলু, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন, শেখ ইমামুল ইসলাম, শেখ আনারুল ইসলাম, পৌর যুগ্ম আহবায়ক সাইফুদ্দিন সুমন,এ্যাডঃ এস্কেন্দার, সরদার তোফাজ্জেল হোসেন, সন্তোষ সরদার, আবু মুছা,সরজিত ঘোষ দেবেন, প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মন্ডল, কার্তিক চন্দ্র সরকার,বিকাশ চন্দ্র দাস,স্বপন কুমার বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, সবুজ সরদার,প্রকাশ ঘোষ,রহিমা আক্তার সন্ধ্যা,খলিলুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, শামিমা আক্তার, সোহরাব সরদার, দেবব্রত ভদ্র, শেখ খায়ের, বি এম আকিজ উদ্দিন, হুরায়রা বাদশা, শহিদুর রহমান, ওবায়দুল্লাহ সরদার, কাসেম জোয়াদ্দার,শেখ আলামিন, শহিদুল রহমান, শেখ জুলু,মমিনুর রহমান, ইদ্রিস আলী, দীপংকর অধিকারী,কামাল হোসেন, মিলন,জাহিদ হোসেন, মারুফ, আবু হানিফ,আব্দুল মজিদ।

  • মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

    মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

    পাইকগাছা ( খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলিজিয়াসমিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার শংকর ঢালী, আসাদুজ্জামান, প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি আব্দুল আজিজ, কামাল হোসেন। শিক্ষক রত্নেশ্বর সরকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক রনজুমানারা, গীতা রাণী, মাহফুজা খাতুন, ললিতা নাথ, নার্গিস পারভীন, সুষ্মিতা রায়, শামিমা নাসরিন সিমা, আজমেরী সুলতানা, এসএম আমিনুর রহমান লিটু, শাহানা ইয়াছমিন, আবু সাঈদ পলাশ, অনুপম ঘোষ, নাজমুল হোসেন, শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী বিশ্বাস, সাইমা, আফিফ আহসান আহমেদ, সিয়াম ও সাইমা। অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পরীক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

