Author: desk

  • তানোরে পল্লী বিদ্যুতের দুর্নীতিতে হুমকির মুখে পানির স্তর

    তানোরে পল্লী বিদ্যুতের দুর্নীতিতে হুমকির মুখে পানির স্তর

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে পল্লী বিদ্যুতের একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নেপথ্যে মদদে সেচ কমিটির অনুমোদন ব্যতিত অবৈধ মটরে চলছে জম্পেশ সেচ বাণিজ্যে। এসব মটরে নির্বিচারে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হচ্ছে।এতে উপজেলায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর হুমকির মধ্যে পড়েছে। একই সঙ্গে
    বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ সেচ প্রকল্প হুমকির মূখে পড়েছে। সেচ নীতিমালা অনুযায়ী বিএমডিএর গভীর নলকুপ ও অনুমোদিত সেচ মটর ব্যতিত আবাসিক বা শিল্প সংযোগ থেকে সেচ দেয়ার কোনো সুযোগ নাই।স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বাঁধাইড় ইউনিয়নের (ইউপি) বড় বাঁধাইড় গ্রামের আব্দুল হকের পুত্র আশিকুল ৮০ বিঘা,মেসের আলীর পুত্র লালচান ৪০ বিঘা, রতন বর্মণ ৩০ বিঘা ও মমিন ২৫ বিঘা জমিতে সেচ দিচ্ছেন অবৈধ মটর থেকে। এসব মটর রয়েছে বিএমডিএর গভীর নলকুপ কমান্ড এরিয়ায়। তারা বিঘা প্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকা করে সেচ চার্জ নিচ্ছেন।

    জানা গেছে,প্রচন্ড খরাপ্রবণ বৃহত্তর বরেন্দ্র অঞ্চলের বিশাল এলাকা জুড়ে ভূ-গর্ভের পানির স্তর তলানিতে ঠেকেছে।পানির স্তর এতটাই নিচে নেমেছে যে এখন বরেন্দ্রভূমির রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আট উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন (ইউপি) এলাকায় ১৭০ ফুট খনন করেও পানি উঠছে না গভীর নলকূপে। এসব এলাকার হাজারও হস্তচালিত নলকূপ এক দশক আগেই অচল হয়েছে। অব্যাহত পানি সংকট মোকাবিলা ও ভূ-গর্ভের পানির স্তর রক্ষায় নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)।এদিকে ভু-গর্ভের পানির স্তর ধরে রাখতে, সেচ নির্ভর বোরো চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত ও কম সেচ লাগে এমন ফসলের চাষাবাদ করাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অথচ তানোরে পল্লী বিদ্যুতের একশ্রেণীর কর্মকর্তার যোগসাজশে আবাসিক ও শিল্প অবৈধ মটর থেকে নির্বিচারে সেচ বাণিজ্যে করে ভু-গর্ভ স্তরের পানি অপচয় করা হচ্ছে। এতে বিএমডিএর নেয়া ভূ-গর্ভস্থ পানি ধরে রাখার উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে,এর দায় নিবে কে ? এসব কারণে কৃষিবান্ধব প্রতিষ্ঠান বিএমডিএর ভবিষৎ নিয়ে কৃষকেরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এলাকার হাজার হাজার কৃষকের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।

    জানা গেছে,একটি গভীর নলকুপ ভূ-গর্ভস্থ স্তর থেকে যে পরিমাণ পানি উত্তোলন করে তার প্রায় ৯০ ভাগ সেচ কাজে ব্যবহার ও ১০ ভাগ অপচয় হয়। অথচ একটি মটরে যে পরিমাণ পানি উত্তোলন হয় তার মাত্র ৪০ ভাগ সেচ কাজে ব্যবহার ও প্রায় ৬০ ভাগ অপচয় হয়। ফলে অবৈধ মটরে উত্তোলন করা পানির বিপুল পরিমাণ অপচয় হওয়ায় গভীর নলকুপগুলো ভূগর্ভস্থ পানির লেয়ার ফেল করছে।

    বিএমডিএর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী বলেন,তানোরে অবৈধ মটর দিয়ে যেভাবে নির্বিচারে ভূ-গর্ভস্থ স্তরের পানি উত্তোলন করা হচ্ছে,তাতে এটা বন্ধ করা না গেলে,আগামি দেড়-দুশক পর এলাকার মানুষ খাবার পানির ভয়াবহ সংকটে পড়বে। একই সঙ্গে পরিবেশ বিপর্যয়, জীববৈচিত্র এবং প্রাণীকুল হুমকির মুখে পড়বে।

    জানা গেছে, উপজেলায় বিএমডিএ’র ৫৩৬টি ও ব্যক্তিমালিকানা ১৬টি মোট ৫৫২টি গভীর নলকুপ রয়েছে।এছাড়াও
    অগভীর নলকুপ বিদ্যুৎ চালিত ৪১১টি ও ডিজেল চালিত ৫০টি, এলএলপি বিদ্যুৎ চালিত ৩টি, ডিজেল চালিত ৩৫০টি, মোট এক হাজার ৩৬৬টি সেচ পাম্প রয়েছে।
    উপজেলায় আবাদযোগ্য কৃষি জমি রয়েছে ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর, সেচের আওতায় ২২ হাজার ৩৩২ হেক্টর। সেচ বহির্ভুত জমি রয়েছে এক হাজার ৬৬২ হেক্টর। একফসলী জমি ৩৪৪ হেক্টর, দুই ফসলী ৪ হাজার ৫৪০ হেক্টর, তিনফসলী ১৯ হাজার ১০৯ হেক্টর, নীট ফসলী জমি ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর, নিবিড়তা ২৭৮ শতাংশ ভূমি ব্যবহার ৮২ শতাংশ। উচুঁ জমি ২০ হাজার ৩৮৬ হেক্টর, মাঝারি উচুঁ জমি এক হাজার ৫৭৮ হেক্টর, মাঝারি নিচুঁ জমি এক হাজার ৫৫৩ হেক্টর ও নিচু জমি ৪৭৬ হেক্টর রয়েছে।

    অন্যদিকে তানোরে পল্লী বিদ্যুতের মোট গ্রাহক রয়েছে ৫২ হাজার ৪০৮ জন। এর মধ্যে আবাসিক ৪৩ হাজার ৯৭৫ জন, বাণিজ্যিক ২ হাজার ৭২৩টি,শিল্প ৫২০টি, সেচ ৮৭৮টি ও দাতব্য ৯৫৮টি এবং বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ২৫ মেঘাওয়াট। দেড় হর্স পাওয়ার মটর থেকে বাড়ি সংলগ্ন জমিতে স্বল্প পরিসরে সেচ দেয়া যাবে, তবে তা হতে হবে গভীর নলকুপ স্কীমের বাইরে। কিন্ত্ত গভীর নলকুপ স্কীমের মধ্যে ও বাসাবাড়িতে অবৈধভাবে ৩ থেকে ৪ হর্সপাওয়ার মটর স্থাপন করা হয়েছে। আবার আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে পল্লী বিদ্যুৎ এসব অবৈধ মটরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। সুত্র জানায়, এসব অবৈধ মটরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ করতে না পারলে, আগামিতে এই অঞ্চলে সেচ তো দুরের কথা মানুষকে খাবার পানি কিনে পান করতে হবে।
    এবিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ তানোর জোনের ডিজিএম রেজাউল করিম বলেন, তারা সংযোগ দিয়েছেন,এখন কেউ যদি অবৈধভাবে সেচ দেন সেটা সেচ কমিটি দেখবেন। তিনি উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।#

  • তানোরে আহম্মদ চ্যারিটি সেন্টারের শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

    তানোরে আহম্মদ চ্যারিটি সেন্টারের শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে আহম্মদ চ্যারিটি সেন্টারের উদ্যোগে উচ্চ পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
    জানা গেছে, এ উপলক্ষে চলতি মাসের ১১জানুয়ারী শনিবার উপজেলার নারায়নপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আহম্মদ চ্যারিটি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা আমেরিকা প্রবাসী আহম্মদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শিক্ষা (প্রতিমন্ত্রী) প্রফেসর ড.আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকিব, তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম, স্বর্ণপদক প্রাপ্ত আদর্শ কৃষক কৃষি বিজ্ঞানী নূর মোহাম্মাদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন ও নারায়নপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলীপ্রমুখ। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন রাজশাহী বেতারের ধারা ভাষ্যকার সোহেল মাহমুদ।
    অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ ও ১৫ জনকে ৬ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়।

  • বিএমডিএ ভবন আকুন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত

    বিএমডিএ ভবন আকুন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত

    আলিফ হোসেন,
    রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(বিএমডিএ)ভবন আকুন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি আর লুটপাটের কারণে কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকের উপকারে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান বিএমডিএ ভবন বেহাল। খাল খনন থেকে শুরু কেনাকাটা-সবখানে লুটপাটের বিস্তর অভিযোগ। এসব নিয়ে অডিট আপত্তি উঠলেও তা আমলে নেয় নি কর্তৃপক্ষ। ফলে লুটপাট বাড়ছে।এতে মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কায় বিএমডিএ বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।

    জানা গেছে, ২০১৯-২০২৪ অর্থবছরে ৩০০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে শুষ্ক মৌসুমে চাষিদের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে খাল খনন করে বিএমডিএ। সংশ্লিষ্ট এলাকার চাষিদের অভিযোগ,নামেমাত্র খাল খননের মাধ্যমে টাকার অপচয় করেছে বিএমডিএ। বিএমডিএ সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতা দূর করতে ও নদীর পানি সেচের কাজে লাগাতে বিএমডিএ রাজশাহীর চার উপজেলায় খাল খননে প্রকল্প নেয়। বিগত ২০২২ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে শাহাপুর-কাটাখালী-ছত্রগাছা পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৯২ কিলোমিটার খালটি এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অনেকের বাড়ি ভেঙে গেছে।
    কাটাখালী মোল্লাপাড়ার নাসির উদ্দিন জানান, অপরিকল্পিতভাবে খাল খনন করায় অনেকের বাড়িঘর ভেঙে গেছে।
    অনেকে ঝুঁকির মধ্যে আছেন। জলাবদ্ধতা দূর হয়নি। উল্টো মানুষ বসতি হারিয়েছে। এখন মানুষ দৈনন্দিন কাজের বর্জ্য ফেলছেন ওই খালে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এমন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

    এদিকে নাটোরে খাল খনন করা হলেও তাতে বর্ষা মৌসুম ছাড়া পানি থাকে না।
    যে সেতু করা হয়েছে, সেটি দিয়ে গরুরগাড়িও নেওয়া যায় না। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের খালটি ৩০ ফুট থাকার কথা থাকলেও সেটি ৮-১০ ফুটে গিয়ে ঠেকেছে। প্রকল্প পরিচালক নাজিরুল ইসলাম অবশ্য দাবি করেছেন, কাজ প্রথমে ঠিকভাবে করেননি ঠিকাদার। পরে কাজ ভালো হয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে ১৪ লাখ তালগাছের হদিস নেই। দরপত্র ছাড়াই কোটেশনে কেনাকাটা, তাও নিম্নমানের। কেনাকাটায় পকেট ভরছে প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি)। কৃষকদের যেসব সেবা দেওয়ার কথা, তা দিচ্ছে না বিএমডিএ। টাকা চুরির প্রমাণ লোপাটে দেওয়া হয়েছিল অফিসে আগুন। নিজ স্কেলের চেয়ে বেশি বেতন নিয়েছেন ৭৩ কর্মকর্তা। সেচ থেকে প্রকল্প, সবখানে চলে লুটপাট।

    স্থানীয়রা জানান, কোথাও কোথাও গর্ত খুঁড়ে তালবীজ লাগানো হয়েছিল। আবার কোথাও কোথাও না লাগিয়েই তড়িঘড়ি করে বীজ ফেলে পালিয়ে যান ঠিকাদার। ঠিকমতো বীজ না লাগানোর কারণে পবা উপজেলা দর্শনপাড়ার খাড়িধার এলাকায় ঠিকাদারের লোকজন গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়েছিল। বরেন্দ্র এলাকায় তালবীজ রোপণ কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক ও বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রকল্পের সব তালগাছ নেই। কোথায় আছে আর কোথায় নেই তাও বলা যাচ্ছে না। তবে বিভিন্ন উপজেলার কমিটি গণনা শেষে প্রতিবেদন দেওয়ার পর বিল পেয়েছেন ঠিকাদাররা। শুধু তালগাছ নয়, কেনাকাটায় অনিয়ম করে শত কোটি টাকা পকেটে ঢুকিয়েছেন প্রকল্প পরিচালকরা। প্রকল্প পরিচালক শহিদুর রহমান শত কোটি টাকার প্রকল্পে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করায় তা ফেটে যায়। এ নিয়ে তদন্ত হয়। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী শহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাজ না করেই বিল প্রদান এবং নিম্নমানের পাইপ ও গেট ভাল্ব কেনাকাটায় নয়ছয় করা হয়েছে। হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা।

    অপরদিকে বিএমডিএ-এর ‘ভূগর্ভস্থ সেচনালা বর্ধিতকরণের মাধ্যমে সেচ এলাকার সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ প্রকল্পে বরাদ্দ আছে ৩২৯ কোটি টাকা। প্রকল্প পরিচালক শহিদুর রহমান সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সম্প্রসারণের জন্য ১০০ কোটি টাকার ইউপিভিসি পাইপ এবং গেট ভাল্ব কিনেছেন। প্রকল্প পরিচালকের নিম্নমানের পাইপ ও গেট ভাল্ব কেনার বিষয়টি ওই প্রকল্পের মনিটরিং কর্মকর্তা বিএমডিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল লতিফের নজরে আসে। এরপর আবদুল লতিফ প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে গত ১৮ ডিসেম্বর নির্বাহী পরিচালকের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। এ ছাড়া রাইজার ভাল্ব কেনায়ও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ১৫ কেজির ভাল্বের পরিবর্তে কেনা হয়েছে ১২ কেজি ওজনের। প্রকল্পটিতে গভীর নলকূপ স্থাপনের ক্ষেত্রে এমএস হাউজিং পাইপ এবং এসএস স্টেইনার ব্যবহারের বিষয়টি শিডিউলে উল্লেখ আছে। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক শহিদুর রহমান নিম্নমানের প্লাস্টিকের হাউজিং এবং স্টেইনার দিয়ে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। সম্প্রতি কাজের ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে শহিদুর রহমানকে তার অফিস কক্ষে গিয়ে মারধরও করেন ঠিকাদারদের একটি অংশ।তবে প্রকৌশলী শহিদুর রহমান বলেন, প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগটি ভিত্তিহীন। কাজ না করে বিল দেওয়ার অভিযোগটিও বানোয়াট। এ ছাড়া নিম্নমানের পাইপসহ অন্য মালামাল কেনায় অনিয়মের যে অভিযোগটি করা হচ্ছে তাও মিথ্যা।

    এছাড়া বেতন স্কেল জালিয়াতি করে ধরা পড়েছেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) ৭৩ কর্মকর্তা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি এই সংস্থাাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু এ সংস্থার ৭৩ জন প্রকৌশল কর্মকর্তা জালিয়াতি করে নিজেরাই বাড়িয়ে নিয়েছেন নিজেদের বেতন স্কেল। সংস্থার হিসাব বিভাগকে ম্যানেজ করে মাসের পর মাস বাড়তি বেতন তুলছিলেন এরা। এই কান্ডে জড়িত ছিলেন সহকারী প্রকৌশলী ১৩ জন, সহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) আটজন, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ৩২ জন ও উপসহকারী প্রকৌশলী ২০ জন। তারা বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অঞ্চল ও জেলার মাঠপর্যায়ে কর্মরত। বিষয়টি ২০১৭ সালে বাণিজ্যিক নিরীক্ষায় প্রথমে ধরা পড়ে।

    এদিকে বিএমডিএর পানির ফাঁদে পড়ে যখন কৃষকদের আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে, তখন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যস্ত অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটে। ২০১৮-২০১৯ থেকে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক প্রকল্পে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য উঠে আসে বাংলাদেশ কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কৃষি ও পরিবেশ অডিটে। বরেন্দ্রর অনিয়মের ফিরিস্তিও বেশ লম্বা। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হিসাব শাখা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অডিট আপত্তি উঠেছে চার অর্থবছরে দরপত্র ছাড়াই পণ্য কেনায় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা, রাজস্ব ক্ষতি প্রায় ১২ কোটি টাকা, বেসরকারি ব্যাংকে ডিপোজিট ১০০ কোটির বেশি, চেক টেম্পারিংয়ে আত্মসাৎ ৫৫ লাখের বেশি, সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি প্রায় ৫৩ লাখ টাকা, অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য কেনা ৩৩ লাখ টাকা, পাতকুয়া নির্মাণে অনিয়ম সাড়ে ৯ কোটি টাকা, অনিয়মিত ব্যয় প্রায় ৭ কোটি টাকা, ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পে নিয়ম না মেনে সোয়া ১১ কোটি টাকা খরচ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পে প্রায় ৬৭ লাখ টাকার অনিয়ম, বিভিন্ন মালামাল কেনা ও মেরামত কাজে অনিয়ম ৬৯ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছর ছাড়াও বিএমডিএর গোদাগাড়ী জোনে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৮০টি চেক জালিয়াতির ঘটনায় প্রকৌশলী জি এফ এম হাসানুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেনের জড়িত থাকার বিষয়টিও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    এবিষয়ে জানতে চাইলে বিএমডিএ চেয়ারম্যান ড. এম আসাদুজ্জামান জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এসব অডিট আপত্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়গুলো জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে একজন প্রকল্প পরিচালককে বদল করা হয়েছে।#

  • দোয়ারাবাজারে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণ

    দোয়ারাবাজারে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণ

    দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:: দোয়ারাবাজারে সিলেট সেনানিবাসের উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলা সদরের পশ্চিম মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দেড় শতাধিক মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এ-সময় উপস্থিত ছিলেন,মেজর আল জাবির আসিব,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নেহের নিগার তনু, সিনিয়ার ওয়ারেন্ট অফিসার সেলিম রেজা, দোয়ারাবাজার থানার ওসি জাহিদুল হক,
    এসআই আতিয়ার রহমান,সার্জেন্ট আলমগীর, কর্পোরাল মামুন, ল্যান্স কর্পোরাল রেজাউল, সৈনিক বরকত উল্লাহ, সৈনিক বাঁধন, সৈনিক আমির, সদর ইউপি’র প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভুট্রো, ইউপি সদস্য হাজেরা বেগম, সাংবাদিক মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী, হারুন অর রশিদ, আলা উদ্দিন, বজলুর রহমান, শাহজাহান আকন্দ, এনামুল কবীর মুন্না, মাসুদ রানা প্রমুখ।

  • নড়াইলে একশত বোতল ফেন্সিডিলসহ দুইজন গ্রেফতার

    নড়াইলে একশত বোতল ফেন্সিডিলসহ দুইজন গ্রেফতার

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইল ডিবি পুলিশের অভিযানে একশত বোতল ফেন্সিডিল সহ দুইজন গ্রেফতার। মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত মোঃ শাহাবুদ্দিন ইসলাম (৩১) ও মোঃ আল মিরাজ (১৯) নামের দুইজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে নড়াইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতারকৃত মোঃ শাহাবুদ্দিন ইসলাম (৩১) চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবন নগর থানা ৮ নং পৌরসভাধীন বসতীপাড়ার মোঃ কামাল হোসেন ও মোঃ আল মিরাজ (১৯) চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবন নগর থানা ৮ নং পৌরসভাধীন দৌলতগঞ্জ পাড়ার মোঃ রায়হান ইসলামের ছেলে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, শুরুবার
    (১০ জানুয়ারি) রাতে নড়াইল জেলার সদর থানা পৌরসভাধীন ৪ নং ওয়ার্ডের গোচর উপজেলা ভূমি অফিসের মূল গেটের সামনে নড়াইল হতে মাগুরাগামী পাঁকা রাস্তার উপর থেকে তাদের আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নড়াইল জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহাদারা খান পিপিএম, এর তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) মোঃ টিটু আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে মোঃ শাহাবুদ্দিন ইসলাম (৩১) ও মোঃ আল মিরাজ (১৯) কে গ্রেফতার করে। এ সময় ধৃত আসামির নিকট থেকে একশত বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়। এ সংক্রান্তে নড়াইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীর’র নির্দেশনায় মাদকমুক্ত নড়াইল গড়ার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

  • পাইকগাছা পৌরসভায় সুপেয় পানির সংকট চরমে

    পাইকগাছা পৌরসভায় সুপেয় পানির সংকট চরমে

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা ( খুলনা )।।

    লবণ পানি-অধ্যুষিত উপকূলবর্তী খুলনার দক্ষিণ জনপদ পাইকগাছা। এ অঞ্চলে সুপেয় পানির বড়ই অভাব। এলাকার মানুষ ছোটবড় পুকুর, দীঘি সংরক্ষণের মাধ্যমে পানি শোধন ও সরবরাহ করে থাকে। পাইকগাছা পৌরসভাও এর ব্যাতিক্রম নয়।পরীক্ষা করে দেখা গেছে পৌরসভায় গভীর নলকূপ বসানোর উপযুক্ত নয়। আবার পানি সংরক্ষণের মত বড় পুকুরেরও অভাব। দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির চরম সংকট হওয়ায় পানির অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ছে এলাকাবাসী। পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারায় অনেকেই পুকুরের শ্যাওলাভর্তি, দুর্গন্ধযুক্ত পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছেন পৌরবাসী। সরজমিনে পৌর সদরস্থ মধুমতি পার্কে পানি প্রকল্পের আওতায় বি ব্লকে পানি নিতে আসা শুধু পৌরবাসী নয় পার্শ্ববর্তী লস্কর ইউনিয়নের কড়ুলিয়া গ্রাম, স্মরণখালী, মাঠাম, আলমতলা নারী-পুরুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে কেউ কলসে, কেউ পটে করে পানি সংগ্রহ করেন। সেখানে এখন ধূ ধূ করছে। জনশূন্য। প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ৯নং ওয়ার্ড থেকে আসা চঞ্চলা রাণী, আরতী ও নাজমা আক্তারদের সাথে কথা হলে বলেন, এখান থেকে আমরা নিয়মিত পানি নেয়। কয়েক দিন ধরে পানি নেই। বাধ্য হয়ে পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করছি। উপজেলার লোনা পানি কেন্দ্রের পুকুর থেকে ড্রামে পানি তোলার সময় ভ্যানচালক সুশান্ত মন্ডল বলেন, পৌরসভা যে পানি দেয় খাওয়া যায় না। আমি প্রায় ৩/৪ কিলোমটার দূরে শিববাটি, পাশে সরল ও বাতিখালী গ্রামের অনেক মানুষদের খাওয়ার জন্য এখান থেকে পানি সরবরাহ করি। আর পৌরসভা আজকে পানি দেয় তো কালকে দেয় না। উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম আশরাফুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি পানি সাপ্লাই অনিয়মিত। শুনেছি পানি সংকটের কারণে পৌরসভা পানি দিতে হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু পানি ছাড়া তো এক দিনও চলা যায় না। এরকম নানাবিধ অভিযোগের কথা শোনা যায়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পুকুর থেকে পানি নিতে আসা রুপালী, আক্তারের মা, বাসন্তী রাণী, টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ছ্যালোযুক্ত পুকুর থেকে পানি আনা শেফালী, অর্চনা রাণী, উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে পানি আনা নজর আলী, রোজিনা, আমেনারা। প্রত্যেকেই অত্যন্ত নিরুপায় হয়ে শ্যাওলাভর্তি, দুর্গন্ধযুক্ত পুকুরের পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছেন। এবং পড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। এদিকে জানা যায়, পানির সংকট নিরসনে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৯১৪ সাল থেকে পৌর পানি শাখার মাধ্যমে ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬টি ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ শুরু করেন পৌর কর্তৃপক্ষ। ওই বছরই সরল পুকুর পাড়ে তিনটি পাম্প হাউজের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে ট্রিটমেন্ট করে সরবরাহ করেন। তখন গ্রাহক সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫০টি। বর্তমানে হাউজের সংখ্যা ৫ হাজারের উর্ধ্বে। এত বিপুল চাহিদার মধ্যে পৌর কর্তৃপক্ষ মাত্র ১২ শত গ্রাহকদের পাইপ লাইনের মাধ্যমে সকালে ও বিকেলে সুপেয় পানি সরবরাহ করে আসছিল। আর পানি সংকটে বান্দিকাটি, গোপালপুরের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। পানি সংকটে ওই তিন ওয়ার্ড পানি দিতে না পারার দায়ভার স্বীকার করেছেন কর্তৃকপক্ষ। সম্প্রতি মানুষের চাহিদার তুলনায় পৌরসভায় পানি অনেক কম দিতে বাধ্য হচ্ছে। সকাল বিকালে দু’বার এর পরিবর্তে ১বার পানি সরবরাহ করছে। অনেক সময় একদিন পর পর পানি সরবরাহ করে। পানি মান সহ বিবিধ প্রশ্ন উঠালে পৌর পানি সরবরাহ শাখা বিলক্লার্ক মোঃ শাহিনুর হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান, পানির গুণাগুণ ভালো আছে কিনা তার জন্য প্রতি ৬ মাস পর পর কুয়েট খুলনা হতে পানি টেস্ট করা হয়। গ্রাহকের নিকট ভালো পানি দেওয়ার জন্য ২০১৮ সালে পৌরসভার পার্শ্ববর্তি ইউনিয়ন গদাইপুরের মানিকতলা নামক স্থানে একটা বোরিং করে সেখান থেকে পানি সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু দিন দিন গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ায় একটা পাম্প হাউজ দিয়ে পানি সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একটি পাম্প যদি নষ্ট হয় তখন সেটি মেরাতম করতে সময় লাগে মিনিমাম ৭ দিন। যার কারণে পৌরসভা গদাইপুর মোড়ে একটি জমি ক্রয় করে। পুকুর থাকায় সেটা ভরাট করে সেখানে একটি পাকা পাম্প হাউজের জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়েছে পৌরসভার অর্থায়নে। বিদ্যুৎ এর ফোর ফোরটি লাইন না থাকায় বিদ্যুৎ অফিস প্রায় লক্ষাধিক টাকা জমা দিয়ে দুইটি কারেন্টের পোল ক্রয় করে নির্মাণ করা হয়। সেখানে নিজস্ব তিনটি ট্রান্সমিটার ক্রয় করে বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। কারেন্টের সংযোগও নেওয়া শেষ। মানিকতলা হতে গদাইপুর জমি পযর্ন্ত ৪” ই ক্লাস পাইপ বসানোর কাজ ও শেষ করা হয়েছে ঠিকাদারের মাধ্যমে। জনগনের নিকট ভালো পানি দেওয়ার জন্য এখন বোরিং এর কাজটা শেষ হওযা জরুরি। না হলে পৌরসভায় কোন ভাবে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। পৌরসভার ভিতরে এখন ৫০% লোকের বাড়িতে পানির লাইন আছে। গ্রাহকের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পানি দেওয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া প্রায় ১ বছর ধরে নতুন পানির লাইনের সংযোগ দেওয়া বন্ধ আছে। অস্বাস্থ্যকর, দুর্গন্ধযুক্ত পুকুর থেকে খাবার পানি সংগ্রহকারী পরিবারের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবর রহমান বলেন, এভাবে চলতে থাকলে হেপাটাইটিস এ, কলেরা, টাইফয়েড, আমাশা, ডায়রিয়া, এলার্জি সহ পানিবাহিত রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পারে। যাহা এলাকাবাসী স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়বে। এব্যাপারে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন বলেন, আপনারা জানেন এ অঞ্চলটি লবণ পানি-অধ্যুষিত। চারিদিকে পানি। তবে বিশুদ্ধ খাবার উপযোগী পানি নাই। পৌরসভার বর্তমান পানির গ্রাহকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় পানি সরবরাহ অনেক কম থাকায় এ সংকট উত্তরণে গদাইপুরে পাম্প হাউজের কাজ চলমান। সকলের সহযোগিতায় খুব দ্রুত বাস্তবায়ন হলে পৌরসভা সহ আশেপাশের এলাকার মানুষের সুপেয় পানি আর সংকট থাকবে না। দ্রুত বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পৌরবাসী।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা,খুলনা

  • নব গঠিত কমিটি কাঠালিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি বাদল সম্পাদক রাসেল 

    নব গঠিত কমিটি কাঠালিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি বাদল সম্পাদক রাসেল 

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল-১১ জানুয়ারি ২০২৫ রোজ শনিবার কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের নিজস্ব অফিসে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়, কাউন্সিল সমন্বয়কারী: বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজ্বী মোঃ ফজলুল হক মৃধা এর উপস্থিতি এর মধ্যে দিয়ে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কাউন্সিল এ কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের সকল সদস্য  উপস্থিতি ছিলেন, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সফিকুল ইসলাম রাসেল সিকদার।সকল সদস্য সংগঠন এর সকল সদস্য বক্তব্য রাখেন এবং সংগঠন এর দায়িত্বশীল সাংবাদিকরা দিক-নির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন। কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের সকাল সদস্য এর সম্মিলিত প্রস্তাব এ সভাপতি বাদল হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম রাসেল সিকদার নির্বাচিত হন এছাড়াও সহ সভাপতি হারুন অর রশিদ সিকদার,সহ সভাপতি কামাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান লিটন সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব তালুকদার,সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ আজিজ, কোষাধ্যক্ষ নাসিম মিরবহর, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাহাতাব উদ্দিন,প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শাওন,সমাজকল্যাণ সম্পাদক সজীব জমাদ্দার, ক্রিয়া সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম কামাল,দপ্তর সম্পাদক মাহবুব হোসেন পরান, কার্যনির্বাহী সদস্য কাজী মাসুদ, এছাড়া সদস্য হন রাজিব খান,নাঈম ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম।আজ শনিবার কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের ১৯ সদস্য বিশিষ্ট ঘোষণা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোহাম্মদ ফজলুল হক মৃধা

  • চিটাগাং ইডেন ক্লাবের গৌরবের ৩৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনে ৩ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

    চিটাগাং ইডেন ক্লাবের গৌরবের ৩৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনে ৩ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

    শহিদুল ইসলাম,
    বিশেষ প্রতিনিধিঃ

    চট্টগ্রাম তথা বাকলিয়ার অরাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠন চিটাগং ইডেন ক্লাবের গৌরবের ৩৫ বৎসর উদযাপন উপলক্ষে ৮,৯,ও ১০ জানুয়ারি ৩ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনি অনুষ্ঠান আজ মৌসুমি আবাসিক এলাকার মাঠে ক্লাবের সভাপতি মাসুদ পারভেজ খোকার সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রামের উপ- পরিচালক মোঃ নোমান হোসেন প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন – উপ – পুলিশ কমিশনার দক্ষিণ শাকিলা সোলতানা,বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিজ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহেদুল করিম কচি, যমুনা ব্যাংকের সাবেক ডি,এম,ডি লায়ন আবদুল গাফফার,বিশেষ বক্তা হিসেবে মোঃ শাহজাহান হায়দার,অনুষ্ঠান উৎযাপন কমিটির আহবায়ক ক্লাবের স্থায়ী কমিটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোহেল সংবর্ধিত অতিথি ক্লাবের স্থায়ী কমিটির সদস্য, কার্টিন ল স্কুল পার্থ অষ্ট্রেলিয়ার প্রভাষক ও সাবেক যুগ্ন জেলা দায়রা জজ ড,জুলফিকার আলী, ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক বেলাল হোসেন চৌধুরী, ক্লাবের স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর রেজাউল ইসলাম শালুক,স্থায়ী কমিটির ভাইস – চেয়ারম্যান এস,এম,আহসানুল কবির চৌধুরী টিটু প্রমূখ। সভায় প্রধান অতিথি এবং অনন্য অতিথিদের বক্তব্যে এই কথায় সু স্পষ্ট ভাবে প্রতীয়মান হয় চিটাগং ইডেন ক্লাব চট্টগ্রামের একটি অনন্য অরাজনৈতিক সংগঠন। এই সংগঠনের নানাবিধ সামাজিক কাজ সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। এই সংগঠনের নানাবিধ সামাজিক কর্মকাণ্ড সহ যাবতীয় কাজে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং সকলেই এই সংগঠনের কর্মকান্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরে অতিথিবৃন্দ ইডেন ক্লাবের বিভিন্ন খেলাধুলা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সহ বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার ও সার্টিফিকেট বিতরণ করেন। পরে ঢাকা থেকে আগত ব্যান্ড দলের আয়োজনে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • আজ সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী

    আজ সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ, লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার (১১ জানুয়ারি)। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০২১ সালে রাজধানীর মহাখালীর এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর অকাল প্রয়াণ হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। পরে তাকে ঢাকার মিরপুরে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

    প্রয়াত মিজানুর রহমান খান সরকারি বিএম কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।তিনি ১৯৮৮ সনে নলছিটি থেকে সাংবাদিকতা শুরু করেন।পরে জাতীয় পর্যায়ে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা যুক্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ছিলেন। তিনি আইন-আদালত ও কূটনীতির জটিল-কঠিন বিষয়গুলো সহজ করে পাঠকের কাছে উপস্থাপন ও ব্যাখ্যা করতেন, যা পাঠক মহলে সমাদৃত হয়। আইন-আদালত এবং কূটনীতির জটিল বিষয়গুলোকে বিশ্বাসযোগ্য ও জনপ্রিয়করণে তার একক ভূমিকা ছিল। তিনি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে আইন বিভাগে সংবিধান বিষয় পড়াতেন।
    মিজানুর রহমান খান দৈনিক প্রথম আলো, যুগান্তর, সমকাল, মানবজমিন, খবর,বাংলাবাজার, মুক্তকণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সহযোগী সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, প্রধান প্রতিবেদক ও কূটনৈতিক প্রতিবেদকসহ বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন।
    মিজানুর রহমান খানের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা রয়েছে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর প্রথম বই ‘সংবিধান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিতর্ক’ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয় হয়। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে-১৯৭১: আমেরিকার গোপন দলিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা: এক অশনি সংকেত; বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের স্বরূপ; মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকাণ্ড; মার্কিন দলিলে জিয়া ও মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড এরশাদের পতন এবং বিএনপির জন্ম; মার্কিন দলিলে বঙ্গবন্ধু ও চার নেতা হত্যাকাণ্ড, জেনারেল জ্যাকবের মুখোমুখি ইত্যাদি। এ ছাড়াও বিভিন্ন জার্নালে পঞ্চাশটির বেশি প্রকাশিত প্রবন্ধ আছে তার।
    কর্মসূচি চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘মিজানুর রহমান খান ফাউন্ডেশন’ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। শনিবার সকালে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। একই দিনে ঢাকার তাঁর নিজ বাসায় এবং ঝালকাঠি জেলার নলছিটিতে প্রয়াতের পৈত্রিক বাড়িতে কুরআনখানি ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

  • মালিকানা নয়, সরকারি জমি দিয়ে রাস্তা নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

    মালিকানা নয়, সরকারি জমি দিয়ে রাস্তা নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

    আল আমিন মোল্লা
    জীবননগর ব্যুরো প্রধান।

    জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের মিনাজপুর রাস্তার পাশে বসবাস ১৫টি পরিবারের। কারও ভিটা জমি ৫ শতক, কারও ৬ কিনবা ৯ শতক। ২৫-৩০ বছর আগে সরকারি রাস্তার জমি একটু নীচু থাকায় মালিকানা জমি দিয়ে নির্মাণ করা হয় রাস্তা। সেই রাস্তা নতুন করে নির্মাণের বরাদ্দ আসায় জমির মালিকেরা সঠিক জায়গায় রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
    আজ শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে সঠিক জায়গায় রাস্তা নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেন। এসব কথা জানান ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
    মানববন্ধন এ বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী পরিবারের মোঃ আবু হানিফ, মিলন, মো. আলী হোসেন, মো. শাহাজান আলী, মো. বাবুল হোসেন, মো. তোফাজ্জল, খালেক ব্যাপারী, আলী হোসেন, রোকন প্রমুখ।
    বক্তারা বলেন, আমাদের মালিকানা জায়গায় রাস্তা নির্মাণ হওয়ায় সরকারি রাস্তার জমিতে আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রভাবে টিনের বেড়া দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দখল নেন আক্কাস আলী, নিয়াকত আলী, মোমিন, জুয়েল, আরশাফুল, আব্দুল জলিল, রফিজ উদ্দিন, শহিদুল এবং মহিদুল। এতদিন প্রতিবাদ করলে আমাদের বিএনপি-জামায়াত বলে ট্যাগ দেওয়া হতো৷ এখন ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা আমাদের আওয়ামী লীগ বলে ট্যাগ দিয়ে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে।
    এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে চাইলে তারা দোকান এবং বাড়ি থেকে দ্রুত সরে যান।
    জীবননগর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সেখানে রাস্তা নিয়ে ঝামেলা আছে। এ কারণে সেখানকার রাস্তা নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। আমরা কাউকে উচ্ছেদ করতে পারব না। বিষয়টি সমাধান না হলে কাজ বন্ধ থাকবে।