  • পাইকগাছায় ঘুঘু দিয়ে ঘুঘু শিকার

    পাইকগাছায় ঘুঘু দিয়ে ঘুঘু শিকার

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
    পাইকগাছায় ঘুঘু দিয়ে ঘুঘু শিকার করছে এক দল শিকারীরা। ঘুঘুর ডাক অধিকাংশ মানুষই পছন্দ করেন। শুধু তাই নয়, এই পাখি দেখতেও বেশ সুন্দর। অথচ এই পাখি শিকারের মতো অপরাধে করতে মানুষ নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। ঘুঘু দেখেছো; ঘুঘুর ফাঁদ দেখনি, এমন প্রবাদ বাক্য আমরা প্রায়ই বলতে শুনি। এবার দেখা মিললো ঘুঘু ও ঘুঘু ধরা খাচার ফাঁদ।
    মাংস খাওয়ার জন্য ঘুঘু শিকারের প্রবণতা বেশি। শরীরের শক্তিবৃদ্ধিতে বা দুর্বল পুরুষের সবল হতে ঘুঘুর মাংস খাওয়ার অদ্ভুত এক ধারণা প্রচলিত আছে এ অঞ্চলের কিছু মানুষের মধ্যে। যার কারণে পরিযায়ী পাখির বাইরে মাংস খাওয়ার জন্য ঘুঘু পাখিকেই বেশি শিকার করা হয়।
    উপকূলের পাইকগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুঘু দিয়ে ঘুঘু ধারা শিকারিদের তৎপরতা বেড়েছে। সম্প্রতি পাইকগাছায় উপজেলার কপিলমুনি ও গদাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে শিকারির কাছে ঘুঘু ও ঘুঘু ধরার ফাঁদ দুইয়েরই দেখা মিলেছে।
    ঘুঘু ধরার ফাঁদ ও পদ্ধতি বেশ অভিনব। বাঁশের একটি খাঁচার ভিতরে জীবন্ত ঘুঘু পাখি রেখে দেওয়া হয় খাবার। খাঁচাটি জাল ও লতাপাতা দিয়ে জড়িয়ে রাখা হয় যাতে সহজে দৃষ্টিতে গোচর না হয়। যেখানে ঘুঘু পাখির বেশী আনাগোনা বা আবাসস্থল আছে এমন বাঁশঝাড় ও উচু গাছ সংলগ্ন ধান বা সবজি ক্ষেতে পাখির আনাগোনা দেখে লম্বা বাঁশ জোড়া দিয়ে খাঁচাটি পেতে রাখা হয়। শিকারি নিরাপদ দূরত্ব থেকে পর্যবেক্ষণ করে খাঁচাটি। খাচার ভিতর বন্দী ঘুঘু পাখি ডাকাডাকি শুরু করে। সেই ডাকে আশেপাশে বিচরণ করা পাখিরা আকৃষ্ট হয়ে খাঁচার কাছে আসে খাবারের লোভে অথবা বন্দী ঘুঘুকে মুক্ত করতে কিংবা দেখতে। খাঁচার খুব কাছে গিয়ে খাঁচায় পা অথবা ঠোঁট বাড়িয়ে দিলেই জালে জড়িয়ে আটকে যায় ঘুঘু। দূর থেকে শিকারী ছুটে এসে খচার ফাদটি নামিয়ে ঘুঘুটি ধরে ফেলে।
    সম্প্রতি উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের সানু ও শহিদুল গাজী, গদাইপুর ইউনিয়নের চেচুয়া গ্রামের করিম গাজীকে ঘুঘু ও ঘুঘু ধরার ফাঁদ নিয়ে শিকারে যেতে দেখা গেছে। কপিলমুনি ইউনিয়ানের শ্রীরামপুর গ্রামের কৃষক সানু (৬০) কে দেখা যায় শীতের ভোর বেলায় একটি খাঁচায় বন্দী ঘুঘু পাখি নিয়ে ঘুঘু ধরার জন্য যাচ্ছেন। বাঁশঝাড় ও উচুগাছের কাছে ধান ও সবজি ক্ষেতে ঘুঘু ধরার জন্য ফাঁদ পাতবেন। খাঁচাবন্দী ঘুঘু পাখি নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, খাঁচায় বন্দী এই ঘুঘু পাখি দিয়েই ঘুঘু পাখি ধরি। শখের বসে এভাবে পাখি ধরে রান্না করে খান সানু। পাখি শিকার করা অন্যায় জানালে তিনি বলেন, শুনেছি,পাখি পরিবেশের উপকার করে। তবে শখ করে মাঝে মাঝে পাখি ধরি। আর পাকি শিকার করবেন না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
    উপজেলার পরিবেশবাদী সংগঠণ বনবিবি’র সভাপতি সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান বলেন,পাখি সহ সকল বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা, লালন-পালন, ক্রয়-বিক্রয় বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন- ২০১২, অনুযায়ী দন্ডনীয় অপরাধ। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে,শিকারী ও অসাধুদের সতর্ক করতে উপজেলার বিভিন্ন গাছে পাখির বাসার জন্য কাঠের তৈরি বাস্ক, মাটির পাত্র, প্রচার পত্র ও বিল বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। আগে এলাকায় দেখতাম প্রচুর পাখি শিকার হতো। বনবিবি’র বিভিন্ন প্রচার প্রচারণায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। এখন পাখি শিকারের সংখ্যা কমে গেছে। তবে এখনো লুকিয়ে লুকিয়ে গ্রামের কিছু মানুষ মাঝে মাঝে ফাঁদ পেতে ঘুঘু, বক, মাছরাঙ্গা শিকার করেছে। শীতের সময় শিকারিদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। তিনি আরো জানান, পাখি শিকার বন্ধে ও প্রকৃতিতে এর উপকারিতা এবং বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন, এর লঙ্ঘনে যে শাস্তির বিধান আছে সে বিষয়েগুলো নিয়ে প্রচারণা এবং সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে পাখি শিকার পুরোপুরি বন্ধ হবে।
    এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্ব অপরিসীম। পাখিরা শুধু প্রকৃতির শোভা বর্ধনই করে না,পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করে। পোকামাকড় খেয়ে এরা কৃষকের উপকার করে। উপজেলা প্রসাশন পাখি শিকার বন্ধে সবসময় তৎপর রয়েছে। পাখি শিকার করলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি পাখি শিকার বন্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সচেতন এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • পীরগঞ্জে ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে ব্যবসায় ক্ষতি করার অভিযোগ

    পীরগঞ্জে ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে ব্যবসায় ক্ষতি করার অভিযোগ

    পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ব্যবসার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে পেট্রোল পাম্পে ভেজাল তেল বিক্রি করা হচ্ছে মর্মে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে পরিজুল ইসলাম হৃদয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
    গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন মেসার্স আর.এন ফিলিং স্টেশনের স্বত্ত্বাধিকারী রাজিউল ইসলাম।
    সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের মৃত ওসমান আলীর ছেলে পরিজুল ইসলাম হৃদয় অনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে মেসার্স আর.এন ফিলিং স্টেশনের স্বত্ত্বাধিকারী রাজিউল ইসলামের নামে বিভিন্ন অপপ্রচার সহ হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। হুমকি দিয়েও সুবিধা করতে না পেরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন ওই ব্যক্তি। তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে গত ১৯ নভেম্বর মেসার্স আর.এন ফিলিং স্টেশনে পানি মিশ্রিত পেট্রোল বিক্রি করা হয় মর্মে হৃদয় তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। বিষয়টি মুহুর্তেই ভাইরাল হয়। যা আদৌও সত্য নয়। হৃদয়ের ওই ফেসবুক প্রচারনার কারণে ব্যবসায়িক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন পেট্রোল পাম্প মালিক। ওই তেল পাম্পের মালিক রাজিউল ইসলাম এ নিয়ে হৃদয়ের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি উল্টো আরো ক্ষতি করার হুমকি দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

    এ বিষয়ে অভিযুক্তকারী পরিজুল ইসলাম হৃদয়ের মতামত জানতে চাওয়া হইলে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলে, তার ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

    এন এন রানা
    পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও